আহযাবের / খন্দকের যুদ্ধ

আহযাবের / খন্দকের যুদ্ধ

আহযাবের / খন্দকের যুদ্ধ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৬. অধ্যায়ঃ আহযাবের / খন্দকের যুদ্ধ

৪৫৩২

ইব্‌রাহীম তাইমীর পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন যে, আমরা হুযাইফাহ্‌ [রাদি.]-এর কাছে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল। “হায়, আমি যদি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে পেতাম, তবে তাহাঁর সাথে মিলে একত্রে যুদ্ধ করতাম এবং তাতে কোনরূপ পিছপা হতাম না।” হুযাইফাহ্‌ [রাদি.] বলিলেন, হয়তো তুমি তা করিতে, কিন্তু আমি তো আহ্‌যাবের রাতে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম [সে রাতে] প্রচণ্ড বায়ু ও তীব্র শীত আমাদের কাবু করে ফেলেছিল। এমনি সময় রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘোষণা করিলেন, “ওহে! এমন কেউ আছে কি যে আমাকে শত্রুর খবর এনে দেবে, আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গে [মর্যাদার আসনে] রাখবেন?” আমরা তখন চুপ করে রইলাম এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাহাঁর সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তিনি আবার বলিলেন, “ওহে! এমন কোন ব্যক্তি আছে কি যে আমাকে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে কিয়ামাতের দিন আমার সঙ্গে রাখবেন?” এবারও আমরা চুপ রইলাম আর আমাদের মধ্যে কেউ তাহাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তিনি আবার ঘোষণা করিলেন, “ওহে! এমন কেউ আছে কি যে আমাকে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ্‌ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গে রাখবেন?” এবারও আমরা চুপ করে রইলাম এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাহাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এবার তিনি বলিলেন, হে হুযাইফাহ্‌! ওঠো এবং তুমি শত্রুদের খবরাদি আমাকে এনে দাও। রসূলু [সাঃআঃ] যখন এবার আমার নাম ধরেই ডাক দিলেন, তাই উঠা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। এবার তিনি বলিলেন, “শত্রুপক্ষের খবর আমাকে এনে দাও, কিন্তু সাবধান, তাদের আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করো না। তারপর আমি যখন তাহাঁর নিকট থেকে প্রস্থান করলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি যেন উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে চলেছি। এভাবে আমি তাদের [শত্রুপক্ষের] নিকটে পৌঁছে গেলাম। তখন আমি লক্ষ্য করলাম, আবু সুফ্‌ইয়ান আগুনের দ্বারা তাহাঁর পিঠে ছেঁক দিচ্ছে। আমি তখন একটি তীর তুলে ধনুকে সংযোজন করলাম এবং তা নিক্ষেপ করিতে মনস্থ করলাম। এমন সময় আমার মনে পড়ে গেল যে, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলে দিয়েছেন, “তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলো না।” আমি যদি তখন তীর নিক্ষেপ করতাম তবে তীর নির্ঘাত লক্ষ্যভেদ করতো, অগত্যা আমি ফিরে আসলাম এবং ফিরে আসার সময়ও উষ্ণতার মধ্য দিয়ে অতিক্রমের মতো উষ্ণতা অনুভব করলাম। তারপর যখন ফিরে এলাম, তখন প্রতিপক্ষের খবর তাঁকে প্রদান করলাম। আমার দায়িত্ব পালন করে অবসর হইতেই আবার আমি শীতের তীব্রতা অনুভব করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর অতিরিক্ত একটি কম্বল দিয়ে আমাকে আবৃত করে দিলেন, যা তিনি সাধারণতঃ নামাজ আদায়ের সময় গায়ে দিতেন। তারপর আমি ভোর পর্যন্ত একটানা নিদ্রায় বিভোর রইলাম। যখন ভোর হল তখন তিনি বলিলেন, “হে গভীর নিদ্রামগ্ন! এখন উঠে পড়ো [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৯১]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply