কিরাত পাঠ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হইবে

কিরাত পাঠ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হইবে

কিরাত পাঠ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হইবে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩২.অধ্যায়ঃ কিরাত পাঠ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হইবে

৮৯০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মহান আল্লাহর বাণী-“তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্য আপনি দ্রুত ওয়াহী আবৃত্তি করবেন না”- [সূরাহ আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৬]। তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, জিবরীল [আঃ] যখন নবী [সাঃআঃ] -এর কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ করিতেন তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা ও ঠোঁট নাড়তেন। এটা তাহাঁর জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ত। তাহাঁর অবস্থা থেকেই এটা বুঝা যেত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করিলেন: “এ ওয়াহী খুব তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহ্বা নাড়াবেন না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও পড়িয়ে দেয়া আমারই দায়িত্ব”- [সূরাহ আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৬-১৭]। অর্থাৎ- এটা তোমার অন্তরে পুঞ্জিভূত করে দেয়া এবং তোমাকে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। “অতএব আমি যখন তা পাঠ করিতে থাকি তখন তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো”- [সূরাহ আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৮]। অর্থাৎ- এ ওয়াহী আমি অবতীর্ণ করছি, তুমি তা মনোযোগ সহকারে শুন। এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব। “তোমার মুখ দিয়ে তা বলানো আমার দায়িত্ব”- [সূরাহ আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৯]। এরপর থেকে যখন জিবরীল [আঃ] তাহাঁর কাছে ওয়াহী নিয়ে আসতেন, তিনি মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মহান আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী নবী [সাঃআঃ] তা পাঠ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৮৯৯]

৮৯১

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মহান আল্লাহর বাণীঃ “এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহ্বা নাড়াবেন না”- [সূরাহ আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৬]। তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ে নবী [সাঃআঃ] খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হইতেন। তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য নিজের ঠোঁটদ্বয় নাড়তেন। সাঈদ ইবনি যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.] আমাকে বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যেভাবে তাহাঁর ঠোঁট নাড়তেন- আমি তোমাকে তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি {ইবনি আব্বাস [রাদি.} তাহাঁর ঠোঁট নাড়ালেন। সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.] যেভাবে ঠোঁট নেড়েছেন আমিও তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি {সাঈদ [রাহ্ঃ] } নিজের ঠোঁট নাড়লেন, মহান আল্লাহ নাযিল করিলেন:“এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য বারবার নিজের জিহ্বা নাড়িও না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার”- [সূরাহ আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৬-১৭]। অর্থাৎ- তোমার অন্তরে তা গেঁথে দেয়া এবং তোমার মুখে তা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।- [আল কিয়ামাহ ৭৫ : ১৮]। তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো ও চুপচাপ থাকো। এরপর তা তোমার মুখ দিয়ে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।” এরপর থেকে জিবরীল [আঃ] ওয়াহী নিয়ে আসলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল [আঃ] চলে যাওয়ার পর নবী [সাঃআঃ] তার পাঠ হুবহু পড়তেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৯০০]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply