কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব

কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব

কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৬. অধ্যায়ঃ কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব

৩৫২৯

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জনৈকা মহিলাকে বিয়ে করলাম। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলিলেন কোন কুমারীকে না বিধবাকে? আমি বললাম, একটি বিধবাকে। তিনি বলিলেন, তবে কুমারী ও তার আমোদ-স্ফূর্তি হইতে তুমি কতদূরে?

[মধ্যবর্তী] রাবী শুবাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, পরে আমি আম্‌র ইবনি দীনার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর নিকট এ হাদীস উল্লেখ করলে তিনি বলিলেন, আমিও তো জাবির [রাদি.]-এর নিকট তা শুনেছি। তিনি তো বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছিলেনঃ তবে কোন কিশোরী [তরুনী]-কে কেন নয়- যে তোমার সঙ্গে হাসি-তামাসা করত, তুমিও তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করিতে? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৫০২, ইসলামিক সেন্টার- ৩৫০১]

৩৫৩০

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ [রাদি.] মৃত্যু [শাহাদাত] বরণ করিলেন এবং নয়টি [কিংবা তিনি বলেছেন, সাতটি] কন্যা রেখে গেলেন। পরে আমি [জাবির] এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করলাম। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, হে জাবির, তুমি বিয়ে করেছো? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তা কুমারী না বিধবা? আমি বললামঃ বরং বিধবা হে আল্লাহর রসূল। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তবে তা কোন তরুনী [কুমারী] কেন নয় যে, [ইয়াহ্‌ইয়া রিওয়ায়াতে] তুমি তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করিবে, সেও তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করিবে কিংবা তিনি [সাঃআঃ] বলেছিলেন, তুমি তার সঙ্গে হাস্য-রস করিতে, সেও তোমার সঙ্গে হাস্য-রস করত। জাবির [রাদি.] বলেন, আমি তাকে বললাম, [আমার পিতা] আবদুল্লাহ নয়টি [কিংবা সাতটি] মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করিয়াছেন এবং আমি তাদের মাঝে তাদের মতো একজনকে নিয়া আসা অপছন্দ করলাম। তাই আমি এমন একটি মহিলাকে নিয়ে আসা পছন্দ করলাম যে তাদের দেখাশুনা করিবে এবং তাদের শুধরে দিবে ও গড়ে তুলবে। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তবে আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দান করুন। তিনি আমাকে [এ ধরনের] কোন উত্তম কথা বলিলেন। আবু রবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর রিওয়ায়াতে রয়েছে- “তুমি তার সঙ্গে আমোদ-স্ফূর্তি করিবে ও তার সঙ্গে হাস্য-রস করিবে, সেও তোমার সাথে হাস্য রস করিবে।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৫০৩, ইসলামিক সেন্টার- ৩৫০২]

৩৫৩১

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ তুমি কি বিবাহ্‌ করেছো, হে জাবির? তিনি হাদীসটির পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন-যার শেষে রয়েছে এমন একটি মহিলাকে যে তাদের তত্বাবধান করিবে এবং তাদের মাথা আঁচড়ে দিবে। নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ “তুমি সঠিক করেছো” …… এর পরের অংশ তিনি [কুতায়বাহ্‌] উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৫০৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩৫০৩]

৩৫৩২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন প্রত্যাগমন করিতে লাগলাম তখন আমি আমার একটি ধীরগামী উটে করে দ্রুত চলার চেষ্টা করলাম। আমার পিছন থেকে একজন আরোহী আমার সঙ্গে মিলিত হল এবং সে তার হাতের একটি ছোট্ট বর্শা দিয়ে আমার উটকে খোঁচা দিল। ফলে আমার উটটি তোমার দেখা উটপালের শ্রেষ্ঠ উটের ন্যায় দ্রুতগতিতে চলতে লাগল। আমি তখন পিছনের দিকে তাকালাম- দেখি যে, আমি রয়েছি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পাশে। তিনি বলিলেন, হে জাবির! তোমার এ ব্যস্ততা কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি ঘরে নতুন স্ত্রী রেখে এসেছি। তিনি বলিলেন, তুমি কি কোন কুমারীকে বিয়ে করেছো না কোন বিধবাকে? জাবির [রাদি.] বলেন, আমি বললামঃ বিধবাকে। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, কোন তরুনী [কুমারী]-কে কেন বিয়ে করলে না- যার সঙ্গে তুমি ক্রীড়া-কৌতুক করিতে এবং সেও তোমার সঙ্গে আমোদ-আহলাদ করত। জাবির [রাদি.] বলিলেন, আমরা যখন মাদীনার সন্নিকটে উপনীত হয়ে সেখানে প্রবেশ করিতে উদ্যত হলাম তখন তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, একটু অবকাশ দাও, রাত পর্যন্ত অর্থাৎ ইশার সময় আমরা প্রবেশ করব- যাতে এলোকেশিনী তার কেশ বিন্যাস করে নিতে পারে এবং স্বামী প্রবাসিনী পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রস্তুতি নিতে পারে।

জাবির [রাদি.] বলেন, তিনি [সাঃআঃ] আরো বলিলেন, তুমি যখন পৌছে যাবে তখন সঙ্গ সুখ লাভ করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৫০৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩৫০৪]

৩৫৩৩

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমার উটটি আমাকে ধীরগামিতার শিকার বানাল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তখন আমার কাছে এসে আমাকে বলিলেন, হে জাবির, আমি বললাম জ্বী! তিনি বলিলেন, তোমার ব্যাপার কী? আমি বললাম আমার উট আমাকে ধীরগামিতায় ফেলে দিয়েছে এবং পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গিয়েছি। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নেমে পড়ে তার [বাঁকামাথা] লাঠি দিয়ে উটকে গুতো দিলেন এরপর বলিলেন, আরোহণ কর, আমি তখন আরোহন করলাম। আমি [উটটিকে তার অতি দ্রুতগামিতার কারণে] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে অতিক্রম করে যেতে দেখে ঠেকাতে লাগলাম। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললাম : বিধবা! তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তবে কোন [কুমারীকে] কেন বিয়ে করলে না, যার সঙ্গে তুমি ক্রিয়া-কৌতুক করিতে, সেও তোমার সঙ্গে আমোদ ফূর্তি করত? আমি বললাম আমার বেশ কটি বোন [অবিবাহিতা] রয়েছে। তাই আমি এমন নারীকে বিয়ে করা পছন্দ করলাম যে তাদের গুছিয়ে রাখবে, তাদের মাথা আঁচড়ে দিবে এবং তাদের দেখাশোনা করিবে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি তো [মাদীনায়] উপনীত হইতে যাচ্ছ; তাই যখন পৌছে যাবে তখন স্ত্রীর সাথে মিলিত হইবে। পরে তিনি বলিলেন, তোমার উটটি বেঁচবে কি? আমি বললাম, জ্বী হাঁ। তিনি তখন আমার নিকট হইতে এক উকিয়্যার [চল্লিশ দিরহাম সমমূল্যের] বিনিময়ে কিনে নিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যথাসময়ে মাদীনায় পৌছলেন। আমিও সকালে আগমন করে মাসজিদে [নাবাবীতে] পৌছলাম এবং তাঁকে মাসজিদের দরজায় পেয়ে গেলাম। তিনি বলেন, আমি যখন এলাম তুমি কি তখন এসেছো? আমি বললাম, জ্বী হাঁ। তিনি বলিলেন, তবে তোমার উটটি রেখে দাও এবং [মাসজিদে] প্রবেশ করে দুরাকাআত নামাজ আদায় করে নাও। জাবির বলেন, আমি প্রবেশ করে নামাজ আদায় করলাম। পরে ফিরে এলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে এক উকিয়্যাহ্‌ ওজন করে দেয়ার জন্য বিলাল [রাদি.]-কে হুকুম করিলেন। বিলাল [রাদি.] তখন আমাকে ওজন করে দিলেন এবং ওজনে পাল্লা ঝুঁকিয়ে দিলেন। জাবির [রাদি.] বলেন, তখন আমি চলে যেতে লাগলাম। আমি কিছু দূরে চলে গেলে তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ জাবিরকে আমার কাছে ডেকে আন। তখন আমাকে ডাকা হল। আমি [মনে মনে] বললাম, এখন উটটি আমাকে ফিরিয়ে দিবেন অথচ আমার কাছে ওর চেয়ে অধিক অপছন্দনীয় আর কিছু ছিল না। তিনি বলিলেন, “তোমার উট তুমি নিয়ে যাও আর তোমার মূল্য তোমারই রইল”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৫০৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩৫০৫]

৩৫৩৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম। আমি ছিলাম আমার একটি [পানিবাহী] উটের পিঠে। ওটি ছিল কাফিলার পশ্চাদ্বর্তীদের মাঝে। জাবির [রাদি.] বলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে পিটুনী দিলেন কিংবা [বর্ণনা দ্বিধা] তিনি বলেছেন যে, তাকে খোঁচা দিলেন- আমার [আবু নায্‌র] ধারণা তিনি [জাবির] বলেছেন যে, কোন কিছু দিয়ে যা তার সঙ্গে ছিল। জাবির [রাদি.] বলেন, এরপর সে [উট] কাফিলার লোকদের আগে আগে চলে যেতে লাগল এবং আমাকে [আমার ধরে রাখা লাগামসহ] টেনে নিয়ে যেতে লাগল। এমন কি আমি তাকে ঠেকিয়ে রাখছিলাম। জাবির [রাদি.] বলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-বললেনঃ এত এত-এর বিনিময়ে এটি তুমি আমার কাছে বেঁচবে কি? এবং আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। জাবির [রাদি.] বলেন, আমি বললামঃ এটি আপনার জন্য, হে আল্লাহর নবী! তিনি বলিলেন, এত এত-তে সেটি তুমি আমার কাছে বেচবে কি? এবং আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। জাবির [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, এটি আপনার। জাবির [রাদি.] বলেন, নবী [সাঃআঃ] আমাকে আরও বলিলেন, তোমার পিতার [মৃত্যুর] পরে তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বললাম, জ্বি হাঁ। তিনি বলিলেন, বিধবা না কুমারীকে? জাবির [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, বিধবাকে। তিনি বলিলেন, “তবে তুমি কোন কুমারীকে বিয়ে করলে না কেন- যে তোমাকে আমোদ-প্রমোদে রাখত আর তুমি তার সঙ্গে ক্রীড়া স্ফূর্তি করিতে।”

[রাবী] আবু নায্‌রাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ কথাটি [অর্থাৎ আল্লাহ তোমার মাগফিরাত করুন!] ছিল একটি বাক্যাংশ যা মুসলিমগণ তাদের কথাবার্তায় [কথার মাত্রা ও বাচনভঙ্গী রূপে] উচ্চারণ করিতেন। তারা বলেতেন এরূপ ও এমন কর…আল্লাহ তোমার মাগফিরাত করুন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৫০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৫০৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply