কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফাযীলাত ..

কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফাযীলাত

কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফাযীলাত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৫. অধ্যায়ঃ কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফাযীলাত এবং যে ব্যক্তি ফিক্‌হ ইত্যাদির সূক্ষ্মজ্ঞান আহরণ করে তদনুসারে [নেক] আমাল করে ও শিক্ষা দেয় তার ফাযীলাত

১৭৭৯

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুটি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। একটি হল- এমন ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ কুরআনের জ্ঞান দান করিয়াছেন। সে তদনুযায়ী রাত-দিন আমাল করে। আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ দান করিয়াছেন। সে রাত-দিন তা [আল্লাহর পথে] খরচ করে। [এ দু ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায়। অর্থাৎ এদের সাথে আমাল ও দানের ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে অনুকূল ইল্‌ম ও মালের আকাঙ্ক্ষা করা যায়। তবে ঐ ব্যক্তির ইল্‌ম বিলুপ্ত হয়ে যাক কিংবা ঐ মালদারের মাল ধ্বংস হয়ে যাক- এরূপ কামনা করা যাবে না।] {৩৮} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৭১]

{৩৮} মুহাদ্দিসগণ নিম্নরূপে হাদীসটির ব্যাখ্যা করিয়াছেন। হিংসা দু প্রকার। এক প্রকার হল- কোন ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ যে নিআমাত দান করিয়াছেন তার অবসান কামনা করা। আর অপর প্রকার হল অবসান কামনা না করে নিজের জন্যেও অনুরূপ নিআমাত কামনা করা। প্রথম প্রকারের হিংসা হারাম। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারের হিংসা জায়িয। [মুসলিম শারহে নাবাবী, ১ম খণ্ড ২৭২ পৃষ্ঠা]

১৭৮০

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুটি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ জায়িয নয়। একটি হল-যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা এ কিতাবের [কুরআনের] জ্ঞান দিয়েছেন এবং সে তদনুযায়ী দিন-রাত আমাল করে; এ ক্ষেত্রে ঈর্ষা পোষণ করার অর্থ তার চেয়ে বেশী করার [জ্ঞান আহরণের] চেষ্টা করা। আর অপরটি হল- যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ দান করিয়াছেন আর সে রাত-দিন তা থেকে সদাক্বাহ্‌ করে [এ ব্যক্তির সাথে এ অর্থে ঈর্ষা পোষণ করা যে, তার চেয়ে বেশী দান করিবে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৭২]

১৭৮১

আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দু প্রকারের লোক ছাড়া কারো সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। এক প্রকারের লোক হল- যাকে আল্লাহ অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন এবং হাক্ব পথে তা ব্যয় করার তাওফীক্ব তাকে দিয়েছেন। আর অন্য ব্যক্তি হল যাকে আল্লাহ তাআলা হিক্বমাহ্‌ বা সঠিক জ্ঞান দান করিয়াছেন। সে তদনুযায়ী কাজ করে এবং তা অন্যদের শিক্ষা দেয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৬৬, ই.সে ১৭৭৩]

১৭৮২

আমির ইবনি ওয়াসিলাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাফি ইবনি আবদুল হারিস [রাদি.] উসফান নামক স্থানে উমর [রাদি.]-এর সাথে সাক্ষাৎ করিলেন। উমর [রাদি.] তাকে মাক্কায় [রাজস্ব আদায়কারী] নিয়োগ করিলেন। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করিলেন : তুমি প্রান্তরবাসীদের জন্য কাকে কাজে নিয়োগ করেছ? সে বলিল- ইবনি আব্‌যা-কে। উমর [রাদি.] বলিলেন, ইবনি আব্‌যা কে? সে [নাফি] বলিল, আমাদের আযাদকৃত ক্রীতদাসের একজন। উমর [রাদি.] বলিলেন, তুমি একজন ক্রীতদাসকে তাদের জন্য তোমার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করেছ? নাফি বলিলেন- সে [ক্রীতদাসটি] মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কিতাবের একজন ভাল ক্বারী বা আলিম। আর সে ফারায়িয শাস্ত্রেও অভিজ্ঞ। তখন উমর [রাদি.] বললেনঃ তোমাদের নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনত করেন। অর্থাৎ যারা এ কিতাদের অনুসারী হইবে তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করিবে। আর যারা একে অস্বীকার করিবে তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত ও পরকালে জাহান্নামে পতিত হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৭৪]

১৭৮৩

আমির ইবনি ওয়াসিলাহ্‌ আল লায়সী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাফি ইবনি আবদুল হারিস আল খুযাঈ [রাদি.] উসফান নামক স্থানে উমর ইবনিল খাত্ত্বাবের সাথে সাক্ষাৎ করিলেন ….. এভাবে তিনি যুহরী থেকে ইব্‌রাহীম ইবনি সাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৭৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply