খাইবার যুদ্ধ

খাইবার যুদ্ধ

খাইবার যুদ্ধ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪৩. অধ্যায়ঃ খাইবার যুদ্ধ

৪৫৫৭

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খাইবারের যুদ্ধে যাত্রা করেন। আমরা সেদিন তাহাঁর সঙ্গে সকালের নামাজ [ফাজ্র] অন্ধকারে আদায় করি। তারপর আল্লাহর -নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর বাহনে আরোহণ করিলেন এবং আবু তালহাহ্ [রাদি.]–ও তাহাঁর সওয়ারীতে আরোহণ করিলেন। আর আমি [আরোহী] ছিলাম আবু তালহার পশ্চাতে। আল্লাহর নবী [সাঃআঃ] খাইবারের গলিপথে চললেন। [আমরা এত পাশাপাশি পথ চলছিলাম যে] আমার হাঁটু আল্লাহর নবী [সাঃআঃ]-এর উরু স্পর্শ করেছিল। এমন সময় আল্লাহর নবী [সাঃআঃ]-এর লুঙ্গি তাহাঁর উরুদেশ থেকে সরে গেল। আর আমি আল্লাহর নবী [সাঃআঃ]-এর উরুর শুভ্রতা দেখিতে পেলাম। তিনি যখন খাইবারের জনপদে প্রবেশ করিলেন, তখন বললেনঃআল্লাহু আকবার, খাইবার ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় পৌঁছি, তখন যাদের সতর্ক করা হয়েছে, তাদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। তিনি এ কথা তিনবার বলিলেন। রাবী বলেন, লোকজন তাদের কাজ- কর্মে বেরিয়ে গেল। তারা বলে উঠলো, “মুহাম্মাদ [এসে পড়েছেন দেখছি]”। রাবী আবদুল আযীয বলেন, আমাদের কোন কোন সঙ্গী বলিলেন, আর তাহাঁর পঞ্চভুজবিশিষ্ট বাহিনীও। রাবী বলেন, আমরা প্রভাব বিস্তার করে তা জয় করে নিলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫১৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫১৬]

৪৫৫৮

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,খাইবারের যুদ্ধের দিন আমি আবু তালহার পিছনে [একই ঘোড়ার পিঠে সওয়ার] ছিলাম। আমার দুপা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পদদ্বয়কে স্পর্শ করছিল। রাবী বলেন, সূর্যোদয়ের সময়ে আমরা সেখানে এলাম। তখন লোকজন তাদের পশুগুলো সবেমাত্র ঘর থেকে বের করেছে এবং তারা তাদের কোদাল কুড়াল, রশি –জাম্বিল নিয়ে [কাজের জন্য] বেরিয়ে পড়েছে। তখন তারা [সবিষ্ময়ে] বলিল, “মুহাম্মাদ এবং পঞ্চভুজবিশিষ্ট বাহিনী!” রাবী বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] বললেনঃখাইবার ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। রাবী বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা তাদের ধ্বংস করে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫১৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫১৭]

৪৫৫৯

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন খাইবারে এলেন, তখন বলিলেন, আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় পৌঁছি, তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫১৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫১৮]

৪৫৬০

সালামাহ্ ইবনি আকওয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে খাইবার অভিযানে বের হলাম। আমরা রাতের বেলা [এ অভিযানে] বেরিয়েছিলাম। তখন এক ব্যক্তি [আমার ভাই] আমির ইবনি আকওয়া [রাদি.]-কে বললোঃ “ওহে! তুমি কি তোমার রণ সঙ্গীত থেকে আমাদেরকে কিছু শুনাবে না?” আমির [রাদি.] ছিলেন একজন কবি। তখন তিনি সওয়ারী থেকে অবতরণ করে সকলকে শুনিয়ে শুনিয়ে তাহাঁর হুদী সঙ্গীত আবৃত্তি করিতে করিতে লোকদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে চললেন: “ইয়া আল্লাহ! আপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সদাকাহ্ ও নামাজ আদায় করতাম না। আপনার জন্য আমাদের জান কুরবান, আমাদের পিছনের সকল অপরাধ আপনি ক্ষমা করে দিন, যতদিন আমরা আপনার আনুগত্য করব।

শক্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন।

আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন।

যখন আমাদের ডাকা হয় আমরা উপস্হিত হই।

এবং তারাই চীৎকার দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লোক জমা করে।”

তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, “এ চালকটি কে?” সাহাবীগণ বলিলেন, আমির। তিনি বলিলেন, আল্লাহ তার প্রতি রহমাত করুন। তখন গোত্রের এক ব্যক্তি বলিল, “তাহাঁর জন্য তো শাহাদাত অবধারিত হয়ে গেছে, হে আল্লাহ্‌র রসূল [সাঃআঃ]। আমাদের যদি তাহাঁর দ্বারা আরো উপকৃত করিতেন, [তবে ভাল হত]। রাবী বলেন, তারপর আমরা খাইবারে এসে তাদের ঘেরাও করলাম। [অবরোধ দীর্ঘ হল] এমনকি আমাদের দারুন খাদ্যভাব দেখা দিল। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃনিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তাদের বিজয় দান করিয়াছেন। তারপর বিজয়ের দিন যখন লোকদের সন্ধ্যা হলো তখন তারা বহু স্থানে আগুন জ্বালালো। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ আগুন কিসের? কিসের উপর [কী রান্না করার জন্যে] লোকজন এ আগুন জ্বালাচ্ছে? তারা বলিলেন, গোশ্ত। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন: কিসের গোশ্ত? তারা বলিলেন, গৃহপালিত গাধার গোশ্ত। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃএগুলো ফেলে দাও আর রান্নাপাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যক্তি বলিল, তারা কি এগুলো ফেলে দেবে এবং রান্নার পাত্রগুলো ধুয়ে ফেলবে? তিনি বললেনঃতা হইতে পারে। রাবী বলেন, এরপর যখন লোকজন [যুদ্ধের জন্য] সারিবদ্ধ হল, আমিরের তরবারিখানা ছিল খাটো। তিনি জনৈক ইহুদির পায়ের নলা লক্ষ্য করে যে আঘাত করিলেন সে আঘাত ফিরে এসে আমিরের হাটুতে লাগে, এতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তারপর যখন লোকজন [খাইবার থেকে] ফিরে এলো, তখন সালামাহ্ আমার হাত ধরে বলিলেন, [রাবী বলিলেন] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন আমাকে নির্বাক অবস্থায় দেখিতে পেলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, “আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! লোকজনের ধারণা আমির [আত্মহত্যা] করে তাহাঁর [সারা জীবনের] আমাল বরবাদ করে দিয়েছেন।” তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তা কে বলেছে? আমি বললাম, অমুক অমুক এবং উসায়দ ইবনি হুযায়র আনসারী। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃযে এরূপ বলেছে, সে মিথ্যা বলেছে। অবশ্যই তার [আমিরের] জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। তখন তিনি তাহাঁর দুটি আঙ্গুল একত্রিত করিলেন [এবং বলিলেন], সে [আল্লাহর রাস্তায়] সত্যিকার যোদ্ধা ও মুজাহিদ। খুব কম আরবই তাহাঁর মতো চলেছে [বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে]। কুতাইবাহ্ এ হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদের সাথে দুটি শব্দে দ্বিমত করিয়াছেন। ইবনি আব্বাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর রিওয়ায়াতে আছে [আরবি]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫১৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫১৯]

৪৫৬১

সালামাহ্ ইবনি আক্ওয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধের দিন আমার ভাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সঙ্গে থেকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। তাহাঁর তরবারি ফিরে এসে স্বয়ং তাঁকেই নিহত করে। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর সাহাবীগণ তাহাঁর ব্যাপারে নানা মন্তব্য করিতে থাকেন এবং তাহাঁর শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহ করেন। তাঁরা বলাবলি করেন যে, সে এমন লোক যে তার নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছে। আর তাঁরা তাহাঁর কোন কোন ব্যাপারেও সন্দেহ করেন। সালামাহ্ বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খাইবার থেকে ফিরলে আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তাহাঁর কবিতার কয়েকটি পংক্তি আবৃতি করি।” রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে অনুমতি দিলেন। উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] তখন বলে উঠলেন, আমি জানি, তুমি কী বলবে। রাবী বলেন, তারপর আমি আবৃত্তি করলাম:

“হে আল্লাহ! আপনি না করলে, আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সদাকাহ্ দিতাম না এবং নামাজ আদায় করতাম না।” তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃতুমি যর্থাথই বলেছো। তখন আমি আবৃত্তি করে চললাম:“আমাদের প্রশান্তি দান করুন এবং শক্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন। মুশরিকরা আমাদের প্রতি বিদ্রোহী হল।”

যখন আমি আমার কবিতা আবৃত্তি শেষ করলাম, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃএ কবিতাটি কে রচনা করেছে? আমি বললাম, আমার ভাই। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃআল্লাহ তাহাঁর প্রতি সদয় হোন। তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! কিছু লোক তাহাঁর প্রতি আল্লাহর রহমাত বর্ষণে দ্বিধাগ্রস্ত! তাঁরা বলেন, সে এমন লোক যে তার নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছে। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃসে জিহাদ করিতে করিতে মুজাহিদের মত মরেছে।

রাবী ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তারপর আমি সালামার এক পুত্রকে প্রশ্ন করলে তিনি আমাকে তাহাঁর পিতার সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ব্যতিক্রম এতটুকু যে, তিনি বলেন, আমি যখন বললাম, কিছু কিছু লোক তাহাঁর প্রতি দুআ করিতে দ্বিধাগ্রস্ত, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃতারা মিথ্যা বলেছে। সে জিহাদ করিতে করিতে মুজাহিদের মত মারা গেছে। তার দুটি পুরস্কার এজন্যে নির্ধারিত রয়েছে। এবং তিনি তখন তাহাঁর দুটি অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫১৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫২০]

By Muslim

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply