নতুন লেখা

ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া , অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা

ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া , অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা

ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া , অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৭. অধ্যায়ঃ ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া , অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাকআতে দু বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা

১৭৯৩

আবু ওয়ায়িল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাহীক ইবনি সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.]-এর নিকট এসে বলেন, হে আবদুর রহমানের পিতা। নিম্নোক্ত শব্দটি আপনি কিভাবে পড়েন, আলিফ সহযোগে না ইয়া সহযোগে, অর্থাৎ [আরবী] অথবা [আরবী] বর্ণনাকারী আবু ওয়ায়িল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, এ শব্দটি ছাড়া তুমি কি কুরআনের সবটুকু আয়ত্ত করে ফেলেছ? সে বলিল, আমি তো মুফাস্‌সাল [সুরাসমূহ] এক রাকআতেই পড়ি। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, দ্রুত গতিতে অর্থাৎ কবিতা পড়ার ন্যায় দ্রুত গতিতে? কোন কোন লোক কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। বরং [সুষ্ঠুভাবে পড়লে] তা যখন অন্তরে প্রবেশ করে তখন তা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয় এবং উপকারে আসে। নামাজের মধ্যে রুকু-সাজদাহ্‌ হল সর্বাধিক ফাযীলাতপূর্ণ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা আমি অবশ্যই জানি। তিনি প্রতি রাকআতে দুটি সূরা মিলিয়ে পড়তেন। অতঃপর আবদুল্লাহ [রাদি.] উঠে দাঁড়ান, আলক্বামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]ও তার পিছনে পিছনে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে এসে বলেন, আবদুল্লাহ [রাদি.] এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করিয়াছেন। ইবনি নুমায়র-এর রিওয়ায়াতে আছেঃ বাজীলাহ্‌ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর নিকট এলো। তার এ বর্ণনায় “নাহীক ইবনি সিনান” নাম উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৮৫]

১৭৯৪

আবু ওয়ায়িল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাহীক ইবনি সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর নিকট এলো… [পূর্ববর্তী সানাদের] ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছেঃ আলক্বামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার নিকট প্রবেশের জন্য এলেন। আমরা তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রতি রাকআতে যে সূরা পড়তেন তার দৃষ্টান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি তার নিকট প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, অতঃপর আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেন, আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর কুরআন সংকলনের বিশটি মুফাস্‌সাল সুরা [সুরা ক্বাফ থেকে পরবর্তী সুরা সমূহ]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৮৬]

১৭৯৫

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] একই সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত দুজনের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আরো আছে, আমি অবশ্যই সে দৃষ্টান্তগুলো জানি যা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করিতেন। প্রতি রাকআতে দুটি করে সূরা, এভাবে দশ রাকআতে বিশটি সূরা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৮০, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৮৭]

১৭৯৬

আবু ওয়ায়িল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা ফাজ্‌রের নামাজ আদায় করার পর আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.]-এর নিকট গেলাম। আমরা দরজার নিকট এসে সালাম করলে তিনি আমাদেরকে [ভিতরে প্রবেশের] অনুমতি দিলেন। আমরা কিছুক্ষণ দরজায় থেমে থাকলাম। তখন বাঁদী বের হয়ে এসে বলিল, আপনারা প্রবেশ করছেন না কেন? আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম তিনি তাসবীহ্‌ পড়ছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, অনুমতি দেয়ার পরও তোমাদের প্রবেশে কী বাধা ছিল? আমরা বললাম না, তেমন কোন বাধা ছিল না, তবে আমরা ভাবলাম, হয়ত ঘরের মধ্যে কে ঘুমিয়ে আছে। তিনি বলিলেন, তুমি উম্মু আব্‌দের পুত্রের পরিবার সম্পর্কে অলসতার ধারণা করলে। বর্ণনাকারী বলিলেন, অতঃপর তিনি তাসবীহ পাঠে রত হলেন, শেষে যখন ভাবলেন যে, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বলিলেন, হে বাঁদী দেখ, সূর্য উদিত হল কি না? বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবীহ্‌ পাঠে রত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বলিলেন, হে বাঁদী ! দেখ তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? সে তাকিয়ে দেখল যে, সূর্য উদিত হয়েছে। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এ দিনটি আমাকে ফেরত দিয়েছেন , অধস্তন বর্ণনাকারী মাহদী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেনঃ “এবং আমাদের অপরাধের কারণে আমাদের ধ্বংস করেননি।” বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকদের একজন বলিল, গত রাতে আমি [নামাজে] মুফাস্‌সাল সূরা সম্পূর্ণটা পড়েছি। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, কবিতা পাঠের মত দ্রুত আমরা অবশ্যই কুরআনের সূরাসমূহের পাঠ শুনেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যেসব সুরা [নামাজে] পড়তেন আমি সেসব সূরা মুখস্ত করে রেখেছিঃ মুফাস্‌সাল সুরাসমূহ থেকে আঠারো সুরা এবং হা-মীম গ্রুপের দুটি সূরা।। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৮১, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৮৮]

১৭৯৭

শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বাজীলাহ্ গোত্রের নাহীক ইবনি সিনান নামীয় জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর নিকট এসে বলিল, আমি এক রাকআতেই মুফাস্সাল সূরাহ্ পড়ে থাকি। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, কবিতা আবৃত্তির মতো দ্রুত গতিতে নামাজে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যেসব সূরাহ্ পড়তেন তার দৃষ্টান্তসমূহ আমার জানা আছে। তিনি প্রতি রাকআতে দুটি সূরাহ্ পড়তেন। [ই.ফা, ১৭৮২.ইসলামিক সেন্টার- ১৭৮৯]

১৭৯৮

আম্‌র ইবনি মুর্‌রাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবু ওয়ায়িল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে বর্ণনা করিতে শুনেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি ইবনি মাস উদ [রাদি.]-এর নিকট এসে বলিল, আমি আজ রাতে সমস্ত মুফাস্সাল সূরাহ্ নামাজের এক রাকআতেই পড়েছি। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, কবিতা আবৃত্তির ন্যায় দ্রুত গতিতে। আবদুল্লাহ [রাদি.] আরো বলেন, আমি অবশ্যই সেসব দৃষ্টান্ত অবহিত আছি, যেসব সূরাহ্ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একত্রে মিলিয়ে পড়তেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মুফাস্সাল সুরাগুলো থেকে বিশটি সূরার উল্লেখ করিলেন, যার দু টি করে সূরাহ্ প্রতি রাক আতে পড়া হত। [ই.ফা, ১৭৮৩.ইসলামিক সেন্টার- ১৭৯০]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: