কৃত আমল ও না করা আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

কৃত আমল ও না করা আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

কৃত আমল ও না করা আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৮. অধ্যায়ঃ কৃত আমল ও না করা আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা

৬৭৮৮ : ফারওয়াহ্ ইবনি নাওফাল আল আশজাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আল্লাহর নিকট কি কি দুআ করিতেন? তিনি আয়িশা [রাদি.] জবাব দিলেন, তিনি [সাঃআঃ] বলিতেন,

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন্ শার্রি মা- আমিল্তু ওয়া মিন শার্রি মা- লাম আমল” ( “হেআল্লাহ! আপনার নিকট সেসব কর্মের খারাবী থেকে আশ্রয় চাই যা আমি করেছি এবং তাত্থেকেও যা আমি করিনি।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০০]

৬৭৮৯ : ফারওয়াহ্ ইবনি নাওফাল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দুআ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি {আয়িশা [রাদি.]} বলিলেন, তিনি [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَشَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন্ শার্রি মা- আমিলতু ওয়া মিন্ শার্রি মা- লাম আমল” (“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সেসব আমালের খারাবী হইতে আশ্রয় চাই যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০১]

৬৭৯০ : মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না, ইবনি বাশ্শার ও মুহাম্মাদ ইবনি আমর ইবনি জাবালাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হুসায়ন [রাদি.] হইতে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনি জাফারের হাদীসে “ওয়া মিন্ শার্রি মা- লাম আমল” অর্থাৎ- “এবং আমি যা করিনি তার খারাবী হইতে” কথাটি উল্লেখ নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০২]

৬৭৯১ : আয়িশাহ্ [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তাহাঁর দুআয় বলিতেন,

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَشَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ 

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন্ শার্রি মা- আমিল্তু ওয়া মিন্ শার্রি মা-লাম আমল ( “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই সেসব কর্মের খারাবী হইতে, যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি তাথেকেও।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০৩]

৬৭৯২ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَىُّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ

“আল্ল-হুম্মা লাকা আস্লাম্তু ওয়াবিকা আ-মান্তু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কাল্তু ওয়া ইলাইকা আনাব্তু ওয়াবিকা খ-সামতু আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিইয্যাতিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা আন্ তুযিল্লানী আন্তাল হাইয়ুল্লাযী লা- ইয়ামূতু ওয়াল জিন্নু ওয়াল ইন্সু ইয়ামূতূন”, (“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার প্রতিই বিশ্বাস স্থাপন করেছি, আপনার উপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই ফিরে যাচ্ছি এবং আপনার সহযোগিতায়ই শত্রুদের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছি। হে আল্লাহ! আপনার সম্মানের নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আপনি ছাড়া কোন মুাবূদ নেই। আপনি আমাকে বিভ্রান্তির পথ থেকে বাঁচান। আপনি চিরঞ্জীব সত্তা, যার মৃত্যু নেই। আর জিন্ জাতি ও মানব জাতি মারা যাবে।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০৪]

৬৭৯৩ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[তিনি বলেন,] নবী [সাঃআঃ] যখন ভ্রমণে থাকতেন তখন সকালবেলা বলিতেন,

سَمَّعَ سَامِعٌ بِحَمْدِ اللَّهِ وَحُسْنِ بَلاَئِهِ عَلَيْنَا رَبَّنَا صَاحِبْنَا وَأَفْضِلْ عَلَيْنَا عَائِذًا بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ

“সামিআ সা-মিউন্ বিহাম্দিল্লা-হি ওয়া হুস্নি বালা-য়িহি আলাইনা- রব্বানা- স-হিব্না- ওয়া আফ্যিল আলাইনা- আ-য়িযান্ বিল্লা-হি মিনান্না-র” (“শ্রবণকারী শ্রণ করুক এবং আল্লাহর দেয়া কল্যাণ ও নিআমাতের উপর আমাদের প্রশংসার সাক্ষী থাকুক। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের সাথী হোন এবং আমাদের উপর অনুগ্রহ দান করুন। আমি মহান আল্লাহর নিকট জাহান্নাম হইতে আশ্রয় চাই।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০৫]

৬৭৯৪ : আবু মূসা আল আশআরী [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এ দুআর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করিতেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جِدِّي وَهَزْلِي وَخَطَئِي وَعَمْدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

“আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী খতীআতী ওয়া জাহ্লী ওয়া ইসরা-ফী ফী আম্রী ওয়ামা- আন্তা আলামু বিহি মিন্নী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী জিদ্দী ওয়া হায্লী ওয়া খতায়ী ওয়া আম্দী ওয়া কুল্লু যালিকা ইন্দী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী মা- কদ্দামতু ওয়ামা- আখ্খার্তু ওয়ামা- আস্রার্তু ওয়ামা- আলান্তু ওয়ামা- আন্তা আলামু বিহি মিন্নী আন্তাল্ মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুয়াখ্খিরু ওয়া আন্তা আলা-কুল্লি শাইয়িন্ কদীর” (“হে আল্লাহ! আপনি আমার পাপ, আমার অজ্ঞতা ও আমার কাজের সীমালঙ্ঘনকে মার্জনা করে দিন। আপনি এ বিষয়ে আমার চেয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত। হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দিন আমার আন্তরিকতাপূর্ণ ও রসিকতামূলক অপরাধ এবং আমার ইচ্ছাকৃত ও ভুলক্রমে সব রকমের অপরাধগুলো [যা আমি করেছি]। হে আল্লাহ! মাফ করে দিন যা আমি আগে করে ফেলেছি এবং যা আমি পরে করব, যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি। আর আপনি আমার চাইতে আমার সম্পর্কে সার্বাধিক জ্ঞাত। আপনিই একমাত্র অগ্রবর্তী এবং আপনিই একমাত্র পরবর্তী। আপনি সব বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০৬]

৬৭৯৫ “শুবাহ্ [রাদি.]-এর সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০৭]

৬৭৯৬ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

 اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِيَ الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَاىَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

“আল্ল-হুম্মা আস্লিহ্লী দীনিয়াল্লিযী হুওয়া ইস্মাতু আমরী ওয়া আস্লিহ্লী দুন্ইয়াল্লাতী ফীহা মাআ-শী ওয়া আস্লিহ্লী আ-খিরতিল্লাতী ফীহা মাআ-দী ওয়াজ আলিল হায়া-তা যিয়া-দাতান্ লী ফী কুল্লি খইরিন্ ওয়াজ আলিল মাওতা রা-হাতান্ মিন্ কুল্লি শার্রিন্” (অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীন পরিশুদ্ধ করে দিন, যে দীনই আমার নিরাপত্তা। আপনি শুদ্ধ করে দিন আমার দুনিয়াকে, যেথায় আমার জীবনোপকরণ রয়েছে। আপনি সংশোধন করে দিন আমার আখিরাতকে, যেখানে আমাকে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে। আপনি আমার আয়ূষ্কালকে বৃদ্ধি করে দিন প্রত্যেকটি ভালো কর্মের জন্য এবং আপনি আমার মরণকে বিশ্রামাগার বানিয়ে দিন সব প্রকার খারাবী হইতে।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০৮]

৬৭৯৭ : আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এ বলে দুআ করিতেন,

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল্ হুদা ওয়াত্ তুকা ওয়াল আফা-ফা ওয়াল গিনা” (অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পথনির্দেশ, আল্লাহভীতি, চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও সচ্ছলতার জন্য দুআ করছি।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭০৯]

৬৭৯৮ : ইবনি ইসহাক্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে হবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু পার্থক্য এটুকু যে, ইবনিল মুসান্না তার বর্ণিত হাদীসে [আরবী]-এর স্থলে [হারাম থেকে পবিত্রতা] শব্দ বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১০]

৬৭৯৯ : যায়দ ইবনি আরকাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট তেমনই বলব যেমনটি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেন। তিনি [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجَابُ لَهَا

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল আজ্‌যি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুব্‌নি ওয়াল বুখ্‌লি ওয়াল হারামি ওয়া আযা-বিল কব্‌রি, আল্ল-হুম্মা আ-তি নাফসী তাক্‌ওয়া-হা ওয়াযাক্কিহা-আন্‌তা খইরু মান্‌ যাক্‌কা-হা আন্‌তা ওয়ালী ইউহা- ওয়া মাওলা-হা-, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন ইল্‌মিন্‌ লা- ইয়ান্‌ফাউ ওয়ামিন কালবিন্‌ লা- ইয়াখ্‌শাউ ওয়ামিন নাফ্‌সিন লা- তাশ্‌বাউ ওয়ামিন দাওয়াতিন লা- ইউসতাজা-বু লাহা-” (অর্থাৎ- “হেআল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই অপরাগতা, অলসতা, ভীরুতা, বখিলতা, বার্ধক্যতা এবং কবরের শাস্তি থেকে। হেআল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে পরহেযগারিতা দান করুন এবং একে সংশোধন করে দিন। আপনি একমাত্র সর্বোত্তম সংশোধনকারী এবং আপনিই একমাত্র তার মালিক ও আশ্রয়স্থল। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই এমন ইল্‌ম হইতে যা কোন উপকারে আসবে না ও এমন অন্তঃকরণ থেকে যা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না; এমন আত্মা থেকে যা কক্ষনও তৃপ্ত হয় না। আর এমন দুআ থেকে যা কবূল হয় না।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১১]

৬৮০০ : আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন সন্ধ্যা হত তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

 أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ

“আম্‌সাইনা- ওয়া আম্‌সাল্‌ মুল্‌কু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহু লা- শারীকা লাহু, (অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও, প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি একক সত্তা, তাহাঁর কোন শারীক নেই।”)

হাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমাকে যুবায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি ইব্‌রাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ দুআটি মুখস্ত করেছেনঃ

 لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ

“লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, আল্ল-হুম্মা আসাআলুকা খইরা হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া আঊযুবিকা মিন্‌ শাররি হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া শার্‌রি মা- বাদাহা- আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূয়িল কিবারি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন আযা-বিন ফিন্না-রি ওয়া আযা-বিন ফিল কবরি।” (অর্থাৎ, “রাজত্ব তাহাঁর মালিকানাধীন, সকল প্রশংসা তাহাঁরই, তিনিই সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এ রাতের কল্যাণ প্রত্যাশা করি এবং আশ্রয় চাই এ রাতের খারাবী হইতে এবং এর পরবর্তী রাতের অনিষ্ট থেকেও। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা থেকে ও অহংকারের খারাবী থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি থেকে এবং কবরের শাস্তি থেকে।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১২]

৬৮০১ : আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন সন্ধ্যা হয়ে যেত সে সময় নবী [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

“আম্‌সাইনা- ওয়া আম্‌সাল্‌ মুল্‌কু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা-শারীকা লাহু”, (অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে। আল্লাহর জন্যই সকল কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মাবূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই।”)

রাবী বলেন যে, তিনি তাহাঁর দুআর মধ্যে বলেছেন,

 لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ

“লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন্‌ কদীর, রব্বি আস্‌আলুকা খইরা মা- ফী হা-যিহিল্‌ লাইলাতি ওয়া খাইরা মা- বাদাহা- ওয়া আঊযুবিকা মিন্‌ শার্‌রি মা- ফী হাযিহিল লাইলাতি ওয়া শার্‌রি মা- বাদাহা- রব্বি আঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূয়িল কিবারি রব্বি আঊযুবিকা মিন্‌ আযা-বিন ফিন্‌না-রি ওয়া আযা-বিন ফিল কব্‌রি”, (অর্থাৎ- “রাজত্ব তাহাঁরই, প্রশংসা তাহাঁরই এবং তিনিই সব বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। হে আমার রব! আমি আপনার নিকট কল্যাণ চাই এ রাতের এবং পরবর্তী রাতেরও। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এ রাত্রের খারাবী হইতে এবং এর পরবর্তী রাতের খারাবী হইতেও। হে আমার প্রতিপালক। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা, অহঙ্কারের অশুভ পরিণতি থেকে। হে আমার প্রতিপালক। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি হইতে।” আর যখন ভোর হতো, তিনি বলিতেনঃ “আস্‌বাহ্‌না- ওয়া আস্‌বাহাল মুল্‌কু লিল্লা-হি”, অর্থাৎ “আমরা ভোরে পৌঁছেছি এবং আল্লাহর রাজ্যও ভোরে পৌঁছেছে।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১৩]

৬৮০২ : আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন সন্ধ্যা হতো তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

‏ أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوءِ الْكِبَرِ وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ

“আম্‌সাইনা- ওয়া আম্‌সাল্‌ মুল্‌কু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহু লা- শারীকা লাহু, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্‌আলুকা মিন্‌ খইরি হাযিহিল লাইলাতি ওয়া খইরি মা- ফীহা- ওয়া আঊযুবিকা মিন্‌ শার্‌রিহা- ওয়া শার্‌রি মা- ফীহা-, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়া সূয়িল কিবারি ওয়া ফিত্‌নাতিদ্‌ দুন্‌ইয়া ওয়া আযা-বিন ফিল কব্‌রি”, (অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় পৌঁছেছি এবং পৃথিবী আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় পৌঁছেছে। সকল প্রকার প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কল্যাণ চাই এ রাত্রের ও তার পরবর্তী রাত্রের এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এ রাত্র ও এর পরবর্তী রাত্রের খারাবী হইতে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই। অলসতা, বার্ধক্য, অহঙ্কারের খারাবী দুনিয়ার ফিতনাহ ও কবরের শাস্তি হইতে।”)

হাসান ইবনি উবাইদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, যুবায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর সানাদে মারফূ সূত্রে একটু বর্ধিত বলেছেন। তিনি বলেন,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর”, (অর্থাৎ “আল্লাহ ভিন্ন অন্য কোন মাবূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব তাহাঁরই, প্রশংসা তাহাঁরই এবং তিনিই সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১৪]

৬৮০৩ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

 لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَعَزَّ جُنْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَغَلَبَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ فَلاَ شَىْءَ بَعْدَهُ

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহু আ আয্‌যা জুন্‌দাহু ওয়া নাসারা আব্‌দাহু ওয়া গলাবাল আহ্‌যা-বা ওয়াহ্‌দাহু ফালা- শাইয়া বাদাহু”, (অর্থাৎ- “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মাবূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তিনি তাহাঁর সৈনিকদের সম্মান দিয়েছেন এবং তাহাঁর বান্দাকে সহযোগিতা করিয়াছেন। আর তিনি একাই অসংখ্য কাফির বাহিনীর উপর বিজয়ী হয়েছেন। এরপরে আর কোন কিছু নেই।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১৫]

৬৮০৪ : আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেনঃ তুমি বলো-

قُلِ اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي وَاذْكُرْ بِالْهُدَى هِدَايَتَكَ الطَّرِيقَ وَالسَّدَادِ سَدَادَ السَّهْمِ ‏

“আল্ল-হুম্মাহ্‌দিনী ওয়া সাদ্‌দিদ্‌নী ওয়ায্‌কুর বিল্‌হুদা হিদা-ইয়াতাকাত্‌ তারীকা ওয়াস্‌ সাদা-দি সাদা-দাস্‌ সাহ্‌ম”, (অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সোজা পথে পরিচালিত করুন।” তিনি আমাকে আরও বলেছেন, “আপনার হিদায়াতকে সঠিক পথের মাধ্যমে এবং তীর সোজা করাকে সরলতার মাধ্যমে স্মরণ করুন।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১৬]

৬৮০৫ : আসিম ইবনি কুলায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে এ রকম বলিতে বলেছেনঃ

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالسَّدَادَ

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল হুদা ওয়াস্ সাদা-দ”, (অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হিদায়াত ও সরলপথ প্রার্থনা করছি।” অতঃপর তিনি তার মতই হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন।)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১৭]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply