নতুন চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস ও বর্ণনা

নতুন চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস ও বর্ণনা

নতুন চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস ও বর্ণনা >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৭, অধ্যায়ঃ ১

  • অধ্যায়ঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ

১৯৬৯. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম [রোযা] পালন করিবে না এবং তা না দেখা পর্যন্ত সওম শেষ [ভঙ্গ] করিবে না। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তোমরা যদি চাঁদ না দেখিতে পাও তাহলে [শাবান] মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো [অর্থাৎ- এ মাসকে ত্রিশ দিন হিসেবে গণ্য করো]।

অপর বর্ণনায় আছেঃ তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাতেও হয়। তাই চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন করিবে না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। [বোখারী, মুসলিম]{১}; {১} সহীহ : বোখারী ১৯০৬, মুসলিম ১০৮০, নাসায়ী ২১২১, মালিক ১০০২, আহমাদ ৫২৯৪, দারিমী ১৭২৬, দারাকুত্বনী ২১৬৭, সুনানুল কুবরা লিল বাযহাক্বী ৭৯২২, ইবনি হিববান ৩৪৪৫, ইরওয়া ৯০৩, সহীহ আল জামি ৭৩৫২। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৭০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সওম পালন করো চাঁদ দেখে এবং ছাড়ো [ভঙ্গ করো] চাঁদ দেখে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো।ম]{১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৯০৯, মুসলিম ১০৮১, তিরমিজি ৬৮৪, নাসায়ী ২১১৭, ২১১৮, আহমাদ ৯৫৫৬, ৯৩৭৬, ৯৮৫৩, ৯৮৮৫, ১০০৬০, দারিমী ১৭২৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৯৩৩, ৭৯৩২, ইবনি হিববান ৩৪৪২, ইরওয়া ৯০২, সহীহ আল জামি ৩৮১০। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৭১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা উম্মি জাতি। হিসাব-কিতাব জানি না, কোন মাস এত, এত, এত [অর্থাৎ- কোন মাস এভাবে বা এভাবে এভাবে হয়।] তিনি তৃতীয়বারে বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ করিলেন। তারপর বললেন, মাস এত দিনে, এত দিনে এবং এত দিনে অর্থাৎ- পুরা ত্রিশ দিনে হয়। অর্থাৎ- কখনো মাস ঊনত্রিশ আবার কখনো ত্রিশ দিনে হয়। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৯১৩, মুসলিম ১০৮০, আবু দাউদ ২৩১৯, নাসায়ী ২১৪১, মুসান্নাফ ইবনি আবী শায়বাহ্ ৯৬০৪, আহমাদ ৫০১৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮২০০। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৭২. আবু বাকরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈদের দু মাস, রমাযান [রমজান] ও যিলহজ কম হয় না।{১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৯১২, মুসলিম ১০৮৯, আবু দাউদ ২৩২৩, তিরমিজি ৬৯২, ইবনি মাজাহ ১৬৫৯, আহমাদ ২০৪৭৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮২০৩, সহীহ ইবনি হিববান ৩২৫। তবে আহমাদণ্ডএর সানাদটি হাসান। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৭৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রমাযান [রমজান] মাস আসার এক কি দুদিন আগে থেকে সওম [রোযা] না রাখে। তবে যে ব্যক্তি কোন দিনে সওম রাখতে অভ্যস্ত সে ওসব দিনে সওম রাখতে পারে।১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৯১৪, মুসলিম ১০৮২, আবু দাউদ ২০২৩, ইবনি মাজাহ ১৬৫০, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক্ব ৭৩১৫, আহমাদ ৭৭৭৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৯৬৩। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৯৭৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাবান মাসের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তোমরা সওম পালন করিবে না।{১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ২৩৩৭, তিরমিজি ৭৩৮, ইবনি মাজাহ ১৬৫১, সহীহ আল জামি ৩৯৭। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৭৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান [রমজান] মাসের জন্য শাবান মাসের [নতুন চাঁদের] হিসাব রেখ। {১}

{১} হাসান : তিরমিজি ৬৮৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৫৪৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৯৪০, সহীহ আল জামি ১৯৮, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৫৬৫। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১৯৭৬. উম্মু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি কক্ষনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শাবান ও রমাযান [রমজান] ছাড়া একাধারে দু মাস সিয়াম পালন করিতে দেখিনি। {১}

{১} সহীহ : তিরমিজি ৭৩৬, নাসায়ী ২৩৫২, শামায়িল ২৫৫, সহীহ আত তারগীব ১০২৫। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৭৭. আম্মার ইবনি ইয়াসির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইয়াওমুশ্ শাক-এ [অর্থাৎ- সন্দেহের দিন] সিয়াম রাখে সে আবুল কাসিম সাঃআঃ এর সাথে নাফরমানী করিল। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ২৪৪৩, তিরমিজি ৬৮৬, নাসায়ী ২১৮৮, ইবনি মাজাহ ১৬৪৫, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৯৫০৩, দারিমী ১৭২৪, সহীহ ইবনি খুযায়মাহ্ ১৯১৪, সহীহ ইবনি হিববান ৩৫৮৫, ইরওয়া ৯৬১। তবে দারিমীর সানাদটি দুর্বল। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৭৮. ইবনি আব্বাস হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একজন গ্রাম্য আরব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো এবং বলিল, আমি চাঁদ দেখেছি অর্থাৎ- রমাযানের চাঁদ। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই। সে বলিল, হ্যাঁ। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল? সে বলিল, জ্বি। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও, আগামীকাল যেন সওম রাখে। [আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনি মাজাহ, দারিমী]{১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ২৩৪০, তিরমিজি ৬৯১, নাসায়ী ২১১৩, ইবনি মাজাহ ১৬৫২, দারাকুত্বনী ২১৫৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৫৪৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৯৭৩, ইরওয়া ৯০৭। কারণ এর সানাদে সিমাক ইবনি হারব যিনি এর সানাদে গড়বড় করিয়াছেন একবার মুত্তাসিল সানাদে আর একবার মুরসাল সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৯৭৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একবার] চাঁদ দেখার জন্য লোকেরা একত্রিত হলো। [এ সময়] আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। এতে তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নিজে সওম পালন শুরু করিলেন এবং লোকদেরকেও সওমের পালনের নির্দেশ দিলেন। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ২৩৪২, ইরওয়া ৯০৮, সহীহ ইবনি হিববান ৩৪৪৭। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৯৮০. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসে যেরূপ সতর্ক থাকতেন অন্য মাসে এতটা সতর্ক থাকতেন না। তারপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] রমাযানের চাঁদ দেখে সওম পালন করিতেন। আকাশ মেঘলা থাকলে তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] [শাবান মাস] ত্রিশদিন পুরা করার পর সওম শুরু করিতেন।{১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ২৩২৫, আহমাদ ২৫১৬১, সহীহ ইবনি হিববান ১৯১০, দারাকুত্বনী ২১৪৯, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৫৪০, সহীহ ইবনি হিববান ৩৪৪৪, ইরওয়া ৯০৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৯৩৯। চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৮১. আবুল বাখতারী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা উমরাহ্ করার জন্য বের হলাম। অতঃপর যখন আমরা বাত্বনি নাখলাহ্ নামক [মক্কা আর ত্বয়িফের মধ্যবর্তী একটি স্থানের নাম] স্থানে পৌঁছে আমরা [নতুন] চাঁদ দেখলাম। কিছু লোক বলিল, এ চাঁদ তৃতীয় রাতের [তৃতীয়ার], কিছু লোক বলিল, এ চাঁদ দু রাতের [দ্বিতীয়ার] চাঁদ। এরপর আমরা ইবনি আব্বাস-এর সাক্ষাত পেলাম। তাঁকে বললাম, আমরা নতুন চাঁদ দেখেছি। আমাদের কেউ কেউ বলেন, এ চাঁদ তৃতীয়ার চাঁদ। আবার কেউ বলেন, দ্বিতীয়ার চাঁদ। ইবনি আব্বাস জিজ্ঞেস করিলেন, তোমরা কোন্ রাতে চাঁদ দেখেছ? আমরা বললাম, ঐ ঐ রাতে। তখন ইবনি আব্বাস বললেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের সময়কে চাঁদ দেখার উপর নির্দিষ্ট করিয়াছেন। অতএব এ চাঁদ সে রাতের যে রাতে তোমরা দেখেছ।

এ বর্ণনাকারী হইতেই অন্য একটি বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা যা-তি ইরক্ব নামক স্থানে [বাত্বনি নাখলাহ্র কাছাকাছি একটি স্থান] রমাযানের চাঁদ দেখলাম। অতএব আমরা ইবনি আব্বাসকে জিজ্ঞেস করার জন্য লোক পাঠালাম। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শাবানমাসকে রমাযানের চাঁদ দেখা পর্যন্ত দীর্ঘ করিয়াছেন। যদি তোমাদের ওপর আকাশ মেঘলা থাকে, তাহলে গণনা পূর্ণ করো [অর্থাৎ- শাবান মাসের সময় ত্রিশদিন পূর্ণ করো]। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ১০৮৮, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৯০২৭। তবে ইরওয়া ৯০৩, সহীহ আল জামি ১৭৯০-তে শেষের অংশটুকু রয়েছে।চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply