যে নবীয [ খেজুর ভেজানো পানি ] গাঢ় হয়নি এবং নেশাগ্রস্ত হয়নি

যে নবীয [ খেজুর ভেজানো পানি ] গাঢ় হয়নি এবং নেশাগ্রস্ত হয়নি

যে নবীয [ খেজুর ভেজানো পানি ] গাঢ় হয়নি এবং নেশাগ্রস্ত হয়নি >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৯. অধ্যায়ঃ যে নবীয [ খেজুর ভেজানো পানি ] গাঢ় হয়নি এবং নেশাগ্রস্ত হয়নি, তা পান করা বৈধ

৫১২১

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য রাতের প্রথম ভাগে নবীয প্রস্তত করা হতো। তিনি তা পান করিতেন, সেদিন সকালে, আগামী রাতে, পরবর্তী দিনে, এর পরের রাতে এবং পরদিন আস্‌র পর্যন্ত। তবে যদি কিছু পরিশিষ্ট থেকে যেত, তা তিনি তাহাঁর সেবাদানকারীকে পান করাতেন, কিংবা ফেলে দিতে নির্দেশ দিতেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৬৬]

৫১২২

ইয়াহ্‌ইয়া বাহরানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মানুষেরা ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর কাছে নবীযের ব্যাপারে আলোচনা করলে তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর জন্য মশকে নবীয প্রস্তত করা হতো। শুবাহ্‌ বলেন, সোমবারের রজনীতে [অর্থাৎ রোববার দিবাগত রাতে] তিনি তা সোমবার দিন ও মঙ্গলবার আস্‌র পর্যন্ত পান করিতেন। এরপরও কিছু বাকী থাকলে তিনি সেটা খাদিমকে পান করাতেন বা ফেলে দিতেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৬৭]

৫১২৩

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য কিসমিস পানিতে ডুবিয়ে রাখা হতো। তিনি সেদিন, তার পরের দিন এবং তৃতীয় দিন বিকালে পর্যন্ত তা পান করিতেন। অতঃপর তাহাঁর নির্দেশে কোন লোককে পান করানো হতো কিংবা ফেলে দেয়া হতো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৬৮]

৫১২৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য মশকের ভিতরে কিসমিসের নবীয প্রস্তুত করা হতো। তিনি ঐদিন, তার পরবর্তী দিন এবং পরশু দিন পর্যন্ত তা পান করিতেন। তৃতীয় দিনের বিকাল হলে তিনি নিজে তা পান করিতেন এবং অপরকে পান করাতেন। তারপরও যদি কিছু বাকী থাকত তিনি তা ঢেলে দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৬৯]

৫১২৫

ইয়াহ্‌ইয়া নাখ্‌ঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কতিপয় লোক ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে মদ কেনা-বেচা এবং এর ব্যবসা সম্পর্কে প্রশ্ন করলো। তিনি বলিলেন, তোমরা কি মুসলিম? তারা বললো, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তাহলে এর কেনা-বেচা ও ব্যবসা জায়িয হইবে না। রাবী বলেন, অতঃপর তারা তাঁকে নবীয সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একবার ভ্রমণে গিয়ে যখন ফিরে আসলেন, তখন তাহাঁর সাহাবীদের থেকে কতিপয় লোক হানতাম, নাকীর ও দুব্বার মাঝে নবীয প্রস্তুত করছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন তা ঢেলে ফেলা হয়। অতঃপর তিনি মশ্‌ক আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তার মধ্যে কিসমিস ও পানি দিয়ে সারারাত রাখা হলো। সেদিন সকালে এবং আগামী রাত ও তার পরবর্তী বিকাল পর্যন্ত তিনি তা হইতে পান করেন, আর অন্যদের পান করিতে দেন। রাত পার হলে তিনি বাকী অংশের ব্যাপারে আদেশ দিলে, তা ঢেলে ফেলা হলো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬০, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭০]

৫১২৬

সুমামাহ্‌ ইবনি হায্‌ন কুশাইরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে নবীয সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। আয়িশা [রাদি.] এক হাবশী ক্রীতদাসীকে ডেকে বলিলেন, একে প্রশ্ন করো- রসূলুল্লাহ –এর জন্য সে নবীয প্রস্তুত করতো। অতঃপর হাবশী মেয়েটি বলিল, রাতে আমি তাহাঁর জন্য মশকের ভিতরে নবীয প্রস্তুত করতাম এবং সেটি মুখ বন্ধ করে লটকিয়ে রাখতাম। ভোর হলে তিনি এ থেকে পান করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬১, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭১]

৫১২৭

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর জন্য নবীয তৈরি করতাম এমন মশকে যার প্রবেশদ্বার উপরের দিকে এবং যেটির [নিচের দিকে] বহু ছিদ্র ছিল। আমরা ভোরে নবীয প্রস্তুত করলে রাত্রেই তিনি পান করিতেন। পুনরায় রাতে করলে ভোরেই তিনি পান করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭২]

৫১২৮

সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু উসায়দ সাইদী [রাদি.] তাহাঁর বিবাহে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –কে দাওয়াত করিলেন। তাহাঁর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীই সেদিন তাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। সাহ্‌ল [রাদি.] বলিলেন, তোমরা কি জান, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে কী পান করিতে দিয়েছিলেন? তিনি রাতে কিছু খেজুর একটি পাথরের পাত্রে ভিজিয়ে রেখেছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খাবার শেষ করলে তিনি তাঁকে তা পান করিয়েছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭৩]

৫১২৯

আবু হাযিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সাহ্‌ল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে বলিতে শুনেছি যে, আবু উসায়দ সাইদী [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এলেন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দাওয়াত করিলেন। তারপর রাবী উপরোল্লিখিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। তবে তিনি এ কথা বলেননি যে, “খাওয়া শেষ হলে সে নবীযটুকু তিনি তাঁকে পান করান”।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭৪]

৫১৩০

সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলছেন, পাথর দিয়ে তৈরি বাসনে [নবীয বানানো হয়েছিল], এরপর রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খাবার শেষ করলে তিনি তা হালকা করে একমাত্র তাঁকেই পান করিতে দিয়েছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭৫]

৫১৩১

সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর কাছে আরবের জনৈকা মহিলার ব্যাপারে আলোচনা করা হলে, তিনি আবু উসায়দ [রাদি.]-কে তার কাছে লোক প্রেরনের জন্য নির্দেশ দিলেন। তিনি লোক [দুত] পাঠালে উক্ত মহিলা আসলো এবং বানূ সাইদাহ্‌ সম্প্রাদায়ের দুর্গে অবস্থান গ্রহণ করলো। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বের হয়ে তার কাছে আসলেন। তিনি যখন তার কাছে পোঁছলেন,তখন মহিলা মাথা নীচু করে বসেছিল। তিনি তার সঙ্গে আলাপ করলে সে বলিল, আমি আপনার থেকে আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাই। তিনি বলিলেন, আমিও তোমাকে পরিত্রাণ দিলাম। লোকেরা মহিলাকে বলিল, তুমি জান ইনি কে? সে বলিল, না। তাঁরা বলিল, ইনি তো আল্লাহ্‌র রসূল। তিনি তোমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে এসেছিলেন। তখন সে বলিল আমি তো এর অযোগ্য!

সাহ্‌ল [রাদি.] বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেদিন প্রত্যাবর্তন করে তিনি ও তাহাঁর সাহাবীগণ বানূ সাইদার সাকীফায় [বাগানে] নিজেকে উপবেশন করেন। অতঃপর তিনি সাহ্‌লকে বলিলেন, আমাদেরকে কিছু পান করাও। সাহ্‌ল বলেন, পরে আমি এক পেয়ালাটি বের করে তাদের সকলকেই তা হইতে পান করিয়েছিলাম।

আবু হাযিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাহ্‌ল [রাদি.] আমাদের সম্মুখে বাটিটি বের করলে আমরা তা হইতে পান করলাম। অতঃপর উমর ইবনি আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তা চাইলে, তিনি তাঁকে সেটি দান করেন। আবু বক্‌র ইবনি ইসহাক্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর রিওয়ায়াতে আছে, তিনি বলিলেন, হে সাহ্‌ল! তুমি আমাদেরকে পান করাও।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭৬]

৫১৩২

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার এ পেয়ালাটি দিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে মধু, নবীয, পানি, দুধ ইত্যাদি সকল প্রকার পানীয় [দ্রব্য] পান করিয়েছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫০৭৭]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply