নতুন লেখা

কোন কোন দিন রোজা রাখা ভালো – শাবান, আরাফা, আসুরা

কোন কোন দিন রোজা রাখা ভালো – শাবান, আরাফা, আসুরা

কোন কোন দিন রোজা রাখা ভালো – শাবান, আরাফা, আসুরা >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৩০, সাওম, অধ্যায়ঃ (৫২-৬৯)=১৮টি

৩০/৫২. অধ্যায়ঃ শাবান (মাস)-এর সওম ।
৩০/৫৩. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ)-এর সওম পালন করা ও না করার বিবরণ ।
৩০/৫৪. অধ্যায়ঃ সওমের ব্যাপারে মেহমানের হক ।
৩০/৫৫. অধ্যায়ঃ নফল সওমে শরীরের হক ।
৩০/৫৬. অধ্যায়ঃ পুরা বছর সওম করা ।
৩০/৫৭. অধ্যায়ঃ সওম পালনের ব্যাপারে পরিবার-পরিজনের অধিকার ।
৩০/৫৯. অধ্যায়ঃ দাউদ (আঃ)-এর সওম ।
৩০/৬০. অধ্যায়ঃ সিয়ামুল বীয ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (এর সওম) ।
৩০/৬১. অধ্যায়ঃ কারো সাথে দেখা করিতে গিয়ে (নফল) সওম ভেঙ্গে না ফেলা ।
৩০/৬২. অধ্যায়ঃ মাসের শেষভাগে সওম ।
৩০/৬৩. অধ্যায়ঃ জুমুআর দিনে সওম করা । যদি জুমুআর দিনে সওম পালনরত অবস্থায় ভোর হয় তবে তার উচিত সওম ছেড়ে দেয়া । অর্থাৎ যদি এর আগের দিনে সওম পালন না করে থাকে এবং পরের দিনে সওম পালনের ইচ্ছা না থাকে ।
৩০/৬৪. অধ্যায়ঃ সওমের (উদ্দেশে) কোন দিন কি নির্দিষ্ট করা যায় ?
৩০/৬৫. অধ্যায়ঃ আরাফাতের দিবসে সওম করা।
৩০/৬৬. অধ্যায়ঃ ঈদুল ফিতরের দিবসে সওম করা ।
৩০/৬৭. অধ্যায়ঃ কুরবানীর দিবসে সওম
৩০/৬৮. অধ্যায়ঃ আইয়্যামে তাশরীকে সওম করা।
৩০/৬৯. অধ্যায়ঃ আশুরার দিনে সওম করা ।

৩০/৫২. অধ্যায়ঃ শাবান (মাস)-এর সাওম ।

১৯৬৯. আয়িশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) একাধারে (এত অধিক) সাওম পালন করিতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সাওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশী) সাওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সাওম পালন করবেন না। আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে রমযান ব্যতীত কোন পুরা মাসের সাওম পালন করিতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোন মাসে অধিক (নফল) সাওম পালন করিতে দেখিনি।

১৯৭০. আয়িশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) শাবান মাসের চাইতে বেশী (নফল) সাওম কোন মাসে পালন করিতেন না। তিনি (প্রায়) পুরা শাবান মাসই সাওম রাখতেন এবং তিনি বলিতেনঃ তোমাদের মধ্যে যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু (নফল) আমল করো, কারণ তোমরা (আমল করিতে করিতে) পরিশ্রান্ত হয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা (সাওয়াব দান) বন্ধ করেন না। নাবী (সাঃআঃ)-এর কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সালাত ছিল তাই- যা যথাযথ নিয়মে সর্বদা আদায় করা হত, যদিও তা পরিমাণে কম হত এবং তিনি যখন কোন (নফল) সালাত আদায় করিতেন পরবর্তীতে তা অব্যাহত রাখতেন।

৩০/৫৩. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ)-এর সাওম পালন করা ও না করার বিবরণ ।

১৯৭১. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) রমযান ব্যতীত কোন মাসে পুরা মাসের সাওম পালন করেননি। তিনি এমনভাবে (নফল) সাওম পালন করিতেন যে, কেউ বলিতে চাইলে বলিতে পারতো, আল্লাহর কসম! তিনি আর সাওম পালন পরিত্যাগ করবেন না। আবার এমনভাবে (নফল) সাওম ছেড়ে দিতেন যে, কেউ বলিতে চাইলে বলিতে পারতো আল্লাহর কসম! তিনি আর সাওম পালন করবেন না।

১৯৭২. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কোন মাসে এভাবে সাওম ছেড়ে দিতেন যে, আমরা মনে করতাম, তিনি এ মাসে আর সাওম পালন করবেন না। আবার কোন মাসে এভাবে সাওম পালন করিতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি এ মাসে আর সাওম ছাড়বেন না। আর তুমি যদি তাঁকে রাতে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখিতে চাইতে তবে তা দেখিতে পেতে, আবার যদি তুমি তাঁকে ঘুমন্ত দেখিতে চাইতে তবে তাও দেখিতে পেতে। সুলায়মান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হুমাইদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে বলেন যে, তিনি আনাস (রাদি.)-কে সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিয়াছেন। (১১৪১)

(আ.প্র. ১৮৩৩, ই.ফা. ১৮৪৫)

১৯৭৩. হুমাইদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস (রাদি.)-কে নাবী (সাঃআঃ)-এর (নফল) সওমের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, যে কোন মাসে আমি তাঁকে সাওম পালনরত অবস্থায় দেখিতে চেয়েছি, তাঁকে সে অবস্থায় দেখেছি, আবার তাঁকে সাওম পালন না করা অবস্থায় দেখিতে চাইলে তাও দেখিতে পেয়েছি। রাতে যদি তাঁকে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখিতে চেয়েছি, তা প্রত্যক্ষ করেছি। আবার ঘুমন্ত দেখিতে চাইলে তাও দেখিতে পেয়েছি। আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর হাত মুবারক হইতে নরম কোন পশমী বা রেশমী কাপড় স্পর্শ করি নাই। আর আমি তাহাঁর (শরীরের) ঘ্রাণ হইতে অধিক সুগন্ধযুক্ত কোন মিশক বা আম্বর পাইনি।

৩০/৫৪. অধ্যায়ঃ সওমের ব্যাপারে মেহমানের হক ।

১৯৭৪. আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) আমার কাছে এলেন। এরপর তিনি [আবদুল্লাহ (রাদি.)] হাদীসটি বর্ণনা করেন অর্থাৎ “তোমার উপর মেহমানের হাক্ব আছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব আছে।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, সওমে দাউদ (আঃ) কি? তিনি বলিলেন, “অর্ধেক বছর” (-এর সাওম পালন করা)।

৩০/৫৫. অধ্যায়ঃ নফল সওমে শরীরের হক ।

১৯৭৫. আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) আমাকে বললেনঃ হে আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন সাওম পালন কর এবং সারা রাত সালাত আদায় করে থাকো। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেনঃ এরূপ করিবে না (বরং মাঝে মাঝে) সাওম পালন করো আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) সালাত আদায় কর আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হাক্ব রহিয়াছে, তোমার চোখের হাক্ব রহিয়াছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব আছে, তোমার মেহমানের হাক্ব আছে। তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রহিয়াছে দশগুণ নেকী। এভাবে সারা বছরের সাওম হয়ে যায়। আমি (বললাম) আমি এর চেয়েও কঠোর আমল করিতে সক্ষম। তখন আমাকে আরও কঠিন আমলের অনুমতি দেয়া হল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আরো বেশী শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তবে আল্লাহর নাবী দাউদ (আঃ)-এর সাওম পালন করো, এর হইতে বেশী করিতে যেয়ো না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নাবী দাউদ (আঃ)-এর সাওম কেমন? তিনি বললেনঃ অর্ধেক বছর। রাবী বলেনঃ আবদুল্লাহ (রাদি.) বৃদ্ধ বয়সে বলিতেন, আহা! আমি যদি নাবী (সাঃআঃ) প্রদত্ত রুখসত (সহজতর বিধান) কবূল করে নিতাম !

৩০/৫৬. অধ্যায়ঃ পুরা বছর সাওম করা ।

১৯৭৬. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর নিকট আমার সম্পর্কে এ কথা পোঁছে যায় যে, আমি বলেছি, আল্লাহর কসম, আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন সাওম পালন করব এবং রাতভর সালাত আদায় করব। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করায় আমি বললাম, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হোন! আমি এ কথা বলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি তো এরূপ করিতে সক্ষম হইবে না। বরং তুমি সাওম পালন কর ও ছেড়েও দাও, (রাতে) সালাত আদায় কর ও নিদ্রাও যাও। তুমি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন কর, কারণ নেক কাজের ফল তার দশগুণ; এভাবেই সারা বছরের সাওম পালন হয়ে যাবে। আমি বললাম, আমি এর হইতে বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একদিন সাওম পালন কর এবং দুদিন ছেড়ে দাও। আমি বললাম, আমি এর হইতে বেশি করার শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একদিন সাওম পালন কর আর একদিন ছেড়ে দাও। এ হল দাউদ (আঃ)-এর সাওম এবং এ হল সর্বোত্তম (সাওম)। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশী করার সামর্থ্য রাখি। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ এর চেয়ে উত্তম সাওম (রাখার পদ্ধতি) আর নেই।

৩০/৫৭. অধ্যায়ঃ সাওম পালনের ব্যাপারে পরিবার-পরিজনের অধিকার ।

আবু জুহায়ফাহ (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) হইতে এরূপ বর্ণনা করিয়াছেন ।

১৯৭৭. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পোঁছে যে, আমি একটানা সাওম পালন করি এবং রাতভর সালাত আদায় করি। এরপর হয়ত তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন অথবা আমি তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি এ কথা ঠিক শুনিনি যে, তুমি সাওম পালন করিতে থাক আর ছাড় না এবং তুমি (রাতভর) সালাত আদায় করিতে থাক আর ঘুমাও না? (আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ তুমি সাওম পালন কর এবং মাঝে মাঝে তা ছেড়েও দাও। রাতে সালাত আদায় কর এবং নিদ্রাও যাও। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের হক রহিয়াছে এবং তোমার নিজের শরীরের ও তোমার পরিবারের হক তোমার উপর আছে। আবদুল্লাহ (রাদি.) বলিলেন, আমি এর চেয়ে বেশী শক্তি রাখি। তিনি [আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) ] বললেনঃ তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম পালন কর। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ (রাদি.) বলিলেন, তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ দাউদ (আঃ) একদিন সাওম পালন করিতেন, একদিন ছেড়ে দিতেন এবং তিনি (শত্রুর) সম্মুখীন হলে পলায়ন করিতেন না। আবদুল্লাহ (রাদি.) বলিলেন, হে আল্লাহর নাবী ! আমাকে এ শক্তি কে যোগাবে? বর্ণনাকারী আত্বা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, (এ হাদীসে) কিভাবে সব সময়ের সিয়ামের প্রসঙ্গ আসে সে কথাটুকু আমার মনে নেই (অবশ্য) এতটুকু মনে আছে যে, নাবী (সাঃআঃ) দুবার এ কথাটি বলেছেন, সব সময়ের সাওম কোন সাওম নয়।

 

৩০/৫৮. অধ্যায়ঃ একদিন সাওম করা ও একদিন পরিত্যাগ করা ।

১৯৭৮. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেনঃ তুমি প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। আবদুল্লাহ (রাদি.) বলিলেন, আমি এর চেয়ে বেশী করার শক্তি রাখি। এভাবে তিনি বৃদ্ধির আবেদন করিতে লাগলেন, অবশেষে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ একদিন সাওম পালন কর আর একদিন ছেড়ে দাও এবং আরো বললেনঃ প্রতি মাসে (এক খতম) কুরআন পাঠ করো। তিনি বলিলেন, আমি এর চেয়ে বেশী শক্তি রাখি। এভাবে বলিতে লাগলেন, অবশেষে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ তাহলে তিন দিনে (পাঠ করো)।

৩০/৫৯. অধ্যায়ঃ দাউদ (আঃ)-এর সাওম ।

১৯৭৯. আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সব সময় সাওম পালন কর এবং রাতভর সালাত আদায় করে থাকো? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি এরূপ করলে চোখ বসে যাবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। যে সারা বছর সাওম পালন করে সে যেন সাওম পালন করে না। মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি দাউদী সাওম পালন করো, তিনি একদিন সাওম পালন করিতেন আর একদিন ছেড়ে দিতেন এবং যখন শত্রুর সম্মুখীন হইতেন তখন পলায়ন করিতেন না।

১৯৮০.আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর নিকট আমার সওমের (সাওম পালন পদ্ধতি সম্পর্কে) আলোচনা করায় তিনি আমার এখানে আগমন করেন। আমি তাহাঁর জন্য খেজুরের গাছের ছালে পরিপূর্ণ চামড়ার বালিশ (হেলান দিয়ে বসার জন্য) উপস্থিত করলাম। তিনি মাটিতে বসে পড়লেন। বালিশটি তাহাঁর ও আমার মাঝে পরে থাকল। তিনি বললেনঃ প্রতি মাসে তুমি তিন দিন সাওম পালন করলে হয় না? আবদুল্লাহ (রাদি.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল ! (আরো করিতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ সাত দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! (আরো করিতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ নয় দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! (আরো করিতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ এগারো দিন। এরপর নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, দাউদ (আঃ)-এর সওমের চেয়ে উত্তম সাওম আর হয় না- (তা হচ্ছে) অর্ধেক বছর, একদিন সাওম পালন কর ও একদিন ছেড়ে দাও।

৩০/৬০. অধ্যায়ঃ সিয়ামুল বীয ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (এর সাওম) ।

১৯৮১. আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু (সাঃআঃ) আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা এবং দুরাকআত সলাতুয-যুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।

৩০/৬১. অধ্যায়ঃ কারো সাথে দেখা করিতে গিয়ে (নফল) সাওম ভেঙ্গে না ফেলা ।

১৯৮২. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) (আমার মাতা) উম্মু সুলাইম (রাদি.)-এর ঘরে আগমন করিলেন। তিনি তাহাঁর সামনে খেজুর ও ঘি পেশ করিলেন। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমাদের ঘি মশকে এবং খেজুর তার বরতনে রেখে দাও। কারণ আমি সায়িম। এরপর তিনি ঘরের এক পাশে গিয়ে নফল সালাত আদায় করিলেন এবং উম্মু সুলাইম (রাদি.) ও তাহাঁর পরিজনের জন্য দুআ করিলেন। উম্মু সুলাইম (রাদি.) আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার একটি ছোট ছেলে আছে। তিনি বললেনঃ কে সে? উম্মু সুলাইম (রাদি.) বলিলেন, আপনার খাদেম আনাস। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণের দুআ করিলেন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাল ও সন্তান-সন্ততি দান কর এবং তাকে বরকত দাও। আনাস (রাদি.) বলেন, আমি আনসারগণের মধ্যে অধিক সম্পদশালীদের একজন। এবং আমার কন্যা উমায়না আমাকে জানিয়েছেন যে, হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) বসরায় আগমনের পূর্ব পর্যন্ত একশত বিশের অধিক আমার নিজের সন্তান মারা গেছে। হুমায়দ (রহঃ.) আনাস (রাদি.)- কে নাবী (সাঃআঃ) হইতে হাদীস বর্ণনা করিতে শুনেছেন।

৩০/৬২. অধ্যায়ঃ মাসের শেষভাগে সাওম ।

১৯৮৩. ইমরান ইবনু হুইায়ন (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) তাঁকে অথবা (রাবী বলেন) অন্য এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন এবং ইমরান (রাদি.) তা শুনছিলেন। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ হে অমুকের পিতা!! তুমি কি এ মাসের শেষভাগে সাওম পালন কর নি? (রাবী) বলেন, আমার মনে হয় (আমার ওস্তাদ) বলেছেন, অর্থাৎ রমযান। লোকটি উত্তর দিলো, হে আল্লাহর রাসুল! না। তিনি বললেনঃ যখন সাওম পালন শেষ করিবে তখন দুদিন সাওম পালন করে নিবে। আমার মনে হয় সালত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) রমযান শব্দটি বর্ণনা করেননি। সাবিত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইমরান সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে —– শাবানের শেষভাগে বলে উল্লেখ করিয়াছেন। আবু আবদুল্লাহ বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, শাবান শব্দটি অধিকতর সহীহ।

৩০/৬৩. অধ্যায়ঃ জুমুআর দিনে সাওম করা । যদি জুমুআর দিনে সাওম পালনরত অবস্থায় ভোর হয় তবে তার উচিত সাওম ছেড়ে দেয়া । অর্থাৎ যদি এর আগের দিনে সাওম পালন না করে থাকে এবং পরের দিনে সাওম পালনের ইচ্ছা না থাকে ।

১৯৮৪. মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নাবী (সাঃআঃ) কি জুমুআর দিনে (নফল) সাওম পালন করিতে নিষেধ করিয়াছেন? উত্তরে তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আবু আসিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ব্যতীত অন্যেরা অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন যে, পৃথকভাবে জুমুআর দিনে সাওম পালন (-কে নিষেধ করিয়াছেন)।

১৯৮৫. আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমুআর দিনে সাওম পালন না করে কিন্তু তার পূর্বে একদিন অথবা পরের দিন (যদি পালন করে তবে জুমুআর দিনে সাওম পালন করা যায়)।

১৯৮৬.জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) জুমুআর দিনে তাহাঁর নিকট প্রবেশ করেন তখন তিনি (জুয়াইরিয়া) সাওম পালনরত ছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি গতকাল সাওম পালন করেছিলে? তিনি বলিলেন, না। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি আগামীকাল সাওম পালনের ইচ্ছা রাখো? তিনি বলিলেন, না। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ তাহলে সাওম ভেঙ্গে ফেল। হাম্মাদ ইবনুল জাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) স্বীয় সূত্রে জুয়াইরিয়া (রাদি.) হইতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাঁকে আদেশ দেন এবং তিনি সাওম ভঙ্গ করেন।

৩০/৬৪. অধ্যায়ঃ সওমের (উদ্দেশে) কোন দিন কি নির্দিষ্ট করা যায় ?

১৯৮৭. আলকামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদি.)- কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কি কোন দিন কোন কাজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিতেন? উত্তরে তিনি বলিলেন, না, বরং তাহাঁর আমল স্থায়ী হতো এবং আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) যে সব আমল করার শক্তি–সামর্থ্য রাখতেন তোমাদের মধ্যে কে আছে যে সে সবের সামর্থ্য রাখে?

৩০/৬৫. অধ্যায়ঃ আরাফাতের দিবসে সাওম করা।

১৯৮৮.উম্মুল ফাযল বিনতে হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

কিছু সংখ্যক লোক আরাফাতের দিনে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর সাওম পালন সম্পর্কে তাহাঁর কাছে সন্দেহ প্রকাশ করে। তাদের কেউ বলিল, তিনি সাওম পালন করিয়াছেন। আর কেউ বলিল, না, তিনি করেন নি। এতে উম্মুল ফাযল (রাদি.) এক পেয়ালা দুধ আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)- এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং তিনি তা পান করে নিলেন। এ সময় তিনি উটের পিঠে (আরাফাতে) উকূফ অবস্থায় ছিলেন।

১৯৮৯. মায়মূনাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

কিছু সংখ্যক লোক আরাফাতের দিনে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর সাওম পালন সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি স্বল্প পরিমাণ দুধ আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলে তিনি তা পান করিলেন ও লোকেরা তা প্রত্যক্ষ করছিল। তখন তিনি (আরাফাতে) অবস্থান স্থলে ওকূফ করছিলেন।

৩০/৬৬. অধ্যায়ঃ ঈদুল ফিতরের দিবসে সাওম করা ।

১৯৯০. বনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবু উবাইদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদা ঈদে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদি.)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বলিলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) এই দুই দিনে সাওম পালন করিতে নিষেধ করিয়াছেন। (ঈদুল ফিতরের দিন) যে দিন তোমরা তোমাদের সাওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত্ খাও। আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ইবনু উয়ায়নাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, যিনি ইবনু আযহারের মাওলা বলে উল্লেখ করিয়াছেন, তিনি ঠিক বর্ণনা করিয়াছেন; আর যিনি আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদি.)- এর মাওলা বলেছেন, তিনিও ঠিক বর্ণনা করিয়াছেন।

১৯৯১. আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন সাওম পালন করা হইতে, সাম্মা ধরণের কাপড় পরিধান করিতে, এক কাপড় পরিধানরত অবস্থায় দুই হাঁটু তুলে নিতম্বের উপর বসতে (কেননা এতে সতর প্রকাশ পাওয়ার আশংকা রহিয়াছে)।

১৯৯২. আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

এবং নাবী (সাঃআঃ) ফাজর ও আসরের পরে সালাত আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

৩০/৬৭. অধ্যায়ঃ কুরবানীর দিবসে সাওম

১৯৯৩. আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, দু (দিনের) সাওম ও দু (প্রকারের) ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর (দিনের) সাওম এবং মুলামাসা ও মুনাবাযা (পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়) হইতে।

১৯৯৪. যিয়াদ ইবনু জুবাইর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এসে (আবদুল্লাহ) ইবনু উমার (রাদি.)- কে বলিল যে, এক ব্যক্তি কোন এক দিনের সাওম পালন করার মানত করেছে, আমার মনে হয় সে সোমবারের কথা বলেছিল। ঘটনাক্রমে ঐ দিন ঈদের দিন পড়ে যায়। ইবনু উমার (রাদি.) বলিলেন, আল্লাহ তাআলা মানত পুরা করার নির্দেশ দিয়েছেন আর নাবী (সাঃআঃ) এই (ঈদের) দিনে সাওম পালন করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

১৯৯৫. আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যিনি নাবী (সাঃআঃ)-এর সাথে বারোটি যুদ্ধে শরীক ছিলেন, তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) হইতে চারটি কথা শুনিয়াছি, যা আমার খুব ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন, স্বামী অথবা মাহরাম (যার সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ) পুরুষ ব্যতীত কোন নারী যেন দুই দিনের দূরত্বের সফর না করে। ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিনে সাওম নেই। ফাজরের সলাতের পরে সূর্যোদয় এবং আসরের সলাতের পরে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নেই। মাসজিদে হারাম, মাসজিদে আকসা ও আমার এই মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন মাসজিদের উদ্দেশ্যে কেউ যেন সফর না করে।

৩০/৬৮. অধ্যায়ঃ আইয়্যামে তাশরীকে সাওম করা।

১৯৯৬. মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)…হিশাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন, আয়িশাহ (রাদি.) মিনাতে (অবস্থানের) দিনগুলোতে সাওম পালন করিতেন। আর তাহাঁর পিতাও সে দিনগুলোতে সাওম পালন করিতেন।

১৯৯৭. আয়িশাহ (রাদি.) ও ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তাঁরা উভয়ে বলেন, যাঁর নিকট কুরবানীর পশু নেই তিনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সাওম পালন করার অনুমতি দেয়া হয়নি।

১৯৯৮. আয়িশাহ (রাদি.) ও ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তাঁরা উভয়ে বলেন, যাঁর নিকট কুরবানীর পশু নেই তিনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সাওম পালন করার অনুমতি দেয়া হয়নি।

১৯৯৯. ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি একই সঙ্গে হাজ্জ ও উমরাহ পালনের সুযোগ লাভ করিল সে আরাফাত দিবস পর্যন্ত সাওম পালন করিবে। সে যদি কুরবানী না করিতে পারে এবং সাওমও পালন না করে থাকে তবে মিনার দিনগুলোতে সাওম পালন করিবে।

(আ.প্র. ১৮৫৮, ই.ফা. ১৮৭০)

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। ইবরাহীম ইবনু সাদ (রাদি.) ইবনু শিহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। (আ.প্র. ১৮৫৮, ই.ফা. ১৮৭০ শেষাংশ)

৩০/৬৯. অধ্যায়ঃ আশুরার দিনে সাওম করা ।

২০০০. আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আশূরার দিনে কেউ ইচ্ছা করলে সাওম পালন করিতে পারে।

২০০১. আয়িশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) প্রথমে আশূরার দিনে সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরে যখন রমযানের সাওম ফরয করা হলো তখন যার ইচ্ছা (আশুরার) সাওম পালন করত আর যার ইচ্ছা করত না।

২০০২. আয়িশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ আশূরার সাওম পালন করত এবং আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)- ও এ সাওম পালন করিতেন। যখন তিনি মাদীনায় আগমন করেন তখনও এ সাওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমযানের সাওম ফরয করা হল তখন আশূরার সাওম ছেড়ে দেয়া হলো, যার ইচ্ছা সে পালন করিবে আর যার ইচ্ছা পালন করিবে না।

২০০৩. হুমাইদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

যে বছর মুআবিয়াহ (রাদি.) হাজ্জ করেন সে বছর আশূরার দিনে (মসজিদে নববীর) মিম্বরে তিনি (রাবী) তাঁকে বলিতে শুনেছেন যে, হে মাদীনাবাসিগণ! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, আজকে আশূরার দিন, আল্লাহ তাআলা এর সাওম তোমাদের উপর ফরয করেননি বটে, তবে আমি (আজ) সাওম পালন করছি। যার ইচ্ছা সে সাওম পালন করুক, যার ইচ্ছা সে পালন না করুক।

২০০৪. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) মাদীনায় আগমন করে দেখিতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ আশুরার দিনে সাওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সাওম পালন কর কেন?) তারা বলিল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হইতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা (আ) সাওম পালন করেন। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সাওম পালন করেন এবং সাওম পালনের নির্দেশ দেন।

২০০৫. আবু মূসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আশূরার দিনকে ইয়াহুদীগণ ঈদ (উৎসবের দিন) মনে করত। নাবী (সাঃআঃ) (সাহাবীগণকে) বললেনঃ তোমরাও এ দিনের সাওম পালন কর।

২০০৬. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)- কে আশূরার দিনের সওমের উপরে অন্য কোন দিনের সাওমকে প্রাধান্য প্রদান করিতে দেখিনি এবং এ মাস অর্থাৎ রমযান মাস (এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করিতেও দেখিনি)।

২০০৭. সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করিলেন যে, যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে সাওম পালন করে, আর যে খায়নি, সেও যেন সাওম পালন করে। কেননা আজকের দিন আশূরার দিন।

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: