কসম খাওয়ার নিয়ম – মুয়াত্তা হাদীস বই থেকে

কসম খাওয়ার নিয়ম – মুয়াত্তা হাদীস বই থেকে

কসম খাওয়ার নিয়ম – মুয়াত্তা হাদীস বই থেকে, এই অধ্যায়ে হাদীস =৬ টি ( ১৬২৭-১৬৩২ পর্যন্ত ) >> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ৪৪ কাসামত বা কসম নেয়া

পরিচ্ছেদঃ ১ – প্রথমে ওয়ারিসদের কসম নেয়া হয়

১৫৭৪ সাহল ইবনি আবু হাসমা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর বংশের কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তাহাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনি সাহল ও মুহায়্যিসা তাঁদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে খায়বরে চলে গিয়েছিলেন। তথায় মুহায়্যিসার নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, কেউ আবদুল্লাহকে হত্যা করে কূপে ফেলে দিয়েছে। ইহা শুনে মুহায়্যিসা খায়বরের ইহুদীদের নিকট যেয়ে বলল, আল্লাহর কসম, তোমরাই তাকে হত্যা করেছ। ইহুদীরা বলল, আল্লাহর কসম, আমরা তাকে হত্যা করিনি। অতঃপর মুহায়্যিসা, নিজের গোত্রের নিকট এসে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিল। পরিশেষে মুহায়্যিসা তার বড় ভাই হুয়ায়্যিসা ও আবদুর রহমান ইবনি সাহলকে [নিহত ব্যক্তির ভাই] সঙ্গে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট উপস্থিত হল। মুহায়্যিসা যেহেতু খায়বর গিয়েছিল, তাই সে প্রথম কথা বলিতে ইচ্ছা করিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন বড়-র প্রতি লক্ষ্য কর [বড় ভাইকে কথা বলিতে দাও]। তাই প্রথমে হুয়ায়্যিসা কথা বলার মুহায়্যিসা সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করে শুনাল। শুনে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন ইহুদীরা হয় দিয়াত দিবে, না হয় যুদ্ধ করিবে। অতঃপর তিনি এ ব্যাপারে ইহুদীগণকে লিখে জানালেন, এতে উত্তর লিখল যে, আল্লাহর কসম, আমরা হত্যা করি নি। অতঃপর রসূল সাঃআঃ ঐ তিন ব্যক্তিকে বলিলেন, তোমরা কসম করে বল যে, ইহুদীরা হত্যা করেছে। তা হলে তোমরা দিয়াতের মালিক হয়ে যাবে। তারা বলল, আমরা তো কসম খেতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, আচ্ছা, তাহলে ইহুদীগণ কি কসম করেনি যে, তারা মারেনি ? তারা বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ, তারা তো মুসলমান নয় [আমরা তাদের কথা বিশ্বাস করি কিভাবে]। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ নিজের পক্ষ হইতে দিয়াত আদায় করলেন। সাহল বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ, আমার নিকট আমার বাড়িতে একশত উট পাঠালেন। উহাদের মধ্য হইতে একটি লাল উষ্ট্রী আমাকে লাথি মেরেছিল [আজও আমার উহা স্মরণ আছে]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

কসম খাওয়ার নিয়ম -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৫৭৫ বুশাইর ইব্নু ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইব্নু সাহল আনসারী ও মুহায়্যিসা খায়বর গিয়েছিল, সেখানে যেয়ে তারা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে একে অপর হইতে পৃথক হয়ে গেল। আবদুল্লাহকে কেউ হত্যা করিল। মুহায়্যিসা ফিরে এসে তার ভাই হুয়ায়্যিসা ও আবদুর রহমানকে নিয়ে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর খেদমতে উপস্থিত হল এবং আবদুর রহমান স্বীয় ভ্রাতার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর কাছে কথা বলিতে চাইল। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, যে বড় তার প্রতি লক্ষ্য কর। অতঃপর আবদুল্লাহর ঘটনা মুহায়্যিসা ও হুয়ায়্যিসা বর্ণনা করলেন। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, যদি তোমরা পঞ্চাশবার কসম খেতে পার তবে তোমরা দিয়াত প্রাপ্ত হইবে। তাঁরা বলিলেন ইয়া রসূলাল্লাহ্ সাঃআঃ! আমরা তো তখন তথায় ছিলাম না, আমরা দেখিওনি। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, তা হলে ইহুদীরা পঞ্চাশ কসম করে নির্দোষ হয়ে যাবে। তারা বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ্, তারা তো কাফির! তাদের কসম কি করে গ্রহণ করা যাবে ? বুশাইর বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ নিজের পক্ষ হইতে দিয়াত আদায় করলেন। [বুখারি ৬৮৯৮, ঈমাম মুসলিম মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন মুসলিম ১৯৬৯, তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের কাছে ইহা একটি সর্বস্বীকৃত বিষয়, এ ব্যাপারে অনেক আলিমের নিকটও শ্রবণ করেছি এবং পূর্ব যুগের আর পরবর্তী যুগের ঈমামগণও এতে একমত হয়েছেন যে, কসম নেওয়ার ব্যাপারে প্রথমত বাদীপক্ষের নিকট হইতেই কসম নিতে হইবে। বাদীগণই প্রথমত কসম করিবে [যদি তারা কসম না করে তবে বিবাদী হইতে কসম নিতে হইবে। যদি তারা কসম করে, তবে তারা নির্দোষ সাব্যস্ত হইবে]।

নিম্নোক্ত দুটির যে কোন একটির জন্যই কসম নেয়া অনিবার্য হয়। প্রথমত মৃত্যুর পূর্বে নিহত ব্যক্তি নিজেই বলবে, যদি তার পক্ষে বলা সম্ভব হয়, আমাকে অমুক ব্যক্তি হত্যা করেছে, ইহা তখনই যখন কোন সাক্ষী না থাকে। দ্বিতীয়ত নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ যখন কারো উপর হত্যার সন্দেহ করে [অথচ কোন সাক্ষী পাওয়া না যায়]। আমাদের নিকট এই দুটি কারণেই কসম নেয়া অনিবার্য হয়। এতদ্ব্যতীত অন্য কোন কারণে কসম নেয়া অনিবার্য হয় না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের কাছে এই সুন্নাত সর্বসম্মত এবং এর উপর সর্বসাধারণের আমলও রয়েছে যে, প্রথমে বাদী পক্ষ হইতেই কসম নিতে হইবে। সে হত্যা ইচ্ছাকৃত হত্যাই হোক অথবা অনিচ্ছাকৃত হত্যাই হোক।মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বানী হারিসের কোন আত্মীয় খায়বরে মারা যাওয়ার পর প্রথমত বানী হারিসকেই কসম করিতে বলেছিলেন।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যদি বাদীপক্ষ কসম করে, তবে তারা যাদের ব্যাপারে কসম করেছে, তাদেরকে হত্যা করিতে পারবে। তবে এ কসমের শুধুমাত্র একজনকে হত্যা করা যাবে। কিন্তু এমতাবস্থায় প্রথমে বাদী পক্ষ হইতে পঞ্চাশ কসম নেয়া হইবে। যদি তারা পঞ্চাশজন হয় তবে প্রত্যেকে একটি কসম করিবে। আর যদি তারা সংখ্যায় পঞ্চাশ জনের কম হয় অথবা তাদের কেউ কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তবে তাদের হইতে দুই দুইবার অথবা তিন তিনবার কসম নিয়ে পঞ্চাশ পূর্ণ করিতে হইবে। কিন্তু যখন নিহত ব্যক্তির এমন ওয়ারিসগণ যাদের হত্যাকারীকে ক্ষমা করার অধিকার আছে, তাদের একজনও যদি কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তবে এই একজনের কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশের ফলে কিসাস আর অনিবার্য হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ যাদের ক্ষমা করবার অধিকার নাই এমন ব্যক্তিদের কেউ কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও অবশিষ্ট ব্যক্তিদের হইতে কসম নেয়া হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যাদের ক্ষমা করবার অধিকার রয়েছে এমন ওয়ারিসদের একজনও যদি কসম করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, তবে অবশিষ্ট ব্যক্তিদের হইতে আর কসম নেয়া হইবে না, বরং এমতাবস্থায় বিবাদীগণ হইতে কসম নিতে হইবে, বিবাদীদের পঞ্চাশজন পঞ্চাশ কসম করিবে। যদি তাদের সংখ্যা পঞ্চাশজন হইতে কম হয়, তবে দুই দুইবার, তিন তিন বার করে হলেও পঞ্চাশ পূর্ণ করিতে হইবে। যদি বিবাদী মাত্র একজন হয়, তবে এই একজন হইতেই পঞ্চাশ কসম নিতে হইবে। যদি এই এক ব্যক্তি পঞ্চাশ কসম করে ফেলে, তবে সে নির্দোষ সাব্যস্ত হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, হত্যার বেলায় পঞ্চাশ কসম নেয়া হয়ে থাকে আর অন্যান্য দাবি আদায়ের জন্য শুধু এক কসমই নেয়া হয়। কেননা মানুষ কাউকেই কারো সম্মুখে হত্যা করে না। যদি অন্যান্য দাবির মতো হত্যার বেলায়ও মাত্র একটি কসমই নেয়া হত তা হলে অনেক হত্যাই বৃথা যেত এবং মানুষ হত্যার উৎসাহ পেত। কিন্তু হত্যার কসমের বেলায় প্রথম বাদী পক্ষ হইতেই কসম নেয়ার প্রথা নির্ধারিত হয়েছে যেন মানুষ হত্যা করিতে সাহস না করে এবং এই ভেবে ভীত থাকে যে, এ ব্যাপারে তো নিহত ব্যক্তির কথাই ধর্তব্য।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যদি কোন একটি পূর্ণ সম্প্রদায়ের উপর হত্যার অভিযোগ আনা হয় যাতে অনেক লোক রয়েছে, আর নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ তাদের নিকট হইতে কসম নিতে ইচ্ছা করে, তা হলে ঐ সমস্ত লোকের প্রত্যেক ব্যক্তি পঞ্চাশটি করে কসম করিবে। সকলে মিলে পঞ্চাশটি কসম করলে চলবে না। এ ব্যাপারে আমি এটাই উত্তম শ্রবণ করেছি।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, নিহত ব্যক্তির আসাবা যারা এই হত্যার হকদার তাদেরকেই কসম করানো হইবে। আর তাদের কসম করার পরই কিসাস নেয়া যাবে।

[ঈমাম আবু হানীফা [রাহিমাহুল্লাহ]-এর মতে কসমের দ্বারা কিসাস সাব্যস্ত হয় না, শুধু দিয়াত [রক্তপণ] সাব্যস্ত হয়ে থাকে।]

কসম খাওয়ার নিয়ম -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ২ – ইচ্ছাকৃত হত্যায় নিহত ব্যক্তির কোন্ কোন্ ওয়ারিস হইতে কসম নেয়া হইবে

________________________________________

আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই যে, হত্যার কসমে স্ত্রীলোকদের নিকট হইতে কসম নেয়া হইবে না। যদি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস শুধু স্ত্রীলোকই হয়, তবে ইচ্ছাকৃত হত্যায় না তাদের কসম করার অধিকার থাকে, না ক্ষমা করার। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এক ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হল, তার উত্তরাধিকারী ওয়ারিসগণ বলল আমরা কসম করে কিসাস নিব। তবে তাদের জন্য ইহা বৈধ হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এমতাবস্থায় যদি নারীগণ ক্ষমা করিতে ইচ্ছা করে তবে তাদের এই ইচ্ছা করা বৃথা। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এ ব্যাপারে আসাবা ও ওয়ারিসগণ স্ত্রীগণ অপেক্ষা অগ্রগণ্য। কেননা তারা অধিকারী হিসেবে নিহত ব্যক্তির অধিক নিকটবর্তী আর তারা কসম করেছে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যদি আসাবা বা ওয়ারিসগণ কসম করার পর নিজেরাই ক্ষমা করে দেয় আর স্ত্রীগণ ক্ষমা না করে, তবে স্ত্রীদের কিসাস নেয়ার অধিকার থাকিবে। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, ইচ্ছাকৃত হত্যায় অন্তত দুইজন বাদী হইতে কসম নিতেই হইবে। তাদের হইতে পঞ্চাশ কসম নেওয়ার পর কিসাসের আদেশ দেয়া হইবে।

যারকানী বলেন, কিসাস যেরূপ দুইজন সার্ক্ষীর সাক্ষ্য ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না, তদ্রুপ কসমের বেলায়ও দুই অথবা তদূর্ধ্ব, বাদী যতক্ষণ পর্যন্ত পঞ্চাশ কসম না করিবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিসাসের আদেশ দেয়া হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যদি কয়েকজন লোক সম্মিলিতভাবে এক ব্যক্তিকে এইভাবে প্রহার করে যে, ঐ ব্যক্তি সকলের আঘাতে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করে, তা হলে কিসাসে সকলকেই হত্যা করা হইবে। যদি কয়েকদিন পর মারা যায়, তবে কসম নিতে হইবে। আর কসমের দারুন তাদের মধ্য হইতে শুধু এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হইবে। কেননা কসমের দ্বারা সর্বদা এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।

পরিচ্ছেদঃ ৩ – অনিচ্ছাকৃত অর্থাৎ ভুলক্রমে হত্যার কসম

অনিচ্ছাকৃত হত্যায়ও বাদীপক্ষই প্রথমত কসম করিবে। তারা নিজেদের দিয়াতের অংশ অনুপাতে কসম করিবে, পঞ্চাশ কসম। যেমন মৃত ব্যক্তির এক ছেলে আর তিন কন্যা রয়েছে। এখানে ছেলের দুই অংশ আর তিন কন্যার তিন অংশ- মোট পাঁচ অংশ হল। পঞ্চাশকে পাঁচ ভাগ করলে প্রতি অংশে দশ কসম এল। যেহেতু ছেলে দুই অংশ পাবে, অতএব তাকে বিশ কসম করিতে হইবে আর প্রত্যেক কন্যা করিবে দশ কসম।

যদি কসমে ভগ্নাংশ এসে পড়ে তা হলে যার উপর ভগ্নাংশের অংশ বেশি পড়বে তার অংশেই পূর্ণ কসম বর্তাবে। যেমন মৃত ব্যক্তি মা ও পিতা রেখে গেল। যেহেতু মা ১/৩ অংশের মালিক, পঞ্চাশকে তিন ভাগ করলে ১৬ ২/৩ প্রতি অংশে আসে। যেহেতু ২/৩ ভগ্নাংশের বেশি অংশ, অতএব মার অংশে ১৭ কসম আসবে আর অবশিষ্ট ৩৩ কসম পিতার অংশে পড়বে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস যদি শুধু নারীই হয় তা হলে তারাই কসম করে দিয়াত [রক্তপণ] গ্রহণ করিবে।

আর যদি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস শুধু একজন পুরুষ হয় তবে সে একাই পঞ্চাশ কসম করে দিয়াত গ্রহণ করিবে।

পরিচ্ছেদঃ ৪ – কাসামাতে মীরাস বন্টনের পদ্ধতি

যদি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারিগণ দিয়াত [রক্তপণ] গ্রহণ করে তা হলে উহা আল্লাহ্‌র কিতাবে বর্ণিত নিয়মে বন্টন করা হইবে। মৃত ব্যক্তির কন্যাগণ, ভাগ্নিগণ এবং যে সমস্ত নারী তার উত্তরাধিকারিণী তারা অংশ পাবে। যদি তাদের অংশ দেয়ার পরও কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে উহা নিকটাত্মীয় আসবাবগণ পাবে। {১}

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যদি নিহত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকারী অনুপস্থিত থাকে, আর কেউ কেউ উপস্থিত থাকে, উপস্থিত উত্তরাধিকারিগণ কসম করে নিজেদের অংশ গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করে, তবে তারা সম্পূর্ণ কসম পূর্ণ করার পূর্বে তাদের অংশ গ্রহণ করিতে পারবে না, অবশ্য যদি তারা পঞ্চাশ কসম পূর্ণ করে, তবে দিয়াতের অংশ যা তাদের ভাগে পড়ে উহা তারা গ্রহণ করিতে পারবে। কেননা পঞ্চাশ কসমের পূর্বে তো হত্যাই সাব্যস্ত হয় না, আর হত্যা সাব্যস্ত না হলে দিয়াতও সাব্যস্ত হয় না, উপস্থিত উত্তরাধিকারগণের শপথ শেষ হওয়ার পর অনুপস্থিত উত্তরাধিকারী উপস্থিত হয়, তবে উত্তরাধিকারে অংশ হিসেবে পঞ্চাশ শপথ হইতে তার অংশের শপথ করার পর সে তার অংশ নিতে পারবে। এইরূপ সমস্ত উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশ পূর্ণ হয়ে যাবে। যদি বৈপিত্রেয় ভাই আসে, তবে সে ১/৩ পাবে এবং পঞ্চাশ কসমের অংশ হারে কসম করে স্বীয় অংশ গ্রহণ করিবে। যদি সে কসম না করে তবে তার অংশ সে পাবে না। যদি কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক উত্তরাধিকারী অনুপস্থিত থাকে, তবে উপস্থিত উত্তরাধিকারী হইতে পঞ্চাশ কসম নেয়া হইবে। অতঃপর যদি অনুপস্থিত ব্যক্তি এসে পড়ে, তা হইতেও তার অংশের অনুপাতে কসম নেয়া হইবে। আর যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক বালেগ হয়ে যায় তখন সেও স্বীয় অংশ অনুপাতে কসম করিবে। এই ব্যাপারে এটাই উত্তম সিদ্ধান্ত যা আমি শ্রবণ করেছি।

পরিচ্ছেদঃ ৫ ( কসম খাওয়ার নিয়ম ) – দাসের ব্যাপারে কসম

আমাদের কাছে এই সিদ্ধান্ত রয়েছে যে, যদি দাস ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নিহত হয়, আর তার মালিক একজন সাক্ষী উপস্থিত করে, তবে সে ঐ সাক্ষীর সাথে একটি কসম করিবে। তা হলে সে দাসের মূল্য প্রাপ্ত হইবে।দাসদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হত্যায় কসম নেই। তাদের ব্যাপারে কসম অনুযায়ী ফায়সালা করার কথা আমি কোন আলিমের নিকট শুনিনি।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যদি দাস ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নিহত হয়, তা হলে তার প্রভুর উপর কসমের বিধান বা শপথ অর্পিত হয় না। মালিক তখনই মূল্যপ্রাপ্ত হইবে, যখন সে দুইজন সাক্ষী উপস্থিত করিবে অথবা একজন সাক্ষীর সাথে নিজেও সাক্ষী হিসাবে এক কসম করিবে।

By মুয়াত্তা মালিক

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply