জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য

জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য

জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬৩. অধ্যায়ঃ জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য

২৫৯

হাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

মাকিল ইবনি ইয়াসার-এর মৃত্যুশয্যায় উবাইদুল্লাহ ইবনি যিয়াদ তাহাঁর সাক্ষাতে যান। মাকিল তাকে বলিলেন, আজ তোমাকে রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] থেকে শোনা এমন একটি হাদীস শুনাব যা আমি আরো বেঁচে থাকব বলে জানলে তা কিছুতেই শুনাতাম না। আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে এ কথা বলিতে শুনিয়াছি যে, আল্লাহ তাআলা যাকে জনগণের দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু খিয়ানাতকারীরূপে যদি তার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন। [ই.ফা. ২৬১; ই.সে. ২৭১]

২৬০

হাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাকিল ইবনি ইয়াসারের অসুস্থ অবস্থায় উবাইদুল্লাহ ইবনি যিয়াদ তাহাঁর সাক্ষাতে গেলেন এবং কিছু জানতে চাইলেন। তখন মাকিল [রাঃআ:] বলেন, আজ তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করব যা আমি আগে তোমাকে বর্ণনা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, আল্লাহ তাআলা যাকে জনগণের শাসনভার প্রদান করেন আর সে যদি খিয়ানাতকারীরূপে মৃত্যুবরণ করে, তবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন। উবাইদুল্লাহ বলিলেন, আপনি কি আজ পর্যন্ত এ হাদীস আমাকে বর্ণনা করেননি? তিনি বলিলেন, না কখনো বর্ণনা করিনি। অথবা রাবী এ কথা বলেছেন, না, বর্ণনা করিতে ইচ্ছুক ছিলাম না। {৫২} [ই.ফা. ২৬২; ই.সে. ২৭২]

{৫২} মাকিল ইবনি ইয়াসার তাহাঁর মৃত্যুর সময় উবাইদুল্লাহ ইবনি যিয়াদকে উক্ত হাদীস বর্ণনা করে শুনালেন। তিনি জানতেন যে, উবাইদুল্লাহর এ হাদীস হয়ত কোন উপকারে আসবে না। তবুও তিনি বলিলেন, হাদীস গোপন করা ঠিক নয় মনে করে। আর সে মানুক আর নাই মানুক, ভাল কথা বলে দেয়া দরকার। মাকিল [রাঃআ:] তাহাঁর জীবদ্দশায় বলার প্রয়োজন এজন্য মনে করেননি যে, মানুষ উবাইদুল্লাহ র প্রতি ঘৃণা করে তাহাঁর ইতায়াত বা অনুসরণ পরিত্যাগ করে, সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়। আর উবাইদুল্লাহ ঐ হাদীসের কারণে তাকে কষ্ট দিতে পারেন। যেহেতু উবাইদুল্লাহ অত্যাচারী ছিলেন। তিনি প্রিয়নবি [সাঃআ:]-এর আত্মীয়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিতেন না। অন্যান্যরা তো দূরের কথা।

শাসক তার শাসিত জনগণের সাথে খিয়ানাতের অর্থ শাসককে দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট থাকা অপরিহার্য। যে শাসক জনগণের দীনে আঘাত করে, শারীআতের সীমালঙ্ঘন করে, জনগণের জান ও মালের হিফাযাত না করে, অন্যায় অত্যাচার করে; অথবা জনগণের সাথে কোন প্রকার সুবিচার করে না; হাক্‌ নষ্ট করে, তাহলে সে দায়িত্বে খিয়ানাত করিল, সে জাহান্নামী হইবে। হ্যাঁ, যদি সে অত্যাচারকে বৈধ মনে করে, তাহলে চিরস্থায়ী জাহান্নামে বসবাস করিবে। অন্যান্য জান্নাতীদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না। [সংক্ষিপ্ত নাবাবী]

২৬১

হাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা মাকিল ইবনি ইয়াসার [রাঃআ:]-এর অসুস্থতাকালে তাহাঁর কুশলাদি জানতে গিয়েছিলাম। এমন সময় উবাইদুল্লাহ ইবনি যিয়াদ তথায় উপস্থিত হন। মাকিল ইবনি ইয়াসার [রাঃআ:] তাকে বলিলেন, আজ তোমাকে একটি হাদীস শুনাব যা আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] থেকে শুনিয়াছি …..। পরে তিনি উল্লেখিত হাদীসদ্বয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেন। [ই.ফা. ২৬৩; ই.সে. ২৭৩]

২৬২

আবু মালীহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

মাকিল ইবনি ইয়াসার-এর অসুস্থতাবস্থায় তাকে দেখিতে উবাইদুল্লাহ ইবনি যিয়াদ উপস্থিত হলে তাকে মাকিল বলেন, আজ আমি তোমাকে একটি হাদীস বলব, আমি মৃত্যুশয্যায় না থাকলে তা বর্ণনা করতাম না। আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, মুসলিমদের দায়িত্বে নিযুক্ত কোন আমীর [শাসক] যদি তাহাদের কল্যাণ কামনা না করে এবং তাহাদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রয়াস না চালায় তবে সে মুসলিমদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না। [ই.ফা. ২৬৪; ই.সে. ২৭৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply