চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৭৬, চিকিৎসা, অধ্যায়ঃ (১-৭৮)=৭৮টি

৭৬/১. অধ্যায়ঃ আল্লাহ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি ।

৫৬৭৮

৭৬/১. অধ্যায়ঃ আল্লাহ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি ।
৭৬/২. অধ্যায়ঃ পুরুষ স্ত্রীলোকের এবং স্ত্রীলোক পুরুষের চিকিৎসা করিতে পারে কি ?
৭৬/৩. অধ্যায়ঃ নিরাময় আছে তিনটি জিনিসে ।
৭৬/৪. অধ্যায়ঃ মধুর সাহায্যে চিকিৎসা । মহান আল্লাহর বাণীঃ “এর মধ্যে রয়েছে মানুষের জন্য নিরাময়।” (সুরা আন–নাহলঃ ৬৯)
৭৬/৫. অধ্যায়ঃ উটের দুধের সাহায্যে চিকিৎসা ।
৭৬/৬. অধ্যায়ঃ উটের পেশাব ব্যবহার করে চিকিৎসা ।
৭৬/৭. অধ্যায়ঃ কালো জিরা
৭৬/৮. অধ্যায়ঃ রোগীর জন্য তালবীনা (তরল খাদ্য)।
৭৬/. অধ্যায়ঃ নাকে ঔষধ সেবন।
৭৬/১০. অধ্যায়ঃ ভারতীয় ও সামুদ্রিক এলাকার চন্দন কাঠের (ধোঁয়ার) সাহায্যে নাকে ঔষধ টেনে নেয়া।
৭৬/১১. অধ্যায়ঃ কোন সময় শিঙ্গা লাগাতে হয়।
৭৬/১২. অধ্যায়ঃ সফরে ও ইহরামের অবস্থায় শিঙ্গা লাগানো।
৭৬/১৩. অধ্যায়ঃ রোগের চিকিৎসার জন্য শিঙ্গা লাগানো।
৭৬/১৪. অধ্যায়ঃ মাথায় শিঙ্গা লাগানো।
৭৬/১৫. অধ্যায়ঃ আধ কপালি কিংবা পুরো মাথা ব্যাথার কারণে শিঙ্গা লাগানো।
৭৬/১৬. অধ্যায়ঃ কষ্ট দূর করার জন্য মাথা মুড়ানো।
৭৬/১৭. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি আগুনের দ্বারা দাগ দেয় কিংবা অন্যকে দাগ লাগিয়ে দেয় এবং যে ব্যাক্তি এভাবে দাগ দেয়নি তার ফযীলাত ।
৭৬/১৮. অধ্যায়ঃ চোখের রোগে সুরমা ব্যবহার করা।
৭৬/১৯. অধ্যায়ঃ কুষ্ঠ রোগ
৭৬/২০. অধ্যায়ঃ জমাট শিশির চোখের জন্য শেফা।
৭৬/২১. অধ্যায়ঃ রোগীর মুখে ঔষধ ঢেলে দেয়া।
৭৬/২২. অধ্যায়ঃ
৭৬/২৩. অধ্যায়ঃ উযরা-আলাজিহ্বা যন্ত্রণার বর্ণনা।
৭৬/২৪. অধ্যায়ঃ পেটের পীড়ার চিকিৎসা।
৭৬/২৫. অধ্যায়ঃ সফর পেটের পীড়া ছাড়া কিছুই না।
৭৬/২৬. অধ্যায়ঃ পাঁজরের ব্যাথা।
৭৬/২৭. অধ্যায়ঃ রক্ত বন্ধ করার জন্য চাটাই পুড়িয়ে ছাই লাগানো।
৭৬/২৮. অধ্যায়ঃ জ্বর হল জাহান্নামের উত্তাপ।
৭৬/২৯. অধ্যায়ঃ অনুকূল নয় এমন ভূখণ্ড ছেড়ে বের হওয়া ।
৭৬/৩০. অধ্যায়ঃ প্লেগ রোগ সম্পর্কে ।
৭৬/৩১. অধ্যায়ঃ প্লেগ রোগে যে ধৈর্য্য ধরে তার সাওয়াব।
৭৬/৩২. অধ্যায়ঃ কুরআন পড়ে এবং সুরা নাস ও ফালাক (অর্থাৎ মুআব্বিযাত) পড়ে ফুঁক দেয়া।
৭৬/৩৩. অধ্যায়ঃ সুরা ফাতিহার দ্বারা ফুঁক দেয়া।
৭৬/৩৪. অধ্যায়ঃ সুরা ফাতিহার দ্বারা ঝাড়-ফুঁক দেয়ার বদলে শর্তারোপ করা।
৭৬/৩৫. অধ্যায়ঃ নযর লাগার জন্য ঝাড়ফুঁক ।
৭৬/৩৬. অধ্যায়ঃ নযর লাগা সত্য।
৭৬/৩৭. অধ্যায়ঃ সাপ কিংবা বিচ্ছু দংশনে ঝাড়-ফুঁক ।
৭৬/৩৮. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) কর্তৃক ঝাড়-ফুঁক ।
৭৬/৩৯. অধ্যায়ঃ ঝাড়-ফুঁকে থুথু দেয়া।
৭৬/৪০. অধ্যায়ঃ ঝাড়-ফুঁককারীর ডান হাত দিয়ে ব্যথার স্থান মাসাহ করা।
৭৬/৪১. অধ্যায়ঃ স্ত্রীলোক দ্বারা পুরুষকে ঝাড়-ফুঁক করা।
৭৬/৪২. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি ঝাড়-ফুঁক করে না।
৭৬/৪৩. অধ্যায়ঃ পশু-পাখি তাড়িয়ে শুভ-অশুভ নির্ণয়।
৭৬/৪৪. অধ্যায়ঃ শুভ-অশুভ আলামত।
৭৬/৪৫. অধ্যায়ঃ পেঁচাতে অশুভ আলামত নেই।
৭৬/৪৬. অধ্যায়ঃ গণনা বিদ্যা প্রসঙ্গে
৭৬/৪৭. অধ্যায়ঃ যাদু সম্পর্কে
৭৬/৪৮. অধ্যায়ঃ শিরক ও যাদু ধ্বংসাত্মক ।
৭৬/৪৯. অধ্যায়ঃ যাদুর চিকিৎসা করা যাবে কি না?
৭৬/৫০. অধ্যায়ঃ যাদু
৭৬/৫১. অধ্যায়ঃ কোন কোন ভাষণ হল যাদু।
৭৬/৫২. অধ্যায়ঃ আজ্‌ওয়া খেজুর দিয়ে যাদুর চিকিৎসা প্রসঙ্গে।
৭৬/৫৩. অধ্যায়ঃ পেঁচায় কোন অশুভ আলামত নেই।
৭৬/৫৪. অধ্যায়ঃ রোগের সংক্রমণ বলিতে কিছু নেই।
৭৬/৫৫. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) -কে বিষ পান করানো সম্পর্কিত।
৭৬/৫৬. অধ্যায়ঃ বিষ পান করা, বিষের সাহায্যে চিকিৎসা করা, ভয়ানক কিছু দ্বারা চিকিৎসা করা যাতে মারা যাবার আশঙ্কা আছে এবং হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা।
৭৬/৫৭. অধ্যায়ঃ গাধীর দুধ প্রসঙ্গে
৭৬/৫৮. অধ্যায়ঃ কোন পাত্রে মাছি পড়লে।

আবু হুরাইরা (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি। (আঃপ্রঃ- ৫২৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬৩)

৭৬/২. অধ্যায়ঃ পুরুষ স্ত্রীলোকের এবং স্ত্রীলোক পুরুষের চিকিৎসা করিতে পারে কি ?

৫৬৭৯

রুবায়ঈ বিনত মুআওয়ায ইবনু আফরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা নাবী (সাঃআঃ) -এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতাম। তখন আমরা লোকজনকে পানি পান করাতাম, তাদের সেবা-শুশ্রুষা করতাম এবং নিহত ও আহতদের মদীনায় নিয়ে যেতাম।(আঃপ্রঃ- ৫২৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬৪)

৭৬/৩. অধ্যায়ঃ নিরাময় আছে তিনটি জিনিসে ।

৫৬৮০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, তিনটি জিনিসের মধ্যে রোগমুক্তি আছে। মধু পানে, শিঙ্গা লাগানোতে এবং আগুন দিয়ে দাগ লাগানোতে। আমার উম্মাতকে আগুন দিয়ে দাগ দিতে নিষেধ করছি। হাদীসটি মারফূ।

কুম্মী হাদীসটি লায়স, মুজাহিদ, ইবনু আববাস সূত্রে নাবী সাঃআঃ থেকে فِي الْعَسَلِ وَالْحَجْمِ শব্দে বর্ণনা করিয়াছেন। [৫৬৮১] আঃপ্রঃ- ৫২৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬৫)

৫৬৮১

ইবনু আব্বাস (রাদি.)–এর সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রোগমুক্তি আছে তিনটি জিনিসে। শিঙ্গা লাগানোতে, মধু পানে এবং আগুন দিয়ে দাগ দেয়াতে। আমার উম্মাতকে আগুন দিয়ে দাগ দিতে নিষেধ করছি। (আঃপ্রঃ- ৫২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬৬)

৭৬/৪. অধ্যায়ঃ মধুর সাহায্যে চিকিৎসা । মহান আল্লাহর বাণীঃ “এর মধ্যে রয়েছে মানুষের জন্য নিরাময়।” (সুরা আন–নাহলঃ ৬৯)

৫৬৮২

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) মিষ্টান্ন দ্রব্য ও মধু অধিক পছন্দ করিতেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬৭)

৫৬৮৩

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ তোমাদের ঔষধসমূহের কোনটির মধ্যে যদি কল্যাণ থাকে তাহলে তা আছে শিঙ্গাদানের মধ্যে কিংবা মধু পানের মধ্যে কিংবা আগুন দিয়ে ঝলসানোর মধ্যে। রোগ অনুসারে। আমি আগুন দিয়ে দাগ দেওয়া পছন্দ করি না। [৫৬৯৭, ৫৭০২, ৫৭০৪; মুসলিম ৩৯/২৬, হাদীস ২২০৫, আহমাদ ১৪৬০৪] আঃপ্রঃ- ৫২৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬৮)

৫৬৮৪

আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নাবী (সাঃআঃ) –এর নিকট এসে বললঃ আমার ভাইয়ের পেটে অসুখ হয়েছে। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি দ্বিতীয়বার আসলে তিনি বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। অতঃপর তৃতীয়বার আসলে তিনি বলিলেন তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি এসে বললঃ আমি অনুরূপই করেছি। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ আল্লাহ সত্য বলেছেন, কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে। তাকে মধু পান করাও। অতঃপর সে তাকে পান করাল। এবার সে রোগমুক্ত হল। [৫৭১৬; মুসলিম ৩৯/৩১, হাদীস ২২৬৭, আহমাদ ১১১৪৬] আঃপ্রঃ- ৫২৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬৯)

৭৬/৫. অধ্যায়ঃ উটের দুধের সাহায্যে চিকিৎসা ।

৫৬৮৫

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

কতক লোক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, তারা বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের আশ্রয় দিন এবং আমাদের খাদ্য দিন। অতঃপর যখন তারা সুস্থ হল, তখন তারা বললঃ মদীনাহর বায়ু ও আবহাওয়া অনুকূল নয়। তখন তিনি তাদেরকে তাহাঁর কতগুলো উট নিয়ে হারবা নামক জায়গায় থাকতে দিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তোমারা এগুলোর দুধ পান কর। যখন তারা আরোগ্য হল তখন তারা নাবী (সাঃআঃ) -এর রাখালকে হত্যা করে ফেলল এবং তাহাঁর উটগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। তিনি তাদের পশ্চাতে ধাওয়াকারীদের পাঠালেন। এরপর তিনি তাদের হাত পা কেটে দেন এবং তাদের চক্ষুগুলোকে ফুঁড়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি তাদের এক ব্যক্তিকে দেখেছি। সে নিজের জিভ দিয়ে মাটি কামড়াতে থাকে, অবশেষে মারা যায়।

বর্ণনাকারী সাল্লাম বলেনঃ আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আনাস (রাদি.) কে বলেছিলেন, আপনি আমাকে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি সম্পর্কে বলুন, যেটি নাবী (সাঃআঃ) দিয়েছিলেন। তখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ খবর হাসান বসরীর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেছিলেনঃ যদি তিনি এ হাদীস বর্ণনা না করিতেন তবে আমার মতে সেটাই ভাল ছিল।(আঃপ্রঃ- ৫২৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭০)

৭৬/৬. অধ্যায়ঃ উটের পেশাব ব্যবহার করে চিকিৎসা ।

৫৬৮৬

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

কতকগুলো লোক মদীনায় তাদের প্রতিকূল আবহাওয়া অনুভব করিল। তখন নাবী (সাঃআঃ) তাদের হুকুম দিলেন, তারা যেন তাহাঁর রাখাল অর্থাৎ তাহাঁর উটগুলোর নিকট গিয়ে থাকে এবং উটের দুগ্ধ এবং প্রস্রাব পান করে। তারা রাখালের সাথে গিয়ে মিলিত হল এবং উটের দুধ ও পেশাব পান করিতে লাগল। অবশেষে তাদের শরীর সুস্থ হলে তারা রাখালটিকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট এ খবর পৌঁছালে তিনি তাদের খোঁজে লোক পাঠান। এরপর তাদের ধরে আনা হল। এরপর তিনি তাদের হাত পা কেটে দেন এবং তাদের চক্ষু ফেঁড়ে দেন।

ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, এটি হুদুদ (অর্থাৎ শাস্তি সম্পর্কিত আইন) অবতীর্ণ হবার পূর্বের ঘটনা।(আঃপ্রঃ- ৫২৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭১)

৭৬/৭. অধ্যায়ঃ কালো জিরা

৫৬৮৭

খালিদ ইবনু সাদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের অভিযানে) বের হলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন গালিব ইবনু আবজার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর আমরা মদীনায় ফিরলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে দেখাশুনা করিতে আসেন ইবনু আবু আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এ কালো জিরা সাথে রেখ। এত্থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে ফেলবে, তারপর তন্মধ্যে যাইতুনের কয়েক ফোঁটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এ দিক-ওদিকের ছিদ্র দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে প্রবিষ্ট করাবে। কেননা, আয়েশাহ (রাদি.) আমাদের নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছেনঃ এই কালো জিরা সাম ছাড়া সব রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ সাম কী? তিনি বললেনঃ মৃত্যু।(আঃপ্রঃ- ৫২৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭২)

৫৬৮৮

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছেনঃ কালো জিরা সাম ছাড়া যাবতীয় রোগের ঔষধ।

ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আর সাম অর্থ হল মৃত্যু এবং কালো জিরাকে শুনীযও বলা হয়।(আঃপ্রঃ- ৫২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৩)

৭৬/৮. অধ্যায়ঃ রোগীর জন্য তালবীনা (তরল খাদ্য)।

৫৬৮৯

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রোগীকে এবং কারো মৃত্যুজনিত শোকাহত ব্যক্তিকে তরল জাতীয় খাদ্য খাওয়ানোর আদেশ করিতেন। তিনি বলিতেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনিয়াছি যে, তালবীনা রোগীর কলিজা মযবূত করে এবং নানাবিধ দুশ্চিন্তা দূর করে।(আঃপ্রঃ- ৫২৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৪)

৫৬৯০

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তালবীনা খেতে আদেশ দিতেন এবং বলিতেনঃ এটি হল অপছন্দনীয়, তবে উপকারী। (আঃপ্রঃ- ৫২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৫)

৭৬/৯. অধ্যায়ঃ নাকে ঔষধ সেবন।

৫৬৯১

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং যে ব্যক্তি শিঙ্গা লাগিয়ে দেয় তাকে পারিশ্রমিক দিয়েছেন আর তিনি নাকে ঔষধ টেনে নিয়েছেন।[১৮৩৫; মুসলিম ১৫/১১, হাদীস ১২০২] আঃপ্রঃ- ৫২৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৬)

৭৬/১০. অধ্যায়ঃ ভারতীয় ও সামুদ্রিক এলাকার চন্দন কাঠের (ধোঁয়ার) সাহায্যে নাকে ঔষধ টেনে নেয়া।

(আরবী) কে (আরবী) ও বলা হয়। যেমন (আরবী) ও (আরবী) বলা যায়। অনুরূপভাবে (আরবী) কে (আরবী) পড়া যায়। (আরবী) এর অর্থ হল (আরবী) আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাদি.) (আরবী) পড়েছেন।

৫৬৯২

উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা ভারতীয় এই চন্দন কাঠ ব্যবহার করিবে। কেননা তাতে সাতটি আরোগ্য রয়েছে। শ্বাসনালীর ব্যথার জন্য এর (ধোঁয়া) নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়, পাঁজরের ব্যথা বা পক্ষাঘাত রোগ দূর করার জন্যও তা ব্যবহার করা যায়।(আঃপ্রঃ- ৫২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৭)

৫৬৯৩

উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে আমার এক শিশু পুত্রকে নিয়ে এলাম, সে খাবার খেতে চাইত না। এ সময় সে তাহাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি চেয়ে পাঠালেন। তারপর কাপড়ে পানি ছিটিয়ে দিলেন।[২২৩; মুসলিম ৩৯/২৮, হাদীস ২২১৪, আহমাদ ২৭০৬৫] আঃপ্রঃ- ৫২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৭)

৭৬/১১. অধ্যায়ঃ কোন সময় শিঙ্গা লাগাতে হয়।

আবু মূসা (রাদি.) রাতে শিঙ্গা লাগাতেন।

৫৬৯৪

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) সওমরত অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৮)

৭৬/১২. অধ্যায়ঃ সফরে ও ইহরামের অবস্থায় শিঙ্গা লাগানো।

ইবনু বুহাইনাহ (রাদি.) এ সম্পর্কে নাবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন।

৫৬৯৫

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) ইহরামের অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৯)

৭৬/১৩. অধ্যায়ঃ রোগের চিকিৎসার জন্য শিঙ্গা লাগানো।

৫৬৯৬

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তাঁকে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) শিঙ্গা লাগিয়েছেন। আবু তাইবা তাঁকে শিঙ্গা লাগায়। এরপর তিনি তাকে দু সা খাদ্যবস্তু প্রদান করেন। সে তার মালিকের সঙ্গে এ সম্পর্কে কথা বললে, তারা তাহাঁর থেকে পারিশ্রমিক কমিয়ে দেয়। নাবী (সাঃআঃ) আরো বলেনঃ তোমরা যে সব জিনিস দিয়ে চিকিৎসা কর, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হল শিঙ্গা লাগানো এবং সামুদ্রিক চন্দন কাঠ। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের জিহ্বা, তালু টিপে কষ্ট দিও না। বরং তোমরা চন্দন কাঠ দিয়ে চিকিৎসা কর।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮০)

৫৬৯৭

আসিম ইবনু উমর ইবনু ক্বাতাদা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) অসুস্থ মুকান্নাকে দেখিতে যান। এরপর তিনি বলেনঃ আমি হাটবো না, যতক্ষণ না তুমি শিঙ্গা লাগাবে। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ নিশ্চয় এতে আছে নিরাময়।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮১)

৭৬/১৪. অধ্যায়ঃ মাথায় শিঙ্গা লাগানো।

৫৬৯৮

 আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইনা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইহরাম বাঁধা অবস্থায় মক্কার পথে লাহযী জামাল নামীয় জায়গায় তাহাঁর মাথার মাঝখানে শিঙ্গা লাগান।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮২)

৫৬৯৯

 আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইনা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আনসারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হিশাম ইবনু হাস্‌সান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইকরামার সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাদি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর মাথায় শিঙ্গা লাগান।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮২)

৭৬/১৫. অধ্যায়ঃ আধ কপালি কিংবা পুরো মাথা ব্যাথার কারণে শিঙ্গা লাগানো।

৫৭০০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মাথার ব্যাথায় নাবী (সাঃআঃ) ইহরাম অবস্থায় লাহয়ী জামাল নামের একটি কুয়োর ধারে মাথায় শিঙ্গা লাগান।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৩)

৫৭০১

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইহরামের অবস্থায় আধ কপালির কারণে তাহাঁর মাথায় শিঙ্গা লাগান।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৩)

৫৭০২

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ যদি তোমাদের ঔষধগুলোর কোনটিতে কল্যাণই থাকে, তাহলে তা আছে মধুপানে কিংবা শিঙ্গা লাগানোতে কিংবা আগুন দিয়ে দাগ লাগানোতে। তবে আমি দাগ দেওয়া পছন্দ করি না।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৪)

৭৬/১৬. অধ্যায়ঃ কষ্ট দূর করার জন্য মাথা মুড়ানো।

৫৭০৩

কাব ইবনু উজরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ হুদাইবিয়ার সফরকালে নাবী (সাঃআঃ) আমার কাছে আসলেন। আমি তখন পাতিলের নীচে আগুন দিচ্ছিলাম, আর আমার মাথা থেকে তখন উকুন ঝরছিল। তিনি বললেনঃ তোমার উকুনগুলো তোমাকে কি খুব কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি মাথা মুড়িয়ে নাও এবং তিন দিন সাওম পালন কর অথবা ছয়জন (মিসকীন) কে খাদ্য দাও কিংবা একটি কুরবাণীর পশু যবেহ করে নাও।

আইউব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ আমি বলিতে পারি না, এগুলোর কোনটি তিনি প্রথমে বলেছেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৫)

৭৬/১৭. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি আগুনের দ্বারা দাগ দেয় কিংবা অন্যকে দাগ লাগিয়ে দেয় এবং যে ব্যাক্তি এভাবে দাগ দেয়নি তার ফযীলাত ।

৫৭০৪

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ যদি তোমাদের চিকিৎসা সমূহে কোনটির মধ্যে আরোগ্য থাকে, তাহলে তা আছে শিঙ্গা লাগানোতে কিংবা আগুন দ্বারা দাগ লাগানোতে, তবে আমি আগুন দিয়ে দাগ দেয়া পছন্দ করি না।(আঃপ্রঃ- ৫২৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৬)

৫৭০৫

 ইমরান ইবনু হুসাইন (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ বদ-নযর কিংবা বিষাক্ত দংশন ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক নেই। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর এ হাদীস আমি সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট ইবনু আব্বাস (রাদি.) বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আমার সামনে সকল উম্মাতকে পেশ করা হয়েছিল। (তখন আমি দেখেছি) দুএকজন নাবী পথ চলতে লাগলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁদের সঙ্গে একজনও নেই। অবশেষে আমার সামনে তুলে ধরা হল বিশাল দল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এটা কী? এ কি আমার উম্মত? উত্তর দেয়া হলঃ না, ইনি মূসা (আঃ) এবং তাহাঁর কওম। আমাকে বলা হলঃ আপনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে তাকান। তখন দেখলামঃ বিশাল একটি দল যা দিগন্তকে ঢেকে রেখেছে। তারপর আমাকে বলা হলঃ আকাশের দিগন্তসমূহ ঢেকে দিয়েছে এমন একটি বিশাল দলের প্রতি লক্ষ্য করুন। তখন বলা হলঃ এরা হল আপনার উম্মাত। আর তাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তারপর নাবী (সাঃআঃ) ঘরে চলে গেলেন। উপস্থিতদের কাছে কথাটির কোন ব্যাখ্যা প্রদান করিলেন না। (যে বিনা হিসাবের লোক কারা হইবে?) ফলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হল। তারা বললঃ আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাহাঁর রাসুল (সাঃআঃ) -এর অনুসরণ করে থাকি। সুতারাং আমরাই তাদের অন্তর্ভূক্ত। কিংবা তারা হল আমাদের সে সকল সন্তান-সন্ততি যারা ইসলামের যুগে জন্মগ্রহন করেছে। আর আমাদের জন্ম হয়েছে জাহিলী যুগে। নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তারা হল সে সব লোক যারা মন্ত্র পাঠ করে না, পাখির মাধ্যমে কোন কাজের ভাল-মন্দ নির্ণয় করে না এবং আগুনের সাহায্যে দাগ লাগায় না। বরং তারা তো তাদের রবের উপরই ভরসা করে থাকে। তখন উক্‌কাশা ইবনু মিহসান (রাদি.) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! তাদের মধ্যে কি আমি আছি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আরেকজন দাঁড়িয়ে বললঃ তাদের মধ্যে কি আমিও আছি? তিনি বললেনঃ উক্‌কাশাহ এ সুযোগ তোমার আগেই নিয়ে নিয়েছে।(আঃপ্রঃ- ৫২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৭)

৭৬/১৮. অধ্যায়ঃ চোখের রোগে সুরমা ব্যবহার করা।

উম্মু আত্বিয়্যাহ (রাদি.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে।

৫৭০৬

উম্মু সালামা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

এক মহিলার স্বামী মারা গেলে তার চোখে অসুখ দেখা দেয়। লোকজন নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে মহিলার কথা উল্লেখ করতঃ সুরমা ব্যাবহারের কথা আলোচনা করিল এবং তার চোখ সংকটাপন্ন বলে জানাল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের একেকটি মহিলার অবস্থাতো এমন ছিল যে, তার ঘরে তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাপড়ে সে থাকত কিংবা তিনি বলেছেনঃ সে তার কাপড়ে আচ্ছাদিত হয়ে তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঘরে (বছরের পর বছর) অবস্থান করত। অতঃপর যখন কোন কুকুর হেঁটে যেত, তখন সে কুকুরটির দিকে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করে (বেরিয়ে আসার অনুমতি পেত)। অতএব, সে চোখে সুরমা লাগাবে না বরং চার মাস দশ দিন সে অপেক্ষা করিবে।(আঃপ্রঃ- ৫২৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৮)

৭৬/১৯. অধ্যায়ঃ কুষ্ঠ রোগ

৫৭০৭

আফফান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

সালীম ইবনু হাইয়ান, আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগের কোন সংক্রমন নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোন অশুভ নেই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।(আঃপ্রঃ- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)

৭৬/২০. অধ্যায়ঃ জমাট শিশির চোখের জন্য শেফা।

৫৭০৮

সাঈদ ইবনু যায়দ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ ছত্রাক এক প্রকারের শিশির থেকে হয়ে থাকে। আর এর রস চোখের আরোগ্যকারী।

শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ হাকাম উতাইবা (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) থেকে আমার কাছে এরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ হাকাম যখন আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করেন তখন আবদুল মালিক বর্ণিত হাদীসকে তিনি অগ্রাহ্য করেননি।(আঃপ্রঃ- দ্বিতীয় অংশ নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮৯)

৭৬/২১. অধ্যায়ঃ রোগীর মুখে ঔষধ ঢেলে দেয়া।

৫৭০৯

ইবনু আব্বাস (রাদি.) ও আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) -এর মৃতদেহে চুমু দিয়েছেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯০)

৫৭১০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) ও আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) -এর মৃতদেহে চুমু দিয়েছেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯০)

৫৭১১

ইবনু আব্বাস (রাদি.) ও আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) -এর মৃতদেহে চুমু দিয়েছেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯০)

৫৭১২

ইবনু আব্বাস (রাদি.) ও আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণনাকারী বলেন, আয়েশা (রাদি.) আরো বলেন, নাবী (সাঃআঃ) -এর অসুখের সময় আমরা তাহাঁর মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তখন তিনি আমাকে ইঙ্গিত দিতে থাকলেন যে, তোমরা আমার মুখে ঔষধ ঢেল না। আমরা মনে করলাম, এটা ঔষধের প্রতি একজন রোগীর স্বভাবজাত অনীহা মাত্র। এরপর তিনি যখন সুস্থবোধ করিলেন তখন বললেনঃ আমি কি তোমাদের আমার মুখে ঔষধ ঢেলে দিতে নিষেধ করিনি? আমরা বললামঃ আমরাতো ঔষধের প্রতি রোগীর স্বভাবজাত অনীহা ভেবেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমি এখন যাদেরকে এ ঘরে দেখিতে পাচ্ছি তাদের সবার মুখে ওষুধ ঢালা হইবে। আব্বাস (রাদি.) ছাড়া কেউ বাদ যাবে না। কেননা, তিনি তোমাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন না।(আঃপ্রঃ- ৫২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯০)]

৫৭১৩

উম্মু কায়স (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে নাবী সাঃআঃ -এর নিকট গেলাম। ছেলেটির আলাজিহবা ফোলার কারণে আমি তা দাবিয়ে দিয়েছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ এ রকম রোগ-ব্যাধি দমনে তোমরা নিজেদের সন্তানদের কেন কষ্ট দিয়ে থাক? তোমরা ভারতীয় চন্দন কাঠ ব্যবহার কর। কেননা, তাতে সাত রকমের নিরাময় আছে। তার মধ্যে পাঁজরের ব্যথা বা পক্ষাঘাত রোগ অন্যতম। আলাজিহবা ফোলার কারণে এটির ধোঁয়া নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়। পাঁজরের ব্যথার রুগী বা পক্ষাঘাত রুগীকে তা সেবন করানো যায়। সুফিয়ান বলেনঃ আমি যুহরীকে বলিতে শুনিয়াছি যে, তিনি আমাদের কাছে দুটির কথা বর্ণনা করিয়াছেন। আর পাঁচটির কথা বর্ণনা করেননি। বর্ণনাকারী আলী বলেনঃ আমি সুফ্ইয়ানকে বললাম মামার স্মরণ রাখতে পারেননি। তিনি বলেছেন أَعْلَقْتُ عَلَيْهِ আর যুহরী তো বলেছেন, أَعْلَقْتُ عَنْه” শব্দ দ্বারা। আমি যুহরীর মুখ থেকে শুনে মুখস্থ করেছি। আর সুফ্ইয়ানেররিওয়ায়াতে তিনি ছেলেটির অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন যে, আঙ্গুল দিয়ে তার তালু দাবিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় সুফ্ইয়ান নিজের তালুতে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে দেখিয়েছেন অর্থাৎ তিনি তাহাঁর আঙ্গুলের দ্বারা তালুকে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু أَعْلِقُوا عَنْه” شَيْئًا এভাবে কেউই বর্ণনা করেননি। [৫৬৯২] আঃপ্রঃ- ৫২৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯১)

৭৬/২২. অধ্যায়ঃ

৫৭১৪

নাবী (সাঃআঃ) -এর স্ত্রী আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর বয়স বেড়ে গেল এবং রোগ-যন্ত্রনা তীব্র আকার ধারণ করিল, তখন তিনি তাহাঁর স্ত্রীদের কাছে অনুমতি চাইলেন যে, তিনি যেন আমার গৃহে অসুস্থ কালীন সময় অবস্থান করিতে পারেন। এরপর তাঁরা অনুমতি দিলে তিনি দুব্যাক্তি অর্থাৎ আব্বাস (রাদি.) ও আরেকজনের সাহায্যে এভাবে বেরিয়ে আসলেন যে, মাটির উপর তাহাঁর দুপা হেঁচড়াতে ছিল। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি ইবনু আব্বাস (রাদি.) -কে হাদীসটি জানালে তিনি বলেনঃ আপনি কি জানেন, আরেক ব্যাক্তি যার নাম আয়েশা (রাদি.) উল্লেখ করেননি, তিনি কে ছিলেন? আমি উত্তর দিলামঃ না। তিনি বললেনঃ তিনি হলেন আলী (রাদি.)। আয়েশা (রাদি.) বলেনঃ যখন তাহাঁর রোগ-যন্ত্রণা আরো তীব্র হল তখন তিনি বলিলেন, যে সব মশ্‌কের মুখ এখনো খোলা হয়নি এমন সাত মশ্‌ক পানি আমার গায়ে ঢেলে দাও। আমি লোকজনের কাছে কিছু অসীয়ত করে আসার ইচ্ছে পোষণ করেছি। তিনি বলেন, তখন আমরা তাঁকে তাহাঁর স্ত্রী হাফসা (রাদি.) -এর একটি কাপড় কাচার জায়গায় নিয়ে গিয়ে বসালাম। এরপর তাহাঁর পায়ের উপর সেই মশকগুলো থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। অবশেষে তিনি আমাদের দিকে ইশারা দিলেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। তিনি বলেনঃ এরপর তিনি লোকজনের দিকে বেরিয়ে গেলেন। আর তাদের নিয়ে সলাত আদায় করিলেন এবং তাদের সম্মুখে খুতবা দিলেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯২)

৭৬/২৩. অধ্যায়ঃ উযরা-আলাজিহ্বা যন্ত্রণার বর্ণনা।

৫৭১৫

 উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আসাদ গোত্রের অর্থাৎ আসাদে খুযাইমা গোত্রের উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান আসাদিয়া ছিলেন প্রথম যুগের হিজরাতকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা নাবী সাঃআঃ -এর নিকট বাইআত গ্রহণ করেছিলেন। আর তিনি ছিলেন উকাশাহ -এর বোন। তিনি বলেছেন যে, তিনি তাহাঁর এক ছেলেকে নিয়ে নাবী সাঃআঃ -এর নিকট এসেছিলেন। ছেলেটির আলাজিহবা ফুলে যাওয়ার কারণে তিনি তা দাবিয়ে দিয়েছিলেন। তখন নাবী সাঃআঃ বললেনঃ তোমরা এ সব রোগ দমনে তোমাদের সন্তানদের কেন কষ্ট দাও? তোমরা এই ভারতীয় চন্দন কাঠ সংগ্রহ করে রেখে দিও। কেননা এতে সাত রকমের আরোগ্য আছে। তার মধ্যে একটি হল পাঁজর ব্যথা।এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন কোস্ত। আর কোস্ত হল ভারতীয় চন্দন কাঠ। আঃপ্রঃ- ৫২৯৭)

ইউনুস ও ইসহাক ইবনু রাশিদ-যুহরী থেকে عَلَّقَتْ عَلَيْهِ শব্দে বর্ণনা করিয়াছেন। [৫৬৯২]ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৩)

৭৬/২৪. অধ্যায়ঃ পেটের পীড়ার চিকিৎসা।

৫৭১৬

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এসে বলিল যে, আমার ভাইয়ের পেট খারাপ হয়েছে। নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তাকে মধু পান করাও। সে তাকে মধু সেবন করাল। এরপর বলিল, আমি তাকে মধু পান করিয়েছি কিন্তু আসুখ আরো বাড়ছে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ সত্য বলেছেন, কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেট তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করিতে চায়। নযর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শুবাহ থেকে এ রকমই বর্ণনা করিয়াছেন।(আঃপ্রঃ- ৫২৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৪)

৭৬/২৫. অধ্যায়ঃ সফর পেটের পীড়া ছাড়া কিছুই না।

৫৭১৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগের কোন সংক্রমণ নেই, সফরের কোন অশুভ আলামত নেই, পেঁচার মধ্যেও কোন আশুভ আলামত নেই। তখন এক বেদুঈন বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে আমার এ উটের এ অবস্থা কেন হয়? সেগুলো যখন চারণ ভূমিতে থাকে তখন সেগুলো যেন মুক্ত হরিণের পাল। এমন অবস্থায় চর্মরোগাগ্রস্ত উট এসে সেগুলোর পালে ঢুকে পড়ে এবং এগুলোকেও চর্ম রোগে আক্রান্ত করে ফেলে। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ তাহলে প্রথমটিকে চর্ম রোগাক্রান্ত কে করেছে? যুহরী হাদীসটি আবু সালামাহ ও সিনান ইবনু আবু সিনান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন।

[৫৭০৭; মুসলিম ৩৯/৩৩, হাদীস ২২২০, আহমাদ ৭৬২৪] আঃপ্রঃ- ৫২৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৫)

৭৬/২৬. অধ্যায়ঃ পাঁজরের ব্যাথা।

৫৭১৮

 উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান, তিনি ছিলেন প্রথম কালের হিজরাতকারিণী উকাশাহ ইবনু মিহসান -এর বোন এবং রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ -এর নিকট বাইআত গ্রহণকারিণী মহিলা সহাবী। তিনি বলেছেনঃ তিনি তাহাঁর এক ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ -এর কাছে আসেন। ছেলেটির আলাজিহবা ফুলে গিয়েছিল। তিনি তা দাবিয়ে দিয়েছিলেন। তখন নাবী সাঃআঃ বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর, কেন তোমরা তোমাদের সন্তানদের তালু দাবিয়ে কষ্ট দাও। তোমরা এই ভারতীয় চন্দন কাঠ ব্যবহার কর। কেননা, এতে রয়েছে সাত প্রকারের চিকিৎসা। তন্মধ্যে একটি হল পাঁজরের ব্যথা। কাঠ বলে নাবী সাঃআঃ -এর উদ্দেশ্য হল কোস্ত। الْقُسْطَ শব্দেও তার আভিধানিক ব্যবহার আছে। [৫৬৯২] আঃপ্রঃ- ৫৩০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৬)

৫৭১৯

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু ত্বালহা ও আনাস ইবনু নাযর (রাদি.) তাকে আগুন দিয়ে দাগ দিয়েছেন। আর আবু ত্বালহা (রাদি.) তাকে নিজ হাতে দাগ দিয়েছেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৭)

৫৭২০

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আনসারদের এক পরিবারের লোকদের বিষাক্ত দংশন ও কান ব্যথার কারণে ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করার জন্য অনুমতি দেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৭)

৫৭২১

 আব্বাস ইবনু মানসূর বলেন, আইউব আবু কিলাবা…………. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

আনাস (রাদি.) বলেনঃ আমাকে পাঁজর ব্যথা রোগের কারণে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর জীবিত কালে আগুন দিয়ে দাগ দেয়া হয়েছিল। তখন আমার নিকট উপস্থিত ছিলেন আবু ত্বালহা, আনাস ইবনু নাযর এবং যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। আর আবু ত্বালহা (রাদি.) আমাকে দাগ দিয়েছিলেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৭)

৭৬/২৭. অধ্যায়ঃ রক্ত বন্ধ করার জন্য চাটাই পুড়িয়ে ছাই লাগানো।

৫৭২২

সাহল ইবনু সাদ সাঈদী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন নাবী (সাঃআঃ) -এর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ চূর্ণ করে দেয়া হল, আর তাহাঁর মুখমন্ডল রক্তাক্ত হয়ে গেল এবং তাহাঁর রুবাঈ দাঁত ভেঙ্গে গেল, তখন আলী (রাদি.) ঢাল ভর্তি করে পানি দিতে থাকলেন এবং ফাতিমা (রাদি.) এসে তাহাঁর চেহারা থেকে রক্ত ধুয়ে দিতে লাগলেন। ফাতিমা (রাদি.) যখন দেখলেন যে, পানি ঢালার পরও অনেক রক্ত ঝরে চলছে, তখন তিনি একটি চাটাই নিয়ে এসে তা পুড়ালেন এবং নাবী (সাঃআঃ) -এর যখমের উপর ছাই লাগিয়ে দিলেন। ফলে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল।(আঃপ্রঃ- ৫৩০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৮)

৭৬/২৮. অধ্যায়ঃ জ্বর হল জাহান্নামের উত্তাপ।

৫৭২৩

ইবনু উমর (রাদি.) –এর সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়। কাজেই তাকে পানি দিয়ে নিভাও।

নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আবদুল্লাহ (রাদি.) তখন বলিতেনঃ আমাদের উপর থেকে শাস্তিকে হালকা কর।(আঃপ্রঃ- ৫৩০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯৯)

৫৭২৪

ফাতিমা বিনত মুনযির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আসমা বিনত আবু বক্‌র (রাদি.) -এর নিকট যখন কোন জ্বরে আক্রান্ত স্ত্রীলোকদেরকে দুআর জন্য নিয়ে আসা হত, তখন তিনি পানি হাতে নিয়ে সেই স্ত্রীলোকটির জামার ফাঁক দিয়ে তার গায়ে ছিটিয়ে দিতেন এবং বলিতেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের নির্দেশ করিতেন, আমরা যেন পানির সাহায্যে জ্বরকে ঠান্ডা করি।[মুসলিম ৩৯/২৬, হাদীস ২২১১,আহমাদ ২৬৯৯২] আঃপ্রঃ- ৫৩০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০০)

৫৭২৫

 আয়েশাহ (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ জ্বর হয় জাহান্নামের তাপ থেকে। কাজেই তোমরা পানি দিয়ে তা ঠান্ডা কর।(আঃপ্রঃ- ৫৩০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০১)

৫৭২৬

রাফি ইবনু খাদীজ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ জ্বর হয় জাহান্নামের তাপ থেকে। কাজেই তোমরা তা পানি দিয়ে ঠান্ডা কর। [৩২৬২; মুসলিম ৩৯/২৬, হাদীস ২২১২] আঃপ্রঃ- ৫৩০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০২)

৭৬/২৯. অধ্যায়ঃ অনুকূল নয় এমন ভূখণ্ড ছেড়ে বের হওয়া ।

৫৭২৭

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উক্‌ল ও উরাইনাহ গোত্রের কতগুলি মানুষ কিংবা তিনি বলেছেন, কতিপয় পুরুষ লোক রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর নিকট আগমন করে ইসলাম সম্পর্কে কথাবার্তা বলিল। এরপর তারা বললঃ হে আল্লাহর নাবী! আমরা ছিলাম পশুপালন এলাকার অধিবাসী, আমরা কখনো কৃষি কাজের লোক ছিলাম না। কাজেই মদীনায় বাস করা তাদের জন্য প্রতিকূল হল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাদের জন্য কিছু উট ও একজন রাখাল দেয়ার নির্দেশ প্রদান করিলেন এবং তাদের হুকুম দিলেন যেন এগুলো নিয়ে যায় এবং এগুলোর দুগ্ধ ও প্রস্রাব পান করে। এরপর তারা রওয়ানা হয়ে যখন হাররা এলাকার নিকটবর্তী হল, তখন তারা ইসলাম ত্যাগ করে কুফরী অবলম্বন করিল এবং তারা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিয়ে গেল। নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট সংবাদ পৌঁছল। তিনি তাদের পশ্চাতে সন্ধানী দল পাঠালেন। (তারা ধৃত হলে) নাবী (সাঃআঃ) তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত আদেশ দিলেন। কাজেই সাহাবীগণ (রাদি.) তাদের চক্ষু ফুঁড়ে দিলেন, তাদের হাত কেটে দিলেন এবং তাদের হার্‌রা এলাকায় ফেলে রাখা হল। শেষ পর্যন্ত তারা ঐ অবস্থাতেই মারা গেল।(আঃপ্রঃ- ৫৩০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০৩)

৭৬/৩০. অধ্যায়ঃ প্লেগ রোগ সম্পর্কে ।

৫৭২৮

উসামাহ ইবনু যায়দ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি সাদ (রাদি.) -এর কাছে নাবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন অঞ্চলে প্লেগের বিস্তারের সংবাদ শোন, তখন সেই এলাকায় প্রবেশ করো না। আর তোমরা যেখানে অবস্থান কর, সেখানে প্লেগের বিস্তার ঘটলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না। (বর্ণনাকারী হাবীব ইবনু আবু সাবিত বলেন) আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি উসামাহ (রাদি.) -কে এ হাদীস সাদ (রাদি.) -এর কাছে বর্ণনা করিতে শুনেছেন যে, তিনি (সাদ) তাতে কোন অসম্মতি জ্ঞাপন করেননি?

ইবরাহীম ইবনু সাদ বলেনঃ হাঁ।(আঃপ্রঃ- ৫৩০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০৪)

৫৭২৯

 আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনু খাত্তাব (রাদি.) সিরিয়ার দিকে রওনা করেছিলেন। শেষে তিনি যখন সারগ এলাকায় গেলেন, তখন তাহাঁর সঙ্গে সৈন্য বাহিনীর প্রধানগণ তথা আবু উবাইদাহ ইবনু জাররাহ ও তাহাঁর সঙ্গীগণ সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা তাঁকে জানালেন যে, সিরিয়া এলাকায় প্লেগের বিস্তার ঘটেছে। ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, তখন উমার (রাদি.) বললঃ আমার নিকট প্রবীণ মুহাজিরদের ডেকে আন। তখন তিনি তাঁদের ডেকে আনলেন। উমার (রাদি.) তাঁদের সিরিয়ার প্লেগের বিস্তার ঘটার কথা জানিয়ে তাঁদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। তখন তাঁদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হল। কেউ বললেনঃ আপনি একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বের হয়েছেন; কাজেই তা থেকে প্রত্যাবর্তন করা আমরা পছন্দ করি না। আবার কেউ কেউ বললেনঃ বাকী লোক আপনার সঙ্গে রয়েছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর সাহাবীগণ। কাজেই আমরা সঠিক মনে করি না যে, আপনি তাদের এই প্লেগের মধ্যে ঠেলে দিবেন। উমার (রাদি.) বললেনঃ তোমরা আমার নিকট থেকে চলে যাও। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট আনসারদের ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম। তিনি তাদের কাছে পরামর্শ চাইলে তাঁরাও মুহাজিরদের পথ অবলম্বন করিলেন এবং তাঁদের মতই মতপার্থক্য করিলেন। উমার (রাদি.) বললেনঃ তোমরা উঠে যাও। এরপর আমাকে বললেনঃ এখানে যে সকল বয়োজ্যেষ্ঠ কুরাইশী আছেন, যাঁরা মাক্কাহ জয়ের বছর হিজরাত করেছিলেন, তাদের ডেকে আন। আমি তাদের ডেকে আনলাম, তখন তারা পরস্পরে মতভেদ করিলেন না। তাঁরা বললেনঃ আপনার লোকজনকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করা এবং তাঁদের প্লেগের মধ্যে ঠেলে না দেয়াই আমরা ভাল মনে করি। তখন উমার (রাদি.) লোকজনের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, আমি ভোরে সাওয়ারীর পিঠে আরোহণ করব (ফিরার জন্য)। অতএব তোমরাও সকালে সওয়ারীর পিঠে আরোহণ করিবে। আবু উবাইদাহ (রাদি.) বললেনঃ আপনি কি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর থেকে পালানোর জন্য ফিরে যাচ্ছেন? উমার (রাদি.) বললেনঃ হে আবু উবাইদাহ! যদি তুমি ব্যতীত অন্য কেউ কথাটি বলত! হাঁ, আমরা আল্লাহর, এক তাকদীর থেকে আল্লাহর আরেকটি তাকদীরের দিকে ফিরে যাচ্ছি। তুমি বলত, তোমার কিছু উটকে যদি তুমি এমন কোন উপত্যকায় নিয়ে যাও যেখানে আছে দুটি মাঠ। তন্মধ্যে একটি হল সবুজ শ্যামল, আর অন্যটি হল শুষ্ক ও ধূসর। এবার বল ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, যদি তুমি সবুজ মাঠে চরাও তাহলে তা আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরিয়েছ। আর যদি শুষ্ক মাঠে চরাও, তাহলে তাও আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরিয়েছ। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদি.) আসলেন। তিনি এতক্ষণ যাবৎ তাহাঁর কোন প্রয়োজনের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমার নিকট একটি তথ্য আছে, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) –কে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা যখন কোন এলাকায় (প্লেগের) বিস্তারের কথা শোন, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোন এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাক, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর উমার (রাদি.) আল্লাহর প্রশংসা করিলেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করিলেন। [৫৭৩০, ৬৯৭৩; মুসলিম ৩৯/৩২, হাদীস ২২১৯] আঃপ্রঃ- ৫৩০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০৫)

৫৭৩০

 আবদুল্লাহ ইবনু আমির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উমার (রাদি.) সিরিয়া যাবার জন্য বের হলেন। এরপর তিনি সারগ নামক স্থানে পৌছলে তাহাঁর কাছে খবর এল যে সিরিয়া এলাকায় মহামারী দেখা দিয়েছে। তখন আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদি.) তাঁকে জানালেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন স্থানে এর বিস্তারের কথা শোন, তখন সে এলাকায় প্রবেশ করো না; আর যখন এর বিস্তার ঘটে, আর তোমরা সেখানে অবস্থান কর, তাহলে তা থেকে পালিয়ে যাওয়ার নিয়তে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।(আঃপ্রঃ- ৫৩১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০৬)

৫৭৩১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ মদীনায় ঢুকতে পারবে না মাসীহ দাজ্জাল, আর না মহামারী।(আঃপ্রঃ- ৫৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০৭)

৫৭৩২

হাফসাহ বিনত সীরীন (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) জিজ্ঞেস করিলেন, ইয়াহইয়া কী রোগে মারা গেছে? আমি বললামঃ প্লেগ রোগে। তিনি বলিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ প্লেগ রোগে মারা গেলে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তা শাহাদাত হিসেবে গণ্য।(আঃপ্রঃ- ৫৩১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০৮)

৫৭৩৩

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ উদরাময় রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ, আর প্লেগ রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ।(আঃপ্রঃ- ৫৩১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০৯)

৭৬/৩১. অধ্যায়ঃ প্লেগ রোগে যে ধৈর্য্য ধরে তার সাওয়াব।

৫৭৩৪

নাবী (সাঃআঃ) -এর স্ত্রী আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তখন আল্লাহর নাবী (সাঃআঃ) তাঁকে জানান যে, এটি হচ্ছে এক রকমের আযাব। আল্লাহ যার উপর তা পাঠাতে ইচ্ছে করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমাত বানিয়ে দিয়েছেন। অতএব প্লেগ রোগে কোন বান্দা যদি ধৈর্য ধরে, এ বিশ্বাস নিয়ে আপন শহরে অবস্থান করিতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোন বিপদ তার উপর আসবে না; তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহীদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব। দাঊদ থেকে নাযরও এ রকম বর্ণনা করিয়াছেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১০)

৭৬/৩২. অধ্যায়ঃ কুরআন পড়ে এবং সুরা নাস ও ফালাক (অর্থাৎ মুআব্বিযাত) পড়ে ফুঁক দেয়া।

৫৭৩৫

ইবরাহীম ইবনু মূসা (রাদি.) আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) যে রোগে ওফাত পান সেই রোগের সময়ে তিনি নিজ দেহে মুআব্বিযাত পড়ে ফুঁক দিতেন। অতঃপর যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে গেল, তখন আমি সেগুলো পড়ে ফুঁক দিতাম। আর আমি তাহাঁর নিজের হাত তাহাঁর দেহের উপর বুলিয়ে দিতাম। কেননা, তাহাঁর হাতে বারাকাত ছিল। রাবী বলেনঃ আমি যুহরীকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কীভাবে ফুঁক দিতেন? তিনি বললেনঃ তিনি তাহাঁর দুহাতের উপর ফুঁক দিতেন, অতঃপর সেই দুহাত দিয়ে আপন মুখমণ্ডল বুলিয়ে নিতেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১১)

৭৬/৩৩. অধ্যায়ঃ সুরা ফাতিহার দ্বারা ফুঁক দেয়া।

ইবনু আব্বাস (রাদি.) থেকে নাবী (সাঃআঃ) সূত্রে এ ব্যাপারে উল্লেখ আছে।

৫৭৩৬

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) -এর সাহাবীদের কতক সাহাবী আরবের এক গোত্রের নিকট আসলেন। গোত্রের লোকেরা তাঁদের কোন আতিথেয়তা করিল না। তাঁরা সেখানে থাকতেই হঠাৎ সেই গোত্রের নেতাকে সর্প দংশন করিল। তখন তারা এসে বললঃ আপনাদের কাছে কি কোন ঔষধ আছে কিংবা আপনাদের মধ্যে ঝাড়-ফুঁককারী লোক আছেন কি? তাঁরা উত্তর দিলেনঃ হাঁ। তবে তোমরা আমাদের কোন আতিথেয়তা করনি। কাজেই আমাদের জন্য কোন পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত আমরা তা করব না। ফলে তারা তাদের জন্য এক পাল বকরী পারিশ্রমিক দিতে রাযী হল। তখন একজন সাহাবী উম্মুল কুরআন (সুরা আল-ফাতিহা) পড়তে লাগলেন এবং মুখে থুথু জমা করে সে ব্যক্তির গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। ফলে সে রোগমুক্ত হল। এরপর তাঁরা বকরীগুলো নিয়ে এসে বলিল, আমরা নাবী (সাঃআঃ) কে জিজ্ঞেস করার পূর্বে এটি স্পর্শ করব না। এরপর তাঁরা এ বিষয়ে নাবী (সাঃআঃ) -কে জিজ্ঞেস করিলেন। নাবী (সাঃআঃ) শুনে হেসে দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা কীভাবে জানলে যে, এটি রোগ সারায়? ঠিক আছে বক্‌রীগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও এক ভাগ রেখে দিও।(আঃপ্রঃ- ৫৩১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১২)

৭৬/৩৪. অধ্যায়ঃ সুরা ফাতিহার দ্বারা ঝাড়-ফুঁক দেয়ার বদলে শর্তারোপ করা।

৫৭৩৭

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর সাহাবীগণের একটি দল একটি কুয়ার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। কূপের পাশে অবস্থানকারীদের মধ্যে ছিল সাপে কাটা এক ব্যক্তি কিংবা তিনি বলেছেন, দংশিত এক ব্যক্তি। তখন কূপের কাছে বসবাসকারীদের একজন এসে তাদের বললঃ আপনাদের মধ্যে কি কোন ঝাড়-ফুঁককারী আছেন? কূপ এলাকায় একজন সাপ বা বিচ্ছু দংশিত লোক আছে। তখন সাহাবীদের মধ্যে একজন সেখানে গেলেন। এরপর কিছু বকরী দানের বিনিময়ে তিনি সুরা ফাতিহা পড়লেন। ফলে লোকটির রোগ সেরে গেল। এরপর তিনি ছাগলগুলো নিয়ে সাথীদের নিকট আসলেন, কিন্তু তাঁরা কাজটি পছন্দ করিলেন না। তাঁরা বললেনঃ আপনি আল্লাহর কিতাবের উপর পারিশ্রমিক নিয়েছেন। অবশেষে তাঁরা মদীনায় পৌঁছে বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি আল্লাহর কিতাবের উপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করিয়াছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ যে সকল জিনিসের উপর তোমরা বিনিময় গ্রহণ করে থাক, তন্মধ্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার সবচেয়ে বেশি হক রয়েছে আল্লাহর কিতাবের।(আঃপ্রঃ- ৫৩১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১৩)

৭৬/৩৫. অধ্যায়ঃ নযর লাগার জন্য ঝাড়ফুঁক ।

৫৭৩৮

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আমাকে আদেশ করিয়াছেন কিংবা তিনি বলেছেন, নাবী (সাঃআঃ) আদেশ করিয়াছেন, নযর লাগার জন্য ঝাড়ফুঁক করিতে। [মুসলিম ৩৯/২১, হাদীস ২১৯৫] আঃপ্রঃ- ৫৩১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১৪)

৫৭৩৯

উম্মু সালামাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর ঘরে একটি মেয়েকে দেখলেন যে, তার চেহারা মলিন। তখন তিনি বললেনঃ তাকে ঝাড়ফুঁক করাও, কেননা তার উপর নযর লেগেছে।

আবদুল্লাহ ইবনু সালিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এ হাদীস অনুযায়ী যুবাইদী থেকে একই ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন।

উকায়ল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, এটি যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উরওয়াহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। [মুসলিম ৩৯/২১, হাদীস ২১৯৭] আঃপ্রঃ- ৫৩১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১৫)

৭৬/৩৬. অধ্যায়ঃ নযর লাগা সত্য।

৫৭৪০

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ বদ নযর লাগা সত্য। আর তিনি উল্কি অংকন করিতে নিষেধ করিয়াছেন। [৫৯৪৪; মুসলিম ৩৯/১৬, হাদীস ২১৮৭, আহমাদ ৮২৫২] আঃপ্রঃ- ৫৩২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১৬)

৭৬/৩৭. অধ্যায়ঃ সাপ কিংবা বিচ্ছু দংশনে ঝাড়-ফুঁক ।

৫৭৪১

 আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদের পিতা আসওয়াদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশাহ (রাদি.) -কে বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের কারণে ঝাড়-ফুঁক করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) সকল প্রকার বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন। [৩৯/২১, ২১৯৩, আহমাদ ২৫৭৯৭] আঃপ্রঃ- ৫৩২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১৭)

৭৬/৩৮. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) কর্তৃক ঝাড়-ফুঁক ।

৫৭৪২

আবদুল আযীয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ও সাবিত একবার আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) -এর নিকট গেলাম। সাবিত বলিলেন, হে আবু হামযা! আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। তখন আনাস (রাদি.) বললেনঃ আমি কি তোমাকে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যা দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন তা দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করে দেব? তিনি বললেনঃ হাঁ। তখন আনাস (রাদি.) পড়লেন- হে আল্লাহ! তুমি মানুষের রব, রোগ নিরাময়কারী, আরোগ্য দান কর, তুমি আরোগ্য দানকারী। তুমি ব্যতীত আর কেউ আরোগ্য দানকারী নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোন রোগ অবশিষ্ট রাখে না।( আঃপ্রঃ- ৫৩২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১৮)

৫৭৪৩

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর কোন কোন স্ত্রীকে সুরা নাস ও সুরা ফালাক পড়ে ডান হাত দিয়ে বুলিয়ে দিতেন এবং পড়তেনঃ হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোন রোগ অবশিষ্ট থাকে না।

সুফইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, আমি এ সম্বন্ধে মানসূরকে বলেছি। তারপর ইবরাহীম সূত্রে মাসরূকের বরাতে আয়েশাহ (রাদি.) থেকে এ রকমই বর্ণিত আছে।(আঃপ্রঃ- ৫৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১৯)

৫৭৪৪

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ঝাড়-ফুঁক করিতেন। আর এ দুআ পাঠ করিতেনঃ ব্যথা দূর করে দাও, হে মানুষের পালনকর্তা। আরোগ্যদানের ক্ষমতা কেবল তোমারই হাতে। এ ব্যথা তুমি ছাড়া আর কেউ দূর করিতে পারে না।(আঃপ্রঃ- ৫৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২০)

৫৭৪৫

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) রোগীর জন্য (মাটিতে ফুঁ দিয়ে) এ দুআ পড়তেনঃ আল্লাহর নামে আমাদের দেশের মাটি এবং আমাদের কারও থুথু, আমাদের প্রতিপালকের নির্দেশে আমাদের রোগীকে আরোগ্য দান করে। [৫৭৪৬; মুসলিম ৩৯/২১, হাদীস ২১৯৪, আহমাদ ২৪৬৭১] আঃপ্রঃ- ৫৩২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২১)

৫৭৪৬

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) ঝাড়-ফুঁকে পড়তেনঃ আমাদের দেশের মাটি এবং আমাদের কারও থুথুতে আমাদের প্রতিপালকের নির্দেশে আমাদের রোগী আরোগ্য লাভ করে।(আঃপ্রঃ- ৫৩২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২২)

৭৬/৩৯. অধ্যায়ঃ ঝাড়-ফুঁকে থুথু দেয়া।

৫৭৪৭

আবু ক্বাতাদাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করিতে পারবে না।

আবু সালামাহ (রাদি.) বলেনঃ আমি যখন এমন স্বপ্ন দেখি যা আমার কাছে পাহাড়ের চেয়ে ভারি মনে হয়, তখন এ হাদীস শোনার ফলে আমি তার কোন পরোয়াই করি না।[মুসলিম পর্ব ৪২/হাদীস ২২৬১, আহমাদ ২২৭০৭] আঃপ্রঃ- ৫৩২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২৩)

৫৭৪৮

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন বিছানায় আসতেন, তখন তিনি তাহাঁর দুহাতের তালুতে সুরা ইখ্‌লাস এবং মুআওব্বিযাতায়ন পড়ে ফুঁক দিতেন। তারপর উভয় তালু দ্বারা আপন চেহারা ও দুহাত শরীর যতদুর পৌছায় মাসাহ করিতেন। আয়েশাহ (রাদি.) বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন অসুস্থ হন, তখন তিনি আমাকে ঐ রকম করার নির্দেশ দিতেন।

ইউনুস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি ইবনু শিহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -কে, যখন তিনি তাহাঁর বিছানায় শুতে যেতেন, তখন ঐ রকম করিতে দেখেছি। (আঃপ্রঃ- ৫৩২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২৪)

৫৭৪৯

আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর একদল সাহাবী একবার এক সফরে যান। অবশেষে তারা আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে এক গোত্রের নিকট এসে মেহমান হইতে চান। কিন্তু সে গোত্র তাঁদের মেহমানদারী করিতে প্রত্যাখ্যান করে। ঘটনাচক্রে সে গোত্রের সর্দারকে সাপে দংশন করে। তারা তাকে সুস্থ করার জন্য সবরকম চেষ্টা করে, কিন্তু কোন ফল হয় না। তখন তাদের কেউ বললঃ তোমরা যদি ঐ দলের কাছে যেতে যারা তোমাদের মাঝে এসেছিল। হয়ত তাদের কারও কাছে কোন ঔষধ থাকতে পারে। তখন তারা সে দলের কাছে এসে বললঃ হে দলের লোকেরা। আমাদের সর্দারকে সাপে দংশন করেছে। আমরা সব রকম চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন ফল হয়নি। তোমাদের কারও নিকট কি কোন তদবীর আছে? একজন বললেনঃ হাঁ। আল্লাহর কসম, আমি ঝাড়-ফুঁক করি। তবে আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের নিকট মেহমান হইতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারী করনি। তাই আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঝাড়-ফুঁক করব না, যতক্ষণ না তোমরা আমাদের জন্য মজুরী নির্ধারণ করিবে। তখন তারা তাদের একপাল ছাগল দিতে রাজী হল। তারপর সে সাহাবী সেখানে গেলেন এবং আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন (সুরা ফাতিহা) পড়ে ফুঁক দিতে থাকলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি এমন সুস্থ হল, যেন বন্ধন থেকে মুক্তি পেল। সে চলাফেরা করিতে লাগল, যেন তাহাঁর কোন রোগই নাই। রাবী বলেনঃ তখন তারা যে মজুরী চুক্তি করেছিল, তা আদায় করিল। এরপর সাহাবীদের মধ্যে একজন বললেনঃ এগুলো বণ্টন করে দাও। এতে যিনি ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন তিনি বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর নিকট গিয়ে যতক্ষণ না এসব ঘটনা জানাব এবং তিনি আমাদের কী আদেশ দেন তা না জানব, ততক্ষণ তোমরা তা ভাগ করো না। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর নিকট এসে ঘটনা জানাল। তিনি বললেনঃ তুমি কী করে জানলে যে, এর দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা যায়? তোমরা ঠিকই করেছ। তোমরা এগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যে একটা ভাগ রাখ।(আঃপ্রঃ- ৫৩২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২৫)

৭৬/৪০. অধ্যায়ঃ ঝাড়-ফুঁককারীর ডান হাত দিয়ে ব্যথার স্থান মাসাহ করা।

৫৭৫০

 আব্দুল্লাহ ইবনু আবু শাইবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) তাদের কাউকে ঝাড়ার সময় ডান হাত দিয়ে মাসাহ করিতেন (এবং বলিতেন) : হে মানুষের প্রতিপালক! তুমি রোগ দূর করে দাও এবং আরোগ্য দান কর। তুমিই তো আরোগ্যদানকারী, তোমার আরোগ্য ভিন্ন আর কোন আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য দাও, যারপর কোন রোগ থাকে না। এ হাদীস আমি মানসূরের কাছে উল্লেখ করলে তিনি ইবরাহীম, মাসরূক, আয়েশাহ (রাদি.) থেকে এ রকমই বর্ণনা করেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২৬)

৭৬/৪১. অধ্যায়ঃ স্ত্রীলোক দ্বারা পুরুষকে ঝাড়-ফুঁক করা।

৫৭৫১

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) যে রোগে মারা যান, সে রোগে তিনি সুরা নাস ও সুরা ফালাক্ব পড়ে নিজের উপর ফুঁক দিতেন। যখন রোগ বেড়ে গেল, তখন আমি সেগুলো পড়ে ফুঁক দিতাম এবং তাহাঁর হাত বুলিয়ে দিতাম বারাকাতের আশায়। বর্ণনাকারী [মামার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)] বলেন, আমি ইবনু শিহাবকে জিজ্ঞেস করলামঃ নাবী (সাঃআঃ) কীভাবে ফুঁক দিতেন? তিনি বললেনঃ নিজের দুহাতে ফুঁক দিতেন, তারপর তা দিয়ে চেহারা মুছে নিতেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২৭)

৭৬/৪২. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি ঝাড়-ফুঁক করে না।

৫৭৫২

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক দিন নাবী (সাঃআঃ) আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেনঃ আমার সামনে (পূর্ববর্তী নাবীগণের) উম্মতদের পেশ করা হল। (আমি দেখলাম) একজন নাবী যাচ্ছেন, তাহাঁর সাথে আছে মাত্র একজন লোক এবং আর একজন নাবী যার সঙ্গে আছে দুজন লোক। অন্য এক নাবীকে দেখলাম, তাহাঁর সঙ্গে আছে একটি দল, আর একজন নাবী তাহাঁর সাথে কেউ নেই। আবার দেখলাম, একটি বিরাট দল যা দিগন্ত জুড়ে আছে। আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, এ বিরাট দলটি যদি আমার উম্মত হত। বলা হলঃ এটা মূসা (আঃ) ও তাহাঁর কওম। এরপর আমাকে বলা হলঃ দেখুন। দেখলাম, একটি বিশাল জামাআত দিগন্ত জুড়ে আছে। আবার বলা হলঃ এ দিকে দেখুন। ও দিকে দেখুন। দেখলাম বিরাট বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। বলা হলঃ ঐ সবই আপনার উম্মত এবং ওদের সাথে সত্তর হাজার লোক এমন আছে যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। এরপর লোকজন এদিক ওদিক চলে গেল। নাবী (সাঃআঃ) আর তাদের (সত্তর হাজারের) ব্যাখ্যা করে বলেননি। নাবী (সাঃআঃ) -এর সাহাবীগণ এ নিয়ে নানান কথা শুরু করে দিলেন। তাঁরা বলাবলি করলেনঃ আমরা তো শির্‌কের মাঝে জন্মেছি, পরে আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের উপর ঈমান এনেছি। বরং এরা আমাদের সন্তানরাই হইবে। নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এ কথা পৌঁছালে তিনি বলেনঃ তাঁরা (হইবে) ঐ সব লোক যারা অবৈধভাবে মঙ্গল অমঙ্গল নির্ণয় করে না, ঝাড়-ফুঁক করে না এবং আগুনে পোড়ানো লোহার দাগ লাগায় না, আর তাঁরা তাদের প্রতিপালকের উপর একমাত্র ভরসা রাখে। তখন উকাশাহ বিন মিহসান (রাদি.) দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তাদের মধ্যে আছি? তিনি বলিলেন হ্যাঁ। তখন আর একজন দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তাদের মধ্যে আছি? তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে উকাশাহ তোমাকে ছাড়িয়ে গেছে।(আঃপ্রঃ- ৫৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২৮)

৭৬/৪৩. অধ্যায়ঃ পশু-পাখি তাড়িয়ে শুভ-অশুভ নির্ণয়।

৫৭৫৩

ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ ছোঁয়াচে ও শুভ-অশুভ বলিতে কিছু নেই। অমঙ্গল তিন বস্তুর মধ্যে স্ত্রীলোক, গৃহ ও পশুতে। [১] [২০৯৯; মুসলিম ৩৯/৩৪, হাদীস ২২২৫, আহমাদ ৪৫৪৪] আঃপ্রঃ- ৫৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২৯)

[১] কোন কোন স্ত্রীলোক স্বামীর অবাধ্য হয়। আবার কেউ হয় সন্তানহীনা। কোন গৃহে দুষ্ট জ্বিনের উপদ্রব দেখা যা, আবার কোন গৃহ প্রতিবেশীর অত্যাচারের কারণে অশান্তিময় হয়ে উঠে। গৃহে সলাত আদায় ও যিকর-আযকারের মাধ্যমে জ্বিনের অমঙ্গল থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কোন কোন পশু অবাধ্য বেয়াড়া হয়।

৫৭৫৪

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে এ কথা বলিতে শুনিয়াছি যে, শুভ-অশুভ নির্ণয়ে কোন লাভ নেই, বরং শুভ আলামত গ্রহন করা ভাল। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ শুভ আলামত কী? তিনি বললেনঃ ভাল কথা, যা তোমাদের কেউ শুনে থাকে। [৫৭৫৫; মুসলিম ৩৯/৩৪, হাদীস ২২২৩, আহমাদ ৯৮৫৬] আঃপ্রঃ- ৫৩৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩০)

৭৬/৪৪. অধ্যায়ঃ শুভ-অশুভ আলামত।

৫৭৫৫

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ শুভ-অশুভ বলে কিছু নেই এবং এর কল্যাণই হল শুভ আলামত। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! শুভ আলামত কি? তিনি বললেনঃ ভাল কথা, যা তোমাদের কেউ (বিপদের সময়) শুনে থাকে।(আঃপ্রঃ- ৫৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩১)

৫৭৫৬

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগের সংক্রমন ও শুভ-অশুভ বলিতে কিছু নেই। শুভ আলামতই আমার নিকট পছন্দনীয়, আর তা হল উত্তম বাক্য। (আঃপ্রঃ- ৫৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩২)

৭৬/৪৫. অধ্যায়ঃ পেঁচাতে অশুভ আলামত নেই।

৫৭৫৭

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগে সংক্রমণ নেই; শুভ-অশুভ আলামত বলে কিছু নেই। পেঁচায় অশুভ আলামত নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই।(আঃপ্রঃ- ৫৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৩)

৭৬/৪৬. অধ্যায়ঃ গণনা বিদ্যা প্রসঙ্গে

৫৭৫৮

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) একবার হুযাইল গোত্রের দুজন মহিলার মধ্যে বিচার করেন। তারা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্যজনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের বাচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তিনি ফায়সালা দেন যে, এর পেটের সন্তানের বদলে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দিতে হইবে। জরিমানা আরোপকৃত মহিলার অভিভাবক বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন হইবে, যে পান করেনি, খাদ্য খায়নি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। এ অবস্থায় জরিমানা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ এ তো (দেখছি) গণকদের ভাই। [৫৭৫৯, ৫৭৬০, ৬৭৪০, ৬৯০৪, ৬৯০৯, ৬৯১০; মুসলিম ২৮/১১, হাদীস ১৬৮১] আঃপ্রঃ- ৫৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৪)

৫৭৫৯

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

দুজন মহিলার একজন অন্যজনের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে। এতে সে তার গর্ভপাত ঘটায়। নাবী (সাঃআঃ) এ ঘটনার বিচারে গর্ভস্থ শিশুর বদলে একটি দাস বা দাসী দেয়ার ফয়সালা দেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৫)

৫৭৬০

সাঈদ ইবনু মুসায়্যিব এর সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

যে গর্ভস্থ শিশুকে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয়, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) একটি দাস বা দাসী প্রদানের ফয়সালা দেন। যার বিপক্ষে এ ফয়সালা দেয়া হয়, সে বলেঃ আমি কীভাবে এমন শিশুর জরিমানা আদায় করি, যে পানাহার করেনি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। এ রকম হত্যার জরিমানা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ এ তো দেখছি গণকদের ভাই। [৫৭৫৮; মুসলিম ২৮/১১, হাদীস ১৬৮১] আঃপ্রঃ- ৫৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৫)

৫৭৬১

আবু মাসঊদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) কুকুরের মূল্য, যিনাকারিণীর পারিশ্রমিক ও গণকের পারিশ্রমিক দিতে নিষেধ করিয়াছেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৬)

৫৭৬২

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কতকগুলো লোক রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর নিকট গণকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এ কিছুই নয়। তারা বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! ওরা কখনও কখনও আমাদের এমন কথা শোনায়, যা সত্য হয়ে থাকে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ সে কথা সত্য। জিনেরা তা ছোঁ মেরে নেয়। পরে তাদের বন্ধু (গণক) এর কানে ঢেলে দেয়। তারা এর সাথে শত মিথ্যা মিলায়।

আলী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আবদুর রায্‌যাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেনঃ এ বাণী সত্য তবে মুরসাল। এরপর আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, পরে এটি তিনি মুসনাদ রূপে বর্ণনা করিয়াছেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৭)

৭৬/৪৭. অধ্যায়ঃ যাদু সম্পর্কে

মহান আল্লাহর বাণীঃ শায়ত্বনরাই কুফুরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দুজন ফেরেশতা হারূত ও মারূতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল……… পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না পর্যন্ত – (সুরা আল-বাকারাহ ২/১০২) । মহান আল্লাহর বাণীঃ যাদুকর যেরূপ ধরেই আসুক না কেন, সফল হইবে না – (সুরা ত্বহা ২০/৬৯) । মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কি দেখে-শুনে যাদুর কবলে পড়বে? – (সুরা আম্বিয়া ২১/৩) । মহান আল্লাহর বাণীঃ তখন তাদের যাদুর কারণে মূসার মনে হল যে, তাদের রশি আর লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে- (সুরা ত্বহা ২০/৬৬)। মহান আল্লাহর বাণীঃ এবং (জাদু করার উদ্দেশ্যে ) গিরায় ফুঁৎকারকারিণীদের অনিষ্ট হইতে- (সুরা ফালাক্ব ১১৩/৪) । (আরবি) অর্থ যাদুকর নারী, যারা যাদু করে চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দেয়।

৫৭৬৩

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবনু আসাম নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ -কে যাদু করে। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ -এর মনে হতো যেন তিনি একটি কাজ করিয়াছেন, অথচ তা তিনি করেননি। একদিন বা একরাত্রি তিনি আমার কাছে ছিলেন। তিনি বার বার দুআ করিতে থাকেন। তারপর তিনি বলেনঃ হে আয়েশাহ! তুমি কি বুঝতে পেরেছ যে, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দুজন লোক আসেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দুপায়ের কাছে বসেন। একজন তাহাঁর সঙ্গীকে বলেনঃ এ লোকটির কী ব্যথা? তিনি বলেনঃ যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বলেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলেন, লাবীদ বিন আসাম। প্রথম জন জিজ্ঞেস করেনঃ কিসের মধ্যে? দ্বিতীয় জন উত্তর দেনঃ চিরুনী, মাথা আঁচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং এক পুং খেজুর গাছের জুব-এর মধ্যে। তখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ কয়েকজন সহাবী সাথে নিয়ে সেখানে যান। পরে ফিরে এসে বলেনঃ হে আয়েশাহ! সে কূপের পানি মেহদীর পানির মত লাল) এবং তার পাড়ের খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মত। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করিয়াছেন, আমি মানুষকে এমন বিষয়ে প্ররোচিত করিতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

আবু উসামাহ আবু যামরাহ ও ইবনু আবু যিনাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হিশাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। লাইস ও ইবনু উয়াইনাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হিশাম থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, চিরুনী ও কাতানের টুকরায়। আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, الْمُشَاطَةُ হল চিরুনী করার পর যে চুল বের হয়। مُشَاقَةِ হল কাতান। [৩১৭৫] আঃপ্রঃ- ৫৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৮)

৭৬/৪৮. অধ্যায়ঃ শিরক ও যাদু ধ্বংসাত্মক ।

৫৭৬৪

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমরা ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাক। আর তা হল আল্লাহর সাথে শরীক স্থির করা ও যাদু করা।(আঃপ্রঃ- ৫৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৯)

৭৬/৪৯. অধ্যায়ঃ যাদুর চিকিৎসা করা যাবে কি না?

ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি সাঈদ ইবনু মুসায়্যিব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -কে জিজ্ঞেস করলামঃ জনৈক ব্যক্তিকে যাদু করা হয়েছে অথবা (যাদু করে) তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, এমন ব্যক্তিকে যাদু মুক্ত করা যায় কিনা অথবা তার থেকে যাদুর বন্ধন খুলে দেয়া বৈধ কিনা? সাঈদ (রাদি.) বললেনঃ এতে কোন ক্ষতি নেই। কেননা, তারা এর দ্বারা তাকে ভাল করিতে চাইছে। আর যা কল্যাণকর তা নিষিদ্ধ নয়।

৫৭৬৫

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর উপর একবার যাদু করা হয়। এমন অবস্থা হয় যে, তাহাঁর মনে হতো তিনি বিবিগণের কাছে এসেছেন, অথচ তিনি আদৌ তাঁদের কাছে আসেননি। সুফ্‌ইয়ান বলেনঃ এ অবস্থা যাদুর চরম প্রতিক্রিয়া। বর্ণনাকারী বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ঘুম থেকে জেগে উঠেন এবং বলেনঃ হে আয়েশাহ! তুমি জেনে নাও যে, আমি আল্লাহর কাছে যে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম তিনি আমাকে তা বলে দিয়েছেন। (স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দুজন লোক এলেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন আমার পায়ের নিকট বসলেন। আমার কাছের লোকটি অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটির কী অবস্থা? দ্বিতীয় লোকটি বললেনঃ একে যাদু করা হয়েছে। প্রথমজন বলেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলেন, লাবীদ ইবনু আসাম। এ ইয়াহূদীদের মিত্র যুরায়ক্ব গোত্রের একজন, সে ছিল মুনাফিক। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেনঃ কিসের মধ্যে যাদু করা হয়েছে? দ্বিতীয় ব্যক্তি উত্তর দিলেনঃ চিরুনী ও চিরুনী করার সময় উঠে যাওয়া চুলের মধ্যে। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেনঃ সেগুলো কোথায়? উত্তরে দ্বিতীয়জন বললেনঃ পুং খেজুর গাছের জুবের মধ্যে রেখে যারওয়ান কূপের ভিতর পাথরের নীচে রাখা আছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) উক্ত কূপের নিকট এসে সেগুলো বের করেন এবং বলেনঃ এইটিই সেই কূপ, যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। এর পানি মেহদী মিশ্রিত পানির তলানীর মত, আর এ কূপের (পার্শ্ববর্তী) খেজুর গাছের মাথাগুলো (দেখিতে) শয়তানের মাথার ন্যায়। বর্ণনাকারী বলেনঃ সেগুলো তিনি সেখান থেকে বের করেন। আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি একথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম, তিনি আমাকে আরোগ্য দান করিয়াছেন; আর আমি মানুষকে এমন বিষয়ে প্ররোচিত করিতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। [৩১৭৫; মুসলিম ৩৯/১৭, হাদীস ২১৮৯, আহমাদ ২৪৩৫৪] আঃপ্রঃ- ৫৩৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪০)

৭৬/৫০. অধ্যায়ঃ যাদু

৫৭৬৬

 আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর উপর যাদু করা হয়। এমনকি তাহাঁর মনে হতো তিনি কাজটি করিয়াছেন, অথচ তা তিনি করেননি। শেষে একদিন তিনি যখন আমার নিকট ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট বার বার দুআ করিলেন। তারপর ঘুম থেকে জেগে বললেনঃ হে আয়েশাহ! তুমি কি বুঝতে পেরেছ? আমি যে বিষয়ে তাহাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি তা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসুল! তা কী? তিনি বললেনঃ আমার নিকট দুজন লোক এলেন। তাঁদের একজন আমার মাথার নিকট এবং আরেকজন আমার পায়ের নিকট বসলেন। তারপর একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটির কী ব্যথা? তিনি উত্তর দিলেনঃ তাঁকে যাদু করা হয়েছে। প্রথমজন বললেনঃ কে তাঁকে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলিলেন, লাবীদ ইবনু আসাম নামক ইয়াহূদী। প্রথমজন জিজ্ঞেস করলেনঃ যাদু কী দিয়ে করা হয়েছে? দ্বিতীয়জন বললেনঃ চিরুনী, চিরুনী আঁচড়াবার সময় উঠে আসা চুল ও নর খেজুর গাছের জুব এর মধ্যে। তখন নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর সহাবীদের কয়েকজনকে নিয়ে ঐ কূপের নিকট গেলেন এবং তা ভাল করে দেখলেন। কূপের পাড়ে ছিল খেজুর গাছ। তারপর তিনি আয়েশাহ (রাদি.) এর নিকট ফিরে এসে বললেনঃ আল্লাহর কসম! কূপটির পানি (রঙ) মেহদী মিশ্রিত পানির তলানীর ন্যায়। আর পার্শ্ববর্তী খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার ন্যায়। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি সেগুলো বের করবেন না? তিনি বললেনঃ না, আল্লাহ আমাকে আরোগ্য ও শিফা দান করিয়াছেন, মানুষের মধ্যে এ ঘটনা থেকে মন্দ ছড়িয়ে দিতে আমি সঙ্কোচ বোধ করি। এরপর তিনি যাদুর দ্রব্যগুলোর ব্যাপারে নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।(আঃপ্রঃ- ৫৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪১)

৭৬/৫১. অধ্যায়ঃ কোন কোন ভাষণ হল যাদু।

৫৭৬৭

 আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার পূর্ব অঞ্চল (নজ্‌দ এলাকা) থেকে দুজন লোক এল এবং দুজনই ভাষণ দিল। লোকজন তাদের ভাষণে বিস্মিত হয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ কোন কোন ভাষণ অবশ্যই যাদুর মত।(আঃপ্রঃ- ৫৩৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪২)

৭৬/৫২. অধ্যায়ঃ আজ্‌ওয়া খেজুর দিয়ে যাদুর চিকিৎসা প্রসঙ্গে।

৫৭৬৮

সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকালবেলায় কয়েকটি আজ্‌ওয়া খুরমা খাবে, ঐ দিন রাত অবধি কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করিবে না।

অন্যান্য বর্ণনাকারী বলেছেনঃ সাতটি খুরমা।(আঃপ্রঃ- ৫৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৩)

৫৭৬৯

সাদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সকালবেলায় সাতটি আজ্‌ওয়া (মদীনায় উৎপন্ন উৎকৃষ্ট খুরমা) খেজুর খাবে, সে দিন কোন বিষ বা যাদু তার কোন ক্ষতি করিবে না।( আঃপ্রঃ- ৫৩৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৪)

৭৬/৫৩. অধ্যায়ঃ পেঁচায় কোন অশুভ আলামত নেই।

৫৭৭০

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগের মধ্যে কোন সংক্রমণ নেই, সফর মাসের মধ্যে অকল্যাণের কিছু নেই এবং পেঁচার মধ্যে কোন অশুভ আলামত নেই। তখন এক বেদুঈন বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে যে উট পাল মরুভূমিতে থাকে, হরিণের মত তা সুস্থ ও সবল থাকে। উটের পালে একটি চর্মরোগওয়ালা উট মিশে সবগুলোকে চর্মরোগগ্রস্ত করে দেয়? রাসুলুল্লাহ বললেনঃ তবে প্রথম উটটির মধ্যে কীভাবে এ রোগ সংক্রামিত হল? (আঃপ্রঃ- ৫৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৫)

৫৭৭১

আবু সালামাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আবু হুরাইরাহ -কে বলিতে শুনেছেন নাবী সাঃআঃ বলেছেনঃ কেউ যেন কখনও রোগাক্রান্ত উট সুস্থ উটের সাথে না রাখে। আর আবু হুরাইরাহ প্রথম হাদীস অস্বীকার করেন। আমরা বললামঃ আপনি কি لاَ عَدْوىহাদীস বর্ণনা করেননি? তখন তিনি হাবশী ভাষায় কী যেন বলিলেন। আবু সালামাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ আমি আবু হুরাইরাহ -কে এ হাদীস ছাড়া আর কোন হাদীস ভুলে যেতে দেখিনি। [৫৭৭৪; মুসলিম ৩৯/৩৩, হাদীস ২২২১, আহমাদ ৯২৭৪] আঃপ্রঃ- ৫৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৫)

৭৬/৫৪. অধ্যায়ঃ রোগের সংক্রমণ বলিতে কিছু নেই।

৫৭৭২

 আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগের সংক্রমণ বলিতে কিছু নেই, অশুভ কেবল ঘোড়া, নারী ও ঘর এ তিন জিনিসের মধ্যেই রয়েছে।(আঃপ্রঃ- ৫৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৬)

৫৭৭৩

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ সংক্রমণ বলিতে কিছু নেই।(আঃপ্রঃ- ৫৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৭)

৫৭৭৪

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান বলেন, আবু হুরাইরা (রাদি.) থেকে শুনিয়াছি, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগাক্রান্ত উট নীরোগ উটের সাথে মিশ্রিত করিবে না। (আঃপ্রঃ- ৫৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৭)

৫৭৭৫

যুহরী সূত্রে আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ সংক্রমণ বলিতে কিছু নেই। তখন এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে বললঃ এ সম্পর্কে আপনার কী অভিমত যে, হরিণের মত সুস্থ উট যে মরুভূমির পালের মাঝে থাকে। পরে কোন চর্মরোগগ্রস্থ উট সেগুলোর সাথে মিশে গিয়ে সবগুলোকে চর্মরোগে আক্রান্ত করে। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ তা হলে প্রথমটিকে কে রোগাক্রান্ত করেছিল?(আঃপ্রঃ- ৫৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৭)

৫৭৭৬

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ রোগের সংক্রমণ বলিতে কিছু নেই এবং পাখি উড়াতে কোন শুভ-অশুভ নেই আর আমার নিকট ফাল পছন্দনীয়। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ ফাল কী? তিনি বললেনঃ ভাল কথা। [৫৭৫৬; মুসলিম ৩৯/৩৪, হাদীস ২২২৪, আহমাদ ১৩৯৫১] আঃপ্রঃ- ৫৩৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৮)

৭৬/৫৫. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) -কে বিষ পান করানো সম্পর্কিত।

উর্ওয়াহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করিয়াছেন আয়েশাহ (রাদি.) থেকে, তিনি নাবী (সাঃআঃ) থেকে।

৫৭৭৭

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, খাইবার যখন বিজয় হয়, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর নিকট হাদীয়া স্বরূপ একটি (ভুনা) বক্‌রী পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছিল বিষ। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ এখানে যত ইয়াহূদী আছে আমার কাছে তাদের একত্রিত কর। তাহাঁর কাছে সকলকে একত্র করা হল। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাদের উদ্দেশ্যে বললেনঃ আমি তোমাদের নিকট একটা ব্যাপার জানতে চাই, তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বললঃ হাঁ, হে আবুল কাসিম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমাদের পিতা কে? তারা বললঃ আমাদের পিতা অমুক। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমরা মিথ্যা বলছ বরং তোমাদের পিতা অমুক। তারা বললঃ আপনি সত্য বলেছেন ও সঠিক বলেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের নিকট আর একটি প্রশ্ন করি, তাহলে কি তোমরা সেক্ষেত্রে আমাকে সত্য বলবে? তারা বললঃ হাঁ, হে আবুল কাসিম যদি আমরা মিথ্যা বলি তবে তো আপনি আমাদের মিথ্যা জেনে ফেলবেন, যেমনিভাবে জেনেছেন আমাদের পিতার ব্যাপারে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাদের বললেনঃ জাহান্নামী কারা? তারা বললঃ আমরা সেখানে অল্প কয়েকদিনের জন্য থাকব। তারপর আপনারা আমাদের স্থানে যাবেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমরাই সেখানে অপমানিত হয়ে থাকবে। আল্লাহর কসম! আমরা কখনও সেখানে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হবো না। এরপর তিনি তাদের বললেনঃ আমি যদি তোমাদের কাছে আর একটি বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে কি তোমরা সে বিষয়ে আমার কাছে সত্য কথা বলবে? তারা বললঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা কি এ ছাগলের মধ্যে বিষ মিশিয়েছ? তারা বললঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাদের এ কাজে প্রেরণা যুগিয়েছে? তারা বললঃ আমরা চেয়েছি, যদি আপনি মিথ্যাচারী হন, তবে আমরা আপনার থেকে রেহাই পেয়ে যাব। আর যদি আপনি (সত্য) নাবী হন, তবে এ বিষয় আপনার কোন ক্ষতি করিবে না।(আঃপ্রঃ- ৫৩৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৪৯)

৭৬/৫৬. অধ্যায়ঃ বিষ পান করা, বিষের সাহায্যে চিকিৎসা করা, ভয়ানক কিছু দ্বারা চিকিৎসা করা যাতে মারা যাবার আশঙ্কা আছে এবং হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা।

৫৭৭৮

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে লোক পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরকাল সে জাহান্নামের ভিতর ঐভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে লোক বিষপানে আত্মহত্যা করিবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করিতে থাকবে। যে লোক লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করিবে, জাহান্নামের আগুনের ভিতর সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করিতে থাকবে।[১৩৬৫; মুসলিম ১/৪৭, হাদীস ১০৯, আহমাদ ১০৩৪১০] আঃপ্রঃ- ৫৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৫০)

৫৭৭৯

সাদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ভোরবেলা সাতটি আজ্‌ওয়া খুরমা খেয়ে নিবে, সে দিন বিষ বা যাদু তার কোন ক্ষতি করিতে পারবে না।(আঃপ্রঃ- ৫৩৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৫১)

৭৬/৫৭. অধ্যায়ঃ গাধীর দুধ প্রসঙ্গে

৫৭৮০

আবু সালাবা খুশানী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যাবতীয় নখরবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী খেতে নিষেধ করিয়াছেন। যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি সিরিয়ায় চলে আসা অবধি এ হাদীস শুনিনি।(আঃপ্রঃ- ৫৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৫২)

৫৭৮১

আবু সালাবা খুশানী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

লায়স আরো বলেছেন যে, ইউনুস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনু শিহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেছেন যে, আমি এ হাদীসের বর্ণনাকারী (আবু ইদরীস) -কে জিজ্ঞেস করেছি যে, গাধীর দুগ্ধ, হিংস্র প্রাণীর পিত্তের রস এবং উটের পেশাব পান করা বা তা দিয়ে অযূ বৈধ কিনা? তিনি বলেছেনঃ আগেকার মুসলিম উটের প্রস্রাবের সাহায্যে চিকিৎসা করিতেন এবং এটা তারা কোন পাপ মনে করিতেন না। আর গাধীর দুগ্ধ সম্পর্কে কথা হলোঃ গাধার গোশ্‌ত খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা আমাদের কাছে পৌঁছেছে। কিন্তু তার দুগ্ধের ব্যাপারে আদেশ বা নিষেধ কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছেনি। আর হিংস্র প্রাণীর পিত্তরস সম্পর্কে ইবনু শিহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু ইদরীস খাওলানী (রাদি.) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যাবতীয় নখরওয়ালা হিংস্র প্রাণী খেতে নিষেধ করিয়াছেন।(আঃপ্রঃ- ৫৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৫২)

৭৬/৫৮. অধ্যায়ঃ কোন পাত্রে মাছি পড়লে।

৫৭৮২

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও কোন খাবার পাত্রে মাছি পড়ে, তখন তাকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দিবে, তারপর ফেলে দিবে। কারণ, তার এক ডানায় থাকে আরোগ্য, আরেক ডানায় থাকে রোগ।(আঃপ্রঃ- ৫৩৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৫৩)

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply