কালোজিরা মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ

কালোজিরা মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ

পরিচ্ছেদঃ কালোজিরা বা শুনীয বা হাব্বাতুস সাওদা সকল রোগের নিরাময়

আবূ হুরাইরাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) হইতে বর্ণিত।

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ কালোজিরা সাম’ ছাড়া যাবতীয় রোগের ঔষধ।ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আর সাম’ অর্থ হল মৃত্যু এবং কালো জিরাকে শুনীয’ও বলা হয়।

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি -৫৬৮৮. (আধুনিক প্রঃ- ৫২৭৭, ইঃ ফাঃ- ৫১৭৩) (সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৫৯, ১০৬৯; আল জামিউস্ সগীর ৭৬৯৬, সহীহুল জামি ৪২৪৭, আহমাদ ৭৫৫৭, মুসনাদে আবূ ইয়ালা ৫৯১৮, আল মুজামুল আওসাত্ব ১০৫, আল মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৪৯৩)

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসে কালোজিরার ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশনা দিয়েছেন। কখনও তা এককভাবে এবং কখনও অন্য কোন খাবার বা পথ্যের সাথে মিশিয়ে তা ব্যবহার করা হয়। কালোজিরার বহুমুখী ব্যবহার আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় উষ্ণভাবে ব্যবহার ও উষ্ণতায় বিপরীতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে তা বেশ উপকারী হিসেবে পরীক্ষিত। ইমাম কিরমানীর মতে, সাধারণভাবে তা সকল রোগের মহৌষধ।  (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৮৮)

চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বলেছেনঃ কালোজিরা হচ্ছে উষ্ণ ও শুষ্ক প্রকৃতির পথ্য। জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ পেটের আর্দ্রতার সমস্যায় এটি বেশ উপকারী। তা গুঁড়া করে গরম পানির সাথে সেবনে প্রস্রাবের সমস্যা দূরীভূত হয়। কালোজিরার গুঁড়া সুতি কাপড়ে নিয়ে শুকলে সর্দি ও ঠাণ্ডা কাশিতে বেশ উপকার হয়। পানির সাথে সামান্য পরিমাণ কালোজিরা খেলে হাঁপানি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। ভিনেগার (সিরকা)-এর সাথে গরম করে কুলি করলে দাঁতের ব্যথায় বেশ কার্যকর। অন্যান্য হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালোজিরাকে সাধারণভাবে মৃত্যু বতীত সকল রোগের পথ্য হিসেবে অভিহিত করিয়াছেন।

আবূ বকর ইবনুল আরাবীর মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিকট কালোজিরার মাঝে সকল রোগের আরোগ্যের উপাদান রহিয়াছে। তবে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতিতে ভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার করিতে হইবে। শায়খ আবূ মুহাম্মাদ ইবনু আবূ হামযাহ্ বলেছেনঃ আলোচ্য হাদীসের ব্যাপারে কেউ কেউ সমালোচনা করিয়াছেন, তবে তা তাহাদের মস্তিষ্কপ্রসূত বিষয়। কিন্তু প্রিয় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাই বাস্তব সত্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি পরীক্ষিত। সমালোচকদের এ বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই। তারা শুধুমাত্র ধারণাপ্রসূত কথাই বলে। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২০৮-[৭৫])

হাদিসঃ আবু নুআইম-কিতাবুত ত্বিব, মুস্তাগফিরী-কিতাবুত ত্বিব-সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা গ্রন্থ ফাতহুল বারী থেকে নেয়া

“২১টি কালোজিরার ১টি পুটলি তৈরি করে রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখবে এবং সকালে (পুটলির পানির ফোঁটা এ নিয়মে নাসারন্ধ্রে ব্যবহার করিবে) “প্রথমবার ডান নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। পরের দিন বাম নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং ডান নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। তৃতীয় দিন ডান নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা ও বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা।”

আবু হুরায়রাহ (রাযিআল্লাহু আনহু), থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ কালিজিরায় মৃত্যু ব্যতীত সব রোগের নিরাময় আছে। আস-সাম’ অর্থ মৃত্যু, হাব্বাতুস সাওদা অর্থ কালিজিরা।

হাদিসঃ ইবনে মাজা – ৩৪৪৭ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিআল্লাহু আনহু) হইতে বর্ণনা করেন যে,

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেনঃ মৃত্যু ছাড়া এমন কোন রোগ নেই কালো জিরায় যার আরোগ্যতা নেই।

হাদিসঃ সহিহ মুসলিম -৫৬৬১ (হাঃ একাডেমী), (ই. ফা ৫৫১৫, ই. সে ৫৬০৩)

হাদিসঃ তিরমিজি  (তাহকিক আলবানি) – ২০৭০ সনদ দুর্বল: কাতাদাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ প্রত্যেক দিন (কালো জিরার) ২১ টি দানা নিবে। ঐগুলি একটি ন্যাকড়ায় নিয়ে তাহা ভিজিয়ে রাখবে। তারপর প্রত্যেকদিন নাকের ডান ছিদ্রে দুই ফোঁটা বাম ছিদ্রে এক ফোঁটা পানি দিবে। আবার ২য় দিন বামছিদ্রে দুই ফোঁটা এবং ডানছিদ্রে এক ফোঁটা পানি দিবে, ৩য় দিন ডান ছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং বাম ছিদ্রে ১ ফোঁটা দিবে। সনদ দুর্বল, মাওকূফ। “ইয়া খুজু” এই শব্দ বাদে সহীহ মারফূ হাদীস রহিয়াছে। সহীহা (১৯০৫) তাহকীক আলবানীঃ দুর্বল

আবূ হুরাইরা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা এই কালো বীজ (কালোজিরা) নিজেদের জন্য ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করে নাও। কেননা, মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের নিরাময় এর মধ্যে রহিয়াছে। আস-সাম’ অর্থ মৃত্যু’।

আবূ ঈসা বলেন, বুরাইদা, ইবনু উমার ও আইশা (রাযিআল্লাহু আনহু) হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। হাদিসঃ তিরমিজি (তাহকিক আলবানি) – ২০৪১

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাযিআল্লাহু আনহু), থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ অবশ্যই তোমারা এই কালো দানা / কালোজিরা ব্যবহার করিবে কেননা তাতে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের নিরাময় রহিয়াছে।

হাদিসঃ ইবনে মাজা -৩৪৪৮ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

পরিচ্ছেদঃ কালোজিরার মাধ্যমে চিকিৎসা পদ্ধতি

খালিদ ইবনু সাদ হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের অভিযানে) বের হলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন গালিব ইবনু আবজার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর আমরা মদিনায় ফিরলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে দেখাশুনা করিতে আসেন ইবনু আবূ আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এ কালো জিরা সাথে রেখ। এত্থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে ফেলবে, তারপর তন্মধ্যে যাইতুনের কয়েক ফোঁটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এ দিক ওদিকের ছিদ্র দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে প্রবিষ্ট করাবে। কেননা, আয়িশাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ এই কালোজিরা সাম’ ছাড়া সব রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ সাম’ কী? তিনি বললেনঃ মৃত্যু।

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি -৫৬৮৭ (আধুনিক প্রঃ- ৫২৭৬, ইঃ ফাঃ- ৫১৭২)

খালিদ বিন সা’দ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসঃ ইবনে মাজা – ৩৪৪৯

ইবনু আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃ) নাকে ঔষধ ব্যবহার করিয়াছেন।

হাদিসঃ আবু দাউদ (তাহকিক আলবানি)– ৩৮৬৭ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

Leave a Reply