গোসল ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির [জুনুবী] হুকুম

গোসল ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির [জুনুবী] হুকুম

 গোসল ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির [জুনুবী] হুকুম >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় -৮ঃ গোসল ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির [জুনুবী] হুকুম

পরিচ্ছেদ ৮৭. বীর্য নির্গত না হলে গোসল ফরয হয় না

১০৮- আবূ সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্রাহর রসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, “পানি নির্গত [শুক্রপাত] হলেই পানির ব্যবহার অবধারিত বা ফরয।” {১২৭} এর মূল বক্তব্য বুখারীতে রয়েছে। {১২৮}

{১২৭} মুসলিম ৩৪৩] আবূ সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি রোববার দিবস রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে কুবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। চলতে চলতে আমরা যখন বানী সালেমে পৌঁছে তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উতবান [রাঃআঃ] এর দরজায় অবতরণ করিলেন। এতে উতবান লুঙ্গি টানতে টানতে বাইরে বের হয়ে এলেন। তা দেখে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, ব্যক্তিটি আমাদের জন্য তাড়াহুড়া করছে। তখন উতবান [রাঃআঃ] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ], কোন ব্যক্তি আযল করিল অথচ মণি বের হয়নি তবে এর বিধান কী?

{১২৮} বুখারী ১৮০, হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৮৮. সহবাসের পর গোসল করা আবশ্যক

১০৯- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] বলেছেন,`তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর চার শাখার [অঙ্গের] মধ্যে বসবে [সঙ্গমে লিপ্ত হইবে] তখন তার পক্ষে গোসল ফরয হইবে।’ {১২৯} মুসলিম এ কথাটি বর্ধিত করিয়াছেনঃ “যদিও শুক্রপাত না হয়।” {১৩০}

{১২৯} বুখারী ২৯১; মুসলিম ৩৪৮, {১৩০} এ হাদিসটিও সহিহ, হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৮৯. স্ত্রীর বীর্য বা মনী বের হলে গোসল করা আবশ্যক

১১০ – উম্মু সালামাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

আবূ তালহাহ এর স্ত্রী উ্ম্মু সুলাইম বলেন, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আল্লাহ হক কথা বলিতে লজ্জাবোধ করেন না, নারীর উপরও কি গোসল ফরজ হইবে যদি তার ইহতিলাম [স্বপ্নদোষ] হয়ে থাকে। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, হ্যাঁ, যদি সে পানি [কাপড়ে বা দেহে বীর্যের চিহ্ন] দেখে।

{১৩১} বুখারী ২৮২; মুসলিম ৩১৩। মুসলিম এতে বৃদ্ধি করিয়াছেনঃ [আরবী] অতঃপর উম্মু সালামাহ [রাঃআঃ] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] মেয়েদেরও স্বপ্নদোষ হয়? তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমার হাত ধুলায় ধূষরিত হোক! তবে কিসে সন্তান সদৃশ হয়? অন্য এক বর্ণনায় আরো বৃদ্ধি করিয়াছেন, তা হচ্ছেঃ [আরবী] উম্মু সালামাহ বলেনঃ আমি বললাম, আর মহিলারা হেসে ফেললো।

১১১- আনাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] বলেন, মেয়েরাও যদি স্বপ্নে [যৌন মিলন] দেখে যা পুরুষরা দেখে থাকে তাহলে তার সম্বন্ধে বলেছেন, [শুক্রের চিহ্ন দেখিতে পেলে] “তাকে গোসল করিতে হইবে।” [মুত্তাফাকুন আলাইহ] {১৩২} মুসলিমে অতিরিক্ত আছেঃ “অতঃপর উম্মু সালামাহ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিলেন,`এটা কি হয়! [অর্থাৎ স্বপ্নে কি মেয়েদের বীর্য নির্গত হয়?’ তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন,`হ্যাঁ, হয়। নচেৎ সন্তান কিভাবে [মেয়েদের] সাদৃশ্য হয়ে থাকে?’ {১৩৩}

{১৩২} ইবনু হাজার আসকালানী ভুল বশতঃ মুত্তাফাকুন আলাইহি বলেছেন। কেননা এ হাদিসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেননি। {১৩৩} মুসলিম ৩১১ হাদিসটির পূরোটাই বর্ণনা করিয়াছেন। তা হচ্ছে- আনাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ নবী [সাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করিলেন, কোন মহিলা যদি স্বপ্নে পুরুষেরা যেরকম দেখে থাকে সেরকম দেখে তাহলে কী করিবে? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, কোন নারী যদি এরকম কিছু দেখে তবে সে গোসল করিবে। অতঃপর উম্মু সুলাইম বলেন, আমি এ কথায় লজ্জা পেয়ে গেলাম। রাবী বলেন, উম্মু সুলাইম বলিলেন, এটা কি করে সম্ভব? নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, অবশ্যই সম্ভব। তাহলে সন্তান-সন্ততি পিতামাতার সদৃশ হয়ে থাকে কোত্থেকে? পুরুষের বীর্য গাঢ় এবং সাদা এবং নারীর বীর্য হালকা এবং হলদে বর্ণের। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে যার বীর্য শক্তিশালী হয় বা পূর্বে জরায়ুতে প্রবেশ করে সন্তান তার সদৃশ হয়ে থাকে। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৯০. মৃতকে গোসল দিলে গোসল করার বিধান

১১২ – আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] চারটি কারণে গোসল করিতেন। জুনুবী [সঙ্গমের ফলে অপবিত্র] হলে, জুমু‘আহর দিবসে, সিঙ্গা লাগালে ও মৃতকে গোসল দিলে।’ আবূ দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ একে সহিহ বলেছেন। {১৩৪}

{১৩৪} জঈফ। আবূ দাউদ ৩৪৮; ইবনু খুযাইমাহ ২৫৬; আব্দুর রহমান মুবারাকপুরী তুহফাতুল আহওয়াযী [৩/৪২৯] গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম সানয়ানী সুবুলুস সালাম [১/৩৩৩] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুসয়াব বিন শাইবাহ রয়েছে যিনি বিতর্কিত। শায়খ আলবানী জঈফ আবূ দাউদ ৩৪৮, সুনান আবূ দাউদ ৩১৬০ গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাহাঁর আওনুল মা‘বূদ [৮/২৪৩] গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী আত-তালখীসুল হাবীর [২/৫৮৭] গ্রন্থে এর শাহেদ থাকার কথা উল্লেখ করিয়াছেন। শায়খ আলবানী তাখরিজ মিশকাতুল মাসাবীহ [৫১৬] গ্রন্থে এর সনদ সম্পর্কে বলেন, এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ৯১. ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করার বিধান

১১৩- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

সুমামাহ বিন উসাল [রাঃআঃ] -এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে, নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে ইসলাম আনয়নের সময় গোসল দেয়ার আদেশ করেছিলেন।’ আবদুর রাযযাক {১৩৫} এর মূল বক্তব্য বুখারী ও মুসলিমে আছে। {১৩৬}

{১৩৫} মুসান্নিফ আব্দুর রাজ্জাক [৬/৯-১০/৯৮৩৪]। তাতে আছে, [আরবী] তাকে গোসল করার নির্দেশ করিলেন। ফলে সে গোসল করলো। {১৩৬} বুখারী। ৪৩৭২; মুসলিম ১৭৬৪ এ টিও আবূ হুরাইরা হতে বর্ণিত। তাতে আছে-[আরবী] ফলে তিনি তথা সুমামাহ মসজিদের নিকটবর্তী কোন খেজুর বাগানে গেলেন এবং গোসল করিলেন। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৯২. জুমুআর সালাতের জন্য গোসল করার বিধান

১১৪- আবূ সা‘ঈদ খুদরী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন,`প্রত্যেক সাবালেগ মুসলমানের পক্ষে জুমু‘আর দিন গোসল করা ওয়াযিব।’ {১৩৭}

{১৩৭} বুখারী ৮৭৯; মুসলিম ৮৪৬; আবূ দাউদ ৩৪১; নাসায়ি হাদিস ৩/৯২; ইবনু মাজাহ ১০৮৯; আহমাদ ৩/৬০; হাফেজ ইবনু হাজার হাদিসটিকে তিরমিজির সাথে সম্পর্কিত করে ভুল করিয়াছেন। এ হাদীসে গোসল ফরয হওয়ার বিধান পরবর্তী হাদিসের কারণে আর ওয়াজিব থাকে নি। তবে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

১১৫ – সামূরাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন,`যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন উযু করিবে সে ভালোই করিবে। আর যে ব্যক্তি গোসল করিবে সে আরও উত্তম কাজ করিল।’ তিরমিজি এটিকে হাসান বলেছেন। {১৩৮}

{১৩৮} আবূ দাউদ ৩৫৪; তিরমিজি ৪৯৭; নাসায়ি হাদিস ৩/৯৪; আহমাদ ১৫, ২২, ৫১। ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি হাসান।

পরিচ্ছেদ ৯৩. অপবিত্র শরীর বিশিষ্ট ব্যক্তির কুরআন পাঠ করার বিধান

১১৬ – ‘আলী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,`রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে কুরআন পড়াতেন, জুনুবী হওয়ার আগ পর্যন্ত।’ এ শব্দ বিন্যাস তিরমিজির আর তিনি একে হাসান বলে মন্তব্য করিয়াছেন এবং ইবনু হিব্বান সহিহ বলেছেন। {১৩৯}

{১৩৯} আবূ দাউদ ২২৯; নাসায়ি হাদিস ১৪৪; তিরমিজি ১৪৬; ইবনু মাজাহ ৫৯৪; আহমাদ ৬২৮; ইবনু হিব্বান ৭৯৯ ইমাম যাহাবী মীযানুল ই‘তিদাল [২/৪৩১] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আব্দুল্লাহ বিন সালামাহ আল হামাদানী রয়েছে যার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণ সমালোচনা করিয়াছেন।

পরিচ্ছেদ ৯৪. একসাথে একাধিক বার স্ত্রী সহবাসে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য অযু করা শরীয়তসম্মত

১১৭- আবূ সা‘ঈদ খুদরী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] বলেছেন,`যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের পর পুনরায় সঙ্গমের ইচ্ছা করিবে সে যেন উভয় সঙ্গমের মাঝে একবার উযূ করে।’ {১৪০} আর হাকিম এ কথাটি বৃদ্ধি করেছেনঃ “পুনর্মিলনের জন্য এটা [ওযু করা] তৃপ্তিদায়ক।” {১৪১}

{১৪০} মুসলিম ৩০৮। {১৪১} মুসতাদরাক হাকিম ১৫২; বর্ধিত অংশটুকুও সহিহ। সহিহ তিরমিজি ১৪১। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৯৫. জুনুবী ব্যক্তি অযু করার পূর্বে ঘুমানোর তার বিধান

১১৮ -আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন কোন সময় পানি ব্যবহার না করেও জুনুবী [গোসল ফরয] অবস্থায় ঘুমাতেন।’ হাদিসটি মা‘লূল [ত্রুটিযুক্ত] । {১৪২}

{১৪২} আবূ দাউদ ২২৪; নাসায়ী তাহাঁর আস-সুনানুল কুবরায়; তিরমিজি ১১৮, ১১৯; ইবনু মাজাহ ৫৮৩। হাদিসের তাহকীকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৯৬. জানাবাত তথা ফরয গোসল করার পদ্ধতি

১১৯ -আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,`আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] যখন ফরয গোসল করিতেন তখন প্রথমে দু’ হাত ধুয়ে নিতেন। অতঃপর তাহাঁর ডান হাত দ্বারা বাম হাতে পানি ঢেলে তাহাঁর গুপ্তাঙ্গ ধৌত করিতেন। তারপর উযূ করিতেন। তারপর গোসলের জন্য পানি নিতেন এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ মাথার চুলের গোড়ায় প্রবেশ করাতেন। তারপর তাহাঁর মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি বইয়ে ধুতেন, তারপর পা ধুতেন।’ মুত্তাফাকুন আলাইহ। আর শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। {১৪৩}

{১৪৩} বুখারী ২৪৮; মুসলিম ৩১৬

১২০- মায়মূনাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

“তারপর [হাত ধোয়ার পর] তার গুপ্তাঙ্গে পানি ঢাললেন ও বাম হাত দিয়ে তা ধুয়ে নিলেন, তারপর মাটিতে হাত ঘষে মেজে নিলেন।”

অন্য রিওয়ায়াতে আছে, “মাটিতে হাত মাজলেন।” এই বর্ণনার শেষাংশে আছে,`আমি [‘আয়িশা [রাঃআঃ] তাঁকে একখানা রুমাল এগিয়ে দিলাম কিন্তু তিনি তা ফেরত দিয়ে দিলেন।’ এতে আরো আছে,`এবং তিনি [তাহাঁর চুলের পানি] হাত দ্বারা ঝাড়তে লাগলেন।’ {১৪৪}

হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৯৭. মহিলাদের গোসল করার সময় চুলের বেনী খোলার বিধান

১২১- উম্মু সালামাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর [সাঃআঃ] -কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল!`আমি এমন নারী যে, মাথার চুল শক্তভাবে বেঁধে রাখি এবং আমি জানাবতের [অন্য বর্ণনায়] হায়িয [থেকে পবিত্র হওয়ার] গোসলের সময় চুলের বেণী কি খুলে ফেলব?`তিনি বলিলেন,`না, বরং মাথায় তিন আজলা পানি ঢালাই তোমার জন্য যথেষ্ট হইবে।’ {১৪৫}

{১৪৫} মুসলিম ৩৩০; মুসলিম বৃদ্ধি করেছেনঃ [আরবী] অতঃপর তুমি তোমার উপর পানি ঢেলে দিবে এবং পবিত্রতা অর্জন করিবে। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৯৮. ঋতুমতী ও জুনুবীর জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম

১২২ – আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন,`আমি হায়িযা ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির [জুনুবী পুরুষ হোক বা নারী] জন্য মসজিদে অবস্থান বৈধ করিনি।’ ইবনু খুযাইমাহ সহীহ্ বলেছেন। {১৪৬}

{১৪৬} আবূ দাউদ ২৩২; ইবনু খুযাইমাহ ১৩২৭। শায়খ আলবানী ইরওয়াউল গালীল [১/২১০ হাঃ ১২৪] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে যাসারাহ বিন দাযাজাহ রহিয়াছে যাকে ইমাম বুখারী [আত-তারীখুল কাবীর ২/৬৭] জঈফ বলেছেন। সনদে তাকে নিয়েই বিতর্ক রহিয়াছে। আলবানী তাহাঁর যঈফূল জামে [৬১১৭] ও তাখরিজ মিশকাতুল মাসাবীহ [৪৪০] গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাযাম তাহাঁর মুহাল্লা [২/১৮৫] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আফলাত রহিয়াছে যে প্রসিদ্ধ নয় এবং বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত নয়। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ৯৯. – স্বামী-স্ত্রী একই পাত্রে একসাথে গোসল করার বিধান

১২৩ – আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,`আমি ও নাবী [সাঃআঃ] একই পত্র [এর পানি] থেকে জনবতের [ফরয] গোসল করতাম; তাতে আমাদের পরস্পরের হাত পাত্রের মধ্যে আসা যাওয়া করতো।’ {১৪৭} ইবনু হিব্বানে অতিরিক্ত শব্দ এসেছেঃ আমাদের দু’জনের হাত পরস্পরের হাতকে স্পর্শ করতো।’ {১৪৮}

{১৪৭} বুখারী ২৬১; মুসলিম ৪৫, ৩২১; বুখারীর বর্ণনায় [আরবী] শব্দ নেই। {১৪৮} ইবনু হিব্বান [১১১১] এর সনদ সহিহ। তবে ইবনু হাজার তাহাঁর ফাতহুল বারিতে হাদিসটি মুদরাজ হওয়ার পক্ষাবলম্বন করিয়াছেন।

পরিচ্ছেদ ১০০. জুনুবী গোসলের জন্য মনোযোগ আবশ্যক

১২৪ – আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন,`প্রত্যেক চুলের গোড়ায় নাপাকী থাকে। অতএব তোমরা [ফরয গোসলের সময়] চুলসমূহ [ভালভাবে] ধুয়ে নাও ও চামড়া পরিষ্কার করো। আবূ দাউদ ও তিরমিজি একে বর্ণনা করে য‘ঈফ বলেছেন। {১৪৯}

{১৪৯} মুনকার। আবূ দাউদ ২৪৮ । ইমাম আবূ দাউদ বলেন, এর সনদে হারেস বিন ওয়াযীহ রহিয়াছে যার হাদিস মুনকার আর সে দুর্বল। তিরমিজি ১০৬ বলেন, তার হাদিস গরীব। তিনি তেমন কোন শায়খ নন। ইবনু হাযম তাহাঁর আল-মুহাল্লা [২/২৩২], ইবনু আদুল বার আত-তামহীম [২২/৯৯], ইমাম সানয়ানী সুবুলুস সালাম [১/১৪৪] ইমাম বায়হাকী আল খিলফিয়্যাহ [২/২৪১] গ্রন্থে উক্ত হাদিসকে মুনকার ও রাবীকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী গায়াতুল মাকসুদ [২/৩৪৩], শায়খ আলবানী জঈফ ইবনু মাজাহ হাঃ ১১৮ গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১২৫ – আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

হাদীসে এইরূপই রহিয়াছে,`কিন্তু তাতে একজন মাজহূল [অপরিচিত] বর্ণনাকারী আছে।’ {১৫০}

{১৫০} জঈফ। আহমাদ ৬৫৪, হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply