খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা

খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা

খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২. অধ্যায়ঃ খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা

৪৬০৭

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা যখন আহত হলেন তখন আমি তাহাঁর কাছে গিয়ে উপস্থিত হই। লোকজন তাহাঁর প্রশংসা করিল তারপর বলিল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন! তিনি তখন বলিলেন, আমি আশাবাদী ও শঙ্কিত। তখন লোকেরা বললো, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করে যান। তখন তিনি বলিলেন, আমি কি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়ই তোমাদের বোঝা বহন করব? আমার আকাঙ্খা খিলাফাতের ব্যাপারে আমার ভাগ্যে শুধু নিষ্কৃতি লাভ হোক। আমার উপর কোন অভিযোগও অর্পিত না হোক, আর আমি লাভবানও না হই। আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি [তবে তার দৃষ্টান্ত] আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন তিনি {অর্থাৎ- আবু বকর [রাদি.]} খলীফা মনোনীত করে গেছেন, আর যদি আমি তোমাদের [খলীফা মনোনীত করা ছাড়াই] ছেড়ে যাই, তবে আমাদের উত্তম যিনি ছিলেন [অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার [নীতির] উপরেই তোমাদের রেখে গেছেন।

রাবী আবদুল্লাহ [ইবনি উমর] বলেন, তিনি যখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কথা উল্লেখ করিলেন তখনই আমি বুঝেছি যে, তিনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৬৫]

৪৬০৮

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি হাফসাহ্ [রাদি.]-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বলিলেন, তুমি কি জান যে, তোমার পিতা কাউকে খলীফা মনোনীত করছেন না? আমি বললাম, তিনি এমনটি করবেন না। তিনি বলিলেন, তিনি তা-ই করবেন। ইবনি উমর [রাদি.] বলিলেন, তখন আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে, আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে তাহাঁর সঙ্গে আলাপ করবো। এরপর আমি নীরব থাকলাম। পরের দিন ভোর পর্যন্ত আমি তাহাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করিনি। রাবী বলেন, আমার মনে হলো যে, আমি আমার শপথের পাহাড় বহন করছি। অবশেষে আমি ফিরে এলাম এবং তাহাঁর {উমর [রাদি.]-এর} কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আামার কাছে লোকদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে তা জানালাম। তারপর আমি তাঁকে বললাম, আমি লোকজনকে একটি কথা বলাবলি করিতে শুনে আমি তা আপনাকে বলবো বলে শপথ করেছি। লোকেরা বলছে যে, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না। অথচ আপনার যদি কোন উটের রাখাল বা ছাগলের রাখাল থাকে আর সে তার পাল পরিত্যাগ করে আপনার কাছে চলে আসে, তা হলে আপনি নিশ্চয়ই মনে করবেন যে, সে পশুপালের সর্বনাশ করেছে। মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারটি তার চাইতেও গুরুতর। আমার কথা তাহাঁর অন্তরে রেখাপাত করলো এবং তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে বলিলেন, অবশ্যই মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত আল্লাহ তাহাঁর দ্বীনের হিফাযাত করবেন। আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি তবে আবু বকর [রাদি.] খলীফা মনোনীত করে গেছেন।

তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি যখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ও আবু বকর [রাদি.]-এর কথা উল্লেখ করিলেন, তখনই আমি বুঝে ফেলি যে, তিনি আর কাউকে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সমকক্ষ করবেন না এবং তিনি কাউকে খলীফাও মনোনীত করে যাবেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৬৬]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply