রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব

রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব

রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৭. অধ্যায়ঃ রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব

১৬৯৯

হুযায়ফাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী [সাঃআঃ]–এর সাথে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করলাম। তিনি সুরা আল বাক্বারাহ্‌ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ আয়াত পড়ে রুকু করবেন। কিন্তু এর পরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর [সূরা আল বাক্বারাহ্‌ ] দ্বারা পুরা দু রাকাত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকু করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরাহ নিসা পড়তে শুরু করিলেন এবং তা পাঠ করিলেন, অতঃপর তিনি সুরাহ্‌ আ-লি ইমরান শুরু করিলেন এবং তা পাঠ করিলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন প্রার্থনা করছিলেন। অতঃপর তিনি রুকু করিলেন। রুকুতে তিনি বলিতে থাকলেন,

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ 

সুবহা-না রাব্বিয়াল আযীম” [আমার মহান প্রভূ পবিত্র, আমি তাহাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি]। তাহাঁর রুকু ক্বিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর

 سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

“সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” [আল্লাহ শুনে থাকেন যে তাহাঁর প্রশংসা করে] বললেনঃ এরপর যতক্ষন সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সাজদাহ্‌ করিলেন। সাজদাতে তিনি বলিলেন,

سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

“সুবহা-না রাব্বিয়াল আলা” [মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভূ পবিত্র, আমি তাহাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি]। তাহাঁর এ সাজদায়ও প্রায় ক্বিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো। হাদীসটির বর্ণনা কারী বলেন যে, জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক আছেঃ তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রুকু থেকে উঠে} বলিলেন,

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- লাকাল হাম্‌দ” [ আল্লাহ শুনেন যে ব্যক্তি তাহাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্যই সব প্রশংসা]। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৯১]

১৭০০

আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে নামাজ আদায় করলাম। এ সালাতে তিনি ক্বিরআত এত দীর্ঘায়িত করিলেন যে, আমি একটি মন্দ ইচ্ছা করে বসলাম। আবু ওয়ায়িল বলেছেনঃ তাঁকে [আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদকে ] জিঞ্জেস করা হল, আপনি কী ধরণের মন্দ ইচ্ছা করেছিলেন? জবাবে তিনি বললেনঃ আমি বসে পড়ার এবং তাহাঁর পিছনে এ নামাজ পরিত্যাগ করার ইচ্ছা করেছিলাম। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৯২]

১৭০১

আমাশ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৯৩]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply