ঈলা, যিহার ও কাফফারার বিবরণ। যিহারের কাফফারা সমূহ

ঈলা, যিহার ও কাফফারার বিবরণ। যিহারের কাফফারা সমূহ

ঈলা, যিহার ও কাফফারার বিবরণ। যিহারের কাফফারা সমূহ >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ৯ঃ ঈলা, যিহার ও কাফফারার বিবরণ

পরিচ্ছেদ ০১. যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর নিকট সহবস্থান না করার শপথ করে

১০৮৮ – আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর স্ত্রীদের সাথে [নিকটবর্তী না হবার জন্য] `ঈলা` বা কসম ও হারাম করেছিলেন। ফলে হালাল কাজকে হারাম করেছিলেন এবং তিনি এরূপ শপথ ভঙ্গ করার জন্য কাফফারা প্রদান করেছিলেন। -রাবীগুলো নির্ভরযোগ্য। {১১৮৯}

{১১৮৯} তিরমিজি ১২০১, ইবনু মাযাহ ২০৭২। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালী্ল ৮/২০০ গ্রন্থে বলেন, মাসলামা বিন আলকামা ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত। তিনি সহিহ ইবনু মাযাহ ১৬৯৮ গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন। ইমাম শওকানী নাইলুল আওত্বার ৭/৫৬ গ্রন্থে এর সকল বর্ণনাকারীকে বিশ্বস্ত বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাহাঁর আল হাদিস ৪/১৬৬ গ্রন্থে বলেন, এটি মুরসাল হিসেবে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. ঈ`লার [স্ত্রী থেকে পৃথক থাকার শপথ করা] বিধানবলী

১০৮৯ – ইবনু `উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলে ত্বলাক্ব দেয়া পর্যন্ত তাকে [ঈলাকারীকে] আটকে রাখা হইবে। আর ত্বলাক্ব না দেয়া পর্যন্ত ত্বলাক্ব প্রযোজ্য হইবে না। {১১৯০}

{১১৯০} বুখারি ৫২৯১, মালেক ১১৮৪।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৯০ – সুলাইমান ইবনু ইয়াসার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি দশ জনের ও অধিক সহাবীকে দেখেছি তাঁরা [ঈলাকারীদেরকে] বিচারকের নিকট হাজির করিয়াছেন।–শাফেয়ী। {১১৯১}

{১১৯১} শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাহাঁর আল হাদিস [৪/১৬৬] গ্রন্থে এর সনদকে সহীহ্ বলেছেন। নাসিরুদ্দিন আলবানী তাহাঁর ইরওয়াউল গালী্ল[২০৮৬] গ্রন্থে [আরবি] এর স্থলে [আরবি] শব্দে একই বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। অর্থাৎ [আরবি] এর স্থলে [আরবি] এর সিগাহ ব্যবহার করিয়াছেন। আর হাদিসটিকে সহীহ্ বলেছেন। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৯১ – ইবনু `আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, জাহিলিয়াতের যুগের ঈলা এক বৎসর ও দু` বৎসর কাল দীর্ঘ হতো। আল্লাহ ঐ দীর্ঘ সময়কে চার মাস নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতএব যদি তা চার মাসের কম হয় তাহলে ঈলা বলে গণ্য হইবে না। {১১৯২}

{১১৯২} বাইকাকী [৭/৩৮১]। ইমাম হাইসামী তাহাঁর মাজমাউয যাওয়া্য়েদ [৫/১৩] গ্রন্থে এ হাদিসটি সম্পর্কে বলেন, এর বর্ণনাকারীগণ বুখারির বর্ণনাকারী। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. যিহারের [স্ত্রী মায়ের সঙ্গে তুলনা করা] বিধানবলী

১০৯২ – ইবনু `আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

কোন এক ব্যক্তি তাহাঁর স্ত্রীর সাথে যিহার করে, অতঃপর তার সাথে সহবাস করে ফেলে। তারপর সে নবী [সাঃআঃ] –এর নিকট এসে বলিল যে, আমি তো কাফ্‌ফারা দেয়ার পূর্বেই আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন,- আল্লাহর আদেশ পালন না করে স্ত্রীর নিকট যেও না। – তিরমিজি সহীহ্ বলেছেন, নাসায়ী এর ইরসাল হওয়া কে প্রাধান্য দিয়েছেন। {১১৯৩}

বাযযার অন্য সূত্রে ইবনু `আব্বাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, তাতে অতিরিক্ত আছে- তুমি তোমারে এ কাজের জন্য [কসম ভঙ্গের জন্যে ] কাফ্‌ফারা দাও, এরূপ আর করিবে না।

{১১৯৩} ইবনু মাযাহ ২০৬৫, তিরমিজি ১১৯৯, নাসায়ী ৩৪৫৭,৩৪৫৮,৩৪৫৯, আবূ দাউদ ২২২১, ২২২২। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. যিহারের কাফফারা সমূহ

১০৯৩ – সালামাহ ইবনু সাখর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন-রামাযান মাস এসে যাবার পর আমার মনে ভয়ের উদ্রেক হল যে, হয়তো আমি আমার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে বসব। অনন্তর আমি তাহাঁর নিকটবর্তী হলাম এমত অবস্থায় তার একটি অংশ [হাঁটুর নিন্মাংশ] রাত্রে আমার সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেল; ফলে আমি তার উপর পতিত হলাম এবং সহবাস করে ফেললাম। রসূ্লুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, একটি দাস মুক্ত করো। আমি বললাম, আমি দাসের মালিক নই- কেবল আমি নিজেরই মালিক। তিনি বলিলেন, – তবে একাদিক্রমে দুমাস রোজা পালন করো। আমি বললাম, আমি রোজা পালনের জন্যই তো এ বিপদে পড়েছি । তিনি বলিলেন,-তবে তুমি ষাট জন দরিদ্রকে এক অরাক বা ফারাক [আনুমানিক ৪৫ কেজি ওজনের] খেজুর খাইয়ে দাও। -ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু জারুদ একে সহীহ্ বলেছেন। {১১৯৪}

{১১৯৪} আবূ দাউদ ২২১৩, হাসান লিগাইরিহি, তাওযিহুল আহকাম ৫/৫৩৭/ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান লিগাইরিহি

By najmulislam

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply