চাঁদকে দুই খন্ড করা, হিজরত, নাজাশী, মুশরিকদের শপথ গ্রহণ

চাঁদকে দুই খন্ড করা, হিজরত, নাজাশী, মুশরিকদের শপথ গ্রহণ

চাঁদকে দুই খন্ড করা, হিজরত, নাজাশী, মুশরিকদের শপথ গ্রহণ >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৬৩, আনসারগণের মর্যাদা, অধ্যায়ঃ (৩৬-৪০)=৫টি

৬৩/৩৬. অধ্যায়ঃ চাঁদকে দুই খন্ড করা।
৬৩/৩৭. অধ্যায়ঃ হাবাশাহয় হিজরত।
৬৩/৩৮. অধ্যায়ঃ নাজাশীর মৃত্যু।
৬৩/৩৯. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) – এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের শপথ গ্রহণ।
৬৩/৪০. অধ্যায়ঃ আবু ত্বলিবের কিস্‌সা।

৬৩/৩৬. অধ্যায়ঃ চাঁদকে দুই খন্ড করা।

৩৮৬৮

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, মক্কাবাসী রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) – কে তাহাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন দেখানোর দাবী জানাল। তিনি তাদেরকে চাঁদ দুখণ্ড করে দেখালেন। এমনকি তারা দুখণ্ডের মাঝে হেরা পাহাড়কে দেখিতে পেল।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮১, ইঃফাঃ ৩৫৮৬)

৩৮৬৯

আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় তখন আমরা নাবী (সাঃআঃ) – এর সঙ্গে মিনায় ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বলিলেন, তোমরা সাক্ষী থাক। তখন আমরা দেখলাম, চাঁদের একটি খণ্ড হেরা পাহাড়ের দিকে চলে গেল। আবু যুহা মাসরূকের বরাত দিয়ে আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণনা করেন যে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় মক্কায়। মুহাম্মাদ বিন মুসলিম অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮২, ইঃফাঃ ৩৫৮৭)

৩৮৭০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)- এর যুগে চাঁদ দুখণ্ড হয়েছিল।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮৩, ইঃফাঃ ৩৫৮৮)

৩৮৭১

আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (নাবী (সাঃআঃ)- এর যুগে) চাঁদ দুখণ্ড হয়েছিল।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮৪, ইঃফাঃ ৩৫৮৯)

৬৩/৩৭. অধ্যায়ঃ হাবাশাহয় হিজরত।

আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, নাবী সাঃআঃ বলেছেন, তোমাদের হিজরা্তের স্থান আমাকে (স্বপ্নে) দেখান হয়েছে। যেখানে রয়েছে অনেক বৃক্ষ আর সে স্থানটি ছিল দুই পাহাড়ের মাঝখানে। তখন হিজরাতকারীগণ মদিনা্য় হিজরাত করিলেন এবং যারা এর আগে হাবশাহ্য় হিজরাত করেছিলেন তারাও মদিনা্য় ফিরে আসলেন। এ সম্পর্কে আবু মূসা ও আসমা (রাদি.) সূত্রে নাবী সাঃআঃ হইতে হাদীস বর্ণিত আছে।

৩৮৭২

উবাইদুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু খিয়ার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

উরওয়াহ ইবনু যুবায়রকে বলেন যে, মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ এবং আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুস (রাদি.) উভয়ই তাকে বলেন, তুমি তোমার মামা উসমান (রাদি.)-এর সাথে তার (বৈপিত্রেয়) ভাই ওয়ালীদ ইবনু উকবাহ সম্পর্কে কোন আলাপ-আলোচনা করছ না কেন? জনগণ তার বিরুদ্ধে শক্তভাবে সমালোচনা করছে। উবাইদুল্লাহ বলেন, উসমান (রাদি.) যখন সালাতের জন্য মসজিদে আসছিলেন তখন আমি তাহাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনার সাথে আমার কথা বলার দরকার আছে এবং তা আপনার কল্যাণের জন্যই। তিনি বলিলেন, ওহে, আমি তোমা হইতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তখন ফিরে আসলাম এবং যখন সালাত শেষ করলাম, তখন মিসওয়ার ও ইবনু আবদ ইয়াগুস (রাদি.)-এর নিকট গিয়ে বসলাম এবং উসমান (রাদি.)-কে আমি যা বলেছি এবং তিনি যে উত্তর দিয়েছেন তা দুজনকে শুনালাম। তারা বলিলেন, তোমার উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল তা তুমি আদায় করেছ। আমি তাদের নিকট উপবিষ্টই আছি এ সময়উসমান (রাদি.)-এর পক্ষ হইতে একজন দূত আমাকে ডেকে নেয়ার জন্য আসলেন। তারা দুজন আমাকে বলিলেন, আল্লাহ তোমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। আমি চললাম এবং উসমান (রাদি.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার কী উপদেশ যা তুমি কিছুক্ষণ আগে বলিতে চেয়েছিলে? তখন আমি কালিমা শাহাদাত পাঠ করে বললাম, আল্লাহ মুহাম্মাদ সাঃআঃ-কে রাসুলরূপে প্রেরণ করিয়াছেন, তাহাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন। আর আপনি ঐ দলেরই অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আপনি তাহাঁর উপর ঈমান এনেছেন, এবং প্রথম দু হিজরতে আপনি অংশ নিয়েছেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সঙ্গ লাভ করিয়াছেন এবং তাহাঁর স্বভাব-চরিত্র চক্ষে দেখেছেন। জন সাধারণ ওয়ালিদ ইবনু উকবাহ সম্পর্কে অনেক সমালোচনা করছে, আপনার কর্তব্য তাহাঁর উপর দন্ড জারি করা। উসমান (রাদি.) আমাকে লক্ষ্য করে বলিলেন, হে ভাতিজা! তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-কে পেয়েছ? আমি বললাম না, পাইনি। তবে তাহাঁর বিষয় আমার নিকট এমন ভাবে পৌঁছেছে যেমন ভাবে কুমারী মেয়েদের নিকট পর্দার সংবাদ পৌঁছে থাকে। উবাইদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, উসমান (রাদি.) কালিমা শাহাদত পাঠ করিলেন এবং বলিলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহম্মাদ সাঃআঃ-কে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন, তাহাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন। যারা আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। মুহাম্মাদ সাঃআঃ-কে যা সহ প্রেরণ করা হয়েছিল আমি তাহাঁর প্রতি ঈমান এনেছি। ইসলামের প্রথম যুগের দু হিজরতে অংশ গ্রহণ করেছি যেমন তুমি বলছ। আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সঙ্গ লাভ করেছি, তাহাঁর হাতে বায়আত করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তাহাঁর অবাধ্যতা করিনি। তাহাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। এমতাবস্থায় তাহাঁর ওফাত হয়ে যায়। তারপর আল্লাহ তাআলা আবু বাকর (রাদি.) কে খালীফাহ নিযুক্ত করিলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাহাঁরও নাফরমানী করিনি, তাহাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। অতঃপর উমার (রাদি.) খালীফাহ মনোনীত হলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাহাঁরও অবাধ্য হইনি, তাহাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। তিনিও মৃত্যুপ্রাপ্ত হলেন। এবং তারপর আমাকে খলীফা নিযুক্ত করা হল। আমার উপর তাদের বাধ্য থাকার যে রূপ হক ছিল তোমাদের উপর তাদের ন্যায় আমার প্রতি বাধ্য থাকার কি কোন কর্তব নেই? উবাইদুল্লাহ বলিলেন, হাঁ। অবশ্যই হক আছে। উসমান (রাদি.) বলিলেন, তাহলে এসব কথাবার্তা কী, তোমাদের পক্ষ হইতে আমার নিকট আসছে? আর ওয়ালীদ ইবনু উকবাহর ব্যাপারে তুমি যা বললে, সে ব্যাপারে আমি অতি সত্বর সঠিক পদক্ষেপ নিব ইন্শাআল্লাহ। অতঃপর তিনি ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করার রায় প্রদান করিলেন এবং তা বাস্তবায়িত করার জন্য আলী (রাদি.)-কে আদেশ করিলেন। সেকালে অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্বে আলী (রাদি.) নিযুক্ত ছিলেন। ইউনুস এবং যুহরীর ভাতিজা যুহরী সূত্রে যে বর্ণনা করেন তাতে রয়েছে; তোমাদের উপর আমার কি অধিকার নেই যেমন অধিকার ছিল তাদের জন্য।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮৫, ইঃফাঃ ৩৫৯০)

আবু আব্দুল্লাহ বলেন, অতঃপর ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করা হলো এবং আলী (রাদি.)-কে নির্দেশ করা হলো তাকে বেত্রাঘাত করার। এবং তিনি তাকে বেত্রাঘাত করেছিলেন। (৩৬৯৬)

আবু আব্দুল্লাহ বলেন, بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে শক্ত পরীক্ষা স্বরূপ। (আল-বাকারাহঃ ৪৯) অন্যস্থানে الْبَلَاءُ শব্দ الاِبْتِلَاءُ ও التَّمْحِيْصُ অর্থে এসেছে। যথা بَلَوْتُهُ وَمَحَّصْتُهُ তার ভিতরের জিনিষ উদ্ঘাটন করেছি। يَبْلُوْ পরীক্ষা করা অর্থে এসেছে, যথা مُبْتَلِيكُمْ তিনি তোমাদের পরীক্ষা করবেন। (আল-বাকারাহঃ ২৪৯) আর بَلَاءٌ عَظِيْمٌ অর্থাৎ বড় নিমাত। এখানে أَبْلَيْتُهُ আমি তাকে নিমাত দান করেছি। এ অর্থে এসেছে। আর পূর্বের আয়াতে ابْتَلَيْتُهُ আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। এর অর্থে এসেছে।

৩৮৭৩

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামাহ (রাদি.) তাহাঁর সাথে আলোচনা করিলেন যে তাঁরা হাবাশায় খ্রিস্টানদের একটি গির্জা দেখে এসেছেন। সে গির্জায় নানা ধরনের চিত্র অঙ্কিত রয়েছে। তাঁরা দুজন এসব কথা নাবী (সাঃআঃ) – এর কাছে উল্লেখ করিলেন। তখন তিনি বলিলেন, তাদের কোন নেক্‌কার লোক মারা গেলে তার কবরের উপর মসজিদ তৈরি করত এবং এসব ছবি অঙ্কিত করে রাখত, এরাই ক্বিয়ামাতের দিনে আল্লাহর সর্ব নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে গণ্য হইবে।

৩৮৭৪

উম্মু খালিদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি যখন হাবাশা হইতে মদীনায় আসলাম তখন আমি ছোট্ট বালিকা ছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে একটি চাদর পরিয়ে দিলেন যাতে ডোরা কাটা ছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ঐ ডোরাগুলির উপর হাত বুলাতে লাগলেন, এবং বলিতে ছিলেন সানাহ-সানাহ। হুমায়দী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮৭, ইঃফাঃ ৩৫৯২)

৩৮৭৫

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সলাতে রত অবস্থায় নাবী (সাঃআঃ) – কে আমরা সালাম করতাম, তিনিও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। যখন আমরা নাজাশীর কাছ থেকে ফিরে এলাম, তখন সলাতে রত অবস্থায় তাঁকে সালাম করলাম, কিন্তু তিনি সালামের জবাব দিলেন না। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)! আমরা আপনাকে সালাম করতাম এবং আপনিও সালামের উত্তর দিতেন। কিন্তু আজ আপনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না? তিনি বলিলেন, সলাতের মধ্যে আল্লাহর দিকে একাগ্রতা থাকে। রাবী বলেন, আমি ইবরাহীম নাখয়ীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি করেন? তিনি বলিলেন, আমি মনে মনে জবাব দিয়ে দেই।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮৮, ইঃফাঃ ৩৫৯৩)

৩৮৭৬

আবু মুসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের কাছে নাবী (সাঃআঃ) – এর আবির্ভাবের খবর এসে পৌঁছল। তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। আমরা একটি নৌকায় আরোহণ করলাম। কিন্তু আমাদের নৌকা হাবাশায় নাজাশীর নিকট নিয়ে গেল। সেখানে জাফর ইবনু আবু তালিবের (রাদি.) সাথে সাক্ষাৎ হল। আমরা তাহাঁর সাথে থাকতে লাগলাম। কিছুদিন পর আমরা সেখান হইতে রওয়ানা হলাম। এবং নাবী (সাঃআঃ) যখন খায়বার বিজয় করিলেন তখন আমরা তাহাঁর সাথে মিলিত হলাম। আমাদেরকে দেখে তিনি বলিলেন, হে নৌকার আরোহীরা! তোমরা দুটি হিজরত লাভ করেছ।

(আঃপ্রঃ ৩৫৮৯, ইঃফাঃ ৩৫৯৪)

৬৩/৩৮. অধ্যায়ঃ নাজাশীর মৃত্যু।

৩৮৭৭

যাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন নাজাশীর মৃত্যু হল তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, আজ একজন সৎ ব্যক্তি মারা গেছেন। উঠো, এবং তোমাদের ভাই আসহামার জন্য জানাযার সলাত আদায় কর।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯০, ইঃফাঃ ৩৫৯৫)

৩৮৭৮

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, নাবী (সাঃআঃ) নাজাশীর উপর জানাযার সলাত আদায় করেন। আমরাও তাহাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯১, ইঃফাঃ ৩৫৯৬)

৩৮৭৯

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) আসহামাহ নাজাশীর উপর জানাযার সলাত আদায় করেন এবং চারবার তাক্‌বীর বলেন।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯২, ইঃফাঃ ৩৫৯৭)

৩৮৮০

আবদুর রহমান ও ইবনুল মুসাইয়াব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ও ইবনুল মুসাইয়াব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আবু হুরাইরা (রাদি.) তাদেরকে বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সহাবাদেরকে হাবাশা-এর বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু খবর সেদিন শুনালেন, যেদিন তিনি মারা গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের (দ্বীনী) ভাই এর জন্য মাগফিরাত চাও।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯৩ প্রথমাংশ, ইঃফাঃ ৩৫৯৮ প্রথমাংশ)

৩৮৮১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে এমনও বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সহাবাদেরকে নিয়ে মুসল্লায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালেন এবং নাজাশীর জন্য জানাযার সলাত আদায় করিলেন আর তিনি চারবার তাকবীরও দিলেন।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯৩ শেষাংশ, ইঃফাঃ ৩৫৯৮ শেষাংশ)

৬৩/৩৯. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) – এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের শপথ গ্রহণ।

৩৮৮২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) হুনায়ন যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করিলেন, তখন তিনি বলিলেন, আমরা আগামীকল্য খায়ফে বনী কেনানায় অবতরণ করব ইন শা আল্লাহ যেখানে কুরাইশরা সকলে কুফর ও শির্‌ক এর উপর থাকার শপথ করেছিল।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯৪, ইঃফাঃ ৩৫৯৯)

৬৩/৪০. অধ্যায়ঃ আবু ত্বলিবের কিস্‌সা।

৩৮৮৩

আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাদি.) বলেন, আমি একদিন নাবী (সাঃআঃ) – কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আপনার চাচা আবু ত্বলিবের কী উপকার করিলেন অথচ তিনি আপনাকে দুশমনের সকল আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করিয়াছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি খুব ক্ষুব্ধ হইতেন। তিনি বলিলেন, সে জাহান্নামে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আগুনে আছে। যদি আমি না হতাম তাহলে সে জাহান্নামের একেবারে নিম্ন স্তরে থাকত।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯৫, ইঃফাঃ ৩৬০০)

৩৮৮৪

ইবনু মুসাইয়্যাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

ইবনু মুসাইয়্যাব তার পিতা মুসাইয়্যাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণনা করেন, যখন আবু তালিবের মুমূর্ষ অবস্থা তখন নাবী (সাঃআঃ) তার নিকট গেলেন। আবু জাহলও তার নিকট উপবিষ্ট ছিল। নাবী (সাঃআঃ) তাকে লক্ষ্য করে বলিলেন, চাচাজান, (আরবী) কলেমাটি একবার পড়ুন, তাহলে আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট কথা বলিতে পারব। তখন আবু জাহাল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবু উমাইয়া বলিল, হে আবু তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হইতে ফিরে যাবে? এরা দুজন তার সাথে একথাটি বারবার বলিতে থাকল। সর্বশেষ আবু তালিব তাদের সাথে যে কথাটি বলিল, তাহল, আমি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরেই আছি। এ কথার পর নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, আমি আপনার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকব যে পর্যন্ত আপনার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা না হয়। এ প্রসঙ্গে এ আয়াতটি নাযিল হলঃ নাবী ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করিবে মুশরিকদের জন্য যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয় যখন তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী – (আত-তাওবাহ ১১৩)। আরো নাযিল হলঃ আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে হিদায়াত করিতে পারবেন না- (আল-কাসাস ৫৬)।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯৬, ইঃফাঃ ৩৬০১)

৩৮৮৫

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, তিনি নাবী (সাঃআঃ) – কে বলিতে শুনেছেন, যখন তাহাঁরই সামনে তাহাঁর চাচা আবু তালিবের আলোচনা করা হল, তিনি বলিলেন, আশা করি কিয়ামাতের দিনে আমার সুপারিশ তার উপকারে আসবে। অর্থাৎ আগুনের হালকা স্তরে তাকে ফেলা হইবে, যা তার পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছবে আর এতে তার মগয ফুটতে থাকবে। (আ.প্র. ৩৫৯৭, ই.ফা. ৩৬০২)

ইয়াযিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) – ও এ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন এবং আরো বলেছেন, এর তাপে মস্তিষ্কের মূল পর্যন্ত ফুটতে থাকবে।

(আঃপ্রঃ ৩৫৯৮, ইঃফাঃ ৩৬০৩)

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply