খাবার সম্পর্কিত হাদিস । আহার ও তাহার শিষ্টাচার

খাবার সম্পর্কিত হাদিস । আহার ও তাহার শিষ্টাচার

খাবার সম্পর্কিত হাদিস । আহার ও তাহার শিষ্টাচার , এই অধ্যায়ে মোট =১২০ টি হাদীস (৩২৫১ – ৩৩৭০) >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ২৯, অধ্যায়ঃ (৭১-৮৫)=১৫টি, হাদীস (৩২৫১ – ৩৩৭০)

২৩/১. অধ্যায়ঃ অপরকে আহার করানো
২৩/২. অধ্যায়ঃ একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট
২৩/৩. অধ্যায়ঃ মুমিন ব্যক্তি এক উদরে খায় এবং কাফের ব্যক্তি সাত উদরে খায়
২৩/৪. অধ্যায়ঃ খাদ্যে দোষারোপ করা নিষেধ
২৩/৫. অধ্যায়ঃ আহার করার পূর্বে উযু করা
২৩/৬. অধ্যায়ঃ হেলান দিয়ে খাদ্যগ্রহণ শিষ্টাচারের পরিপন্থী
২৩/৭. অধ্যায়ঃ আহার গ্রহণের সময় বিসমিল্লাহ বলা
২৩/৮. অধ্যায়ঃ ডান হাত দিয়ে খাদ্য গ্রহণ
২৩/৯. অধ্যায়ঃ আঙ্গুলসমূহ চেটে খাওয়া
২৩/১০. অধ্যায়ঃ পাত্র পরিষ্কার করা
২৩/১১. অধ্যায়ঃ নিকটের খাদ্য থেকে গ্রহণ
২৩/১২. অধ্যায়ঃ সারীদ-এর উপরাংশ থেকে খাওয়া নিষেধ
২৩/১৩. অধ্যায়ঃ খাবারের গ্রাস নীচে পড়ে গেলে
২৩/১৪. অধ্যায়ঃ অন্যান্য খাদ্যের উপর সারীদের প্রাধান্য

২৩/১. অধ্যায়ঃ অপরকে আহার করানো

৩২৫১. আবদুল্লাহ বিন সালাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] যখন [হিজরত করে মক্কা থেকে] মদীনায় এলেন তখন লোকেরা তাহাঁর নিকট যেতে লাগলো এবং বলাবলি হইতে লাগলোঃ আল্লাহর রাসূল এসেছেন, আল্লাহর রাসূল এসেছেন, আল্লাহর রাসূল এসেছেন [তিনবার]। আমিও লোকজনের সাথে [তাহাঁকে] দেখিতে গেলাম। আমি তাহাঁর মুখমন্ডল উত্তমরূপে দেখার পর বুঝতে পারলাম যে, এই চেহারা মিথ্যাবাদীর নয়। সর্বপ্রথম তাহাঁর মুখে আমার শোনা কথা এই যে, তিনি বললেনঃ হে লোকসকল! তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করো, আহার করাও, আত্নীয়তাহার সম্পর্ক বহাল রাখো এবং লোকজন যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন রাতের বেলা নামায পড়ো। শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করো। {৩২৫১}

{৩২৫১} তিরমিজি ২৪৮৫, দারেমী ১৪৬০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৫২. আবদুল্লাহ বিন উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা সালামের ব্যাপক প্রসার করো, খাদ্য দান করো এবং ভাই ভাই হয়ে সদ্ভাবে থাকো, যেমন মহামহিম আল্লাহ তোমাদের আদেশ করিয়াছেন। {৩২৫২}

{৩২৫২} আহমাদ ৬৪১৪, ইরওয়া ৩/২৪০, সহীহাহ ১৫০১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সুলায়মান বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি একজন ফকীহ ছিলেন। আতা বিন আবু রাবাহ বলেন, তিনি শামের যুবকদের নেতা ছিলেন। ঈমাম বুখারী তাহাকে মুনকার বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৭১, ১২/৯২ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৫৩. আবদুল্লাহ বিন আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট জিজ্ঞাস করিল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্‌ ইসলাম উত্তম? তিনি বলেনঃ দরিদ্রদেরকে তোমার খাদ্যদান এবং তোমার পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া। {৩২৫৩}

{৩২৫৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১২, ২৮, ৩২, ৬২, মুসলিম ৩৯, নাসাঈ ৫০০০, আবু দাউদ ৫১৯৪, আহমাদ ৬৫৪৫, ৬৮০৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/২. অধ্যায়ঃ একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট

৩২৫৪. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট, দুজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট হইতে পারে। {৩২৫৪}

{৩২৫৪} মুসলিম ২০৫৯, আহমাদ ১৩৮১০, ১৩৯৮০, ১৪৬৮৪, দারেমী ২০৪৪, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২১, সহীহাহ ৪/২৫৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৫৫. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একজনের খাদ্য দুজনের জন্য যথেষ্ট হইতে পারে, দুজনের খাবার তিন বা চারজনের জন্য যথেষ্ট হইতে পারে এবং চারজনের খাবার পাঁচ অথবা ছজনের জন্য যথেষ্ট হইতে পারে। {৩২৫৫}

{৩২৫৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২১, সহীহাহ ২৬৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি ১. সাঈদ বিন বিন যায়দ সম্পর্কে আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি সত্যবাদী ও হাফিয কিন্তু হাদিস বর্ণনায় ভুল ও সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২২৭৬, ১০/৪৪১ নং পৃষ্ঠা] ২. আমর বিন দীনার সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল ও মুনকার। ঈমাম বুখারী বলেন, তাহার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। মুহাম্মাদ বিন আম্মার বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৩৬১, ২২/১৩ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

২৩/৩. অধ্যায়ঃ মুমিন ব্যক্তি এক উদরে খায় এবং কাফের ব্যক্তি সাত উদরে খায়

৩২৫৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তি এক উদরে খায় এবং কাফের ব্যক্তি সাত উদরে খায়। {৩২৫৬}

{৩২৫৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৯৬, ৫৩৯৭, মুসলিম ২০৬৩, তিরমিজি ১৮১৯, আহমাদ ৭৪৪৫, ২৭৮৭৬, ৮৬৬২, ৯১১৩, ৯৩৩৮, ৯৫৬৪, মুয়াত্তা মালিক ১৭১৫, ১৭১৬, দারেমী ২০৪৩, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৫৭. ইবনি উমার [রাদিয়ালাহু তাআলা আনহু] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, কাফের ব্যক্তি সাতটি পাকস্থলী পূর্তি করে খায় এবং মুমিন ব্যক্তি এক পাকস্থলী পূর্তি করে খায়। {৩২৫৭}

{৩২৫৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৯৩, ৫৩৯৪, ৫৩৯৫, মুসলিম ২০৬০, ২০৬১, তিরমিজি ১৮১৮, আহমাদ ৪৭০৪, ৫০০০, ৫৪১৫, ৬২৮৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৫৮. আবু মূসা আল-আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তি এক পাকস্থলীতে খায় এবং কাফের ব্যক্তি সাত পাকস্থলীতে খায়। {৩২৫৮}

{৩২৫৮} মুসলিম ২০৬২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।. খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪. অধ্যায়ঃ খাদ্যে দোষারোপ করা নিষেধ

৩২৫৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনও খাদ্যসামগ্রীর ত্রুটি ধরতেন না। পছন্দ হলে তিনি আহার করিতেন, অন্যথায় রেখে দিতেন।

{উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হইয়াছে, অপর সানাদটি হলোঃ}

২/৩২৫৯ [১]. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] সূত্রে উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হইয়াছে। {৩২৫৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ {৩২৫৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৩, ৫৪০৯, মুসলিম ২০৬৪, তিরমিজি ২০৩১, আবু দাউদ ৩৭৬৩, আহমাদ ৯৭৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৫. অধ্যায়ঃ আহার করার পূর্বে উযু করা

৩২৬০. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চায় যে, তাহার ঘরে বরকত আসুক, সে যেন সকালের আহার গ্রহণের সময় উযু করে এবং আহার শেষেও উযু করে। {৩২৬০}

{৩২৬০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ১১৭, জইফ আল জামি ৫৩৩৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়তো] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতাহারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা] ২. কাসীর বিন সুলায়ম সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল আযদী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে জড়িত। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯৪৪, ২৪/১২১ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৬১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] কর্তৃক রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট থেকে বর্ণিত। তিনি পায়খানা থেকে বেরিয়ে আসলে তাহাঁর জন্য খাবার পেশ করা হলো। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কি আপনার জন্য উযুর পানি নিয়ে আসব না? তিনি বলেনঃ আমি কি নামায পড়তে চাচ্ছি? {৩২৬১}

{৩২৬১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত তালীকুর রাগীব ৩/১২৯।উক্ত হাদিসের রাবি জাফার বিন মুসাফির সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি সালিহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী, তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৯৫৫, ৫/১০৮ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২৩/৬. অধ্যায়ঃ হেলান দিয়ে খাদ্যগ্রহণ শিষ্টাচারের পরিপন্থী

৩২৬২. আবু জুহায়ফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি কখনো হেলান দিয়ে আহার করি না। {৩২৬২}

{৩২৬২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৯৮, ৫৩৯৯, তিরমিজি ১৮৩০, আবু দাউদ ৩৭৬৯, আহমাদ ১৮২৭৯, ১৮২৮৯, দারেমী ২০৭১, ইরওয়া ১৯৬৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৬৩. আবদুল্লাহ বিন বুসর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি নবী [সাঃআঃ] কে একটি বকরী হাদিয়া দিলাম। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর উভয় হাটু উঁচু করে বসে আহার করছিলেন। এক বেদুঈন বলিল, এটা কি ধরনের বসা! তিনি বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তাআলা আমাকে অনুগ্রহপরায়ণ ও বিনয়ী বান্দা বানিয়েছেন, হিংসুক ও অহংকারী বানাননি। {৩২৬৩}

{৩২৬৩} আবু দাউদ ৩৭৭৩, সহীহাহ ৩৯৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৭. অধ্যায়ঃ আহার গ্রহণের সময় বিসমিল্লাহ বলা

৩২৬৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর ছয়জন সাহাবীসহ আহার করছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন এসে সমস্ত খাদ্য দুগ্রাসে শেষ করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ সে যদি বিসমিল্লাহ বলে আহার করতো, তাহলে এ খাদ্য তোমাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হতো। অতএব তোমাদের কেউ আহার গ্রহণকালে যেন বিসমিল্লাহ বলে। সে যদি আহার গ্রহণের প্রারম্ভে বিসমিল্লাহ বলিতে ভুলে যায় তবে যেন বলেঃ বিসমিল্লাহ ফী আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহী [খাদ্যের প্রারম্ভে এবং শেষেও বিসমিল্লাহ]। {৩২৬৪}

{৩২৬৪} তিরমিজি ১৮৫৮ আবু দাউদ ৩৭৬৭, আহমাদ ২৪৫৮২, ২৫২০৫, ২৫৭৬০, দারেমী ২০২০, ইরওয়া ১৯৬৫, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১১৫, ১১৬, তাখরিজূল কালিমুত তায়্যিব ১১২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৬৫. উমার বিন আবু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার আহার অবস্থায় নবী [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ মহামহিম আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ কর। {৩২৬৫}

{৩২৬৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৭৬, ৫৩৭৭, ৫৩৭৮, মুসলিম ২০২২, তিরমিজি ১৮৫৭, আবু দাউদ ৩৭৭৭, আহমাদ ১৫৮৯৫, ১৫৯০২, মুয়াত্তা মালিক ১৭৩৮, দারেমী ২০১৯, ২০৪৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৮. অধ্যায়ঃ ডান হাত দিয়ে খাদ্য গ্রহণ

৩২৬৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে যেন ডান হাতে আহার করে, ডান হাতে পান করে, ডান হাতে গ্রহণ করে এবং ডান হাতে দান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায়, বাম হাতে পান করে, বাম হাতে দেয় এবং বাম হাতে গ্রহণ করে। {৩২৬৬}

{৩২৬৬} আহমাদ ৮১০৭, ৮৩৮৪, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১১৭, সহীহাহ ১২৩৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৬৭. উমার বিন আবু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি নবী [সাঃআঃ] এর প্রতিপালনাধীন ছিলাম। আহার গ্রহণের সময় আমার হাত পাত্রের যত্রতত্র চলে যেতো। তিনি আমাকে বললেনঃ এই ছেলে! আল্লাহর নাম স্মরণ করো, ডান হাতে আহার করো এবং তোমার নিকটের খাদ্য থেকে খাও। {৩২৬৭}

{৩২৬৭} বুখারী ৫৩৭৬, ৫৩৭৭, ৫৩৭৮, মুসলিম ৩৭৬৭, ৩৭৬৮, তিরমিজি ১৮৫৭, আবু দাউদ ৩৭৭৭, আহমাদ ১৫৮৯৫, ১৫৯০২, মালিক ১৭৩৮, দারেমী ২০১৯, ২০৪৫, ইরওয়া ১৯৬৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৬৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা বাম হাতে আহার করো না। কারণ শায়তান বাম হাতে আহার করে। {৩২৬৮}

{৩২৬৮} মুসলিম ২০১৯, ২০৯৯, আবু দাউদ ৪১৩৭, আহমাদ ১৩৭০৪, ১৩৭৬৬, ১৩৭৮৬, ১৪০৪৩, ১৪০৯৫, ১৪১৭৭, ১৪২৯৫, ১৪৪৪২, ১৪৪৮১, ১৪৭৩৩, মুয়াত্তা মালিক ১৭১১, দারেমী ২০৩০। সহীহাহ ৩/২৩৯।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৯. অধ্যায়ঃ আঙ্গুলসমূহ চেটে খাওয়া

৩২৬৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, তখন সে যেন নিজ হাত চেটে খাওয়ার অথবা [অপরকে] চেটে খাওয়ানোর পূর্বে তা না মোছে। সুফিয়ান [রাদি.] বলেন, আমি উমার বিন কায়েসকে আমর বিন দীনারের নিকট জিজ্ঞাসা করিতে শুনেছিঃ আপনার মতে আতা [রাদি.]- এর হাদিস “তোমাদের কেউ যেন হাত চেটে খাওয়ার অথবা চেটে খাওয়ানোর পূর্বে তা না মোছে”, কোন সাহাবী থেকে বর্ণিত? তিনি বলেন, বিন আব্বাস [রাদি.] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। আমর বিন দীনার [রাদি.] বলেন, জাবির [রাদি.] আমাদের নিকট আসার পূর্বেই আমরা তা বিন আব্বাস [রাদি.] থেকে আতাহার মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে মুখস্হ করেছি। আতা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তো জাবির [রাদি.]- এর সাথে মক্কায় যাওয়ার বছর সাক্ষাত করে। {৩২৬৯}

{৩২৬৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৪৫৬, মুসলিম ২০৩১, আবু দাউদ ৩৮৪৭, আহমাদ ২৭৭৭৩, ২৬৬৭, ৩২২৪, ৩৪৮৯, দারেমী ২০২৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আমর বিন কায়স সম্পর্কে আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম আর-রাযী ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৩৬০, ২২/৫ নং পৃষ্ঠা]. উক্ত হাদিসটির শতাধিক শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৫৪৫৬, মুসলিম ২০৩২, ২০৩৩, ২০৩৪, ২০৩৫, ২০৩৬, ২০৩৭, ২০৩৮, তিরমিজি ১৮০১, ১৮০২, ১৮০৩, আবু দাউদ ৩৮৪৫, ৩৮৪৭, ৩৮৪৮, দারেমী ২০২৫, ২০২৬, ২০২৮, ২০৩৩, ২০৩৪, আহমাদ ২৭৭৭৩, ৩২২৪, ৩৪৮৯, ৪৫০০, ৮২৯৪, ২৬৬২৭।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৭০. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন হাত চেটে খাওয়ার পূর্বে তা না মোছে। কারণ তাহার জানা নেই যে, তাহার খাদ্যের কোন অংশে বরকত আছে। {৩২৭০}

{৩২৭০} মুসলিম ২০৩৩, আহমাদ ১৩৮০৯, ১৪১৪২, ১৪২১৮, ১৪৫২১, ১৪৮০২, ইরওয়া ১৯৭০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/১০. অধ্যায়ঃ পাত্র পরিষ্কার করা

৩২৭১. উম্মু আসিম [মাকবূলাহ] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহর মুক্তদাস নুবায়শাহ [রাদি.], আমাদের নিকট প্রবেশ করিলেন। তখন আমরা একটি বড় পাত্রে আহার করছিলাম। তিনি আমাদের বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আহার করার পর আহারের পাত্র চেটে খেয়ে পরিষ্কার করে, তাহার জন্যে পাত্র ক্ষমা প্রার্থনা করে। {৩২৭১}

{৩২৭১} তিরমিজি ১৮০৪, আহমাদ ২০২০০, মিশকাত ৪২১৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি উম্মু আসিম সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাকবুলাহ। নুরুদ্দিন আল-হায়সামী বলেন, তিনি পরিচিত ছিলেন না। হাদিসটি তাহার জাহালাতের কারণে দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৯৮৯, ৩৫/৩৭০ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৭২ উম্মু আসিম হইতে বর্ণীতঃ

নুবায়শাহ আমাদের নিকট এলেন। আমরা তখন আমাদের একটি পাত্রে আহার করছিলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন পাত্রে আহার করার পর তা চেটে খেয়ে পরিষ্কার করে, তাহার জন্যে ঐ পাত্র ক্ষমা প্রার্থণা করে। {৩২৭২}

{৩২৭২} তিরমিজি ১৮০৪, আহমাদ ২০২০০০, জইফ আল-জামি ৫৪৭৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। ক্ত হাদিসের রাবি উম্মু আসিম সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাকবুলাহ। নুরুদ্দিন আল-হায়সামী বলেন, তিনি পরিচিত ছিলেন না। হাদিসটি তাহার জাহালাতের কারণে দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৯৮৯, ৩৫/৩৭০ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/১১. অধ্যায়ঃ নিকটের খাদ্য থেকে গ্রহণ

৩২৭৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আহারের দস্তরখানা বিছানো হলে কেউ তাহার নিকটের খাবার থেকে যেন আহার করে এবং নিজ সঙ্গীর নিকটেরগুলো না নেয়। {৩২৭৩}

{৩২৭৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মিশকাত ৪২৫৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি আলী বিন আবদুল আলা সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করা সঠিক হইবে না। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৮২, ১৬/৩৪৩ নং পৃষ্ঠা খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩২৭৪. ইকরাশ বিন যুআয়ব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট প্রচুর সারীদ [গোশ্‌তের ঝোলে ভিজানো রুটি] ও চর্বি ভর্তি একটি পাত্র নিয়ে আসা হলো। আমরা সামনে অগ্রসর হয়ে তা আহার করিতে লাগলাম।আমার হাত পাত্রের মধ্যে যত্রতত্র সঞ্চালিত হইতে থাকলে তিনি বলেনঃ হে ইকরাশ! এক জায়গা থেকে নিয়ে খাও।কারণ গোটা পাত্রে একই খাদ্য রয়েছে। অতঃপর আমাদের জন্যে বিভিন্ন রকমের তাজা খেজুর ভর্তি আর একটি বড় পাত্র আনা হলো। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হাত পাত্রের সর্বত্র বিচরণ করিতে লাগলো এবং তিনি বললেনঃ হে ইকরাশ! পাত্রের যেখান থেকে ইচ্ছা খাও। কারণ তাতে বিভিন্ন কিছিমের খাবার রয়েছে। {৩২৭৪}

{৩২৭৪} তিরমিজি ১৮৪৮, যইফাহ ৫০৯৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আল-আলা ইবনিল ফাদল বিন আবদুল মালিক বিন আবুশ সাবিয়্যাহ সম্পর্কে আবুল হাসান ইবনিল কাত্তান বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৮২, ২১/৪৫৪ নং পৃষ্ঠা] ২. উবায়দুল্লাহ বিন ইকরাশ সম্পর্কে আবুল ফারাজ ইবনিল জাওযী ও আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি একজন অপরিচিত শায়খ। আবু মুহাম্মাদ বিন হাযম বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৬৫, ১৯/১১৭ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/১২. অধ্যায়ঃ সারীদ-এর উপরাংশ থেকে খাওয়া নিষেধ

৩২৭৫. আব্দুল্লাহ বিন বুসর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট একটি পাত্র আনা হলে তিনি বলেনঃ এর চারপাশ থেকে খাও এবং উপরাংশ রেখে দাও, তাহলে তাতে বরকত লাভ করা যাবে। {৩২৭৫}

{৩২৭৫} আবু দাউদ ৩৭৭৩, ইরওয়া ১৯৮১, মিশকাত ৪২১১, সহীহাহ ৩৯৩, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১১৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৭৬. ওয়াসিলাহ ইবনিল আসকা আল-লায়সী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সারীদের উপরাংশ স্পর্শ করে বলেনঃ আল্লাহর নাম নিয়ে তাহার চারপাশ থেকে আহার করো এবং তাহার উপরাংশ অবশিষ্ট রাখো। কারণ এই উপরের দিক থেকেই বরকত আসে। {৩২৭৬}

{৩২৭৬} আহমাদ ১৫৫৭৬, সহীহাহ ২০৩০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুর রহমান বিন আবু কাসীমাহ সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তাহার হাদিস বিশুদ্ধ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৩৫, ১৭/৩৫৭ নং পৃষ্ঠা]

উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুর রহমান বিন আবু কাসীমাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৭০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিজি ১৮০৫, আবু দাউদ ৩৭৭২, ৩৭৭৩, দারমী ২০৪৬, আহমাদ ২৪৩৫, ২৭৪৫, ৩১৮০, ৩০২৪, ৩৪২৮, ১৫৫৭৬, ১৭২২৫, শারহুস সুন্নাহ ২৮৭৩।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৭৭ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ খাদ্যদ্রব্য এনে রাখা হলে তাহার চারপাশ থেকে খাও এবং মধ্যভাগ রেখে দাও। কারণ এ মধ্যস্হলে বরকত নাযিল হয়। {৩২৭৭}

{৩২৭৭} তিরমিজি ১৮০৫, আবু দাউদ ৩৭৭২, দারেমী ২০৪৬, ইরওয়া ২/১৯৮০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আলী ইবনিল মুনযীর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শিয়া মতাবলম্বী। মাসলামাহ বিন কাসিম বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই তবে তিনি শিয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৪০, ১২/১৪৫ নং পৃষ্ঠা] ২. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা] ৩. আতা ইবনিস সায়িব সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় পরিবর্তন করিয়াছেন। আয়্যুব বিন আবু তামিমাহ আস-সাখতিয়ানী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৩৪, ২০/৮৬ নং পৃষ্ঠা] হাদিসটির ৭০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিজি ১৮০৫, আবু দাউদ ৩৭৭২, ৩৭৭৩, দারেমী ২০৪৬, আহমাদ ২৪৩৫, ২৭২৫, ৩১৮০, ৩০২৪, ৩৪২৮, ১৫৫৭৬, শারহুস সুন্নাহ ২৮৭৩। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/১৩. অধ্যায়ঃ খাবারের গ্রাস নীচে পড়ে গেলে

৩২৭৮. মাকিল বিন ইয়াসার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন যে, একদা তিনি সকালের খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাহার একটি গ্রাস [লুকমাহ] নীচে পড়ে গেলো। তিনি তা তুলে নিয়ে তাহার ময়লা দূর করে আহার করেন। এতে অনারব কৃষকরা চোখ টিপাটিপি করিতে লাগলো। বলা হলো, আল্লাহ নেতাহাকে কল্যাণের সাথে রাখুন। নিচে পতিত খাবার তুলে নেয়ায় এসব কৃষক আপনার প্রতি চোখ টিপাটিপি করছে। তিনি বলেন, এসব অনারবের কারণে আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট থেকে শ্রুত কথা ত্যাগ করিতে প্রস্তুত নই। আমাদের মধ্যে কারো খাবারের গ্রাস পড়ে গেলে তাহাকে নির্দেশ দেয়া হতো যে, সে যেন তা তুলে নিয়ে তাহার ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্যে ফেলে না রাখে। {৩২৭৮}

{৩২৭৮} দারেমী ২০২৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি সুওয়ায়দ বিন সাঈদ সম্পর্কে আবুল হাসান বিন সুফইয়ান আল-কুফী বলেন, তিনি দুর্বল। আবুল কাসিম আল-বাগাবী বলেন, তিনি হুফফাযদের একজন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক তাদলীস করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬৪৩, ১২/২৪৭ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৭৯. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কারো হাত থেকে খাবারের গ্রাস পড়ে গেলে সে যেন তা তুলে নেয় এবং তাতে যে ময়লা লেগেছে তা দূর করে খেয়ে নেয়। {৩২৭৯}

{৩২৭৯}

তিরমিজি ১৮০২, ইরওয়া ১৯৭০, ১৯৭১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। ক্ত হাদিসের রাবি ১. আলী ইবনিল মুনযীর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শিয়া মতাবলম্বী। মাসলামাহ বিন কাসিম বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই তবে তিনি শিয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৪০, ১২/১৪৫ নং পৃষ্ঠা] ২. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা]. খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/১৪. অধ্যায়ঃ অন্যান্য খাদ্যের উপর সারীদের প্রাধান্য

৩২৮০. আবু মূসা আল-আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতায় পৌঁছেছেন। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে কেবল ইমরান কন্যা মরিয়ম এবং ফিরআওনের স্ত্রী আসিয়া এই পূর্ণতায় পৌঁছুতে পেরেছিলেন। আর নারী সমাজের উপর আয়েশার মর্যাদা তদ্রুপ, যেমন অন্যান্য খাদ্যের উপর সারীদের [ঝোলে ভিজানো রুটির] মর্যাদা। {৩২৮০}

{৩২৮০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৪১১, মুসলিম ২৪৩১, তিরমিজি ১৮৩৪, নাসাঈ ৩৯৪৭, আহমাদ ১৯০২৯, ১৯১৬৯, রাওদুন নাদীর ৭৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৮১. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নারী সমাজের উপর আয়েশার এমন মর্যাদা রয়েছে যেমন অন্যান্য সকল প্রকারের খাদ্যের উপর রয়েছে সারীদের প্রাধান্য। {৩২৮১}

{৩২৮১} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৭৭০, মুসলিম ২৪৪৬, তিরমিজি ৩৮৮৭, আহমাদ ১২১৮৭, ১৩৩৭৪, দারেমী ২০৬৯, মুখতাসারুশ শামাইল ১৪৮, যইফাহ ৪০০২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুসলিম বিন খালিদ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন অসুবিধা নেই। আবু জাফার আল-উকায়লী, আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯২৫, ২৭/৫০৮ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/১৫. অধ্যায়ঃ আহারের পর হাত পরিষ্কার করা

৩২৮২. জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে খাদ্য খুব কমই পেতাম। আমরা যখন তা পেতাম তখন আমাদের নিকট তোয়ালে থাকতো না, হাতের তালু, বাহু ও পায়ের পাতা ব্যতীত। অতঃপর আমরা নামায পড়তাম এবং [আহার শেষে] উযু করতাম না। {৩২৮২}

{৩২৮২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৪৫৭, তিরমিজি ৮০, আবু দাউদ ১৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি ইবনি আবু ইয়াহইয়া সম্পর্কে শায়খ আলবানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি আবু ইয়াহইয়া এর নাম ফুলায়হ, আল-হাফিয বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন, তাহার ছেলে মুহাম্মাদ তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/১৬. অধ্যায়ঃ আহার শেষে যে দুআ পড়তে হয়

৩২৮৩. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] খাবার শেষ করে বলিতেনঃ আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আতআমানা ওয়া সাকানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন” [সমস্ত প্রশংসা আল্রাহর জন্যে যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলমান বানিয়েছেন]। {৩২৮৩}

{৩২৮৩} তিরমিজি ৩৪৫৭, আহমাদ ১০৮৮৩, ১১৫২৪, মিশকাত ৪২০৪, আল-কালিমুত তায়্যিব ১৮৮, মুখতাসারুশ শামাইল ১৬৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা] ২. হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়, অন্যত্র তিনি তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৮৪. আবু উমামাহ আল-বাহিলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর খাবার বা তাহাঁর সামনের খাবার তুলে রাখার পর তিনি বলিতেনঃ আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়ালা মুওয়াদ্দাইন ওয়ালা মুসতাগনান আনহু রব্বানা ” [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, অসংখ্য প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা, পবিত্র ও প্রাচুর্যময় সত্ত্বার জন্যে। তিনি সবার জন্যে যথেষ্ট, তিনি কখনও পৃথক হন না। তাহাঁর অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় না, আমাদের রব।]। {৩২৮৪}

{৩২৮৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৪৫৮, ৫৪৫৯, তিরমিজি ৩৪৫৬, আবু দাউদ ৩৭৪৯, আহমাদ ২১৬৯৬, ২১৭৫৩, দারেমী ২০২৩, মুখতাসারুশ শামাইল ১৬৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৮৫. মুআয বিন আনাস আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি আহার করে সে যেন বলে,  আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আতআমানী হাযা ওয়া রাযাকানীহি মিনগায়রি হাওলিন মিন্নী ওয়ালা কুওওয়াহ [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তালার জন্যে, যিনি আমাকে আমার শক্তি ও ক্ষমতা ব্যতীত আহার করিয়েছেন ও রিযিক দান করিয়াছেন], তাহলে তাহার পূর্বেকার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হইবে। {৩২৮৫}

{৩২৮৫} তিরমিজি ৩৪৫৮, ইরওয়া ১৯৮৯, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১০০, তাখরীজুল কালিমুত তায়্যিব ১৮৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৩/১৭. অধ্যায়ঃ একত্রে আহার করা

৩২৮৬. ওয়াহশী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা আহার করি, কিন্তু পরিতৃপ্ত হইতে পারি না। তিনি বলেন, তোমরা হয়ত পৃথক পৃথকভাবে আহার করো। তাহারা বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, তোমরা একত্রে আহার করো এবং আহারকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে তোমাদের জন্যে বরকত দেয়া হইবে। {৩২৮৬}

{৩২৮৬} আহমাদ ১৫৬৪৮, সিলসিলাতুল আহাদীসুস সহীহাহ ৬৬৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ওয়াহশী বিন হারব বিন ওয়াহশী বিন হারব সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তাহার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬৮০, ৩০/৪২৮ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩২৮৭. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা একত্রে আহার করো এবং বিচ্ছিন্নভাবে করো না। কারণ বরকত থাকে সমষ্টির সাথে। {৩২৮৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল তবে প্রথম বাক্যটি প্রমানিত।{৩২৮৭} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২১, সহীহাহ ২৬৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল তবে প্রথম বাক্যটি প্রমানিত। উক্ত হাদিসের রাবি সাঈদ বিন যায়দ সম্পর্কে আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি সত্যবাদী ও হাফিয তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২২৭৬, ১০/৪৪১ নং পৃষ্ঠা] ২. আমর বিন দীনার সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল ও মুনকার। ঈমাম বুখারী বলেন, তাহার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। মুহাম্মাদ বিন আম্মার বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৩৬১, ২২/১৩ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

২৩/১৮. অধ্যায়ঃ খাদ্যে ফুঁ দেয়া

৩২৮৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দিতেন না এবং পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতেন না। {৩২৮৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল, তবে নবী [সাঃআঃ] এর কওল থেকে যা সহীহ তা ৩৪২৯ নং হাদীসে আসছে।{৩২৮৮} তিরমিজি ২৮৮৮, আবু দাউদ ৩৭২৮, আহমাদ ১৯১০, ২৮১৩, দারেমী ২১৩৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল, তবে নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কওল থেকে যা সহীহ তা ৩৪২৯ নং হাদিসে আসবে। উক্ত হাদিসের রাবি শারীক সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল হাসান ইবনিল কাত্তান বলেন, তিনি হাদিস তাদলীস করার দিক থেকে প্রসিদ্ধ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল ও সন্দেহ করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৩৬, ১২/৪৬২ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/১৯. অধ্যায়ঃ কারো খাদেম তাহার খাদ্য নিয়ে এলে তা থেকে তাহাকে কিছু দেয়া

৩২৮৯. আবু হুরাইরা [রাঃ] বলেন হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কারো খাদেম তাহার জন্য খাবার এনে উপস্থিত হলে সে যেন তাহাকে নিজের সাথে বসায় এবং নিজের সাথে খাওয়ায়। সে যদি তাহাকে নিজের সাথে বসাতে না চায়, তবে খাবার থেকে যেন তাহাকে দেয়। {৩২৮৯}

{৩২৮৯} ইবনি মাজাহ ৩২৯০, সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৫৫৭, মুসলিম ১৬৬৩, তিরমিজি ১৮৫৩, আহমাদ ৭৪৬২, ৭৬৬৯, ৭৭৪৬, ২৭৪১৩, ৯০১৬, ৯০৫২, ৯২৭৪, ৯৬৪৪, ৯৭৭৫, ৯৮৯৬, ১০১৮৯, দারেমী ২০৭৩, সহীহাহ ২৩৯৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৯০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো ক্রীতদাস তাহার সামনে আহার পরিবেশন করে, যা রান্না করার কষ্ট ও গরম সে সহ্য করেছে, তখন সে যেন তাহাকে নিজের সাথে বসিয়ে খাওয়ায়। সে যদি তা না করে, তাহলে একটি গ্রাস তুলে যেন তাহার হাতে দেয়। {৩২৯০}

{৩২৯০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৫৫৭, মুসলিম ১৬৬৩, তিরমিজি ১৮৫৩, আহমাদ ৭৪৬২, ৭৬৬৯, ৭৭৪৬, ২৭৪১৩, ৯০১৬, ৯০৫২, ৯২৭৪, ৯৬৪৪, ৯৭৭৫, ৯৮৯৬, ১০১৮৯, দারেমী ২০৭৩, সহীহাহ ১২৮৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৯১. আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কারো খাদেম যখন তাহার নিকট খাদ্য নিয়ে আসে, তখন সে তাহাকে যেন নিজের সাথে বসায় অথবা খাদ্য থেকে তাহাকেও খেতে দেয়। কারণ সে খাদ্যদ্রব্য রান্না করিতে গিয়ে গরম ও ধোঁয়া সহ্য করেছে। {৩২৯১}

{৩২৯১} আহমাদ ৪২৪৫, সহীহাহ ১০৪২, ১০৪৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আলী ইবনিল মুনযীর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শিয়া মতাবলম্বী। মাসলামাহ বিন কাসিম বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই তবে তিনি শিয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৪০, ১২/১৪৫ নং পৃষ্ঠা] ২. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা] ৩. ইবরাহীম আল-হাজারী সম্পর্কে বু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করিতেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৪৮, ২/২০৩ নং পৃষ্ঠা]

উক্ত হাদিসের সানাদটি ইবরাহীম আল-হাজারী এর কারণে দুর্বল। হাদিসটির ৮৮ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ২৫৫৭, ৫৪৬০, মুসলিম ১৬৬০, তিরমিজি ১৮৫৩, আবু দাউদ ৩৮৪৬, দারেমী ২০৭৩, ২০৭৪, আহমাদ ৩৬৭১, ৪২৪৫, ৪২৫৪, ৭২৯৩, ৭৪৬২, ৭৬৬৯, ৭৯২১, শারহুস সুন্নাহ ২৪০৫, ২৪০৬।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২৩/২০. অধ্যায়ঃ খাঞ্চা ও দস্তরখানে আহার করা

৩২৯২. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] কখনো কোন উঁচু জিনিসের উপর থালা রেখে আহার করেননি। কাতাদা [রাদি.] বলেন, তাহলে তাহারা কিসের উপর রেখে খেতেন? তিনি [আনাস] বলেন, দস্তরখানের উপর রেখে। {৩২৯২}

{৩২৯২} ইবনি মাজাহ ৩২৯৩, সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৮৫, ৫৩৮৬, ৫৪১৫, তিরমিজি ১৭৮৮, ২৩৬৩, আহমাদ ১১৮৮৭, ১১৯১৬, ১১৯৬৫, ১৩১৯৮, মুখতাসারুশ শামাইল ১২৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুআয বিন হিশাম সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তাহার একটি মাজলিসের ১৭ টি হাদিস ব্যাতিত তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করিনি। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হুজ্জাহ নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬০৩৮, ২৮/১৩৯ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২৯৩. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে তাহাঁর ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত কখনও খাঞ্চা ভরে আহার করিতে দেখিনি। {৩২৯৩}

{৩২৯৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৮৫, ৫৩৮৬, ৫৪১৫, তিরমিজি ১৭৮৮, ২৩৬৩, আহমাদ ১১৮৮৭, ১১৯১৬, ১১৯৬৫, ১৩১৯৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবু বাহর আল-বাকরাবী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, মানুষ তাহার হাদিস বর্জন করেছে। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৯৭, ১৭/২৭১ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবু বাহর আল-বাকরাবী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫১ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১০ টি খুবই দুর্বল, ১৩ টি দুর্বল, ১৪ টি হাসান, ১৪ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৫৪১৪, তিরমিজি ১৭৮৮, আহমাদ ১১৯১৬, শারহুস সুন্নাহ ২৮৩৭।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/২১. অধ্যায়ঃ খাদ্যসামগ্রী তুলে না নেয়া পর্যন্ত উঠে যাওয়া এবং সকলের আহার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাত ধোয়া নিষেধ

৩২৯৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খাদ্যসামগ্রী তুলে নেয়ার পূর্বে [সকলের আহার শেষ না হওয়া পর্যন্ত] উঠে যেতে নিষেধ করিয়াছেন।{৩২৯৪}

{৩২৯৪} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২৩৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি মুনীর ইবনিয যুবায়র সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও দুহায়ম আদ-দিমাশকী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬২১২, ২৮/৫৭৩ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩২৯৫. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দস্তরখান বিছানো হলে তা পুনরায় তুলে না নেয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি যেন উঠে না যায় এবং সে আহারে পরিতৃপ্ত হলেও হাত গুটিয়ে না নেয়, যতক্ষন না অন্য সকলের আহার গ্রহন শেষ হয়। [একান্তই যদি উঠার প্রয়োজন হয় তবে] সে যেন ওজরখাহি করে। কারণ সে হাত গুটিয়ে নিলে তাহার সাথের লোক লজ্জিত হইবে এবং হয়ত তাহার আরও খাদ্যের প্রয়োজন থাকতে পারে। {৩২৯৫}

{৩২৯৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২৩৮। আর রাদ্দু আলাল বালীক ২২৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল আলা সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করা সঠিক নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৮২, ১৬/৩৪৭ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

২৩/২২. অধ্যায়ঃ আহারের উচ্ছিষ্ট হাত থেকে পরিস্কার না করে রাত কাটানো

৩২৯৬. রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কন্যা ফাতিমা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সাবধান! যে ব্যক্তি আহারের তেলচিটে হাত নিয়ে [হাত পরিস্কার না করে] রাত কাটায়, সে যেন নিজেকেই ভর্ৎসনা করে। {৩২৯৬}

{৩২৯৬} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। রাওদুন নাদীর ৮২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ১. জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়তো] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতাহারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩২৯৭ আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি হাতে তেলচিটে নিয়ে ঘুমালো, তা ধুয়ে পরিস্কার করিল না, এমতাবস্থায় সে কোন অনিষ্টের শিকার হলে এজন্য সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে। {৩২৯৭}

{৩২৯৭} তিরমিজি ১৮৫৯, ১৮৬০, আবু দাউদ ৩৮৫২, আহমাদ ৭৫১৫, ৮৩২৬, ১০৫৫৭, দারেমী ২০৬৩, মিশকাত ৪২১৯, রাওদুন নাদীর ৮২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তাহার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/২৩. অধ্যায়ঃ আহার পরিবেশন করা

৩২৯৮. আসমা বিনতু ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এর জন্য খাদ্যদ্রব্য আনা হলো। তা আমাদের সামনে পরিবেশন করা হলে আমরা বললাম, আমাদের ক্ষুধা নেই। তখন তিনি বলেনঃ মিথ্যা ও ক্ষুধা একত্র করো না [পেটে ক্ষুধা রেখে খেতে অস্বীকার করো না]। {৩২৯৮}

{৩২৯৮} আহমাদ ২৭০১২, ২৭০২০, ২৭০৪৪, আদাবুয যিফাফ ১৮ নং পৃষ্ঠা, মিশকাত ৪৩৫৬, রাওদুন নাদীর ১৫২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩২৯৯. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি সকালের আহার করছিলেন। তিনি বলেনঃ এগিয়ে আসো এবং খাও। আমি বললাম, আমি রোযাদার। আফসোস আমার জন্য আমি যদি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে আহারে অংশগ্রহণ করতাম। {৩২৯৯}

{৩২৯৯} তিরমিজি ৭১৫, নাসাঈ ২২৭৪, ২২৭৬, ২৩১৫, আহমাদ ১৮৫৬৮, ১৯৮১৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু হিলাল সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ঈমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। বাযযাহার বলেন, তিনি গায়র হাফিয। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৫৬, ২৫/২৯২ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২৩/২৪. অধ্যায়ঃ মসজিদের ভিতরে আহার করা

৩৩০০. আব্দুল্লাহ ইবনিল হারিস বিন জাযই আয-যুবায়দী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে মসজিদে বসে রুটি ও গোশ্‌ত আহার করতাম। {৩৩০০}

{৩৩০০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহ আবু দাউদ ১৮৭, মুখতাসারুশ শামাইল ১৩৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/২৫. অধ্যায়ঃ দাঁড়ানো অবস্থায় আহার করা

৩৩০১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে হাঁটা অবস্থায় আহার করেছি এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পান করেছি। {৩৩০১}

{৩৩০১} তিরমিজি ১৮৮০আহমাদ ৪৫৮৭, ৫৮৪০, মুয়াত্তা মালিক ১৭২১, দারেমী ২১২৫, মিশকাত ৪২৭৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/২৬. অধ্যায়ঃ লাউ

৩৩০২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] লাউয়ের তরকারী পছন্দ করিতেন। {৩৩০২}

{৩৩০২}

সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২০৯২, ৫৩৭৯, ৫৪২০, ৫৪৩৩, ৫৪৩৫, ৫৪৩৬, ৫৪৩৭, ৫৪৩৯, মুসলিম ২০৪১, তিরমিজি ১৮৪৯, ১৮৫০, আবু দাউদ ৩৭৮২, আহমাদ ১২৪৫০ ১২৭২৯, ১২৯৪৬, মুয়াত্তা মালিক ১১৬১, দারেমী ২০৫০, সহীহাহ ২১২৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।উক্ত হাদিসের রাবি আবীদাহ বিন হুমায়দ সম্পর্কে আবু হাফস উমার বিন শাহীন বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। মুহাম্মাদ বিন আম্মার বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৫২, ১৯/২৫৭ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩০৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [আমার মা] উম্মু সুলায়ম [রাদি.] আমাকে এক টুকরি তাজা খেজুরসহ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট পাঠালেন। কিন্ত আমি তাহাঁকে পেলাম না। তিনি তাহাঁর নিকটস্থ এক মুক্তদাসের বাড়ীতে গিয়েছিলেন। সে তাহাঁকে আহার গ্রহনের দাওয়াত করেছিল। এবং তাহার জন্য খাবার তৈরি করেছিল। আমি তাহাঁর নিকট আসলাম, তখন তিনি আহার করছিলেন। রাবী বলেন, তিনি আমাকে তাহাঁর সাথে আহার করার জন্য ডাকলেন। রাবী বলেন, সে তাহাঁর জন্য গোশ্‌ত ও লাউ দিয়ে ছারীদ তৈরী করেছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি লাউ খুব পছন্দ করেন। তাই আমি লাউয়ের টুকরাগুলো একত্র করে তাহাঁর সামনে দিতে থাকলাম। আমরা আহার শেষ করার পর তিনি নিজের বাড়ীতে ফিরে এলেন এবং আমি তাহাঁর সামনে টুকরিটি রাখলাম। তিনি খেজুর আহার করিতে লাগলেন এবং অন্যদেরও দিতে থাকলেন, এভাবে তা দিতে দিতে শেষ করে অবসর হলেন। {৩৩০৩}

{৩৩০৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২০৯২, ৫৩৭৯, ৫৪২০, ৫৪৩৩, ৫৪৩৫, ৫৪৩৬, ৫৪৩৭, ৫৪৩৯, মুসলিম ২০৪১, তিরমিজি ১৮৪৯, ১৮৫০, আবু দাউদ ৩৭৮২, আহমাদ ১২৪৫০ ১২৭২৯, ১২৯৪৬, মুয়াত্তা মালিক ১১৬১, দারেমী ২০৫০, ইরওয়া ৭/৪৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩০৪. জাবির বিন তারিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি নবী [সাঃআঃ]-এর বাড়ীতে তাহাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তাহাঁর সামনে লাউয়ের তরকারী ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি? তিনি বললেনঃ এটা লাউ তরকারী। আমরা তা দিয়ে আমাদের খাদ্যদ্রবের পরিমাণ বাড়াই। {৩৩০৪}

{৩৩০৪} আহমাদ ১৮৬২১, মুখতাসারুশ শামাইল ১৩৬, সহীহাহ ২৪০০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/২৭. অধ্যায়ঃ গোশ্‌ত

৩৩০৫. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুনিয়াবাসী ও জান্নাতবাসীদের খাদ্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ খাদ্য হলো গোশ্‌ত। {৩৩০৫}

{৩৩০৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ৩৭২৪, জইফ আল-জামি ৩৩২৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি সুলায়মান বিন আতা আল-জায়লী সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। ইবনি ইরাক বলেন, তিনি জাল [বানোয়াট] হাদিস বর্ণনার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৫০, ১২/৪৩ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩৩০৬. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে যখনই গোশ্‌ত খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হইয়াছে তখনই তিনি তাতে সাড়া দিয়েছেন এবং যখনই তাহাঁকে গোশ্‌ত উপঢৌকন দেয়া হইয়াছে, তিনি তা কবুল করিয়াছেন। {৩৩০৬}

{৩৩০৬} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ৩৭২৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি সুলায়মান বিন আতা আল-জায়লী সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। ইবনি ইরাক বলেন, তিনি জাল [বানোয়াট] হাদিস বর্ণনার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৫০, ১২/৪৩ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

২৩/২৮. অধ্যায়ঃ [দেহের] কোন অংশের গোশ্‌ত অপেক্ষাকৃত উত্তম

৩৩০৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট গোশ্‌ত আনা হল। তাহাঁকে রানের গোশ্‌ত দেয়া হল এবং তিনি এটাই পছন্দ করিতেন। তিনি তা চুষে চুষে খেলেন। {৩৩০৭}

{৩৩০৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৩৪০, তিরমিজি ১৮৩৭, মুখতাসার শামাইল ১৪১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩০৮. আবদুল্লাহ বিন জাফর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তাহাদের জন্য একটি উট যবেহ করেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেন, যখন লোকেরা তাহাঁর জন্য গোশ্‌ত ঢালছিলঃ গোশ্‌তের মধ্যে অপেক্ষাকৃত উত্তম হচ্ছে রানের [পাছার] গোশ্‌ত। {৩৩০৮}

{৩৩০৮} আহমাদ ১৭৪৩, ১৭৫২, রাওদুন নাদীর ৩৭৬, মুখতাসারুশ শামাইল ১৪৫, যইফাহ ২৮১৩, জইফ আল-জামি ৯১৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/২৯. অধ্যায়ঃ ভুনা গোশ্‌ত

৩৩০৯. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মহামহিম আল্লাহ্‌র সাথে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কখনো আস্ত ভুনা বকরী দেখেছেন বলে আমি জানি না। {৩৩০৯}

{৩৩০৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৮৫, আহমাদ ১১৮৮৭, ১১৯১৬, ১১৯৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩১০. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সামনে থেকে কখনো খাওয়ার পর অবশিষ্ট ভুনা গোশ্‌ত তুলে রাখা হয়নি [কারন এই গোশ্‌তের পরিমান কম হত এবং অভ্যাগত অধিক হওয়ায় তা অবশিষ্ট থাকতো না] এবং তাহাঁর জন্য কখনো মোটা বিছানা বহন করা হত না। {৩৩১০}

{৩৩১০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়তো] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতাহারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা] ২. কাসীর বিন সুলায়ম সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে জড়িত। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯৪৪, ২৪/১২১ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩১১. আবদুল্লাহ ইবনিল হারিস ইবনিল হারিস ইবনিল জাযই আয-যুবায়দী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে মসজিদে বসে ভুনা গোশ্‌ত খেয়েছি, অতঃপর কাঁকরে হাত মুছে দাঁড়িয়ে নামায পড়েছি, কিন্তু [গোশ্‌ত খাওয়ার কারনে পুনরায়] উযু করিনি। {৩৩১১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাত মুছার কথা ব্যতীত সহীহ।{৩৩১১} আহমাদ ১৭২৪৯, ১৭২৫৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাত মুছার কথা ব্যাতিত সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইবনি লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনিস সারী বলেন, যদি তাহার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৩০. অধ্যায়ঃ গোশ্‌তের শুটকি

৩৩১২. আবু মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এল। তিনি লোকটির সাথে কথা বলেন। তাহার কাঁধের গোশ্‌ত [ভয়ে] কাঁপছিল। তিনি তাহাকে বলেনঃ তুমি শান্ত হও, স্বাভাবিক হও। কারন আমি কোন রাজা-বাদশা নই, বরং আমি শুকনো গোশ্‌ত খেয়ে জীবনধারিনী এক মহিলার পুত্র। {৩৩১২}

{৩৩১২} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ১৮৭৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩১৩. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা ছাগলের পায়া তুলে রাখতাম এবং রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোরবানির পনের দিন পরও তা খেতেন। {৩৩১৩}

{৩৩১৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৪২৩, ৫৪৩৭, তিরমিজি ১৫১১, নাসাঈ ৪৪৩২, আহমাদ ২৪৪৪১, ২৪৫২৬, ২৫০১৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৩১. অধ্যায়ঃ কলিজা ও প্লীহা

৩৩১৪. আবদুল্লাহ বিন উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের জন্য দু প্রকারের মৃতজীব ও দু ধরনের রক্ত হালাল করা হইয়াছে। মৃত জীব দুটি হল মাছ ও টিড্ডি এবং দু প্রকারের রক্ত হল কলিজা ও প্লীহা। {৩৩১৪}

{৩৩১৪} আহমাদ ৫৬, ৯০, সহীহাহ ১১১৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলাম সম্পর্কে আবুল ফারাজ ইবনিল জাওযী বলেন, তাহার দুর্বলতাহার ব্যাপারে সকলে একমত। আবুল কাসিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তাহার ভাই তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮২০, ১৭/১১৪ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলাম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১০ টি খুবই দুর্বল, ৯ টি দুর্বল, ৮ টি হাসান, ২ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ আহমাদ ৫৬৯০, দারাকুতনী ৪৬৮৭, শারহুস সুন্নাহ ২৮০৩। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৩২. অধ্যায়ঃ লবণ

৩৩১৫. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের তরকারীর নেতা [প্রধান উপকরণ] হল লবণ। {৩৩১৫}

{৩৩১৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মিশকাত ৪২৩৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ঈসা বিন আবু ঈসা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল কাসিম আল-বাগাবী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবুল কাসিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু বাকর আল-বায়হাকী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী, ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল-কাত্তান, ইয়াকুব বিন শায়বাহ ও যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী তাহারা সকলে তাহাকে দুর্বল বলে উল্লেখ করিয়াছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই তবে তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করা যাবে না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৬৪৮, ২৩/১৫ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/৩৩. অধ্যায়ঃ সির্কা দিয়ে রুটি খাওয়া

৩৩১৬. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সির্কা [টক ও ঝাঁঝযুক্ত] পানীয় উত্তম তরকারী। {৩৩১৬}

{৩৩১৬} মুসলিম ২০৫১, তিরমিজি ১৮৪০, দারেমী ২০৪৯, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১১৯, সহীহাহ ২২২০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩১৭. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সির্কা উত্তম তরকারী। {৩৩১৭}

{৩৩১৭} মুসলিম ২০৫২, তিরমিজি ১৮৩৯, ১৮৪২, আবু দাউদ ৩৮২০, ৩৮২১, আহমাদ ১৩৮১৩, ১৩৮৪৯, ১৪৩৯৩, ১৪৫০৮, ১৪৫৬৭, ১৪৬৪০, ১৪৭৬৪, ১৪৭৬৯, ১৪৮৬৯, দারেমী ২০৪৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়তো] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতাহারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৮০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১ টি জাল, ৩৩ টি খুবই দুর্বল, ৮৫ টি দুর্বল, ৭১ টি হাসান, ৯০ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ মুসলিম ২০৫২, ২০৫৩, ২০৫৪, তিরমিজি ১৮৩৯, ১৮৪০, ১৮৪১, আবু দাউদ ৩৮২০, ৩৮২১, দারেমী ২০৪৮, ২০৪৯, আহমাদ ১৩৮১৩, ১৩৮৪৯, ১৪৩৯৩, ১৪৫০৮, ১৪৫৬৭, ১৪৮৬৯, মুজামুল আওসাত ৬২১, ২২২৭, ৫০৬৬, ৬৯৩৪, ৮৮১৭।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩১৮. উম্মু সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আয়েশা [রাদি.] এর নিকট আসলেন। আমি তখন তাহার কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেনঃ সকালের নাস্তা আছে কি? তিনি বলেনঃ আমাদের নিকট রুটি, খেজুর ও সির্কা আছে। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ সির্কা উত্তম তরকারী। হে আল্লাহ! সির্কায় বরকত দান করুন, কারন তা ছিল আমার পূর্বকালের নবীগণের তরকারি। যে ঘরে সির্কা আছে সে ঘরে কখনো তরকারীর অভাব হয়না। {৩৩১৮}

{৩৩১৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ২২২০, জইফ আল-জামি ৫৯৬১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আব্বাস বিন উসমান আদ-দিমাশকী সম্পর্কে আবুল হাসান বিন সুমায় বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি কখনো কখনো সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৩২, ১৪/২৩৩ নং পৃষ্ঠা] ২. আম্বাসাহ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে ঈমাম বুখারী বলেন, হাদিস বিশারদগণ তাহার হাদিস প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। ঈমাম তিরমিজি ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন, তাহার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৩৬, ২২/৪১৬ নং পৃষ্ঠা] ৩. মুহাম্মাদ বিন যাযান সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫২১৬, ২৫/২০৬ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ জাল হাদিস

২৩/৩৪. অধ্যায়ঃ যায়তুন তৈল

৩৩১৯. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যায়তুন তেল দিয়ে রুটি খাও ও তা দেহে মাখো। কারন তা বরকতপূর্ণ গাছ থেকে নির্গত হয়। {৩৩১৯}

{৩৩১৯} তিরমিজি ১৮৫১, সহীহাহ ৩৭৯, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২০, মুখতাসারুশ শামাইল ১৩৩, ১৩৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩২০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যায়তুন তৈল খাও এবং তা দেহে মাখো। কারন তা বরকতপূর্ণ। {৩৩২০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল তবে ৩৭৯ নং হাদিসের অনুরূপে সহীহ।{৩৩২০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। জইফ আল-জামি আস সাগীর ৪২০৩ সেখানে فَإِنَّهُ طىب কথাটি অতিরিক্ত আছে। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল তবে ৩৭৯ নং হাদিসের অনুরুপে সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল্লাহ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, আমি তাহার মজলিসে বসে জানতে পেরেছি যে, তাহার মাঝে মিথ্যা রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনি মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ঈমাম বুখারী ও আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। আবু যুরআহ তাহাকে দুর্বল সাব্যস্ত করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩০৫, ৩৫/৩১ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

২৩/৩৫. অধ্যায়ঃ দুধ

৩৩২১. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট দুধ আনা হলে তিনি বলিতেনঃ এক অথবা দুই বরকত। {৩৩২১}

{৩৩২১} আহমাদ ২৪৬০০, যইফাহ ৪১৬৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি যায়দ ইবনিল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনিল মাদানী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাহাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২০৯৫, ১০/৪০ নং পৃষ্ঠা] ২. উম্মু সালিম আর-রাসিবী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাকবুলাহ। ঈমাম যাহাবী তাহার মীযান গ্রন্থে বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। তাহার থেকে জাফার বিন বুরদ এককভাবে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন ও তাহাকে কেউ সিকাহ বলেননি। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৯৭৯, ৩৫/৩৬২ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩২২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন কাউকে আহার করান তখন সে যেন বলেন, আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহী ওয়ারযুকনা খাইরাম মিনহু [হে আল্লাহ! আমাদেরকে এই খাদ্যে বরকত দান করুন এবং এর চেয়েও উত্তম রিযিক দান করুন]। আর আল্লাহ যাকে দুধ পান করান সে যেন বলেন, আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহী ওয়া যিদনা মিনহু [হে আল্লাহ! এ দুধে আমাদের বরকত দান করুন এবং এর চেয়েও বাড়িয়ে দিন]। কারন আমি জানিনা যে, দুধ ছাড়া এমন কোন জিনিস আছে কিনা যা একি সঙ্গে আহার ও পানীয় উভয়ের জন্যে যথেষ্ট হইতে পারে। {৩৩২২}

{৩৩২২} তিরমিজি ৩৪৫৫, তাখরীজুল মিশকাত ৪২৮৩, সহীহাহ ২৩২০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদানী, ইবনি আবু শায়বাহ, আমর ইবনিল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৩/৩৬. অধ্যায়ঃ হালুয়া বা মিষ্টি দ্রব্য

৩৩২৩. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হালুয়া ও মধু পছন্দ করিতেন। {৩৩২৩}

{৩৩২৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৪৯১২, ৫২৬৭, ৫০৬৮, ৫৪৩১, ৫৫৯৯, ৫৬১৪, ৫৬৮২, ৬৬৯১, ৬৯৭২, মুসলিম ১৪৭৪, তিরমিজি ১৮৩১, নাসাঈ ৩৪২১, ৩৭৯৫, ৩৯৫৮, আবু দাউদ ৩৭১৪, আহমাদ ২৫৩২৪, দারেমী ২০৭৫, মুখতাসারুশ শামাইল ১৩৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৩৭. অধ্যায়ঃ শসা ও তাজা খেজুর একত্রে মিশিয়ে খাওয়া

৩৩২৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সংসারে পাঠাতে চাচ্ছিলেন বিধায় আমার দৈহিক পরিপুষ্টির জন্য চিকিৎসা করাতেন। কিন্তু তা কোন উপকারে আসলো না। অবশেষে আমি তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেলাম এবং উত্তমরুপে দৈহিক পরিপুস্টি লাভ করলাম। {৩৩২৪}

{৩৩২৪} আবু দাউদ ৩৯০৩, সহীহাহ ১/৮৫, ৮৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইউনুস বিন বুকায়র সম্পর্কে আবু বকর বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাহার সিকাহ গ্রন্থে তাহার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭১৭১, ৩২/৪৯৩ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩২৫. আবদুল্লাহ বিন জাফার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেতে দেখেছি। {৩৩২৫}

{৩৩২৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৪৪০, ৫৪৪৭, ৫৪৪৯, মুসলিম ২০৪৩, তিরমিজি ১৮৪৪, আবু দাউদ ৩৮৩৫, আহমাদ ১৭৪৩, ১৭৫২, দারেমী ২০৫৮, রাওদুন নাদীর ৩৭৮, সহীহাহ ৫৬, মুখতাসারুশ শামাইল ১৬৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা] ২. ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন, তাহার ব্যাপারে শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯১, ৩/২১০ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩২৬. সাহল বিন সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাজা খেজুর তরমুজের সাথে মিশিয়ে আহার করিতেন। {৩৩২৬}

{৩৩২৬} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ৫৭, ৫৮, আল-মুখতাসার ১৭০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াকুব ইবনিল ওয়ালীদ বিন আবু হিলাল আল-মাদানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি গায়র সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন, তিনি জাল [বানিয়ে] হাদিস বর্ণনা করিতেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, আহমাদ বিন হাম্বল তাহাকে মিথ্যুক বলেছেন। আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, আমি আমার সাথীদের থেকে শুনিয়াছি তাহারা তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭১০৬, ৩২/৩৭২ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইয়াকুব ইবনিল ওয়ালীদ বিন আবু হিলাল আল-মাদানী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৬৭ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ৪ টি জাল, ২৫ টি খুবই দুর্বল, ২৩ টি দুর্বল, ৮ টি হাসান, ৭ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিজি ১৮৪৩, আবু দাউদ ৩৮৩৬, আহমাদ ১২০৪১, ১২০৫১, মুজামুল আওসাত ৯০৪, ৭৯০৭, শারহুস সুন্নাহ ২৮৯৪।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৩৮. অধ্যায়ঃ খেজুর

৩৩২৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ঘরে খেজুর নাই সে ঘরের বাসিন্দারা অভুক্ত। {৩৩২৭}

{৩৩২৭} মুসলিম ২০৪৬, তিরমিজি ১৮১৫, আবু দাউদ ৩৮৩১, দারেমী ২০৬০, ২০৬১, সহীহাহ ১৭৭৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩২৮. সালমাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ঘরে খেজুর নেই সে ঘর খাদ্যশুন্য ঘরের ন্যায়। {৩৩২৮}

{৩৩২৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ১. হিশাম বিন সাদ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। তাহার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৭৭, ৩০/২০৪ নং পৃষ্ঠা] ২. উবায়দুল্লাহ বিন আবু রাফি সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৬৬, ১৯/১২০ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৩/৩৯. অধ্যায়ঃ যখন [মৌসুমের] প্রথম ফল আসে

৩৩২৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট মৌসুমের প্রথম ফল উপস্থিত করা হলে তিনি বলিতেনঃ আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী মাদিনাতিনা ওয়া ফী সিমারিনা ওয়া ফী মুদ্দিনা ওয়া ফী সাইনা বারাকাতান মাআ বারাকাতিন [হে আল্লাহ! আমাদের বরকত দান করুন আমাদের শহরে, আমাদের ফলে, আমাদের মুদ্দ-এ ও আমাদের সা-এ, বরকতের উপর বরকত]। অতঃপর তিনি তাহার নিকট উপস্থিত শিশুদের তা খেতে দিতেন। {৩৩২৯}

{৩৩২৯} মুসলিম ১৩৭৩, তিরমিজি ৩৪৫৪, আহমাদ ১৫৯৬, ৮১৭৩, মুয়াত্তা মালিক ১৬৩৭, দারেমী ২০৭২, রাওদুন নাদীর ৪৩৬, মুখতাসারুশ শামাইল ১৭২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা] ২. আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা] ৩. সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তাহার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪০. অধ্যায়ঃ ভেজা ও শুষ্ক খেজুর একত্রে মিশিয়ে খাওয়া

৩৩৩০. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা তাজা খেজুর শুকনা খেজুরের সাথে মিশিয়ে খাও, পুরাতন খেজুর নতুন খেজুরের সাথে মিশিয়ে খাও। কারন তাতে শয়তান রাগান্বিত হয় এবং বলে, আদম সন্তান জীবিত রইল, এমনকি পুরাতন ফল নতুন ফলের সাথে আহার করিল। {৩৩৩০}

{৩৩৩০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২৩১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন কায়স আল-মাদিনী সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন, তিনি হাদিস গ্রহনে শিথিল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯১৪, ৩১/৫২৪ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ জাল হাদিস

২৩/৪১. অধ্যায়ঃ একাধিক খেজুর একত্রে মুখে দেয়া নিষেধ

৩৩৩১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন কোন ব্যক্তি যেন নিজ সাথীদের অনুমতি ব্যতিরেকে একত্রে দুটি খেজুর মুখে না দেয়। {৩৩৩১}

{৩৩৩১} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৪৫৫, ২৪৮৯, ২৪৯০, ৫৪৪৬, মুসলিম ২০৪৫, তিরমিজি ১৮১৪, আবু দাউদ ৩৮৩৪, আহমাদ ৪৪৯৯, ৫০১৭, ৫০৪৩, ৫২২৪, ৫৪১২, ৫৫০৮, ৫৭৬৮, ৬১১৪, দারেমী ২০৫৯, সহীহাহ ২৩২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৩২. সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] এর খেদমত করিতেন এবং তাহাঁর কথাবার্তা তাহার ভাল লাগত। নবী [সাঃআঃ] কয়েকটি খেজুর একসাথে মুখে দিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৩৩২}

{৩৩৩২} আহমাদ ১৭১৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু আমির আল-খাযযাহার সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিন সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। সুলায়মান বিন দাউদ বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৮১২, ১৩/৪৭ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪২. অধ্যায়ঃ ভাল খেজুর বেছে বেছে খাওয়া

৩৩৩৩. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দেখেছি যে, তাহাঁর সামনে খেজুর পেশ করা হলে তিনি ভাল খেজুর খোঁজ করিতেন। {৩৩৩৩}

{৩৩৩৩} আবু দাউদ ৩৮৩২, সহীহাহ ২১১৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪৩. অধ্যায়ঃ মাখনের সাথে খেজুর খাওয়া

৩৩৩৪. আতিয়্যাহ বিন বুসর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের এখানে আসলেন। আমরা তাহাঁর বসার জন্য আমাদের একটি চাদর পেতে দিলাম। পানি ছিটিয়ে আমরা তা তাহাঁর জন্য নরম করে দিলাম। তিনি তাহার উপর বসলেন। তখন আমাদের ঘরে মহামহিম আল্লাহ তাহাঁর উপর ওহী নাযিল করিলেন। আমরা তাহাঁর সামনে মাখন ও খেজুর পেশ করলাম। তিনি মাখন পছন্দ করিতেন। {৩৩৩৪}

{৩৩৩৪} আবু দাউদ ৩৮৩৭, আহমাদ ১৭২২২, ১৭২৪২, মিশকাত ৪২৩২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪৪. অধ্যায়ঃ ময়দা

৩৩৩৫. আবু হাযিম হইতে বর্ণীতঃ

আমি সাহল বিন সাদ [রাদি.] এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ময়দা দেখেছেন? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত ময়দা দেখিনি। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে লোকদের কি চালুনী ছিল? তিনি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত চালুনীও দেখিনি। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে আপনারা চালুনী ছাড়া কিভাবে যব খেতেন? তিনি বলিলেন , হাঁ [আমরা তা গুড়ো করে] তাতে ফুঁ দিতাম এবং যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেত এবং যা অবশিষ্ট থাকতো তা পানিতে ভিজাতাম। {৩৩৩৫}

{৩৩৩৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৪১০, তিরমিজি ২৩৬৪, আহমাদ ২২৩০৭, মুখতাসারুশ শামাইল ১২৬, আত-তালীকুর রাগীব ৪/১১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৩৬. উম্মু আয়মান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আটা ছেনে নবী [সাঃআঃ] এর জন্য রুটি তৈরি করিলেন। নবীজী [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, এটা কি? তিনি বলিলেন, এটা আমাদের এলাকার খাবার। আমি আপনার জন্য এ খাবার তৈরি করিতে আগ্রহী হলাম। তিনি বলেন, এর মধ্যে ভুষি ঢেলে দাও, তাহারপর ছেনে নাও। {৩৩৩৬}

{৩৩৩৬} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৩৭. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর এক চোখেও [কখনো] ময়দার রুটি দেখেননি, এমনকি এই অবস্থায় তিনি আল্লাহর সাথে মিলিত হন। {৩৩৩৭}

{৩৩৩৭} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি সাঈদ বিন বাশীর সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি আমাদের নিকট সালিহ। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য হইবে না। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। আবদুর রহমান বিন মাহদী তাহার থেকে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন পরে তা বর্জন করিয়াছেন। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি দুর্বল ছিলেন। আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস তাহার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন পরে তা ত্যাগ করেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি কাদারিয়া মতাবলম্বী। ঈমাম বুখারী বলেন, তাহার হিফযের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২২৪৩, ১০/৩৪৮ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/৪৫. অধ্যায়ঃ পাতলা রুটি [চাপাতি]

৩৩৩৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[আতা] বলেন, আবু হুরাইরাহ [রাদি.] তাহার এলাকা অর্থাৎ উবাইনায় [ইউনা] যান। লোকেরা তাহার জন্য মিহি রুটি পরিবেশন করিলে তিনি কেঁদে দিলেন এবং বলিলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনো এরূপ রুটি দেখেননি। {৩৩৩৮}

{৩৩৩৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন।উক্ত হাদিসের রাবি ১. দমরাহ বিন রাবীআহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। আবু সাঈদ বিন য়ুনুস আল-মিসরী বলেন, তিনি তাহাদের যুগে একজন ফাকীহ ছিলেন। আহমেদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ ও আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় কিছু সন্দেহ করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ননায় সন্দেহ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৩৮, ১৩/৩১৬ নং পৃষ্ঠা] ২. [উসমান] ইবনি আতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাক্‌র আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহণ করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য হইবে না। আহমেদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৪৬, ১৯/৪৪১ নং পৃষ্ঠা] ৩. আতা বিন মুসলিম সম্পর্কে আবু বাক্‌র আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ বলেন, তিনি হাদিস ভুলে যেতেন। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তাহার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৪১, ২০/১০৬ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৩৯. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[কাতাদাহ] বলেন, আমরা আনাস বিন মালিক [রাদি.]-র নিকট যেতাম। ইসহাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর বর্ণনায় আছেঃ তাহার রুটি প্রস্তুতকারী দাঁড়ানো থাকতো আর দারেমীর বর্ণনায় আছেঃ তাহার খাঞ্চা বিছানো থাকতো। একদিন তিনি বলেন, তোমরা আহার করো। আমি জানি না, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত স্বচক্ষে মিহি রুটি এবং আস্ত ভূনা বকরী দেখেছেন কি না। {৩৩৩৯}

{৩৩৩৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৮৫, আহমাদ ১১৮৮৭, ১১৯১৬, ১১৯৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪৬. অধ্যায়ঃ ফালূদা

৩৩৪০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সর্বপ্রথম আমরা ফালূদার নাম শুনতে পাই, জিবরীল [আঃ] নবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বলেন, আপনার উম্মত অনেক দেশের উপর বিজয়ী হইবে এবং অঢেল সম্পদ তাহাদের হস্তগত হইবে, এমনকি তাহারা ফালূদা খাবে। নবী [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেনঃ ফালূদা কী? তিনি বলেনঃ তাহারা ঘি ও মধু একত্রে মিশাবে। একথা শুনে নবী [সাঃআঃ] কান্নার মত আওয়াজ করিলেন। {৩৩৪০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সানাদটি মুনকার ও মাতানটি বানোয়াট।{৩৩৪০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সানাদটি মুনকার ও মাতানটি বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল ওয়াহহাব বিন দাহহাক আস-সুলামী আবুল হারিস সম্পর্কে আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি জাল [বানিয়ে] হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু নুআয়ম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি একাধিক জাল হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬০১, ১৮/৪৯৪ নং পৃষ্ঠা] ২. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদানী, ইবনি আবু শায়বাহ, আমর ইবনিল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা] ৩. মুহাম্মাদ বিন তালহাহ আত তায়মী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হইবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৩১২, ২৫/৪১৪ নং পৃষ্ঠা] ৪. উসমান বিন ইয়াহইয়া সম্পর্কে ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৭২, ১৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

২৩/৪৭. অধ্যায়ঃ ঘির সাথে ভূষিযুক্ত রুটি

৩৩৪১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিতেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদিন বলেনঃ আহা! আমার নিকট যদি ঘি মিশ্রিত সাদা মিহি আটার রুটি থাকতো, আমরা তা আহার করতাম। রাবী বলেন, একথা শুনে এক আনসার সাহাবী অনুরূপ রুটি তৈরি করে তাহাঁর নিকট নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ এই ঘি কিসের মধ্যে ছিল? সাহাবী বলেন, গুই সাপের চামড়ার তৈরি পাত্রের মধ্যে। রাবী বলেন, তিনি তা আহার করিতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। {৩৩৪১}

{৩৩৪১} আবু দাউদ ৩৮১৮, মিশকাত ৪২২৯, জইফ আল-জামি ৬১১৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি হাদিয়্যাহ বিন আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনি আবু আসিম বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৫৪, ৩০/১৫৮ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৪২. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উম্মু সুলাইম [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] এর জন্য রুটি তৈরি করিলেন এবং তাতে কিছু ঘি ঢেলে দিলেন। অতঃপর তিনি [আমাকে] বলেন, তুমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট যাও এবং তাহাঁকে দাওয়াত দাও। রাবী বলেন, আমি তাহাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার মা আপনাকে দাওয়াত দিয়েছেন। রাবী বলেন, আমি তাহাদের আগেই বাড়ি পৌঁছে মাকে এ কথা জানালাম। ইতোমধ্যে নবী [সাঃআঃ] এসে বলেন, তুমি যা তৈরি করেছো, তা নিয়ে এসো। মা বলেন, আমি তো মাত্র আপনার একার পরিমাণ খাবার তৈরি করেছি। তিনি বলেন, তাই দাও। তিনি আরও বলেনঃ হে আনাস! দশজন দশজন করে আমার কাছে ভেতরে পাঠাও। তিনি বলেন, আমি দশজন দশজন করে তাহাঁর নিকট পাঠাতে থাকি। তাহারা সবাই আহার করিলেন, এমনকি সবাই পরিতৃপ্ত হলেন, আর তাহারা ছিলেন আশিজন। {৩৩৪২}

{৩৩৪২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৮, ৫৩৮১, ৫৪৫০, ৬৬৮৮, মুসলিম ২০৪০, মুয়াত্তা মালিক ১৭২৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি উসমান বিন আবদুর রহমান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল।উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু উসমান বিন আবদুর রহমান এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৩২ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১ টি জাল, ১৪ টি খুবই দুর্বল, ৪৩ টি দুর্বল, ৮১ টি হাসান, ৯৩ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৩৫৮৭, ৫৩৮১, ৫৪৫০, ৬৬৮৮, মুসলিম ২০৪১, ২০৪২, তিরমিজি ৩৬৩০, দারেমী ৪৩, মুয়াত্তা মালিক ১৭২৪, আহমাদ ১২০৮২, ১২৮৭০, ১৩০১৫, ১৩১৩৫, ১৪৬১০, ১৪৬২৭, মুজামুল আওসাত ২৭৬৫, ২৯০৭, ৩১০৫, ৩২৭৬, ৩৯৭৫। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪৮. অধ্যায়ঃ গমের রুটি

৩৩৪৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহর নবী [সাঃআঃ] কখনো পরপর তিনদিন গমের রুটি পেট ভরে খেতে পাননি, এ অবস্থায় মহামহিম আল্লাহ তাহাঁকে তুলে নেন [ইনতিকাল করেন]। {৩৩৪৩}

{৩৩৪৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৩৭৪, মুসলিম ২৯৭৬, তিরমিজি ২৩৫৮, আহমাদ ৯৩২৮, আত-তালীকুর রাগীব ৪/১০৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা] ২. ইয়াযীদ বিন কায়সান সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট হাফিয নয়। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, আমি আশা করি তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৪১, ৩২/২৩০ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৪৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] মদীনায় আসার পর থেকে তাহাঁর ইনতিকাল পর্যন্ত তাহাঁর পরিবার কখনো একাধারে তিনদিন পেট ভরে আটার রুটি খেতে পাননি। {৩৩৪৪}

{৩৩৪৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩০৯৭, ৫৪১৬, ৬৪৫৫, মুসলিম ২৯৭০, ২৯৭৩, তিরমিজি ২৪৬৭, নাসাঈ ৪৪৩২, আহমাদ ২৪২৪৭, ২৪৪৪১, ২৪৪৪২, ২৪৬৯৮, ২৫০১৩, ২৫২২৩, ২৫৬৪৪, ২৫৮৩৫, মুখতাসারুশ শামাইল ১২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৪৯. অধ্যায়ঃ যবের রুটি

৩৩৪৫. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] যখন ইনতিকাল করেন, তখন আমার ঘরে আমার আলমিরায় রক্ষিত যবের সামান্য আটা ব্যতীত কোন প্রাণীর আহার করার মত আর কিছুই ছিলো না। আমি তা থেকে আহারের ব্যবস্থা করিতে থাকলাম। এভাবে অনেকদিন চলে গেলো। অবশেষে একদিন আমি তা ওজন করলাম। ফলে তা শেষ হয়ে গেলো। {৩৩৪৫}

{৩৩৪৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩০৯৭, ৫৪১৬, ৬৪৫৫, মুসলিম ২৯৭০, ২৯৭৩, তিরমিজি ২৪৬৭, নাসাঈ ৪৪৩২, আহমাদ ২৪২৪৭, ২৪৪৪১, ২৪৪৪২, ২৪৬৯৮, ২৫০১৩, ২৫২২৩, ২৫৬৪৪, ২৫৮৩৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৪৬. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর ইনতিকাল পর্যন্ত তাহাঁর পরিবারের সদস্যগণ কখনো যবের রুটি পেট ভরে আহার করেননি। {৩৩৪৬}

{৩৩৪৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩০৯৭, ৫৪১৬, ৬৪৫৫, মুসলিম ২৯৭০, ২৯৭৩, তিরমিজি ২৪৬৭, নাসাঈ ৪৪৩২, আহমাদ ২৪২৪৭, ২৪৪৪১, ২৪৪৪২, ২৪৬৯৮, ২৫০১৩, ২৫২২৩, ২৫৬৪৪, ২৫৮৩৫, মুখতাসারুশ শামাইল ১২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৪৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর একাধারে কয়েক রাত অভুক্ত অবস্থায় কেটে যেত এবং তাহাঁর পরিবারের লোকদেরও রাতের আহার জুটতো না। অধিকাংশ সময় তাহাদের রুটি হত যবের তৈরি। {৩৩৪৭}

{৩৩৪৭} তিরমিজি ২৩৬০, সহীহাহ ২১১৯, মুখতাসারুশ শামাইল ১২৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি হিলাল বিন খাব্বাব সম্পর্কে আবু আহুমাদ আল-হাকিম বলেন, শেষ বয়সে তাহার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, আমি আশা করি তাহার মাঝে কোন সমস্যা নেই। আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। আবু হাফস উমার বিন শাহীন বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬১৬, ২/২৫৯ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৪৮. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পশমী বস্ত্র ও সাধারণ জুতা পরিধান করিতেন। তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বাদহীন খাবার খেতেন এবং মোটা বস্ত্র পরিধান করিতেন। হাসানকে জিজ্ঞাসা করা হলো, স্বাদহীন-এর অর্থ কী? তিনি বলেন, মোটা যবের রুটি। তিনি তা এক ঢোক পানি ব্যতীত গলাধঃকরণ করিতে পারতেন না। {৩৩৪৮}

{৩৩৪৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৩/১০৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইউসুফ বিন আবু কাসীর সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭১৪৯, ৩২/৪৫১ নং পৃষ্ঠা] ২. নুহ বিন যাকওয়ান সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৪৯১, ৩০/৪৮ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/৫০. অধ্যায়ঃ পরিমিত আহার উত্তম ও ভুরিভোজ খারাপ

৩৩৪৯. মিকদাম বিন মাদীকারিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছিঃ মানুষ পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোন পাত্র ভর্তি করে না। [যতটুকু খাদ্য গ্রহণ করিলে পেট ভরে পাত্র থেকে ততটুকু খাদ্য উঠানো কোন ব্যক্তির জন্য দূষণীয় নয়]। যতটুকু আহার করিলে মেরুদণ্ড সোজা রাখা সম্ভব, ততটুকু খাদ্যই কোন ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট। এরপরও যদি কোন ব্যক্তির নফস [প্রবৃত্তি] জয়জুক্ত হয়, তবে সে তাহার পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে। {৩৩৪৯}

{৩৩৪৯}তিরমিজি ২৩৮০, ইরওয়া ২৩৮০, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২২, সহীহাহ ২২৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি শাম বিন আবদুল মালিক আল হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিসের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাহার সিকাহ গ্রন্থে তাহার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। ইবনি হাজার আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৮৩, ৩০/২২৩ নং পৃষ্ঠা] ২. উম্মু মুহাম্মাদ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৮০২৭, ৩৫/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু উম্মু মুহাম্মাদ ও তাহার মাতাহার কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১২ টি খুবই দুর্বল, ২১ টি দুর্বল, ১০ টি হাসান, ১১ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিজি ২৩৮০, আহমাদ ১৬৭৩৫, শারহুস সুন্নাহ ৪০৪৮। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৫০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ]-এর সামনে ঢেকুর তুললে তিনি বলেনঃ তুমি আমাদের থেকে তোমার ঢেকুর প্রতিরোধ করো। কারণ যারা পার্থিব জীবনে ভুরিভোজ করে তাহারাই হইবে কিয়ামতের দিন অর্ধেক ক্ষুধার্ত। {৩৩৫০}

{৩৩৫০} তিরমিজি ২৪৭৮, সহীহাহ ৩৪৩, মিশকাত ৫১৯৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবদুল আযীয বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৫৮, ১৮/১৬৩ নং পৃষ্ঠা] ২. আবু ইয়াহইয়া আল-বাক্কাই সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তোমরা তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করিও না। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯২০, ৩১/৫৩৩ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৫১. আতিয়্যাহ বিন আমির আল-জুহানী [মাকবূল] হইতে বর্ণীতঃ

আমি সালমান [রাদি.], এর নিকট শুনিয়াছি যে, তাহাকে আহার করিতে পীড়াপীড়ি করা হলে তিনি বলিতেন, আমার জন্য যথেষ্ট যে, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ দুনিয়াতে যেসব লোক ভুরিভোজ করে, তাহারাই হইবে কিয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত। {৩৩৫১}

{৩৩৫১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি সাঈদ বিন মুহাম্মাদ আস-সাকাফী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৩৪৯, ১১/৪৭ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৩/৫১. অধ্যায়ঃ তোমার যখন যা খেতে ইচ্ছা হয় তখন তাই খাওয়া অপচয়

৩৩৫২. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখনই তোমার যা খেতে লোভ জাগে, তখনই তা খাওয়াই [যথেচ্ছ আহার] হলো অপচয়। {৩৩৫২}

{৩৩৫২} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২৪১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইউসুফ বিন কাসীর সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭১৪৯, ৩২/৪৫১ নং পৃষ্ঠা] ২. নুহ বিন যাকওয়ান সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৪৯১, ৩০/৪৮ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ জাল হাদিস

২৩/৫২. অধ্যায়ঃ খাদ্যদ্রব্য ফেলে দেয়া নিষেধ

৩৩৫৩. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মহানবী [সাঃআঃ] এসে ঘরে প্রবেশ করে এক টুকরা রুটি পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি তা তুলে নিয়ে ধুলাবালি ঝেড়ে ফেলে আহার করিলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! সম্মান করো সম্মানিতের [আল্লাহ প্রদত্ত রিযিকের]। কারণ কোন জাতির নিকট থেকে আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক উঠে গেলে তা পুনরায় তাহাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে না। {৩৩৫৩}

{৩৩৫৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ইরওয়া ১৯৬১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ওয়াসসাজ বিন উকবাহ বিন ওয়াসসাজ সম্পর্কে ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাহার সিকাহ গ্রন্থে তাহার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬৮৭, ৩০/৪৪১ নং পৃষ্ঠা] ২. আল-ওয়ালীদ বিন মুহাম্মাদ আল-মুওয়াক্কারী সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৩৪, ৩১/৭৬ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/৫৩. অধ্যায়ঃ দুর্ভিক্ষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা

৩৩৫৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল জূ, ফাইন্নাহু বিসাদ-দাজীঊ ওয়া আউযুবিকা মিনাল খিয়ানাতে ফাইন্নাহা বিসাতিল-বিতানাহ” [হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। কারণ তা [মানুষের] নিকৃষ্ট সাথী এবং আমি আপনার নিকট আরও আশ্রয় প্রার্থনা করি প্রতাহারণা থেকে। কারণ তা গোপন চারিত্রিক দোষ]। {৩৩৫৪}

{৩৩৫৪} নাসাঈ ৫৪৬৮, ৫৪৬৯, আবু দাউদ ১৫৪৭, সহীহ আবু দাউদ ১৩৮৩, তাখরীজুল মিশকাত ২৪৬৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইসহাক বিন মানসুর সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ তবে তিনি শীয়া মতাবলম্বী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৪, ১/১০৩ নং পৃষ্ঠা] ২. লায়স সম্পর্কে ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতাহারাবুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু যুরআহ ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০১৭, ২৪/২৭৯ নং পৃষ্ঠা] ৩. [আবু আমির] কাব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাহার সিকাহ গ্রন্থে তাহার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি পরিচিত নন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। আল-মিযযী বলেন, তিনি জাহিলদের একজন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯৮৩, ২৪/১৯৭ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৩/৫৪. অধ্যায়ঃ রাতের আহার পরিত্যাগ

৩৩৫৫. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রাতের আহার ত্যাগ করো না, যদিও তা এক মুঠো খেজুরও হয়। কারণ রাতের আহার ত্যাগ মানুষকে বৃদ্ধ করে দেয়। {৩৩৫৫}

{৩৩৫৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ১১৬, জইফ আল-জামি ৬২০৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইবরাহীম বিন আবদুস সালাম বিন আবদুল্লাহ বিন বাবাহ আল-মাখযুমী সম্পর্কে আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি পরিচিত নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি হাদিস চুরি করে শ্রবন করিতেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২০৬, ২/১৩৮ নং পৃষ্ঠা] ২. আবদুল্লাহ বিন মায়মুন সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি এককভাবে হাদিস বর্ণনা করিলে তাহার সেই হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে না। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬০৩, ১৬/১৯৮ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

২৩/৫৫. অধ্যায়ঃ লোকদেরকে দাওয়াত করা

৩৩৫৬. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ঘরে মেহমানের ভিড় লেগে থাকে সেই ঘরে উটের কুঁজের দিকে দ্রুত ধাবমান ছুরির চেয়েও দ্রুততর গতিতে কল্যাণ প্রবেশ করে। {৩৩৫৬}

{৩৩৫৬} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মিশকাত ৪২৬০, আত-তালীকুর রাগীব ৩/২৪৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়তো] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতাহারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা] ২. কাসীর বিন সুলায়ম সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল আযদী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে জড়িত। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯৪৪, ২৪/১২১ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৫৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ঘরে [মেহমানদের] আহার করানো হয়, সেই ঘরে উটের কুঁজের দিকে দ্রুত ধাবমান ছুরির চেয়েও দ্রুত গতিতে কল্যাণ প্রবেশ করে। {৩৩৫৭}

{৩৩৫৭} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মিশকাত ৪২৬০, আত-তালীকুর রাগীব ৩/২৪৩, জইফ আল-জামি ২৯৫১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়তো] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতাহারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা] ২. আবদুর রহমান বিন নাহশাল সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইসহাক বিন রাহওয়ায় তাহাকে মিথ্যুক বলেছেন। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৫৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বিদায়ের প্রাক্কালে মেহমানের সাথে ঘরের দরজা পযর্ন্ত এগিয়ে যাওয়া সুন্নাত। {৩৩৫৮}

{৩৩৫৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২৫৮, আর-রাদ্দু আলাল বালীক ২২১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবি ১. উসমান বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি দুর্বল। আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি দুর্বলদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৩৮, ১৯/৪২৮ নং পৃষ্ঠা] আলী বিন উরওয়াহ সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। ইবনি আসিম বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে জানা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪১০৮, ২১/৬৯ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ জাল হাদিস

২৩/৫৬. অধ্যায়ঃ দাওয়াতের স্থানে খারাপ কিছু দেখলে মেহমান সেখান থেকে ফিরে আসবে

৩৩৫৯. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আহার তৈরি করলাম এবং রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দাওয়াত দিলাম। তিনি এসে ঘরের ভেতর ছবি দেখিতে পেয়ে ফিরে গেলেন। {৩৩৫৯}

{৩৩৫৯} নাসাঈ ৫৩৫১, তাখরীজুর মুখতাহার ৪৪৯, আদাবুয যিফাফ ৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৬০. সাফীনাহ আবু আবদুর রহমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি আলী বিন আবু তালিব [রাদি.]-এর মেহমান হলো। তিনি তাহার জন্য আহার তৈরি করিলেন। ফাতিমা [রাদি.] বলেন, আমরা যদি নবী [সাঃআঃ] কেও দাওয়াত করতাম তবে তিনিও আমাদের সাথে আহার করিতেন। অতএব তাঁরা তাহাঁকে ও দাওয়াত করিলেন এবং তিনি আসলেন। তিনি ঘরের দরজার চৌকাঠে হাত রেখে ঘরের এক কোণে পাতলা নকশাযুক্ত কাপড় দেখিতে পেয়ে ফিরে গেলেন। ফাতিমা [রাদি.] আলী [রাদি.]-কে বলেন, আপনি তাহাঁর সাথে সাক্ষাত করুন এবং তাহাঁকে জিজ্ঞাসা করুন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ জিনিস আপনাকে ফিরিয়ে দিলো? তিনি বলেনঃ এ রকম সুসজ্জিত ঘরে প্রবেশ করা আমার জন্য শোভা পায় না। {৩৩৬০}

{৩৩৬০} আবু দাউদ ৩৭৫৫, আহমাদ ২১৪১৫, ২১৪১৯, ২১৪২৬, আহমাদ ২১৪১৫, ২১৪১৯, ২১৪২৬, মিশকাত ৩২৬০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি সাঈদ বিন জুমহান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে এককভাবে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২২৪৬, ১০/৩৭৬ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৩/৫৭. অধ্যায়ঃ গোশ্‌ত ও ঘি একত্রে মিশিয়ে খাওয়া

৩৩৬১. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[ইবনি উমার] বলেন যে, তিনি আহাররত অবস্থায় উমার [রাদি.] তাহার ঘরে প্রবেশ করিলেন। তিনি তাহাকে আহারের মজলিসে মধ্যখানে জায়গা করে দিলেন। তিনি বিসমিল্লাহ বলে খাবারের পাত্রে হাত দিলেন এবং এক গ্রাস তুলে দিলেন, অতঃপর দ্বিতীয় গ্রাস তুলে নিয়ে বলেনঃ আমি তৈলাক্ত জিনিসের স্বাদ পাচ্ছি এবং তা গোশতের চর্বি নয়। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি মোটা গোশত ক্রয়ের উদ্দেশে বাজারে গিয়েছিলাম, কিন্তূ তাহার চড়া দাম দেখে এক দিরহামের শীর্ণকায় পশুর গোশত ক্রয় করে এবং এক দিরহামের ঘি ক্রয় করে তা ঐ গোশতের মধ্যে ঢেলে দিয়াছি। আমি চাচ্ছিলাম যে, পরিবারের সকলের ভাগে অন্তত একটি করে হাড় পড়ুক। উমার [রাদি.] বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট ঘি ও গোশত একত্রে উপস্থিত করা হলে, তিনি তাহার একটি আহার করিতেন এবং অন্যটি দান খয়রাত করিতেন। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আহার করুন। পুনরায় কখনো ঘি ও গোশত একত্র হলে আমি তাই করিব। উমার [রাদি.] বলেন, আমি কখনও খাবো না। {৩৩৬১}

{৩৩৬১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াহইয়া বিন আবদুর রহমান আল-আরহাবী সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৮৭০, ৩১/৪৩৮ নং পৃষ্ঠা] ২. ইউনুস বিন আবুল ইয়াফুর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার সম্পর্কে আমার ধারনা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭১৮৯, ৩২/৫৫৮ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/৫৮. অধ্যায়ঃ তরকারী রান্না করিলে ঝোল বেশী রাখবে

৩৩৬২. আবু যার্র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি তরকারী রান্না করিলে তাতে ঝোল বেশী দিও এবং তোমার প্রতিবেশীদের পযর্ন্ত তা পৌঁছিও। {৩৩৬২}

{৩৩৬২} মুসলিম ২৬২৫, তিরমিজি ১৮৩৩, আহমাদ ২০৮১৭, ২০৮৭৩, ২০৯১৮, দারেমী ২০৭৯, সহীহাহ ১৩৬৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু আমির আল-খাযযায সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৮১২, ১৩/৪৭ নং পৃষ্ঠা]খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৫৯. অধ্যায়ঃ রসুন, পিঁয়াজ ও একপ্রকারের দুর্গন্ধযুক্ত তরকারী খাওয়া

৩৩৬৩. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জুমুআর দিন খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও গুনগান করেন, অতঃপর বলেন, হে লোকসকল! তোমরা দুপ্রকারের গাছ খাও, আমি তা নিকৃষ্ট জ্ঞান করি। তা হলো রসুন ও পিঁয়াজ। আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে দেখেছি যে, এক ব্যক্তির মুখ থেকে তাহার দুর্গন্ধ নির্গত হলে তাহার হাত ধরে আল-বাকী নামক স্থানের দিকে বের করে দেয়া হয়। অতএব তোমাদের কেউ যদি তা খেতেই চায়, তবে সে যেন তা রান্না করে এর দুর্গন্ধ দূর করে দেয়। {৩৩৬৩}

{৩৩৬৩} মুসলিম ৮৭৯, নাসাঈ ৭০৮, আহমাদ ৯০, ৩৪৩, ইরওয়া ১৫১৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৬৪. উম্মু আয়্যূব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ]-এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করলাম, এবং তাতে কিছু শাক-সব্জিও ছিল। তিনি তা ত্যাগ করে বলেনঃ আমি আমার সাথীকে [জিবরীল] কষ্ট দেয়া পছন্দ করি না। {৩৩৬৪}

{৩৩৬৪} তিরমিজি ১৮১০, দারেমী ২০৫৪, আত-তালীক আলা ইবনি খুযাইমাহ ১৬৭১, সহীহাহ ২৭৮৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৬৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক দল লোক নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এলে তিনি তাহাদের থেকে দুর্গন্ধ অনুভব করেন। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাদের এই বৃক্ষ খেতে নিষেধ করিনি? মানুষ যে সব জিনিসে কষ্ট পায়, ফেরেশতাহারাও সেসব জিনিসে কষ্ট পান। {৩৩৬৫}

{৩৩৬৫} মুসলিম ৫৬৪, তিরমিজি ১৮০৬, নাসাঈ ৭০৭, আহমাদ ১৪৫৯৬, ১৪৭৩৯, ১৪৮৫০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুর রহমান বিন নামিরান আল-হাজারী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। তাহার থেকে আল-ওয়ালীদ ব্যাতিত কেউ হাদিস বর্ণনা করেনি। উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুর রহমান বিন নামিরান আল-হাজারী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২ টি শাহিদ হাদিস পাওয়া যায়। তা হলোঃ মুসনাদ আবু ইয়ালা ২৩২১, মুজামুল কাবীর ৪০৫০। খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৬৬. উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সাহাবীগণকে বললেনঃ তোমরা পিঁয়াজ খেও না। অতঃপর তিনি আস্তে বলেনঃ কাঁচা পিয়াজ। {৩৩৬৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ “অতঃপর তিনি বলিলেন” কথাটি ব্যতিত সহীহ।{৩৩৬৬} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ২৩৮৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ “অতঃপর তিনি বলিলেন” কথাটি ব্যাতিত সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইবনি লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনিস সারী বলেন, যদি তাহার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] ২. উসমান বিন নুআয়ম আর-রুআয়নী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহবী তাহাকে সালিহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৬৭, ১৯/৫০০ নং পৃষ্ঠা] ৩. মুগীরাহ বিন নাহীক সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার থেকে উসমান ছাড়া অন্য কাউকে হাদিস বর্ণনা করিতে দেখিনি। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৪৫, ২৮/৪০৭ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩/৬০. অধ্যায়ঃ পনির ও ঘি খাওয়া

৩৩৬৭. সালমান আল-ফারিসী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট ঘি, পনির ও বন্য গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেন, আল্লাহ তাহাঁর কিতাবে যেসব জিনিষ হালাল করিয়াছেন তা হালাল এবং আল্লাহ তাআলা তাহাঁর কিতাবে যেসব জিনিষ হারাম করিয়াছেন তা হারাম। আর যে সব জিনিষ সম্পর্কে তিনি নীরব থেকেছেন তা তিনি ক্ষমা করিয়াছেন। {৩৩৬৭}

{৩৩৬৭} তিরমিজি ১৭২৬, গায়াতুল মারাম ২, ৩, মিশকাত ৪২২৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও তাহার রাফিদী মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯১, ৩/২১০ নং পৃষ্ঠা] ২. সায়ফ বিন হারুন সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬৭৯, ১২১২/৩৩২ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৩/৬১. অধ্যায়ঃ ফল খাওয়া

৩৩৬৮. নুমান বিন বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ]-এর জন্য তায়েফ থেকে আংঙ্গুরের উপঢৌকন এলো। তিনি আমাকে ডেকে বলেনঃ এই আংঙ্গুরের গুচ্ছ তুমি লও এবং তোমার মাকে পৌঁছিয়ে দাও। কিন্তূ আমার মাকে পৌঁছানোর পূর্বে আমি তা খেয়ে ফেললাম। কয়েক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেনঃ আংঙ্গুরের গুচ্ছের কী হলো? তুমি কি তোমার মাকে তা পৌঁছেছিলে? আমি বললাম, না। তাই তিনি রসিকতা করে আমার নাম রাখলেন “গুদার” [দাগাবাজ]। {৩৩৬৮}

{৩৩৬৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুর রহমান বিন ইরাক সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী। তাহার থেকে তাহার ছেলে মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান এককভাবে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনি হিব্বান ব্যাতিত কেউ তাহাকে তাওসীক করেননি। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪০৩, ২৫/৬১৬ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৬৯. তালহা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যখন নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম তখন তাহাঁর হাতে ছিল এক জাতীয় অম্ল ফল। তিনি বলেনঃ হে তালহা! এগুলো লও। এগুলো অন্তরকে শান্তি দেয়। {৩৩৬৯}

{৩৩৬৯} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আত-তালহী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭৬, ৩/১৮৭ নং পৃষ্ঠা] ২. নুকায়ব বিন হাজিব সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি কে তা আমি জানি না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৪৭০, ৩০/১৭ নং পৃষ্ঠা] ৩. আবু সাঈদ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, আমি তাহাকে চিনি না। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। আল-মিযযী বলেন, তিনি জাহিলদের একজন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৪০১, ৩৩/৩৬০ নং পৃষ্ঠা] ৪. আবদুল মালিক আয-যুবায়রী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। আল-মিযযী বলেন, তিনি জাহিলদের একজন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৭৫, ১৮/৪৩৬ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩/৬২. অধ্যায়ঃ উপুড় হয়ে খাওয়া নিষেধ

৩৩৭০. আবদুল্লাহ বিন উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে কোন ব্যাক্তিকে উপুড় হয়ে আহার করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৩৭০}

{৩৩৭০} আবু দাউদ ৩৭৭৪, সহীহাহ ২৩৯৪, ইরওয়া ১৯৮২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি জাফার বিন বুরকান সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তিনি যুহরীর রেওয়ায়াত বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। আবু হাফস উমার বিন শাহীন বলেন, তিনি যুহরী ছাড়া অন্যদের হাদিস বর্ণনায় সিকাহ। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি যুহরীর রেওয়ায়াত বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে যুহরীর হাদিস বর্ণনায় তিনি সন্দেহ করিতেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৯৩৪, ৫/১১ নং পৃষ্ঠা] খাবার সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply