খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা …

খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা

খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২. অধ্যায়ঃ খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা এবং যুদ্ধের নিয়ম-নীতি ও বিভিন্ন নির্দেশিকা সম্পর্কে তাদের উপদেশ প্রদান করা।

৪৪১৩

সুফইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

সুফইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে বর্ণনা করিতে গিয়ে বলেন যে, হাদীসটি আমাদের সামনে লিখিয়েছেন।

৪৪১৪

সুলাইমান ইবনি বুরাইদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন কোন সেনাবাহিনী কিংবা সেনাদলের উপর আমীর নিযুক্ত করিতেন তখন বিশেষতঃ তাকে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে চলার উপদেশ দিতেন এবং তাহাঁর সঙ্গী মুসলিমদের প্রতি আদেশ করিতেন তারা যেন ভালভাবে চলে। আর [বিদায়লগ্নে] বলিতেন, যুদ্ধ করো আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে। লড়াই করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করেছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তবে গনীমাতের মালের খিয়ানত করিবে না, চু্ক্তি ভঙ্গ করিবে না, শত্রু পক্ষের অঙ্গ বিকৃতি সাধন করিবে না। শিশুদেরকে হত্যা করিবে না। যখন তুমি মুশরিক শত্রুর সম্মুখীন হইবে, তখন তাকে তিনটি বিষয় বা আচরণের প্রতি আহবান জানাবে। তারা এগুলোর মধ্য থেকে যেটিই গ্রহণ করে, তুমি তাদের পক্ষে থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াবে। প্রথমে তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবে। যদি তারা তোমার এ আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে সরে দাঁড়াবে। এরপর তুমি তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে মুহাজিরদের এলাকায় [মাদীনায়] চলে যাওয়ার আহ্বান জানাবে। এবং তাদের জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা তা কার্যকরী করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যেসব উপকার ও দায়-দায়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপর কার্যকরী হইবে। আর যদি তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে যেতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলিমদের মত গণ্য হইবে। তাদের উপর আল্লাহর সে বিধান কার্যকরী হইবে, যা মুমিনদের উপর কার্যকরী হয় এবং তারা গনীমাত ও ফাই {৩২} থেকে কিছুই পাবে না। অবশ্য মুসলিমদের সঙ্গে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে তার অংশীদার হইবে। আর যদি ইসলাম গ্রহণ করিতে অস্বীকার করে , তাদের কাছে জিযয়াহ প্রদানের দাবী জানাবে। যদি তারা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকিবে। আর যদি তারা এ দাবী না মানে তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর যদি তুমি কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ করো এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের যিম্মাদারী চায়, তবে তুমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের যিম্মাদারী মেনে নিবে না। বরং তাদেরকে তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মাদারীতে রাখবে। কেননা তারা যদি তোমার ও তোমার সাথীদের যিম্মাদার ভঙ্গ করে, তবে তা আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের যিম্মাদারী ভঙ্গের চাইতে কম গুরুতর। আর যদি তোমরা কোন দুর্গের অধিবাসীদের অবরোধ করো, তখন যদি তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক নেমে আসতে চায়, তবে তোমরা তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর নেমে আসতে দিবে না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার সিদ্ধান্তের উপর নেমে আসতে দেবে। কেননা তোমার জানা নেই যে, তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত করিতে পারবে কি-না?

আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদীস কিংবা এ হাদীসের অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। ইসহাক্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর বর্ণিত হাদীসের শেষাংশে ইয়াহইয়া ইবনি আদম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসটি মুকাতিল ইবনি হাইয়্যান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর কাছে বর্ণনা করেছি। তখন তিনি ইয়াহইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] অর্থাৎ-আলকামাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি তা বর্ণনা করিয়াছেন ইবনি হাইয়্যানের উদ্দেশ্যে। অতএব তিনি বলেন যে, মুসলিম ইবনি হায়সাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি], নুমান ইবনি মুকাররিন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৭২]

{৩২} যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ ছাড়া শত্রুবাহিনীর ফেলে যাওয়া মালকে মালে ফাই বলে।

৪৪১৫

বুরাইদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন কোন সেনাপতিকে অথবা সেনাবাহিনীকে প্রেরণ করিতেন, তখন তাঁকে ডেকে কিছু উপদেশ দিতেন। ….. অতঃপর তিনি সুফ্ইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থ অনুসারে অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৭৩]

৪৪১৬

শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৭৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply