কুরআন সংরক্ষণ এ যত্নবান হওয়ার নির্দেশ

কুরআন সংরক্ষণ এ যত্নবান হওয়ার নির্দেশ

কুরআন সংরক্ষণ এ যত্নবান হওয়ার নির্দেশ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ কুরআন সংরক্ষণ এ যত্নবান হওয়ার নির্দেশ, অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি বলার অপছন্দনীয়তা ও আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে বলার বৈধতা প্রসঙ্গে

১৭২২

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] রাতের বেলা জনৈক ব্যক্তিকে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করিতে শুনে বললেনঃ আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। সে আমাকে অমুক অমুক সূরার অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি অমুক সূরাহ্ থেকে বাদ দেয়ার উপক্রম করেছিলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭০৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৭১৪]

১৭২৩

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন নবী [সাঃআঃ] মাসজিদে জনৈক ব্যক্তির কুরআন তিলাওয়াত শুনেছিলেন। [তাহাঁর তিলাওয়াত শুনে] তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাহাঁর প্রতি রহম করুন। সে আমাকে এমন একটি আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমার স্মৃতি থেকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭০৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৭১৫]

১৭২৪

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কুরআন হিফ্‌যকারীর দৃষ্টান্ত হল পা বাঁধা উট। যদি এর মালিক এটির প্রতি লক্ষ্য রাখে তাহলে ধরে রাখতে পারবে। আর যদি তার বাঁধন খুলে দেয় তাহলে সেটি ছাড়া পেয়ে চলে যাবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭০৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৭১৬]

১৭২৫

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে মূসা ইবনি উক্ববাহ্ বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অধিক বর্ণনা করা হয়েছে যে, “কুরআনের হাফিয যদি রাতে ও দিনে কুরআন মাজীদ পড়ে তাহলে তা স্মরণ রাখতে পারে, অন্যথায় ভুলে যায়।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭১০, ইসলামিক সেন্টার- ১৭১৭]

১৭২৬

আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যদি কেউ এভাবে বলে যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি তাহলে তা তার জন্য খুবই খারাপ। বরং তাকে তো ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা কুরআনকে স্মরণ রাখ। কারণ কুরআন মানুষের হৃদয় থেকে পা বাঁধা পলায়নপর চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পলায়নপর। ছাড়া পেলেই পালিয়ে যায় অর্থাৎ স্মরণ রাখার চেষ্টা না করলেই ভুলে যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭১১, ইসলামিক সেন্টার- ১৭১৮]

১৭২৭

শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] বলেছেনঃ এই পবিত্র গ্রন্থের আবার কখনো বলেছেন এ কুরআনের রক্ষণাবেক্ষণ কর। কেননা মানুষের মন থেকে তা এক পা বাঁধা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও [অধিক বেগে] পলায়নপর। আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] আরও বর্ণনা করিয়াছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এ কথা না বলে যে, আমি [কুরআন মাজীদের] অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং তার থেকে আয়াতগুলো বিস্মৃত হয়ে গিয়েছে [এরূপ বলা উত্তম]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭১২, ইসলামিক সেন্টার- ১৭১৯]

১৭২৮

শাক্বীক্ব ইবনি সালামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদকে বলিতে শুনেছি। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ কোন ব্যক্তির পক্ষে এরূপ কথা বলা খুবই খারাপ যে, সে অমুক অমুক সুরাহ্‌ বা অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছে। বরং বলবে যে ঐগুলো [সুরাহ্‌ বা আয়াত] তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭১৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৭২০]

১৭২৯

আবু মূসা [আশআরী] [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা কুরআন হিফ্‌যের প্রতি লক্ষ্য রাখ। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আমি সে মহান সত্তার শপথ করে বলছি, কুরআনের মুখস্থ সুরাহ্‌ বা আয়াতসমূহ মানুষের মন থেকে পা বাঁধা উটের চেয়েও অধিক পলায়নপর [অর্থাৎ কুরআন মাজীদের মুখস্থ সুরাহ্‌ বা আয়াত তাড়াতাড়ি বিস্মৃতিতে চলে যায়]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭১৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৭২১]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply