এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা বার্তা বন্ধ রাখা হারাম।

এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা বার্তা বন্ধ রাখা হারাম।

এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২৮০ : তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ إِخۡوَةٞ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَ أَخَوَيۡكُم ١٠ ﴾ [الحجرات: ١٠] 

অর্থাৎ সকল ঈমানদাররা তো পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা দুই ভাই-এর মধ্যে সন্ধি স্থাপন কর। [সূরা হুজুরাত ১০ আয়াত]

তিনি আরও বলেছেন, ﴿ وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ ٢ ﴾ [المائ‍دة: ٢] 

অর্থাৎ পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তোমরা একে অন্যের সাহায্য করো না। [সূরা মায়েদাহ ২ আয়াত]

1/1599 وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَقَاطَعُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَاناً، وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَث» . متفق عَلَيْهِ

১/১৫৯৯। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা পরস্পর সম্পর্ক-ছেদ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখবে।’’ [বুখারী ও মুসলিম] [1]

1/1600. وَعَنْ أَبي أَيُّوبَ رضي الله عنه  : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ: يَلْتَقِيَانِ، فَيُعْرِضُ هَذَا، وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ» . متفق عَلَيْهِ

 ২/১৬০০। আবূ আইয়ূব রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখে। যখন তারা পরস্পর সাক্ষাৎ করে, তখন এ এ দিকে মুখ ফিরায় এবং ও ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তাহাদের দু’জনের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই হইবে, যে সাক্ষাৎকালে প্রথমে সালাম পেশ করিবে।’’ [বুখারী ও মুসলিম][2]

3/1601 وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «تُعْرَضُ الأَعْمَالُ فِي كُلِّ اثْنَيْنِ وَخَمْيسٍ، فَيَغْفِرُ اللهُ لِكُلِّ امْرِئٍ لاَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئاً، إِلاَّ امْرَءاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ، فَيَقُولُ : اتْرُكُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا» . رواه مسلم

৩/১৬০১। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়। সুতরাং প্রত্যেক সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করেনি। তবে সেই ব্যক্তিকে নয়, যার সাথে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের শত্রুতা থাকে। [তাহাদের সম্পর্কে] বলা হয়, এদের দু’জনকে সন্ধি করা পর্যন্ত অবকাশ দাও।’’ [মুসলিম] [3]

4/1602 وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ : «إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يَعْبُدَهُ المُصَلُّونَ فِي جَزِيرَةِ العَرَبِ، وَلَكِنْ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ» . رواه مسلم

৪/১৬০২। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে এ কথা বলিতে শুনিয়াছি, ‘‘নিশ্চয় শয়তান এ ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে যে, আরব দ্বীপে নামাযী [মুসলিম]রা তার পূজা করিবে। তবে [এ বিষয়ে সুনিশ্চিত] যে, সে তাহাদের মধ্যে উস্কানি দিয়ে [উত্তেজনা সৃষ্টি করে তাহাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত করিতে সফল হইবে।]’’ [মুসলিম] [4]

5/1603 وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثٍ، فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلاَثٍ فَمَاتَ، دَخَلَ النَّارَ» . رواه أَبُو داود بإسناد عَلَى شرط البخاري ومسلم

৫/১৬০৩। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কোন মুসলিমের জন্য এ কাজ বৈধ নয় যে, তার কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে এবং সেই অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে।’’ [আবূ দাঊদ বুখারী-মুসলিমের শর্তাধীন সূত্রে] [5]

6/1604 وَعَنْ أَبي خِراشٍ حَدْرَدِ بنِ أَبي حَدْرَدٍ الأسلَمِيِّ . وَيُقَالُ : السُّلَمِيّ الصَّحَابِي رضي الله عنه : أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ : «مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً فَهُوَ كَسَفْكِ دَمِهِ» . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

৬/১৬০৪। আবূ খিরাশ হাদরাদ ইবনি আবূ হাদরাদ আসলামী, মতান্তরে সুলামী সাহাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি নবী সাঃআঃ-কে বলিতে শুনেছেন যে, ‘‘যে ব্যক্তি তার কোন [মুসলিম] ভাইয়ের সঙ্গে বছরব্যাপী বাক্যালাপ বন্ধ করিবে, তা হইবে তার রক্তপাত ঘটানোর মত।’’ [আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে] [6]

7/1605 وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أنًّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لَا يَحِلُّ لِمُؤْمِنٍ أنْ يَّهْجُرَ مُؤْمِناً فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَإَنْ مَرَّتْ بِهِ ثَلَاثٌ، فَلْيَلْقَهُ، وَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ، فَقَدِ اشْتَرَكَا فِيْ الْأَجْرِ، وَإٍنْ لَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، فَقَدْ بَاءَ بِالْإِثْمِ، وَخَرَجَ الْمُسَلِّمُ مِنَ الْهَجْرَةِ». رواهُ أبو داود بإسنادٍ حسن . قال أبو داود : إذا كَانَتِ الهجْرَةُ للهِ تَعالى فَلَيْس مِنْ هذَا في شيءٍ .

৭/১৬০৫। আবূ হুরায়রাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন: কোন মুমিন লোকের পক্ষে অন্য কোন মু‘মিন লোককে তিনদিনের বেশি ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। তিন দিন অতিক্রম হওয়ার পর যদি সাক্ষাৎ করে ও তাকে সালাম দেয় এবং অপরজনও সালামের জবাব দেয়, তবে দু’জনই সাওয়াব পাবে। যদি সে সালামের উত্তর না দেয়, তাহলে গুনাহগার হইবে এবং সালামকারী ত্যাগ করার গুনাহ থেকে পরিত্রাণ যাবে। [আবূ দাঊদ হাদিসটি হাসান সনদে বর্ণনা করিয়াছেন][7]

আবু দাউদ বলেন, তবে যদি মহান আল্লাহর কারণে সে তাকে পরিত্যাগ করে থাকে তবে সেটা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।


[1] সহীহুল বুখারী ৬০৫৬, ৬০৭৬, মুসলিম ২৫৫৯, তিরমিযী ১৯৩৫, আবূ দাউদ ৪৯১০, আহমাদ ১১৬৬৩, ১২২৮০, ১২৬৪০, ১২৭৬৭, ১২৯৪১, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮৩

[2] সহীহুল বুখারী ৬০৭৭, ৬২৩৭, মুসলিম ২৫৬০, তিরমিযী ১৯৩২, আবূ দাউদ ৪৯১১, আহমাদ ২৩০১৭, ২৩০৬৪, ২৩০৭৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮২

[3] মুসলিম ২৫৬৫, তিরমিযী ৭৪৭, ২০২৩, আবূ দাউদ ৪৯১৬, ইবনু মাজাহ ১৭৪০, আহমাদ ৭৫৮৩, ৮১৬১, ৮৯৪৬, ৯৯০২, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮৬, ১৬৮৭

[4] মুসলিম ২৮১২, তিরমিযী ১৯৩৭, আহমাদ ১৩৯৭৫, ১৪৪০২, ১৪৫২৩, ১৪৬১৮

[5] আবূ দাউদ ৪৯১২, ৪৯১৪, মুসলিম ২৫৬২, আহমাদ ৮৮৪৮

[6] আবূ দাউদ ৪৯১৫, আহমাদ ১৭৪৭৬

[7] আমি [আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এর সনদে হিলাল মাদানী রয়েছেন। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। দেখুন ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ [২০২৯)।

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply