খারিজী সম্প্রদায় কে হত্যা করিতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে

খারিজী সম্প্রদায় কে হত্যা করিতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে

খারিজী সম্প্রদায় কে হত্যা করিতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪৮. অধ্যায়ঃ খারিজী সম্প্রদায় কে হত্যা করিতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে

২৩৫২

সুওয়াইদ ইবনি গাফালাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আলী [রাদি.] বলেছেনঃ আমি কোন কথা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পক্ষ থেকে বানিয়ে বলার চেয়ে – আমার আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া শ্রেয় মনে করি। আর যখন আমি আমার ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপার নিয়ে কথা বলি তখন মনে রাখবে যে, যুদ্ধে কৌশল ও চাতুরকার আশ্রয় নেয়া বৈধ। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিঃ সে যুগে [অর্থাৎ কিয়ামাতের পূর্বে] এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা অল্প বয়স্ক ও স্বল্প-বুদ্ধি সম্পন্ন হইবে। তারা সৃষ্টি জগতের চেয়ে ভাল ভাল কথা বলবে, তারা কুরআন মাজীদ পাঠ করিবে কিন্তু তা তাদের গলার নিচে যাবে না। তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারাও অনুরূপভাবে বেরিয়ে যাবে। অতএব, তোমারা তাদের মুখোমুখী হলে তাদের হত্যা করে ফেলবে। কেননা তাদেরকে যারা হত্যা করিবে তারা ক্বিয়ামাতের আল্লাহর কাছে সোয়াব পাবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৩০ ইসলামিক সেন্টার- ২৩৩১]

২৩৫৩

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৩১ ইসলামিক সেন্টার-২৩৩২]

২৩৫৪

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে অপর এক সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

উপরে বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে- “তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারা অনুরূপভাবে দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে” কথাটির উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৩২ ইসলামিক সেন্টার-২৩৩৩]

২৩৫৫

আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

। তিনি খারিজীদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তাদের মধ্যে এমন এক ব্যাক্তি থাকিবে যার হাত খাটো বা মহিলাদের স্তনের ন্যায় হইবে। তোমরা যদি অহংকারে লিপ্ত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পার তাহলে আমি তোমাদেরকে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-এর যবানে আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি সম্বন্ধে আলোচনা করব যা তিনি তাদের হত্যাকারীদের সম্পর্কে বলেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৩৩ ইসলামিক সেন্টার-২৩৩৪]

২৩৫৬

মুহাম্মাদ ইবনি আবীদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি  মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর মুখে এ কথা শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, কাবার প্রভুর শপথ! হ্যাঁ কাবার প্রভুর শপথ! হ্যাঁ, কাবার প্রভুর শপথ! [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৩৪ ই. সে.]

২৩৫৭

যায়দ ইবনি ওয়াহব আল জুহানী হইতে বর্ণীতঃ

যে সৈন্যদল আলী [রাদি.]-এর সাথে খারিজীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল – তিনি তাদের সাথে উপস্হিত ছিলেন। আলী [রাদি.] বলিলেন, হে লোক সকল! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতে শুনেছিঃ “আমার উম্মাতের মধ্যে এমন সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করিবে। তোমাদের পাঠ তাদের পাঠের তুলনায় নিম্মমানের হইবে। অনুরূপভাবে তাদের সালাম ও সিয়া্মের তুলানায় তোমাদের নামাজ-সিয়াম সামান্য বলে মনে হইবে। কুরআন পাঠ করে তারা ধারণা করিবে এতে তাদের লাভ হচ্ছে। অথচ এটা তাদের জন্য ক্ষতিরই কারণ হইবে। তাদের সালাত তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করিবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি তীর বেরিয়ে যায় শিকার থেকে। আর যে সৈন্যদল তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে তারা যদি তাদের নীরব মাধ্যমে কৃত ওয়াদা সম্পর্কে জানতে পারত তাহলে তারা এ কাজের [পুরস্কারের] উপরই ভরসা করে বসে থাকত। সে দলের চিহ্ন হলো – তাদের মধ্যে এমন এক লোক থাকিবে যার বাহুর অগ্রভাগে স্ত্রীলোকের স্তনের বোঁটার ন্যায় একটি মাংসপেশি থাকিবে। এর সাদা পশম থাকিবে। আলী [রাদি.] বলেন, অতএব তোমরা মুআবিয়াহ ও সিরিয়ার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছ। অপরদিকে তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্তুতি ও ধন-সম্পদের পিছনে এদেরকে [খারিজী] রেখে যাচ্ছ। আল্লাহর শপথ ! আমার বিশ্বাস এরাই হচ্ছে সেই সম্প্রদায় [যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করার ব্যাপারে তোমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে]। কেননা এরা অবৈধভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে ও মানুষের গবাদি পশু লুটপাট করেছে। সুতরাং আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু কর।

সালামহ ইবনি কুহায়ল বলেন, অতঃপর যায়দ ইবনি ওয়াহব [রাদি.] প্রতিটি মঞ্জিলের বর্ণনায় আমাকে দেয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, “আমারা একটি পুলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে খারিজীদের মুখোমুখি হলাম। এ দিন আবদুল্লাহ ইবনি ওয়াহব আর রাসিবী খারিজীদের সেনাপতি ছিলেন। সে তাদেরকে বলিল, তোমরা বল্লম ফেলে দিয়ে খাপ থেকে তরবারি বের কর। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তারা হারূরার দিনের ন্যায় আজও তোমাদের উপর চরম আঘাত হানবে। সুতরাং তারা ফিরে গিয়ে বল্লম ফেলে দিয়ে তরবারি খাপ থেকে বের করে নিল। লোকজন বল্লম দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল। তারা একের পর এক নিহত হইতে লাগল। সেদিন আলী [রাদি.]-এর দল থেকে মাত্র দুজন লোক নিহত হল। অতঃপর আলী [রাদি.] বলিলেন, তোমরা এদের মধ্যে থেকে সে বিকলাঙ্গ ব্যাক্তিকে খুঁজে বের কর। অতঃপর তারা তাকে খুঁজে পেল না। তখন আলী [রাদি.] নিজেই দাঁড়ালেন এবং নিহতদের পাশে গিয়ে লাশগুলো সরাবার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে জমীনের উপর পড়ে থাকা অবস্হায় দেখিতে পেয়ে – “আল্ল-হু আকবর” বলে উঠলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বলিলেন, “আল্লাহ তায়ালা সত্য কথাই বলেছেন এবং তাহাঁর রাসুল সঠিক সংবাদ পৌছিয়েছেন”। রাবী বলেন, এরপর আবিদাহ আস সালমানী তাহাঁর কাছে দাঁড়িয়ে বলিলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! সে মহান আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। আমিও এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে শুনেছি। এভাবে তিনি [আলী] তিনবার শপথ করে আবদাহ্ আস সালমানীকে একই কথার পুনরাবৃত্তি করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৩৫ ইসলামিক সেন্টার-২৩৩৫]

২৩৫৮

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর মুক্ত গোলাম উবাইদুল্লাহ ইবনি রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন হারূরিয়াহ বের হলো এবং যখন সে আলী [রাদি.]-এর সাথে ছিল তখন বলিল, “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম দেয়ার অধিকার নেই” আলী [রাদি.] বলেন, “এ কথাটি সত্য কিন্তু এর পেছনে তাদের হীন উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।” রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ব্যাক্তি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছিলেন আমি তাদের মধ্যে সে চিহ্নগুলো ভালভাবেই লক্ষ্য করেছি। তারা মুখে সত্য কথা বলে কিন্তু তা তাদের এটা থেকে অতিক্রম করে না। এ বলে তিনি [উবাইদুল্লাহ] তার কন্ঠনালীর দিকে ইঙ্গিত করিলেন। [অর্থাৎ সত্য কথা গলার নীচে যায় না]। আল্লাহর সৃষ্টি জগতে এরা তাহাঁর চরম শত্রু। তাদের মধ্যে কালো বর্ণের এক ব্যাক্তি রয়েছে যার একটি হাত বকরীর স্তন বা স্তনেত বোঁটার ন্যায়। অতঃপর আলী [রাদি.] তাদেরকে হত্যা করার পর বলিলেন, তোমরা তাকে খুঁজে বের কর। কিন্তু তারা তাকে খুঁজে পেল না। তিনি পুনরায় বলিলেন, তোমরা গিয়ে আবার খোঁজ কর। আল্লাহর শপথ! আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমার কাছেও মিথ্যা বলা হয়নি। [অর্থাৎ নবী [সাঃআঃ] আমার কাছে মিথ্যা বলেননি এবং আমিও তোমাদের কাছে মিথ্যা বলছি না।] এ কথাটি তিনি দু অথবা তিনবার বলিলেন। তারা তাকে ধ্বংস-স্তুপের মধ্যে পেয়ে গেল এবং নিয়ে এসে তাহাঁর সামনে রাখল। উবায়দুল্লাহ [রাদি.] বলেন, তাদের এ তৎপরতার সময় এবং আলী [রাদি.] খারিজীদের সম্বন্ধে এ উক্তিটি করার সময় আমি সেখানে উপস্হিত ছিলাম।

ইউনুসের বর্ণনায় আরও আছে, বুকায়র বলেনঃ আমার কাছে এক ব্যাক্তি ইবনি হুনায়নের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “সে কালো লোকটিকে আমি দেখেছি”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৩৬ ইসলামিক সেন্টার-২৩৩৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply