নতুন লেখা

অধ্যায়ঃ মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়

মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়

মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৯. অধ্যায়ঃ মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়

২০২৭

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হাফ্‌সাহ্‌ [রাদি.] উমারের জন্য [ঘাতক কর্তৃক আহত হলে] কাঁদছিলেন। তখন উমর [রাদি.] বলিলেন, হে স্নেহের কন্যা! তুমি কি জান না রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১১, ইসলামিক সেন্টার- ২০১৮]

২০২৮

উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার প্রতি অধিক কান্নাকাটি করার দরুন ক্ববরে আযাব দেয়া হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১২, ইসলামিক সেন্টার- ২০১৮]

২০২৯

উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার প্রতি অধিক কান্নাকাটি করার দরুন ক্ববরে আযাব দেয়া হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নেই, ইসলামিক সেন্টার- নেই]

২০৩০

আলী ইবনি হুজ্‌র আস্‌ সাদী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন উমর [রাদি.] [আততায়ীর আঘাতে] আহত হন এবং সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। লোকেরা চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করিল। যখন তাহাঁর জ্ঞান ফিরে এল, তিনি বলিলেন, তোমরা কি জান না রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৩, ইসলামিক সেন্টার- ২০২০]

২০৩১

আবদুল্লাহ ইবনি ক্বায়স [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন উমর [রাদি.] গুরুতরভাবে আহত হন, সুহায়ব [রাদি.] আক্ষেপ করে বলিতে লাগলেন, আহ! ভাই উমর! উমর [রাদি.]তাঁকে বলিলেন, হে সুহায়ব! তোমার কি মনে নেই, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৪, ইসলামিক সেন্টার- ২০২১]

২০৩২

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন উমর [রাদি.] গুরুতরভাবে আহত হন, সুহায়ব [রাদি.] তাহাঁর গৃহ থেকে রওয়ানা হয়ে উমারের কাছে এলেন এবং তার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। উমর [রাদি.] তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কেন কাঁদছ, আমার জন্য কাঁদছ? তিনি বলিলেন, কসম আল্লাহর! হে আমীরুল মুমিনীন! হ্যাঁ, আপনার জন্যই কাঁদছি। উমর [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর ক্বসম! তুমি তো অবশ্যই জান রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যার জন্য কান্নাকাটি করা হইবে তাকে শাস্তি দেয়া হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৫, ইসলামিক সেন্টার- ২০২২]

তিনি {আবু মূসা [রাদি.]} বলেন, এরপর আমি এ কথাটি মূসা ইবনি ত্বলহার কাছে বললাম। তিনি বলিলেন, আয়িশা [রাদি.] বলিতেন, যাদের আযাবের কথা বলা হয়েছে, তারা ছিল ইয়াহূদী সম্প্রদায়।

২০৩৩

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমর ইবনিল খাত্ত্বাব [রাদি.] যখন আহত হলেন, হাফ্‌সাহ্‌ [রাদি.] সশব্দে কাঁদতে লাগলেন। তখন উমর [রাদি.] বলিলেন, ওগো হাফ্‌সাহ্‌! তুমি কি শোননি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যার জন্য উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করা হয় তাকে শাস্তি দেয়া হইবে? তাহাঁর প্রতি সুহায়ব [রাদি.]-ও কাঁদতে থাকলে উমর [রাদি.] তাকেও বলিলেন, হে সুহায়ব! তুমি কি জান না যার জন্য চিৎকার করে কান্নাকাটি করা হয় তাকে আযাব দেয়া হইবে? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৬, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৩]

২০৩৪

আবদুল্লাহ ইবনি আবু মুলায়কাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমর [রাদি.]-এর পাশে বসা ছিলাম এবং আমরা উসমানের কন্যা উম্মু আবান-এর জানাযাহ পড়ার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। আর তাহাঁর [ইবনি উমর] নিকটেই ছিল আম্‌র ইবনি উসমান [রাদি.]। এমন সময় ইবনি আব্বাস [রাদি.] আসলেন, তাঁকে একজন পথ নির্দেশনাকারী হাতে ধরে নিয়ে আসছে। আমার ধারণা সে তাঁকে ইবনি উমারের উপস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন। আমি উভয়ের মাঝখানে ছিলাম। হঠাৎ ঘর থেকে একটা [কান্নার] আওয়াজ শুনা গেল। তখন ইবনি উমর [রাদি.] বলেন, মনে হয় তিনি আম্‌রের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন যেন তিনি উঠে তাদেরকে [কান্না থেকে] বিরত রাখেন-আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] এ কথাটা সাধারণভাবে বলেই ছেড়ে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৭, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৪]

২০৩৫

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা একবার আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনিল খাত্ত্বাব-এর সাথে ছিলাম। যখন আমরা বায়দা নামক স্থানে পৌছলাম, হঠাৎ জনৈক ব্যক্তিকে একটা গাছের ছায়ায় অবস্থানরত দেখলাম। উমর [রাদি.] আমাকে বলিলেন, এগিয়ে যাও তো! গিয়ে দেখ আমাকে জানাও ঐ ব্যক্তি কে? আমি গিয়ে দেখলাম তিনি সুহায়ব [রাদি.]। আমি ফিরে এসে বললাম, আপনি আমাকে আদেশ করিয়াছেন, ঐ ব্যক্তির পরিচয় জেনে আপনাকে জানাতে। তিনি হচ্ছেন, সুহায়ব [রাদি.]। পুণরায় তিনি আমাকে বলিলেন, তাঁকে আমাদের সাথে মিলিত হইতে বল। আমি বললাম, তার সাথে তার পরিবারবর্গ রয়েছে। তিনি বলিলেন, তার সাথে পরিবারবর্গ থাকলে তাতে কি আছে। কখনও আইয়ূব বলেছেন- “তাকে বল- সে যেন আমাদের নিকট আসে।” এরপর যখন আমরা মাদীনায় পৌছলাম, অল্প সময়ের মধ্যেই আমীরুল মুমিনীন উমর [রাদি.] আহত হলেন। সুহায়ব [রাদি.] তাঁকে দেখিতে এসে দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ছেড়ে বলিলেন, আহ! ভাই উমর! আহ! সঙ্গী উমর! উমর [রাদি.] শুনে বলিলেন, সুহায়ব! তুমি কি অবহিত নও, অথবা শোননি- [আইয়ুব] বলেছেনঃ অথবা বলেছেন, “তুমি কি জান না, তুমি কি শোন না।” রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়।

আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, তিনি এ কথাটা সাধারণভাবে বলেছিলেন। কিন্তু উমর [রাদি.] “কোন কোন লোকের” শব্দ উল্লেখ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৭, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৪]

২০৩৬

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

অতঃপর আমি উঠে গিয়ে আয়িশা [রাদি.] এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে ইবনি উমর [রাদি.]-এর উক্তি সম্পর্কে জানালে তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনও এরূপ বলেননি যে, মৃত ব্যক্তিকে কারো কান্নার দরুন আযাব দেয়া হইবে বরং তিনি বলেছেন, কাফির ব্যক্তির আযাব আল্লাহ তাআলা তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আরও বাড়িয়ে দেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহই হাসান এবং কাঁদান। “আর কোন বহনকারীই অন্যের বোঝা বহন করিবে না”- [সূরাহ আল ইসরা/ইসরাঈল ১৭:১৫]।

আইয়ূব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি আবু মূলায়কাহ্ বলেছেন, আমাকে ক্বাসিম ইবনি মুহাম্মাদ জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আয়িশা [রাদি.]-এর নিকট যখন উমর [রাদি.] ও ইবনি উমর-এ বক্তব্য পৌছল তখন তিনি বলিলেন, তোমরা আমাকে এমন দু ব্যক্তির কথা শুনাচ্ছ, যারা মিথ্যাবাদী নন আর তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা যায় না। তবে কখনও শুনতে ভুল হয়ে যেতে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৭, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৪]

২০৩৭

আবদুল্লাহ ইবনি আবু মুলায়কাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাক্কায় উমর ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.]-এর এক কন্যা ইনতিকাল করলে আমরা তার জানাযায় হাজির হওয়ার জন্য আসলাম। জানাযায় ইবনি উমর [রাদি.] ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] উপস্থিত হলেন। বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বলেন, আমি উভয়ের মাঝখানে বসে ছিলাম। অথবা তিনি বলেন, প্রথমে আমি একজনের পাশে বসে ছিলাম। অতঃপর অন্যজন এসে আমার পাশে বসে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবনি উমর তার সামনে বসা আম্‌র ইবনি উসমানকে লক্ষ্য করে বলিলেন, তোমরা কান্নাকাটি করা থেকে কেন বারণ করছ না? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৮, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৫]

২০৩৮

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমর [রাদি.] তো কোন কোন লোকের কথা বলিতেন। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করিলেন এবং বলিলেন, আমি একবার উমারের সাথে মাক্কাহ্ থেকে রওয়ানা হয়ে “বায়দা” নামক সমতল ভূমিতে পৌছলাম। দেখলাম, একটা গাছের ছায়ায় একদল আরোহী। তাদেরকে দেখে তিনি {উমর [রাদি.]} বলিলেন, গিয়ে দেখ তো, এর কারা? আমি গিয়ে দেখলাম তথায় সুহায়ব [রাদি.]। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এসে তাঁকে [উমর] খবর দিলাম। তিনি বলিলেন, তাকে আমার কাছে ডেকে আন। আদেশ পেয়ে আমি সুহায়ব [রাদি.] এর নিকট ফিরে এসে বললাম চলুন, আমীরুল মুমিনীনের সাথে সাক্ষাৎ করুন। এরপর যখন উমর [রাদি.] আহত হন, সুহায়ব [রাদি.] তাঁকে দেখিতে এসে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আহ! ভাই উমর! আহ ! সঙ্গী উমর! উমর [রাদি.] বলিলেন, হে সুহায়ব! আমার জন্য কাঁদছ? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৮, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৫]

২০৩৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমর [রাদি.] ইনতিকাল করলে আমি অত্র হাদীসটি আয়েশাহ [রাদি.] নিকট ব্যক্ত করলাম। তিনি বলিলেন, উমর [রাদি.- কে আল্লাহ রহমাত করুন! কখনও না আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনও এমন হাদীস ব্যক্ত করেননি যে, ঈমানদার ব্যক্তিকে কারো কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হইবে। বরং তিনি বলেছেনঃ কাফির ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আল্লাহ তাআলা তার আযাবকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। এছাড়া আয়িশা [রাদি.] আরও বলেছেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর কুরআনই যথেষ্ট। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, “কোন ব্যক্তিই অন্যের পাপের বোঝা বহন করিবে না।” বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, “এবং আল্লাহই হাসান, আল্লাহই কাঁদান।” ইবনি আবু মুলায়কাহ্ বলেন, আল্লাহর ক্বসম! ইবনি উমর [রাদি.]-এর ওপর আর কোন কথাই বলেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৮, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৫]

২০৪০

ইবনি আবু মুলায়কাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা উম্মু আবান বিন্‌তু উসমান [রাদি.]এর যামানায় উপস্থিত হলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে তিনি এ হাদীস ইবনি উমর-এর সূত্রে  রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীত হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আইয়ূব ও ইবনি জুরায়জ এটাকে মারফূ হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন। তাঁদের বর্ণনা আমর-এর বর্ণনার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০১৯, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৬]

২০৪১

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২০, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৭]

২০৪২

উরওয়াহ্ ইবনি যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আয়িশা [রাদি.]-এর কাছে ইবনি উমারের বক্তব্য “মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়” উল্লেখ করা হল। তিনি বলিলেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানের [ইবনি উমর] প্রতি রহমাত করুন। তিনি একটা কথা শুনেছেন, তবে স্মরণ রাখতে পারেননি। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সামনে দিয়ে এক ইয়াহূদীর জানাযাহ্ যাচ্ছিল। তখন তার আত্মীয় স্বজনরা কাঁদছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা কাঁদছ? অথচ তাকে এজন্য আযাব দেয়া হচ্ছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২১, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৮]

২০৪৩

হিশাম তার পিতা {উরওয়াহ ইবনি যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]} হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আয়েশাহ [রাদি.]-এর নিকট উল্লেখ করা হল, ইবনি উমর [রাদি.]  রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, “মৃত ব্যক্তিকে তার ক্ববরে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।” তিনি বলিলেন, ইবনি উমর [রাদি.] ভুলে গেছেন। আসলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে কথা বলেছেন তা হচ্ছে এই: মৃত ব্যক্তিকে তার পাপের দরুন ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়। আর তার পরিবার-পরিজনেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছে। আর এটা হচ্ছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বাদ্রের একটা কূপের পাশে দাঁড়িয়ে যাতে বদরের দিন নিহত কাফিরদের লাশ নিক্ষিপ্ত হয়েছিল- তাদেরকে সম্বোধন করে যেরূপ বলেছিলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা অবশ্যই আমি যা কিছু বলছি তা শুনতে পাচ্ছে অথচ তিনি [ইবনি উমর] এ কথার অর্থ ভুল বুঝেছে। তিনি [সাঃআঃ] যা বলেছেন তার সঠিক তাৎপর্য হচ্ছে এইঃ আমি যা কিছু তাদেরকে তাদের জীবদ্দশায় বলেছিলাম, তারা এখন ভালভাবে তা অনুধাবন করেছে যে, তা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও সত্য। অতঃপর তিনি [আয়েশাহ] এ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “আপনি অবশ্যই মৃত ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম নন”- [সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭:৭০; সূরাহ্ রুম ৩০:৫২] এবং “আপনি ক্ববরের অধিবাসীদেরকেও শুনাতে সক্ষম নন”- [সূরাহ্ ফা-ত্বির ৩৫:২২২]। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ কথাটা তখন বলেছিলেন যখন তারা জাহান্নামে নিজ ঠিকানায় পৌছে গেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২২, ইসলামিক সেন্টার- ২০২৯]

২০৪৪

হিশাম ইবনি উরওয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সূত্রে আবু উসামাহ্-এর হাদীসের সমর্থনে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবু উসামাহ্ এর বর্ণিত হাদীসই পূর্ণাঙ্গ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২৩, ইসলামিক সেন্টার- ২০৩০]

২০৪৫

আমরাহ্ বিনতু আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশা [রাদি.] এর কাছে শুনেছেন যখন তার কাছে উল্লেখ করা হল যে, আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে [ইবনি উমর] ক্ষমা করুন, কথাটা ঠিক নয়। তবে তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং তিনি [প্রকৃত কথাটা] ভুলে গেছেন অথবা ভুল বুঝেছেন। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ একবার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ইয়াহূদী নারীর ক্ববরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন তার জন্য কান্নাকাটি করা হচ্ছে। তিনি বলিলেন, তারা এর জন্য কান্নাকাটি করছে আর এ নারীকে তার ক্ববরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২৪, ইসলামিক সেন্টার- ২০৩১]

২০৪৬

আলী ইবনি রবীআহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির প্রতি বিলাপ করা হয়েছে, সে হচ্ছে কুফা নগরীর ক্বারাযাহ্ ইবনি কাব। মুগীরাহ্ ইবনি শুবাহ্ [রাদি.] বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যার জন্য বিলাপ করে কান্না হয়, ক্বিয়ামাতের দিন তাকে এর জন্য আযাব দেয়া হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২৫, ইসলামিক সেন্টার- ২০৩২]

২০৪৭

মুগীরাহ্ ইবনি শুবাহ্ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২৬, ইসলামিক সেন্টার- ২০৩৩]

২০৪৮

মুগীরাহ্ ইবনি শুবাহ্ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০২৭, ইসলামিক সেন্টার- ২০৩৪]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: