ঘরে প্রবেশের সুন্নত হাদিস আদব ও দোয়া সমূহ

ঘরে প্রবেশের সুন্নত হাদিস আদব ও দোয়া সমূহ

ঘরে প্রবেশের সুন্নত হাদিস আদব ও দোয়া সমূহ, এই অধ্যায়ে হাদীস =৪৪ টি ( ১৭৯৫-১৮৩৮ পর্যন্ত ) >> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ৫৪ঃ ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি গ্রহণ বিষয়ক

পরিচ্ছেদ ১: ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি প্রসঙ্গ

১৭৩৮ আতা ইব্নু ইয়াসার [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি ঘরে প্রবেশ করার জন্য আমার আম্মার কাছে অনুমতি চাইব কি? রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, আমি তো তাঁর সাথে একই ঘরে থাকি। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, অনুমতি নিয়ে যাও। লোকটি আবার বলল, আমি তো তাঁর সাথে একই ঘরে থাকি। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, অনুমতি নিয়ে যাও। তুমি কি তোমার আম্মাকে উলঙ্গ দেখিতে চাও? লোকটি বলল, না। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, তবে অনুমতি নিয়ে যাও। {১} [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} ঘরে যে কেউ থাকুক না কেন, অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত প্রবেশ করা বৈধ নয়। অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করিবে। কারণ ঘরে যদি কেউ থাকে, তবে সে সব সময় যে পরিধেয় বস্ত্র ঠিক রাখবে, এমন কথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই ঘরে প্রবেশ করিতে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৩৯ আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, তিনবার অনুমতি নিতে হয়। অতঃপর অনুমতি হলে প্রবেশ করিবে, অন্যথায় ফিরে যাবে। [এই হাদীসের তাহকীক পরে আসবে ইনশাআল্লাহ…]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৪০ রবীয়া ইব্নু আবদুর রহমান [রহঃ] এবং আরো অনেক আলিম হইতে বর্ণিতঃ

আবু মূসা আশআরী [রাদি.] উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.]-এর ঘরে প্রবেশ করার জন্য তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনবারেও অনুমতি না পেয়ে তিনি ফিরে গেলেন। উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] তাহাকে [আবু মূসাকে] ডেকে আনবার জন্য তাঁর পিছনে লোক প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি আসার পর উমার [রাদি.] জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ঘরে প্রবেশ করলে না কেন? আবু মূসা [রাদি.] বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কাছে শুনিয়াছি, তিনি বলেছেন, তিনবার অনুমতি চাইতে হয়। অনুমতি দিলে প্রবেশ কর, অন্যথায় ফিরে যাও। অতঃপর উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] বলিলেন, তুমি ছাড়া এই হাদীস আর কেউ শ্রবণ করেছে কি? যে শ্রবণ করেছে তাকে নিয়ে আস। যদি তুমি তা না কর, তবে আমি তোমাকে শাস্তি দিব। অবশেষে আবু মূসা বের হয়ে এলেন এমন এক মসজিদে যেখানে অনেক লোক বসা আছে। এরা সকলেই আনসারগণের এক মজলিসে বসেছিল। সেখানে যেয়ে [আবু মূসা আশআরী] বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট শ্রবণ করেছি, তিনি বলেছেন যে, [ঘরে প্রবেশ করার জন্য] তিনবার অনুমতি চাইতে হয়। অনুমতি পেলে প্রবেশ করিবে অন্যথায় ফিরে যাবে। আমি উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.]-এর নিকট এই হাদীস বর্ণনা করার পর তিনি বলিলেন, এই হাদীস অন্য কেউ শ্রবণ করলে তাকে নিয়ে আস নতুবা আমি তোমাকে শাস্তি দিব। অতএব তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এই হাদীস শ্রবণ করে থাক, তবে [মেহেরবানী করে] আমার সঙ্গে আস। [উপস্থিত] সকলেই আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.]-কে বলল, তুমি যাও। আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] তাঁদের মধ্যে বয়সে সকলের ছোট ছিলেন। অতঃপর আবু সাঈদ [রাদি.] আবু মূসা [রাদি.]-এর সঙ্গে উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.]-এর নিকট এসে উক্ত হাদীস বর্ণনা করলেন। অতঃপর উমার [রাদি.] আবু মূসা আশআরীকে বলিলেন, আমি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে মনে করি না। তবে আমার ভয় ছিল যে, রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর হাদীসের সাথে কেউ অন্য কোন কথা সংযোজন করিবে।

{১} [বুখারি ২০৬২, মুসলিম ২১৫৩]{১} এটি উমার [রাদি.]-এর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল। কারণ এমন কিছু কথা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সাথে সম্পর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে যা তাঁর কথা ছিল না। এইজন্য উমার [রাদি.] আবু মূসা [রাদি.]-এর একার কথা গ্রহণ করেননি, যাতে মিথ্যাবাদিগণ সংযত ও সতর্ক হয়। অন্যথায় আবু মূসা [রাদি.] উচ্চ মর্যাদার সাহাবী ছিলেন। তিনি যে কখনও মিথ্যা বলবেন, ইহা কল্পনাও করা যায় না।ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২: হাঁচির জওয়াব দান প্রসঙ্গ

১৭৪১ আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবু বাকর [রাদি.] নিজের পিতার হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন যে, যদি কেউ হাঁচি দেয়, তবে তাকে [উহার] জওয়াব দাও [অর্থা হাঁচির পর সে যখন “আলহামদুলিল্লাহ্” বলবে, তোমরা তখন “ইয়ারহামুকুমুল্লাহ্” বলবে। সে আবার হাঁচি দিলে, তবে জওয়াব দিবে। আবার হাঁচি দিলে জওয়াব দিবে। আবার হাঁচি দিলে বলবে যে, তোমার সর্দি হয়েছে। আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবু বাকর [রাদি.] বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তৃতীয়বারের পর, নাকি চতুর্থবারের পর এই কথা বলিতে হুকুম করিয়াছেন তা আমার ভাল স্মরণ নাই।

[হাসান, আবু দাঊদ ৫০৩৪, আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন {সহীহ আল জামে ৩৭১৫} তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৪২ নাফি [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.]-এর হাঁচি এলে [তাঁর আলহামদুলিল্লাহর জওয়াবে] কেউ “ইয়ারহামুকাল্লাহ্” বললে তিনি “ইয়ারহামুনাল্লাহু ওয়া ইয়্যাকুম ওয়া ইয়াগফিরু লানা ওয়ালাকুম يَرْحَمُنَا اللهُ وَإِيَّاكُمْ وَيَغْفِرُ لَنَا وَلَكُمْ বলিতেন। {১} [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে তাবারানী [রাহিমাহুল্লাহ] অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন। ঈমাম বুখারি [রাহিমাহুল্লাহ] আদাবুল মুফরাদে রেওয়ায়ত করিয়াছেন, তোমাদের কেউ হাঁচি দিলে সে নিজে اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ বলবে। তার নিকটে যে থাকিবে সে তখন يَرْحَمُكَ اللهِ বলবে। অতঃপর হাঁচিওয়ালা পুনরায় يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ বলবে।

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৩: ছবি ও মূর্তি প্রসঙ্গ

১৭৪৩ শেফা [রহঃ]-এর আযাদকৃত গোলাম রাফি ইব্নু ইসহাক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি ও আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবু তালহা [রাদি.] আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.]-কে যিনি অসুস্থ ছিলেন দেখিতে গেলাম। অতঃপর আবু সাঈদ [রাদি.] বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে বলেছেন যে, যেই ঘরে ছবি কিংবা মূর্তি থাকে, সেই ঘরে [রহমতের] ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৪৪ উবায়দুল্লাহ্ ইব্নু আবদুল্লাহ্ ইব্নু উতবা ইব্নু মাসঊদ [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আবু তালহা আনসারী [রাদি.]-কে দেখিতে গেলেন [তিনি অসুস্থ ছিলেন]। সেখানে সহল ইব্নু হুনাইফকেও দেখিতে পেলেন। আবু তালহা একজনকে ডেকে আমার [পায়ের] নিচ হইতে শতরঞ্জী তুলে নিতে নির্দেশ দিলেন। সহল ইব্নু হানীফ বলিলেন, কেন তুলে নিচ্ছ? আবু তালহা বলিলেন, এইজন্য যে, এতে ছবি রয়েছে আর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ছবি সম্বন্ধে যা বলেছেন উহা আপনার জানা আছে। সহল বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইহা কি বলেননি যে, কাপড়ে অঙ্কিত হলে কোন অসুবিধা নেই। আবু তালহা বলিলেন, হ্যাঁ, বলেছেন। তবে আমি যেকোন রকমের ছবি হইতে বেঁচে থাকতে চাই।

[সহীহ, বুখারি ৫৯৫৮]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪৫ নবী-পত্নী আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

পরিচ্ছেদ ৪: সান্ডার [গুইসাপের] গোশত খাওয়া প্রসঙ্গ

১৭৪৬ সুলায়মান ইব্নু ইয়াসার [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মায়মুনা বিন্ত হারিস [রাদি.]-এর ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি সান্ডার [গুইসাপের] সাদা গোশত দেখিতে পেলেন। তাঁর সঙ্গে আবদুল্লাহ্ ইব্নু আব্বাস [রাদি.] ও খালিদ ইব্নু ওলীদ [রাদি.] ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নিকট এই গোশত কোথা হইতে এল? মায়মুনা [রাদি.] উত্তর দিলেন, আমার ভগ্নি হুযায়লা বিনতে হারিস [রাদি.] আমার নিকট হাদিয়া পাঠিয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আবদুল্লাহ্ ইবনি আব্বাস [রাদি.] ও খালিদ ইবনি ওয়ালীদকে বলিলেন, তোমরা খাও। তাঁরা বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি খাবেন না? রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, আমার কাছে আল্লাহ্‌র পক্ষ হইতে কেউ না কেউ আগমন করেন। [এতে এক প্রকার গন্ধ আছে, ফলে আগমনকারীর কষ্ট হইবে; তাই আমি খাব না।] মায়মুনা বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনাকে দুধ পান করাব কি? রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, হ্যাঁ। অতঃপর দুধ পান করে রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করলেন, এই দুধ তোমার নিকট কোথা হইতে এল? মায়মুনা [রাদি.] বলিলেন, আমার ভগ্নি হুযায়লা আমার কাছে হাদিয়া পাঠিয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, যদি তুমি তোমার সেই দাসী তোমার ভগ্নিকে দিয়ে দাও যাকে আযাদ করা সম্বন্ধে তুমি আমার কাছে পরামর্শ চেয়েছিলে, আত্মীয়তার খাতির কর এবং সেই দাসী তার ছাগল চরাবে, তা হলে উহা তোমার জন্য খুবই উত্তম হইবে। {১} [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} সান্ডাকে আরবীতে ضب বলে। ইহা এক প্রকার প্রাণী, গুইসাপ সদৃশ। এরা সাত শত বৎসর পর্যন্ত বাঁচে। আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, জীবনে কোন সময় পানি খায় না বা পানির নিকটেও যায় না। বৎসরে দুই একবার এক আধ বিন্দু কুয়াশা খায়। চল্লিশ দিন অন্তর এক বিন্দু প্রস্রাব করে। এরা ঘরে, গাছে কিংবা পাহাড়ে থাকে। এর তৈল সংগ্রহ করে অনেকেই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে। এর গোশত খাওয়া জায়েয আছে। ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৪৭ খালিদ ইব্নু ওলীদ ইব্নু মুগীরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সহিত নবী করীম রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সহধর্মিণী মায়মুনা [রাদি.]-এর ঘরে গমন করলেন। সেখানে একটি ভুনা সান্ডা আনয়ন করা হল। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] উহা খাওয়ার জন্য সেই দিকে হাত বাড়ালেন। তখন মায়মুনা [রাদি.]-এর ঘরে আগত মহিলাদের মধ্যে কেউ বলল, রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কে জানিয়ে দাও যে, তিনি যা খেতে চাচ্ছেন, উহা কিসের গোশত। তখন তাহাকে বলা হল যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! ইহা সান্ডার গোশত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হাত তুলে নিলেন [এবং খেলেন না]। আমি [খালিদ] জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! ইহা কি হারাম? তখন রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, না। তবে যেহেতু আমাদের দেশে ইহা হয় না, তাই আমার পছন্দ হচ্ছে না। খালিদ [রাদি.] বলেন, আমি উহা নিজের দিকে টেনে নিয়ে খেলাম, আর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] দেখছিলেন। {১}

[বুখারি ৫৩৯১, মুসলিম ১৯৪৬]{১} খালিদ [রাদি.] উহা খাচ্ছিলেন, কিন্তু রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ উহাতে তাহাকে কোন নিষেধ করেননি। তাই বোঝা যাচ্ছে যে, সান্ডার গোশ্ত হালাল। ঈমাম তাহাবী [রাহিমাহুল্লাহ] একে হালাল বলেছেন। এমন কি প্রতিটি মাযহাবে একে হালাল বলা হয়েছে। অবশ্য হিদায়া গ্রন্থে একে মাকরূহ বলা হয়েছে। কারণ এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আয়েশা [রাদি.]-কে ইহা খেতে নিষেধ করিয়াছেন। কিন্তু হাদীসটি দুর্বল। [যুরকানী]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪৮ আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]কে আহ্বান করে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! সান্ডার গোশত সম্বন্ধে আপনি কি বলেন? রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, আমি উহা খাই না, তবে হারামও বলি না।

[বুখারি ৫৫৩৬, মুসলিম ১৯৪৩]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৫: কুকুর [পালন] প্রসঙ্গ

১৭৪৯ বর্ণণাকারী হইতে বর্ণিতঃ

সুফিয়ান ইব্নু আবু যুহাইর {১} [রাদি.] মসজিদে নববীর দরজায় মানুষের নিকট হাদীস বয়ান করছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট শ্রবণ করেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি কুকুর পালে, [তার এই কুকুর পালন] খেত-খামার ও ছাগলের হিফাজতের জন্য না হয়, তা হলে তার নেক আমল হইতে প্রতিদিন এক কীরাত সমান কমতে থাকিবে। সুফিয়ানের নিকট হাদীসের রাবী সায়েব জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এই হাদীস রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট শ্রবণ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, এই মসজিদের পরওয়ারদিগারের কসম! আমি নিশ্চয়ই শ্রবণ করেছি।

[বুখারি ২৩২৩, মুসলিম ১৫৭৬]{১} তিনি আজদে সানুয়া গোত্রের লোক। রসূল সাঃআঃ-এর সাহাবীদের একজন।ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৫০ আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকার অথবা খেত-খামারের হিফাজতের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর [অনর্থক] পালন করে তবে তার নেক আমল হইতে প্রতিদিন দুই কীরাত সমান ক্ষতি হইবে [কমে যাবে]

[বুখারি ৫৪৮১, মুসলিম ১৫৭৪]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫১ আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন।\ [বুখারি ৩৩২৩, মুসলিম ৪০৯৯]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬: ছাগল [পালন] প্রসঙ্গ

১৭৫২ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, কুফরীর গোড়া হল পূর্বদিকে। মরুবাসী বেদুইন ঘোড়া ও উটওয়ালাদের মধ্যে অহঙ্কার আছে যাদের আওয়াজ বড় [কর্কশ]। আর নম্রতা ও শান্তি ছাগলওয়ালাদের মধ্যে আছে।

[বুখারি ৩৩০১, মুসলিম ৫২]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫৩ আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে কয়েকটি ছাগলই মুসলমানদের উত্তম মাল [বলে বিবেচিত] হইবে। তারা ফিতনা-ফাসাদ হইতে নিজেদের দ্বীন রক্ষা করার নিমিত্তে পর্বতের চুড়ায় চলে যাবে অথবা কোন উপত্যকায় গিয়ে আশ্রয় নিবে।

[সহীহ, বুখারি ১৯] ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫৪ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন যে, মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে তোমরা কোন পশুর দুধ দোহন করিবে না। তোমাদের কেউ ইহা পছন্দ করিবে কি, কেউ তার ঘরে প্রবেশ করে তার সিন্দুক ভেঙ্গে তার সম্পদ ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাবে? [অর্থাৎ কখনও পছন্দ করিবে না] পশুর [দুধের] উহার মালিকের খাবারের সিন্দুক [বা গোলা]। সুতরাং মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ কারো জানোয়ারের দুধ দোহন করিবে না।

[বুখারি ২৪৩৫, মুসলিম ১৭২৬]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, এমন কোন নবী নাই যিনি ছাগল চড়াননি। জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনিও কি [চড়িয়েছেন?] রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, [হ্যাঁ] আমিও [চড়িয়েছি]।

[সহীহ, বুখারি ২২৬২, আর ঈমাম মালিক এর নিকট হাদীসটি পৌঁছেছে মর্মে বর্ণনা করিয়াছেন]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৭: ঘীতে ইঁদুর পতিত হলে কি করা হইবে, নামাযের সময় খাবার এলে আগে খাবে

১৭৫৬ নাফি [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইব্নু উমার [রাদি.]-এর কাছে রাতের খাবার পেশ করা হত। তিনি তার ঘরে বসে ইমামের [ইশার নামাযের] কিরাত শ্রবণ করিতেন। কিন্তু যতক্ষণ তৃপ্ত হয়ে না খেতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত [নামাযের জন্য] তাড়াহুড়া করিতেন না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৫৭ নবী করীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সহধর্মিণী মায়মুনা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হল যে, ঘীতে ইঁদুর পতিত হলে কি করিতে হইবে? রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, উহা বাইরে ফেলে দাও এবং উহার আশেপাশের ঘীও ফেলে দাও।

{১} [সহীহ, বুখারি ৫৫৪০]{১} অবশিষ্ট ব্যবহার কর অর্থাৎ ঘী জমে থাকলে উহাতে যদি ইঁদুর পতিত হয় তবে ইঁদুর বের করে ফেলে দিবে এবং ইঁদুর যেখানে পতিত হয়েছিল উহার আশেপাশের ঘীও তুলে ফেলে দিতে হইবে। এইভাবে অবশিষ্ট ঘী ব্যবহারোপযোগী হয়। আর যদি ঘী তরল হয়, তবে সমস্ত ঘীই নষ্ট হয়ে যাবে এবং সমস্তই ফেলে দিতে হইবে।ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮: অশুভ হইতে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গ

১৭৫৮ সহল ইব্নু সাদ সায়েদী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, যদি অশুভ বলিতে কিছু হত, তবে ঘোড়া, স্ত্রীলোক ও ঘর [এই তিন বস্তু]-এ হইতে।

[বুখারি ২৫৮৯, মুসলিম ২২২৬]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫৯ আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, ঘর, স্ত্রীলোক ও ঘোড়া [অর্থাৎ এই তিন বস্তুতে] অশুভ বিষয় আছে।

[বুখারি ৫০৯৩, মুসলিম ২২২৫]রে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬০ ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! একটি ঘরে আমরা বাস করছিলাম। [পরিবারে] আমরা সংখ্যায় অধিক ছিলাম এবং মালও ছিল বিপুল। এখন জনসংখ্যা কমে গিয়েছে [অর্থাৎ অনেকেই মারা গিয়েছে] এবং মালও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, সেই ঘরকে তুমি ছেড়ে দাও উহা খারাপ। [হাসান, আবু দাঊদ ৩২৯৪, আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন,

{সিলসিলাহ সহীহা ৭৯০} ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৯: খারাপ নাম সম্পর্কীয় বয়ান

১৭৬১ ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাঈদ [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] একটি দুধেল উষ্ট্রীর দিকে ইশারা করে বলিলেন, এই উষ্ট্রীর দুধ কে দোহন করিবে? অতঃপর এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? লোকটি বলল, মুরবা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, তুমি বস। [তিনি লোকটির নাম খারাপ মনে করলেন। কারণ মুররা শব্দের অর্থ হল তিক্ত]। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আবার জিজ্ঞেস করলেন, কে দুধ দোহন করিবে? [অপর] এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হল। তখন রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? লোকটি বলল, হারব। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, তুমি বস। আবার বলিলেন, এই উষ্ট্রীর দুধ কে দোহন করিবে? [আর] এক ব্যক্তি দাঁড়াল। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? লোকটি বলল, ইয়াঈশ। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, যাও, দুধ দোহন কর। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৬২ ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? লোকটি বলল, জামরা [এর অর্থ আগুনের কয়লা বা অঙ্গার]। আবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পিতার নাম কি? লোকটি বলল, শিহাব [অগ্নিশিখা]। আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন্ গোত্রের? লোকটি বলল, হুরাকা গোত্রের [জ্বলন্ত]। আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় বাস কর? লোকটি বলল, হাররাতুন্নারে [দোযখের গরমে]। আবার জিজ্ঞেস করলেন, সেই স্থানটা কোথায়? লোকটি বলল, যাতে লাযা [লাযা নামক দোযখে]। উমার [রাদি.] বললেনঃ যাও, গিয়ে তোমার খবর নাও, তারা সকলেই জ্বলে গিয়েছে। লোকটি গিয়ে দেখল যে, সত্যই উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] যা বলেছেন, তাই হয়েছে [অর্থাৎ সকলেই জ্বলে গিয়েছে]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১০: সিঙ্গা লাগানো ও উহার পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে

১৭৬৩ আনাস ইব্নু মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আবু তায়েবার হাতে সিঙ্গা লাগিয়েছিলেন এবং তাকে [আবু তায়েবাকে] পারিশ্রমিকস্বরূপ এক সা আড়াই কেজী খেজুর দেবার জন্য বলেছিলেন এবং তার মালিকদেরকে তার কর {১} কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দান করলেন।

[সহীহ, বুখারি ২১০২]{১} সে দাস ছিল, তার মনিব তাকে দিয়ে নিজের কাজ করাত না। বরং তার নিকট হইতে প্রতিদিন নির্ধারিত হারে অর্থ গ্রহণ করত।ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৬৪ মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, যদি কোন ঔষধ সত্যই রোগ নিবারণে সক্ষম হত, তবে নিশ্চয়ই উহা হত “সিঙ্গা”। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৬৫ ইব্নু মুহাইয়েসা আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কাছে হাজ্জামের [যে সিঙ্গা লাগানোর কাজ করে তার] পারিশ্রমিক নিজের খরচের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি চাইলেন? অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] উহা নিষেধ করলেন। ইব্নু মুহাইয়েসা অব্যাহত ভাবে অনুমতি চাইতে থাকলেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, তার [আবু তায়েবার] আয় তুমি তোমার উটের ও গোলাম-দাসীর খোরাকে খরচ কর।

[সহীহ, তিরমিজি ১২৭৭, ইবনি মাজাহ ২১৬৬, তিনি ইবনি মুহায়ইছাহ তার পিতা থেকে মুত্তাসিল সনদ বর্ণনা করেন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন {সিলসিলা সহীহা ৪০০০} তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীটি মুরসাল]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১১: পূর্বদিক প্রসঙ্গ

১৭৬৬ আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে বলছিলেন, ফিৎনা এইদিকে, ফিৎনা এইদিকে যেই দিকে শয়তানের শিং বাহির হয়।

[বুখারি ৩২৭৯, মুসলিম ২৯০৫]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬৭ মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] ইরাক গমন করিতে ইচ্ছা করলেন। আহবার তাহাকে বলিলেন, ইয়া আমীরুল মুমিনীন! আপনি সেই দিকে গমন করিবেন না। কারণ সেই দেশে নয়-দশমাংশ যাদু আছে, সেখানে দুষ্ট প্রকৃতির জ্বিন আছে এবং সেখানে এক প্রকারের [মারাত্মক] রোগ আছে যার কোন চিকিৎসা [ঔষধ] নেই। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১২: সর্প মেরে ফেলা সম্পর্কিত মাসাইল

১৭৬৮ আবু লুবাবা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যে সমস্ত সর্প ঘরে বাস করে উহাদেরকে মারতে [হত্যা করিতে] নিষেধ করিয়াছেন।

{১} [বুখারি ৪০১৭, মুসলিম ২২৩৩]{১} প্রথমে দেখাতেই মেরে ফেলা উচিত নয়, বরং তিনবার তাকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিবে। তারপরও না গেলে মেরে ফেলা চাই। তাকে চলে যেতে এইজন্য নির্দেশ দিবে যে, অনেক সময় জ্বিন জাতিও সাপের আকার ধারণ করে। অবশ্য কেউ কেউ একে মদীনার সাপের ব্যাপারে বলেছেন।ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬৯ আয়িশা [রাদি.] কর্তৃক আযাদকৃত বাঁদী সায়েবা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সেই সমস্ত সর্পকে মারতে নিষেধ করিয়াছেন, যা ঘরে বাস করে। তবে যুত্তুফয়াতাইন ও আবতর জাতীয় সর্প মারতে নিষেধ করেননি। কেননা এই দুই প্রকার সর্প চক্ষু নষ্ট করে এবং মহিলাদের গর্ভ নষ্ট করে।

{১} [বুখারি ৩৩০৮, মুসলিম ২২৩২, তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]{১} “যুত্তুফয়াতাইন” ঐ সাপকে বলা হয়, যার পেটে দুইটি লম্বা সাদা দাগ আছে যা মাথা হইতে লেজ পর্যন্ত লম্বা। “আবতর” লেজকাটা সাপকে বলা হয় এবং ঐ সমস্ত সাপকেও আবতর বলা হয়, যা আকারে খাট। ইহা অত্যন্ত বিষাক্ত হয়। এই সমস্ত সাপের শ্বাস-প্রশ্বাসেও বিষ আছে, দেখলে মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং গর্ভবতী দেখলে গর্ভও নষ্ট হয়ে যায়। এইজন্য এই সমস্ত সাপকে হত্যা করা ব্যতীত গত্যন্তর নেই। ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৭০ হিশামের আযাদকৃত গোলাম আবু সায়েব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.]-এর কাছে গেলাম। তিনি নামাজ পড়তেছিলেন। আমি তাঁর নামাজ হইতে অবসর হবার অপেক্ষায় বসে রইলাম। তিনি যখন নামাজ শেষ করলেন তখন আমি তাঁর ঘরের চৌকির নিচে কোন কিছুর নড়াচড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, উহা একটি সাপ। আমি উহাকে মারতে উদ্যত হলাম। আবু সাঈদ [রাদি.] আমাকে ইশারা করলেন যে বস [অর্থাৎ মেরো না]। অতঃপর তিনি [আমার দিকে] ফিরে ঘরের একটি কামরার দিকে ইশারা করে বলিলেন ঐ ঘরটি দেখছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, সেই ঘরে জনৈক যুবক বাস করত, নতুন বিবাহ করেছিল। সে রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সঙ্গে খন্দকের যুদ্ধে গমন করেছিল। এর পর হঠাৎ এক সময় সে রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে একটু অনুমতি দান করুন, আমি আমার পরিবারের সঙ্গে একটু কথা বলে আসি। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে অনুমতি দান করলেন এবং বলিলেন, যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে রাখ। কেননা বনু কুরায়যার আশঙ্কা রয়েছে [বনু কুরায়যা সেই ইহুদী গোত্র, যারা খন্দকের যুদ্ধের সময় ওয়াদা ভঙ্গ করে মক্কাবাসীদের সঙ্গে মিলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল]। যুবকটি অস্ত্রসহ রওয়ানা হয়ে গেল। ঘরে পৌঁছে সে তার স্ত্রীকে ঘরের দুই দরজার মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়ানো দেখিতে পেল। স্ত্রীকে এই অবস্থায় দেখে সে রাগান্বিত হল এবং বর্শা দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করিতে উদ্যত হল। স্ত্রী বলল, [আমাকে মারতে এত] তাড়াহুড়া করো না, বরং আগে ঘরের ভিতরে যেয়ে দেখ। অতঃপর সে ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখল যে, কুগুলী পাকিয়ে একটি সাপ তার বিছানায় শুয়ে আছে। সে বর্শা দিয়ে সাপটিকে গেঁথে ফেলল এবং বর্শাসহ বাহিরে এসে উহা বাড়ীর মধ্যেই দাঁড় করিয়ে রাখল। সাপটি বর্শার ফলায় পেঁচাচ্ছিল, আর তখনই যুবকটি মারা গেল। তবে ইহা জানা যায়নি যে, যুবকটি আগে মারা গেল, না সাপটি? রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট উক্ত ঘটনা বিবৃত করা হলে পরে তিনি বলিলেন, মদীনায় জ্বিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতএব তোমরা যদি সাপ দেখ তবে তিনদিন পর্যন্ত তাকে সতর্ক কর। তারপরেও যদি তাকে দেখ, তবে তাকে হত্যা কর। কেননা সে শয়তান।

[সহীহ, মুসলিম ২২৩৬]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১৩: সফরের দুআ প্রসঙ্গ

১৭৭১ মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সফরের উদ্দেশ্যে রেকাবে পা রাখার প্রাক্কালে এই দুআ করিতেন

بِاسْمِ اللهِ اللهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اللهُمَّ ازْوِ لَنَا الْأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَمِنْ كَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَمِنْ سُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ

আমি আল্লাহর নামে সফর শুরু করিতেছি। হে আল্লাহ্! আমার সফরের সাথী আমার পরিবারের জন্য আমার স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! আমার গন্তব্যস্থল নিকটে করে দাও, আমার সফর সহজ করে দাও। হে আল্লাহ! আমি সফরের কষ্ট এবং সফর হইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরবার এবং মাল ও পরিবারের অনিষ্ট হইতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [সহীহ, মুসলিম ১৩৪২, তিনি ইবনি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি তার নিকট পৌঁছেছে মর্মে বর্ণনা করিয়াছেন।]

৩৫و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ الثِّقَةِ عِنْدَهُ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ خَوْلَةَ بِنْت

حَكِيمٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ فَإِنَّهُ لَنْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ

খাওলা বিনতে হাকীম [রাদি.] হইতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, যদি কোন মুসাফির কোন স্থানে অবতরণ করে তবে সে যেন এই দুআ পাঠ করে

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

[আমি সৃষ্টির আনিষ্ট হইতে আল্লাহ্‌র পূর্ণ কলেমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি] তা হলে সেখান হইতে প্রস্থান করা পর্যন্ত কোন কিছুই তার অনিষ্ট করিতে পারবে না।

[সহীহ, মুসলিম ২৭০৮]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১৪: নারী ও পুরুষের জন্য একা সফর করার নিষেধাজ্ঞা

১৭৭২ আমর ইব্নু শুআইব তার পিতার সূত্রে তার দাদা হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, একা সফরকারী শয়তান, দুইজন একত্রে সফরকারীর দুইজনই শয়তান আর তিনজন হল একটি সফরকারী দল।

[হাসান, আবু দাঊদ ২৬০৭, তিরমিজি ১৬৭৪, আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন {সিলসিলা সহীহা ৬২}]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১৭৭৩ সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, শয়তান একজন কিংবা দুইজনকে ক্ষতি করবার ইচ্ছা করে। তিনজন হলে ইচ্ছা করে না [কারণ তিনজন হলে জমাআত হয়, আর কোন জমাআতে সে ক্ষতি করিতে পারে না]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৭৪ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, যেই স্ত্রীলোক আল্লাহ্ ও শেষ বিচারের দিনের প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে, তার জন্য মাহরাম {১} ব্যতীত একাকী একদিন ও একরাতের দূরত্ব পরিমাণ সফর করা হালাল নয়

[বুখারি ১০৮৮, মুসলিম ১৩৩৯]{১} যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম এমন ব্যক্তিদেরকে মাহরাম বলা হয়।ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ ১৫ – সফরের আহকাম

১৭৭৫ খালিদ ইব্নু মাদান [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, আল্লাহ্ তাআলা বিনম্র, তিনি নম্রতা পছন্দ করেন, নম্রতায় আনন্দিত হন এবং নম্রতায় সাহায্য করেন, যা কঠোরতায় করেন না। যখন তোমরা এই সব বাকশক্তিহীন সওয়ারীর উপর আরোহণ কর, তখন উহাকে সাধারণ মঞ্জিলে নামাও [অর্থাৎ স্বাভাবিক দূরত্বের অধিক চালিয়ে উহাকে অধিক কষ্ট দিও না]। যেখানে বিশ্রাম করিবে, সেখানকার জায়গা যদি পরিষ্কার হয় এবং ঘাস না থাকে তবে শীঘ্রই সেখান হইতে উহাকে বাহির করে নিয়ে যাও নতুবা উহার হাড় শুকিয়ে যাবে। [অর্থাৎ ঘাসপাতাহীন জায়গায় বিলম্ব করলে উহারা না খেয়ে শুকিয়ে যাবে। ফলে হাঁটতে পারবে না]। আর তোমাদের জন্য রাত্রে ভ্রমণ করাই উচিত। কারণ রাত্রে যেই পরিমাণ পথ অতিক্রম করা যায় দিনে তা হয় না। রাত্রে যদি কোন স্থানে অবস্থান কর, তবে পথে অবস্থান করো না। কেননা সেখানে জীবজন্তু চলাফেরা করে এবং সাপ বাস করে।

[হাদীসের শেষাংশ ঈমাম মুসলিম আবু হুরায়রা [রাদি.] থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন ১৯২৬]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৭৬ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, সফর হল আযাবের এক অংশ। ইহা মানুষকে পানাহার ও নিদ্রায় বাধা দান করে। তোমাদের কেউ যদি কোন প্রয়োজনে সফরে গমন করে, তবে কাজ হয়ে গেলেই যেন সে পরিবারের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

[বুখারি ১৮০৪, মুসলিম ১৯২৭]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৬: দাসদাসীর সহিত নম্র ব্যবহার প্রসঙ্গ

১৭৭৭ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, দাসদাসীকে ঠিকমত খাদ্য ও পোশাক দিতে হইবে। তা দ্বারা এমন কোন কাজ নেয়া যবে না, যা ক্ষমতাবহির্ভূত [অর্থাৎ তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ সে করিবে, সাধ্যাতীত কাজ দেয়া বৈধ নয়]।

[সহীহ, মুসলিম ১৬৬২]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৭৮ মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] প্রতি শনিবারে মদীনার পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে গমন করিতেন [এবং বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ইত্যাদি অনুসন্ধান করিতেন]। যদি কোন গোলামকে এমন কাজ করিতে দেখিতেন যা তার শক্তির বাইরে হত, তবে তিনি উহা কম করে দিতেন [অর্থাৎ কাজ কমিয়ে গোলামের বোঝা হালকা করে দিতেন]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৭৭৯ মালিক ইব্নু আবী আমির আসবাহী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উসমান ইব্নু আফফান [রাদি.]-এর নিকট হইতে শ্রবণ করিয়াছেন, তিনি খুৎবায় বলেছেন, যেই সমস্ত দাসী হস্তশিল্পী নয়, তাদেরকে আয়-রোজগারে বাধ্য করো না। কেননা তোমরা তাদেরকে রোজগার করিতে বাধ্য করলে তারা হারাম পদ্ধতিতে যিনার মাধ্যমে রোজগার করিবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক গোলামদেরকেও রোজগারের জন্য বাধ্য করো না। কেননা তোমরা তাদেরকে রোজগার করিতে বাধ্য করলে তারা বাধ্য হয়ে চুরি করিবে। আল্লাহ্ যখন তোমাদেরকে ঠিকমত রুজি দান করছেন, তখন তোমরাও তাদের মাফ করে দাও, যেমন আল্লাহ্ তোমাদের মাফ করিয়াছেন। তোমাদের উচিত যা হালাল [পাক] তাই গ্রহণ করা। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ১৭ – দাসদাসী ও তাদের দান করা প্রসঙ্গ

১৭৮০ nআবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, গোলাম যদি তার মালিকের মঙ্গল কামনা করে এবং রীতিমত আল্লাহ্‌র ইবাদত করে, তবে তার দ্বিগুণ সাওয়াব হইবে।

[বুখারি ২৫৪৬, মুসলিম ১৬৬৪]ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৮১ মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.]-এর একজন দাসী ছিল। সে নিজে আযাদ মহিলাদের মতো সেজেছিল। উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] তাকে আযাদ মহিলার মতো সাজতে দেখে তাঁর কন্যা [উম্মুল মুমিনীন] হাফসা [রাদি.]-এর নিকট যেয়ে বলিলেন, আমি তোমার ভ্রাতার দাসীকে দেখলাম যে, সে আযাদ মহিলাদের মতো সাজসজ্জা করে লোকজনের মধ্যে চলাফেরা করছে। উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] একে খারাপ মনে করিয়াছেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ঘরে প্রবেশের সুন্নত -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

By মুয়াত্তা মালিক

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply