বিদ্বান হওয়া ও কুরআন সম্পর্কে জ্ঞানী হওয়ার দাবী করা

বিদ্বান হওয়া ও কুরআন সম্পর্কে জ্ঞানী হওয়ার দাবী করার প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শন

<< সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব হাদীস বই এর মুল সুচিপত্র

পরিচ্ছেদঃ বিদ্বান হওয়া ও কুরআন সম্পর্কে জ্ঞানী হওয়ার দাবী করা

আত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১৩৪ -উবাই বিন কা`ব [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেনঃ “একদা মূসা [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বানী ইসরাঈলের সামনে বক্তৃতা করছিলেন। এমন সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হলঃ সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ কে? তিনি বলিলেন, আমি সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী। একথার জন্য আল্লাহ তাঁকে তিরস্কার করিলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কীত করেন নি। [অর্থাৎ বলেননি যে, আল্লাহই ভাল জানেন কে বেশী জ্ঞানী] আল্লাহ তাহাঁর কাছে ওহী করলেনঃ আমার জনৈক বান্দা `দু`সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে` আছে সে তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী। তিনি বলিলেন, হে আমার পালনকর্তা! কিভাবে আমি তার নিকট পৌঁছতে পারি? তাঁকে বলা হলঃ থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে বের হয়ে পড়। যে স্থানে পৌঁছার পর মাছটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে সেখানেই তাকে পাওয়া যাবে। [এরপর মূসার সাথে খিযিরের সাক্ষাতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেনঃ] তাঁরা উভয়ে সমুদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন। তাঁরা নৌকা পাচ্ছিলেন না। ইতোমধ্যে একটি নৌকা সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিল। তাঁরা নৌকায় আরোহনের ব্যাপারে কথাবার্তা বলিলেন। মাঝিরা খিযিরকে চিনে ফেলল। তাই কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁদেরকে নৌকায় তুলে নিল। ইতোমধ্যে একটি চড়ুই পাখী নৌকার একপ্রান্তে এসে বসল এবং সমুদ্র থেকে এক বা দু`চষ্ণু পানি তুলে নিল। খিযির বলিলেন: হে মূসা [আ:]! আমার জ্ঞান ও আপনার জ্ঞান উভয়ে মিলে আল্লাহর জ্ঞানের মোকাবেলায় এমন তুলনাও হয় না, যেমনটি এ চড়ুইয়ের চঞ্চুর পানির সাথে রহিয়াছে সমুদ্রের পানির।” এরপর তিনি হাদীছটি পূর্ণরূপে বর্ণনা করেন।
অপর বর্ণনায় আছেঃ একদা মূসা [আঃ] বনী ইসরাঈলের এক জামাত লোকের মাঝ দিয়ে চলছিলেন। এমন সময়
জনৈক লোক এসে তাঁকে বললঃ আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এমন কাউকে কি আপনি জানেন? মূসা বললেনঃ না। তখন আল্লাহ মূসার কাছে ওহী করলেনঃ বরং আমার বান্দা খিযির [তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী]। তখন মূসা [আঃ] তাহাঁর কাছে যাওয়ার উপায় সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন….।”

[বুখারী ও মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১৩৫- ওমার বিন খাত্তাব [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “ইসলাম বিজয় লাভ করিবে। অতঃপর এমন একটা পর্যায় আসবে যখন ব্যবসায়িকগণ সমুদ্র পথে সফর করিবে, অশ্বারোহী বাহিনী আল্লাহর পথে [লড়াইয়ে] নিমগ্ন হবএ। তারপর একদল লোক বের হইবে যারা কুরআন পড়বে এবং বলবেঃ কে আছে আমাদের চেয়ে বেশী কুরআন পড়তে পারে? কে আছে আমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী? কে আমাদের চেয়ে অধিক বুঝে? এরপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সাহাবীদেরকে বললেনঃ “ওদের মধ্যে কি কোন কল্যাণ আছে?”
তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূল অধিক জ্ঞান রাখেন। তিনি বললেনঃ “ওরা তোমাদের মধ্যে থেকে এই উম্মতেরই অন্তর্ভুক্ত। ওরা জাহান্নামের ইন্ধন।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] ও বাযযার] হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি

আত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১৩৬ – আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব হতে বর্ণিতঃ

উক্ত হাদীছটি আবু ইয়া`লা, বাযযার ও ত্বাবরানী আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি

আত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১৩৭ – আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের মাতা উম্মে ফাযল [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বর্ণনা করে বলেনঃ একদা কোন এক রাতে তিনি মক্কায় দন্ডায়মান হয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহ আমি কি পৌঁছিয়েছি?” কথাটি তিনি তিনবার বলিলেন। তখন ওমার বিন খাত্তাব দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন অধিক বিনয়ী। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! হ্যাঁ, আপনি পৌঁছিয়েছেন, আপনি উদ্বুদ্ধ করিয়াছেন, জিহাদ করিয়াছেন এবং নসীহত করিয়াছেন। তখন তিনি বললেনঃ “অবশ্যই ইসলাম বিজয় লাভ করিবে, এমনকি কুফরীকে তার ঠিকানায় ফেরত পাঠানো হইবে। নাবিকগণ ইসলামের বাণী নিয়ে সাগর পাড়ি দিবে। এমন এক যুগ আসবে যখন মানুষ কুরআন শিক্ষা করিবে। তারা কুরআন শিক্ষা করিবে ও পাঠ করিবে তারপর বলবেঃ আমরা পড়লাম ও জানলাম। অতএব আমাদের চেয়ে উত্তম আর কে আছে? এসকল লোকের মধ্যে কি কোন কল্যাণ আছে? তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা কারা? তিনি বললেনঃ “ওরা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। ওরা হইবে জাহান্নামের ইন্ধন।”

[ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি

Leave a Reply