নতুন লেখা

গনীমতের মাল , শত্রু দেশের খাদ্য, ফাই থেকে ঈমাম নিজের জন্য কিছু রাখবে

গনীমতের মাল , শত্রু দেশের খাদ্য, ফাই থেকে ঈমাম নিজের জন্য কিছু রাখবে

গনীমতের মাল , শত্রু দেশের খাদ্য, ফাই থেকে ঈমাম নিজের জন্য কিছু রাখবে >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ১৫, অনুচ্ছেদঃ ১৩৭-১৬১=২৫টি

অনুচ্ছেদ—১৩৭ঃ শত্রু দেশের খাদ্য হালাল হওয়া সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৩৮ঃ শত্রু এলাকায় খাদ্য ঘাটতি হলেও তা লুটপাট করা নিষেধ
অনুচ্ছেদ—১৩৯ঃ শত্রু দেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসা
অনুচ্ছেদ-১৪০ঃ শত্রুদেশে লোকদের উদ্ধৃত্ত খাদ্য বিক্রি করা
অনুচ্ছেদ-১৪১ঃ গনীমতের বস্তু দ্বারা কোন ব্যক্তির উপকার লাভ করা
অনুচ্ছেদ-১৪২ঃ যুদ্ধের সময় শত্রুর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি
অনুচ্ছেদ-১৪৩ঃ গনীমতের মাল আত্নসাতের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী
অনুচ্ছেদ-১৪৪ঃ গনীমতের সামান্য জিনিস আত্নসাৎ করলে ঈমাম তাহাকে ছেড়ে দিবে এবং তার মালপত্র জ্বালাবে না
অনুচ্ছেদ-১৪৫ঃ গনীমতের মাল আত্মসাৎকারীর শাস্তি
অনুচ্ছেদ-১৪৬ঃ গনীমাত আত্নসাৎকারীর অপরাধ গোপন রাখা নিষেধ
অনুচ্ছেদ-১৪৭ঃ নিহত কাফিরের মালপত্র হত্যাকারী পাবে
অনুচ্ছেদ-১৪৮ঃ ঈমাম ইচ্ছা করলে নিহইতের পরিত্যক্ত মাল হত্যাকারীকে নাও দিতে পারেন, নিহইতের ঘোড়া ও হাতিয়ার তার মালেরই অন্তর্ভূক্ত
অনুচ্ছেদ-১৪৯ঃ নিহত কাফিরের পরিত্যক্ত জিনিসে খুমুস নাই
অনুচ্ছেদ-১৫০: কেউ মুমুর্ষু কাফিরকে হত্যা করিবে সে তার পরিত্যক্ত মাল থেকে উপহার হিসেবে কিছু পাবে
অনুচ্ছেদ-১৫১ঃ কেউ গনিমাতের মাল বন্টিত হওয়ার পর উপস্থিত হলে এর অংশ পাবে না
অনুচ্ছেদ-১৫২ঃ নারী ও কৃতদাসকে গনীমতের অংশ প্রদান
অনুচ্ছেদ-১৫৩ঃ মুশরিকদের জন্য গনীমতের অংশ আছে কিনা?
অনুচ্ছেদ-১৫৪ঃ গনীমতের মালে ঘোড়ার [দুই] অংশ
অনুচ্ছেদ-১৫৫ঃ পদাতিকের জন্য এক অংশ
অনুচ্ছেদ-১৫৬ঃ গনীমাত থেকে কাউকে পুরস্কার দেয়া
অনুচ্ছেদ-১৫৭ঃ মুজাহিদ বাহিনীর গনীমাত থেকে ক্ষুদ্র সামরিক বাহীনীকে পুরস্কার প্রদান
অনুচ্ছেদ-১৫৮ঃ যিনি বলেন, অতিরিক্ত দেয়ার আগেই এক-পঞ্চমাংশ পৃথক করিবে
অনুচ্ছেদ-১৫৯ঃ ক্ষুদ্র সামরিক অভিযান শেষে মূল বাহিনীতে প্রত্যাবর্তন
অনুচ্ছেদ-১৬০: সোনা-রূপা ও গনীমতের প্রাথমিক মাল থেকে অতিরিক্ত প্রদান
অনুচ্ছেদ-১৬১ঃ ফাই থেকে ঈমাম নিজের জন্য কিছু রাখবে

অনুচ্ছেদ—১৩৭ঃ শত্রু দেশের খাদ্য হালাল হওয়া সম্পর্কে

২৭০১. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদল সৈনিক রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে গনীমাত হিসাবে কিছু খাদ্যশস্য ও মধু পায়। কিন্তু তার এক –পঞ্চমাংশ নেয়া হয়নি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭০২. আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফফাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের দিন চর্বিভর্তি একটি ব্যাগ পরে থাকতে দেখে আমি তা উঠিয়ে নিয়ে বলিলাম, এ চর্বি থেকে কাউকে একটুও দিবো না। বর্ণনাকারী বলেন, দৃষ্টি ফিরিয়ে দেখি, রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩৮ঃ শত্রু এলাকায় খাদ্য ঘাটতি হলেও তা লুটপাট করা নিষেধ

২৭০৩. আবু লাবীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা এক অভিযানে কাবুল নামক জায়গায় আবদুর রাহমান ইবনি মাসুরাহর [রাদি.] সঙ্গী হই। গনীমাত সংগ্রহণের সুযোগ এলে লোকেরা তা লুণ্ঠন করে নেয়। আবদুর রহমান [রাদি.] দাঁড়িয়ে বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে “গনীমাত বণ্টনের পূর্বে তা থেকে কিছু নিতে নিষেধ করিতে শুনিয়াছি”। সুতরাং লোকেরা যা নিয়েছিল তা ফেরত দিলো। পরে তিনি সেগুলোকে তাহাদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭০৪. আবদুল্লাহ ইবনি আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে কি আপনারা খাদ্যদ্রব্য থেকেও এক-পঞ্চমাংশ বের করিতেন? এক সাহাবী বলিলেন, খায়বারের যুদ্ধের দিন আমরা খাদ্যদ্রব্য পাই। লোকজন এসে তাহাদের প্রয়োজন মত খাদ্যদ্রব্য উঠিয়ে নিয়ে চলে যেতো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭০৫. আসিম ইবনি কুলাইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একজন আনসারীর নিকট হইতে বর্ণনা করেন যে, আনসার লোকটি বলিলেন, একদা আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে এক সফরে বের হই। লোকেরা ভীষণ খাদ্যকস্টের শিকার হলো। ইতোমধ্যে কিছু সংখ্যক বকরী তাহাদের হস্তগত হয়। কিন্তু বণ্টনের পূর্বেই তারা সেগুলো লুণ্ঠন করে নেয়। আমাদের হাঁড়িগুলাতে গোশত টগবগ করে ফুটছিল। এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার ধনুকে ভর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলেন এবং ধুনুক দিয়ে গোশতের হাঁড়ি উল্টিয়ে ফেলে দিয়ে তা বালির সাথে মিশিয়ে দিলেন। তিনি বলিলেনঃ এই লুটের মাল মৃত জন্তুর চাইতে কিছু কম নয় অথবা বলিয়াছেনঃ মৃত জন্তু এই লুটের মালের চেয়ে কিছু কম নয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ—১৩৯ঃ শত্রু দেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসা

২৭০৬. আবদুর রহমানের [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আযাদকৃত গোলাম আল-ক্বাসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণনা করেন, আমরা যুদ্ধের সময় [গনীমতের] উট যবাহ করে খেতাম, বণ্টন করতাম না। এমনকি আমরা যখন দেশে ফিরে যেতাম তখন আমাদের থলি গোশতে ভরা থাকতো।

দুর্বল, মিশকাত [৪০২২]। গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪০ঃ শত্রুদেশে লোকদের উদ্ধৃত্ত খাদ্য বিক্রি করা

২৭০৭. আবদুর রহমান ইবনি গানাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা শুরাহবীল ইবনিস সিমতের [রাদি.] নেতৃত্বে কিন্নাসরীন শহর অবরোধ করি। তা বিজিতি হলে সেখানে মেষ ও গরু গনীমাত হিসাবে লাভ হলো। তিনি এর একটি অংশ আমাদের মধ্যে বন্টন করে বাকী অংশ গনীমতের খাতে রেখে দিলেন। পরে আমি মুআয ইবনি জাবালের সাথে দেখা করে তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করি। তিনি বলিলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাথে খায়বারের যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম। সেখানে আমরা কিছু মেষ পেলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার একটা অংশ আমাদের মাঝে বন্টন করেন এবং বাকী অংশ গনীমতের খাতে রেখে দেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪১ঃ গনীমতের বস্তু দ্বারা কোন ব্যক্তির উপকার লাভ করা

২৭০৮. রুয়াইফি ইবনি সাবিত আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে সে যেন মুসলিমদের ফাইলব্ধ পশুর পিঠে সওয়ার না হয়। সে সওয়ারী হিসাবে ব্যবহার করে তাহাকে দুর্বল করে গনীমাতে ফেরত দেয় [এরূপ করা উচিত নয়]। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মুসলিমদের গনীমতের পোশাক না পরে, এমনকি সে তা পুরাতন করে গনীমাতে ফেরত দেয় [এটা ঠিক নয়]।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-১৪২ঃ যুদ্ধের সময় শত্রুর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি

২৭০৯. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি [বদর] যুদ্ধের ময়দানে আবু জাহলকে মাটিতে ধরাশায়ী দেখিতে পেয়ে তার পায়ে আঘাত করে বলিলাম, হে আল্লাহর দুশমন! হে জাহল! অবশেষে আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করিলেন। তিনি [রাদি.] বলেন, আমি এ সময় তাহাকে একটুও ভয় করিনি। সে বললো, আশ্চর্যের বিষয়, এক ব্যক্তিকে তার কওমের লোকেরাই হত্যা করলো। আমি তাহাকে তরবারি দিয়ে আঘাত হানলাম, কিন্তু কাজ হলো না। তবে তার হাত থেকে তার তরবারিটা পড়ে গেল। আমি তা তুলে নিয়ে তাহাকে পুনরায় আঘাত হানলে সে ঠান্ডা হয়ে যায় [মৃত্যু বরণ করে]।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪৩ঃ গনীমতের মাল আত্নসাতের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী

২৭১০. যায়িদ ইবনি খালিদ আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এর সাহাবীদের একজন খায়বার যুদ্ধের দিন মারা যায়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে খবর দেয়া হলে তিনি বলিলেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ে নাও। তাহাঁর এ কথা শুনে লোকদের চেহারা [ভয়ে] পরিবর্তন হলো। তিনি বলিলেনঃ তোমাদের সাথী আল্লাহর পথে [গনীমতের মাল] চুরি করেছে। আমরা তাহাঁর জিনিসপত্র অনুসন্ধান করে ইয়াহুদীদের ব্যবহৃত একটি পুঁতির মালা পাই, যার মূল্য দুই দিরহামও নয়।

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৩৪৮১], যয়ীফ সুনান ইবনি মাজাহ [৬২৫/২৮৪৮], ইরওয়া [৭২৬], মিশকাত [৪০১১]। গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭১১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে আমরা খায়বারের যুদ্ধে বের হলাম। তাতে গনীমাত হিসেবে কাপড়-চোপড়, মালপত্র ইত্যাদি ছাড়া সোনা-রূপা পাইনি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ওয়াদিল-কুরার দিকে রওয়ানা হলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে মিদআম নামের একটি কালো গোলাম উপহার দেয়া হয়েছিল। অবশেষে তারা ওয়াদিল কুরায় পৌঁছলে মিদআম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উটের পালান খুলছিল। হঠাৎ একটি তীর এসে তার উপর পতিত হলে সে মারা যায়। লোকেরা বললোঃ তার জন্য কল্যাণ হয়েছে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ কখনও নয়। ঐ সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। খায়বারের যুদ্ধের দিন বন্টনের পূর্বে সে গনীমতের যে চাদর চুরি করেছিল তা আগুন হয়ে তাহাকে দগ্ধ করছে। অতঃপর তারা যখন এ কথা শুনলো, এক ব্যক্তি একটি বা দুটি চামড়ার লম্বা টুকরা নিয়ে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে হাজির হলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ চামড়ার টুকরাটি আগুনের, অথবা তিনি বলিলেনঃ চামড়ার এই টুকরা দুটি আগুনের ফিতা।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪৪ঃ গনীমতের সামান্য জিনিস আত্নসাৎ করলে ঈমাম তাহাকে ছেড়ে দিবে এবং তার মালপত্র জ্বালাবে না

২৭১২. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমতের মাল জমা করার জন্য বিলাল [রাদি.]-কে ঘোষণা করার নির্দেশ দিতেন। তিনি ঘোষণা দিলে লোকেরা তাহাদের গনীমাত নিয়ে এসে জমা করতো। তিনি তা থেকে এক-পঞ্চমাংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মালবন্টন করে দিতেন। একদা এক ব্যক্তি গনীমাত বন্টনের পর পশমের একটি দড়ি নিয়ে উপস্থিত হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এই দড়িটা আমাদের গনীমতের অংশ। তিনি বলিলেনঃ বিলাল যে তিনবার ঘোষণা দিল তা কি তুমি শুনতে পেয়েছিলে? লোকটি বলিল, হাঁ। তিনি বলিলেনঃ তাহলে কিসে তোমাকে এটা নিয়ে উপস্থিত হইতে বাঁধা দিলো? সে কিছু ওজর পেশ করলে তিনি বলিলেনঃ তুমি এভাবেই থাকো, তুমি ক্বিয়ামাতের দিন এটাসহ উপস্থিত হইবে। আমি তোমার থেকে এটা গ্রহণ করবো না।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪৫ঃ গনীমতের মাল আত্মসাৎকারীর শাস্তি

২৭১৩. সালিহ ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি যায়িদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু দাউদ ও সালিহ বলেন, ইনি হলেন আবু ওয়াক্বিদ। তিনি বলেন, আমি মাসলামাহর [রাদি.] সাথে রূম এলাকায় প্রবেশ করি। গনীমাত আত্মসাৎকারী এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়। এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য মাসলামাহ [রাদি.] সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে জিজ্ঞেস করিলেন। সালিম বলেন, আমি আমার পিতা আবদুল্লাহ [রাদি.]-কে তার পিতা উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] থেকে বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা কোন গনীমাত আত্নসাৎকারীকে পেলে তার মালপত্র পুড়িয়ে ফেলবে এবং তাহাকে প্রহার করিবে। আবু ওয়াক্বিদ বলেন, আমরা ধৃত ব্যক্তির জিনিসপত্রে একটি মাসহাফ [কুরআন] পাই। মাসলামাহ [রাদি.] ঐ ব্যক্তির বিষয়ে সালিমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, মাসহাফ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দান করুন।

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৭১৭], যয়ীফ সুনান আত-তিরমিজি [২৪৫/১৫০২], মিশকাত [৩৬৩৩]। গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭১৪. সালিহ ইবনি মুহাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা ওয়ালীদ ইবনি হিশামের নেতৃত্বে যুদ্ধে যোগদান করি। আমাদের সাথে সালিম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এবং উমার ইবনি আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-ও ছিলেন। আমাদের মধ্যকার এক লোক গনীমতের মাল চুরি করলে ওয়ালীদ তার জিনিসপত্র পুড়ে ফেলার নির্দেশ দিলে তা পুড়ে ফেলা হয়, তাহাকে পথে পথে ঘুরানো হয় এবং গনীমাত থেকে বঞ্চিত করা হয়। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, দুই হাদিসের মধ্যে শেষোক্ত হাদিসটি অধিক সহিহ। কেননা একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, ওয়ালীদ ইবনি হিশাম যিয়াদ ইবনি সাদের জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলেন এবং তাহাকে প্রহার করেন। কারণ সে গনীমতের মাল আত্নসাৎ করেছিল।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মাকতু

২৭১৫. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ], আবু বাকর্ [রাদি.] ও উমার [রাদি.] গনীমাত আত্নসাৎকারীর মালপত্র পুড়িয়ে ফেলেন এবং তাহাকে দৈহিক শাস্তি প্রদান করেন।

দুর্বলঃ মিশকাত [৪০১৩]। বর্ননাকারী আবদুল ওয়াহ্হাবের বর্ণনায় গনীমাত আত্নসাৎকারীকে তার প্রাপ্য বঞ্চিত করার কথা উল্লেখ নেই। দুর্বল মাক্বতু। হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

অনুচ্ছেদ-১৪৬ঃ গনীমাত আত্নসাৎকারীর অপরাধ গোপন রাখা নিষেধ

২৭১৬. সামুরাহ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ কেউ গনীমাত আত্নসাৎকারীর কথা গোপন রাখলে সেও তার সমান অপরাধী।

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৫৮১২], মিশকাত [৪০১৪] গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪৭ঃ নিহত কাফিরের মালপত্র হত্যাকারী পাবে

২৭১৭. আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে হুনাইনের যুদ্ধে রওয়ানা হলাম। আমরা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে মুসলিমদের মধ্যে পরাজয়ের লক্ষণ দেখি। আমি দেখি, এক মুশরিক এক মুসলিমকে পরাজিত করছে। আমি ঘুরে গিয়ে পেছন থেকে তার গর্দানে তরবারির আঘাত করলে সে আমার দিকে ফিরে আমাকে এমন জোরে চেপে ধরলো যে, আমি যেন মরেই যাব। কিন্তু একটু পরেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো এবং আমকে ছেড়ে দেয়। অতঃপর আমি উমার ইবনিল খাত্তাবের [রাদি.] সাথে মিলিত হই। আমি তাহাকে বলি, লোকদের কি হলো! তিনি বলিলেন, আল্লাহর হুকুম এটাই ছিল। লোকেরা আবার ফিরে এলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বসা অবস্থায় বলিলেনঃ কেউ কোন কাফিরকে প্রমাণ সাপেক্ষে হত্যা করলে নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত জিনিসপত্র হত্যাকারী পাবে। আমি দাঁড়িয়ে বলিলাম, কেউ কি আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? অতঃপর আমি বসে পড়ি। তিনি তৃতীয়বারও একথা বলিলেন। আমাকে দাঁড়াতে দেখে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে আবু ক্বাতাদাহ! তোমার কী হলো? আমি তাঁকে ঘটনা খুলে বলি। দলের মধ্যকার এক লোক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে সত্যই বলেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত জিনিসপত্র আমার নিকট আছে। তাঁকে রাজি করিয়ে জিনিসগুলো আমাকে দিন। এ কথা শুনে আবু বাকর্‌ সিদ্দীক্ব [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর শপথ! কখনও নয়। আল্লাহর এক সিংহ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের পক্ষ হয়ে লড়াই করেছে। কাজেই নাবী [সাঃআঃ] তোমাকে তা কিভাবে দিবেন! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আবু বাকর্‌ ঠিকই বলিয়াছেন। নিহইতের পরিত্যক্ত জিনিস আবু ক্বাতাদাহকে ফিরিয়ে দাও। আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] বলেন, সে আমাকে তা ফিরিয়ে দিলো। আমি লৌহ বর্মটি বিক্রি করে বনী সালামাহ গোত্রের মহল্লায় বাগান খরিদ করি। ইসলাম কবুলের পর এটাই আমার প্রথম অর্জিত সম্পদ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭১৮. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘোষণা দিলেনঃ কেউ কোন কাফিরকে হত্যা করলে সেই হইবে নিহইতের মালপত্রের অধিকারী। সেদিন আবু ত্বালহা বিশ জনকে হত্যা করে তাহাদের মালপত্রেরে অধিকারী হন। আবু ত্বালহা [রাদি.] উম্মু সুলাইমের [রাদি.] এর সাথে মিলিত হন। তখন উম্মু সুলাইমের হাতে একটি বড় খঞ্জর ছিল। তিনি বলিলেন, হে উম্মু সুলাইম! তোমার নিকট এটা কী? তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! যদি তাহাদের কেউ আমার কাছে আসে, এটা দিয়ে আমি তার পেট চিরে ফেলবো। আবু ত্বালহা [রাদি.] ঘটনাটি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জানালেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসটি হাসান। তিনি আরো বলেন, ঐ সময়ে খঞ্জরটি ছিল অনারবদের যুদ্ধাস্ত্র।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪৮ঃ ঈমাম ইচ্ছা করলে নিহইতের পরিত্যক্ত মাল হত্যাকারীকে নাও দিতে পারেন, নিহইতের ঘোড়া ও হাতিয়ার তার মালেরই অন্তর্ভূক্ত

২৭১৯. আওফ ইবনি মালিক আল-আশজাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যায়িদ ইবনি হারিসের [রাদি.] সাথে মুতার যুদ্ধে বের হই। এ সময় ইয়ামানের মাদাদ গোত্রীয় এক সাহায্যকারী ব্যক্তি আমার সঙ্গী হলো। তার কাছে একটি তরবারি ছাড়া আর কিছু ছিলো না। মুসলিমদের এক ব্যক্তি একটি উট যাবাহ করলে মাদাদী লোকটি তার কাছে চামড়ার অংশ বিশেষ চাইলো। সে তাহাকে কিছু চামড়া দিলে সে তা নিয়ে ঢালের মত তৈরি করলো। আমরা রোমীয় সৈন্যদের মুখোমুখী হলাম। তাহাদের এক ব্যক্তি একটি লাল রঙের ঘোড়ার উপর সাওয়ার ছিল। সেটি সোনার কারুকার্য খচিত এবং তার অস্ত্রও ছিল স্বর্ণে মোড়ানো। রোমীয় সৈন্যটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়ে যুদ্ধ করছিল। ইয়ামানী মাদাদ গোত্রীয় লোকটি একটি পাথরের আড়ালে ঐ লোকটির অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে বসেছিল। রোমক সৈন্যটি যখন তার কাছ দিয়ে যচ্ছিল, সে তার ঘোড়াকে আঘাত করে ঘোড়ার পা কেটে ফেলায় লোকটি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যায়, ফলে ইয়ামানী তার উপর চেপে বসে তাহাকে হত্যা করে তার ঘোড়া ও অস্ত্র নিয়ে আসলো। মহান আল্লাহ যখন মুসলিমদের বিজয় দিলেন, খালিদ ইবনিল ওয়ালীদ [রাদি.] লোক পাঠিয়ে তার কাছ থেকে মালপত্র নিয়ে নিলেন। আওফ [রাদি.] বলেন, আমি এসে বলিলাম, হে খালিদ! তুমি কি জানো না, রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] নিহইতের মালপত্র হত্যাকারীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বলিলেন, হাঁ। কিন্তু আমার ধারণা, এক্ষেত্রে এটা বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমি বলিলাম, তার মাল অবশ্যই তাহাকে ফেরত দাও। অন্যথায় তোমার এ কাজের কথা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে অবহিত করবো। তিনি লোকটিকে তার প্রাপ্য ফেরত দিতে অসম্মতি জানান। আওফ [রাদি.] বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] নিকট সমবেত হই, ইয়ামানীর ঘটনাটি তাঁকে জানাই এবং খালিদের আচরণের কথাও অবহিত করি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে খালিদ! কিসে তোমাকে এ কাজে উদ্ভুদ্ধ করেছে? তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে তার জন্য মালপত্র অত্যধিক মনে হয়েছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ খালিদ! তার প্রাপ্য থেকে তুমি যা নিয়েছ তা তাহাকে ফেরত দাও। আওফ [রাদি.] বলেন, আমি বলিলাম, হে খালিদ! এখন হলো তো, তোমাকে যা বলেছিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এ কি কথা! আওফ [রাদি.] বলিলেনঃ আমি তাঁকে আমাদের পরস্পরের বিতর্কের কথা বলিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এতে অসন্তুষ্ট হয়ে বলিলেনঃ হে খালিদ! তার মাল ফিরিয়ে দিও না। তোমরা কি আমার নিযুক্ত নেতাহাদের পরিত্যাগ করিবে? তারা ভালো করলে তা থেকে তোমরা উপকৃত হইবে, আর খারাপ করলে সেটা তাহাদের উপর চাপিয়ে দিবে?

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭২০. আওফ ইবনি মালিক আল-আশজাঈ [রাদি.] এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদিসের বিষয়বস্তুর অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আমি এটি সহিহ ও যঈফেও পাইনি। হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-১৪৯ঃ নিহত কাফিরের পরিত্যক্ত জিনিসে খুমুস নাই

২৭২১. আওফ ইবনি মালিক আল-আশজাঈ ও খালিদ ইবনিল ওয়ালীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিহত কাফিরের পরিত্যক্ত জিনিসপত্র হত্যাকারীকে দেয়ার হুকুম করেন এবং তিনি নিহইতের মালে এক-পঞ্চমাংশ ধার্য করননি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫০: কেউ মুমুর্ষু কাফিরকে হত্যা করিবে সে তার পরিত্যক্ত মাল থেকে উপহার হিসেবে কিছু পাবে

২৭২২. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বদর যুদ্ধের দিন আমাকে আবু জাহলের তরবারিটি অতিরিক্ত হিসেবে দেন। [কেননা] তাহাকে তিনি হত্যা করেছিলেন।

দূর্বলঃ মিশকাত [৪০০৪] গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫১ঃ কেউ গনিমাতের মাল বন্টিত হওয়ার পর উপস্থিত হলে এর অংশ পাবে না

২৭২৩. সাঈদ ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবান ইবনি সাঈদ ইবনিল আস [রাদি.]-কে মাদীনাহ থেকে নাজদ এলাকায় একটি অভিযানে প্রেরণ করেন। অভিযান শেষে আবান ইবনি সাঈদ [রাদি.] ও তার সাথীরা খায়বার বিজয়ের পর সেখানে এসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে মিলিত হলেন। তাহাদের ঘোড়ার জিনপোষ ছিল ছাল-বাকল দ্বারা তৈরী। আবান বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকেও গনীমতের ভাগ দিবেন। আবু হুরায়রা [রাদি.] বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এদেরকে গনীমতের অংশ দিবেন না। আবান বলিলেন, হে খরগোশ [জংলী বিড়াল]! তুমি এই কথা বলছো! তুমি তো এইমাত্র দাল পাহাড়ের চূড়া থেকে নেমে আমাদের কাছে এসেছো। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে আবান! বসো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদেরকে গনীমতের ভাগ দেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭২৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যখন মাদীনাহ্‌ থেকে আসি তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বার বিজয়ের পর সেখানে অবস্থান করছিলাম। আমাকে গনীমতের ভাগ দেয়ার জন্য আমি তার কাছে আবেদন করি। সাঈদ ইবনিল আসের [রাদি.] এক পুত্র বলিলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! তাঁকে ভাগ দিবেন না। আবু হুরাইরা [রাদি.] বলেন, আমি বলিলাম, ইনিই তো ইবনি কাওকালের হত্যাকারী। এ কথা শুনে সাঈদ ইবনিল আস [রাদি.] বলিলেন, দাল পাহাড়ের চূড়া থেকে নেমে আসা খরগোশটির কথায় অবাক হইতে হয়। সে আমাদের একজন মুসলিমের হত্যার অপবাদ দিচ্ছে। যাকে আল্লাহ আমাদের হাতে সম্মানিত করেছেন, তার হাতে আমাদের অপমানিত করেননি। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তারা ছিল প্রায় দশজন। তন্মমধ্যে ছয়জন নিহত হয় এবং বাকীরা ফিরে যায়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭২৫. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা হাবশা ফিরে এসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি খায়বার বিজয়ী হয়ে কেবল প্রত্যাবর্তন করেছেন। তিনি আমাদেরকে খায়বারে প্রাপ্ত গনীমত থেকে ভাগ দিলেন অথবা দান করিলেন। খায়বার বিজয়ে যারা অনুপস্থিত ছিল তিনি তাহাদের কাউকে গনীমতের অংশ দেননি, দিয়েছেন শুধু অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের। কিন্তু [অভিযানে যোগদান না করা সত্ত্বেও] আমাদের জাহাজের যাত্রী জাফর [রাদি.] এবং তার সাথীদের তিনি গনীমতের অংশ দিয়েছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭২৬. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বদর যুদ্ধের দিন দাঁড়িয়ে বলিলেনঃ উসমান [রাদি.] আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের প্রয়োজনেই গিয়েছে। আমি তার পক্ষ হইতে বাইআত গ্রহণ করছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে গনীমতের ভাগ দিলেন। উসমান ছাড়া অনুপস্থিত অন্য কাউকে তিনি গনীমতের ভাগ দেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫২ঃ নারী ও কৃতদাসকে গনীমতের অংশ প্রদান

২৭২৭. ইয়াযীদ ইবনি হুরমুয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা [খারিজী নেতা] নাজদাহ কিছু বিষয় উল্লেখ করে ইবনি আব্বাসের [রাদি.] নিকট চিঠি লিখলো। তাতে এও ছিল যে, ক্রীতদাস কি ফাই-এর অংশ পাবে? নারীরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে যুদ্ধে যেতো কিনা এবং তাহাদেরকে কি গনীমতের অংশ দেয়া হতো কিনা? ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, সে আহাম্মকী করে বসবে [এরূপ আশঙ্কা না হলে] আমি তার চিঠির উত্তর দিতাম না। অতঃপর তিনি চিঠির উত্তরে লিখলেন, গোলামকে গনীমতের অংশ দেয়া হতো, নারীরা আহতদের সেবা করতো এবং সৈনিকদের জন্য পানি সরবরাহ করতো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭২৮. ইয়াযীদ ইবনি হুরমুয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হারূরার খারিজী নেতা নাজদাহ কয়েকটি প্রশ্ন করে ইবনি আব্বাসের [রাদি.] নিকট চিঠি লিখলো। [তা হলো] নারীরা কি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে যুদ্ধে যোগদান করতো কিনা? উত্তরে জানালাম, নারীরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে আসতো। তবে তিনি তাহাদের জন্য গনীমতের অংশ নির্ধারণ করিতেন না, অবশ্য উপঢৌকন হিসেবে কিছু দিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭২৯. হাশরাজ ইবনি যিয়াদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার পিতার মা অর্থাৎ তার দাদীর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [দাদী] পাঁচজন মহিলাসহ রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে খায়বারের যুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশে রওয়ানা হন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জানতে পেয়ে আমাদেরকে ডেকে পাঠান। আমরা এসে তাহাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ লক্ষ্য করি। তিনি বলিলেনঃ তোমরা কার সাথে এবং কার হুকুমে রওয়ানা হয়েছো? আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এজন্য বেরিয়েছি যে, আমরা দড়ি পাকাবো এবং তা দিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করিতে সাহায্য করবো, আহতদের চিকিৎসার জন্য আমাদের কাছে ঔষধপত্র রয়েছে, আমরা সৈন্যদের তীর-ধনুক এগিয়ে দিবো এবং তাহাদেরকে ছাতু তৈরি করে দিবো। তিনি বলিলেনঃ ঠিক আছে, চলো। আল্লাহ তাহাঁর রাসূলকে খায়বারের যুদ্ধে বিজয় দান করিলেন। তিনি পুরুষদের ন্যায় আমাদেরকেও গনীমতের ভাগ দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাহাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে দাদী! ভাগে কি ছিল? তিনি বলিলেন, খেজুর।

দুর্বলঃ ইরওয়া [১২৩৮]। গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৩০. আবুল লাহমের আযাদকৃত গোলাম উমাইর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার মনিবের সাথে খায়বারের যুদ্ধে গমন করি। তারা আমার ব্যাপারে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে আলাপ করলে তাহাঁর নির্দেশ মোতাবেক আমার কোমরে তরবারি ঝুলানো হলো। তা আমি যমীনে হেঁচড়িয়ে চলতাম। তিনি পরে অবহিত হলেন যে, আমি মুক্তদাস। তিনি আমাকে কিছু জিনিসপত্র দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এর অর্থ হলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে গনীমতের অংশ দেননি। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আরো বলেন, আবু উবাইদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, তিনি তার জন্য গোশত ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেন। সেজন্য তার নাম আবুল লাহম [গোশতের পিতা]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৩১. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের দিন আমি আমার সাথীদের জন্য পানি সরবরাহ করেছি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫৩ঃ মুশরিকদের জন্য গনীমতের অংশ আছে কিনা?

২৭৩২. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক মুশরিকদের নাবী [সাঃআঃ] এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাহাঁর সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের ইচ্ছে করলে তিনি বলিলেনঃ তুমি ফিরে যাও। আমরা মুশরিকদের সাহায্য চাই না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫৪ঃ গনীমতের মালে ঘোড়ার [দুই] অংশ

২৭৩৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সৈনিক ও তার ঘোড়ার জন্য তিন ভাগ গনীমাত নির্ধারণ করেন। এক ভাগ সৈনিকের এবং দুই ভাগ ঘোড়ার।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৩৪, আবু আমরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [পিতা] বলেন, আমরা চার ব্যক্তি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে এলাম। আমাদের সাথে একটি ঘোড়াও ছিল। তিনি আমাদের প্রত্যেককে গনীমাত থেকে এক ভাগ করে দিলেন, আর ঘোড়ার জন্য দুই ভাগ দিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৩৫. আবু আমরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

আবু আমরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সমার্থক হাদিস বর্ণনা করেন। তবে তিনি এ বর্ণনায় তিনজনের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, ঘোড় সওয়ারীর জন্য ছিল তিন ভাগ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫৫ঃ পদাতিকের জন্য এক অংশ

২৭৩৬. মুজাম্মি ইবনি জারিয়াহ আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ছিলেন অন্যতম ক্বারী। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে হুদায়বিয়াতে ছিলাম। আমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করলে লোকেরা তাহাদের উটগুলোকে এক স্থানে সমবেত হওয়ার জন্য দ্রুত হাঁকাতে লাগলো। লোকেরা পরস্পর বলাবলি করলো, দ্রুত হাঁকানোর কারণ কি? পরে তারা জানতে পারলো, নাবী [সাঃআঃ]-এর উপর ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অন্যান্য লোকের সাথে আমরাও জলদি করে ছুটলাম। আমরা কুরাউল গামীম নামক স্থানে পৌঁছে নাবী [সাঃআঃ]-কে তাহাঁর সওয়ারীতে বসা দেখিতে পেলাম। লোকেরা তাহাঁর কাছে সমবেত হলে তিনি তাহাদেরকে “ইন্না ফাতাহনা লাকা ফাতহাম মুবীনা” নামক সূরাহ পড়ে শুনালেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি বিজয়? তিনি বলিলেনঃ হাঁ, ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এটাই বিজয়। যারা হুদায়বিয়ায় যোগদান করেছে তাহাদের মাঝে খায়বারের গনীমাত বন্টন করা হয়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রাপ্ত গনীমাত আঠার ভাগে বিভক্ত করেন। যোদ্ধা ছিল পনের শত এবং এর মধ্যে অশ্বারোহী ছিল তিনশো। তিনি অশ্বারোহীদের দুই ভাগ এবং পদাতিকদের এক ভাগ করে গনীমাত প্রদান করিলেন। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু মুআবিয়হ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদিসটি অধিক সহিহ। এ হাদিসের উপরই আমল করা হয়। আমার মতে মুজাম্মির [রাদি.] হাদিসে ভুল আছে। কারণ তিনি বলিয়াছেন, অশ্বারোহী ছিল তিনশো, অথচ অশ্বারোহী ছিল দুইশো।

গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫৬ঃ গনীমাত থেকে কাউকে পুরস্কার দেয়া

২৭৩৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ যে ব্যক্তি এই এই কাজ করিতে পারবে তাহাকে গনীমাত থেকে এই এই [পুরস্কার] দেয়া হইবে। এ কথা শুনে যুবকরা সম্মুখে এগিয়ে গেলো এবং বয়স্করা পতাকার কাছে অটলভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। আল্লাহ তাহাদেরকে বিজয়ী করলে বয়স্করা বলিলেন, আমরা তোমাদের সাহায্যকারী পৃষ্ঠপোষক। তোমরা পরাজিত হলে আমাদের কাছেই ফিরে আসতে। সুতরাং আমাদেরকে বাদ দিয়ে তোমরা একাই গনীমাত নিতে পারো না। কিন্তু যুবকরা এ প্রস্তাব না মেনে বললো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসব আমাদেরকে দিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তারা আপনাকে গনীমতের মাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, এ গনীমতের মাল আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের। যখন আপনার রব্ব আপনাকে সত্য সহকারে আপনার ঘর থেকে বের করে আনলেন এবং একদল ঈমানদারের নিকট তা ছিল খুবই দুঃসহ” [সূরাহ আল-আনফালঃ ১-৫]। তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ এটাই উভয় দলের জন্য কল্যাণকর হলো। সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো। কেননা আমি এর পরিণতি সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক জানি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৩৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বদরের যুদ্ধের দিন ঘোষণা করলেনঃ কেউ কোন শত্রুকে হত্যা করলে তার জন্য এই এই [পুরস্কার]। আর কেউ কোন শত্রুকে বন্দী করলে তার জন্যও এই এই [পুরস্কার]। এরপর পূর্বের হাদিসের অনুরূপ। খালিদের হাদিসটি পূর্ণাঙ্গ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৩৯. দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদিস তার সনদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমতের মাল সবাইকে সমান ভাগে বন্টন করে দিলেন। খালিদের বর্ণিত হাদিস [পূর্বেরটি] ইয়াহইয়া ইবনি আবু যায়িদাহর এ হাদিসের চেয়ে পূর্ণাঙ্গ।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭৪০. সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বদর যুদ্ধ শেষে একটি তরবারি নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাছে গিয়ে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ আজকের দিন শত্রু নিধনের ব্যাপারে আমার অন্তরকে নিরাময় দিয়েছেন। সুতরাং এই তরবারি আমাকে দিয়ে দিন। তিনি বলিলেনঃ এটা আমারও নয় তোমারও নয়। তখন আমি এই বলিতে বলিতে ফিরে যাই যে, আজকের এ তরবারি এমন লোককে দেয়া হইবে, যুদ্ধের ময়দানে যে আমার মত পরীক্ষার সম্মুখীন হয়নি। এমন সময় রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] দূত আমার কাছে এসে বললো, চলো। আমি ভাবলাম, আমার ঐ কথার কারণে আমার বিরুদ্ধে কিছু অবতীর্ণ হয়েছে। আমি আসলে নাবী [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেনঃ তুমি আমার কাছে এ তরবারিটা চেয়েছিলে, তখন এর মালিকানা আমারও ছিল না, তোমারও ছিল না। এখন আল্লাহ আমাকে এটা দান করেছেন। কাজেই এটা এখন তোমার। অতঃপর তিনি এ আয়াত পড়লেনঃ “তারা আপনাকে গনীমতের মাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, গনীমতের মাল আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের…” আয়াতের শেষ পর্যন্ত [সূরাহ আল-আনফালঃ ১]। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি মাসউদ [রাদি.] এর ক্বিরাআত হলোঃ ইয়াসআলূনাকান-নাফলা।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-১৫৭ঃ মুজাহিদ বাহিনীর গনীমাত থেকে ক্ষুদ্র সামরিক বাহীনীকে পুরস্কার প্রদান

২৭৪১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে এক মুজাহিদ বাহিনীর সাথে নাজাদ এলাকায় প্রেরণ করেন এবং সেনাবাহিনীর একটি অংশকে অভিযানে পাঠান। সেনাবাহিনীর সকল সৈন্য ভাগে বারোটি করে গনীমতের উট পেলো এবং অভিযানে প্রেরিত সৈন্যদেরকে তিনি একটি করে উট অতিরিক্ত দিলেন। ফলে তাহাদের প্রত্যেকের ভাগে তেরটি করে উট পড়ে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৪২. ওয়ালীদ ইবনি মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনিল মুবারকের নিকট উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা করি। আমি বলি, আমাদের কাছে ইবনি আবু ফারওয়াহ নাফি হইতে হাদিসটি এভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনিল মুবারক বলিলেন, তুমি যার যার নাম উল্লেখ করেছ তারা কোন দিক দিয়েই মালিক ইবনি আনাসের সমক্ষ নন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৪৩. নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নাজাদ এলাকায় একটি বাহিনী পাঠালে তাহাদের সাথে আমিও হই। সেখানে আমরা প্রচুর পরিমাণ গনীমাত লাভ করি। আমাদের সেনাপতি আমাদের প্রত্যেককে একটি উট পুরস্কার দিলেন। অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাছে ফিরে এলে তিনি আমাদের মাঝে গনীমতের মাল বন্টন করেন। এক-পঞ্চমাংশ বাদ দেয়ার পর আমাদের প্রত্যেকে বারোটি করে উট গনীমতের পায়। আমাদের সেনাপতি যে উটগুলো পূর্বে আমাদেরকে দিয়েছিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা হিসাবে আনেননি। তিনি এ কাজের জন্য সেনাপতির কোন দোষও ধরেননি। ফলে আমাদের প্রত্যেকের ভাগে তার দেয়া অতিরিক্ত একটি সহ মোট তেরোটি করে উট পড়লো।

গনীমতের মাল -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৪৪. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নাজাদ এলাকায় একটি অভিযান পাঠান, তাতে আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-ও ছিলেন। তারা তাতে প্রচুর পরিমাণে গনীমতের মাল লাভ করেন। এতে তাহাদের প্রত্যেককে বারোটি করে উট দেয়া হলো।

বর্ণনাকারী ইবনি মাওহাবের বর্ণনায় রয়েছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উল্লেখিত বন্টন কোন পরিবর্তন করেননি। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৪৫. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে একটি সামরিক অভিযানে পাঠালেন। আমরা প্রত্যেকেই ভাগে বারোটি করে উট পেলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত একটি করে উট দিলেন। আরেক বর্ণনায় অতিরিক্ত একটি করে উট দেয়ার কথা রয়েছে। তবে তাতে এ কথা নেই যে, তা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দিয়েছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৪৬. আবদূল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পক্ষ হইতে বিশেষ অভিযানে প্রেরিত সেনাদের গনীমাত থেকে অতিরিক্ত দিতেন। যা সাধারণভাবে সব বাহিনীকে দেয়া হতো না। অবশ্য সমস্ত গনীমাত থেকে এক-পঞ্চমাংশ নেয়া হতো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৪৭. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তিনশো পনের জন নিয়ে বদরের প্রান্তরে রওয়ানা হলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ “হে আল্লাহ! এরা পদাতিক বাহিনী, এদেরকে বাহন দান করুন। হে আল্লাহ! এরা বস্ত্রহীন, এদেরকে পরিধেয় বস্ত্র দান করুন। হে আল্লাহ! এরা অন্নহীন, এদেরকে খাদ্য দিয়ে পরিতৃপ্ত করুন।” অতঃপর আল্লাহ তাঁকে বদরে বিজয়ী করিলেন। সাহাবীরা যখন সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন তাহাদের প্রত্যেকেই একটি বা দুইটি উট নিয়ে, পোশাকে সজ্জিত হয়ে এবং পরিতৃপ্ত হয়ে ফিরলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫৮ঃ যিনি বলেন, অতিরিক্ত দেয়ার আগেই এক-পঞ্চমাংশ পৃথক করিবে

২৭৪৮. হাবীব ইবনি মাসলামাহ আল-ফিহরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ বের করার পর অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৪৯. হাবীব ইবনি মাসলামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক-পঞ্চমাংশ বের করার পর অবশিষ্ট মালের এক-চতুর্থাংশ অতিরিক্ত হিসেবে দান করিতেন এবং যুদ্ধ হইতে ফেরার পর এক-পঞ্চমাংশ পৃথক রেখে তাহাদেরকে অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত দান করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৫০. মাকহুল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মিসরে হুযাইল গোত্রের এক মহিলার গোলাম ছিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে আযাদ করেন। আমার জানা মতে মিসরে সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন না করা পর্যন্ত আমি সেখান থেকে বের হইনি। অতঃপর আমি হিজাযে আগমন করে সেখান থেকে সেখানকার কেন্দ্রগুলো থেকে জ্ঞান অর্জন করি। অতঃপর ইরাকে আসি এবং সেখানকার কেন্দ্রগুলো থেকে জ্ঞানার্জন করে সেখান থেকে বের হই। অতঃপর আমি সিরিয়ায় পৌছে এর বিভিন্ন এলাকা ভ্রমণ করি এবং গনীমাত সম্পর্কে জিজ্ঞস করি। কিন্তু এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করার মত কাউকে পাইনি। অবশেষে আমি যিয়াদ ইবনি জারিয়াহ আত-তামীমী নামক এক বৃদ্ধের সাক্ষাৎ পেয়ে তাহাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি গনীমাত সম্পর্কে কিছু শুনেছেন কি? তিনি বলিলেন, হাঁ। আমি হাবীব ইবনি মাসলামাহ আল-ফিহরী [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছিঃ আমি নাবী [সাঃআঃ] এর সাথে ছিলাম।

তিনি প্রথমে গনীমাত থেকে [এক-পঞ্চমাংশ বের করার পর বাকী মালের] এক-চতুর্থাংশ অতিরিক্ত দিতেন এবং যুদ্ধশেষে ফেরার পথে এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত দিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫৯ঃ ক্ষুদ্র সামরিক অভিযান শেষে মূল বাহিনীতে প্রত্যাবর্তন

২৭৫১. আমর ইবরু শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ সকল মুসলিমের রক্ত সমান। একজন সাধারণ মুসলিমও যে কোন ব্যক্তিকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলে তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা সকলের কর্তব্যে পরিণত হয়। অনুরুপভাবে দূরবর্তী স্থানের মুসলিমরাও তাহাদের পক্ষে এ ধরনের আশ্রয় দিতে পারে। প্রত্যেক মুসলিম তার প্রতিপক্ষ শত্রুর বিরুদ্ধে অন্য মুসলিমকে সাহায্য করিবে। যার শক্তিশালী ও দ্রুত পতিসম্পন্ন সওয়ারী আছে, সে দুর্বল ও ধীর গতিসম্পন্ন সওয়ারীর অধিকারী ব্যক্তির সাথে থেকে চলবে। সেনাবাহিনীর কোন বিশেষ অংশ গনীমতের মাল অর্জন করলে তা সকলের মধ্যে বন্টিত হইবে। কোন কাফিরকে হত্যার অপরাধে কোন মুমিনকে হত্যা করা যাবে না। চুক্তিবদ্ধ কোন কাফিরকে চুক্তির মেয়াদের মধ্যে হত্যা করা যাবে না। বর্ণনাকারী ইসহাক্ব তার বর্ণনায় “আলমুসলিমূনা তাতাকাফা দিমাউহুম” এবং “ওয়ালা ইউক্বতালু মুমিনুন বি কাফিরিন” বাক্য দুটি উল্লেখ করেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২৭৫২. ইয়াস ইবনি সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [সালামাহ] বলেন, আবদুর রহমান ইবনি উয়াইনাহ রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] উট লুন্ঠন করলো এবং তাহাঁর রাখালকে মেরে ফেললো। অতঃপর সে ও তার অশ্বারোহী সাথীরা উটগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে থাকলো। আমি [সালামাহ] মাদীনার দিকে মুখ ফিরিয়ে [সাহায্যের জন্য] তিনবার ডাক দিলাম, হুশিয়ার! [ডাকাত দল এসেছে]। অতঃপর আমি তাহাদের পিছু ধাওয়া করে তীর ছুঁড়ে তাহাদেরকে আহত করিতে লাগলাম। তাহাদের কোন অশ্বারোহী আমার দিকে ফিরলে আমি গাছের আড়ালে লুকাতাম। এভাবে আমি নাবী [সাঃআঃ] এর উটগুলোকে [উদ্ধার করে] আমার পিছনে ফেললাম। তারা বোঝা হালকা করে দ্রুত পালানোর জন্য তিরিশের অধিক বর্শা এবং তিরিশের অধিক চাদর বাহনের পিঠ থেকে ফেলে দেয়। তাহাদের সাহায্য করিতে উয়াইনাহ এগিয়ে এসে বললো, তার [সালামাহর] মোকাবিলার জনঃ কয়েকজন অগ্রসর হও। অতঃপর আমার মোকাবিলার জন্য তাহাদের চার জন সামনে অগ্রসর হয়ে পাহাড়ে উঠলো। আমার অবস্থান যখন তাহাদের থেকে এতটুকু দূরে ছিলো যে, তারা আমার ডাক শুনতে পাবে, তখন আমি বলিলাম, তোমরা কি আমাকে চেনো! তারা বললো, তুমি কে? আমি বলিলাম, আমি আকওয়ার পুত্র। সেই সত্ত্বার শপথ, যিনি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] -এর চেহারাকে সম্মানিত করেছেন! তোমাদের কেউ আমাকে ধরতে চাইলে, সে কখনোই আমাকে ধরতে পরবেনা। পক্ষান্তরে আমি কাউকে ধরতে পারলে তার রক্ষা নাই। এমন সময় আমি দেখিতে পেলাম যে, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] অশ্বারোহী বাহিনী গাছপালার ভিতর দিয়ে এগিয়ে আসছে। আখরাম আল-আসাদী [রাদি.] ছিলেন তাহাদের সবার আগে। আখরাম আল-আসাদী [রাদি.] আবদুর রহমান ইবনি উযাইনাহর দিকে অগ্রসর হলেন, সেও তাহাকে দেখিতে পেলো। উভয়ের মধ্যে আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণ চললো। আখরাম [রাদি.] তার ঘোড়াকে আঘাত করে হত্যা করিলেন। আবদুর রহমান [বল্লমের আঘাতে] আখরামকে শহীদ করে আখরামের ঘোড়ায় আরোহণ করলো। এবার আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] আবদুর রহমানের মোকাবিলায় এগিয়ে এলেন। দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলো। সে আবু ক্বাতাদাহর [রাদি.] ঘোড়াকে হত্যা করলো। আর আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] তাহাকে হত্যা করিলেন। অতঃপর তিনি আখরামের ঘোড়ার সওয়ার হলেন। এরপর আমি [সালামাহ] রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে আসি। এ সময় তিনি যু ক্বারাদ নামক কূপের নিকটে অবস্থান করছিলেন। এখান থেকেই আমি লুটেরাদের ধাওয়া করেছিলাম। তখন রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে পাঁচশো লোক ছিলো। তিনি আমাকে [বীরত্বের জন্য] একজন অশ্বারোহীর ভাগ দিলেন এবং পদাতিকের ভাগও দিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-১৬০: সোনা-রূপা ও গনীমতের প্রাথমিক মাল থেকে অতিরিক্ত প্রদান

২৭৫৩. আবুল জুওয়াইরিয়াহ আল-জারমী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুআবিয়াহর [রাদি.] শাসনামলে রোম এলাকায় স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি লাল রঙের একটি কলস পাই। এ সময়ে আমাদের অধিনায়ক ছিলেন বনী সুলাইম গোত্রের মান ইবনি ইয়াযীদ [রাদি.] নামক নাবী [সাঃআঃ] এর এক সাহাবী। আমি কলসটি নিয়ে তার কাছে আসলে তিনি সৈনিকদের মধ্যে দীনারগুলি ভাগ করে দিলেন। তিনি অন্যদের মত আমাকেও এক ভাগ দিলেন। তিনি বলিলেন, আমি যদি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে একথা বলিতে না শুনতামঃ “এক-পঞ্চমাংশ নির্ধারণ করার পরই অতিরিক্ত দেয়া যায়।”, তাহলে আমি তোমাকে অতিরিক্ত দিতাম। অতঃপর তিনি তার অংশ থেকে আমাকে কিছু দিতে চাইলে আমি নিতে অসম্মতি জানাই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৫৪. আসিম ইবনি কুলাইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত হাদিস আসিম ইবনি কুলাইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে একই সানাদে একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-১৬১ঃ ফাই থেকে ঈমাম নিজের জন্য কিছু রাখবে

২৭৫৫. আমর ইবনি আবাসাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [সুতরাহ স্বরূপ] গনীমতের একটি উটকে সামনে রেখে আমাদের নিয়ে সলাত আদায় করিলেন। সালাম ফিরিয়ে তিনি উটের পার্শ্বদেশের একটি পশম নিয়ে বলিলেনঃ এক-পঞ্চমাংশ ছাড়া তোমাদের গনীমাত থেকে আমার জন্য এতটুকু বৈধ নয়। আর এই এক-পঞ্চমাংশ তোমাদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: