ইসরাক ও চাশতের সালাত

ইসরাক ও চাশতের সালাত

ইসরাক ও চাশতের সালাত >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৪, অধ্যায়ঃ ৩৮

  • অধ্যায়ঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ৩৮. প্রথম অনুচ্ছেদ

১৩০৯। আল্লামা আয়নী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মাক্কাহ বিজয়ের দিন যখন আমার ঘরে আসলেন, প্রথমে তিনি গোসল করিলেন। এরপর তিনি [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আট রাকাআত সলাত আদায় করিলেন। এর আগে আমি কোন দিন তাঁকে এত সংক্ষেপে সলাত আদায় করিতে দেখিনি। কিন্তু তিনি রুকূ সাজদাহ ঠিক মতো করিয়াছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, এটা ছিল চাশতের সলাত। ] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১১৭৬, মুসলিম, আত তিরমিজি ৪৭৪, আহমাদ ২৬৯০০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৯০২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০০০, শামায়েল ২৪৬। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৩১. মুআযাহ্ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাদি.] -কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যুহার সলাত কত রাকাআত করে আদায় করিতেন? তিনি উত্তর দিলেন, তিনি চার রাকাআত আদায় করিতেন। আল্লাহর ইচ্ছায় কখনো এর চেয়ে বেশীও আদায় করিতেন। {১}

1] সহীহ : মুসলিম ৭১৯, আহমাদ ২৫৩৪৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৮৯৯, ইরওয়া ৪৬২। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৩১১. আবু যার গিফারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইরশাদ করিয়াছেন : সকাল হইতেই তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটা গ্রস্থির জন্যে সদাক্বাহ্ দেয়া অবশ্য দায়িত্ব। অতএব প্রতিটা তাসবীহই অর্থাৎ সুবহা-নাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্। প্রতিটি তাহমীদই অর্থাৎ আলহামদুলিল্লা-হ পড়া সদাক্বাহ্। প্রতিটি তাহলীল অর্থাৎ লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্। প্রতিটি তাকবীর অর্থাৎ আল্ল-হ আকবার বলা সদাক্বাহ্। নেক কাজের নির্দেশ করা সদাক্বাহ্। মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সদাক্বাহ্। আর এ সবের পরিবর্তে যুহার দু রাকাআত সলাত আদায় করে নেয়া যথেষ্ট। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৭২০, আহমাদ ২১৪৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৮৯৮, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০০৭, সহীহ আত তারগীব ৬৬৫, সহীহ আল জামি ৮০৯৭। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৩১২. যায়দ ইবনি আরক্বাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একটি দলকে যুহার সময় সলাত আদায় করিতে দেখে বললেন, এসব লোকে জানে না, এ সময় ব্যতীত অন্য সময়ে সলাত আদায় করা অনেক ভাল। রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইরশাদ করিয়াছেন : আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ নিবিষ্টচিত্তে লোকদের সলাতের সময় হলো উষ্ট্রীর দুধ দোহনের সময়ে। [] {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৭৪৮, আহমাদ ১৯৩১৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৯০৮, সহীহ ইবনি হিব্বান ২৫৩৯, সহীহ আল জামি ৩৮১৫, সহীহাহ্ ১১৬৮, ইরওয়া ৪৬৬। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ৩৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৩১৩. আবুদ্ দারদা ও আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাঁরা দুজনে বলেন, রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইরশাদ করিয়াছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন : হে বানী আদাম! তুমি আমার জন্য চার রাক্আত সলাত আদায় কর দিনের প্রথমে। আমি তোমার জন্য যথেষ্ট হবো দিনের শেষে {১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৪৭৫, সহীহ আত তারগীব ৬৭২। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৩১৪. নুআয়ম ইবনি হাম্মার আল গাত্বাফানী হইতে বর্ণীতঃ

এ হাদিসটি নুআয়ম ইবনি হাম্মার আল গাত্বাফানী থেকে আবু দাউদ ও দারিমী বর্ণনা করিয়াছেন। আর ঈমাম আহমাদ বর্ণনা করিয়াছেন তাদের নিকট থেকে। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ১২৮৯, আহমাদ ২২৪৭০, দারিমী ১৪৯২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৯০১, ইবনি হিব্বান ২৫৩৩, ইরওয়া ৪৬৫, সহীহ আল জামি ৪৩৪২। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৩১৫. বুরায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কে বলিতে শুনিয়াছি : মানুষের শরীরে তিনশত ষাটটি জোড়া আছে। প্রত্যেক লোকের উচিত প্রত্যেকটি জোড়ার জন্যে সদাক্বাহ্ করা। সাহাবীগণ আবেদন করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কার সাধ্য আছে এ কাজ করিতে? তিনি বললেন, মাসজিদে পড়ে থাকা থুথু মুছে ফেলাও একটি সদাক্বাহ্। পথ থেকে কোন কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়াও একটি সদাক্বাহ্। তিনশত ষাট জোড়ার সদাক্বাহ্ দেবার মতো কোন জিনিস না পেলে যুহার [চাশত] দু রাক্আত সলাত আদায় করে নেয়া তোমার জন্য যথেষ্ট। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ৫২৪২, ইবনি খুযায়মাহ্ ১২২৬, শুআবুল ইমান ১০৬৫০, ইরওয়া ৮৬০, আহমাদ ২২৯৯৮, সহীহ আত তারগীব ৬৬৬, ২৯৭১, সহীহ আল জামি ৪২৩৯। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৩১৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইরশাদ করিয়াছেন : যে লোক যুহার বারো রাক্আত সালাত আদায় করিবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্যে জান্নাতে সোনার বালাখানা তৈরি করিবেন। [তিরমিজি, ইবনি মাজাহ; ঈমাম তিরমিজি বলেন, এ হাদিসটি গরীব। এজন্যে এ সূত্র ব্যতীত আর কোন সূত্রে এ বর্ণনা পাওয়া যায়নি।] {১}

{১} জইফ : আত তিরমিজি ৪৭৩, ইবনি মাজাহ ১৩৮০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০০৬, জইফ আল জামি ৫৬৫৮। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৩১৭. মুআয ইবনি আনাস আল জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইরশাদ করিয়াছেন : ফাজ্‌রের সলাত সমাপ্তির পর যে লোক তার মুসাল্লায় সূর্য উপরে উঠে আসা পর্যন্ত বসে থাকে, তারপর যুহার দু রাক্আত সালাত আদায় করে এবং এ সময়ে ভাল কথা ছাড়া আর কোন কথা না বলে, তাহলে তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। সে গুনাহ যদি সাগরের ফেনারাশির চেয়েও অনেক হয়ে থাকে।

{১} জইফ : আবু দাউদ ১২৮৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৯০৭, জইফ আত তারগীব ২৪২, জইফ আল জামি ৫৭৯৫। কারণ এর সানাদে বর্ণনাকারী যুববান ইবনি ফায়দ দুর্বল যেমনটি ইবনি হাজার [রাহিমাহুল্লাহ] তাক্বরীবে বলেছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

অধ্যায়ঃ ৩৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৩১৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইরশাদ করিয়াছেন : যে লোক যুহার [চাশত] দু রাক্আত সালাতের যত্ন নিবে, তার সকল [সগীরাহ্] গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির সমমানের হয়। {১}

{১} জইফ : আত তিরমিজি ৪৭৬, ইবনি মাজাহ ১৩৮২, মুসান্নাফ ইবনি আবী শায়বাহ্ ৭৭৮৪, আহমাদ ৯৭১৬, জইফ আত তারগীব ৪০২, জইফ আল জামি ৫৫৪৯। কারণ এর সানাদে বর্ণনাকারী নাহ্হাস ইবনি ক্বহম আবু হুরাইরাহ [রাদি.] থেকে শ্রবণ করেননি। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৩১৯. উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি চাশতের আট রাক্আত করে সালাত আদায় করিতেন। তিনি বলিতেন, আমার জন্যে যদি আমার মাতা-পিতাকেও জীবিত করে দেয়া হয় তাহলেও আমি এ সলাত ছাড়ব না। {১}

{১} সহীহ : মালিক ৫২০। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৩২০. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নিয়মিতভাবে চাশতের সলাত আদায় করিতে থাকতেন। আমরা বলাবলি করতাম, তিনি হয়ত এ সলাত আর ছাড়বেন না। আর যখন ছেড়ে দিতেন অর্থাৎ বন্ধ করিতেন, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি হয়ত এ সলাত আর কখনো আদায় করিবেন না। {১}

{১} জইফ : আত তিরমিজি ৪৭৭, আহমাদ ১১১৫৫, শামায়েল ২৮৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০০২, ইরওয়া ৪৬০। কারণ এর সানাদে আত্বিয়্যাহ্ আল আওফী এবং ফুযায়ল ইবনি মারযূকব দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৩২১. মুওয়াররিক্ব আল ইজলী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমারকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি যুহার সালাত আদায় করেন? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, উমার [রাদি.] আদায় করিতেন? তিনি বললেন, না। আবার আমি প্রশ্ন করলাম, আবু বাকর [রাদি.] কি আদায় করিতেন? তিনি বললেন, না। পুনরায় আমি প্রশ্ন করলাম, তাহলে নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কি আদায় করিতেন? তিনি বললেন, আমার জানা মতে তিনিও আদায় করিতেন না। ] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১১৭৫, মুসান্নাফ ইবনি আবী শায়বাহ্ ৭৭৭৩, আহমাদ ৪৭৫৮। ইসরাক ও চাশতের সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply