ওয়ালিমাহ। বিবাহের ওয়ালিমা করা শরীয়তসম্মত

ওয়ালিমাহ। বিবাহের ওয়ালিমা করা শরীয়তসম্মত

 ওয়ালিমাহ। বিবাহের ওয়ালিমা করা শরীয়তসম্মত >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ৪ঃ ওয়ালিমাহ

পরিচ্ছেদ ০১. বিবাহের ওয়ালিমা করা শরীয়তসম্মত
পরিচ্ছেদ ০২. ওয়ালিমার দাওয়াত কবুল করার বিধান
পরিচ্ছেদ ০৩. রোযাদারের ওয়ালিমার দাওয়াতের সম্মতিদান এবং ভক্ষণ করা
পরিচ্ছেদ ০৪. দাওয়াত দেওয়ার একদিন পর দাওয়াত কবুল করার বিধান
পরিচ্ছেদ ০৫. বিবাহের ওয়ালিমার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিক নির্দেশনা
পরিচ্ছেদ ০৬. দু`জন নিমন্ত্রণকারী একত্রে দাওয়াত দিলে কার দাওয়াত কবুল করিবে – এর বিধান
পরিচ্ছেদ ০৭. হেলান দিয়ে বসে খাওয়া
পরিচ্ছেদ ০৮. খাওয়ার শিষ্টাচারিতা সমূহ
পরিচ্ছেদ ০৯. থালার চতুর্দিক থেকে খাওয়ার বিধান
পরিচ্ছেদ ১০. খাবারকে নিন্দা করা অপচ্ছদনীয়
পরিচ্ছেদ ১১. বাম হাত দ্বারা খাওয়া নিষেধ
পরিচ্ছেদ ১২. পাত্রে ফুঁ দেওয়া অথবা শ্বাস ফেলা নিষেধ

পরিচ্ছেদ ০১. বিবাহের ওয়ালিমা করা শরীয়তসম্মত

১০৩৮ – আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] `আবদুর রহমান ইব্‌নু আওফ [রাঃআঃ]-এর দেহে সুফ্‌রার [হলুদ রঙ] চিহ্ন দেখিতে পেয়ে বলিলেন, এ কী? `আবদুর রহমান [রাঃআঃ] বলিলেন, হে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমি এক মহিলাকে একটি খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে বিয়ে করেছি। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহ্‌ তা`আলা তোমার এ বিয়েতে বারাকাত দান করুন। তুমি একটি ছাগলের দ্বারা হলেও ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর। ; শব্দবিন্যাস মুসলিমের। {১১৩৬}

{১১৩৬} বুখারি ২০৪৯, ২২৯৩, ৩৭৮১, ৩৯৩৭, ৫০৭২, মুসলিম ১৪২৭, তিরমিজি ১০৯৪, ১৯৩৩, নাসায়ী ৩৩৪১, ৩৩৫২, ৩৩৭২, ২১০৯, ইবনু মাযাহ ১৯০৭, আহমাদ ১২২৭৪, ১২৫৬৪, ১২৭১০, মালেক ১১৫৭, দারেমী ২২০৪/ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. ওয়ালিমার দাওয়াত কবুল করার বিধান

১০৩৯ – ইবনু `উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওয়ালীমার দাওয়াত করা হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করিবে।

মুসলিমে আছে- যখন কেউ তার [মুসলিম] ভাইকে বিবাহ উপলক্ষ্যে বা তদনুরূপ কোন ব্যাপারে দা`ওয়াত করিবে তখন যেন সে তা গ্রহণ করে। {১১৩৭}

{১১৩৭} বুখারি ৪১৭৯, মুসলিম ১৪২৯, তিরমিজি ১০৯৮, আবূ দাউদ ৩৭৩৬, ৩৭৩৮, ইবনু মাযাহ ১৯১৪, আহমাদ ৪৬৯৮, ৪৭১৬, মালেক ১১৫৯, দারেমী ২০৮২, ২২০৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৪০ – আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন- ওয়ালিমাহর ঐ খানা মন্দ খানা যার আগমনকারীকে নিষেধ করা হয় আর অস্বীকারকারীকে আহবান করা হয়। আর যে ব্যক্তি ওয়ালিমাহর দা`ওয়াত গ্রহণ করেনা সে আল্লাহ্‌ ও তদীয় রসূল [সাঃআঃ] এর নাফারমানী করে। {১১৩৮}

{১১৩৮} বুখারি ৫১৭৭, মুসলিম ১৪৩২, আবূ দাউদ ৩৭৪২, ইবনু মাযাহ ১৯১৩, আহমাদ ৭৫৬৯, ৯০০৮, ১০০৪০, মালেক ১১৬০, দারেমী ২০৬৬। ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ৩/২৪৭ গ্রন্থে বলেন, ইবনু উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৪/৬০৯ গ্রন্থে বলেন, এর সনদের ব্যাপারে কিছু কথা আছে। ইবনুল কাত্তান তাহাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম ৩/১২১ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে যিয়াদ বিন আবদুল্লাহ ও আত্বা ইবনুস স্যিব বর্ণনাকারীদ্বয় হচ্ছে মুখতালিত্ব [এলোমেলো বর্ণনাকারী]। শাইখ আলবানী জঈফ তিরমিজি ১০৯৭, জঈফ আল জামে ৩৬১৬ গ্রন্থদ্বয়ে একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম সুয়ূত্ব আল জামেউস সগীর ৫২৬০ গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন, আবদুর রহমান মুবারকপুরী তুহফাতুল আওয়াযী ৩/৫৫১ গ্রন্থে বলেন, [আরবি] –এর অনেক শাহেদ থাকায় বোঝা যাচ্ছে হাদিসটির মূল ভিত্তি রয়েছে। বিন বায হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৬০০, এর সনদ দুর্বল আর এর শাহেদ হাদিসগুলোও দুর্বল। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. রোযাদারের ওয়ালিমার দাওয়াতের সম্মতিদান এবং ভক্ষণ করা

১০৪১ – আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ দা`ওয়াত প্রাপ্ত [আমন্ত্রিত ] হইবে , সে যেন তা গ্রহণ করে। যদি আমন্ত্রিত ব্যক্তি রোযাদার হয় তবে সে তার জন্য দু`আ করিবে। আর যদি রোযাদার না হয় তবে যেন সে খানা খায়। {১১৩৯}

{১১৩৯} বুখারি ১৪৩১, তিরমিজি ৭৮০, আবূ দাঊদ ২৪৬০, আহমাদ ৭৬৯১, ১০২০৭। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৪২ – মুসলিমে জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে; তাতে আছে- ইচ্ছা হলে খাবে নতুবা খাওয়া বর্জন করিবে। {১১৪০}

{১১৪০} বুখারি ১৪৩০, আবূ দাঊদ ৩৭৪০, ইবনু মাযাহ ১৭৫১, আহমাদ ১৪৯৭৯। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. দাওয়াত দেওয়ার একদিন পর দাওয়াত কবুল করার বিধান

১০৪৩ – ইবনু মাস`উদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, প্রথম দিবসের ওয়ালিমাহর খানা ন্যায্য, দ্বিতীয় দিবসের ওয়ালিমাহর খানা সুন্নাত, তৃতীয় দিবসের ওয়ালিমাহর খানা রিযা বা স্বীয় গৌরব জাহির করা। আর যে নিজের নাম ছড়ানোর উদ্দেশে কোন কাজ করে, আল্লাহ তাকে কিয়ামাত দিবসে জনগণের নিকটে প্রকাশ করে লাঞ্ছিত করবেন।– তিরমিজি হাদিসটিকে গরীব বলেছেন; হাদিসটির রাবী সহীহ্‌ হাদীসের অনুরূপ। {১১৪১}

{১১৪১} [আরবি] শব্দটি বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছে চামড়ার মাদুর বিশেষ। আর [আরবি] শুষ্ক দুশ অর্থাৎ পনির। তিরমিজি ১০৯৭। ইমাম সনআনী তার সুবুলুস সালাম [ ৩/২৭৪] গ্রন্থে বলেন, তার কথাটি ঠিক নয়। তবে এর রাবীগণ বুখারির রাবী। এই বিষয়ে যতগুলো হাদিস রয়েছে কোনটিই সমালোচনামুক্ত নয়। ইবনু উসাইমীন তার বুলুগুল মারামের শরাহ [৪/৬০৯] গ্রন্থে বলেন, সনদের দিক দিয়ে হাদিসটি ত্রুটিপূর্ণ। ইবনুল কাত্তান তার আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম[৩/১২১] গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে যিয়াদ বিন আবদুল্লাহ ও আত্বা ইবনুস সায়িব রয়েছে। যারা এলোমেলো বর্ণনাকারী। ইবনু হাজার আসকালানী তাহাঁর ফাতহুল বারী [৯/১৫১] গ্রন্থে বলেন, এর ত্রুটি রয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১০৪৪ – ইবনু মাযাহইতে আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এ হাদীসের শাহেদ বা সমার্থক হাদিস বর্ণিত রয়েছে। {১১৪২}

{১১৪২} ইবনু মাযাহ ১৯১৫। ইবনু হাজার তাহাঁর আত্‌-তালখীসুল হাবীর ৩/১২২৭ গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল তবে এর শাহেদ হাদিস রয়েছে। ইমাম সনানী সুবুলুস সালাম ৩/২৪৮ গ্রন্থে বলেন, আবূ খালিদ আদ দালানী ব্যাতীত এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত, কেননা সে বিতর্কিত। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৯৫১, জঈফ আবূ দাঊদ ৩৭৫৬, তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১৫৯ গ্রন্থত্রয়ে একে দুর্বল বলেছেন। তিনি তার আত তালীকাতুর রযীয়্যাহ ৩/১৪১ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইয়াযীদ বিন আবদুর রহমান নামক বর্ণনাকারী হচ্ছে দুর্বল ও মুদাল্লিস। বিন বাযও তার হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৬০২ গ্রন্থে উক্ত বর্ণনাকারী ছাড়া হাদিসটির সনদকে উত্তম বলেছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৫. বিবাহের ওয়ালিমার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিক নির্দেশনা

১০৪৫ – সাফিয়্যাহ বিনতে শাইবাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর কোন সহধর্মিনীর বিবাহইতে দু` মুদ {১১৪৩} যব-এর খাবার ওয়ালিমাহ দিয়েছিলেন। {১১৪৪}

{১১৪৩} এক মুদে ৬২৫ গ্রাম, সুতরাং দু`মুদে ১২৫০ গ্রাম। {১১৪৪} বুখারির অপর বর্ণনায় রয়েছে, [আরবি] অর্থাৎ হেলান দেয়া অবস্থায় আমি খাবার খাই না। বুখারি ৫১৭২। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৪৬ – আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] খায়বার এবং মাদীনাহ্‌র মাঝে তিন দিন অবস্থান করিলেন এবং হুয়ায়্যার কন্যা সাফীয়ার সাথে বাসর যাপনের ব্যাবস্থা করিলেন। আমি মুসলিমদেরকে তাহাঁর ওয়ালিমার দাওয়াত দিলাম। নবী [সাঃআঃ] দস্তরখানা বিছানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে গোশত ও রুটি ছিল না। খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হল।–শব্দ বিন্যাস বুখারির। {১১৪৫}

{১১৪৫} বুখারি ৩৭১, ৬১০, ৯৪৭, ২১৩০, ২২২৮, মুসলিম ১৩৪৫,১৩৬৫, ১৩৬৮, তিরমিজি ১০৯৫, ১১১৫, নাসায়ী ৫৪৭, ৩৩৪২, ৩৩৪৩, আবূ দাঊদ ২০৫৪, ২৯৯৬, ইবনু মাযাহ ১৯০৯, ১৯৫৭, ২২৭২, আহমাফ ১১৫৩২, ১১৫৮১, ১১৬৬৮, মালেক ১০২০, ১৬৩৬, দারেমী ২২৪২, ২২৪৩, ২৪৭৫/ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৬. দু`জন নিমন্ত্রণকারী একত্রে দাওয়াত দিলে কার দাওয়াত কবুল করিবে – এর বিধান

১০৪৭ – নবী [সঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন – দু`জন নিমন্ত্রণকারী একত্রে হলে, তোমার দরজার [বাড়ির] নিকটবর্তী ব্যক্তির দাওয়াত গ্রহণ করিবে। আর যদি তাহাদের কেউ পূর্বে আসে তবে প্রথম ব্যক্তির দাওয়াত গ্রহণ করিবে। – এর সানাদ দুর্বল। {১১৪৬}

{১১৪৬} আবূ দাউদ ৩৭৫৬, আহমাদ ২২৯৫৬। ইবনু হাজার তাহাঁর আত তালখীসুল হাবীর ৩/১২২৭ গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল তবে এর শাহেদ হাদিস রয়েছে। ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ৩/২৪৮ গ্রন্থে বলেন, আবূ খালিদ আদ দালানী ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত, কেননা সে বিতর্কিত। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৯৫১, জঈফ আবূ দাউদ ৩৭৫৬, তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১৫৯ গ্রন্থত্রয়ে একে দুর্বল বলেছেন। তিনি তাহাঁর আত তালীকাতুর রযীয়্যাহ ৩/১৪১ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে ইয়াযীদ বিন আবদুর রহমান নামক বর্ণনাকারী হচ্ছে দুর্বল ও মুদাল্লিস। বিন বাযও তাহাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম [৬০২] গ্রন্থে উক্ত বর্ণনাকারী ছাড়া হাদিসটির সনদকে উত্তম বলেছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৭. হেলান দিয়ে বসে খাওয়া

১০৪৮ – আবূ জুহাইফাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি হিলান বা ঠেস লাগিয়ে বসে খাবার খাই না। {১১৪৭}

{১১৪৭} বুখারি ৫৩৯৮, ৫৩৯৯, তিরমিজি ১৮৩০, আবূ দাউদ ৩৭৬৯, ইবনু মাযাহ ৩২৬২, আহমাদ ১৮২৭৯, ১৮২৮৯, দারিমী ২০৭১। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৮. খাওয়ার শিষ্টাচারিতা সমূহ

১০৪৯ – উমার ইবনু আবি সালামাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেন – হে বৎস! বিসমিল্লাহ বলে ডান হাত দিয়ে আহার কর এবং তোমার নিকটবর্তী [স্থানের খাবার] থেকে খাও। {১১৪৮}

{১১৪৮} বুখারি ৫৩৭৫, ৫৩৭৭, ৫৩৭৮, মুসলিম ২০২২, আবূ দাউদ ৩৭৭৭, ইবনু মাযাহ ৩২৬৭, আহমাদ ১৫৮৯৫, ১৫৯০২, মালিক ১৭৩৮, দারিমী ২০২৯, ২০৪৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৯. থালার চতুর্দিক থেকে খাওয়ার বিধান

১০৫০ – ইবনু `আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর সমীপে একটি `পেয়ালায় করে সারিদ বা সুরুয়াতে ভিজানো রুটি আনা হলে নবী [সাঃআঃ] বলিলেন – তোমরা চতুর্দিক থেকে খাও, মধ্য থেকে খেওনা – কেননা বারকাত মধ্যেই অবর্তীণ হয়। – শব্দ বিন্যাস নাসায়ীর; আর এর সানাদ সহিহ। {১১৪৯}

{১১৪৯} আবূ দাউদ ৩৭৭২, তিরমিজি ১৮০৫, ইবনু মাযাহ ৩২৭৭, দারিমী ২০৪৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১০. খাবারকে নিন্দা করা অপচ্ছদনীয়

১০৫১ – আবূ হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনো কোন খাবারের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেননি। ভাল লাগলে তিনি খেতেন এবং খারাপ লাগলে রেখে দিতেন। {১১৫০}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১১. বাম হাত দ্বারা খাওয়া নিষেধ

১০৫২ – জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। নবী [সাঃআঃ] বলেছেন – বাম হাতে খাবেনা, কেননা শয়তান বাম হাতে খেয়ে থাকে। {১১৫১}

{১১৫১} মুসলিম ২০১৯, ইবনু মাযাহ ৩২৬৮, আহমাদ ১৩৭০৪, ১৩৭৬৬, ১৪০৯৬, মালেক ১৭১১। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১২. পাত্রে ফুঁ দেওয়া অথবা শ্বাস ফেলা নিষেধ

১০৫৩ – আবূ কাতাদাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ পান করিবে তখন যেন সে পাত্রে শ্বাস ত্যাগ না করে। {১১৫২}

{১১৫২} বুখারি ১৫৩, ১৫৪, ৫৬৩০, মুসলিম ২৬৭, তিরমিজি ১৫, ১৮৮৯, নাসায়ী ২৪,২৫,৪৭, আবূ দাউদ ৩১, ইবনু মাযাহ ৩১০, আহমাদ ১৮৯২৭, ২২০১৬, দারিমী ৬৭৩। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৫৪ – আবূ দাউদে ইবনু `আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

হাদিসটি এরূপই, তবে এতে এ অংশটুকু বেশি আছে – `পানীয় পাত্রে ফুঁ দেবে না।` তিরমিজি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। {১১৫৩}

{১১৫৩} হাদীসের শেষে ইমাম বুখারি বৃদ্ধি করিয়াছেন, বর্ণনাকারী আবূ কিলাবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি ইচ্ছে করলে বলিতে পারতাম যে, আনাস [রাঃআঃ] এ হাদিস রসূল [সাঃআঃ] পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিরমিজি ১৮৮৮, আবূ দাউদ ৩৭২৮, ইবনু মাযাহ ৩৪২৯। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply