কুরআন পাঠ ও যিকরের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা

কুরআন পাঠ ও যিকরের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা

কুরআন পাঠ ও যিকরের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১১. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ ও যিকরের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা

৬৭৪৬ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক কোন ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোন মুসীবাত দূর করে দিবে, আল্লাহ তাআলা বিচার দিবসে তার থেকে মুসীবাত সরিয়ে দিবেন। যে লোক কোন দুঃস্থ লোকের অভাব দূর করিবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়াও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাই-এর সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করিতে থাকেন। যে লোক জ্ঞানার্জনের জন্য রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন একটি গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে [কুরআন] অধ্যয়নে লিপ্ত থাকে তখন তাদের উপর শন্তিধারা অবতীর্ণ হয়। রহ্মাত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশ্তাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নিকটবর্তীদের [ফেরেশ্তাগণের] মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যে লোককে আমালে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ [মর্যাদা] তাকে অগ্রসর করে দিবে না। {৭}

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬১] {৭} যে ব্যক্তিকে তার আমালে দূর সরিয়ে রাখে। তাকে তার সমৃদ্ধ বংশ মর্যাদা এগেয়ে নিতে পারবে না। সুতরাং যার আমাল কম সে কখনো অধিক সৎকর্মশীল লোকের মর্যাদায় উন্নীত হইতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তার উচিত হইবে যে, স্বল্প আমাল, বাপ-দাদাদের কৃতিত্ব ও বংশমর্যাদার উপর ভরসা না করে সর্বদা নেক আমালে জড়িয়ে থাকা।

৬৭৪৭ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ….. আবু মুআবিয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অবিকল। তবে আবু উসামার হাদীসে “দুঃস্থ লোকের অভাব লাঘব করার” বর্ণনা নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬২]

৬৭৪৮ : আগার আবু মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আবু হুরায়রা্ ও আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] তারা উভয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন জাতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার যিকির করিতে বসলে একদল ফেরেশ্তা তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং রহ্মাত তাদেরকে ঢেকে নেয়। আর তাদের উপর শান্তি নাযিল হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নিকটস্থ ফেরেশ্তাগণের মধ্যে তাদের আলোচনা করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬৩]

৬৭৪৯ : শুবাহ্ [রাদি.] হইতে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬৪]

৬৭৫০ : আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়াহ্ [রাদি.] মাসজিদে একটি হাল্কার উদ্দেশে বের হলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, কিসে তোমাদেরকে এখানে বসিয়েছে [তোমরা এখানে বসেছ কেন]? তারা বলিল, আমরা আল্লাহর যিকির করিতে বসেছি। তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! এছাড়া আর কোন বিষয় তোমাদেরকে বসায়নি? [তোমরা কি শুধু এ জন্যই বসেছ?] তারা বলিল, আল্লাহর শপথ! এছাড়া অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে বসায়নি। তিনি বলিলেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার উদ্দেশে শপথ প্রার্থনা করিনি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দৃষ্টিতে আমার যে সম্মান ছিল সে অনুযায়ী আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারী কেউ নেই। একবার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সহাবাদের একটি হালকার নিকটে গিয়ে বলিলেন, কিসে তোমাদের বসিয়েছে? তারা বলিল, আমরা বসেছি আল্লাহর স্মরণ ও তাহাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। যেহেতু তিনি আমাদেরকে ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের উপর তিনি ইহসান করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদেরকে কি শুধু এ বিষয়েই বসিয়েছে?

তারা বলিল, আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে একমাত্র ঐ বিষয় বসিয়েছে। তিনি বলিলেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার জন্যে শপথ করিতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিব্রীল [আঃ] এসে আমাকে অবহিত করিয়াছেন যে, আল্লাহ সুবাহাহু ওয়াতাআলা ফেরেশ্তাগণের নিকট তোমাদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬৫]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply