ঘুমানোর দুআ – রাতে ঘুম থেকে সজাগ হলে যা বলিতে হয়

ঘুমানোর দুআ – রাতে ঘুম থেকে সজাগ হলে যা বলিতে হয়

ঘুমানোর দুআ – রাতে ঘুম থেকে সজাগ হলে যা বলিতে হয় >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ৪৩, অনুচ্ছেদঃ ১০৩-১১০=৭টি

অনুচ্ছেদ-১০৩ঃ উপুড় হয়ে শোয়া
অনুচ্ছেদ- ১০৪ঃ দেয়ালবিহীন ছাদে ঘুমানো সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১০৫ঃ পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১০৬ঃ কোন দিকে মুখ করে ঘুমাবে?
অনুচ্ছেদ-১০৭ঃ ঘুমের সময় যা বলিতে হয় অনুচ্ছেদ-১০৮ঃ রাতে ঘুম থেকে সজাগ হলে যা বলিতে হয়
অনুচ্ছেদ-১০৯ঃ ঘুমানোর সময় তাসবীহ পাঠ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১১০ঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে যা বলিতে হয়

অনুচ্ছেদ-১০৩ঃ উপুড় হয়ে শোয়া

৫০৪০

ইয়াঈশ ইবনি তিখফাহ ইবনি ক্বাইস আল-গিফারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আসহাবে সুফ্ফার সদস্য ছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে আয়িশাহ [রাদি.] এর ঘরে যেতে বলিলেন। আমরা সেখানে গেলে তিনি বলিলেন, হে আয়িশাহ! আমাদের আহারের ব্যবস্থা করো। তিনি হাশীশা পরিবেশন করিলেন এবং আমরা খেলাম। তারপর তিনি [সাঃআঃ] বলেলেনঃ হে আয়িশাহ! আমাদেরকে আরো খাবার দাও। এবার তিনি কবুতরের মত সামান্য হায়সা নিয়ে আসলেন এবং আমরা খেয়ে নিলাম। তারপর তিনি বলিলেন, হে আয়িশাহ! আমাদেরকে পান করাও। অতঃপর তিনি এক গামলা দুধ আনলেন এবং আমরা পান করলাম। পুনরায় তিনি আয়িশাহ [রাদি.]-এর নিকট পানীয় চাইলে তিনি ছোট এক পেয়ালা পরিবেশন করিলেন এবং আমরা তা পান করলাম। এবার তিনি বলিলেনঃ ইচ্ছা করলে তোমরা এখানে ঘুমাতে পারো নতুবা মসজীদে চলে যাও। আমার পিতা বলেন, আমার বুকের ব্যথার কারণে আমি মসজীদে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি আমাকে তাহাঁর পা দিয়ে নাড়া দিয়ে বলিলেন, এভাবে শোয়া আল্লাহ ঘৃণা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি চোখ তুলে দেখলাম যে, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। {৫০৩৮}

যয়ীফ মুযতারিব।

{৫০৩৮} ইবনি মাজাহ, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা, আহমাদ। সনদের ত্বাখফাকে চেনা যায়নি।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মুযতারিব

অনুচ্ছেদ- ১০৪ঃ দেয়ালবিহীন ছাদে ঘুমানো সম্পর্কে

৫০৪১

আবদুর রহমান ইবনি ইয়ালা ইবনি শাইবান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন ব্যক্তি দেয়ালবিহীন ছাদে রাত কাটালে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে না। {৫০৩৯}

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০৫ঃ পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো সম্পর্কে

৫০৪২

মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ও মহান আল্লাহকে স্মরণ করে রাত কাটায় [ঘুমায়] এবং রাতে জেগে আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভের দুআ করে, আল্লাহ তাহাকে তা দান করেন। সাবিত আল-বুনানী [রাদি.] বলেন, আবু যাব্ইয়ান [রাদি.] আমাদের এখানে এসে আমাদের নিকট মুআয ইবনি জাবাল সূত্রে [রাদি.]- নাবী [সাঃআঃ] এর এ হাদিস বর্ণনা করেন। সাবিত [রাদি.] বলেন, অমুক ব্যক্তি বলিয়াছেন, আমি ঘুম থেকে জেগে তা পড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৪৩

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতে ঘুম হইতে জেগে তাহাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে উভয় হাত ও মুখ ধুয়ে পুনরায় ঘুমালেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অর্থাৎ তিনি পেশাব করেছিলেন।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০৬ঃ কোন দিকে মুখ করে ঘুমাবে?

৫০৪৪

উম্মু সালামাহ্‌র [রাদি.] কোন আত্মীয় সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাধারণত মৃত ব্যক্তিকে কবরে যেভাবে রাখা হয় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিছানা সেই পদ্ধতিতে বিছানো ছিল এবং তাহাঁর মাথার দিকে মসজিদ ছিল। {৫০৪২}

দুর্বলঃ মিশকাত হা/৪৭১৭।

{৫০৪২} সানাদে নাম উল্লেখহীন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০৭ঃ ঘুমের সময় যা বলিতে হয়

৫০৪৫

নাবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী হাফসাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] যখন শয়ন করিতেন তখন তাহাঁর ডান হাত গালের নীচে রেখে তিনবার বলিতেনঃ “আল্লাহুম্মা ক্বিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাকা” [অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি যেদিন আপনার বান্দাদেরকে কবর হইতে উঠাবেন, সেদিন আমাকে আপনার আযাব হইতে রক্ষা করবেন]। {৫০৪৩}

সহিহ। তবে “তিনবার” কথাটি বাদে।

{৫০৪৩} আহমাদ।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৪৬

আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেনঃ যখন রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিবে তখন সলাতের উযুর ন্যায় উযু করে ডান কাতে শুয়ে বলবেঃ “হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার নিকট সমর্পণ করলাম ও আপনার অনুগত হলাম, আমার কাজ আপনার উপর ন্যস্ত করলাম, আমার পিঠ আপনার নিকট সোপর্দ করলাম এবং আপনার সাহায্যের প্রতি আমি ভরসা করলাম আপনার প্রতি আগ্রহে ও ভয়ে। আপনি ছাড়া অন্য কোথাও মুক্তি ও নিরাপত্তার স্থান নেই। আমি আপনার সেই কিতাবে বিশ্বাস করি যা আপনি আপনার প্রেরিত নাবীর উপর অবতীর্ণ করেছেন।” অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ অতঃপর [ঐ রাতে] যদি তোমার মৃত্যু হয় তাহলে তুমি ইসলামের উপরেই মারা গেলে। এটাই হইবে তোমার সর্বশেষ কথা। আল-বারাআ [রাদি.] বলেন, আমি বলিলাম। এটি আওরাতে গিয়ে আমার মুখে ওয়া বিরাসূলিকাল্লাযী আরসালতা এসে গেলে তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ না, বরং “ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৪৭

আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিয়াছেনঃ যখন তুমি পবিত্র হয়ে বিছানায় বিশ্রাম নিবে তখন তোমার ডান হাত মাথার নিচে রাখবে। অতঃপর উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৪৮

আল-বারাআ [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

সুফিয়ান [রাদি.] বলেন, একজন বর্ণনাকারী বলেন, তুমি পবিত্র হয়ে যখন তোমার বিছানায় আসো। অপর বর্ণনাকারী বলেন, তুমি তোমার সলাতের উযুর মত উযু করো। এভাবে হাদিসের বাকি বর্ণনা মুতামির বর্ণিত হাদিসের অর্থানুরূপ। {৫০৪৬}

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৪৯

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] ঘুমানোর সময় বলিতেনঃ “ আল্লাহুম্মা বিইসমিকা আহ্‌ইয়া ওয়া আমূতু ” [অর্থ ঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে মরি ও বাঁচি]। আবার তিনি যখন জাগতেন তখন বলিতেনঃ“ আল্‌হামদু লিল্লাহিল্লাযী আহ্‌ইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন-নুশূর] [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর পুনারায় জীবিত করবেন]।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫০

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যখন তোমাদের কেউ তার বিছানায় বিশ্রাম নেয়, সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের [লুঙ্গির] ভেতরের দিক দিয়ে বিছানা ঝেঁড়ে নেয়। কেননা সে জানে না তার চলে যাওয়ার পর বিছানায় কি এসেছে। অতঃপর সে যেন তার ডান কাতে শুয়ে বলেঃ হে রব! আপনার নামে আমার দেহ রাখলাম এবং আপনার নামে তা উঠাবো। যদি আপনি আমার আত্মাকে রেখে দেন তবে তার প্রতি দয়া করবেন, আর যদি ফিরিয়ে দেন, তবে তার নিরাপত্তা দিবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকেন।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫১

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বিছানায় বিশ্রাম নেয়ার সময় বলিতেনঃ হে আল্লাহ! আসমান-যমীনের তথা প্রত্যেক বস্তুর রব; শস্যবীজ অঙ্কুরিতকারী, তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী। হে রব! আমি আপনার নিকট আপনার অধীনস্থ ও আয়াত্তাধীন সকল অনিষ্টকারীর অনিষ্ট হইতে মুক্তি চাই। আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনি অনন্ত, আপনার পরে কেউ থাকিবে না, আপনি প্রকাশ্য এবং আপনার উপরে কিছু নেই। আপনিই গোপন, আপনি ছাড়া কিছুই নেই। বর্ণনাকারী ওয়াহ্‌ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার হাদিসের আরো উল্লেখ করেন, আপনি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং অভাব থেকে মুক্তি দিন।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫২

আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর বিছানায় শোয়ার সময় বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার মহান সত্ত্বা ও পূর্ণ কালেমার মুক্তি কামনা করছি, যা আপনার অধীনে রয়েছে তার অকল্যাণ হইতে। হে আল্লাহ! আপনিই ঋণ ও পাপের বোঝা দূরীভূত করিলেন। হে আল্লাহ! আপনার সৈন্যবাহিনী বা আপনার দলকে কখনো পরাভূত করা যায় না এবং আপনার ওয়াদার কখনো ভঙ্গ হয় না। সম্পদশালীর সম্পদ তাহাকে আপনার হাত হইতে রক্ষা করিতে পারবে না। আপনার পবিত্রতা আপনার প্রশংসার সঙ্গে।” {৫০৫০}

দুর্বল ঃ মিশকাত হা/২৪০৩।

{৫০৫০} নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ত্বাবারানী। সানাদে হারিস আল-আওয়ার দুর্বল।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৫৩

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর বিছানায় বিশ্রাম নেয়ার সময় বলিতেনঃ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই মহান রবের জন্য যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন, পান করালেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করিলেন এবং আমাদের মুক্তি দিলেন, অথচ এমন বহু লোক আছে যাদের না আছে প্রয়োজন পূর্ণকারী আর না আছে আশ্রয়দাতা।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫৪

আবুল আযহার আল-আনমারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতে শোয়ার সময় বলিতেনঃ আল্লাহর নামে আমার দেহ রাখলাম। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার থেকে শয়তানকে তাড়িয়ে দিন, আমার ঘাড়কে মুক্ত করুন এবং আমাকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্নদের কাতারে স্থান দিন।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫৫

ফারওয়াহ ইবনি নাওফাল [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] নাওফাল [রাদি.]-কে বলেনঃ তুমি “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন” সূরাটি পড়ে ঘুমাবে। কেননা তা শিরক হইতে মুক্তকারী।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫৬

আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] প্রতি রাতে শোয়ার জন্য তাহাঁর বিছানায় এসে দুই হাত একত্র করে কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযুবিরব্বিল ফালাক্ব ও কুল আউযুবি রব্বিন্‌ নাস সূরাহ তিনটি পড়ে [হাতে] ফুঁক দিতেন, অতঃপর সেই হাত দুটো দিয়ে যতদূর সম্ভব তাহাঁর শরীর মাসেহ করিতেন এবং মাথা হইতে মাসেহ শুরু করিতেন, তারপর মুখমণ্ডল, শরীরের সম্মুখভাগ, অতঃপর শরীরের যেখানে যেখানে হাত পৌঁছানো সম্ভব। তিনি এরূপ তিনবার করিতেন।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫৭

ইরবাদ ইবনি সারিয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শোয়ার পূর্বে যেসব সূরার শুরুতে সাব্বাহা বা ইউসাব্বিহু আছে সেগুলো পড়তেন। তিনি বলিয়াছেন, এ সূরাহগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা হাজার আয়াতের চেয়েও উত্তম। {৫০৫৫}

দুর্বল।

{৫০৫৫} তিরমিজি, নাসায়ী সুনানুল কুবরা, আহমাদ। সানাদে বাক্বিয়্যাহ বিন ওয়ালীদ একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৫৮

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন রাতে শোয়ার জন্য যেতেন তখন বলিতেনঃ সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার প্রয়োজন পুরা করিলেন, আমাকে মুক্তি দিলেন, আমাকে পানাহার করালেন, যিনি আমার প্রতি অসীম দয়াবান এবং আমাকে দান করিলেন। সুতরাং সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। হে আল্লাহ! প্রত্যেক বস্তুর রব ও অধিকারী এবং প্রত্যেক জিনিসের ইলাহ্‌! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি হইতে আশ্রয় চাই।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৫৯

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করলো না, সে ক্বিয়ামাতের দিন বঞ্চিত হইবে। আর যে ব্যক্তি কোন আসনে বসলো অথচ সেখানে সে মহিমান্বিত আল্লাহকে স্মরণ করলো না, ক্বিয়ামাতের দিন সে বঞ্চিত হইবে।

এইহাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ১০৮ঃ রাতে ঘুম থেকে সজাগ হলে যা বলিতে হয়

৫০৬০

উবাইদাহ ইবনিস সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে ঘুম হইতে জেগে বলেঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন শরিক নেই, সার্বভৌমত্ব, প্রভুত্ব, রাজত্ব ও প্রশংসা সবই তাহাঁর, তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী; সকল প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর সাহায্য ও ক্ষমতা ছাড়া কারো কোন উপায় নেই”; অতঃপর এ দুআ করেঃ “হে আমার রব আমাকে মাফ করুন; “বর্ণনাকারী ওয়ালীদ বলেনঃ দুআ করে। অর্থাৎ তার বর্ণনায় “রব্বিগফিরলী” উল্লেখ নেই এবং এ দুআ কবুল করা হয়। অতঃপর সে যদি উঠে উযূ করে সলাত আদায় করে তাহলে তার সলাত কবুল করা হয়।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৬১

আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতে সজাগ হলে বলিতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার গুনাহের জন্য ক্ষমা ও রহমত কামনা করছি। হে আল্লাহ! আমার ইলম বাড়িয়ে দিন এবং হিদায়াত দানের পর আমার অন্তরকে বাঁকা করবেন না এবং আমার জন্য আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদানকারী। {৫০৫৯}

দুর্বলঃ মিশকাত হা/১২১৪।

{৫০৫৯} হাকিম, ইবনি হিব্বান আল-মাওয়ারিদ। হাকিম ও যাহাবী একে সহিহ বলিয়াছেন। কিন্তু সনদের আবদুল্লাহ বিন ওয়ালীদ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ হাদিস বর্ণনায় শিথিল।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০৯ঃ ঘুমানোর সময় তাসবীহ পাঠ সম্পর্কে

৫০৬২

আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যাঁতা ঘুরাতে ঘুরাতে ফাত্বিমাহ [রাদি.]-এর হাতে ফোসকা পড়ে যাওয়ায় তিনি একদা নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট অভিযোগ করেন। কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী থেকে ফাত্বিমাহ [রাদি.] একটি খাদেম চাওয়ার জন্য নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলেন, কিন্তু তাহাঁর দেখা না পেয়ে তিনি এ বিষয়ে আয়িশাহ [রাদি.]-কে জানিয়ে চলে গেলেন। নাবী [সাঃআঃ] ফিরে আসলে তিনি তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি [সাঃআঃ] এমন সময় আমাদের নিকট উপস্থিত হলেন যখন আমরা ঘুমাতে যাচ্ছিলাম। তাহাঁর আগমনে আমরা বিছানা থেকে উঠতে উদ্যত হলে তিনি বলিলেনঃ তোমরা স্বস্থানে থাকো। তিনি এসে আমাদের দুজনের মাঝখানে বসলেন। এমনকি আমি তাহাঁর পায়ের শীতল পরশ আমার বুকে অনুভব করছিলাম। তিনি বলিলেনঃ আমি কি তোমাদের দুজনকে এমন একটি উত্তম পথ দেখাবোনা যা তোমাদের পার্থিব জিনিসের চেয়ে উত্তম হইবে? তা হলো তোমরা শোয়ার সময় তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ ও চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলবে। আর এটা তোমাদের উভয়ের জন্য একটি খাদেমের চেয়ে অধিক উত্তম হইবে।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৬৩

আবুল ওয়ারদ ইবনি সুমামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আলী [রাদি.] ইবনি আবাদকে বলেন, আমি আমার স্ত্রী ও রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কন্যা ফাত্বিমাহ্‌র ঘটনা কি তোমাকে বর্ণনা করবো না? তিনি ছিলেন তাহাঁর নিকট তাহাঁর পরিবারের সর্বাধিক প্রিয় এবং আমি তাহাকে বিয়ে করেছি। যাতা ঘুরাতে ঘুরাতে তার হাতে এবং পানির মশক বহন করায় তার কাঁধে দাগ পড়ে যায়; ঘর ঝাড়ু দেয়ায় ও রান্নাঘর পরিষ্কার করায় তার কাপড়ে ময়লা লেগে যায়; এতে ফাত্বিমাহ্‌র খুব কষ্ট হয়। আমরা শুনতে পেলাম যে, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] নিকট যুদ্ধবন্দী এসেছে। তাই আমি তাহাকে বলিলাম, তুমি যদি তোমার পিতার নিকট গিয়ে একটি খাদেম চেয়ে আনতে তাহলে তোমার জন্য যথেষ্ট উপকার হতো। তারপর তিনি নাবী[সাঃআঃ]-এর নিকট যান, সেখানে কতক লোক তাহাঁর সাথে আলোচনারত থাকায় তিনি লজ্জায় না বলে ফিরে আসেন। পরের দিন ভোরে তিনি আমদের ঘরে আসলেন, এসময় আমরা লেপের ভিতরে ছিলাম। তিনি ফাত্বিমাহ্‌র মাথার নিকট বসলেন। ফাত্বিমাহ্‌ লজ্জায় মাথা লেপের ভিতরে লুকালো। তিনি প্রশ্ন করিলেন ঃ গতকাল মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর পরিবারে তোমার কি দরকার ছিল? এভাবে তিনি দুবার প্রশ্ন করলেও তিনি চুপ থাকেন। তখন আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ কসম! আমি বলছি। সে আমার এখানে যাঁতা ঘুরানোর কারণে তার হাতে দাগ পড়েছে, পানির মশক টানতে টানতে তার কাঁধে দাগ পড়েছে, ঘর ঝাড়ু দেয়া ও রান্না করায় তার কাপড়গুলো কালো হয়ে গেছে। আমি খবর পেয়েছিলাম যে, আপনার নিকট যুদ্ধবন্দী এসেছে। আমি আপনার নিকট একজন খাদেম চাওয়ার জন্য তাহাকে বলেছিলাম। অতঃপর হাকাম বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। {৫০৬১}

{৫০৬১} এটি গত হয়েছে হা/২৯৮৮ ।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৬৪

আলী [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণনাকারী বলেন, আলী [রাদি.] বলিলেন, আমি সিফফীন যুদ্ধের রাত ব্যতীত এ তাসবীহগুলোর পড়া কখনো ছাড়িনিঃ যখন হইতে আমি তা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] নিকট শুনিয়াছি। অবশ্য ঐ রাতের শেষ প্রহরে আমার তা স্মরণ হলে আমি তাসবীহগুলো আদায় করেছি। {৫০৬২}

{৫০৬২} নাসায়ী আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ । সনদ মুনকাতি । ঈমাম বুখারী বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনি কাব হাদিসটি শাবাস হইতে শুনেছেন কিনা তা জানা যায়নি।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৬৫

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ দুটি বিষয় বা দুটি অভ্যাসের প্রতি যে মুসলিম খেয়াল রাখবে সে নিশ্চয়ই জান্নাতে যাবে। অভ্যাস দুটি সহজ কিন্তু তা আমলকারীর সংখ্যা কম। তা হলো [১] প্রত্যেক সলাতের পর দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আল্‌হামদু লিল্লাহ ও দশবার আল্লাহু আকবার বলবে। মুখে [পাঁচ ওয়াক্তে] এর সংখ্যা একশ পঞ্চাশ, কিন্তু মীযানে তা একহাজার পাঁচশ। [২] যখন শয্যায় যাবে চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার, তেত্রিশ বার আল্‌হামদু লিল্লাহ ও তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ বলবে। তা মুখে একশ কিন্তু মীযানে একহাজার। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে তা হাতের আঙ্গুলে গণনা করিতে দেখেছি। সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! অভ্যাস দুটি সহজ হওয়া সত্ত্বেও এর আমলকারীর সংখ্যা কম কেন? তিনি বলিলেনঃ তোমরা বিছানায় ঘুমাতে গেলে শয়তান তোমাদের কোন লোককে তা বলার আগেই ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আর সলাতের মধ্যে শয়তান এসে তার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সে ঐগুলো বলার আগেই প্রয়োজনের দিকে চলে যায়।

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৬৬

উম্মুল হাকাম বা দুবাআহ বিনতু যূবাইর [রাদি.] উভয়ের একজন অপরজন হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছু যুদ্ধবন্দী পেলেন। আমি, আমার বোন এবং নাবী [সাঃআঃ]-এর কন্যা ফাত্বিমাহ [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়ে আমাদেরকে বন্দি থেকে [খাদেম] দেয়ার নির্দেশ দিতে আবেদন করলাম। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমাদের আগে বদরের যুদ্ধে শহীদদের ইয়াতীম সন্তানরা অগ্রগামী হয়ে গেছে। অতঃপর বর্ণনাকারী তাসবীহ পাঠের কথা উল্লেখ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রত্যেক সলাতের পর, কিন্তু তিনি ঘুমের কথা উল্লেখ করেননি। {৫০৬৪}

ঘুমানোর দুআ -এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১১০ঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে যা বলিতে হয়

৫০৬৭

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু বাক্‌র সিদ্দীক [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে এমন কিছু কালেমা শিখিয়ে দিন যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবো। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, “হে আল্লাহ্‌! আপনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞাতা, প্রত্যেক বস্তুর রব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমার মনের কু-প্রবৃত্তি, শয়তানের খারাবী ও তার শির্‌কী হইতে আপনার নিকট আশ্রয় চাইছি।” তিনি বলেনঃ হে আবু বাক্‌র! তুমি এ কথাগুলো ভোরে, সন্ধ্যায় ও শোয়ার সময় বলবে।

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৬৮

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] ভোরে উপনীত হয়ে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ্‌! আপনার অনুগ্রহে আমরা ভোরে উপনীত হই, সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং বাঁচি ও মরি। আর আপনার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন”। আর তিনি যখন সন্ধ্যায় উপনীত হইতেন তখন বলিতেনঃ “হে আল্লাহ্‌! আপনারই সাহায্যে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং সকালে উপনীত হই, আপনার নামেই আমরা বাঁচি ও মরি এবং আপনারই দিকে আমাদের আমাদের প্রত্যাবর্তন”।

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৬৯

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবেঃ “হে আল্লাহ্‌! আমি সকালে উপনীত হয়েছি এবং সাক্ষী রাখি আপনাকে ও আপনার আরশ বহনকারীদের, আপনার ফেরেশতাহাদেরকে, আপনার সমস্ত সৃষ্টিকে, নিশ্চয়ই আপনি একমাত্র আল্লাহ্‌, আপনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ [সাঃআঃ] আপনার বান্দা ও রাসূল”-আল্লাহ তার এক-চতুর্থাংশ দেহ জাহান্নামের শাস্তি হইতে মুক্তি দিবেন। আর যে ব্যক্তি তা দুইবার বলবে, আল্লাহ তার শরীরের অর্ধেক জাহান্নামের আগুন হইতে মুক্তি দিবেন। আর যে ব্যক্তি তা তিনবার বলবে আল্লাহ তার শরীরের তিন-চতুর্থাংশ এবং চারবার বললে তার সমস্ত শরীর জাহান্নামের আগুন হইতে মুক্তি দিবেন। {৫০৬৭}

{৫০৬৭} সানাদে আবদুর রহমান বিন আবদুল মাজীদ রয়েছে। হাফিয বলেনঃ মাজহুল। ঈমাম যাহাবী বলেনঃ তাহাকে চেনা যায়নি। এছাড়া মাকহুল দামেস্কী হাদিসটি আনাস হইতে শুনার ব্যপারে মতভেদ করেছেন।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৭০

বুরাইদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলেঃ “হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবো। আমি আমার নিকৃষ্ট আমল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই, আপনার যে অসংখ্য নেয়ামত ভোগ করছি এজন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমি আমার কৃত অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। বস্তুত আপনি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই” – এ দুআ পড়ার পর সে যদি ঐ দিন বা রাতে মারা যায় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৭১

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলিতেনঃ অর্থ “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং রাজ্য আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় প্রবেশ করেছে, সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নেই”। জারীর [রাদি.] বর্ণিত হাদিসে রয়েছে ঃ “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নেই, তাহাঁরই জন্য সাম্রাজ্য, সকল প্রশংসা তাহাঁরই এবং তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। হে আমার রব! আমি আপনার নিকট এ রাতের কল্যাণ চাইছি এবং রাতের পরবর্তী কল্যাণও কামনা করছি। আর এ রাতের সকল প্রকার অমঙ্গল হইতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং তারপরে যা আছে তার অমঙ্গল হইতেও মুক্তি চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার নিকট অলসতা, গর্ব-অহংকারের অনিষ্ট ও কুফরীর অনিষ্ট হইতে আশ্রয় চাইছি। হে রব! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি ও কবরের শাস্তি হইতে আশ্রয় চাইছি”। আর তিনি ভোরে উপনীত হয়েও এরুপ বলিতেনঃ আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ্‌র বাদশাহী সকাল বেলাও আছে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, শুবাহ হাদিসটি সালামাহ ইবনি কুহাইল হইতে ইবরাহীম ইবনি সুয়াইদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বার্ধক্যের অনিষ্ট হইতে এবং তিনি কুফরীর অনিষ্ট হইতে উল্লেখ করেননি।

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৭২

আবু সাল্লাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একদা তিনি হিমসের মাসজিদে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করলে লোকেরা বললো, ইনি নাবী [সাঃআঃ] এর খেদমত করেছিলেন। অতএব আবু সাল্লাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার নিকট গিয়ে বলিলেন, আপনি আমাকে একটি হাদিস বলুন যা আপনি অন্য কারো মাধ্যম ছাড়াই  রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] মুখে শুনেছেন। তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলেঃ আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছি, এর বিনিময়ে আল্লাহ্‌ তাহাকে খুশি করবেন। {৫০৭০}

{৫০৭০} আহমাদ, হাকিম।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৭৩

আবদুল্লাহ ইবনি গান্নাম আল-বায়াদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহ্‌! সকালে আমার প্রতি যে নেয়ামত পৌঁছেছে তা একমাত্র আপনার পক্ষ থেকেই পৌঁছলো, আপনি একক, আপনার কোন শরীক নেই, সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য-সে তার ঐ দিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এরূপ বললো সে তার ঐ রাতের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলো। {৫০৭১}

{৫০৭১} নাসায়ী আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ। সনদের আবদুল্লাহ বিন উতবাহ সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ তাহাকে চেনা যায়নি।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৭৪

জুবাইর ইবনি আবু সুলাইমান, ইবনি জুবাইর ইবনি মুত্বইম [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] সকাল ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এ দুআগুলো পড়া ছেড়ে দিতেন না “হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং আমার দীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন এবং ভীতিপ্রদ বিষয়সমূহ হইতে আমাকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ্‌! আপনি আমাকে হিফাযাত করুন আমার সম্মুখ হইতে, আমার পিছন দিক হইতে, আমার ডান দিক হইতে, আমার বাম দিক হইতে এবং আমার উপর দিক হইতে। হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় মাটিতে ধ্বসে যাওয়া হইতে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি।” {৫০৭২}

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৭৫

বনু হাশিমের আযাদকৃত গোলাম আবদুল হামীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তার মা নাবী [সাঃআঃ]-এর কন্যাদের কারো একজনের খেদমত করিতেন, মা তাহাকে বলিয়াছেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর কন্যা তার নিকট বর্ণনা করেছেন, নাবী [সাঃআঃ] তাহাদেরকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে বলিতেনঃ তুমি সকালে উঠে বলবেঃ “আল্লাহ্‌র পবিত্রতা তাহাঁর প্রশংসার সঙ্গে; কারো কোন শক্তি নেই আল্লাহ্‌র শক্তি ব্যতিত; আল্লাহ যা চান তাই হয়, যা চান না তা হয় না। আমি জানি, আল্লাহ সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ্‌ সকল বস্তুকে জ্ঞানের আওতায় ঘিরে রেখেছেন।” অতঃপর যে ব্যক্তি সকালে উঠে তা বলবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ থাকিবে। আর যে সন্ধ্যায় বলবে সে ভোর উপনীত হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ থাকিবে। {৫০৭৩}

দুর্বল ঃ মিশকাত হা/২৩৯৩।

{৫০৭৩} সনদের উম্মু আব্দুল হামীদ সম্পর্কে মুনযিরী বলেনঃ আমি তাহাকে চিনি না। হাফীয আত-তাক্ববীর গ্রন্থে বলেনঃ মাক্ববুল। অর্থাৎ তার অবস্থা অজ্ঞাত [মাঝহুলুল হাল]।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৭৬

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে উঠে [এই আয়াত] বলবেঃ “সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ঘোষণা করো যখন সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন সকালে উপনীত হও, আর আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে সকল প্রশংসা তাহাঁরই… তোমাদেরকে উত্থিত করা হইবে” [সূরাহ রূমঃ ১৭-১৯] পর্যন্ত। তার ঐ দিনে যেসব [কল্যাণ] ছুটে গেলে, সে তা লাভ করিবে। আর যে তা সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে পড়বে সে লাভ করিবে ঐ রাতে যেসব [কল্যাণ] তার হাতছাড়া হয়েছে। {৫০৭৪}

খুবই দুর্বল ঃ মিশকাত হা / ২৩৯৪।

{৫০৭৪} সনদের সাঈদ ইবনি বাশীর সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাজহুল। এছাড়া সনদের মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান দুর্বল।

এইহাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৫০৭৭

আবু আয়্যাশ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে বলেঃ “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাহাঁরই, প্রশংসা তাহাঁরই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান”- এটা তার জন্য ইসমাঈল [আঃ] বংশীয় একটি গোলাম আযাদ করার সমান হইবে, তার জন্য দশটি পুণ্য লেখা হইবে ও দশটি পাপ মোচন করা হইবে এবং তার দশটি মর্যাদা বুলন্দ করা হইবে এবং শয়তান হইতে নিরাপদ থাকিবে যতক্ষণ না সন্ধ্যা হয়। আর যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে তা বলে, তাহলে ভোর পর্যন্ত অনুরূপ ফাযীলাত পাবে। বর্ণনাকারী হাম্মাদের [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণনায় রয়েছেঃ এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে স্বপ্নে দেখে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আবু আয়্যাশ [রাদি.] আপনার নামে এই এই বলেছে। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, আবু আয়্যাশ সত্যিই বলেছে। {৫০৭৫}

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৭৮

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে বলেঃ “হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয়ই আমি সকালে উপনীত হয়েছি, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি এবং সাক্ষী রাখছি আপনার আরশ বহনকারীগণকে, আপনার ফেরেশতাগণকে এবং আপনার সৃষ্টিকুলকে যে, আপনি একমাত্র আল্লাহ্‌, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আপনার বান্দা ও রাসূল”- তাহলে তার ঐ দিনের কৃত সমস্ত গুনাহ ক্ষমা হইবে। আর সে যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে ঐ বাক্যসমূহ বলে তাহলে ঐ রাতে কৃত তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা হইবে। {৫০৭৬}

{৫০৭৬} তিরমিজি, নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ হাদিসটি গরীব। হাদিসের সানাদে রয়েছে বাক্বিয়্যাহ। তিনি একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সনদের মুসলিম ইবনি যিয়াদ সম্পর্কে ইবনি কাত্তান বলেনঃ মাজহুল।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৭৯

আল-হারিস ইবনি মুসলিম আত্‌-তামীমী [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে চুপে চুপে বলেন, যখন তুমি মাগরিবের সলাত হইতে অবসর হয়ে সাতবার বলবেঃ [আল্লাহুম্মা আযিরনী মিনান্‌-নার] “হে আল্লাহ্‌! আমাকে জাহান্নাম হইতে রক্ষা করো। তুমি তা বলার পর ঐ রাতে মারা গেলে তোমার জন্য জাহান্নাম হইতে মুক্তি লেখা হইবে। আর যখন তুমি ফাজ্‌রের সলাত শেষ করিবে তখনও অনুরূপ বলবে, অতঃপর তুমি যদি ঐ দিন মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম হইতে মুক্তি লেখা হইবে।” মুহাম্মাদ ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাকে আল-হারিস [রাদি.] সূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে তা চুপে চুপে বলিয়াছেন, যাতে আমি আমার ভাইদের নিকট তা বিশেষভাবে প্রচার করি। {৫০৭৭}

{৫০৭৭} আহমাদ, ইবনি হিব্বান।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৮০

মুসলিম ইবনিল হারিস ইবনি মুসলিম আত্‌-তামীমী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ “জাহান্নাম হইতে নিরাপত্তা” পর্যন্ত পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছেঃ “কারো সঙ্গে তোমার কথা বলার পূর্বে”। এতে আলী ইবনি সাহল বলেন, তার পিতা তার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর আলী ও ইবনিল মুসাফ্‌ফা বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে একটি ক্ষুদ্র অভিযানে প্রেরণ করিলেন। আমরা আক্রমণের স্থানে পৌছলে আমি আমার ঘোড়াকে উত্তেজিত করে আমার সঙ্গীদেরকে পিছনে ফেলে সামনে অগ্রসর হই। তখন সেখানকার লোকেরা হৈ চৈ করে আমার সঙ্গে দেখা করলো। আমি বলিলাম, তোমরা বলোঃ লা ইলাহা ইল্লালাহু, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করিবে। অতএব তারা কালেমা পড়লো। এতে আমার সঙ্গীরা আমাকে তিরস্কার করে বললো, তুমি আমাদেরকে গনীমাত থেকে বঞ্চিত করেছো। তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট ফিরে এসে আমি যা করেছি তা তাঁকে জানালো। তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে আমার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানালেন এবং বলিলেনঃ জেনে রাখো! তোমার এ কাজের জন্যই মহান আল্লাহ্‌ তাহাদের প্রত্যেক ব্যক্তির বিনিময়ে তোমার জন্য এই এই নেকী নির্ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান বলেন, এর বিনিময়ে যে সওয়াবের কথা তিনি বলিয়াছেন তা আমি ভুলে গেছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জেনে রাখো! আমি তোমার জন্য একটি ওয়াসিতনামা লিখে দিবো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাই করেছিলেন এবং তাতে তাহাঁর সীলমোহর লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং আমাকে হস্তান্তর করেছিলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী তাহাদের বর্ণিত হাদিসের অর্থের অনুরূপ হাদিস আমাকে বর্ণনা করেছেন। ইবনিল মুসাফ্‌ফা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আল-হারিস ইবনি মুসলিম ইবনিল হারিস আত-তামীমী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে তার পিতার সূত্রে এ হাদিস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি। {৫০৭৮}

{৫০৭৮} এর পূর্বেরটি দেখুন।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৮১

আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে সাতবার বলেঃ “আল্লাহ্‌ আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি তাহাঁর উপর ভরসা করি এবং তিনি মহান আরশের রব- আল্লাহ্‌ তার জন্য যথেষ্ট হইবেন যা তাহাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তার বিরুদ্ধে, চাই যেন সত্যিকারভাবে অথবা কৃত্রিমভাবে বলুক না কেন। {৫০৭৯}

বানোয়াট ঃ যঈফাহ হা / ৫২৮৬।

{৫০৭৯} এটি বানোয়াট।

এইহাদিসের তাহকিকঃ জাল হাদিস

৫০৮২

মুআয ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি খুবাইব [রাদি.] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক বর্ষণমুখর খুবই অন্ধকার কালো রাতে আমাদের সলাত পড়াবার জন্য আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে খুঁজছিলাম। আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তিনি বলিলেনঃ বলো। আমি কিছুই বলিলাম না। পুনরায় তিনি বলিলেন, বলো। আমি কিছুই বলিলাম না। তিনি আবার বলিলেনঃ বলো। তখন আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কি বলবো? তিনি বলিলেনঃ তুমি সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার সূরাহ কুল হুয়াল্লাহু [সূরা ইখলাস], সূরাহ নাস ও ফালাক্ব পড়বে; এতে তুমি যাবতীয় অনিষ্ট হইতে রক্ষা পাবে। {৫০৮০}

{৫০৮০} তিরমিজি, নাসায়ী।

এইহাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫০৮৩

আবু মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদেরকে এমন কিছু বলুন যা আমরা সকাল-সন্ধ্যায় ও শোয়ার সময় পড়বো। তিনি তাহাদেরকে আদেশ দিলেন তারা যেন বলেঃ “হে আল্লাহ্‌, আকাশ-যমীনের সৃষ্টিকারী, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞাতা! আপনি প্রত্যেক বস্তুর রব। ফেরেশতারা সাক্ষ্য দিচ্ছে, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। অতএব আমরা আমাদের কু-প্রবৃত্তির অনিষ্ট হইতে এবং অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ট ও শির্‌ক হইতে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি এবং আমাদের অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়া বা কোন মুসলিমকে অপরাধের দিকে ধাবিত করা হইতে আশ্রয় চাইছি”।{৫০৮১}

দুর্বলঃ যঈফাহ হা/৫৬০৬।

{৫০৮১} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৮৪

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সনদে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ ভোরে উপনীত হলে যেন বলেঃ “আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং জগতসমূহের রব আল্লাহ্‌র রাজ্যও ভোরে উপনীত হলো। হে আল্লাহ্‌! আমি আজকের দিনের কল্যাণ, বিজয়, সাহায্য, আলো, বরকত ও হিদায়াত কামনা করছি। আর আজকের দিনের অমঙ্গল ও তার পরের অমঙ্গল হইতে তোমার নিকট আশ্রয় চাইছি”। যখন সন্ধ্যায় উপনীত হইবে তখনও তাই বলবে।{৫০৮২}

দুর্বলঃ যঈফাহ হা/৫৬০৬।

{৫০৮২} এর পূর্বেরটি দেখুন।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০৮৫

শারীক আল-হাওযানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আমি আয়িশাহ্‌র [রাদি.] নিকট গিয়ে বলি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতে জেগে সর্বপ্রথম কোন দুআ পড়ার মাধ্যমে শুরু করিতেন? তিনি বলিলেন, তুমি আমাকে এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছো, তোমার পূর্বে কেউই এ ব্যাপারে আমার নিকট জানতে চায়নি। তিনি যখন রাতে জাগতেন তখন দশবার আল্লাহ্‌ আকবার ও দশবার আল্‌হামদুলিল্লাহ বলিতেন। আর সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি দশবার ও সুবহানাল মালিকুল কুদ্দুস দশবার এবং আস্‌তাগফিরুল্লাহ ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দশবার বলিতেন। অতঃপর তিনি বলিতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় অভাব, সংকীর্ণতা ও বিপদগ্রস্ততা হইতে আশ্রয় চাইছি। এরপর তিনি সলাত শুরু করিতেন।{৫০৮৩}

{৫০৮৩} নাসায়ী, ইবনি মাজাহ।

এইহাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৫০৮৬

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সফর করিতেন তখন ভোর রাতে উপনীত হয়ে বলিতেনঃ শ্রবণকারী শ্রবণ করুন, আল্লাহ্‌র প্রশংসা করছি আমাদের প্রতি তাহাঁর নেয়ামতসমূহ ও আশির্বাদসহ। হে আল্লাহ্‌! তুমি আমাদের সাথী হও এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। আর আমরা আল্লাহ্‌র নিকট জাহান্নামের আগুন হইতে মুক্তি চাই।

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৮৭

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যে ব্যক্তি সকালে ঘুম থেকে উঠে বলবেঃ “হে আল্লাহ! আমি যে কসমই করি, যে কথাই বলি, আর যে মান্নতই মানি, এসব কার্যকর হওয়ার জন্য রয়েছে তোমার ইচ্ছা। তুমি যা চাও তাই হয়, তুমি যা চাও না তা হয় না। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার এগুলো আগ্রাহ্য করো। হে আল্লাহ! যার প্রতি তুমি দয়া করো তার প্রতি আমারও দুআ। তুমি যাকে অভিশাপ দাও তার প্রতি আমারও অভিশাপ”-এসব অকল্যাণ হইতে ঐ দিনের জন্য তাহাকে মুক্তি দেয়া হয়।{৫০৮৫}

তাহক্বিক আলবানীঃ সনদ যয়ীফ মাওকুফ।

{৫০৮৫} বায়হাক্বী। এর সনদ মুনকাতি । ক্বাসিম ইবনি আবদুর রহমান হাদিসটি আবু যার হইতে শুনেননি । যেমন রয়েছে তাহযীব গ্রন্থে ।

এইহাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

৫০৮৮

আবান ইবনি উসমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার পিতাহাকে বলিতে শুনিয়াছি এবং তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবেঃ “আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোন বস্তুই ক্ষতি করিতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।” সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোন হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোন হঠাৎ বিপদ আসবে না। আবান [রাদি.] পক্ষাঘাতগ্রস্থ হলে যে লোকটি তার থেকে হাদিস শুনিয়াছিল, তার দিকে তাকাচ্ছিল। তখন আবান তাহাকে বলিলেন, তোমার কি হয়েছে! তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো কেনো? বিশ্বাস করো, আল্লাহর কসম! আমি উসমান [রাদি.]-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিনি আর উসমান [রাদি.]-ও নাবী [সাঃআঃ]-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেননি। তবে যেদিন আমি পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়েছি সেদিন আমি রাগের বশে তা বলিতে ভুলে গিয়েছি।

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০৮৯

উসমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]-সূত্রে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী এতে পক্ষাঘাতের ঘটনা উল্লেখ করেননি। {৫০৮৭}

{৫০৮৭} আহমাদ ।

এইহাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৫০৯০

আবদুর রহমান ইবনি আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আমার পিতাহাকে বলিলাম, হে আব্বাজান! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলিতে শুনিঃ “হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই।” তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দুআ করিতে শুনিয়াছি। সেজন্য আমিও তাহাঁর নিয়ম অনুসরণ করিতে ভালোবাসি। আব্বাস [রাদি.]-এর বর্ণনায় রয়েছে তিনি বলিলেনঃ “হে আল্লাহ! আপনার নিকট কুফরী ও দরিদ্রতা হইতে আশ্রয় চাইছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আযাব হইতে আপনার নিকট আশ্রয় চাইছি, আপনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই।” তিনি এ দুআ সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিনবার করে বলিতেন। তাই আমিও তাহাঁর নিয়ম অনুসরণ করিতে ভালোবাসি। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ বিপদগ্রস্থ ব্যক্তির দুআ হলো ঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমত প্রার্থী। কাজেই আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নিজের নিকট সোপর্দ করবেন না এবং আমার সবকিছু সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করে দিন। আর আপনিই একমাত্র ইলাহ।” {৫০৮৮}

{৫০৮৮} বুখারীর আদাবুল মুফরাদ ।

এইহাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫০৯১

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে জেগে উঠে একশো বার বলবেঃ “সুবাহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহি” এবং সন্ধ্যায় উপনীত হয়েও অনুরূপ বলে, তাহলে সৃষ্টিকুলের কেউই তার মত মর্যাদা ও সওয়াব অর্জনে সক্ষম হইবে না।

এইহাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply