কুরআন তিলওয়াতের সেজদা

কুরআন তিলওয়াতের সেজদা

কুরআন তিলওয়াতের সেজদা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২০. অধ্যায়ঃ কুরআন তিলওয়াতের সেজদা

১১৮২

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] কুরআন তিলাওয়াত করিতেন। এ সময় তিনি এমন সূরাহ্ও তিলাওয়াত করিতেন যাতে সাজদার আয়াত আছে। তখন তিনি সেজদা করিতেন, আমরাও তার সাথে সেজদা করতাম। এমনকি [এ সময়] আমাদের মধ্যে তার কপাল স্থাপনের [সেজদা করার] জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না। [ই.ফা.১১৭১, ইসলামিক সেন্টার- ১১৮৩]

১১৮৩

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করলে যখন তিনি সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করিতেন তখন আমাদের সাথে নিয়ে সেজদা করিতেন। এ সময় খুব ভিড় বা জটলা হত। এমনকি আমাদের অনেকেই [কপাল স্থাপন করে] সেজদা করার মতো জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না। আর এ অবস্থার সৃষ্টি হত নামাজের বাইরে। [ই.ফা.১১৭২, ইসলামিক সেন্টার- ১১৮৪]

১১৮৪

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এক সময় সূরাহ ওয়ান নাজ্‌মি পাঠ করে সেজদা [তিলাওয়াতের সজদাহ্] করিলেন। তাহাঁর সঙ্গে অন্য সকলেও সেজদা করিল। শুধু এক বৃদ্ধ ব্যক্তি [সেজদা না করে] এক মুঠো কঙ্কর উঠিয়ে বললঃ আমার জন্য এটাই যথেষ্ট।

হাদীসটির বর্ণনাকারী সহাবী আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] বর্ণনা করিয়াছেন যে, আমি ঐ বৃদ্ধ লোকটিরে পরে কাফির অবস্থায় নিহত হইতে দেখেছি। [ই.ফা.১১৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ১১৮৫]

১১৮৫

আত্বা ইবনি ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একবার যায়দ ইবনি সাবিতকে নামাজে ইমামের পিছনে কিরাআত তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন জবাবে যায়দ ইবনি সাবিত বলেছিলেনঃ নামাজে ইমামের পিছনে কিরাআতের প্রয়োজন নেই। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সামনে সূরাহ “ওয়ান্‌ নাজ্‌মী ইযা-হাওয়া-” তিলাওয়াত করিলেন। কিন্তু [সূরাটি শুনার পরও] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেজদা করিলেন না। [ই.ফা.১১৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ১১৮৬]

১১৮৬

আবু সালামাহ্‌ ইবনি আবদূর রহ্‌মান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

[তিনি বলেছেন] আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] তাদের সামনে “ইযাস্‌ সামা-উন্‌ শাক্বক্বাত্‌” সূরাটি তিলাওয়াত করিলেন এবং সেজদা করিলেন। সেজদা শেষে তিনি তাদেরকে বলিলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ সূরাটি তিলাওয়াত করে সেজদা করেছিলেন। [ই.ফা.১১৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ১১৮৭]

১১৮৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.১১৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ১১৮৭]

১১৮৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা “ইযাস্‌ সামা-উন্‌ শাক্বক্বাত্‌” এবং “ইক্বরা বিস্‌মি রাব্বিকা” এ দুটি সূরাতে নবী [সাঃআঃ] -এর সাথে সেজদা করেছি { অর্থাৎ- এ দুটি সূরাহ তিলাওয়াতকালে নবী [সাঃআঃ] সেজদা করিয়াছেন। আমারাও তাহাঁর সাথে সেজদা করেছি }। [ই.ফা.১১৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ১১৮৯]

১১৮৯

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূরাহ্ “ইযাস্‌ সামা-উন্‌ শাক্কাত্‌” এবং “ইক্বরা বিস্‌মি রাব্বিকা” পাঠকালে সেজদা করিয়াছেন। [ই.ফা.১১৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ১১৯০]

১১৯০

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.১১৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ১১৯১]

১১৯১

আবু রাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] -এর পিছনে ইশার নামাজ আদায় করলাম। [এ নামাজে] তিনি সুরা ইযাস্‌ সামা-উন্‌ শাক্‌ক্বাত” পাঠ করে সেজদা [তিলাওয়াতের সিজদাহ] করিলেন। [নামাজ শেষে] আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিসের জন্য এ সেজদা? তিনি বললেনঃ আবুল ক্বাসিম [সাঃআঃ] -এর পিছনে নামাজ আদায় করাকালে এ সূরায় আমি সেজদা করেছি। সুতরাং তাহাঁর সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত [আমৃত্যু] আমি এ সুরা তিলাওয়াত করে সেজদা করিতে থাকব। অবশ্য হাদীস বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল আলা তারতম্য সহকারে কিছুটা বর্ণনা করে বলেছেনঃ আমি এ সেজদা পরিত্যাগ করব না। [ই.ফা.১১৮০, ইসলামিক সেন্টার- ১১৯২]

১১৯২

ইবনি আখযার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এবং সকলে সুলায়মান আত্‌ তায়মী হইতে বর্ণীতঃ

তবে কেউই আবুল ক্বাসিম [সাঃআঃ] -এর পিছনে কথাটি উল্লেখ করেননি। [ই.ফা.১১৮১, ইসলামিক সেন্টার- ১১৯৩]

১১৯৩

আবু রাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] -কে সুরা “ইযাস্‌ সামা-উন শাক্বক্বাত” পড়ে সেজদা করিতে দেখেছি। তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এ সুরা তিলাওয়াত করে সেজদা করেন? জবাবে তিনি বলিলেন, আমি আমার প্রিয়তম বন্ধু [সাঃআঃ] -কে এ সূরাহ্ তিলাওয়াত সেজদা করিতে দেখেছি। সুতরাং তাহাঁর [ [সাঃআঃ] -এর] সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এ সুরা তিলাওয়াত করে সেজদা করিতে থাকব।

হাদীসটি বর্ণনাকারী শুবাহ্ বলেনঃ আমি আত্বা ইবনি আবু মায়মূনাকে জিজ্ঞেস করলাম “আমার প্রিয়তম বন্ধু” বলিতে কি আবু হুরায়রাহ্ নবী [সাঃআঃ] -কে বুঝিয়েছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। [ই.ফা.১১৮২, ইসলামিক সেন্টার- ১১৯৪]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply