রাঃসাঃ কর্তৃক কাফিরদের মুখে বালু ও পাথর কণা নিক্ষেপ

রাঃসাঃ কর্তৃক কাফিরদের মুখে বালু ও পাথর কণা নিক্ষেপ

রাঃসাঃ কর্তৃক কাফিরদের মুখে বালু ও পাথর কণা নিক্ষেপ << নবুওয়তের মুজিযা হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: রাঃসাঃ কর্তৃক কাফিরদের মুখে বালু ও পাথর কণা নিক্ষেপ

আব্বাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হুনাইনের যুদ্ধের দিন রাঃসাঃ  এর সঙ্গে ছিলাম। আমি এবং আবু সুফিয়ান ইবনু হারেস ইবনু, আবদুল মুত্তালিব রাঃসাঃ  এর একেবারে সঙ্গেই ছিলাম। আমরা কখনও তাহাঁর থেকে পৃথক হইনি। রাঃসাঃ  একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর আরোহণ করেছিলেন। সে খচ্চরটি ফারওয়া ইবনু নূফাসা হুযামী তাঁকে হাদিয়া স্বরূপ দিয়েছিলেন। [উহাকে দ্যু-বুদুল নামে ডাকা হতো] যখন মুসলিম এবং কাফির পরস্পর সম্মূখ যুদ্ধে লিপ্ত হল তখন মুসলিমগণ [যুদ্ধের এক পর্যায়ে] পাশ্চাৎ-দিকে পলায়ন করতে লাগলেন। আর রাঃসাঃ  স্বীয় পায়ের গোড়ালী দিয়ে নিজের খচ্চরকে আঘাত করে কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন। আব্বাস রাদি. আনহু বলেন, আমি তার খচ্চরের লাগাম ধরে রেখে ছিলাম এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম যেন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে না পারে। আর আবু সুফিয়ান তাহাঁর খচ্চরের `রেকাব` [হাউদাজের বন্ধনের পটি] ধরে রেখেছিলেন। তখন রাঃসাঃ  বলিলেন, হে আব্বাস! আসহাবে সামুরাকে আহবান কর। আব্বাস রাদি. আনহু বলেন, আর তিনি ছিলেন উচ্চ কণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তি। তখন আমি উচ্চস্বরে আওয়াজ দিয়ে বলিলাম, হে আসহাবে সামুরা! তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তা শোনামাত্র তাঁরা এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করতে] শুরু করিলেন যেমনভাবে গাভী তার বাচ্চার আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে আসে। তারা বলতে লাগলো, আমরা আপনার নিকট হাযির, আমরা আপনার নিকট হাযির। রাবী বলেন, এরপর তারা কাফিরদের সাথে পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি আনসারদেরকেও এমনিভাবে আহবান করিলেন যে, হে আনসারগণ! রাবী বলেন, এরপর আহবান সমাপ্ত করা হল বনী হারেস ইবনু খাযরাযের মাধ্যমে [তাঁরা আহবান করিলেন, হে বনী হারেস ইবনুল খাযরাজ] রাঃসাঃ  স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহণ অবস্থায় আপন গর্দান উচু করে তাদের যুদ্ধের অবস্থা অবলোকন করেন। তখন রাঃসাঃ  বলিলেন, এটাই হল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ চরম মুহূর্ত। রাবী বলেন, এরপর রাঃসাঃ  কয়েকটি পাথরের টুকরা হাতে নিলেন এবং এগুলি তিনি বিধর্মীদের মুখের উপর ছুড়ে মারলেন। এরপর বলিলেন, মুহাম্মাদ রাঃসাঃ এর রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে। আব্বাস রাদি. আনহু বলেন, আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের অবস্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম যে, যথারীতি যুদ্ধ চলছে। এমন সময় তিনি পাথরের টুকরোগুলো নিক্ষেপ করিলেন। আল্লাহর শপথ! তখন হঠাৎ দেখি যে, কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেল এবং তাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল।[1]

সালামাহ রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হুনাইনের দিন রাঃসাঃ  এর সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করেছি। যখন আমরা শক্রদের সন্মুখীন হলাম, তখন এ পর্যায়ে আমি অগ্রসর হয়ে একটি টিলার উপর আরোহণ করলাম। তখন শক্রদলের এক ব্যক্তি আমারঁ-মোকাবিলায় অগ্রসর হল। আমিএকটি তীর নিক্ষেপ করলাম, তখন সে আমার থেকে আত্মগোপন করল। আমি তখন বুঝতে পারিনি তার ব্যাপারটি কী হয়েছে। তারপর যখন শক্রদলের প্রতি লক্ষ্য করলাম তখন দেখতে পেলাম যে, তারা অপর এক টিলায় আরোহণ করেছে। তারপর তারা এবং নাবী রাঃসাঃ এর সাথীরা সামনাসামনি হলো। তখন নাবী রাঃসাঃ এর সাহাবাগণ পিছনে সরে পড়তে লাগল। আমি পরাজিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করলাম। তখন আমার পরিধানে ছিল দুটি চাদর। তম্মধ্যে একটি চাদর ছিল বাঁধা অবস্থায় এবং অপরটি ছিল খোলা। একপর্যায়ে আমার চাদর খুলে গেল। তখন আমি সে দুটি একত্র করলাম। এবং পরাজিত অবস্থায় রাঃসাঃ  এর কাছ দিয়ে গমন করলাম। আর তিনি তখন তাহাঁর সাদা রং এর খচ্চরের উপর আরোহিত ছিলেন। তখন রাঃসাঃ  বলিলেন, ইবনুল আকওয়া সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছে। এরপর শক্ররা রাঃসাঃ কে ঘিরে ফেললো। তখন তিনি স্বীয় খচ্চর থেকে অবতরণ করিলেন। তারপর এক মুষ্টি মাটি যমিন থেকে তুলে নিলেন। এরপর তাদের মুখমন্ডলে তা নিক্ষেপ করিলেন এবং বলিলেন, তাদের মুখমন্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। এরপর তাদের সকল মানুষের, দু-চোখ-ই সে এক মুষ্টি মাটির ধুলায় ভরে গেল। তারা পাচাৎ দিকে পলায়ন করলো। আল্লাহ তা`আলা এ দ্বারাই তাদেরকে পরাস্ত করিলেন। এরপর রাঃসাঃ  গনীমতের সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।[2]


[1] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৭৭৫।

[2] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৭৭৭।

Leave a Reply