কুরআন ও সুন্নাহ এর অনুসরণের প্রতি উৎসাহ দান

কুরআন ও সুন্নাহ

<< সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব হাদীস বই এর মুল সুচিপত্র 

পরিচ্ছেদঃ কুরআন ও সুন্নাহ এর অনুসরণের প্রতি উৎসাহ দান

আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ৩৭ – এরবায বিন সারিয়া [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে এমন ওয়ায করিলেন যে, তাতে অন্তর সমূহ ভীত-সন্ত্রস্ত হল, চক্ষুগুলো অশ্রুসিক্ত হল। আমরা আরয করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি বিদায়ী নসীহত, তাই আমাদেরকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেনঃ “আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি তাক্বওয়া তথা আল্লাহ ভীতির এবং নেতার কথা শোনা ও তার আনুগত্য করার- যদিও একজন কৃতদাস তোমাদের নেতৃত্ব দেয়। নিঃসন্দেহে তাোমাদের মধ্যে থেকে যে আমার পর জীবিত থাকিবে অচিরেই সে অনেক মতভেদ দেখিতে পাবে। [সে সময়] তোমাদের উপর আবশ্যক হল আমার সুন্নাত ও সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা। তোমরা উহা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকিবে। দ্বীনের মাঝে নতুনত্ব থেকে তোমরা সাবধান। কেননা প্রত্যেক বিদআতই ভ্ৰষ্টতা।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও ইবনু হিব্বান। তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি হাসান সহীহ।]
`তোমরা উহা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকিবে। একথার অর্থঃ সুন্নাতকে তোমরা আঁকড়ে ধরে থাকিবে, তা নিয়ে গবেষণা করিবে, তার প্রতি সর্বদা আমল করিবে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকিবে- যেমন করে হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কোন ব্যক্তি কোন জিনিসকে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকে। হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ৩৮ – আবু শুরাইহ আল খুযায়ী হতে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে বললেনঃ “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর! তোমরা কি একথার সাক্ষ্য দাও না যে, “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই, এবং আমি আল্লাহর রাসূল?” তাঁরা বললেনঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ “নিশ্চয় এ কুরআনের এক দিক আল্লাহর হাতে রহিয়াছে এবং আর এক দিক তোমাদের হাতে রহিয়াছে। তোমরা উহা আঁকড়ে ধরে থাক। তাহলে এরপর তোমরা কখনই বিভ্ৰান্ত বা ধ্বংস হইবে না।”

[উত্তম সনদে ত্বাবরানী {কাবীর} গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন। শায়খ আলবানী বলেনঃ হাদীছটি সহীহ সনদে আরো বর্ণনা করেন, ইবনু হিব্বান স্বীয় {সাহীহ} গ্রন্থে এবং ইবনু নছর {ক্লিয়ামুল লাইল} গ্রন্থে] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৯ – জুবাইর বিন মুতইম [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা `জুহফা` নামক স্থানে একদা নবী [সাঃআঃ]এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ “তোমরা কি সাক্ষ্য দাও না যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে?”
আমরা বললাম, হ্যা।
তিনি বললেনঃ “অতএব তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, এই কুরআনের একাংশ আল্লাহর হাতে, আরেকাংশ তোমাদের হাতে। তোমরা উহাকে আঁকড়ে ধর। তাহলে তোমরা তার পরে [কুরআন আঁকড়ে ধরার পরে] কখনই ধ্বংস হইবে না, কখনই বিভ্রান্ত হইবে না।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন বাযযার ও ত্বাবরানী কবীর ও আওসাত গ্রন্থে] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ লিগাইরিহি

আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ৪০ -ইবনে আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিদায় হজ্জে মানুষের সামনে এ খুতবা প্রদান করেন, তিনি বলেনঃ “নিশ্চয় শয়তান এ মর্মে নিরাশ হয়ে গেছে যে, তোমাদের এ যমীনে কেউ তার দাসত্ব করিবে না। কিন্তু তারপরও সে একথার উপরই সন্তুষ্ট যে, তোমাদের ছোটখাট তুচ্ছ বিষয়ে তার আনুগত্য করা হইবে। সুতরাং তোমরা সাবধান থেকো। নিশ্চয় আমি তোমাদের মাঝে এমন বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি- তোমরা যদি উহা আঁকড়ে ধরে থাক তবে কখনই পথভ্রষ্ট হইবে না। আর তা হল আল্লাহর কিতাব ও তাহাঁর নবীর সুন্নাত।”

[হাদীছটি হাকেম বর্ণনা করে বলেনঃ সনদ সহীহ] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ৪১ – আবদুল্লাহ বিন মাসউদ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ “বিদআত নিয়ে গবেষণা করার চেয়ে সুন্নাতকে যথেষ্ট মনে করা অনেক উত্তম।”

[হাকেম মওকুফ সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, এর সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী সহীহ] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ মাওকুফ

আত তারগীব ওয়াত তারহীব -৪২ – আবু আইয়ূব আনসারী [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি আওফ বিন মালেক [রাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা আমাদের নিকট ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হয়ে এসে বললেনঃ “তোমাদের মাঝে আমি যতক্ষণ আছি, তোমরা আমার আনুগত্য কর। তোমরা আল্লাহর কিতাব আকড়ে ধর। তার মধ্যে হালাল ঘোষিত বিষয়কে হালাল গণ্য কর ও হারাম বিষয়কে হারাম গণ্য কর।”

[ত্বাবরানী স্বীয় কাবীর গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ৪৩ -ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিতঃ

মাওকূফ সূত্রে যে হাদীছটি [যঈফ তারগীব গ্রন্থে] উল্লেখ হয়েছে তা উত্তম সনদে জাবের থেকে মারফু` সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। [১]

[১] হাদীছটি কুরআনের ফয়ীলত অধ্যায়ে `কুরআন পাঠ করার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ` অধ্যায়ে আসবে। ইনশাআল্লাহ। হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ৪৪ – আবেস বিন রাবীআহ হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি দেখেছি ওমর বিন খাত্তাব [রাঃআঃ] হজরে আসওয়াদকে চুম্বন করছেন আর বলছেনঃ “আমি জানি নিঃসন্দেহে তুমি একটি পাথর। কোন অপকার করিতে পারনা, কোন উপকারও করিতে ক্ষমতা রাখ না। তোমায় চুম্বন করিতে আমি যদি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]কে না দেখতাম তবে তোমাকে চুম্বন করতাম না।”

[বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিয়ী ও নাসাঈ। হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব -৪৫ – ওরওয়া বিন আবদুল্লাহ বিন কুশায়র হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ মুআবিয়া বিন কুররা তার পিতার বরাতে হাদীছ বর্ণনা করেন। মুআবিয়ার পিতা কুররা বলেনঃ মুযায়না থেকে আগত একটি দলের সাথে আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]এর দরবারে এলাম। আমরা তার হাতে বায়আত করলাম। সে সময় তাহাঁর জামার খোলা গলাবন্দ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিলাম অতঃপর তাহাঁর [পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত] মোহরে নবুয়ত স্পর্শ করলাম। ওরাওয়া বলেনঃ এর পর থেকে শীতকাল বা গ্ৰীষ্মকালে মুআবিয়া বা তার পুত্রকে তাহাদের জামার গলাবন্দ খোলা ছাড়া অন্য কোন অবস্থায় দেখিনি।

[ইবনু মাজাহ ও ইবনু হিব্বান হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন।] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ৪৬ – মুজাহিদ [রঃ] হতে বর্ণিতঃ

একদা কোন এক সফরে আমরা ইবনে ওমার [রাঃআঃ] [আল্লাহ তার উপর রহম করুন] এর সাথে ছিলাম। তিনি এক জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি একটু সরে গিয়ে ডান দিক বা বাম দিক দিয়ে গেলেন। জিজ্ঞেস করা হল, কেন আপনি এরূপ করিলেন? তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে এরূপ করিতে, তাই আমি এরূপ করলাম।

[আহমদ ও বাযযার উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব -৪৭ – ইবনে ওমর [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

মক্কা এবং মদীনার মাঝে অবস্থিত একটি বৃক্ষের নিকট যখন তিনি আসতেন তখন তার নীচে শুয়ে বিশ্রাম করিতেন। তিনি বলিতে ন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এরূপ করিতেন।

[বাযযার হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃহাসান হাদীস

আত তারগীব ওয়াত তারহীব -৪৮ –আনাস বিন সীরীন হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি একবার আরাফাতের ময়দানে ইবনে ওমার [আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন] এর সাথে ছিলাম। যখন তিনি [আরাফাতের উদ্দেশ্যে] গমন করিলেন আমিও তার সাথে গমন করলাম। ইমাম এলে তাহাঁর সাথে তিনি যোহর ও আসরের নামায [একসাথে কসর করে যোহরের সময়েই] আদায় করিলেন। অতঃপর তিনি, আমি এবং আমার কতিপয় সাথী আরাফাতে অবস্থান নিলাম। ইমাম যখন আরাফাত ত্যাগ করে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন আমরাও তার সাথে যাত্রা করলাম। `মাযেমায়ন` নামক স্থানের পূর্বে এক গিরী পথে পৌঁছে তিনি উট থামালেন ও অবতরণ করিলেন। আমরাও উট থামালাম। আমরা ভাবলাম তিনি হয়ত সালাত আদায় করবেন। কিন্তু তার বাহনের রশি ধারণকারী ক্রীতদাস বললেনঃ তিনি এখানে কোন সালাতের ইচ্ছা করেন নি; বরং তিনি স্মরণ করিয়াছেন যে, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ স্থানে এসে স্বীয় প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করিয়াছেন। তাই তিনিও পছন্দ করিলেন এ স্থানে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করবেন।

[ইমাম আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাফেয মুনযেরী [রহঃ] বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]এর অনুসরণ ও তাহাঁর সুন্নাতের অনুকরণের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম [রাঃআঃ] থেকে অনেক বেশী আছার বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই তওফীকদাতা। তিনি ছাড়া সত্য কোন রব নেই। হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

Leave a Reply