ইস্তিগফার ও ঘুমাবার দোআ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত

ইস্তিগফার ও ঘুমাবার দোআ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত

হাদিসের দোয়া সমূহ – সহিহ বুখারী সরিফ হতে >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৮০, দোয়া, অধ্যায়ঃ (১-৬৯)=৬৯টি

৮০/১. অধ্যায়ঃ প্রত্যেক নাবীর মাকবুল দুআ আছে।
৮০/২. অধ্যায়ঃ শ্রেষ্ঠতম ইস্তিগফার আল্লাহর বাণীঃ
৮০/৩. অধ্যায়ঃ দিনে ও রাতে নাবী (সাঃআঃ) -এর ইস্তিগফার।
৮০/৪. অধ্যায়ঃ তাওবাহ করা।
৮০/৫. অধ্যায়ঃ ডান পাশে শয়ন করা।
৮০/৬. অধ্যায়ঃ পবিত্র অবস্থায় রাত কাটানো।
৮০/৭. অধ্যায়ঃ ঘুমানোর সময় কী দুআ পড়বে।
৮০/৮. অধ্যায়ঃ ডান গালের নীচে ডান হাত রাখা।
৮০/৯. অধ্যায়ঃ ডান পাশের উপর ঘুমানো
৮০/১০. অধ্যায়ঃ রাত্রে নিদ্রা হইতে জাগ্রত হওয়ার পর দুআ
৮০/১১. অধ্যায়ঃ ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ ও তাকবীর বলা।
৮০/১২. অধ্যায়ঃ ঘুমানোর সময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থণা এবং কুরআন পাঠ।
৮০/১৩. অধ্যায়ঃ বিছানা পরিষ্কার করা
৮০/১৪. অধ্যায়ঃ মাঝ রাতের দুআ
৮০/১৫.অধ্যায়ঃ পায়খানায় প্রবেশের দুআ
৮০/১৬. অধ্যায়ঃ সকাল হলে কী দুআ পড়বে।

৮০/১. অধ্যায়ঃ প্রত্যেক নাবীর মাকবুল দুআ আছে।

৬৩০৪. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নাবীর এমন একটি দুআ রয়েছে, যা (আল্লাহর নিকট) গৃহীত হয় আর নাবী সে দুআ করে থাকেন। আমার ইচ্ছা, আমি আমার সে দুআর অধিকার আখিরাতে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য মুলতবি রাখি।

[৭৪৭৪; মুসলিম ১/৮৬, হাদীস ১৯৮, ১৯৯, আহমাদ ৮৯৬৮] আঃপ্রঃ- ৫৮৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৩)

৬৩০৫. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন যে, প্রত্যেক নাবীই যা চাওয়ার চেয়ে নিয়েছেন। অথবা নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নাবীকে যে দুআর অধিকার দেয়া হয়েছিল তিনি সে দুআ করে নিয়েছেন এবং তা কবূলও করা হয়েছে। কিন্তু আমি আমার দুআকে ক্বিয়ামতের দিনে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য রেখে দিয়েছি।

[মুসলিম ১/৮৬, হাদীস ২০০, আহমাদ ১৩৭০৭] (আঃপ্রঃ- ৫৮৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৩)

৮০/২. অধ্যায়ঃ শ্রেষ্ঠতম ইস্তিগফার আল্লাহর বাণীঃ

“আমি বলেছি- তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল। (তোমরা তা করলে) তিনি অজস্র ধারায় তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নূহ ৭১/১০-১২)

“যারা কোন পাপ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুল্‌ম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে…..।” (সুরা আল ইমরান ৩/১৩৫)

৬৩০৬. শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো বান্দার এ দুআ পড়া-

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ

আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা। ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতা’তু। আউজু বিকা মিন শাররি মা-সানা’তু। আবুয়ু লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা। ওয়া আবুয়ু লাকা বি জাম্বি। ফাগফিরলী। ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনবা ইল্লা আনতা।

“হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।”

যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হইবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দুআ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হইবে।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৪)

৮০/৩. অধ্যায়ঃ দিনে ও রাতে নাবী (সাঃআঃ) -এর ইস্তিগফার।

৬৩০৭. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তাওবাহ করে থাকি।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৪)

৮০/৪. অধ্যায়ঃ তাওবাহ করা।

ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, মহান আল্লাহর বাণীঃ “তোমরা সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করো।” (সুরা আত-তাহরীম ৬৬/৮)

৬৩০৮. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদি.) দুটি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। একটি নাবী (সাঃআঃ) থেকে আর অন্যটি তাহাঁর নিজ থেকে। তিনি বলেন, ঈমানদার ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পর্বতের নীচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবত পর্বতটা তার উপর ধ্বসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মত মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়। এ কথাটি আবু শিহাব নিজ নাকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন। তারপর [নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন] নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ মনে কর কোন এক ব্যক্তি (সফরের) কোন এক স্থানে অবতরণ করলো, সেখানে প্রাণেরও ভয় ছিল। তার সঙ্গে তার সফরের বাহন ছিল। যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় ছিল, সে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো এবং জেগে দেখলো তার বাহন চলে গেছে। তখন সে গরমে ও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো। রাবী বলেনঃ আল্লাহ যা চাইলেন তা হলো। তখন সে বললো যে, আমি যে স্থানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। এরপর সে নিজ স্থানে ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। তারপর জেগে দেখলো যে, তার বাহনটি তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে ব্যক্তি যতটা খুশি হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাহাঁর বান্দার তাওবাহ করার কারণে এর চেয়েও অনেক অধিক খুশি হন। আবু আওয়ানাহ ও জারীর আমাশ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে এ রকমই বর্ণনা করিয়াছেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৬)

৬৩০৯. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবাহর কারণে সেই লোকটির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তাহাঁর উট হারিয়ে পরে তা পেয়ে যায়।

[মুসলিম ৪৯/১, হাদীস ২৭৪৭]আঃপ্রঃ- ৫৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৭)

৮০/৫. অধ্যায়ঃ ডান পাশে শয়ন করা।

৬৩১০. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) রাতের শেষভাগে এগার রাকআত সলাত আদায় করিতেন। তারপর যখন সুবহি সাদিক হতো, তখন তিনি হালকা দুরাকআত সালাত আদায় করিতেন। অতঃপর তিনি নিজের ডান পার্শ্বে কাত হয়ে বিশ্রাম নিতেন। যতক্ষণ না মুয়ায্‌যিন এসে তাঁকে সলাতের খবর দিতেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৮)

৮০/৬. অধ্যায়ঃ পবিত্র অবস্থায় রাত কাটানো।

৬৩১১. বারাআ ইবনু আযিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাঃআঃ আমাকে বললেনঃ যখন তুমি শোয়ার বিছানায় যেতে চাও, তখন তুমি সালাতের অযূর মত অযূ করিবে। এরপর ডান পাশের উপর কাত হয়ে শুয়ে পড়বে। আর এ দুআ পড়বে,

اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ

আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফছি ইলাইকা, ওয়া ফাওওাদতু আমরি ইলাইকা, ওয়া আলজায়তু জাহরি ইলাইকা, রহবাতান ওয়া রাগবাতান ইলাইকা, লা মালজায়া ওয়া লা মানজায়া মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বি কিতাবিকাল্লাজি আনজালতা, ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাজি আরছালতা”

হে আল্লাহ! আমি আমার চেহারাকে অর্থাৎ যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে) তোমার হস্তে সমর্পণ করলাম। আর আমার সকল বিষয় তোমারই নিকট সমর্পণ করলাম এবং আমার পৃষ্ঠদেশ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। আমি তোমার গযবের ভয়ে ভীত ও তোমার রাহমাতের আশায় আশান্বিত। তোমার নিকট ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং নেই মুক্তি পাওয়ার স্থান। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ, আমি তার উপর ঈমান এনেছি এবং তুমি যে নাবী পাঠিয়েছ আমি তাহাঁর উপর ঈমান এনেছি।

যদি তুমি এ রাতেই মরে যাও, তোমার সে মৃত্যু স্বভাবধর্ম ইসলামের উপরই গণ্য হইবে। অতএব তোমার এ দুআগুলো যেন তোমার এ রাতের সর্বশেষ কথা হয়। রাবী বারাআ বলেন, আমি বললামঃ আমি এ কথা মনে রাখবো। তবে بِرَسُوْلِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ সহ। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, না ওভাবে নয়, তুমি বলবে وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ। [২৪৭]

আঃপ্রঃ- ৫৮৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৯) [১] [২২] উক্ত সহাবী সম্ভবত মনে করেছিলেন, নাবীর চেয়ে রাসূলের মর্যাদা বেশী এবং যিনি শিক্ষা দিচ্ছেন তিনিতো রাসুলও বটে। তাই তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, নাবিয়্যিকার স্থলে রাসূলিকা বলা যাবে কিনা। কিন্তু রাসুল (সাঃআঃ) নিজেই শব্দ পরিবর্তন করিতে নিষেধ করিলেন। উক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) -এর পঠিত ও শিখানো দুআর মধ্যে কোনরূপ শব্দ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে দুআ যাবে না। এমনকি বচন বা লিঙ্গ পরিবর্তন করাও ঠিক নয়।

৮০/৭. অধ্যায়ঃ ঘুমানোর সময় কী দুআ পড়বে।

৬৩১২। হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করিতে যেতেন, তখন তিনি এ দুআ পড়তেনঃ

 بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا

বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া

হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর আপনার নাম নিয়েই বাঁচি।

আর তিনি জেগে উঠতেন তখন পড়তেনঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি বাআদা মা আমাতানা ওয়া ইলায়হিন নুসুর

যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করিয়াছেন। আর প্রত্যাবর্তন তাহাঁর পানেই।

(আঃপ্রঃ- ,৫৮৬৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬০)

৬৩১৩. বারাআ ইবনু আযিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) এক লোককে নির্দেশ দিলেন। অন্য সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নাবী (সাঃআঃ) এক ব্যক্তিকে অসিয়ত করিলেন যে, যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবে, তখন তুমি এ দুআ পড়বে

اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ‏

আল্লা-হুম্মা আস্‌লামতু নাফ্‌সী ইলাইক, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইক, ওয়া ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহিয়া ইলাইক, ওয়াআলজা’তু যাহ্‌রী ইলাইক, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইক, লা মালজা’আ ওয়ালা মান্‌জা মিনকা ইল্লা ইলাইক, আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা

হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রাহমাতের আশায় এবং আপনার গযবের ভয়ে। আপনার নিকট ব্যতীত আপনার গযব থেকে পালিয়ে যাবার এবং আপনার আযাব থেকে বাঁচার আর কোন স্থান নেই। আপনি যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন, আমি তার উপর দৃঢ় বিশ্বাস করছি এবং আপনি যে নাবী পাঠিয়েছেন, আমি তাহাঁর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছি।

যদি তুমি এ অবস্থায়ই মরে যাও, তবে তুমি স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করিবে।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬১)

৮০/৮. অধ্যায়ঃ ডান গালের নীচে ডান হাত রাখা।

৬৩১৪. হুযাইফাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাত গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا 

আল্লাহুম্মা বিস্‌মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া

হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই।

আর যখন জাগতেন তখন বলিতেনঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

‘আলহামদু লিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’

সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করিলেন এবং তাহাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬২)

৮০/৯. অধ্যায়ঃ ডান পাশের উপর ঘুমানো

৬৩১৫. বারাআ ইবনু আযিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপত নিদ্রা যেতেন এবং বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ‏

“আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফছি ইলাইকা, ওয়া ওয়া য়াজ্জাহতু ওয়াজহি ইলাইকা, ওয়া ফাওওাদতু আমরি ইলাইকা, ওয়া আলজায়তু জাহরি ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রহবাতান ইলাইকা, লা মালজায়া ওয়া লা মানজায়া মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বি কিতাবিকাল্লাজি আনজালতা, ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাজি আরছালতা”

হে আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রাহমাতের আশায়।

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, যে ব্যক্তি শয়নকালে এ দুআগুলো পড়বে, আর এ রাতেই তার মৃত্যু হইবে সে স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপরই মরবে।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৩)

৮০/১০. অধ্যায়ঃ রাত্রে নিদ্রা হইতে জাগ্রত হওয়ার পর দুআ

৬৩১৬. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি মাইমূনাহ (রাদি.) -এর ঘরে রাত্রি অতিবাহিত করলাম। তখন নাবী (সাঃআঃ) উঠে তাহাঁর প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার জাগ্রত হয়ে পানির মশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন অযূ করিলেন যে, তাতে অধিক পানি লাগালেন না। অথচ পুরা উযূই করিলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করিতে লাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছু বিলম্বে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক, আমি অযূ করলাম। তখনও তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সুতরাং আমি গিয়ে তাহাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তাহাঁর ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তাহাঁর তেরো রাকআত সলাত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডাকতেও লাগলেন। তাহাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকতেন। এরপর বিলাল (রাদি.) এসে তাঁকে জাগালেন। তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সলাত আদায় করিলেন। তাহাঁর দুআর মধ্যে এ দুআও ছিলঃ

اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَفَوْقِي نُورًا، وَتَحْتِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَخَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا

“আল্লাহুম্মা জয়াল ফি কলবি নুরান, ওয়া ফি বাছারি নুরান, ওয়া ফি ছাময়ি নুরান, ওয়া আন ইয়ামিনি নুরান, ওয়া আন ইয়াছিরি নুরান, ওয়া ফাওকি নুরান, ওয়া তাহতি নুরান, ওয়া আমামি নুরান, ওয়া খালফি নুরান, ওয়া জয়াল লি নুরান”

“হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে-বামে, আমার উপর-নীচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করুন।”

কুরায়ব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এ সাতটি আমার তাবূতের মত। এরপর আমি আব্বাসের জনৈক পুত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা করিলেন এবং রগ, গোশ্‌ত, চুল ও চামড়ার উল্লেখ করিলেন এবং আরো দুটির কথা উল্লেখ করেন।

[১১৭; মুসলিম ৬/২৬, হাদীস ৭৬৩, আহমাদ ২০৮৩] আঃপ্রঃ- ৫৮৭১ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৪)

৬৩১৭. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখনি নাবী (সাঃআঃ) তাহাজ্জুদের সলাতে দাঁড়াতেন, তখন বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ ـ أَوْ ـ لاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আংতা নুরুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না ওয়া লাকালহামদু। আংতা কায়্যিমুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না। ওয়া লাকাল হামদু আংতাল হাক্কু। ওয়া ওয়া’দুকা হাক্কু। ওয়া কাওলুকা হাক্কু। ওয়া লিকাউকা হাক্কু। ওয়াল ঝান্নাতু হাক্কু। ওয়ান নারু হাক্কু। ওয়াস সাআতু হাক্কু। ওয়ান নাবিয়্যুনা হাক্কু। ওয়া মুহাম্মাদুন হাক্কু। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু। ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু। ওয়াবিকা আমাংতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু। ওয়া বিকা আমানতু। ওয়া ইলাইকা আনাবতু। ওয়া বিকা খাসামতু। ওয়া ইলাইকা হাকামতু। ফাগফিরলি মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু। ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ’লাংতু। আংতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আংতাল মুআখ্খিরু। লা ইলাহা ইল্লা আংতা। লা ইলাহা গাইরুকা।

হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি রক্ষক আসমান ও যমীনের এবং যা কিছু এগুলোর মধ্যে আছে, আপনিই তাদের নূর। আর যাবতীয় প্রশংসা শুধু আপনারই। আসমান যমীন এবং এ দুএর মধ্যে যা আছে, এসব কিছুকে সুদৃঢ় ও কায়িম রাখার একমাত্র মালিক আপনিই। আর সমূহ প্রশংসা একমাত্র আপনারই। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আখিরাতে আপনার সাক্ষাৎ লাভ করা সত্য, বেহেশ্‌ত সত্য, দোযখ সত্য, ক্বিয়ামাত সত্য, পয়গম্বরগণ সত্য এবং মুহাম্মাদ সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমি একমাত্র আপনারই উপর ভরসা রাখি। একমাত্র আপনারই উপর ঈমান এনেছি। আপনারই দিকে ফিরে চলছি। শত্রুদের সঙ্গে আপনারই সন্তুষ্টির জন্য শত্রুতা করি। আপনারই নিকট বিচার চাই। অতএব আমার আগের পরের এবং লুক্কায়িত প্রকাশ্য গুনাহসমূহ আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনি কোন ব্যক্তিকে অগ্রসরমান করেন, আর কোন ব্যক্তিকে পশ্চাদপদ করেন, আপনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন মাবূদ নেই।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৫)

৮০/১১. অধ্যায়ঃ ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ ও তাকবীর বলা।

৬৩১৮. আলী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একবার গম পেষার যাঁতা ঘুরানোর কারণে ফাতেমাহ (রাদি.) এর হাতে ফোস্কা পড়ে গেল। তখন তিনি একটি খাদিম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি আয়েশাহ (রাদি.) -এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন। এরপর তিনি যখন গৃহে ফিরলেন তখন আয়েশাহ (রাদি.) এ বিষয়টি তাঁকে জানালেন। তারপর নাবী (সাঃআঃ) আমাদের কাছে এমন সময় আগমন করিলেন যখন আমরা বিশ্রাম গ্রহণ করেছি। তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি বললেনঃ নিজ স্থানেই অবস্থান কর। তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনিভাবে বসে গেলেন যে, আমি তার দুপায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের এমন একটি আমাল বলে দেব না, যা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক উত্তম। যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করিতে যাবে, তখন তোমারা

আল্লাহু আকবর ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আল্‌হামদু লিল্লাহ ৩৩ বার পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক কল্যাণকর। ইবনু সীরীন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ তাসবীহ হলো ৩৪ বার।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭৩,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৬)

৮০/১২. অধ্যায়ঃ ঘুমানোর সময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থণা এবং কুরআন পাঠ।

৬৩১৯. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন বিছানায় যেতেন, তখন মুয়াওবিযাত (ফালাক ও নাস) পাঠ করিতেনঃ তারপর তাহাঁর দু হাতে ফুঁক দিয়ে তা শরীরে মাসহ করিতেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৭)

৮০/১৩. অধ্যায়ঃ বিছানা পরিষ্কার করা

৬৩২০. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করিতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গির ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, বিছানার উপর তার অনুপস্থিতিতে পীড়াদায়ক কোন কিছু আছে কিনা। তারপর পড়বেঃ

بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ

বিসমিকা রাব্বি ওয়াদাতু ঝাম্বি, ওয়া বিকা আরফাউহু, ইন আমসাকতা নাফসি ফারহামহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাহফাজ বিহি ইবাদাকাস সালিহিন।’

হে আমার রব্ব! আপনারই নামে আমার শরীরটা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠবো। যদি আপনি ইতোমধ্যে আমার জান কবয করে নেন তা হলে, তার উপর রহম করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হিফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযাত করে থাকেন।

[৭৩৯৩; মুসলিম ৪৮/১৭, হাদীস ২৭১৪, আহমাদ ৯৫৯৫] আঃপ্রঃ- ৫৮৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৮)

৮০/১৪. অধ্যায়ঃ মাঝ রাতের দুআ

৬৩২১. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করিতে থাকেনঃ আমার নিকট দুআ করিবে কে? আমি তার দুআ কবুল করবো। আমার নিকট কে চাবে? আমি তাকে দান করবো। আমার কাছে কে তার গুনাহ ক্ষমা চাবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৯)

৮০/১৫.অধ্যায়ঃ পায়খানায় প্রবেশের দুআ

৬৩২২. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) যখন পায়খানায় প্রবেশ করিতেন, তখন তিনি বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যাবতীয় পুরুষ ও স্ত্রী শয়তানদের থেকে আশ্রয় প্রার্থণা করছি।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭০)

৮০/১৬. অধ্যায়ঃ সকাল হলে কী দুআ পড়বে।

৬৩২৩. শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেন, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলোঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ

আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্‌দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্‌ফির্‌লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্‌যুনূবা ইল্লা আনতা আ’উযুবিকা মিন শার্‌রি মা ছা’নাতু

“হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব্ব। আপনি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন, আর আমি আপনারই গোলাম। আর আমি আমার সাধ্য মত আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর সুদৃঢ়ভাবে কায়িম আছি। আমি আমার প্রতি আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং কৃতগুনাহসমূহকে স্বীকার করছি। সুতরাং আমাকে মাফ করে দিন। কারণ আপনি ব্যতীত মাফ করার আর কেউ নেই। আমি আমার কৃতগুনাহের মন্দ ফলাফল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।”

যে লোক সন্ধ্যা বেলায় এ দুআ পড়বে, আর এ রাতেই মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ সে হইবে জান্নাতী। আর যে লোক সকালে এ দুআ পড়বে, আর এ দিনেই মারা যাবে সেও তেমনি জান্নাতী হইবে।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭১)

৬৩২৪. হুযাইফাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) যখন ঘুমাতে চাইতেন, তখন বলিতেনঃ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নামেই মরি এবং জীবিত হই।” আর তিনি যখন নিদ্রা থেকে জেগে উঠতেন তখন বলিতেনঃ

 بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا

বিসমিকা আল্লাহুম্মা আমুওতু ওয়া আহইয়া

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

‘আলহামদু লিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

“আল্লাহ তাআলারই সকল প্রশংসা যিনি আমাদের (নিদ্রা জাতীয়) ওফাত দেয়ার পর আবার নতুন জীবন দান করিয়াছেন। আর সর্বশেষে তাহাঁরই কাছে আমাদের পুনরুত্থান হইবে।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭২)

৬৩২৫. আবু যার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) যখন রাতে বিছানায় যেতেন তখন দুআ পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا 

আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুওতু ওয়া আহইয়া

“হে আল্লাহ! আমি আপনারই নামে মরি এবং জীবিত হই।” আর যখন তিনি সজাগ হইতেন তখন বলিতেনঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

‘আলহামদু লিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

“সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদের জীবিত করিয়াছেন, (নিদ্রা স্বরূপ) মৃত্যুর পর এবং তাহাঁরই কাছে অবশ্যই পুনরুত্থান সুনিশ্চিত।”(আঃপ্রঃ- ৫৮৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৩)

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply