কবর জিয়ারতের দোয়া

কবর জিয়ারতের দোয়া

কবর জিয়ারতের দোয়া >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৫, অধ্যায়ঃ ৮

  • অধ্যায়ঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অদ্ধায়ঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ

১৭৬২. বুরায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে ক্ববর যিয়ারত করিতে নিষেধ করেছিলাম। [কিন্তু এখন] তোমাদের ক্ববর যিয়ারতের অনুমতি দিচ্ছি। [ঠিক] এভাবে আমি তোমাদের কুরবানীর গোশ্‌ত তিন দিনের বেশী জমা করে রাখতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন তোমরা যতদিন খুশী তা রাখতে পারো। আর আমি তোমাদেরকে নবীয [নামক শরাব] মশক ছাড়া অন্য কোন পাত্রে রেখে পান করিতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু এখন তোমরা তা যে কোন পাত্রে রেখে পান করিতে পার। তবে সাবধান! নেশা এনে দেয় এমন কোন দ্রব্য কখনো পান করিবে না

। [মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : মুসলিম ৯৭৭, আবু দাউদ ৩৬৯৮, নাসায়ী ২০৩২, আহমাদ ২২৯৫৮, ইবনি হিব্বান ৫৪০০, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ২৪৭৫। কবর জিয়ারতের দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৬৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] একবার নিজের মায়ের ক্ববরে গেলেন। সেখানে তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং তাহাঁর আশপাশের লোকদেরকেও কাঁদালেন। তারপর বললেন, আমি আমার মায়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করিতে আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। তারপর আমি আমার মায়ের ক্ববরের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেয়া হলো। তাই তোমরা ক্ববরের কাছে যাবে। কারণ ক্ববর মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়।

[মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : মুসলিম ৯৭৬, আবু দাউদ ৩২৩৪, নাসায়ী ২০৩৪, ইবনি মাজাহ ১৫৭২, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৩৯০, সহীহ আত তারগীব ৩৫৪২। কবর জিয়ারতের দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৬৪. বুরায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ক্ববরস্থানে গেলে এ দুআ পড়তে শিখিয়েছেন:

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَإِنَّا إِنْ شَآءَ اللّهُ بِكُمْ لَلَاحِقُوْنَ نَسْأَلُ اللّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ

“আস্‌সালা-মু আলায়কুম আহলাদ দিয়া-রি মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা ওয়া ইন্না-ইনশা-আল্ল-হু বিকুম লালা-হিকূনা নাসআলুল্ল-হা লানা- ওয়ালাকুমুল আ-ফিয়াহ্”

[অর্থাৎ হে ক্ববরবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হচ্ছি। আমরা আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।]।

[মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৭৫, নাসায়ী ২০৪০, ইবনি মাজাহ ১৫৪৭, আহমাদ ২২৯৮৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭২১২, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৫১, ইরওয়া ৭৭৬। কবর জিয়ারতের দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অদ্ধায়ঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৭৬৫. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] [একবার] মাদীনার ক্ববরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ক্ববরস্থানের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ

“আসসালা-মু আলায়কুম ইয়া-আহলাল কুবূরি, ইয়াগ্‌ফিরুল্ল-হু লানা-ওয়ালাকুম, আন্‌তুম সালাফুনা- ওয়ানাহ্‌নু বিল আসার”

[অর্থাৎ হে ক্ববরবাসী! তোমাদের ওপর সালাম পেশ করছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তোমাদেরকে মাফ করুন। তোমরা আমাদের পূর্ববর্তী আর আমরা তোমাদের পশ্চাৎগামী]।

[তিরমিজি; তিনি বলেছেন, এ হাদিসটি হাসান গরীব] {১},{১} জইফ : আত তিরমিজি ১০৫৩, রিয়াযুস সলিহীন ৫৮৯, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৩৩৭২। কারণ এর সানাদে ক্ববূস ইবনি আবী যব্ইয়ান একজন দুর্বল রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

অদ্ধায়ঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৭৬৬. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে দিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার ঘরে আসতেন, সেদিন শেষ রাতে উঠে তিনি বাক্বীতে [মাদীনার ক্ববরস্থান] চলে যেতেন। [ও স্থানে] তিনি বলিতেন,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَأَتَاكُمْ مَا تُوعِدُونَ غَدًا مُؤَجَّلُونَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللّهُ بِكُمْ لَاحِقُوْنَ اللّهُمَّ اغْفِرْ لِأَهْلِ بَقِيْعِ الْغَرْقَدِ

“আসসালা-মু আলায়কুম দা-রা ক্বওমিন মুমিনীন, ওয়া আতা-কুম মা-তূইদূনা গাদান মুআজ্জালূনা, ওয়া ইন্না- ইনশা-অল্ল-হু বিকুম লা-হিকূন, আল্ল-হুম্মাগ্‌ফির লিআহ্‌লি বাক্বীইল গার্‌ক্বদ”

[অর্থাৎ হে মুমিনের দল! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদেরকে আগামীকালের [ক্বিয়ামতের] যে প্রতিশ্রুতি [সাওয়াব অথবা শাস্তি] দেয়া হয়েছিল তা তোমরা কি পেয়ে গেছ? যে ব্যাপারে তোমাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল [ক্বিয়ামাত পর্যন্ত]। আর নিশ্চয়ই আমরাও আল্লাহ চাইলে তোমাদের সাথে মিলিত হবই। হে আল্লাহ! বাক্বী গারক্বদ্‌বাসীদেরকে মাফ করে দিন!]

। [মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৭৪, নাসায়ী ২০৩৯, ইবনি হিব্বান ৩১৭২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭২১০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৫৬। কবর জিয়ারতের দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৬৭. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ক্ববর যিয়ারতে আমি কি বলব? তিনি বললেন,

 السَّلَامُ عَلى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللّهُ بِكُمْ لَلَاحِقُوْنَ

“আসসালা-মু আলা- আহলিদ দিয়া-রি মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা, ওয়া ইয়ার্‌হামুল্ল-হুল মুসতাক্বদিমীনা মিন্না- ওয়াল মুস্‌তাখিরীনা, ওয়া ইন্না-ইন্‌শা-আল্ল-হু বিকুম লালা-হিকূন”

[অর্থাৎ সালাম বর্ষিত হোক মুমিন মুসলিমের বাসস্থানের অধিবাসীদের প্রতি! আর আল্লাহ আমাদের রহম করুন যারা প্রথমে চলে গেছে আর যারা পরে আসবে তাদের উপর, ইনশাআল্লাহ আমরাও শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিত হব।]।

[মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৭৪, নাসায়ী ২০৩৭, ইবনি হিব্বান ৭১১০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭২১১, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৪৪২১। কবর জিয়ারতের দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৬৮. মুহাম্মাদ ইবনি নুমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এ হাদিসের সানাদ নবী [সাঃআঃ] পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। তিনি [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমুআতে নিজ মাতা-পিতা অথবা তাদের দুজনের বা একজনের ক্ববর যিয়ারত করিবে [সেখানে দুআয়ে মাগফিরাত করিবে] তাদের মাফ করে দেওয়া হবে। [যিয়ারতকারী মাতা-পিতার সাথে] সদাচরণকারী হিসাবে গণ্য করা হবে। [বায়হক্বী মুরসাল হাদিস হিসেবে শুআবুল ঈমানে বর্ণনা করেন।] {১}

{১} মাওযূ : শুআবুল ঈমান ৭৫২২, সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাহ্ ৪৯, ত্ববারানী ফিল আওসাত্ব ১৯৯ পৃঃ। কারণ শুআবুল ঈমানের সানাদে মুহাম্মাদ ইবনি নুমান মাজহূল রাবী। আর ত্ববারানীর সানাদে ইয়াহ্ইয়া একজন মিথ্যুক রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ জাল হাদিস

১৭৬৯. আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে ক্ববর যিয়ারত করিতে নিষেধ করেছিলাম। [এখন] তোমরা ক্ববর যিয়ারত করিবে। কারন ক্ববর যিয়ারত দুনিয়ার আকর্ষণ কমিয়ে দেয় ও পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

[ইবনি মাজাহ] {১},{১} জইফ : ইবনি মাজাহ ১৫৭১, ইবনি হিব্বান ৯৮১, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৩৮৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১৯৭, জইফ আত তারগীব ২০৭৩, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৪২৭৯। কার এর সানাদে ইবনি জুরায়জ একজন মুদ্দালিস রাবী। আর আইয়ূব ইবনি হানী-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে فِيْهِ لِيْنٌ তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৭৭০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বেশী বেশী ক্ববর যিয়ারতকারী মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করিয়াছেন।

[আহ্‌মাদ, তিরমিজি, ইবনি মাজাহ; ঈমাম তিরমিজি বলেন, এ হাদিসটি হাসান ও সহীহ। তিরমিযি আরো বলেছেন, কোন কোন আলিমের ধারণা এ হাদিসটি ক্ববর যিয়ারত নিষিদ্ধ সময়ের। কিন্তু ক্ববর যিয়ারতের অনুমতি দেবার পর পুরুষ মহিলা সকলেই এর মধ্যে গণ্য হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে কোন কোন আলিমের মতে, মহিলারা অপেক্ষাকৃত অধৈর্য, অসহিষ্ণু ও কোমলমতি বলে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদের সেখানে যাওয়া অপছন্দ করিয়াছেন। তাই ক্ববর যিয়ারতে যাওয়া মহিলাদের জন্য এখনো নিষিদ্ধ] {১}; {১} সহীহ লিগায়রিহী : আত তিরমিজি ১০৫৬, আহমাদ ৮৪৪৯, সহীহ আত তারগীব ৩৫৪৫, ইবনি মাজাহ ১৫৭৬, ইবনি হিব্বান ৩১৭৮।এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ লিগাইরিহি

১৭৭১, আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যখন সেই ঘরে প্রবেশ করতাম যেখানে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শুয়ে আছেন তখন আমি আমার চাদর খুলে রাখতাম। আমি মনে মনে বলতাম, তিনি তো আমার স্বামী, আর অপরজনও আমার পিতা। কিন্তু যখন উমারকে এখানে তাঁদের সাথে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম, তখন থেকে আমি যখনই ঐ ঘরে প্রবেশ করেছি, উমারের কারণে লজ্জায় শরীরে চাদর পেঁচিয়ে রেখেছি ।

[আহ্‌মাদ] {১}, {১} সহীহ : আহমাদ ২৫৬৬০, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪৪০২। কবর জিয়ারতের দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

By মিশকাত মুহিউস সুন্নাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply