কোন্ শ্রেণীর কাপড় উত্তম – পরিচ্ছেদ – ১১৭: রিয়াদুস সালেহীন

কোন্ শ্রেণীর কাপড় উত্তম – পরিচ্ছেদ – ১১৭: রিয়াদুস সালেহীন

কোন্ শ্রেণীর কাপড় উত্তম – পরিচ্ছেদ – ১১৭: রিয়াদুস সালেহীন >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১১৭: কোন্ শ্রেণীর কাপড় উত্তম
পরিচ্ছদঃ ১১৮ -জামা পরিধান করা উত্তম
পরিচ্ছদঃ ১১৯- জামা-পায়জামা, জামার হাতা, লুঙ্গি তথা পাগড়ীর প্রান্ত কতটুকু লম্বা হবে? অহংকারবশতঃ ওগুলি ঝুলিয়ে পরা হারাম ও নিরহংকারে তা ঝুলানো অপছন্দনীয়
পরিচ্ছদঃ ১২০- বিনয়বশতঃ মূল্যবান পোশাক পরিধান ত্যাগ করা মুস্তাহাব
পরিচ্ছদঃ ১২১- মধ্যম ধরনের পোশাক পরা উত্তম। অকারণে শরয়ী উদ্দেশ্য ব্যতিত অনুত্তম, যা উপহাস্য হইতে পারে এমন পোষাক পরা যাবে না
পরিচ্ছদঃ ১২২- রেশমের কাপড় পরা, তার উপরে বসা বা হেলান দেওয়া পুরুষদের জন্য অবৈধ, মহিলাদের জন্য বৈধ
পরিচ্ছদঃ ১২৩- চুলকানি রোগ থাকলে রেশমের কাপড় পরা বৈধ
পরিচ্ছদঃ ১২৪ – বাঘের চামড়া বিছিয়ে বসা নিষেধ
পরিচ্ছদঃ ১২৫ – নতুন কাপড় বা জুতা ইত্যাদি পরার সময় কী বলতে হয়?

পরিচ্ছেদ – ১১৭: কোন্ শ্রেণীর কাপড় উত্তম

সাদা রঙের কাপড় উত্তম। আর লাল, সবুজ ও কালো রঙের কাপড় বৈধ। আর রেশমী বস্ত্র ছাড়া সুতি, উল, পশম ও লোম ইত্যাদির কাপড় পরিধান করা জায়েয।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ قَدۡ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكُمۡ لِبَاسٗا يُوَٰرِي سَوۡءَٰتِكُمۡ وَرِيشٗاۖ وَلِبَاسُ ٱلتَّقۡوَىٰ ذَٰلِكَ خَيۡرٞۚ ﴾ [الاعراف: ٢٦] 

অর্থাৎ “হে বনী আদম! [হে মানবজাতি] তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ অবতীর্ণ করেছি। আর সংযমশীলতার পরিচ্ছদই সর্বোৎকৃষ্ট।” [সূরা আরাফ ২৬ আয়াত]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿ وَجَعَلَ لَكُمۡ سَرَٰبِيلَ تَقِيكُمُ ٱلۡحَرَّ وَسَرَٰبِيلَ تَقِيكُم بَأۡسَكُمۡۚ ﴾ [النحل: ٨١] 

অর্থাৎ তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করিয়াছেন পরিধেয় বস্ত্রের; যা তোমাদেরকে তাপ হতে রক্ষা করে এবং তিনি ব্যবস্থা করিয়াছেন তোমাদের জন্য বর্মের, ওটা তোমাদের যুদ্ধে রক্ষা করে। [সূরা নাহ্ল ৮১ আয়াত]

৭৮৩

ইবনে আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

ইবনে আব্বাস রাঃআঃ

(আবু দাঊদ ৩৮৭৮, তিরমিজী ১৭৫৭, ২০৪৮, ইবনু মাজাহ ৩৪৯৭, আহমাদ ২০৪৮, ২২২০, ২৪৭৫, ৩০২৭, ৩৩৩২, ৩৪১৬)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৮৪

সামুরাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান কর। কেননা, তা সবচেয়ে পবিত্র ও উৎকৃষ্ট। আর ওতেই তোমাদের মৃতদেরকে কাফন দাও।’’

(নাসাঈ, হাকেম, তিনি বলেন হাদীসটি সহীহ)(সহীহ তারগীব ২০২৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৮৫

বারা’ ইবনে আযেব রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘নবী সাঃআঃ মধ্যম আকৃতির লম্বা ছিলেন। আমি তাঁকে লাল পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। আমি তাঁর চাইতে অধিক সুন্দর আর কাউকে দেখিনি।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৫৪৯, ৩৫৫১, ৩৫৫২, ৫৮৪৮, ৫৯০১, মুসলিম ২৩৩৭, তিরমিজী ১৭২৪, ৩৬৩৫, ৩৬৩৬, নাসাঈ ৫০৬০, ৫০৬২, ৫২৩২, ৫২৩৩, ৫৩১৪, আবু দাঊদ ৪১৮৩, ১৮০৮৬, ১৮১৯১)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৮৬

আবু জুহাইফাহ অহাব ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে মক্কায় দেখলাম, যখন তিনি আবত্বাহ নামক স্থানে চর্মনির্মিত লাল রঙের শিবিরে অবস্থান করছিলেন। বিলাল তাঁর ওযূর পানি নিয়ে বাইরে বের হলেন। কিছু লোক (বরকত হাসিল করার জন্য) উক্ত পানির ছিটা পেল আর কিছু সংখ্যক লোক পানি পেল। তারপর নবী সাঃআঃ লাল রঙের জোড়া বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় বাইরে এলেন। যেন আমি তাঁর দুই পায়ের গোছার শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছি। অতঃপর তিনি ওযূ করলেন এবং বিলাল আযান দিলেন। আমি তাঁর এদিক ওদিক মুখ ফিরানো লক্ষ্য করছিলাম। তিনি ডানে ও বামে মুখ ফিরিয়ে ‘হাইয়্যা আলাস স্বালাহ’, ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলছিলেন। অতঃপর নবী সাঃআঃ এর জন্য একটি বর্শা (সুতরাহ স্বরূপ) পুঁতে দেওয়া হল। তারপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং নামায পড়ালেন। তাঁর (সুতরার) সামনে দিয়ে কুকুর ও গাধা অতিক্রম করছিল। সেগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছিল না।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৮৮, ১৯৬, ৩৭৬, ৪৯৫, ৪৯৯, ৫০১, ৬৩৩, ৩৫৫৩, মুসলিম ৫০৩, ২৪৯৭, নাসাঈ ৪৭০, আবু দাঊদ ৬৮৮, আহমাদ ১৮২৬৮, ১৮২৭৮, দারেমী ১৪০৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৮৭

আবু রিমসা রিফাআহ তাইমী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

‘আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর পরনে দুটো সবুজ রঙের কাপড় দেখেছি।’

(আবু দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে)(আবু দাঊদ ৪০৬৫, ৪২০৬, তিরমিজী ২৮১২, ১৫৭২, আহমাদ ৭০৭১, ৭০৭৭, ১৭০২৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৮৮

জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ মক্কাবিজয়ের দিন (সেখানে) কাল রঙের পাগড়ী পরে প্রবেশ করেছিলেন।

(মুসলিম ১৩৫৮, তিরমিজী ১৬৭৯, ১৭৩৫, ২৮৬৯, ৫৩৪৪, ৫৩৪৫ , আবু দাঊদ ৪০৭৬, ইবনু মাজাহ ২৮২২, ৩৫৮৫, আহমাদ ১৪৪৮৮, ১৪৭৩৭, দারেমী ১৯৩৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৮৯

আবু সা‘ঈদ ‘আম্‌র ইবনে হুরাইস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আমি যেন রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে কাল রঙের পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখছি, তিনি তাঁর পাগড়ীর দুই প্রান্ত দুই কাঁধের মাঝখানে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।’

(মুসলিম ১৩৫৯ নাসাঈ ৫৩৪৩, ৫৩৪৬, আবু দাঊদ ৪০৭৭, ইবনু মাজাহ ১১০৪, ২৮২১, ৩৫৮৪, ৩৫৮৭, আহমাদ ১৮২৫৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৯০

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

‘‘রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে তিনটি সাদা সুতি বস্ত্রে কাফন দেওয়া হয়েছে যেগুলি ইয়ামানের ‘সাহুল’ নামক স্থানে প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওগুলির মধ্যে কামীস (জামা) ছিল না। আর পাগড়ীও ছিল না।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১২৬৪, ১২৭১, ১২৭২, ১২৭৩, ১২৮৭, মুসলিম ৯৪১, তিরমিজী ৯৯৬, নাসাঈ ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৮৯৯, আবু দাঊদ ৩১৫১, ইবনু মাজাহ ১৪৬৯, আহমাদ ২৩৬০২, ২৪১০৪, ২৪৩৪৮, ২৪৪৮৪, ২৪৭৯৫, ২৫০৭৩, ২৫১৫২, ২৫২৬৭, ২৫৪১৮, ২৫৭৪৪, মুওয়াত্তা মালিক ৫২১)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৯১

উক্ত রাবী হইতে বর্ণিতঃ

‘রসুলুল্লাহ সাঃআঃ একদিন সকালে বের হলেন, তখন তাঁর দেহে পালানের ছবি ছাপা কাল লোমের চাদর ছিল।’

(মুসলিম ২০৮১, তিরমিজী ২৮১৩, আবু দাঊদ ৪০৩২, আহমাদ ২৪৭৬৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৯২

মুগীরাহ ইবনে শু’বা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাতের বেলায় রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘‘তোমার কাছে পানি আছে কি?’’ আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ সুতরাং তিনি স্বীয় বাহন থেকে নামলেন এবং চলতে লাগলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তারপর যখন ফিরে এলেন, তখন আমি পাত্র থেকে (পানি) ঢেলে দিলাম। তিনি তাঁর মুখমন্ডল ধুলেন। তাঁর পরনে ছিল পশমী জুব্বা। তিনি তা হইতে তাঁর হাত দু’টিকে বের করতে সক্ষম হলেন না। পরিশেষে তিনি জুব্বার নিচের দিক দিয়ে হাত বের করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত দু’টি ধুলেন ও মাথা মাসাহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজা খুলে নেওয়ার জন্য হাত বাড়ালাম। তিনি বললেন, ছেড়ে দাও। কেননা, আমি ওগুলো পবিত্র (ওযূ) অবস্থায় পায়ে দিয়েছি। অতঃপর তিনি তার উপর মাসাহ করলেন।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৮২, ২০৩, ২০৬, ৩৬৩, ৩৮৮, ২৯১৮, ৪৪২১, ৫৭৯৮, ৫৭৯৯, মুসলিম ২৭৪, তিরমিজী ৯৭, ৯৮, ১০০, নাসাঈ ৭৯, ৮২, আবু দাঊদ ১৪৯, ১৫০, ১৫১, ইবনু মাজাহ ৫৪৫, ৫৫০, আহমাদ ১৭৬৬৮, ১৭৬৭৫, ১৭৬৯১, ১৭৬৯৯, ১৭৭১০, ১৭৭১৭, ১৭৭৪১, ১৭৭৫৫, মুওয়াত্তা মালেক ৭৩, দারেমী ৭১৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১১৮ -জামা পরিধান করা উত্তম

৭৯৩

উম্মে সালামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর নিকট সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় পোশাক ছিল কামীস (জামা)।’

(আবু দাঊদ ৪০২৫, ৪০২৬, তিরমিজী ১৭৬২, ইবনু মাজাহ ৩৫৭৫)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১১৯- জামা-পায়জামা, জামার হাতা, লুঙ্গি তথা পাগড়ীর প্রান্ত কতটুকু লম্বা হবে? অহংকারবশতঃ ওগুলি ঝুলিয়ে পরা হারাম ও নিরহংকারে তা ঝুলানো অপছন্দনীয়

৭৯৪

আসমা বিনতে য়্যাযীদ আনসারী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর জামার হাতা কব্জি পর্যন্ত লম্বা ছিল।’ (আবু দাঊদ, তিরমিজী হাসান)

(আমি (আলবানী) বলছিঃ এর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। দেখুন ‘‘সিলসিলাহ্ য‘ঈফা’’ (২৪৫৮)। এর সনদের মধ্যে শাহ্‌র ইবনু হাওশাব নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন তিনি মন্দ হেফয শক্তির কারণে দুর্বল। হাফেয ইবনু হাজার ‘‘আত্‌তাক্বরীব’’ গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, বেশী বেশী মুরসাল এবং সন্দেহমূলক বর্ণনাকারী। আবু হাতিম ও ইবনু আদী প্রমুখও বলেছেন তার হেফ্য শক্তিতে দুর্বলতা ছিল।

[দেখুন ‘‘য‘ঈফা’’ হাদীস নং ৬৮৩৬]। তিরমিজী ১৭৬৫, ৪০২৭)

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

৭৯৫

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে নিজের পোশাক মাটিতে ছেঁচড়ে চলবে, আল্লাহ তার প্রতি কিয়ামতের দিন (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।’’ আবু বকর রাঃআঃ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! খেয়াল না করলে আমার লুঙ্গি ঢিলে হয়ে নেমে যায়।’ রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বললেন, ‘‘তুমি তাদের শ্রেণীভুক্ত নও, যারা তা অহংকারবশতঃ করে থাকে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪, ৫৭৯১, ৬০৬২, মুসলিম ২০৮৫, তিরমিজী ১৭৩০, ১৭৩১, নাসাঈ ৫৩২৭, ৫৩২৮, ৫৩৩৫, ৫৩৩৬, আবু দাঊদ ৪০৮৫, ইবনু মাজাহ ৩৫৬৯, আহমাদ ৪৪৭৫, ৪৫৫৩, ৪৬৬৯, ৪৭৫৯, ৪৮৬৯, ৪৯৯৪, ৫০১৮, ৫০৩০, ৫০৩৫, ৫১৫১, ৫১৬৬, ৫২২৬, ৫৩০৫, ৫৩১৮, ৫৩২৮, ৫৩৫৪, ৫৪১৬, ৫৪৩৭, ৫৫১০, মুওয়াত্তা মালেক ১৬৯৬, ১৬৯৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৯৬

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে অহংকারের সাথে নিজের লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার প্রতি (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৭৮৮, মুসলিম ২০৮৭, আহমাদ ৮৭৭৮, ৮৯১০, ৯০৫০, ৯২৭০, ৯৫৪৫, ৯৮৫১, ১০১৬৩, ২৭২৫৩, মুওয়াত্তা মালেক ১৬৯৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৯৭

উক্ত রাবী হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘লুঙ্গির যে পরিমাণটুকু পায়ের গাঁটের নীচে যাবে, সে পরিমাণ জাহান্নামে যাবে।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৭৮৭, নাসাঈ ৫৩৩০, ৫৩৩১ , আহমাদ ৭৪১৭, ৭৭৯৭, ৯০৬৪, ৯৬১৮, ১০১৭৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৯৮

আবু যার্র রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করিবেন না এবং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।’’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাঃআঃ উক্ত বাক্যগুলি তিনবার বললেন।’ আবু যার্র বললেন, ‘তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক! তারা কারা? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, ‘‘(লুঙ্গি-কাপড়) পায়ের গাঁটের নীচে যে ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে লোকের কাছে দানের কথা বলে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে যে পণ্য বিক্রি করে।’’

(মুসলিম ১০৬, তিরমিজী ১২১১, নাসাঈ ২৫৬৩, ২৬৫৪, ৪৪৫৮, ৪৪৬৯, ৫৩৩৩, আবু দাঊদ ৪০৮৭, ইবনু মাজাহ ২২০৮, আহমাদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমী ২৬০৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৭৯৯

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘লুঙ্গি, জামা ও পাগড়ীতে ঝুলানোর কাজ হয়ে থাকে। (অর্থাৎ এগুলি ঝুলিয়ে পরলে গুনাহ হয়।) যে ব্যক্তি অহংকারবশতঃ কিছু মাটিতে ছেঁচড়ে চলবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকিয়ে দেখবেন না।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪, ৫৭৯১, ৬০৬২, মুসলিম ২০৮৫, তিরমিজী ১৭৩০, ১৭৩১, আবু দাঊদ ৪০৮৫, ৪০৯৪, নাসাঈ ৫৩২৭, ৫৩২৮, ৫৩৩৫, ৫৩৩৬, ইবনু মাজাহ ৩৫৬৯, আহমাদ ৪৪৭৫, ৪৫৫৩, ৪৯৯৪, ৫০১৮, ৫০৩৫, ৫১৫১, ৫১৬৬, ৫২২৬, ৫৩০৫, ৫৩২৮, ৫৩৫৪, ৫৪১৬, ৫৫১০ , ৬১৬৮, ৬৩০৪, মুওয়াত্তা মালেক ১৬৯৬, ১৬৯৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৮০০

আবু জুরাই জাবের ইবনে সুলাইম হইতে বর্ণিতঃ

আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখলাম, যাঁর মতানুযায়ী লোকে কাজ করছে, তাঁর কথা তারা মেনে নিচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এ লোকটি কে?’ লোকেরা বলল, ‘ইনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’ আমি তাঁকে ‘আলাইকাস সালাম ইয়া রাসূলাল্লাহ’ দু’বার বললাম। তিনি বললেন, ‘‘আলাইকাস সালাম’ বলো না। ‘আলাইকাস সালাম’ তো মৃতদের জন্য অভিবাদন বাণী। তুমি বলো ‘আসসালামু আলাইকা।’’

জাবের বলেন, আমি বললাম, ‘আপনি আল্লাহর রসূল?’ তিনি বললেন, ‘‘আমি সেই আল্লাহর রসূল, যাঁকে কোনো বিপদের সময় যদি ডাকো, তাহলে তিনি তোমার বিপদ দূর করে দেবেন। যদি দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা কর, তাহলে তিনি তোমার জন্য যমীন থেকে ফসল উৎপাদন করিবেন। কোন গাছপালা বিহীন জনশূন্য মরুভূমিতে তোমার বাহন হারিয়ে গেলে তুমি যদি তাঁর নিকট দো‘আ কর, তাহলে তিনি তোমার বাহন তোমার কাছে ফিরিয়ে দেবেন।’’

জাবের বলেন, আমি বললাম, ‘আপনি আমাকে বিশেষ উপদেশ দান করুন।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি কাউকে কখনো গালি-গালাজ করো না।’’ সুতরাং তারপর থেকে আমি না কোন স্বাধীন-পরাধীন ব্যক্তিকে, না কোন উট আর না কোন ছাগলকে গালি দিয়েছি।

(দ্বিতীয় উপদেশ হচ্ছে এই যে,) ‘‘কোন পুণ্যকর্মকে তুচ্ছ জ্ঞান করো না। নিঃসন্দেহে সহাস্য বদনে কোন মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তোমার বাক্যালাপ করা নেকীর কাজ। নিজ লুঙ্গি পায়ের অর্ধ রলা পর্যন্ত উঁচু রেখো। তা যদি মানতে না চাও, তাহলে গাঁট পর্যন্ত ঝুলাতে পার। লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরা থেকে দূরে থেকো। কেননা, এতে অহংকার জন্মায়। আর নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারকে পছন্দ করেন না। যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় অথবা এমন দোষ ধরে তোমাকে লজ্জা দেয়, যা তোমার মধ্যে বিদ্যমান আছে বলে জানে, তাহলে তুমি তার এমন দোষ ধরে তাকে লজ্জা দিয়ো না, যা তার মধ্যে বিদ্যমান আছে বলে জানো। যেহেতু তার কুফল তার উপরই বর্তাবে (তোমার উপর নয়)।’’

(আবু দাঊদ ৪০৮৪, তিরমিজী ২৭২১, আহমাদ ১৫৫২৫)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

৮০১

আবু হুরাইরাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

একদা এক ব্যক্তি (টাখনুর নীচে) লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত পড়ছিলো। রসুলুল্লাহ সাঃআঃ তাকে বললেন, যাও, পুনরায় ওযূ কর। সে আবার ওযূ করে করে এলো। তিনি আবার বললেনঃ যাও, পুনরায় ওযূ কর। একজন বললো, হে রসুলুল্লাহ সাঃআঃ ! কেন আপনি তাকে ওযূ করার নির্দেশ দিচ্ছেন, তারপর নীরবতা পালন করছেন? তিনি বললেনঃ এ লোক তার লুঙ্গি (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে দিয়ে সালাত পড়ছিলো। অথচ আল্লাহ এমন ব্যক্তির সালাত কবূল করেন না, যে তার পায়জামা এরকম ঝুলিয়ে দিয়ে সালাত আদায় করে।

(এ সহীহ্ আখ্যা দানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। সে সম্পর্কে আমি ‘‘তাখরীজুল মিশকাত’’ গ্রন্থে (হাঃ নং ৭৬১) এবং ‘‘য‘ঈফু আবী দাঊদ’’ গ্রন্থে (নং ৯৬) ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। এর সনদের মধ্যে আবু জা‘ফার নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছেন তিনি অপরিচিত, তাকে চেনা যায় না। এ বর্ণনাকারী সম্পর্কে শাইখ আলবানী ‘‘য‘ঈফু আবী দাঊদ-আলউম্ম-’’ গ্রন্থে (নং ৯৬) বিস্তারিত আলোচনা করিয়াছেন। আবু দাঊদ ৪০৮৬, ইবনুল কাত্তানও আবু জাফারকে মাজহূল বলেছেন।)

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

৮০২

কাইস ইবনু বিশর আত-তাগলিবী (রাহঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি (বিশর) বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর এক সাহাবী দামিশকে ছিলেন। তাকে বলা হতো সাহল ইবনু হানযালিয়্যা। তিনি একাকিত্বকে বেশি পছন্দ করতেন, লোকদের সাথে খুব কমই উঠাবসা করতেন, অধিকাংশ সময় সালাতেই কাটিয়ে দিতেন, সালাত থেকে অবসর হয়ে তার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তাসবীহ্ ও তাকবীরে মগ্ন থাকতেন। (একদিন) তিনি আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন আমরা আবু দারদা রাঃআঃ-এর কাছে ছিলাম। আবু দারদা রাঃআঃ তাকে বললেন, আমাদেরকে এমন কোন কথা বলে দিন, যা আমাদের উপকার দিবে আর আপনারও কোন ক্ষতি হবে না। তিনি বললেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ একটি ছোট্ট বাহিনী প্রেরণ করলেন। বাহিনী ফিরে আসার পর তাদের একজন ঐ মাজলিশে এসে বসে পড়লো যেখানে রসুলুল্লাহ সাঃআঃও বসা ছিলেন। তার পাশে বসা লোকটিকে আগন্তুক লোকটি বললো, তুমি যদি আমাদেরকে তখন দেখতে জিহাদের ময়দানে আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিলাম, বর্শা উঁচিয়ে অমুক (কাফির) আক্রমণ করলো এবং আঘাত হানলো। উত্তরে (আক্রান্ত মুসলিমটি) বললো, এই নে আমার পক্ষ থেকে, আর আমি হচ্ছি গিফার গোত্রের যুবক। তার এই বক্তব্য বিষয়ে আপনি কী বলেন? লোকটি বললো, আমার মতে (অহংকারের কারণে) তার সাওয়াব বিনষ্ট হয়ে গেছে। এই কথা আরেকজন শুনে বললো, এতে তো আমি কোন দোষ দেখি না। তারা বিতর্কে লিপ্ত হলো, এমনকি রসুলুল্লাহ সাঃআঃও তা শুনে ফেলেন। তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! এতে কোন দোষ নেই, সে (পরকালে) পুরষ্কৃত হবে এবং (ইহকালে) প্রশংসিত হবে। কাইস ইবনু বিশর বলেন, আবুদ দারদা রাঃআঃ কে আমি দেখলাম যে, এতে তিনি খুশি হয়েছেন এবং তাঁর দিকে নিজের মাথা উঠিয়ে বললেন, আপনি রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর কাছে একথা শুনেছেন কি? ইবনু হানযালিয়্যা রাঃআঃ বললেন, হ্যাঁ শুনেছি। আবুদ দারদা রাঃআঃ এই কথাটি বারবার ইবনু হানযালিয়্যার সামনে বলতে লাগলেন। অবশেষে আমি বলেই ফেললাম, আপনি কি ইবনু হানযালিয়্যার হাঁটুর উপর চড়ে বসতে চান?

বর্ণনাকারী বলেন, আবুদ দারদা আরেকদিন আমাদের কাছে গেলেন, তখন আবুদ দারদা বললেন, একটি বাক্য যা আমাদের উপকার দেবে, তোমার কোনো ক্ষতি করিবে না। তিনি বলেন, আমাদেরকে রসুলুল্লাহ সাঃআঃ আমাদেরকে বলেছেন, ঘোড়ার জন্য ব্যয় করা সেই সদকা সমতুল্য যে সদকা করে হাত সংকুচিত করা হয় নি। তারপর তিনি অপরদিন আমাদের পাশ দিয়ে গেলেন, তখন আবুদ দারদা বললেন, একটি বাক্য, যা আমাদের উপকৃত করিবে, তোমার কোনো ক্ষতি করিবে না। রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, “খুরাইম আল-আসাদী কতইনা ভালো লোক, যদি না তার মাথার চুল খুব লম্বা হতো, আর যদি না তার লুঙ্গি টাখনুর নিচে না যেত”। কথাটি খুরাইমের কাছে পৌঁছলে তিনি তাড়াতাড়ি ছুরি নিয়ে তার মাথার লম্বা চুল কানের মাঝ বরাবর কেটে ফেললেন, আর তাঁর লুঙ্গিকে নলার মাঝখান পর্যন্ত উঠিয়ে নিলেন। তারপর আরেকদিন আমাদের পাশ দিয়ে গেলেন, তখন আবুদ দারদা রা. তাকে বললেন, একটি বাক্য যা আমাদেরকে উপকৃত করিবে, তোমার কোনো ক্ষতি করিবে না, তিনি বললেন, আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে বলতে শুনেছি, তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে যাচ্ছ, সুতরাং তোমরা তোমাদের বাহনগুলোকে ঠিক করে নাও, তোমাদের পরিধেয় বস্ত্রগুলো এমনভাবে ঠিক করে নাও যাতে করে তোমাদেরকে মানুষের মাঝে মনে হবে তেমন যেমন তিলের দাগ। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা অশ্লীলতা করা ও বলা কোনোটাই পছন্দ করেন না।’ আবু দাঊদ হাদীসটিকে হাসান সনদে বর্ণনা করেন, তবে কাইস ইবন বিশর ব্যতীত; কারণ তার গ্রহণযোগ্যতা কিংবা দুর্বলতা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। যদিও ইমাম মুসলিম তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

(আবু দাঊদ (৪০৮৯) হাসান সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু কায়েস ইবনু বিশ্র নির্ভরযোগ্য নাকি দুর্বল? এ সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ মতবিরোধ করিয়াছেন। আর তার থেকে ইমাম মুসলিম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আমি (আলবানী) বলছিঃ সুস্পষ্টভাবে কেউ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন দেখছি না। তবে হাদীসটির সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তার পিতা থেকে। কারণ তার পরিচয় সম্পর্কে জানা যায় না। দেখুন ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ (২১২৩)। হাফিয যাহাবী ‘‘আলমীযান’’ গ্রন্থে কায়েস ইবনু বিশর এবং তার পিতা সম্পর্কে বলেনঃ তাদের দু’জনকেই চেনা যায় না)

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

৮০৩

আবু সা‘ঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘মুসলিমের লুঙ্গি অর্ধ গোছা পর্যন্ত ঝুলানো উচিত। গাঁটের উপর পর্যন্ত ঝুললে ক্ষতি নেই। যে অংশ লুঙ্গি পায়ের গাঁটের নীচে ঝুলবে, তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর অহংকারবশতঃ যে ব্যক্তি পায়ের গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে লুঙ্গি পরবে, তার দিকে আল্লাহ (করুণার দৃষ্টিতে) তাকিয়ে দেখবেন না।’’

(আবু দাঊদ ৪০৯৩, ইবনু মাজাহ ৩৫৭০, ৩৫৭৩, আহমাদ ১০৬২৭, ১০৬৪৫, ১০৮৬৩, ১১০০৪, ১১০৯৫, ১১৫১৫, মুওয়াত্তা মালেক ১৬৯৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৮০৪

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আমার লুঙ্গি বেশ ঝুলে ছিল। সুতরাং তিনি বললেন, ‘‘হে আব্দুল্লাহ! লুঙ্গি উঠিয়ে পর।’’ অতএব আমি লুঙ্গি তুলে পরলাম। তিনি আবার বললেন, ‘‘আরো উঁচু কর।’’ আমি আরো উঁচু করলাম। এরপর বরাবর আমি এর খেয়াল রাখতে থাকলাম; যেন লুঙ্গি নীচে না নামে। কিছু লোক (আব্দুল্লাহকে) জিজ্ঞাসা করল, ‘কতদূর পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরা যাবে?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘অর্ধ গোছা পর্যন্ত।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৪৮৫, ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪, ৫৭৯১, মুসলিম ২০৮৫, ২০৮৬, তিরমিজী ১৭৩১, নাসাঈ ৪৩২৬, ৪৩২৭, ৪৩২৮, ৫৩৩৫, ৫৩৩৬, আবু দাঊদ ৪০৮৫, ৪০৯৪, ইবনু মাজাহ ৩৫৬৯, আহমাদ ৪৪৭৫, ৪৫৫৩, ৪৮৬৯, ৪৯৯৪, ৫০১৮, ৫০৩০,৫০৩৫, ৫১৫১, ৫১৬৬, ৫২২৬, ৫৩০৫, ৫৩১৮, ৫৩২৮, মুওয়াত্তা মালেক ১৬৯২, ১৬৯৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৮০৫

পূর্বোক্ত বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘অহংকারবশতঃ যে ব্যক্তি গাঁটের নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তার দিকে (করুণার দৃষ্টিতে) দেখবেন না।’’ উম্মে সালামাহ প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে মহিলারা তাদের কাপড়ের নিম্নপ্রান্তের ব্যাপারে কী করিবে?’ তিনি বললেন, ‘‘আধ হাত বেশী ঝুলাবে।’’ উম্মে সালামাহ বললেন, ‘তাহলে তো তাদের পায়ের পাতা খোলা যাবে!’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে এক হাত পর্যন্ত নীচে ঝুলাবে; তার বেশী নয়।’’

(আবু দাঊদ ও তিরমিজী) (৭৯৫ এর মত)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১২০- বিনয়বশতঃ মূল্যবান পোশাক পরিধান ত্যাগ করা মুস্তাহাব

৮০৬

মু‘আয ইবনে আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি মূল্যবান পোশাক পরার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিনয়বশতঃ তা পরিহার করল, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষের সাক্ষাতে তাকে ডেকে স্বাধীনতা দেবেন, সে যেন ঈমানের (অর্থাৎ ঈমানদারদের পোশাক) জোড়াসমূহের মধ্য থেকে যে কোন জোড়া বেছে নিয়ে পরিধান করে।’’

(তিরমিজী ২৪৮১, আহমাদ ১৫২০৪)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১২১- মধ্যম ধরনের পোশাক পরা উত্তম। অকারণে শরয়ী উদ্দেশ্য ব্যতিত অনুত্তম, যা উপহাস্য হইতে পারে এমন পোষাক পরা যাবে না

৮০৭

‘আমর ইবনে ‘শুআইব স্বীয় পিতা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন যে, তাঁর বান্দার উপর তাঁর প্রদত্ত নেয়ামতের প্রভাব ও চিহ্ন দেখা যাক।’’

(তিরমিজী, হাসান)(তিরমিজী ২৮১৯)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১২২- রেশমের কাপড় পরা, তার উপরে বসা বা হেলান দেওয়া পুরুষদের জন্য অবৈধ, মহিলাদের জন্য বৈধ

৮০৮

উমার ইবনুল খাত্তাব রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা (পুরুষরা) রেশমের কাপড় পরিধান করো না। কেননা, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমের কাপড় পরিধান করিবে, সে আখেরাতে তা থেকে বঞ্চিত হবে। (অর্থাৎ সে জান্নাত হইতে বঞ্চিত হবে।)’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৮২৮, ৫৮৩০, ৫৮৩৪, ৫৮৩৫, মুসলিম ২০৬৯, নাসাঈ ৫৩১২, ৫৩১৩, আবু দাঊদ ৪০৪২, ইবনু মাজাহ ২৮১৯, ২৮২০, ৩৫৯৩, আহমাদ ৯৩, ২৪৪, ৩০৩ , ৩২৩, ৩৫৮, ৩৬৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৮০৯

উমার ইবনুল খাত্তাব রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে আমি বলতে শুনেছি, ‘‘সে-ই রেশম পরিধান করে, যার কোনই অংশ নেই।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৮২৮, ৫৮৩০, ৫৮৩৪, ৫৮৩৫, মুসলিম ২০৬৯, নাসাঈ ৫৩১২, ৫৩১৩, আবু দাঊদ ৪০৪২, ইবনু মাজাহ ২৮১৯, ২৮২০, ৩৫৯৩, আহমাদ ৯৩, ২৪৪, ৩০৩ , ৩২৩, ৩৫৮, ৩৬৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৮১০

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুল সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘দুনিয়াতে যে রেশমী কাপড় পরবে, আখেরাতে সে তা পরতে পাবে না।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৮৩২, মুসলিম ২০৭৩, ইবনু মাজাহ ৩৫৮৮, আহমাদ ১১৫৭৪, ১৩৫৮০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৮১১

আলী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে দেখেছি, তিনি ডান হাতে রেশম ধরলেন এবং বাম হাতে সোনা, অতঃপর বললেন, ‘‘আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য এ দু’টি বস্তু হারাম।’’

(আবু দাঊদ, সহীহ সনদে)(আবু দাঊদ ৪০৫৭, নাসাঈ ৫১৪৪, ইবনু মাজাহ ৩৫৯৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৮১২

আবু মূসা ‘আশআরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘রেশমের পোশাক ও স্বর্ণ আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য অবৈধ করা হয়েছে, আর মহিলাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে।’’

(তিরমিজী, হাসান সহীহ) (তিরমিজী ১৭২০, নাসাঈ ৫১৪৮)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

৮১৩

হুযাইফাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সোনা ও রূপার পাত্রে পান বা আহার করতে আমাদেরকে নিষেধ করিয়াছেন এবং চিকন ও মোটা রেশম পরিধান করতে অথবা (বেড-কভার বা সীট-কভার বানিয়ে) তার উপর বসতেও নিষেধ করিয়াছেন।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৪২৬, ৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১, ৫৮৩৭, মুসলিম ২০৬৭, তিরমিজী ১৮৭৮, নাসাঈ ৫৩০১, আবু দাঊদ ৩৭২৩, ইবনু মাজাহ ৩৪১৪, ৩৫৯০, আহমাদ ২২৭৫৮, ২২৮০৩, ২২৮৪৮, ২২৮৫৫, ২২৮৬৫, ২২৮৯২, ২২৯২৭, ২২৯৫৪, দারেমী ২১৩০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১২৩- চুলকানি রোগ থাকলে রেশমের কাপড় পরা বৈধ

৮১৪

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাঃআঃ যুবাইর ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাঃআঃকে তাদের গায়ে চুলকানি হবার দরুন রেশমী কাপড় পরার অনুমতি দিয়েছিলেন।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৮৩৯, ২৯১৯, ২৯২০, ২৯২২, ৫৮৩৯, মুসলিম ২০৭৬, তিরমিজী ১৭২২, নাসাঈ ৫৩১০, ৫৩১১, আবু দাঊদ ৪০৫৬, ইবনু মাজাহ ৩৫৯২, আহমাদ ১১৮২১, ১১৮৭৯, ১২৪৫২, ১২৫৮০, ১২৮৩৬, ১৩২২৮, ১৩২৭০, ১৩৪৭৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১২৪ – বাঘের চামড়া বিছিয়ে বসা নিষেধ

৮১৫

মু‘আবিয়াহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘রেশমী কাপড় ও বাঘের চামড়ার উপর (বাহনের পিঠে রেখে বা অন্যত্র বিছিয়ে) বসো না।’’

(আবু দাঊদ ৪১২৯, আহমাদ ১৬৩৯৮)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

৮১৬

আবুল মালীহ রাঃআঃ স্বীয় পিতা হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ হিংস্র জন্তুর চামড়ার বিছানায় বসতে নিষেধ করিয়াছেন।

(তিরমিজী ১৭৭১, নাসাঈ ৪২৫৩, আবু দাঊদ ৪১৩২, আহমাদ ২০১৮৩, ২০১৮৯, দারেমী ১৯৮৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছদঃ ১২৫ – নতুন কাপড় বা জুতা ইত্যাদি পরার সময় কী বলতে হয়?

৮১৭

আবু সা‘ঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

১/৮১৭। আবু সা‘ঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ যখন নতুন কাপড় পরতেন, তখন পাগড়ী, জামা কিংবা চাদর তার নাম নিয়ে এই দো‘আ পড়তেন,

‘আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা কাসাউতানীহ, আসআলুকা মিন খাইরিহী অখাইরি মা সুনি‘আ লাহ, অ‘আঊযু বিকা মিন শার্রিহি অশার্রি মা সুনি‘আ লাহ।’

অর্থ- হে আল্লাহ তোমারই নিমিত্তে সমস্ত প্রশংসা, তুমি আমাকে এই (নতুন কাপড়) পরালে, আমি তোমার নিকট এর কল্যাণ এবং এ যার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর এর অকল্যাণ এবং যার জন্য এ প্রস্তুত করা হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।

(তিরমিজী ১৭৬৭, আবু দাঊদ ৪০২০)

হাদীসটির মানঃ হাসান সহীহ

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply