গোসলের ফরজ ও সুন্নত কয়টি এবং সকল নিয়মাবলী

গোসলের ফরজ ও সুন্নত কয়টি এবং সকল নিয়মাবলী

গোসলের ফরজ ও সুন্নত কয়টি এবং সকল নিয়মাবলী >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৫, গোসল, অধ্যায়ঃ (১-২৯)=২৯টি

৫/১. অধ্যায়ঃ গোসলের পূর্বে উযূ করা।
৫/২. অধ্যায়ঃ স্বামী-স্ত্রীর এক সাথে গোসল।
৫/৩. অধ্যায়ঃ এক সা বা অনুরূপ পাত্রের পানিতে গোসল।
৫/৪. অধ্যায়ঃ মাথায় তিনবার পানি ঢালা।
৫/৫. অধ্যায়ঃ গোসলে একবার পানি ঢালা ৷
৫/৬. অধ্যায়ঃ গোসলে হিলাব (উটনীর দুধ দোহনের পাত্র) বা খুশবু ব্যবহার করা৷
৫/৭. অধ্যায়ঃ অপবিত্রতার গোসলে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া ৷
৫/৮.অধ্যায়ঃ পরিচ্ছন্নতার জন্য মাটিতে হাত ঘষা ।
৫/৯. অধ্যায়ঃ যখন জানাবাত ছাড়া হাতে কোন নাপাকী না থাকে, ফরয গোসলের আগে হাত না ধুয়ে পানির পাত্রে তা প্রবেশ করানো যায় কি?
৫/১০. অধ্যায়ঃ গোসল ও উযূর অঙ্গ পৃথকভাবে ধোয়া ৷
৫/১১. অধ্যায়ঃ গোসলের সময় ডান হাত থেকে বাম হাতের উপর পানি ঢালা ৷
৫/১২. অধ্যায়ঃ একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হবার পর একবার গোসল করা।
৫/১৩. অধ্যায়ঃ মযী বের হলে তা ধুয়ে ফেলে উযূ করা।
৫/১৪. অধ্যায়ঃ খুশবু লাগিয়ে গোসল করার পর খুসবুর আসর থেকে গেলে।
৫/১৫. অধ্যায়ঃ চুল খিলাল করা এবং চামড়া ভিজেছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাতে পানি ঢালা।
৫/১৬. অধ্যায়ঃ অপবিত্র অবস্থায় যে উযূ করে সমস্ত শরীর ধোয় কিন্তু উযূর প্রত্যঙ্গগুলো দ্বিতীয়বার ধোয় না।
৫/১৭. অধ্যায়ঃ মসজিদের ভিতরে নিজের জানাবাতের কথা স্মরণ হলে তখনই বেরিয়ে পড়বে, তায়াম্মুম করিতে হইবে না।
৫/১৮. অধ্যায়ঃ জানাবাতের গোসলের পর দু হাত ঝাড়া।
৫/১৯. অধ্যায়ঃ মাথার ডান দিক হইতে গোসল শুরু করা।
৫/২০. অধ্যায়ঃ নির্জনে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা এবং পর্দা করে গোসল করা। পর্দা করে গোসল করাই উত্তম
৫/২১. অধ্যায়ঃ লোকের সামনে গোসলের সময় পর্দা করা।
৫/২২. অধ্যায়ঃ মহিলাদের ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে।
৫/২৩. অধ্যায়ঃ জুনুবী ব্যক্তির ঘাম, নিশ্চয়ই মুসলিম অপবিত্র নয়।
৫/২৪. অধ্যায়ঃ জানাবাতের অবস্থায় বের হওয়া এবং বাজার ইত্যাদিতে চলাফেরা করা।
৫/২৫. অধ্যায়ঃ অপবিত্র ব্যক্তির গোসলের পূর্বে উযূ করে ঘরে অবস্থান করা।
৫/২৬. অধ্যায়ঃ জুনুবীর ঘুমানো।
৫/২৭. অধ্যায়ঃ জুনুবী উযূ করে নিদ্রা যাবে।
৫/২৮. অধ্যায়ঃ দুলজ্জাস্থান পরস্পর মিলিত হলে।
৫/২৯. অধ্যায়ঃ স্ত্রী অঙ্গ হইতে কিছু লাগলে ধুয়ে ফেলা।

৫/১. অধ্যায়ঃ গোসলের পূর্বে উযূ করা।

২৪৮. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) যখন জানাবাতের গোসল করিতেন, তখন প্রথমে তাহাঁর হাত দুটো ধুয়ে নিতেন। অতঃপর সালাতের উযূর মত উযূ করিতেন। অতঃপর তাহাঁর আঙ্গুলগুলো পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করিতেন। অতঃপর তাহাঁর উভয় হাতের তিন আঁজলা পানি মাথায় ঢালতেন। তারপর তাহাঁর সারা দেহের উপর পানি ঢেলে দিতেন।

(২৬২, ২৭২; মুসলিম ৩/৯, হাদীস ৩১৬, আহমাদ ২৫৭০৪) (আঃপ্রঃ ২৪১, ইঃফাঃ ২৪৬)

২৪৯. মাইমূনা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করিলেন, পা দুটো ব্যতীত এবং তাহাঁর লজ্জাস্থান ও যে যে স্থানে নোংরা লেগেছে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর নিজের উপর পানি ঢেলে দেন। অতঃপর সেখান হইতে সরে গিয়ে পা দুটো ধুয়ে নেন। এই ছিল তাহাঁর জানাবাতের গোসল।

(২৫৭, ২৫৯, ২৬০, ২৬৬, ২৭৪, ২৭৬, ২৮১; মুসলিম ৩/৯, হাদীস ৩১৭, আহমাদ ২৬৮৬১) (আঃপ্রঃ ২৪২, ইঃফাঃ ২৪৭)

৫/২. অধ্যায়ঃ স্বামী-স্ত্রীর এক সাথে গোসল।

২৫০. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি ও নাবী (সাঃআঃ) একই পাত্র (কাদাহ) হইতে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো।

(২৬১, ২৬৩, ২৭৩, ২৯৯, ৫৯৫৬, ৭৩৩৯; মুসলিম ৩/১০, হাদীস ৩১৯, আহমাদ ২৫৮৯৪) (আঃপ্রঃ ২৪৩, ইঃফাঃ ২৪৮)

৫/৩. অধ্যায়ঃ এক সা বা অনুরূপ পাত্রের পানিতে গোসল।

২৫১. আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি ও আয়েশা (রাদি.)-এর ভাই আয়েশা (রাদি.)-এর নিকট গমন করলাম। তাহাঁর ভাই তাঁকে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। তিনি প্রায় এক সা (আড়াই কিলোগ্রাম পরিমাণ)-এর সমপরিমাণ এক পাত্র আনলেন। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং স্বীয় মাথার উপর পানি ঢাললেন। তখন আমাদের ও তাহাঁর মাঝে পর্দা ছিল। আবু আবদুল্লাহ [বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)] বলেন যে, ইয়াযীদ ইবন হারূন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), বাহয্‌ জুদ্দীই (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে “ نَحْوًا مِنْ صَاعٍ ” এর পরিবর্তে “ قَدْرِ صَاعٍ ” (এক সা পরিমাণ) এর কথা বর্ণনা করেন।

(মুসলিম ৩/১০, হাদীস ৩২০) (আঃপ্রঃ ২৪৪, ইঃফাঃ ২৪৯)

২৫২. আবু জাফার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ও তাহাঁর পিতা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.)-এর নিকট ছিলেন। সেখানে আরো কিছু লোক ছিলেন। তাঁরা তাঁকে গোসল সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করিলেন। তিনি বলিলেন, এক সা তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমার জন্য তা যথেষ্ট নয়। জাবির (রাদি.) বললেনঃ তোমার চেয়ে অধিক চুল যাঁর মাথায় ছিল এবং তোমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন (আল্লাহর রাসুল সাঃআঃ) তাহাঁর জন্য তো এ পরিমাণই যথেষ্ট ছিল। অতঃপর তিনি এক কাপড়ে আমাদের ইমামাত করেন।

(২৫৫, ২৫৬; মুসলিম ৩/১১, হাদীস ৩২৯, আহমাদ ১৫০৪১) (আঃপ্রঃ ২৪৫, ইঃফাঃ ২৫০)

২৫৩. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) ও মাইমূনা (রাদি.) একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করিতেন।

আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ইবনু উয়ায়নাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাহাঁর শেষ জীবনে ইবনু আব্বাস (রাদি.)-এর মাধ্যমে মাইমূনা (রাদি.) হইতে তা বর্ণনা করিতেন। তবে আবু নুআয়ম (রাদি.)-এর বর্ণনাই ঠিক।

(মুসলিম ৩/১০, হাদীস ৩২২, আহমাদ ২৬৮৬) (আঃপ্রঃ ২৪৬, ইঃফাঃ ২৫১)

৫/৪. অধ্যায়ঃ মাথায় তিনবার পানি ঢালা।

২৫৪. জুবায়র ইবনু মুতইম (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আমি তিনবার আমার মাথায় পানি ঢালি। এই বলে তিনি উভয় হাতের দ্বারা ইঙ্গিত করেন।

(মুসলিম ৩/১১, হাদীস ৩২৭, আহমাদ ১৬৭৪৯, ১৬৭৮০) (আঃপ্রঃ ২৪৭, ইঃফাঃ ২৫২)

২৫৫. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, নাবী (সাঃআঃ) নিজের মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন।

(২৫৪) (আঃপ্রঃ ২৪৮, ইঃফাঃ ২৫৩)

২৫৬. আবু জাফার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমাকে জাবির (রাদি.) বলেছেন, আমার নিকট তোমার চাচাত ভাই অর্থাৎ হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হানাফিয়াহ আগমন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, জানাবাতের গোসল কীভাবে করিতে হয়? আমি বললাম, নাবী (সাঃআঃ) তিন আঁজলা পানি নিতেন এবং নিজের মাথার উপর ঢেলে দিতেন। অতঃপর নিজের সারা দেহে পানি বহিয়ে দিতেন। তখন হাসান আমাকে বলিলেন, আমার মাথার চুল খুব বেশি। আমি তাঁকে বললাম, নাবী (সাঃআঃ)-এর চুল তোমার চেয়ে অধিক ছিল।

(২৫২) (আঃপ্রঃ ২৪৯, ইঃফাঃ ২৫৪)

৫/৫. অধ্যায়ঃ গোসলে একবার পানি ঢালা ৷

২৫৭. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাইমূনাহ (রাদি.) বলেনঃ আমি নাবী (সাঃআঃ) এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম৷ তিনি তাহাঁর হাত দুবার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন৷ পরে তাহাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাহাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন৷ তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন৷ তারপর কুলি করিলেন, নাকে পানি দিলেন, তাহাঁর চেহারা ও দুহাত ধুয়ে নিলেন৷ অতঃপর তাহাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন৷ তারপর একটু সরে গিয়ে দুপা ধুয়ে নিলেন৷

(২৪৯) (আঃপ্রঃ ২৫০, ইঃফাঃ ২৫৫)

৫/৬. অধ্যায়ঃ গোসলে হিলাব (উটনীর দুধ দোহনের পাত্র) বা খুশবু ব্যবহার করা৷

২৫৮. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) যখন জানাবাতের গোসল করিতেন, তখন হিলাবের অনুরূপ পাত্র চেয়ে নিতেন৷ তারপর এক আঁজলা পানি নিয়ে প্রথমে মাথার ডান পাশ এবং পরে বাম পাশ ধুয়ে ফেলতেন৷ দুহাতে মাথার মাঝখানে পানি ঢালতেন৷

(মুসলিম ৩/৯, হাদীস ৩১৮) (আঃপ্রঃ ২৫১, ইঃফাঃ ২৫৬)

৫/৭. অধ্যায়ঃ অপবিত্রতার গোসলে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া ৷

২৫৯. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মাইমূনাহ (রাদি.) বলেনঃ আমি নাবী (সাঃআঃ) এর জন্য গোসলের পানি ঢেলে রাখলাম৷ তিনি তাহাঁর ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত ধুলেন। অতঃপর তাহাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করিলেন এবং মাটিতে তাহাঁর হাত ঘষলেন। পরে তা ধুয়ে কুলি করিলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর তাহাঁর চেহারা ধুলেন এবং মাথার উপর পানি ঢাললেন। পরে ঐ স্থান হইতে সরে গিয়ে দুপা ধুলেন। অবশেষে তাঁকে একটি রুমাল দেয়া হল, কিন্তু তা দিয়ে শরীর মুছলেন না।

(২৪৯) (আঃপ্রঃ ২৫২, ইঃফাঃ ২৫৭)

৫/৮.অধ্যায়ঃ পরিচ্ছন্নতার জন্য মাটিতে হাত ঘষা ।

২৬০. মাইমূনাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) অপবিত্রতার গোসল করিলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করিলেন। গোসল শেষ করে তিনি তাহাঁর দুপা ধুয়ে নিলেন।

(২৪৯) (আঃপ্রঃ ২৫৩, ইঃফাঃ ২৫৮)

৫/৯. অধ্যায়ঃ যখন জানাবাত ছাড়া হাতে কোন নাপাকী না থাকে, ফরয গোসলের আগে হাত না ধুয়ে পানির পাত্রে তা প্রবেশ করানো যায় কি?

ইবন উমর (রাদি.) ও বারা-ইবন আযিব (রাদি.) হাত না ধুয়ে পানিতে হাত ঢুকিয়েছেন, তারপর উযু করিয়াছেন। ইবন উমর (রাদি.) ও ইবন আব্বাস (রাদি.) যে পানিতে ফরয গোসলের পানির ছিটা পড়েছে তা ব্যবহারে কোন দোষ মনে করিতেন না।

২৬১. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি ও নাবী (সাঃআঃ) একই পাত্রের পানি দিয়ে এভাবে গোসল করতাম যে, তাতে আমাদের দুজনের হাত একের পর এক পড়তে থাকতো।

(২৫০; মুসলিম ৩/১০, হাদীস ৩১৯, ৩২১) (আঃপ্রঃ ২৫৪, ইঃফাঃ ২৫৯)

২৬২. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) জানাবাতের গোসল করার সময় প্রথমে হাত ধুয়ে নিতেন।

(২৪৮) (আঃপ্রঃ ২৫৫, ইঃফাঃ ২৬০)

২৬৩. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি ও নাবী (সাঃআঃ) একই পাত্রের পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম।

(২৫০) (আঃপ্রঃ ২৫৬, ইঃফাঃ ২৬১)

আবদুর রহমান ইবনু কাসিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাহাঁর পিতার সূত্রে আয়েশা (রাদি.) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

২৬৪. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) ও তাহাঁর স্ত্রীদের কেউ কেউ একই পাত্রের পানি নিয়ে গোসল করিতেন। মুসলিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এবং ওয়াহব ইবনু জারীর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শুবাহ (রাদি.) হইতে তা ফরয গোসল ছিল বলে বর্ণনা করিয়াছেন।

(আঃপ্রঃ ২৫৭, ইঃফাঃ ২৬২)

৫/১০. অধ্যায়ঃ গোসল ও উযূর অঙ্গ পৃথকভাবে ধোয়া ৷

ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিত। তিনি উযূর অঙ্গসমূহ শুকিয়ে যাওয়ার পর দুপা ধুয়েছিলেন।

২৬৫. মাইমূনাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আমি নাবী (সাঃআঃ) এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি উভয় হাতে পানি ঢেলে দুবার করে বা তিনবার করে তা ধুয়ে নিলেন৷ অতঃপর তিঁনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং তাহাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে নিলেন৷ পরে তাহাঁর হাত মাটিতে ঘষলেন৷ তারপর কুলি করিলেন ও নাকে পানি দিলেন। আর তাহাঁর চেহারা ও হাত দুটো ধুলেন৷ তারপর তাহাঁর মাথা তিনবার ধুলেন এবং তাহাঁর সারা শরীরে পানি ঢাললেন৷ অবশেষে সেখান হইতে একটু সরে গিয়ে তাহাঁর দুপা ধুয়ে ফেললেন৷

(২৪৯) (আঃপ্রঃ ২৫৯, ইঃফাঃ ২৬৩)

৫/১১. অধ্যায়ঃ গোসলের সময় ডান হাত থেকে বাম হাতের উপর পানি ঢালা ৷

২৬৬. মাইমূনাহ বিনতু হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর জন্য গোসলের পানি রেখে পর্দা করে দিলাম। তিনি পানি দিয়ে দুবার কিংবা তিনবার হাত ধুলেন৷ সুলায়মান (রাদি.) বলেন, তৃতীয়বারের কথা বলেছেন কিনা আমার মনে পড়ে না। তখন তিনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং লজ্জাস্থান‍ ধুয়ে নিলেন৷ তারপর তাহাঁর হাত মাটিতে বা দেওয়ালে ঘষলেন৷ পরে তিনি কুলি করিলেন, নাকে পানি দিলেন এবং তাহাঁর চেহারা ও দুহাত ধুলেন এবং মাথা ধুয়ে ফেললেন। তারপর তাহাঁর শরীরে পানি ঢেলে দিলেন৷ পরে সেখান হইতে সরে গিয়ে তাহাঁর দুপা ধুয়ে নিলেন৷ অবশেষে আমি তাঁকে একখণ্ড কাপড় দিলাম; কিন্তু তিনি হাতের ইঙ্গিতে নিষেধ করিলেন এবং তা নিলেন না।

(২৪৯) (আঃপ্রঃ ২৫৮, ইঃফাঃ ২৬৪)

৫/১২. অধ্যায়ঃ একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হবার পর একবার গোসল করা।

২৬৭. মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাহাঁর পিতা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি আয়েশা (রাদি.) এর নিকট [আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.)-এর উক্তিটি [১] উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন। আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কে সুগন্ধি লাগাতাম, তারপর তিনি তাহাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হইতেন। তারপর ভোরবেলায় এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধতেন যে, তাহাঁর দেহ হইতে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো।

(২৭০; মুসলিম ১৫/৭, হাদীস ১১৯২) (আঃপ্রঃ ২৬০, ইঃফাঃ ২৬৫) [১] আমি এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধতে পছন্দ করি না, যাতে সকালে আমার দেহ থেকে খুশবু ছড়িয়ে পড়ে (দ্র. হাদীস নং ২৬৮) ।

২৬৮. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর স্ত্রীগণের নিকট দিনের বা রাতের কোন এক সময়ে পর্যায়ক্রমে মিলিত হইতেন। তাঁরা ছিলেন এগারজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস (রাদি.) কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এত শক্তি রাখতেন? তিনি বলিলেন, আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজনের [১] শক্তি দেয়া হয়েছে। সাঈদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণনা করেন, আনাস (রাদি.) তাঁদের নিকট হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে (এগারজনের স্থলে) নয়জনের কথা বলেছেন।

(২৮৪, ৫০৬৮, ৫২১৫ দ্রষ্টব্য) (আঃপ্রঃ ২৬১, ইঃফাঃ ২৬৬) [১] কোন কোন রিওয়ায়াতে, বেহেশতী চল্লিশজনের শক্তি দান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে । এবং তিরমিযীর বর্ণনায় একজন বেহেশতীর শক্তি একশ লোকের শক্তির সমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে (হাশিয়া ৪, সহীহ বুখারী ৭১, আসাহহুল মাতাবি, দিল্লী) ।

৫/১৩. অধ্যায়ঃ মযী বের হলে তা ধুয়ে ফেলে উযূ করা।

২৬৯. আলী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমার অধিক মযী বের হত। নাবী (সাঃআঃ)-এর কন্যা আমার স্ত্রী হবার কারনে আমি একজনকে নাবী (সাঃআঃ) এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালাম। তিনি প্রশ্ন করলে নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ উযূ কর এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেল।

(১৩২) (আঃপ্রঃ ২৬২, ইঃফাঃ ২৬৭)

৫/১৪. অধ্যায়ঃ খুশবু লাগিয়ে গোসল করার পর খুসবুর আসর থেকে গেলে।

২৭০. মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আমি আয়েশা (রাদি.) কে জিজ্ঞেস করলাম এবং আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) এর উক্তি উল্লেখ করলাম,- “আমি এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধা পছন্দ করি না যাতে সকালে আমার দেহ হইতে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে।” আয়েশা (রাদি.) বললেনঃ আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কে সুগন্ধি লাগিয়েছি, তার পর তিনি পর্যায়ক্রমে তাহাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন এবং তাহাঁর ইহরাম অবস্থায় সকাল হয়েছে।

(২৬৭) (আঃপ্রঃ ২৬৩, ইঃফাঃ ২৬৮)

২৭১. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি যেন এখনো দেখছি, নাবী (সাঃআঃ) -এর ইহরাম অবস্থায় তাহাঁর সিঁথিতে খুশবুর ঔজ্জ্বল্য রয়েছে।

(১৫৩৮, ৫৯১৮, ৫৯২৩; মুসলিম ১৫/৭, হাদীস ১১৯০, আহমাদ ২৫৮৩৩) (আঃপ্রঃ ২৬৪, ইঃফাঃ ২৬৯)

৫/১৫. অধ্যায়ঃ চুল খিলাল করা এবং চামড়া ভিজেছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাতে পানি ঢালা।

২৭২. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) যখন জানাবাতের গোসল করিতেন, তখন তিনি দুহাত ধৌত করিতেন এবং সালাতের উযূর মত উযূ করিতেন। তারপর গোসল করিতেন। পরে তাহাঁর হাত দিয়ে চুল খিলাল করিতেন। চামড়া ভিজেছে বলে যখন তিনি নিশ্চিত হইতেন, তখন তাতে তিনবার পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীর ধুয়ে ফেলতেন।

(২৪৮) (আঃপ্রঃ ২৬৫, ইঃফাঃ ২৭০)

২৭৩. See previous hadith. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আরো বলেছেনঃ আমি ও আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) একই পাত্র হইতে গোসল করতাম। আমরা একই সাথে তা হইতে আঁজলা ভরে পানি নিতাম।

(২৫০) (আঃপ্রঃ ২৬৫ শেষাংশ, ইঃফাঃ ২৭০)

৫/১৬. অধ্যায়ঃ অপবিত্র অবস্থায় যে উযূ করে সমস্ত শরীর ধোয় কিন্তু উযূর প্রত্যঙ্গগুলো দ্বিতীয়বার ধোয় না।

২৭৪. মাইমূনা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) জানাবাতের গোসলের জন্য পানি রাখলেন। তারপর দুবার বা তিনবার ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং তাহাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করিলেন। তারপর তাহাঁর হাত মাটিতে বা দেয়ালে দুবার বা তিনবার ঘষলেন। পরে তিনি কুলি করিলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং চেহারা ও দুহাত ধৌত করিলেন। তারপর তাহাঁর মাথায় পানি ঢাললেন এবং তাহাঁর শরীর ধুলেন। অতঃপর একটু সরে গিয়ে তাহাঁর দুপা ধৌত করিলেন। মাইমূনা (রাদি.) বলেনঃ অতঃপর আমি একখণ্ড কাপড় দিলে তিনি তা নিলেন না, বরং নিজ হাতে পানি ঝেড়ে ফেলতে থাকলেন।

(২৪৯) (আঃপ্রঃ ২৬৬, ইঃফাঃ ২৭১)

৫/১৭. অধ্যায়ঃ মসজিদের ভিতরে নিজের জানাবাতের কথা স্মরণ হলে তখনই বেরিয়ে পড়বে, তায়াম্মুম করিতে হইবে না।

২৭৫. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একবার সালাতের ইক্বামাত দেয়া হলে সবাই দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করছিলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) আমাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন। তিনি মুসাল্লায় দাঁড়ালে তাহাঁর মনে হলো যে, তিনি জানাবাত অবস্থায় আছেন। তখন তিনি আমাদের বললেনঃ স্ব স্ব স্থানে দাঁড়িয়ে থাক। তিনি ফিরে গিয়ে গোসল করে আবার আমাদের সামনে আসলেন এবং তাহাঁর মাথা হইতে পানি ঝরছিল। তিনি তাকবীর (তাহরীমাহ) বাঁধলেন, আর আমরাও তাহাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম।

(আঃপ্রঃ ২৬৭, ইঃফাঃ ২৭২) আবদুল আলা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে এবং আওযাঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-ও যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। (৬৩৯, ৬৪০; মুসলিম ৫/২৯, হাদীস ৬০৫, আহমাদ ১০৭২৪)

৫/১৮. অধ্যায়ঃ জানাবাতের গোসলের পর দু হাত ঝাড়া।

২৭৬. মাইমূনা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি নাবী (সাঃআঃ) এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম এবং কাপর দিয়ে পর্দা করে দিলাম। তিনি দুহাতের উপর পানি ঢেলে উভয় হাত দুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধৌত করিলেন। পরে হাতে মাটি লাগিয়ে ঘষে নিলেন এবং ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর কুলি করিলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা ও দুহাত (কনুই পর্যন্ত) ধৌত করিলেন। তারপর মাথায় পানি ঢাললেন ও সমস্ত শরীরে পানি পৌছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দুপা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর আমি তাঁকে একটা কাপড় দিলাম কিন্তু তা নিলেন না। তিনি দুহাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন।

(২৪৯) (আঃপ্রঃ ২৬৮, ইঃফাঃ ২৭৩)

৫/১৯. অধ্যায়ঃ মাথার ডান দিক হইতে গোসল শুরু করা।

২৭৭. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমাদের কারও জানাবাতের গোসলের প্রয়োজন হলে সে দুহাতে পানি নিয়ে তিনবার মাথায় ঢালত। পরে হাতে পানি নিয়ে ডান পাশে তিনবার এবং আবার অপর হাতে পানি নিয়ে বাম পাশে তিনবার ঢালত।

(আঃপ্রঃ ২৬৯, ইঃফাঃ ২৭৪)

৫/২০. অধ্যায়ঃ নির্জনে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা এবং পর্দা করে গোসল করা। পর্দা করে গোসল করাই উত্তম

বাহায (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাহাঁর পিতার সূত্রে তাহাঁর দাদা হইতে বর্ণনা করেন যে, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, লজ্জা করার ব্যাপারে মানুষের চেয়ে আল্লাহ তাআলাই হকদার।

২৭৮. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের লোকেরা নগ্ন হয়ে একে অপরকে দেখা অবস্থায় গোসল করতো। কিন্তু মূসা (আঃ) একাকী গোসল করিতেন। এতে বানী ইসরাঈলের লোকেরা বলাবলি করছিল, আল্লাহর কসম, মূসা (আঃ) কোষবৃদ্ধি রোগের কারণেই আমাদের সাথে গোসল করেন না। একবার মূসা (আঃ) একটা পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল করছিলেন। পাথরটা তাহাঁর কাপড় নিয়ে পালাতে লাগল। তখন মূসা (আঃ) “পাথর! আমার কাপড় দাও,” “পাথর! আমার কাপড় দাও”, বলে পেছনে পেছনে ছুটলেন। এদিকে বাণী ইসরাঈল মূসার দিকে তাকাল। তখন তারা বলিল, আল্লাহর কসম মূসার কোন রোগ নেই। মূসা (আঃ) পাথর থেকে কাপড় নিয়ে পরলেন এবং পাথরটাকে পিটাতে লাগলেন। আবু হুরাইরা (রাদি.) বলেন, আল্লাহর কসম, পাথরটিতে ছয় কিংবা সাতটা পিটুনীর দাগ পড়ে গেল।

বাহায (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাহাঁর পিতার সূত্রে তাহাঁর দাদা হইতে বর্ণনা করেন যে, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, লজ্জা করার ব্যাপারে মানুষের চেয়ে আল্লাহ তাআলাই হকদার।

২৭৯. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আরো বলেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেনঃ এক সময় আইয়ুব (আঃ) বিবস্ত্রাবস্থায় গোসল করছিলেন। তখন তাহাঁর উপর সোনার পঙ্গপাল বর্ষিত হচ্ছিল। আইয়ুব (আঃ) তাহাঁর কাপড়ে সেগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন। তখন তাহাঁর রব তাঁকে বললেনঃ হে আইয়ুব! আমি কি তোমাকে এগুলো হইতে অমুখাপেক্ষী করিনি? উত্তরে তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, আপনার ইয্‌যতের কসম। অবশ্যই করিয়াছেন। তবে আমি আপনার বরকত হইতে বেনিয়ায নই। এভাবে বর্ণনা করিয়াছেন ইবরাহীম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে যে, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ একদা আইয়ুব (আঃ) বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করেছিলেন।

৫/২১. অধ্যায়ঃ লোকের সামনে গোসলের সময় পর্দা করা।

২৮০. উম্মু হানী বিনতু আবু ত্বলিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি মাক্কাহ বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) এর নিকট গিয়ে তাঁকে গোসলরত অবস্থায় দেখলাম, ফাতিমাহ (রাদি.) তাঁকে পর্দা করে রেখেছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করিলেন ইনি কে? আমি বললামঃ আমি উম্মু হানী।

২৮১. মাইমূনা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি নাবী (সাঃআঃ) এর জন্য পর্দা করেছিলাম আর তিনি জানাবাতের গোসল করছিলেন। তিনি দুহাত ধুলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থান এবং যেখানে কিছু লেগেছিল তা ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে বা দেয়ালে হাত ঘষলেন এবং দুপা ছাড়া সালাতের উযূর মতই উযূ করিলেন। তারপর তাহাঁর সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দুপা ধুলেন। আবু আওয়ানাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ও [ سِتَرَ] (পর্দা করা) এর ব্যাপারটি এই হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।

৫/২২. অধ্যায়ঃ মহিলাদের ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে।

২৮২. উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আবু তালহা (রাদি.) এর স্ত্রী উম্মু সুলায়ম (রাদি.) আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) এর খিদমাতে এসে বললেনঃ ইয়া রসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা হকের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। স্ত্রীলোকের ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে কি ফরয গোসল করিবে? আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ হাঁ, যদি তারা বীর্য দেখে।

৫/২৩. অধ্যায়ঃ জুনুবী ব্যক্তির ঘাম, নিশ্চয়ই মুসলিম অপবিত্র নয়।

২৮৩. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ তাহাঁর সাথে মদীনার কোন এক পথে নাবী (সাঃআঃ) এর দেখা হলো। আবু হুরাইরা (রাদি.) তখন জানাবাত অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, আমি নিজেকে অপবিত্র মনে করে সরে পড়লাম। পরে আবু হুরাইরা (রাদি.) গোসল করে এলেন। পুনরায় সাক্ষাত হলে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ ওহে আবু হুরাইরা! কোথায় ছিলে? আবু হুরাইরা (রাদি.) বললেনঃ আমি জানাবাতের অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করিনি। তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! মুমিন অপবিত্র হয় না।

৫/২৪. অধ্যায়ঃ জানাবাতের অবস্থায় বের হওয়া এবং বাজার ইত্যাদিতে চলাফেরা করা।

আত্বা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, অপবিত্র ব্যক্তি উযূ না করেও শিঙ্গা লাগাতে, নখ কাটতে এবং মাথা মুণ্ডন করিতে পারে।

২৮৪. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) একই রাতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হইতেন। তখন তাহাঁর নয়জন স্ত্রী ছিলেন।

২৮৫. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমার সাথে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) এর সাক্ষাত হলো, তখন আমি জুনুবী ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন, আমি তাহাঁর সাথে চললাম। এক স্থানে তিনি বসে পড়লেন। তখন আমি সরে পড়ে বাসস্থানে এসে গোসল করলাম। আবার তাহাঁর নিকট গিয়ে তাঁকে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন আবু হুরাইরা! কোথায় ছিলে? আমি তাঁকে (ঘটনা) বললাম। তখন তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! মুমিন অপবিত্র হয় না।

৫/২৫. অধ্যায়ঃ অপবিত্র ব্যক্তির গোসলের পূর্বে উযূ করে ঘরে অবস্থান করা।

২৮৬. আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি আয়েশা (রাদি.) কে জিজ্ঞেস করলামঃ নাবী (সাঃআঃ) কি জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতেন? তিনি বললেনঃ হাঁ, তবে তিনি উযূ করে নিতেন।

৫/২৬. অধ্যায়ঃ জুনুবীর ঘুমানো।

২৮৭. উমার ইবনুল-খাত্তাব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কেউ জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ, উযূ করে নিয়ে জানাবাতের অবস্থায়ও ঘুমাতে পারে।

৫/২৭. অধ্যায়ঃ জুনুবী উযূ করে নিদ্রা যাবে।

২৮৮. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) যখন জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে ইচ্ছা করিতেন তখন তিনি লজ্জাস্থান ধুয়ে সালাতের উযূর মত উযূ করিতেন।

২৮৯. আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ উমার (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কেউ জুনুবী অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ, যদি উযূ করে নেয়।

২৯০. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদি.) আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে বলিলেন, রাতে কোন সময় তাহাঁর গোসল ফরয হয় (তখন কী করিতে হইবে?) রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাঁকে বললেনঃ উযূ করিবে, লজ্জাস্থান ধুয়ে নিবে তারপর ঘুমাবে।

৫/২৮. অধ্যায়ঃ দুলজ্জাস্থান পরস্পর মিলিত হলে।

২৯১. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে সঙ্গত হলে, তার উপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। আমর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শুবাহর সূত্রে এই হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আর মূসা (রাদি.) হাসান [বাসরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)]-এর সূত্রেও অনুরূপ বলেছেন। আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ এটা উত্তম ও অধিকতর মযবুত। মতভেদের কারণে আমরা অন্য হাদীসটিও বর্ণনা করেছি, গোসল করাই অধিকতর সাবধানতা।

৫/২৯. অধ্যায়ঃ স্ত্রী অঙ্গ হইতে কিছু লাগলে ধুয়ে ফেলা।

২৯২. যায়দ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাদি.)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ স্বামী-স্ত্রী সঙ্গত হলে যদি মনি বের না হয় (তখন কী করিবে)? উসমান (রাদি.) বললেনঃ সালাতের উযূর মত উযূ করিবে এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান (রাদি.) বলেনঃ আমি এটা আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) হইতে শুনিয়াছি। অতঃপর আলী ইবনু আবু ত্বলিব, যুবায়র ইবনুল-আও্‌ওয়াম, ত্বলহা ইবনু উবাইদুল্লাহ ও উবাই ইবনু কাব (রাদি.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তারা সবাই ঐ একই জবাব দিয়েছেন। আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু আইয়ুব (রাদি.) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি [আবু আইয়ুব (রাদি.)] এ কথা আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) হইতে শুনেছেন।

২৯৩. উবাই ইবনু কাব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! স্ত্রীর সাথে সঙ্গম হলে যদি বীর্য বের না হয় (তার হুকুম কী?) তিনি বলেলেনঃ স্ত্রী থেকে যা লেগেছে তা ধুয়ে উযূ করিবে ও সালাত আদায় করিবে। আবু আবদুল্লাহ [বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)] বলেনঃ গোসল করাই শ্রেয়। আর তা-ই সর্বশেষ হুকুম। আমি এই শেষের হাদীসটি বর্ণনা করেছি মতভেদ থাকার কারণে। কিন্তু পানি (গোসল) অধিক পবিত্রকারী। [১]

[১] এ বিধান পরে রহিত হয়েছে। স্ত্রী সঙ্গম হবার কারণে গোসল ফরয হয়। এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply