নতুন লেখা

কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য – রিয়াদুস সালেহীন হাদিস থেকে সংকলিত

কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য – রিয়াদুস সালেহীন হাদিস থেকে সংকলিত

কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য – রিয়াদুস সালেহীন হাদিস থেকে সংকলিত >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ৬৪: কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য

কৃতজ্ঞ ধনী ঐ ব্যক্তি যে বৈধ পন্থায় ধনার্জন করে এবং তা বৈধ ও বিধেয় পথে ব্যয় করে।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥ وَصَدَّقَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡيُسۡرَىٰ ٧ ﴾ [الليل: ٥،  ٧] 

অর্থাৎ “সুতরাং যে দান করে ও আল্লাহকে ভয় করে, এবং সদ্বিষয়কে সত্যজ্ঞান করে। অচিরেই আমি তার জন্য সুগম করে দেব [জান্নাতের] সহজ পথ।” [সূরা লায়ল ৫-৭ আয়াত]

তিনি আরো বলেন,

﴿ وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلۡأَتۡقَى ١٧ ٱلَّذِي يُؤۡتِي مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ ١٨ وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُۥ مِن نِّعۡمَةٖ تُجۡزَىٰٓ ١٩ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ رَبِّهِ ٱلۡأَعۡلَىٰ ٢٠ وَلَسَوۡفَ يَرۡضَىٰ ٢١ ﴾ [الليل: ١٧،  ٢١] 

অর্থাৎ “আর আল্লাহভীরুকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধন-সম্পদ দান করে এবং তার প্রতি কারো কোন অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়। কেবল তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়। আর সে অচিরেই সন্তুষ্ট হবে।” [সূরা ঐ ১৭-২১ আয়াত]

তিনি আরো বলেন,

﴿ إِن تُبۡدُواْ ٱلصَّدَقَٰتِ فَنِعِمَّا هِيَۖ وَإِن تُخۡفُوهَا وَتُؤۡتُوهَا ٱلۡفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّ‍َٔاتِكُمۡۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ ٢٧١ ﴾ [البقرة: ٢٧١] 

অর্থাৎ “তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তকে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। এতে তিনি তোমাদের কিছু কিছু পাপ মোচন করিবেন, বস্তুত তোমরা যা কর, আল্লাহ তা অবহিত।” [সূরা বাক্বারাহ ২৭১ আয়াত]

তিনি আরো বলেছেন,

﴿ لَن تَنَالُواْ ٱلۡبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِن شَيۡءٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ٩٢ ﴾ [ال عمران: ٩٢] 

অর্থাৎ “তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করিতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” [সূরা আলে ইমরান ৯২ আয়াত]

1/576 وعن ابن مسعود رضي الله عنه، عن النبيِّ ﷺ، قَالَ: «لا حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً، فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحَقّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ حِكْمَةً، فَهُوَ يَقْضِي بِهَا ويُعَلِّمُهَا » متفقٌ عَلَيْهِ

১/৫৭৬। ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়ঃ [১] ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে হক পথে অকাতরে দান করার ক্ষমতা দান করিয়াছেন এবং [২] ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ হিকমত দান করিয়াছেন, অতঃপর সে তার দ্বারা ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।’’ [বুখারী ও মুসলিম, এটি ৫৪৯ নম্বরে গত হয়েছে।] [1]

2/577 وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: «لاَ حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ القُرْآنَ، فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، وَرَجُلٌ آتَاهُ مَالاً، فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ». متفقٌ عَلَيْهِ

২/৫৭৭। ইবনি উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়ঃ [১] ঐ ব্যক্তির [হিংসা করা যায়] যাকে আল্লাহ কুরআন [শিক্ষা] দিয়েছেন অতঃপর সে দিবারাত্রি তার যত্ন করে [তেলাওয়াত ও আমল করে] এবং [২] ঐ ব্যক্তির [হিংসা করা যায়] যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর সে দিবারাত্রি তা দান করে।’’ [বুখারী ও মুসলিম] [2]

3/578 وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ فُقَراءَ المُهَاجِرينَ أتَوْا رَسُولَ اللهِ ﷺ، فَقَالَوا: ذَهَبَ أهْلُ الدُّثُورِ بِالدَّرَجَاتِ العُلَى، وَالنَّعِيم المُقِيمِ، فَقَالَ: «وَمَا ذَاك ؟» فَقَالَوا: يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَيَتَصَدَّقُونَ وَلاَ نَتَصَدَّقُ، وَيَعْتِقُونَ وَلاَ نَعْتِقُ، فَقَالَ رَسُول اللهِ ﷺ:«أفَلا أُعَلِّمُكُمْ شَيْئاً تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ، وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ، وَلاَ يَكُونُ أحَدٌ أفْضَلَ مِنْكُمْ إِلاَّ مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «تُسَبِّحُونَ وَتُكَبِّرُونَ وَتَحْمِدُونَ، دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ مَرَّةً » فَرَجَعَ فُقَرَاء المُهَاجِرِينَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ، فَقَالَوا: سَمِعَ إخْوَانُنَا أهلُ الأمْوالِ بِمَا فَعَلْنَا، فَفَعَلُوا مِثلَهُ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «ذَلِكَ فَضْلُ اللهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ ». متفقٌ عَلَيْهِ، وَهَذا لفظ رواية مسلم

৩/৫৭৮।  আবু হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, একদা গরীব মুহাজির [সাহাবাগণ] নবী সাঃআঃ এর নিকট এসে বলিলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো উঁচু উঁচু মর্যাদা ও চিরস্থায়ী সম্পদের অধিকারী হয়ে গেল।’ তিনি বলিলেন, ‘‘তা কিভাবে?’’ তাঁরা বলিলেন, ‘তারা নামায পড়ছে যেমন আমরা নামায পড়ছি, তারা রোযা রাখছে যেমন আমরা রাখছি। কিন্তু তারা সাদকাহ করছে, আর আমরা করিতে পারছি না। তারা দাস মুক্ত করছে, আর আমরা পারছি না।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল সাঃআঃ বলিলেন, ‘‘আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিস শিখিয়ে দেব না, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের মর্যাদা লাভ করিবে, তোমাদের পরবর্তীদের থেকে অগ্রবর্তী থাকবে এবং তোমাদের মত কাজ যে করিবে, সে ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠতর হতে পারবে না?’’ তাঁরা বলিলেন, ‘অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! [আমাদেরকে তা শিখিয়ে দিন।]’ তিনি বলিলেন, ‘‘প্রত্যেক [ফরয] নামাযের পরে ৩৩ বার করে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ ও ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ বলবে।’’ অতঃপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় আল্লাহর রসূল সাঃআঃ এর নিকট এসে বলিলেন, ‘আমরা যে আমল করছি, সে আমল আমাদের ধনী ভাইয়েরা শোনার পর তারাও আমল শুরু করে দিয়েছে? [এখন তো তারা আবার আমাদের চেয়ে অগ্রবর্তী হয়ে যাবে।]’ আল্লাহর রসূল সাঃআঃ বলিলেন, ‘‘এ হল আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।’’ [বুখারী, মুসলিম, শব্দগুলি মুসলিমের] [3]


[1] সহীহুল বুখারী ৭৩, ১৪০৯, ৭১৪১, ৭৩০, ইবনু মাজাহ ৪২০৮, আহমাদ ৩৬৪৩, ৪০৯৮, মুসলিম ৮১৬

[2] সহীহুল বুখারী ৫০২৫, ৭৫২৯, মুসলিম ৮১৫, তিরমিযী ১৯৩৬, ইবনু মাজাহ ৪২০৯, আহমাদ ৪৫৩৬, ৪৯০৫, ৫৫৮৬, ৬১৩২, ৬৩৬৭

[3] সহীহুল বুখারী ৮৪৩, ৬৩২৯, মুসলিম ৫৯৫, আবূ দাউদ ১৫০৪, ইবনু মাজাহ ৪৮৮, ৯২৭, আহমাদ ৭২০২, ৮৬১৬, ৯৮৯৭, দারেমী ১৩৫৩

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইলম (জ্ঞান ও শিক্ষা) বিষয়ক অধ্যায়

পরিচ্ছেদ – ২৪১ঃ ইল্মের ফযীলত পরিচ্ছেদ – ২৪২ঃ মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজেব

Leave a Reply

%d bloggers like this: