বর্ষণমুখর দিনে গৃহে নামাজ আদায়

বর্ষণমুখর দিনে গৃহে নামাজ আদায়

বর্ষণমুখর দিনে গৃহে নামাজ আদায় >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায় : বর্ষণমুখর দিনে গৃহে নামাজ আদায়

১৪৮৫

নাফি ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন ঝড় ও শীতের রাতে আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] সলাতে আযান দিলেন। আযানে তিনি বললেনঃ তোমরা যার যার বাড়ীতে নামাজ আদায় করে নাও। পরে তিনি বলিলেন যে, শীতের রাত অথবা মেঘাচ্ছন্ন রাত হলে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুয়ায্‌যিনকে এ কথা ঘোষণা করিতে আদেশ দিতেনঃ তোমরা বাড়ীতে নামাজ আদায় কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭০, ই.সে ১৪৭৯]

১৪৮৬

আবদুল্লাহ ইবনি উমর হইতে বর্ণীতঃ

তিনি শীত ও ঝড়-বৃষ্টি কবলিত এক রাতে নামাজের আযান দিলেন। তিনি তার আযানে শেষে উচ্চৈঃস্বরে বলেন, শোন! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানস্থলে নামাজ আদায় করে নাও। শোন! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানস্থলে নামাজ আদায় করে নাও। অতঃপর তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সফররত অবস্থায় শীত বা বর্ষণমুখর রাতে মুয়ায্‌যিনকে নির্দেশ দিতেন, সে যেন বলে, শোন! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে নামাজ আদায় করে নাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭১, ই.সে ১৪৭৯-ক]

১৪৮৭

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একবার তিনি যজনান নামক স্থানে নামাজের আযান দিলেন। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন। তবে এতটুকু কথা অধিক বর্ণনা করিলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনি উমর বললেনঃ তোমরা যার যার অবস্থান স্থলেই নামাজ আদায় করে নাও। তিনি আবদুল্লাহ ইবনি উমর-এর কথা, “তোমরা যার যার অবস্থান স্থলেই নামাজ আদায় করে নাও” কথাটি দ্বিতীয়বার বলিলেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭২, ইসলামিক সেন্টার- ১৪৮০]

১৪৮৮

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এক সফরে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সঙ্গী ছিলাম। ইতোমধ্যে বৃষ্টি হলে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা কেউ চাইলে নিজের জায়গাতে অবস্থান করে সেখানেই নামাজ আদায় করে নিতে পারো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৪৮১]

১৪৮৯

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক বৃষ্টিঝরা দিনে তিনি মুয়াযযিনকে বললেনঃ আজকের আযানে যখন তুমি

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ 

“আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লা-হ” বলে শেষ করিবে তার পরে কিন্তু

حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ

“হাইয়্যা আলাস সলা-হ” বলবে না। বরং বলবে,

صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ

“সল্লু ফী বুয়ূতিকুম” অর্থাৎ- তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই নামাজ আদায় করে নাও।

হাদীসের বর্ণনা কারী [আবদুল্লাহ ইবনি হারিস] বলেছেনঃ এরূপ করা লোকজন পছন্দ করিল না বলে মনে হল। তা দেখে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস বললেনঃ তোমরা এ কাজকে আজগুবি মনে করছ? অথচ যিনি আমার চেয়ে উত্তম তিনি এরূপ করিয়াছেন। জুমুআর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তোমরা কাদাযুক্ত পিচ্ছিল পথে কষ্ট করে চলবে তা আমি পছন্দ করিনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৪৮২]

১৪৯০

আবদুল হামীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনি হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] – কে বলিতে শুনেছি। তিনি বলেন, এক বৃষ্টিঝরা দিনে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস আমাদের সামনে বক্তৃতা করিলেন। এতটুকু বর্ণনা করে তিনি পূর্বোক্ত ইবনি উলাইয়্যাহ্‌ বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি জুমআর দিনের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, যিনি আমার চেয়ে উত্তম অর্থাৎ নবী [সাঃআঃ] এরূপ করিয়াছেন।

আবু কামিল বলেছেনঃ হাম্মাদ আসিম-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনি হারিস থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৪৮৩]

১৪৯১

আইয়ূব ও আসিম আল-আহ্ওয়াল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের নবী [সাঃআঃ] কথাটি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৪৮৪]

১৪৯২

আবদুল্লাহ ইবনিল হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস-এর [নিযুক্ত] মুয়াযযিন আযান দিলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি ইবনি উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করিলেন। তিনি [আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস] বললেনঃ তোমরা কর্দম্ময় ও পিচ্ছিল পথে চলবে তা আমার পছন্দ হয়নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৪৮৫]

১৪৯৩

আবদুল্লাহ ইবনিল হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে তার [নিযুক্ত] মুয়ায্‌যিনকে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন।

মামার-এর হাদীসে রয়েছে, বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে উক্ত বর্ণনাকারীর অনুরূপ এবং মামার-এর বর্ণিত হাদীসে এ কথাও আছে যে, যিনি আমার চেয়ে উত্তম অর্থাৎ নবী [সাঃআঃ] এরূপ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৪৮৬]

১৪৯৪

আবদুল্লাহ ইবনিল হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনিল হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর মাধ্যমে বর্ণনা করিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] বৃষ্টিঝরা জুমুআর দিনে তার [নিযুক্ত] মুয়াজ্জিনকে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন। এভাবে তিনি অন্য বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করিলেন। [ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৭৯, ইসলামীক সেন্টার ১৪৮৭]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply