কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফাযীলাত ..

কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফাযীলাত ..

কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফাযীলাত ..>> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৮. অধ্যায়ঃ কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফাযীলাত , তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলাওয়াত করার অনুরোধ ও তিলাওয়াতকালে ক্রন্দন এবং মনোনিবেশ করা।

১৭৫২

“আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেনঃ তুমি আমাকে কুরাআন পাঠ করে শোনাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসুল! আমি আপনাকে কুরআন পাঠ করে শোনাব? কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ অন্যের নিকট থকে আমার কুরআন শুনতে ভাল লাগে। আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ বলেন- তাই এরপর আমি সূরাহ্ আন্‌ নিসা পাঠ করলাম। যখন আমি এ আয়াত [আরবি] হে নবী! একটু চিন্তা করুন তো সে সময় এরা কী করিবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব”[সূ্রাহ্ আন্ নিসা ৪:৪১]। তিলাওয়াত করা হলে আমি মাথা উঠালাম অথবা কেউ আমার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে ইঙ্গিত দিলে মাথা উঠালাম এবং দেখিতে পেলাম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর [চোখ থেকে] অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। [ই.ফা.১৭৩৭, ইসলামিক সেন্টার-১৭৪৪]

১৭৫৩

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এই একই সানাদে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে হান্নাদ তার বর্ণনায় এ কথা বৃ্দ্ধি করিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মিম্বারে দাঁড়ানো অবস্থায় একদিন আমাকে বললেনঃ আমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাও। [ই.ফা.১৭৩৮, ইসলামিক সেন্টার-১৭৪৫]

১৭৫৪

ইব্‌রাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন নবী [সাঃআঃ] আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊস [রাদি.]-কে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। তিনি [আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ] বলিলেন- আমি আপনাকে কুরআন পড়ে শোনাব? অথচ কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি অন্যের মুখ থেকে কুরআন পাঠ শুনতে ভালবাসি। হাদীস বর্ণনাকারী ইব্‌রাহীম বলেনঃ অতঃপর তিনি [আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ] সূরাহ্ আন্ নিসার প্রথম থেকে [আরবি] “হে নবী! একটু ভেবে দেখুন তো সে সময় এরা কী করিবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসেবে হাজীর করব”- [সূ্রাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৪১] এ আয়াত পর্যন্ত তাকে পড়ে শুনালেন। এতে তিনি [সাঃআঃ] কেঁদে ফেললেন। বর্ণনাকারী মিসআর বলেছেনঃ মান আমার কাছে হাদীসটি জাফার ইবনি আম্‌র ইবনি হুরায়স তার পিতা হুরায়স-এর মাধ্যমে  আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ থেকে এভাবে বর্ণনা করিয়াছেন যে, এ আয়াত পাঠের পর নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি যতক্ষণ তাদের মধ্যে আছি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য সাক্ষী। কিংবা বর্ণনাকারী মিসআর-এর সন্দেহ যে, তিনি বলেছেন, “যতক্ষন তাদের মাঝে ছিলাম”। [ই.ফা.১৭৩৯, ইসলামিক সেন্টার-১৭৪৬]

১৭৫৫

আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [এক সময়ে ] আমি হিমস্-এ ছিলাম। একদিন কিছু সংখ্যক লোক আমাকে বলিল, আমাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনান। আমি তাদেরকে সূরাহ্ ইউসুফ পাঠ করে শুনালাম। এমন সময় সবার মধ্য থেকে জনৈক ব্যাক্তি বলে উঠলঃ আল্লাহর শপথ। সূরাটি এরূপ অবতীর্ণ হয়নি। আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ বলেছেনঃ আমি তাকে বললাম- তোমার জন্য দুঃখ। আল্লাহর শপথ, এ সূরাটি আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –কে পড়ে শুনিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেনঃ খুব সুন্দর পড়েছ। এভাবে তখনও আমি তার [লোকটির] সাথে কথা বলছিলাম। এ অবস্থায় আমি তার মুখ থেকে শরাবের গন্ধ পেলাম। আমি তাকে বললাম- তুমি শরাব পান করে আল্লাহর কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করিতে চাও? আমার হাতে কোঁড়া না খেয়ে তুমি এখান থেকে যেতে পারবে না। অতঃপর আমি তাকে কোঁড়া মেরে শরাব পানের শাস্তি দিলাম। [ই.ফা.১৭৪০, ইসলামিক সেন্টার-১৭৪৭]

১৭৫৬

ইসহাক্ব ইবনি ইব্রাহীম, আলী ইবনি খশ্‌রাম, আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্ ও আবু কুরায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … সকলেই আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে আবু মুআবিয়াহ্ বর্ণিত হাদীসে তিনি আমাকে বললেনঃ খুব সুন্দর হয়েছে কথাটির উল্লেখ নেই। [ই.ফা.১৭৪১, ইসলামিক সেন্টার-১৭৪৮]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply