কুরআন তিলাওয়াতের সময় সাকীনাহ্‌ বা প্রশান্তি অবতরণ

কুরআন তিলাওয়াতের সময় সাকীনাহ্‌ বা প্রশান্তি অবতরণ

কুরআন তিলাওয়াতের সময় সাকীনাহ্‌ বা প্রশান্তি অবতরণ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪. অধ্যায়ঃ কুরআন তিলাওয়াতের সময় সাকীনাহ্‌ বা প্রশান্তি অবতরণ

১৭৪১

বারা ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি সুরাহ্‌ আল কাহ্‌ফ পড়ছিল। সে সময় তাহাঁর কাছে মজবুত লম্বা দুটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এ সময় একখণ্ড মেঘ তাহাঁর মাথার উপরে হাজির হল। মেঘ খণ্ডটি ঘুরছিল এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করিল। এসব কথা শুনে তিনি বললেনঃ এটি ছিল [আল্লাহর তরফ থেকে] রহমাত বা প্রশান্তি যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭২৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৩৩]

১৭৪২

আবু ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বারা ইবনি আযিব [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি সুরাহ্‌ আল কাহ্‌ফ পড়ছিল। তখন লোকটি দেখিতে পেল একখণ্ড মেঘ তাঁকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনি আযিব বর্ণনা করিয়াছেন যে, লোকটি বিষয়টি নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে বলিলেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বল্লেনঃ হে অমুক! তুমি সুরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমাত বা প্রশান্তি যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭২৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৩৪]

১৭৪৩

আবু ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বারা ইবনি আযিবকে বলিতে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়েই পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তারা [আরবী] শব্দ উল্লেখ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭২৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৩৫]

১৭৪৪

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একরাতে উসায়দ ইবনি হুযায়র তার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। এমন সময় তার ঘোড়া লাফঝাপ দিতে শুরু করিল। তিনি [কিছুক্ষণ পর] পুনরায় পাঠ করিতে থাকলে ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ দিতে শুরু করিল। [কিছুক্ষণ পর] তিনি আবার পাঠ করিলেন এবারও ঘোড়াটি লাফ দিল। উসায়দ ইবনি হুযায়র বলেন- এতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, ঘোড়াটি [শায়িত ছেলে] ইয়াহ্‌ইয়াকে পদপিষ্ট করিতে পারে। তাই আমি উঠে তার কাছে গেলাম। হঠাৎ আমার মাথার উপর সামিয়ানার মত কিছু দেখিতে পেলাম। তার ভিতরে অনেকগুলো প্রদীপের মত জিনিস আলোকিত করে আছে। অতঃপর এগুলো উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেল এবং আমি আর তা দেখিতে পেলাম না। তিনি বলেছেনঃ পরদিন সকালে আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসুল! গতকাল রাতে আমি আমার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়াটি হঠাৎ লাফঝাপ দিতে শুরু করিল। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হে ইবনি হুযায়র! তুমি পাঠ করিতে থাকতে। আমি পাঠ করে সমাপ্ত করলাম। ইয়াহ্‌ইয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল। তাই ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করে ফেলতে পারে আমি আশঙ্কা করলাম [এবং এগিয়ে গেলাম]। তখন আমি মেঘপুঞ্জের মত কিছু দেখিতে পেলাম যার মধ্যে প্রদীপের মত কোন জিনিস আলো দিচ্ছিল। এটি উপর দিকে উঠে গেল এমনকি তা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসব শুনে বললেনঃ ওসব ছিল মালায়িকাহ্‌ [ফেরেশতাগণ]। তারা তোমার কুরআন শ্রবণ করছিল; তুমি যদি পড়তে থাকতে তাহলে ভোর পর্যন্ত তারা থাকত। আর লোকজন তাদেরকে দেখিতে পেত। তারা লোকজনের দৃষ্টির আড়াল হত না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭২৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৩৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply