গুনাহ দ্বারা ঈমানের ক্ষতি হয় এবং লিপ্ত থাকায় ঈমান থাকে না

গুনাহ দ্বারা ঈমানের ক্ষতি হয় এবং লিপ্ত থাকায় ঈমান থাকে না

গুনাহ দ্বারা ঈমানের ক্ষতি হয় এবং লিপ্ত থাকায় ঈমান থাকে না >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৪. অধ্যায়ঃ গুনাহ দ্বারা ঈমানের ক্ষতি হয় এবং গুনাহে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ঈমান থাকে না অর্থাৎ ঈমানের পূর্ণতা থাকে না

১০৬

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত থাকাবস্থায় মুমিন থাকে না, চুরি করার সময় চোরও ঈমানদার থাকে না, মদ্যপায়ীও মদ্যপান করার সময় মুমিন থাকে না। আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] অন্য সূত্রে এর সাথে এটাও বলেছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইকারী যখন ছিনতাই করিতে থাকে তখন সে মুমিন থাকে না। {৩৬} [ই.ফা. ১০৮; ই.সে. ১১০]

{৩৬} ইমাম নাবাবী বলেন, তত্বান্বেষী আলিমগণ উক্ত হাদীস সম্বন্ধে বলেন, উল্লেখিত অপরাধ করার অবস্থায় পূর্ণ ঈমান থাকে না। কতগুলো প্রবাদ আছে- যেমন লোকটির জ্ঞান নেই, তার অর্থ হলো উপকারী জ্ঞান নেই। শান্তি নেই, প্রকৃত শান্তি পরকালে। আবু যার [রাঃআ:] হতে বর্ণিত, যে

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলবে সে জান্নাতে যাবে যদিও সে যিনা ব্যভিচার ও চুরি করে। আর উবাদাহ বিন সামিত [রাঃআ:] হতে বর্ণিত। সহাবায়ে কিরাম আল্লাহর রসূলের হাতে বাইআত করিয়াছেন যে, তারা চুরি করিবে না, ব্যভিচার করিবে না আর অন্য কোন অপরাধ করিবে না। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, যে ব্যক্তি বাইআত পূর্ণ করিবে তার প্রতিদান আল্লাহ দিবেন। আর যদি অপরাধ করে বসে এবং দুনিয়াতে শাস্তিপ্রাপ্ত হয় তবে তা কাফ্‌ফারাহ্‌ হইবে, আর দুনিয়াতে যদি শাস্তি না হয় তাহলে আখিরাতে আল্লাহর ইচ্ছা হলে শাস্তি দিতে পারেন, ক্ষমাও করিতে পারেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না ….. বাকী অংশ লুটতরাজের বর্ণনাসহ উপরোক্ত হাদিসের অনূরুপ। তবে এতে মূল্যবান সামগ্রী কথাটির উল্লেখ নেই।

ইবনি শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনি মুসাইয়্যাব ও আবু সালামাহ ইবনি আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. আবু হুরাইরা [রাঃআ:] এর সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] থেকে আবু বাকরের হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি النُّهْبَةَ ছিনতাইয়ের কথা উল্লেখ করেননি। [ই.ফা. ১০৯; ই.সে. ১১১]

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৮

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

উকায়লের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন এবং ছিনতাইয়ের কথাও বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু তিনি ذَاتَ شَرَفٍ মুল্যবান কথাটি বলেন নি। [ই.ফা. ১১০; ই.সে. ১১২]

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৯

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

নবি [সাঃআ:]-এর সূত্রে সকলেই যুহরীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা. ১১১; ই.সে. ১১৩]

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১০

আবু হুরাইরাহ [রাযি :] হইতে বর্ণিতঃ

সকলেই যুহরীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে আলা ও সাফওয়ান ইবনি সুলায়মের বর্ণিত হাদিসে “জনসম্মুখে” … বাক্যটি উল্লেখ নেই। আর হাম্মামের হাদীসে রয়েছে “লুটপাটকারীরা যখন লুটতরাজে ব্যতিব্যস্ত আর মুমিনরা তার প্রতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছে, এমতাবস্থায় সে মুমিন থাকে না” কথাটির উল্লেখ রয়েছে। হাম্মাম তাহাঁর হাদীসে আরো বলেছেন, খিয়ানাতকারী যখন খিয়ানাত করে, তখন মুমিন থাকে না। সুতরাং তোমরা সাবধান থেকো তোমরা সাবধান থেকো। [ই.ফা. ১১১; ই.সে. ১১৪]

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১১

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

নবি করীম [সাঃআ:] বলেছেনঃ ব্যভিচারী যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না। চোর যখন চৌর্য বৃত্তিতে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না। মদ্যপ ব্যক্তি যখন মদপানে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না। তবে এরপর আর তাওবার দরজা খোলা থাকে। [ই.ফা. ১১২; ই.সে. ১১৬]

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১২

মারফূ সানাদে আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

ব্যভিচারী ব্যভিচারে লিপ্ত ……এরপর শুবার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা. ১১৩; ই.সে. ১১৭]

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply