কোরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূর লাগবে কি? দোয়া ও সিজদাসমূহ

কোরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূর লাগবে কি? দোয়া ও সিজদাসমূহ

কোরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূর লাগবে কি? দোয়া ও সিজদাসমূহ, এই অধ্যায়ে হাদীস =৫০ টি ( ৪৫৬-৫০৫ পর্যন্ত ) >> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ১৫ঃ কুরআন

  • পরিচ্ছেদ ০১. কোরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূর নির্দেশ
  • পরিচ্ছেদ ০২. ওযূ ব্যতীত কোরআন পাঠে অনুমতি
  • পরিচ্ছেদ ০৩. তাহযিবুল কোরআন
  • পরিচ্ছেদ ০৪. কোরআন সম্পর্কীয় বর্ণনা
  • পরিচ্ছেদ ০৫. কুরআনের সিজদাসমূহ
  • পরিচ্ছেদঃ ৬. تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ এবং قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ পাঠ করা
  • পরিচ্ছেদঃ ৭. আল্লাহর যিকরের বর্ণনা
  • পরিচ্ছেদঃ ৮. দুআ
  • পরিচ্ছেদঃ ৯. দুআর নিয়ম
  • পরিচ্ছেদঃ ১০. ফজর ও আসরের পর নামাজ নিষিদ্ধ হওয়া

পরিচ্ছেদ ০১. কোরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূর নির্দেশ

৪৫৫ আবদুল্লাহ ইবনি আবু বাকর ইবনি হাযম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ আমর ইবনি হাযমের কাছে যে পত্র লিখেছিলেন তাতে এটাও লিখিত ছিল যে, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কোরআনকে যেন কেউ স্পর্শ না করে। [আমর বিন হাযেম [রাদি.] কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি ঈমাম হাকেম বর্ণনা করিয়াছেন। ১/৫৫২, বাইহাকী, কুবরা ১/৮৭, হাদীসটি আল্লামা আলবানী সহীহ বলেছেন {ইরওয়া ১২২}]

ইয়াহইয়া [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, কোরআন শরীফকে জুয্বদান-এর ফিতা ধরে অথবা বালিশের উপর রেখে যেন উত্তোলন না করে, তবে পবিত্রতাবস্থায়।

যদি তা [ফিতা ধরে এবং বালিশের উপর কোরআন রেখে ওযূ ছাড়া স্পর্শ করা] যায়েজ হত, তবে জিলদকেও পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা যেত। আর এটা এই কারণে মাকরূহ করা হয়নি যে, যে ব্যক্তি কোরআন উঠাচ্ছে তার হাতে এমন কোন জিনিস আছে যাদ্বারা এটা অপরিষ্কার হয়ে যাবে। অপবিত্র অবস্থায় উহা উঠান মাকরূহ, এই হুকুম করা হয়েছে কোরআন শরীফের তাযীম ও সম্মানার্থে।

ইয়াহইয়া [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন {১} , لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সর্বোত্তম যা আমি শুনিয়াছি তা হল যেরূপ সূরা আবাসাতে ইরশাদ করা হয়েছে

كَلاَّ اِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءِ ذَكَرَهُ فِى صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ .

এই প্রকার আচরণ অনুচিত, ইহা উপদেশবাণী; যে ইচ্ছা করিবে সে ইহা স্মরণ রাখিবে। উহা আছে মহান উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থে, মহান, পুতচরিত্র লিপিকারদের হস্তে। [৮০/১১-১৫]

{১} যারা পুত-পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেহ তা স্পর্শ করে না। [সূরা: ওযাক্বিয়াহ, ৭৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ০২. ওযূ ব্যতীত কোরআন পাঠে অনুমতি

৪৫৬ এক সময় উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

এমন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলেন, যারা কোরআন পাঠ করিতেছিলেন, [ইতিমধ্যে] তিনি প্রস্রাব-পায়খানার আবশ্যকে গমন করলেন, পুনরায় প্রত্যাবর্তন করলেন এবং কোরআন পাঠ করিতে শুরু করলেন। [এটা দেখে] এক ব্যক্তি তাহাকে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি [কোরআন] পাঠ করিতেছেন অথচ আপনি বে-ওযূ। তখন উমার [রাদি.] বলিলেন এইরূপ ফত্ওয়া কে দিয়েছে? মুসায়লামা কি? [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ০৩. তাহযিবুল কোরআন

৪৫৭ আবদুর রহমান ইবনি আবদিল কারী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলেন, যার রাত্রের [নির্দিষ্ট তিলাওয়াতের] অংশ ছুটে যায়, সে উহা যোহরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত [সময়ে] পড়ে নিবে; তবে তার সে ওযীফা যেন ছুটেনি [রাবী বলেন] অথবা তিনি বলেছেন, যেন তা পূর্ণ করেছে।

[সহীহ, মুসলিম ৭৪৭] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৫৮ ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি ও মুহাম্মদ ইবনি ইয়াহইয়া ইবনি হাব্বান [রাহিমাহুল্লাহ] [এক জায়গায়] বসা ছিলাম। তারপর মুহাম্মদ ইবনি ইয়াহইয়া এক ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বলিলেন, আপনার পিতা হইতে যা শুনেছেন তা আমার কাছে বলুন। সে ব্যক্তি বলিলেন, আমাকে আমার পিতা বলেছেন তিনি একবার যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.]-এর কাছে গেলেন; তারপর তাহাকে বলিলেন, সাত দিনে কোরআন পাঠ [খতম] করা সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন? [উত্তরে] যায়দ [রাদি.] বলিলেন, ভাল। কিন্তু পনর অথবা বিশ দিনে পাঠ [শেষ] করা আমার কাছে অতি পছন্দনীয়। আর তুমি এর কারণ কি জানতে চাইলে শোন [তিনি বলিলেন], এটা এজন্য যে, [কোরআনকে] থেমে থেমে পড়লে আমি কুরআনের মর্ম বোঝার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করিতে পারব। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ০৪. কোরআন সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪৫৯ আবদুর রহমান ইবনি আবদিল কারী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি হিশাম ইবনি হাকিম ইবনি হিযামকে সূরা আল-ফুরকান আমি যেভাবে পড়ে থাকি উহার ভিন্নরূপ পড়তে শুনলাম। অথচ রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ আমাকে সে সূরাটি পড়ায়েছেন। [আমি ক্রোধে] তাহাকে ধরবার উপক্রম করেছিলাম। কিন্তু নামাজ সমাপ্ত করা পর্যন্ত তাহাকে আমি সময় দিলাম। অতঃপর তাঁর চাদর দ্বারা আমি তাহাকে পেঁচিয়ে নিলাম। পরে তাহাকে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর খেদমতে নিয়ে এলাম এবং আরজ করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ! সূরায়ে আল-ফুরকান আপনি আমাকে যেরূপ পড়ায়েছেন, আমি ইহাকে উহার ভিন্নরূপ পড়িতে শুনিয়াছি। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, তুমি তাহাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর তাহাকে বলিলেন, তুমি পাঠ কর। তারপর আমি যেরূপ কিরাআত পড়িতে তাহাকে শুনিয়াছি সে কিরাআতই তিনি পড়লেন। [এই কিরাআত শুনে] রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতঃপর আমাকে [উদ্দেশ্য করে] বলিলেন, তুমি পড়। আমি তা [ফুরকান] পাঠ করলাম। তিনি বলিলেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং কোরআন সাত অক্ষরের উপর নাযিল হয়েছে, ফলে তোমরা তা হইতে যেটি সহজ হয় সেটি পাঠ কর।

[বুখারি ২৪১৯, মুসলিম ৮১৮] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬০ আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলেছেন, কোরআনওয়ালা রশিতে বাঁধা উটওয়ালার মত; যদি উহাকে তদারক করে, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে; আর যদি উহাকে ছেড়ে দেয়, তবে উহা চেপে যাবে।

[বুখারি ৫০৩১, মুসলিম ৭৮৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬১ আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

[একবার] হারিস ইবনি হিশাম [রাদি.] নবী করীম সাঃআঃ-এর কাছে প্রশ্ন করলেন আপনার কাছে ওহী কিরূপে আসে? রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ [উত্তরে] বলিলেন, কখনও কখনও আমার কাছে [ওহী] আসে ঘণ্টাধ্বনির মত, এই [প্রকারের অবতীর্ণ] ওহী আমার উপর অতি কঠিন হয়। তারপর আমা হইতে [এই অবস্থার] অবসান হয়, [এই দিকে] তিনি যা বলেছেন আমি তা হিফাযত করেছি। আর কোন কোন সময় ফেরেশতা কোন ব্যক্তির রূপ ধারণ করে আমার কাছে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তিনি যা বলেন আমি তা হিফাযত করি।

আয়েশা [রাদি.] বলেন, আমি অবশ্য রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃকে দেখেছি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর সেই অবস্থার অবসান হয়েছে, তখন তাঁর ললাট হইতে ঘাম টপকাচ্ছে।

[বুখারি ২, মুসলিম ২৩৩৩] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬২ হিশাম ইবনি উরওয়াহ [রাহিমাহুল্লাহ] তার হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, عَبَسَ وَتَوَلَّى অবতীর্ণ করা হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনি উম্মে মাকতুম [রাদি.]-এর শানে। তিনি রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর কাছে এসে বলিতে লাগলেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে আপনার কাছে বসতে দিন, সে সময় নাবী সাঃআঃ-এর কাছে মুশরিকগণের নেতাদের একজন বড় নেতা উপস্থিত ছিল। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ তা হইতে মনোযোগ ফিরিয়ে সে নেতা ব্যক্তির দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বলছিলেন হে আবু ফুলান [অমুকের পিতা], আমি যা বলি তাতে কোন ত্রুটি দেখেছ কি? [উত্তরে] সে বলছিলঃ মূর্তির কসম, না, আপনি যা বলেন তাতে কোন প্রকার ত্রুটি দেখছি না। অতঃপর এই সূরা {১} عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى অবতীর্ণ হয়। [সহীহ, মুত্তাসিল, ঈমাম তিরমিজি আয়েশা [রাদি.] কর্তৃক হাদীসটি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করিয়াছেন {তিরমিজি ৩৩৩১} আলবানী [রহ] হাদীসটি সহীহ বলেছেন]

{১} সে ভ্রুকুঞ্চিত করিল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল; কারণ তার কাছে এক অন্ধ এল। [সূরা: আবাসা, ১-২] {২} আমরা তোমাদের জন্য অবধারিত করলাম প্রকাশ্য বিজয়। [ফাতহ, ১] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৩ যায়দ ইবনি আসলাম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ তাঁর সফরসমূহের কোন এক সফরে পথ চলছিলেন। রাত্রে উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-ও তাঁর সাথে চলছিলেন। তখন উমার [রাদি.] কোন বিষয়ে তাহাকে প্রশ্ন করলেন। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ তাহাকে কোন উত্তর দিলেন না। উমার [রাদি.] পুনরায় সওয়াল করলেন। কিন্তু তিনি তার জবাব দিলেন না। অতঃপর তাঁর কাছে [উমার] আবার সওয়াল করলেন, কিন্তু [এইবারও] তিনি তার জবাব দিলেন না। তখন উমার [রাদি.] [মনে মনে] বলিলেন, উমার, তোমার মাতা তোমাকে হারিয়ে ফেলুন [এবং কাঁদতে থাকুন অর্থাৎ তোমার সর্বনাশ]। তুমি বিনয় সহকারে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর কাছে সওয়াল করলে, আর তিনি তোমাকে কোন জবাব দিলেন না।

উমার [রাদি.] বলেন, তারপর আমার উটকে আমি চালিত করলাম, এমন কি আমি লোকের আগে আগে চলে গেলাম। আমি আশংকা করলাম আমার বিষয়ে কোরআন আবতীর্ণ হইতে পারে। তারপর আমি [বেশিক্ষণ] অবস্থান করিনি, [হঠাৎ] এর উচ্চৈঃস্বরে আহ্বানকারী আমাকে ডাকছিল। তিনি [উমার] বলেন, আমি আশংকা করছিলাম আমার বিষয়ে হয় তো কোরআন নাযিল হয়েছে। [উমার] বলেন, অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর কাছে এলাম এবং সালাম করলাম। অতঃপর তিনি বলিলেন, অবশ্য এই রাত্রে আমার উপর একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। নিঃসন্দেহে সে সূরাটি আমার কাছে অধিক প্রিয়, সে সব বস্তু অপেক্ষা যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا এই সূরাটি।

[সহীহ, বুখারি ৪১৭৭] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৪ আবু সাইদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃকে বলিতে শুনিয়াছি তোমাদের মধ্যে এক সম্প্রদায় বের হইবে যারা তুচ্ছ মনে করিবে তোমাদের নামাজকে তাদের নামাযের মুকাবেলায় এবং তোমাদের রোযাসমূহকে তাদের রোযার মুকাবেলায় এবং তোমাদের আমলসমূহকে তাদের আমলসমূহের মুকাবেলায়। তারা কোরআন পাঠ করিবে কিন্তু কোরআন তাদের গলদেশের নিচে যাবে না। তারা ধর্ম হইতে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর শিকারকে ভেদ করে বের হয়ে যায়। তীরের ফলা দেখবে, তাতেও কোন কিছু দেখবে না, তীরের লাকড়ি দেখবে, সেখানেও কিছু দেখিতে পাবে না, পালকের প্রতি লক্ষ করিবে, পালকেও কিছু দেখবে না, ধনুকের ছিলার দিকে দেখবে, সেখানে কিছু রক্ত লেগেছে কিনা সন্দেহ করিবে।

[বুখারি ৫০৫৮, মুসলিম ১০৬৫] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৫ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] সূরা বাকারা শিক্ষা করিতে আট বৎসর অতিবাহিত করেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ০৫. কুরআনের সিজদাসমূহ

৪৬৬ আবু সালমা ইবনি আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরায়রা [রাদি.] তাঁদের উদ্দেশ্যে [সূরা: ইনশিকাক, ৮৪] إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ পাঠ করলেন এবং এ সূরায় সিজদা করলেন। তিনি নামাজ সমাপ্ত করলে পর তদেরকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এই সূরায় সিজদা করেন।

[বুখারি ১০৭৪, মুসলিম ৫৭৮] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৭ মিসরের বাসিন্দাদের একজন নাফি [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] একবার সূরা-এ হজ্জ পাঠ করলেন এবং তিনি এ সূরায় দুটি সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, নিশ্চয় এই সূরাকে দুটি সিজদা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৬৮ আবদুল্লাহ ইবনি দীনার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-কে সূরা-এ হজ্জে দুটি সিজদা করিতে দেখেছি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৬৯ আরজ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] [সূরা: আন-নাজম, ৫৩] و النَّجْمِ إِذَا هَوَى [সূরাটি] পাঠ করলেন এবং উহাতে সিজদা করলেন। তিনি দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৭০ উরওয়াহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] একটি সিজদার আয়াত পাঠ করলেন জুমআ দিবসে। আর তিনি ছিলেন মিম্বরের উপর। অতঃপর তিনি অবতরণ করলেন এবং সিজদা করলেন এবং তাঁর সঙ্গে লোকেরাও সিজদা করলেন। [সহীহ, বুখারি ১০৭৭]

পরবর্তী জুমআয় তিনি সে সূরা পাঠ করলেন। লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে লাগলেন। উমার [রাদি.] তখন বলিলেন, আপনারা অপেক্ষা করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর সিজদা ফরয করেননি, তবে আমরা যদি ইচ্ছা করি তা স্বতন্ত্র কথা। [এটা শুনে] তাঁরা আর সিজদা করলেন না। তিনি তাঁদেরকে সিজদা হইতে বিরত রাখলেন।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, সিজদার আয়াত মিম্বরের উপর পাঠ করলে, ইমামের মিম্বর হইতে অবতরণ করে সিজদা করার প্রতি [আমাদের] আমল নেই [অর্থাৎ মিম্বর হইতে অবতরণ জরুরী নয়]।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের অভিমত এই যে, কোরআন শরীফে সিজদাসমূহের মধ্যে তাকিদী সিজদা হচ্ছে এগারটি। এগুলোর একটিও মুফাস্সালাতে নেই।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, সুজুদুল কোরআন [কোরআন শরীফে সিজদাসমূহের] হইতে কোন সিজদার আয়াত ফজরের নামাযের এবং আসরের নামাযের পর পাঠ করা কারো পক্ষে উচিত নয়। কারণ ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর [সূর্য] অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়িতে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ নিষেধ করেন। আর সিজদাও নামাযে গণ্য, কাজেই কারো পক্ষে উচিত নয় যে, সেই দুই সময়ে কোন সিজদার আয়াত পাঠ করা।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রশ্ন করা হয়েছে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে যিনি একটি সিজদার আয়াত পাঠ করেন, আর একজন ঋতুমতী মহিলা তা শুনল। তবে সে মহিলা কি সিজদা করিবে ? [উত্তরে] মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলিলেন, পুরুষ বা নারী, পবিত্রাবস্থা ব্যতীত সিজদা করিবে না।

ইয়াহ্ইয়া [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, মালিক [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রশ্ন করা হয় একজন মহিলা সম্পর্কে যিনি সিজদার আয়াত পাঠ করেন, অন্য এক ব্যক্তি তা শুনতেছে। সে ব্যক্তির জন্য সিজদা করা জরুরী কি ? [উত্তরে] মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, সিজদা করা এ ব্যক্তির জন্য জরুরী নয়। সিজদা ওয়াজিব হয় সে লোকের উপর যেসব লোক কোন ব্যক্তির সাথে নামাযে শরীক থাকেন এবং তাঁর পেছনে ইকতিদা করেন। অতঃপর তাঁদের ঈমাম সিজদার আয়াত পাঠ করলে তাঁরাও তাঁর সাথে সিজদা করিবেন। আর যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত শুনেছে কোন লোকের মুখে [যিনি তা পাঠ করিতেছেন], কিন্তু সে ব্যক্তি এ লোকের ঈমাম নন, তাঁর জন্য এ সিজদা জরুরী নয়।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদঃ ৬. تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ এবং قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ পাঠ করা

৪৭১ আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি এক ব্যক্তিকে, قُلْ هُوَ اللهُ পাঠ করিতে শুনলেন। সে বারবার তা পাঠ করছিল। ফজরে যখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর খেদমতে হাযির হলেন, তখন তাঁর কাছে এ বিষয়ে উল্লেখ করলেন [আবু সাইদ খুদরী] এই সূরা [পাঠ করা]-কে সাধারণ আমল মনে করছিলেন। [এটা শুনে] রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, আমার প্রাণ যাঁর হাতে তাঁর শপথ, নিশ্চয় এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান মর্যাদা রাখে।

[সহীহ, বুখারি ৫০১৩] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭২ আল-ই-যায়দ ইবনি খাত্তাবের মাওলা ওবায়দ ইবনি হুনায়ন [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবু হুরায়রা [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সাথে আসলাম, তিনি এক ব্যক্তিকে قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ পড়তে শুনলেন। [এটা শুনে] তিনি বলিলেন, وَجَبَتْ [ওয়াজিব হয়েছে]। তখন আমি তাহাকে প্রশ্ন করলাম مَاذَا يَا رَسُولَ اللهِ [হে আল্লাহ্‌র রসূল, কি ওয়াজিব হয়েছে]। তিনি বলিলেন, জান্নাত। [রাবী] বলেন, আবু হুরায়রা [রাদি.] বলেছেন, [তারপর] আমি ইচ্ছা করলাম, সে ব্যক্তির কাছে যাই এবং তাহাকে শুভ সংবাদ শুনিয়ে দেই। কিন্তু আমার আশংকা হল, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সঙ্গে প্রাতঃকালীন আহার ছুটে যাবে। তাই আমি প্রাতঃকালীন আহার গ্রহণকে অগ্রাধিকার প্রদান করলাম। অতঃপর সে ব্যক্তির কাছে গেলাম, কিন্তু তখন তিনি [সে স্থান হইতে] প্রস্থান করেন।

[সহীহ, তিরমিজি ২৮৯৭, আল্লামা আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন {আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ১৪৭৮}] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭৩ হুমায়দ ইবনি আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

খবর দিয়েছেন ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ আর تَبَارَكَ الَّذِ উহার [পাঠকারী] সাথীর পক্ষে ঝগড়া করিবে।

[বুখারি ৫০১৩, মুসলিম ১৯২৪] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ ৭. আল্লাহর যিকরের বর্ণনা

৪৭৪ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ এ দোয়াটি দৈনিক একশত বার পাঠ করিবে, এটা তাঁর জন্য দশটি গোলাম আযাদ করা সমতুল্য হইবে তাঁর জন্য একশত নেকী হইবে এবং তাঁর [আমলনামা] হইতে একশত গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হইবে আর সেদিন সন্ধা পর্যন্ত এটা তাঁর জন্য শয়তান হইতে রক্ষাকবচ হইবে; আর সে যে আমল পেশ করেছে অন্য কেউ তা হইতে শ্রেষ্ঠ কোন আমল পেশ করে নি একমাত্র সে ব্যক্তি ব্যতীত যে ব্যক্তি [তাঁর] এই আমল অপেক্ষা অধিক আমল করেছে।

[বুখারি ৩২৯৩, মুসলিম ২৬৭১] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭৫ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ দৈনিক একশত বার পাঠ করিবে তাঁর পাপসমূহ মাফ করে দেয়া হইবে, যদি তা সাগরের ফেনার পরিমাণও হয়।

[বুখারি ৬৪০৫, মুসলিম ২৬৯১] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭৬ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি প্রতি নামাযের শেষে বলবে سُبْحَانَ اللهِ তেত্রিশ বার, اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ তেত্রিশ বার এবং اَللهُ اَكْبَرُ তেত্রিশ বার আর لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ তাঁর গুনাহ মাফ করা হইবে, যদিও তা সাগরের ফেনা পরিমাণও হয়।

[সহীহ মারফু, মুসলিম ৫৯৭] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭৭ উমারা ইবনি সাইয়্যাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিতে শুনেছেন, বাকিয়াতুস সালিহাত [যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে] সম্পর্কে তিনি বলেছেন, اللهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ হচ্ছে বাকিয়াতুস সালিহাত। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৭৮ আবুদ্দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব না তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমলের, যা তোমাদেরকে সর্বাপেক্ষা উচ্চ মর্যাদায় সমাসীনকারী এবং তোমাদের প্রভুর সর্বাপেক্ষা পবিত্র, সে আমলের আর [যা] তোমাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্য দান করা হইতে উত্তম এবং তা উত্তম তোমাদের জন্য এটা হইতে যে, তোমরা তোমাদের শত্র“র সাথে যুদ্ধ কর, ফলে তারা তোমাদেরকে হত্যা করে এবং তোমরা তাদের গর্দান কাট। উপস্থিত [লোকেরা] বলিলেন, হ্যাঁ, বলুন। তিনি বলিলেন, এ আমল হচ্ছে ذِكْرِ اللهِ [আল্লাহর যিকির]। [সহীহ মারফু, তিরমিজি ৩৩৭৭, ইবনি মাজাহ ৩৭৯০, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ আল-জামে ২৬২৯]

যিয়াদ ইবনি আবি যিয়াদ [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আবু আবদুর রহমান মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] বলেছেন, আল্লাহর যিকির অপেক্ষা আযাব হইতে অধিক নাজাত প্রদানকারী কোন আমল আদম সন্তান সম্পাদন করেনি।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭৯ রিফায়া ইবনি রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সাথে নামাজ আদায় করছিলাম, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ রুকূ হইতে মাথা উঠালেন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলিলেন, তাঁর পশ্চাতে এক ব্যক্তি বলল, رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ যখন নামাজ সমাপ্ত করলেন, তখন বলিলেন, এখন মুতাকাল্লিম [তসবীহ পাঠকারী] কে ছিল ? সে ব্যক্তি বলল, আমি, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, আমি অবশ্য ত্রিশোর্ধ ফেরেশতাকে দেখেছি, তাঁদের মধ্যে এটাকে সর্বপ্রথম কে লিপিবদ্ধ করিবেন, এটা নিয়ে তারা খুব তাড়াহুড়া করিতেছেন।

[সহীহ, বুখারি ৭৯৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ ৮. দুআ

৪৮০ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, প্রত্যেক নবীর জন্য একটি [মাকবুল] দুআ রয়েছে. যে দুআ তিনি করে থাকেন। আমি ইচ্ছা করেছি আমার [জন্য নির্ধারিত] দুআটি গোপন রাখবার আখেরাতে আমার উম্মতের সুপারিশের উদ্দেশ্যে।

[বুখারি ৬৩০৪, ৬৩০৫, মুসলিম ১৯৭] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮১ ইয়াহইয়া ইবনি সাইদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর কাছে খবর পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ দুআ করিতে বলিতেন,

اَللّٰهُمَّ فَالِقَ الْإِصْبَاحِ وَجَاعِلَ اللَّيْلِ سَكَنًا وَالشَّمْسِ وَالْقَمَرِ حُسْبَانًا اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنْ الْفَقْرِ وَأَمْتِعْنِي بِسَمْعِي وَبَصَرِي وَقُوَّتِي فِي سَبِيلِكَ.

“হে আল্লাহ তুমি ঊষার ঘটাও, রাতকে বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত করেছ, গণনার জন্য সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছ, আমার ঋণ শোধ করে দাও, আমাকে অভাবমুক্ত কর; আমার দৃষ্টিশক্তি শ্রবণশক্তি এবং তোমার পথে জিহাদ করার শক্তি দ্বারা আমাকে উপকৃত কর”। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৮২ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, তোমাদের কেউ দুআ করার সময় এরূপ যেন না বলে اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اَللّٰهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ হে আল্লাহ্, আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে ক্ষমা করুন। বরং দৃঢ় প্রত্যয় দুআ করিবে, কারণ আল্লাহকে বাধ্য করবার মত কেউ নেই।

[বুখারি ৬৩৩৮, মুসলিম ২৬৭৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮৩ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, তোমাদের এক ব্যক্তির দুআ কবূল করা হয় [যখন দুআ করে] যদি সে তাড়াতাড়ি না করে। সে বলে আমি দুআ করেছিলাম, কিন্তু আমার দুআ কবূল করা হল না।

[বুখারি ৬৩৪০, মুসলিম ২৭৩৫] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮৪ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, আমাদের প্রভু মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ্ অবতরণ করেন প্রতি রাত্রে দুনিয়ার আসমানে, যখন রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে। অতঃপর বলেন, কে [আছে এমন] আমাকে ডাকবে ? আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেব। কে [আছে এমন] আমার কাছে সওয়াল করিবে ? আমি তাকে দান করব। কে [আছে এমন] ক্ষমা প্রার্থনা করিবে ? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

[বুখারি ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮৫ উম্মুল মুমিনীন আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর পার্শ্বে [একবার] নিদ্রিত ছিলাম। রাত্রির এক অংশে আমি তাহাকে হারিয়ে ফেললাম। তারপর [সন্ধান করিতে করিতে এক পর্যায়ে] আমার হাত দ্বারা তাহাকে স্পর্শ করলাম এবং আমি আমার হাত তাঁর উভয় কদমের উপর ন্থাপন করলাম। তিনি তখন সিজদায় ছিলেন এবং বলিতেছিলেন

اَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَجْطِكَ وَبِمَعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ. وَبِكَ مِنْكَ. لاَ اُحْصِى ثَنَاءً عَلَيْكَ. اَنْتَ كَمَا اَثْيْتَ عَلَى نَفْسِكَ.

“আমি আপনার ক্রোধ হইতে আপনার সন্তুষ্টির, আপনার আযাব হইতে আপনার ক্ষমার শরণ নিচ্ছি। আপনার শরণ নিচ্ছি আপনার দ্বারা আপনারই পক্ষ হইতে। আপনার প্রশংসার উপযুক্ত হক আমি আদায় করিতে পারব না। আপনি সেরূপ যেরূপ আপনি স্বয়ং নিজের সত্তার প্রশংসা করেন।” [সহীহ, মুসলিম ৪৮৫, তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৮৬ তালহা ইবনি উবায়দুল্লাহ ইবনি কুরায়য [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, দুআর মধ্যে সর্বোত্তম দুআ হল আরাফাতের দিবসের দুআ, আর উত্তম যা আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ বলেছেন, তা হচ্ছে,

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ.

[তিরমিজি ৩৫৮৫, আল্লামা আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন {সহীহ আল-জামে ৩২৭৪}] এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৪৮৭ আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাঁদেরকে [নিম্নে বর্ণিত] এই দুআটি কুরআনের সূরা যেরূপ শিক্ষা দিতেন সেরূপ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলিতেন,

اَللّٰهُمَّ اِنِّىِ اَعْوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ. وَاَعُودُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. وَاَعُوذُبِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسيِحِ الدَّجَّالِ. وَاَعُو ذُبِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ.

হে আল্লাহ্! আমি জাহান্নামের আযাব হইতে, কবরের আযাব হইতে, মসীহ দাজ্জালের ফিতনা হইতে, জীবিত এবং মৃতের ফিতনা হইতে আপনার শরণ নিচ্ছি।

[সহীহ, মুসলিম ৫৮৮] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮৮ আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ মধ্য রাত্রে যখন [তাহাজ্জুদ] নামাযের জন্য দাঁড়াতেন, তখন বলিতেন,

اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اَللّٰهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ

হে আল্লাহ্! হামদ আপনারই জন্য, আপনি আসমান ও যমীনের জ্যোতি, আপনারই জন্য হামদ, আপনি আসমান ও যমীনের রক্ষক, আপনারই জন্য হামদ, আসমান ও যমীনের এবং এতদুভয়ে যা কিছু সকলেরই প্রভু আপনি। আপনি সত্য, আপনার বাণী সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ্! আপনার প্রতি আমি অনুগত হয়েছি, আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার উপরই তাওয়াক্কুল করেছি, আপনার দিকেই রুজু করেছি, আপনার জন্যই আপনার শত্রুদের সাথে বিবাদ করেছি এবং আপনারই কাছে বিচার প্রার্থনা করেছি, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন আমার পূর্বের ও পরের পাপসমূহ, আমার গোপন ও প্রকাশ্যে কৃত অপরাধসমূহ। আপনিই আমার মাবুদ আপনি ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই।

[বুখারি ১১৬০, মুসলিম ৭৬৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮৯ আবদুল্লাহ্ ইবনি জাবির ইবনি আতিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] এলেন বনু মুআবিয়াতে-এটা আনসারগণ অধ্যুষিত একটি লোকালয়। তিনি বলিলেন তোমাদের মসজিদের কোন স্থানে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ নামাজ আদায় করিয়াছেন, তোমরা তা অবগত আছ কি? আমি তাহাকে বললাম হ্যাঁ এবং সে মসজিদের এক কিনারার দিকে ইশারা করলাম। তারপর তিনি আমাকে বলিলেন, তুমি জান কি সে তিনটি দুআ কি ছিল যা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ সে স্থানে করেছিলেন? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বলিলেন তবে আমাকে সে দুআগুলির খবর দাও। অতঃপর আমি বললাম তিনি দুআ করেন- [১] যেন তাদের উপর অমুসলিম শত্রুকে বিজয়ী না করা হয়। [২] আর দুর্ভিক্ষ দ্বারা যেন তাদেরকে ধ্বংস করা না হয়। এ দুটি তাহাকে প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও দুআ করেন, [৩] তাদের ধ্বংস তাদের পরস্পরের হানাহানি দ্বারা যেন না হয়। কিন্তু তাঁর এ দুআ মঞ্জুর করা হয়নি। তিনি বলিলেন, তুমি ঠিক বলেছ। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, তবে পরস্পরের কলহ বরাবর থাকিবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।

[সহীহ, মুসলিম ২৮৯০]এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৯০ যায়দ ইবনি ইসলাম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

যে কোন ব্যক্তি দুআ করে, সে তিনটির একটি অবশ্যই পাবে; হয় তো তার দুআ কবুল করা হইবে, অথবা প্রার্থিত বস্তু তার জন্য সঞ্চিত রাখা হইবে, অথবা এই দুআ তার গুনাহের কাফফারা হইবে।

[একই অর্থে ঈমাম তিরমিজি মারফু সনদে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তিরমিজি ৩৯৫৭, এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন {সহীহ আল জামে ৫৭১৪}। التكفير অংশটুকু ব্যতীত আর التكفير শব্দ সহ তিনি যয়ীফ বলেছেন {যয়ীফ আল-জামে} ৫১৭৭] এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদঃ ৯. দুআর নিয়ম

৪৯১ আবদুল্লাহ ইবনি দীনার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] আমাকে দেখলেন যখন আমি দুআ করছিলাম এবং ইশারা করছিলাম দুই আঙুল দ্বারা, [প্রতি হাতের এক আঙ্গুল দিয়ে]। তিনি এরূপ করিতে আমাকে নিষেধ করলেন।

[روى النهي مرقوعًا তিরমিজি ৩৫৫৭, নাসাঈ ১২৭২, আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন {মিশকাত ৯১৩}] এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৪৯২ সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নিঃসন্দেহে লোকের দরজা বুলন্দ করা হয় তার মৃত্যুর পর তার সন্তানের দুআর কারণে। আর তিনি তাঁর হাত দ্বারা আসমানের দিকে ইশারা করে উভয় হাত উপরে উঠালেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৯৩ হিশাম ইবনি উরওয়াহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا আয়াতটি দুআ সম্বন্ধেই নাযিল করা হয়েছে। [বুখারি ২৩২৭, মুসলিম ৪৪৭, এবং ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]

ইয়াহইয়া [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, মালিক [রাহিমাহুল্লাহ]-কে ফরয নামাযে দুআ পাঠ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ফরয নামাযে দুআ করাতে কোন ক্ষতি নেই।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৯৪ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট খবর পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ দুআ করিতেন ও বলিতেন,

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ فِي النَّاسِ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ.

“হে প্রভু! আমি যেন ভাল কাজ করি ও মন্দকে পরিত্যাগ করিতে পারি এবং মিসকিনদের ভালবাসতে পারি, সে তওফিক আপনার নিকট হইতে সাওয়াল করছি, আর যখন লোকদেরকে পরীক্ষায় ফেলতে ইচ্ছা করেন তখন আমাকে গোলযোগমুক্ত অবস্থায় আপনার নিকট গ্রহণ করে নিবেন।”

غَيْرَ مَفْتُوْنٍ.

[সহীহ, তিরমিজি ৩২৩৩, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন {সহহি আল-জামে ৫৯} এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৯৫ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট খবর পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, যেকোন আহ্বানকারী হিদায়াতের দিকে আহ্বান করিবে তবে তাকে তার অনুসরণকারীদের সমান পুণ্য দেয়া হইবে। অনুসরণকারীদের পুণ্য হইতে বিন্দুমাত্র কম করা হইবে না। আর যেকোন আহ্বানকারী পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করিবে, তবে তার উপর অনুসরণকারীদের পাপসমূহের সমান পাপ বর্তাবে। তাতে অনুসরণকারীদের পাপসমূহের এতটুকুও কম করা হইবে না।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৯৬ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] দুআ করেন,

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِي مِنْ أَئِمَّةِ الْمُتَّقِيْنَ.

“হে প্রভু! আমাকে আদর্শ মুত্তাকিনদের অন্তভূক্ত কর।” [সহীহ, মুসলিম ২৬৭৪]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৯৭ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট খবর পৌঁছেছে যে, আবুদ্দারদা [রাদি.] যখন মধ্যরাত্রে নামাযে দাঁড়াতেন তখন বলিতেন,

نَامَتْ الْعُيُونُ وَغَارَتْ النُّجُومُ وَأَنْتَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ.

“চক্ষুসমূহ ঘুমিয়েছে, নক্ষত্ররাজি অস্ত গিয়েছে এবং তুমি চিরঞ্জীব, চিরন্তন, স্বাধিষ্ঠ।” [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদঃ ১০. ফজর ও আসরের পর নামাজ নিষিদ্ধ হওয়া

৪৯৮ আবদুল্লাহ সুনাবিহি [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, নিশ্চয় সূর্য উদিত হয় এবং উহার সাথে শয়তানের শিং থাকে। অতঃপর যখন সূর্য ঊর্ধ্বে উঠে তখন শিং সূর্য হইতে পৃথক হয়ে যায়। এর পর সূর্য যখন বরাবর হয়, তখন উহা শয়তানের শিং-এর সাথে মিলিত হয়। এর পর যখন সূর্য হেলে যায়, তখন উহা পৃথক হয়ে যায়। সূর্য যখন অস্তমিত হওয়ার সময় হয়, তখন উহা সূর্যের সাথে মিলিত হয়। অতঃপর যখন অস্তমিত হয়, তখন উহাকে ছেড়ে দেয়। এই সময়গুলোতে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

[যয়ীফ, নাসাঈ ৫৫৯, ইবনি মাজা ১২৫৩, আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন, {যয়ীফ আল-জামে ১৪৭২}] এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪৯৯ হিশাম ইবনি উরওয়াহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, যখন সূর্যের উপর দিকের অংশ উদিত হয় তখন তোমরা নামাজ বিলম্বে পড়, সূর্য পরিষ্কারভাবে ওঠা পর্যন্ত। আর যখন সূর্য অস্ত যায় তখন নামাজকে পিছিয়ে দাও উহা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।

[বুখারি ৫৮৩, মুসলিম ৮২৯, ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল] এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৫০০ আলী ইবনি আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা যোহরের পর আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-এর নিকট গেলাম, তিনি আসর আদায় করিতে দাঁড়ালেন। যখন তিনি নামাজ সমাপ্ত করলেন, তখন নামাযে তাড়াতাড়ি করার বিষয় উল্লেখ করলাম অথবা তিনি উল্লেখ করলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে বলিতে শুনিয়াছি উহা মুনাফিকদের নামাজ, উহা মুনাফিকদের নামাজ, উহা মুনাফিকদের নামাজ। তাদের একজন বসে থাকে। যখন সূর্য হলুদ বর্ণের হয়ে যায় এবং উহা মিলিত হয় শয়তানের শিংয়ের সাথে। সে উঠে এবং চারটি ঠোকর মারে {১} । উহাতে আল্লাহকে স্মরণ করে অতি অল্প।

[সহীহ, মুসলিম ৬২২]{১} তাড়াতাড়ি নামাজ আদায় করে এরূপভাবে সিজদা করে যেমন ঠোকর মারে।এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫০১ আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন সূর্য উদয়ের সময় এবং অস্ত যাওয়ার সময় নামাজ আদায়ের ইচ্ছা না করে।

[বুখারি ৫৮৫, মুসলিম ৮২৮] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫০২ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আসরের পর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করেন আর ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করেন।

[সহীহ, মুসলিম ৮২৫] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫০৩ আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলিতেন, তোমরা সূর্য উদয় এবং অস্ত যাওয়ার সময় তোমাদের নামাজ আদায় করার ইচ্ছা করো না। কারণ শয়তান তার শিং দুটি বের করে সূর্য উদয়ের সাথে এবং উভয়কে [শিং] অস্তমিত করে সূর্যাস্তের সাথে। আর তিনি [উমার রাদি.] লোকদের এই [সময়] নামাজ আদায় করার কারণে প্রহার করিতেন।

[মারফু, বুখারি ৩২৭৩, মুসলিম ৮২৮] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫০৪ সায়িব ইবনি ইয়াযিদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-কে দেখেছেন যে, তিনি [উমার [রাদি.] আসরের পর নামাজ আদায় করার কারণে মুনকাদির [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রহার করছেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

By মুয়াত্তা মালিক

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply