গোয়েন্দাগিরি , নিঃসঙ্গ ভ্রমণ, ঙ্খলিত কয়েদী প্রসঙ্গে

গোয়েন্দাগিরি , নিঃসঙ্গ ভ্রমণ, ঙ্খলিত কয়েদী প্রসঙ্গে

গোয়েন্দাগিরি , নিঃসঙ্গ ভ্রমণ, ঙ্খলিত কয়েদী প্রসঙ্গে >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৫৬, জিহাদ, অধ্যায়ঃ (১৩৫-১৪৫)=১১টি

৫৬/১৩৫. অধ্যায়ঃ নিঃসঙ্গ ভ্রমণ
৫৬/১৩৬. অধ্যায়ঃ ভ্রমনে ত্বরা করা।
৫৬/১৩৭. অধ্যায়ঃ আরোহণের জন্য ঘোড়া দান করতঃ তা বিক্রয় হইতে দেখলে
৫৬/১৩৮. অধ্যায়ঃ পিতামাতার অনুমতি ক্রমে জিহাদে গমন।
৫৬/১৩৯. অধ্যায়ঃ উটের গলায় ঘণ্টা বা তদ্রূপ কিছু বাঁধার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে।
৫৬/১৪০. অধ্যায়ঃ সেনাবাহিনীতে তালিকাভুক্ত হলো, অতঃপর তার স্ত্রী হাজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলো, অথবা তার কোন ওযর আছে সে ব্যাক্তির জন্য জিহাদ করার অনুমতি আছে কি?
৫৬/১৪১. অধ্যায়ঃ গোয়েন্দাগিরি প্রসঙ্গে
৫৬/১৪২. অধ্যায়ঃ বন্দীদেরকে পরিচ্ছদ দান প্রসঙ্গে।
৫৬/১৪৩. অধ্যায়ঃ সেই ব্যক্তির ফযীলত যার মাধ্যমে কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছে।
৫৬/১৪৪. অধ্যায়ঃ শৃঙ্খলিত কয়েদী।
৫৬/১৪৫. অধ্যায়ঃ আহলে কিতাবদ্বয়ের মধ্য হইতে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার ফযীলত।

৫৬/১৩৫. অধ্যায়ঃ নিঃসঙ্গ ভ্রমণ

২৯৯৭

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) খন্দকের যুদ্ধের দিন লোকদেরকে ডাক দিলেন। যুবাইর (রাদি.) সে ডাকে সাড়া দিলেন, পুনরায় তিনি লোকদেরকে ডাক দিলেন, আবারও যুবাইর (রাদি.) সে ডাকে সাড়া দিলেন। পুনরায় তিনি লোকদেরকে ডাকলেন, আবারও যুবাইর (রাদি.) সে ডাকে সাড়া দিলেন। নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, প্রত্যেক নাবীর জন্য একজন বিশেষ সাহায্যকারী থাকে আর আমার বিশেষ সাহায্যকারী হচ্ছে যুবাইর। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, হাওয়ারী সাহায্যকারী কে বলা হয়।

২৯৯৮

ইবনু উমর (রাদি.) সুত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যদি লোকেরা একা সফরে কী ক্ষতি আছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোন আরোহী রাতে একাকী সফর করত না।

৫৬/১৩৬. অধ্যায়ঃ ভ্রমনে ত্বরা করা।

আবু হুমাইদ (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, আমি দ্রুত মদীনাহয় পৌঁছতে চাই, কাজেই যে ব্যাক্তি আমার সঙ্গে জলদি যেতে চায় সে যেন জলদি চলে।

২৯৯৯

হিশাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করিয়াছেন যে, উসামা ইবনু যায়দ (রাদি.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, বিদায় হজ্জে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কেমন গতিতে পথ চলেছিলেন। রাবী ইয়াহয়া (রাদি.) বলিতেন, উরওইয়াহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, “আমি শুনতেছিলাম, তবে আমার বর্ণনায় তা ছুটে গেছে। উসামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) সহজ দ্রুতগতিতে চলতেন আর যখন প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা পেতেন, তখন দ্রুত চলতেন। নাস হচ্ছে সহজ গতির চেয়ে দ্রুততর চলা।

৩০০০

আসলাম (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি মক্কার পথে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদি.)-এর সঙ্গে ছিলাম। পথে তাহাঁর নিকট সাফিয়্যাহ বিনতু আবু উবাইদ (রাদি.)- এর ভীষণ অসুস্থতার সংবাদ পৌঁছে। তখন তিনি দ্রুতগতিতে চলতে থাকেন। এমনকি যখন সূর্যাস্তের পরে লালিমা কেটে গেল, তখন তিনি উট থেকে নেমে মাগরিব ও এশা সালাত একত্রে আদায় করেন। আর আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদি.) বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-কে দেখেছি, যখন তাহাঁর দ্রুত গতিতে চলার প্রয়োজন দেখা দিত, তখন তিনি মাগরিবকে বিলম্বিত করে মাগরিব ও এশার উভয় সালাত একত্রে আদায় করিতেন।

৩০০১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, সফর আযাবের একটি অংশ। যা তোমাদেরকে নিদ্রা, আহার ও পান থেকে বিরত রাখে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন নিজের কাজ সেরে তাহাঁর পরিজনের নিকট দ্রুত চলে আসে।

৫৬/১৩৭. অধ্যায়ঃ আরোহণের জন্য ঘোড়া দান করতঃ তা বিক্রয় হইতে দেখলে

৩০০২

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উমর ইবনু খাত্তাব (রাদি.) আল্লাহর রাহে আরোহণের জন্য একটি ঘোড়া দান করেন। অতঃপর তিনি সে ঘোড়াটিকে বিক্রি হইতে দেখিতে পান। তিনি তা কিনে নিতে ইচ্ছা করিলেন এবং আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করিলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, তুমি ওটা কিনিও না এবং তোমার দেয়া সদকা ফেরত নিও না।

৩০০৩

উমর ইবনু খাত্তাব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাহে একটি ঘোড়া দান করি। সে ওটা বিক্রি করিতে চেয়েছিল কিংবা যার নিকট সেটা ছিল সে তাকে বিনষ্ট করার উপক্রম করেছিল। আমি ঘোড়াটি কেনার ইচ্ছা করলাম। আর আমি ধারণা করেছিলাম যে, সে তাকে সস্তায় বিক্রি করে দিবে। আমি এ বিষয়ে নাবী (সাঃআঃ)- এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বলিলেন, তুমি ওটা ক্রয় কর না, যদিও তা একটি মাত্র দিরহামের বিনিময়ে হয়। কেননা সদকা করার পর ফেরত গ্রহণকারী এমন কুকুরের মত, যে বমি করে আবার তা ভক্ষণ করে।

৫৬/১৩৮. অধ্যায়ঃ পিতামাতার অনুমতি ক্রমে জিহাদে গমন।

৩০০৪

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে জিহাদে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করিল। তখন তিনি বলিলেন, তোমার পিতামাতা জীবিত আছেন কি? সে বলিল, হ্যাঁ। নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তবে তাঁদের খিদমাতের চেষ্টা কর।

৫৬/১৩৯. অধ্যায়ঃ উটের গলায় ঘণ্টা বা তদ্রূপ কিছু বাঁধার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে।

৩০০৫

আবু বাশীর আল-আনসারী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সফরে তিনি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। রাবী আবদুল্লাহ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (আবু বাশীর আনসারী) বলেছেন যে, মানুষ শয্যায় ছিল। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) একজন সংবাদ বহনকারী পাঠালেন যে, কোন উটের গলায় যেন ধনুকের রশির মালা কিংবা মালা না ঝুলে, আর ঝুললে তা যেন কেটে ফেলা হয়। [১]

[১] জাহেলী যুগে কুসংস্কারের কারণে উটের গলায় মালা লটকানো হতো যাতে উট বদ নজর থেকে রক্ষা পায়। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) এই ভ্রান্ত ধারণা ও রসম উৎখাতের ব্যবস্থা করেন।

৫৬/১৪০. অধ্যায়ঃ সেনাবাহিনীতে তালিকাভুক্ত হলো, অতঃপর তার স্ত্রী হাজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলো, অথবা তার কোন ওযর আছে সে ব্যাক্তির জন্য জিহাদ করার অনুমতি আছে কি?

৩০০৬

ইবনু আব্বাস (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন পুরুষ যেন অপর মহিলার সঙ্গে নিভৃতে অবস্থান না করে, কোন স্ত্রীলোক যেন কোন মাহরাম সঙ্গী ছাড়া সফর না করে। এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! অমুক যুদ্ধের জন্য আমার নাম লেখা হয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্জযাত্রী। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, তবে যাও তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।

৫৬/১৪১. অধ্যায়ঃ গোয়েন্দাগিরি প্রসঙ্গে

আর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। (মুমতাহিনাহ ১) —— অর্থ হচ্ছে খোঁজ-খবর নেয়া।

৩০০৭

আলী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) আমাকে এবং যুবায়র ও মিকদাদ ইবনু আসওয়াদ (রাদি.)-কে পাঠিয়ে বলিলেন, তোমরা খাখ্ বাগানে যাও। সেখানে তোমরা এক মহিলাকে দেখিতে পাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে, তোমরা তার কাছ থেকে তা নিয়ে আসবে। তখন আমরা রওনা দিলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদের নিয়ে দ্রুত বেগে চলছিল। অবশেষে আমরা উক্ত খাখ্ নামক বাগানে পৌঁছে গেলাম এবং সেখানে আমরা মহিলাটিকে দেখিতে পেলাম। আমরা বললাম, পত্র বাহির কর। সে বলিল, আমার নিকট তো কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তুমি অবশ্যই পত্র বের করে দিবে, নচেৎ তোমার কাপড় খুলতে হইবে। তখন সে তার চুলের খোঁপা থেকে পত্রটি বের করে দিল। আমরা তখন সে পত্রটি নিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর নিকট হাজির হলাম। দেখা গেল, তা হাতিব ইবনু বালতাআ (রাদি.)-এর পক্ষ থেকে মক্কার কয়েকজন মুশরিকের প্রতি লেখা হয়েছে। যাতে তাদেরকে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর কোন পদক্ষেপ সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, হে হাতিব! একি ব্যাপার? তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার ব্যাপারে কোন তড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আসলে আমি কুরাইশ বংশোদ্ভুত নই। তবে তাদের সঙ্গে মিশে ছিলাম। আর যারা আপনার সঙ্গে মুজাহিরগণ রয়েছেন, তাদের সকলেরই মক্কাবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে তাঁদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপদ। তাই আমি চেয়েছি, যেহেতু আমার বংশগতভাবে এ সম্পর্ক নেই, কাজেই আমি তাদের প্রতি এমন কিছু অনুগ্রহ দেখাই, যদ্দারা অন্তত তারা আমার আপন জনদের রক্ষা করিবে। আর আমি তা কুফরী কিংবা মুরতাদ হবার উদ্দেশ্যে করিনি এবং কুফরীর প্রতি আকৃষ্ট হবার কারণেও নয়। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, হাতিব তোমাদের নিকট সত্য কথা বলছে। তখন উমর (রাদি.) বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তোমার হয়ত জানা নেই, আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের ব্যাপারে অবহিত আছেন। তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা যা ইচ্ছা আমল কর। আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন এ সনদটি খুবই উত্তম।

৫৬/১৪২. অধ্যায়ঃ বন্দীদেরকে পরিচ্ছদ দান প্রসঙ্গে।

৩০০৮

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন বদর যুদ্ধের দিন কাফির বন্দীদেরকে হাযির করা হল এবং আব্বাস (রাদি.)-কেও আনা হল তখন তাহাঁর শরীরে পোশাক ছিল না। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর শরীরের জন্য উপযোগী জামা খুঁজতে গিয়ে দেখিতে পেলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর জামা তাহাঁর গায়ের উপযুক্ত। নাবী (সাঃআঃ) সে জামাটি তাঁকেই পরিয়ে দিলেন। এ কারণেই নাবী (সাঃআঃ) নিজের জামা খুলে আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে (মৃত্যুর পর) পরিয়ে দিয়েছিলেন। ইবনু উয়াইনাহ (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর প্রতি আবদুল্লাহ ইবনু উবাই-এর এটি সৌজন্য ছিল, তাই তিনি তার প্রতিদান দিতে চেয়েছিলেন।

৫৬/১৪৩. অধ্যায়ঃ সেই ব্যক্তির ফযীলত যার মাধ্যমে কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছে।

৩০০৯

সাহল (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) খায়বার যুদ্ধের দিন বলেন, আগামীকাল আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে পাতাকা দিব, যার হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় দিবেন। সে আল্লাহ তাআলা ও তাহাঁর রাসুল (সাঃআঃ)-কে ভালবাসে, আর আল্লাহ তাআলা ও তাহাঁর রাসুল (সাঃআঃ) ও তাকে ভালবাসেন। লোকেরা সারা রাত কাটিয়ে দেয় যে, কাকে এ পতাকা দেয়া হয়? আর পরদিন সকালে প্রত্যেকেই সেটা পাবার আকাঙ্খা পোষণ করে। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, আলী কোথায়? বলা হল, তাহাঁর চোখে অসুখ। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর চোখে আপন মুখের লালা লাগিয়ে দিলেন এবং তাহাঁর জন্য দুআ করিলেন। তাতে তিনি আরোগ্য লাভ করিলেন। যেন তাহাঁর চোখে কোন অসুবিধাই ছিল না। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর হাতে পতাকা দিলেন। আলী (রাদি.) জিজ্ঞেস করিলেন, আমি তাদের সঙ্গে ততক্ষণ যুদ্ধ চালিয়ে যাব যতক্ষণ না তারা আমাদের মত হয়ে যায়। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলিলেন, তুমি স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গিয়ে তাদের আঙিনায় অবতরণ কর। অতঃপর তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান কর এবং ইসলাম গ্রহণ করার পর তাদের জন্য যা আবশ্যকীয় তা তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাআলা যদি তোমার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য রক্তিম বর্ণের উট পাওয়ার চেয়ে উত্তম।

৫৬/১৪৪. অধ্যায়ঃ শৃঙ্খলিত কয়েদী।

৩০১০

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সে সকল লোকের উপর সন্তুষ্ট হন, যারা শৃঙ্খলিত অবস্থায় জান্নাতে দাখিল হইবে।

৫৬/১৪৫. অধ্যায়ঃ আহলে কিতাবদ্বয়ের মধ্য হইতে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার ফযীলত।

৩০১১

আবু বুরদাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, তিন প্রকার লোককে দ্বিগুণ নেকী দান করা হইবে। যে ব্যক্তির একটি বাঁদী আছে, সে তাকে শিক্ষা দান করে, উত্তমরূপে শিক্ষা দান করে, আদব শিক্ষা দেয় এবং তাকে উত্তমরূপে শিষ্টাচার শিক্ষাদান করে। অতঃপর তাকে আযাদ করে দিয়ে তাকে বিবাহ করে। সে ব্যক্তির জন্য দ্বিগুন নেকী রয়েছে। আর আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে মুমিন ব্যক্তি যে তার নাবীর প্রতি ঈমান এনেছিল। অতঃপর নাবী (সাঃআঃ)-এর প্রতি ঈমান এনেছে। তার জন্য দ্বিগুণ নেকী রয়েছে। আর যে গোলাম আল্লাহর হক যথাযথভাবে আদায় করে এবং নিজ মনিবের দেয়া দায়িত্বও সঠিকরূপে পালন করে, (তার জন্যও দ্বিগুণ নেকী রয়েছে) শাবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এ হাদীসটি বর্ণনা করে সালেহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি তোমাকে এ হাদীসটি কোন বিনিময় ব্যতীতই শুনিয়েছি। অথচ এর চেয়ে সহজ হাদীস শোনার জন্য লোকেরা মদীনা পর্যন্ত সফর করিতেন।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply