নতুন লেখা

ওয়াদা করা, নিরাপত্তা দেওয়া, সন্ধি করা ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সাজদাহ

ওয়াদা করা, নিরাপত্তা দেওয়া, সন্ধি করা ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সাজদাহ

ওয়াদা করা, নিরাপত্তা দেওয়া, সন্ধি করা ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সাজদাহ >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ১৫, অনুচ্ছেদঃ ১-১৬২=২১টি

অনুচ্ছেদ-১৬২ঃ ওয়াদা পূরণ করা
অনুচ্ছেদ-১৬৩ঃ ইমামের সম্পাদিত চুক্তি মেনে চলা
অনুচ্ছেদ-১৬৪ঃ মুসলিম নেতা ও শত্রুপক্ষের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর তিনি শত্রুদেশ ভ্রমন করিতে পারবেন
অনুচ্ছেদ ১৬৫ঃ চুক্তি পুর্ণ করা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা
অনুচ্ছেদ-১৬৬ঃ দূত সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৬৭ঃ নারীর দেয়া নিরাপত্তা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৬৮ঃ শত্রুপক্ষের সাথে সন্ধি করা
অনুচ্ছেদ-১৬৯ঃ শত্রুর কাছে উপস্থিত হয়ে তাহাদের দলভুক্ত হওয়ার ভান করে তাহাকে হত্যা করা
অনুচ্ছেদ-১৭০ঃ সফরে উচ্চ স্থানে উঠার সময় তাকবীর বলা
অনুচ্ছেদ-১৭১ঃ নিষেধের পর প্রত্যাবর্তনের অনুমতি প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-১৭২ঃ সুসংবাদ প্রদানের জন্য কাউকে পাঠানো
অনুচ্ছেদ-১৭৩ঃ সুসংবাদ দাতাহাকে উপহার দেয়া
অনুচ্ছেদ-১৭৪ঃ কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সাজদাহ
অনুচ্ছেদ-১৭৫ঃ রাতের বেলা সফর থেকে ফেরা
অনুচ্ছেদ-১৭৬ঃ আগন্তুকদের স্বাগত জানানো
অনুচ্ছেদ-১৭৭ঃ যুদ্ধে যেতে অক্ষম হলে সংগৃহীত সরঞ্জাম অন্য মুজাহিদকে দেয়া উত্তম
অনুচ্ছেদে-১৭৮ঃ সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর সলাত আদায় করা
অনুচ্ছেদ-১৭৯ঃ বন্টনকারীর মজুরী
অনুচ্ছেদ-১৮০ঃ জিহাদে গিয়ে ব্যবসা করা
অনুচ্ছেদ-১৮১ঃ যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে শত্রু এলাকায় গমন
অনুচ্ছেদ-১৮২ঃ মুশরিকদের এলাকায় অবস্থান সম্পর্কে

অনুচ্ছেদ-১৬২ঃ ওয়াদা পূরণ করা

২৭৫৬. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা স্থাপন করা হইবে। বলা হইবে, এটা অমুকের পু্ত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৩ঃ ইমামের সম্পাদিত চুক্তি মেনে চলা

২৭৫৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ নেতা ঢালস্বরুপ, তার নির্দেশে যুদ্ধ করা হয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৫৮. আবু রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কুরাইশ নেতারা আমাকে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে পাঠালেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখা মাত্র আমার অন্তরে ইসলাম গ্রহনের প্রেরণা জাগলো। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি কখনোই তাহাদের কাছে ফিরে যাবো না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আমি ওয়াদা ভঙ্গ করবো না এবং দূতকেও আটকে রাখবো না। বরং তুমি ফিরে যাও, তোমার অন্তরে এখন যা আছে, পরেও যদি তা থাকে তাহলে তুমি ফিরে এসো। আবু রাফি [রাদি.] বলেন, সুতরাং আমি চলে যাই এবং পরে নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে ফিরে এসে ইসলাম গ্রহন করি। বুকাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমাকে হাসান ইবনি আলী জানিয়েছেন, আবু রাফি ছিলেন কিবতী গোলাম। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ নিয়ম ঐ যুগের প্রেক্ষাপটে ছিল। এ যুগে কোন দূত ইসলাম গ্রহন করে আশ্রয় চাইলে তাহাকে আশ্রয় দিবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৪ঃ মুসলিম নেতা ও শত্রুপক্ষের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর তিনি শত্রুদেশ ভ্রমন করিতে পারবেন

২৭৫৯, হিময়ার গোত্রের সুলাইম ইবনি আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়াহ [রাদি.] ও রোমকদের মধ্যে [নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যুদ্ধ বিরতির] চুক্তি হয়। মুআবিয়াহ [রাদি.] তাহাদের জনপদে সফর করছিলেন এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হইতেই তিনি তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। তখন এক ব্যাক্তি আরবী বা তুর্কী ঘোড়ায় চড়ে উপস্থিত হয়ে বলেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; ওয়াদা রক্ষা করিতে হইবে, ভঙ্গ করা চলবে না। লোকেরা দেখলো, লোকটি আমর ইবনি আসবাহ [রাদি.]। অতঃপর মুআবিয়াহ [রাদি.]তাহাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আমর [রাদি.]- কে [কিসের ওয়াদা ভঙ্গ হচ্ছে তা] জিজ্ঞেস করায় তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যদি কারো সাথে কোন কওমের চুক্তি থাকে, তাহলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে তা নবায়ন করে শক্তিশালী করা যাবে না, এবং ভঙ্গ করাও যাবে না। যখন চুক্তির মেয়াদ শেষ হইবে তখন ঘোষনা দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করিবে। অতঃপর মুআবিয়াহ [রাদি.] [যুদ্ধ না করে] ফিরে আসেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ ১৬৫ঃ চুক্তি পুর্ণ করা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা

২৭৬০. আবু বাকরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যাক্তি আকারণে কোন চুক্তিবদ্ধ ব্যাক্তিকে হত্যা করিবে, তার জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিবেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৬ঃ দূত সম্পর্কে

২৭৬১. নুআইম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে মুসাইলামা [ভন্ডনাবী] চিঠি লিখেন। অতঃপর চিঠি পড়া হলে তার উভয় দূতকে লক্ষ্য করে আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ এ লোক সম্পর্কে তোমরা কি বলো? তারা বললো, আমরা তা-ই বলি যা সে বলে [অর্থাৎ তার নবুওয়াতের দাবী মানি]। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃআল্লাহর শপথ! দূত হত্যা করা নিষিদ্ধ না হলে আমি তোমাদের উভয়ের গর্দান উড়িয়ে দিতাম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৬২, হারিসাহ ইবনি মুদারবির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি মাসউদের [রাদি.] কাছে এসে বলিলেন, আরববাসীর কারো সাথেই আমার কোন শত্রুতা নাই। কিন্তু আমি বনূ হানীফার মাসজ়িদে যাওয়ার সময় দেখলাম, এ গোত্রের লোকেরা [ভন্ডনাবী] মুসাইলামার প্রতি ঈমান এনেছে। তখন আবদুল্লাহ [রাদি.] তাহাদেরকে ডেকে আনতে লোক পাঠালেন। সে তাহাদেরকে নিয়ে আসলে ইবনিন নাওয়াহা ব্যতীত সকলকে তিনি তাওবাহ করিতে বলিলেন। তিনি তাহাদের বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি ঃ তুমি দূত না হলে আমি তোমার গর্দান বিচ্ছিন্ন করে দিতাম। [আবদুল্লাহ রা. বলেন] তুমি তো আজ দূত নও। অতঃপর তিনি তাহাকে হত্যা করিতে ক্বারাযাহ ইবনি কাবকে নির্দেশ দেন। তিনি তাহাকে বাজারে নিয়ে গিয়ে [জনসম্মুখে] হত্যা করিলেন। অতঃপর তিনি [আবদুল্লাহ অথবা ক্বারাযাহ] বলিলেন, যে ব্যাক্তি ইবনিন নাওয়াহাকে দেখিতে চায়, সে যেন বাজারে এসে তার লাশ দেখে যায়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৭ঃ নারীর দেয়া নিরাপত্তা সম্পর্কে

২৭৬৩. উম্মু হানী [রাদি.] বিনতু আবু ত্বালিব হইতে বর্ণীতঃ

তিনি মাক্কাহ বিজয়ের দিন মুশরিকদের এক লোককে আশ্রয় দেন। তারপর নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করায় তিনি বলিলেনঃতুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো আমরাও তাহাকে আশ্রয় দিলাম এবং তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছো, আমরাও তাহাকে নিরাপত্তা দিলাম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৬৪. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মহিলারা মুসলিমদের প্রতিপক্ষ কাউকে আশ্রয় দিলে তা বৈধ হইবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৮ঃ শত্রুপক্ষের সাথে সন্ধি করা

২৭৬৫. আল-মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হুদায়বিয়ার বছরে এক হাজারের বেশি সাহাবী নিয়ে বের হলেন। অতঃপর যুল-হুলাইফাহ নামক স্থানে পৌছে তিনি উটের গলায় কুরবানীর প্রতীক [ক্বিলাদাহ] বাঁধেন, পশুর কুঁজের পশম কাটেন এবং উমরাহ্‌র ইহরাম বাঁধলেন। এরা চলতে চলতে সানিয়্যাহ নামক স্থানে পৌঁছালে তাহাঁর কাসওয়া নামের উষ্ট্রীঁ তাঁকে নিয়ে বসে যায়। এখান থেকেই মাক্কাহ্র প্রবেশ পথ। লোকেরা এটাকে উঠাবার জন্য হাল হাল শব্দ করলো। কিন্তু কাসওয়া উঠলো না। তারা এভাবে দুবার চেষ্টা করলো। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ কাসওয়া তো ক্লান্ত হয়নি এবং তার এরুপ বসার অভ্যাসও নেই, বরং হাতীর গতিরোধকারী [মহান আল্লাহই] এর গতিরোধ করেছেন।

অতঃপর তিনি বলিলেনঃঐ সত্ত্বার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন! আল্লাহর ঘরের মর্যাদা রক্ষার জন্য কুরাইশরা আমার কাছে যা কিছুই দাবি করিবে আমি তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি তাহাদেরকে দিবো। তিনি উষ্ট্রীঁকে উঠাতে গেলে তা উঠে দাঁড়ালো। তিনি রাস্তা পরিবর্বতন করে হুদায়বিয়ার পৌঁছালেন। তিনি একটি কূপের কাছে নামলেন। তাতে সামান্য পানি ছিল। তাহাঁর কাছে বুদাইল ইবনি ওয়ারাকা আল-খুযাঈ আসলো। পরে উরওয়াহ ইবনি মাসউদ আসলো। উরওয়াহ নাবী [সাঃআঃ] এর সাথে আলাপ শুরু করলো। সে নাবীর সাথে কথা বলার সময় তাহাঁর দাড়ি স্পর্শ করতো। মুগীরাহ ইবনি শুবাহ [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ] এর কাছেই তরবারি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার মাথায় শিরস্ত্রাণ ছিল। তিনি উরওয়াহ্র হাতে তরবারির খাপ দিয়া আঘাত করে বলিলেন, তাহাঁর দাড়ি থেকে হাত দূরে রাখো। উরওয়াহ মাখা তুলে বললো, লোকটি কে? লোকেরা বললো, তিনি মুগীরাহ ইবনি শুবাহ [রাদি.]। সে বললো, হে বিশ্বাসঘাতক! আমি কি তোমার বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য আদায় করিনি? জাহিলি যুগে [ইসলাম কবুলের আগে] তিনি একদল লোকের সাথে যাওয়ার সময় পথে তাহাদেরকে হত্যা করে তাহাদের মালপত্র ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে তিনি মদিনায় এসে ইসলাম কবুল করেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃআমরা তোমার ইসলাম গ্রহন মেনে নিলাম, কিন্তু তোমার এসব তো লুন্ঠন করা মাল। আমাদের এসব মালের কোন দরকার নাই। এরপর বর্ণনাকারী হাদিসের বাকি অংশ বর্ণনা করেন।

নাবী [সাঃআঃ] আলীকে বলিলেনঃমুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে বিষয়ে সন্ধি করেছেন তুমি তা লিখো। অতঃপর বর্ণনাকারী পুরো ঘটনা বলিলেন। সুহাইল বললো, আমাদের কেউ তোমার ধর্ম গ্রহন করে তোমার কাছে চলে এলে তাহাকে অবশ্যই আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হইবে।

যখন সন্ধিপত্র লিখা শেষ হলো, নাবী [সাঃআঃ] সাহাবীদেরকে বলিলেন, ওঠো, কুরবানী করো এবং মাথা মুড়াও। অতঃপর কতিপয় মহিলা মুসলিম হয়ে হিজরত করে আসলো, আল্লাহ তাহাদের ফিরিয়ে দিতে মুসলিমদেরকে নিষেধ করিলেন এবং তাহাদেরকে মুহরানা বাবদ যা দেয়া হয়েছিল তা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিলেন। সন্ধিচুক্তি সম্পাদানের পর তিনি মদিনায় প্রত্যাবর্তন করিলেন। এ সময় আবু বাসীর [রাদি.] নামক কুরাইশদের এক ব্যাক্তি ইসলাম গ্রহণ করে নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে চলে আসলেন। কুরাইশরা তাহাকে ফেরত নিতে দুজন লোক পাঠালো। তিনি দুই ব্যাক্তির কাছে তাহাকে অর্পণ করিলেন। তারা তাহাকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলো। অতঃপর তার যুল-হুলাইফাহ নামক স্থানে পৌঁছে সওয়ারী থেকে নেমে খেজুর খেতে লাগলেন। তখন আবু বাসীর [রাদি.] তাহাদের একজনকে বলিলেন, হে অমুক! আল্লাহর শপথ! তোমার তরবারিটি আমার কাছে বেশ সুন্দর লাগছে। সে খাপ থেকে তরবারি বের করে বললো, হাঁ, আমি একে পরীক্ষা করেছি। আবু বাসির বলিলেন, আমাকে দাও না, একটু দেখি। তিনি তার কাছ থেকে তরবারিখানা হাতে নিয়েই তাহাকে আঘাত করেন, ফলে সে ঠান্ডা [নিহত] হয়ে যায়। দ্বিতীয়জন পালিয়ে মদিনায় এসে ভীত অবস্থায় মাসজিদে প্রবেশ করে। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এ লোকটি ভয় পেয়েছে। সে বললো, আল্লাহর শপথ! আমার সঙ্গী নিহত হয়েছে, আমিও নিহত হলাম। আবু বাসীর [রাদি.] ফিরে এসে বলিলেন, আল্লাহর আপনার যিম্মাদারী পূর্ণ করে দিয়েছেন। আপনি আমাকে তাহাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ আমাকে তাহাদের থেকে মুক্তি দিয়েছেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আবু বাসীরের মায়ের জন্য দুঃখ, সে তো যুদ্ধের আগুন জ্বালালো। যদি তার কোন সাহায্যকারী থাকতো! এ কথা শুনে আবু বাসীর বুঝতে পারলেন, তাহাকে পুনরায় তাহাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হইবে। তাই তিনি পালিয়ে সাইফুল বাহার নামক স্থানে চলে আসেন। অতঃপর আবু জান্দাল [রাদি.]-ও মাক্কাহ্ থেকে পালিয়ে আবু বাশিরের সাথে মিলিত হলেন। [ইসলাম গ্রহন করে] কুরাইশদের একদল লোক এভাবেই এখানে এসে একত্র হন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৬৬. আল-মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ [রাদি.] ও মারওয়ান ইবনিল হাকাম হইতে বর্ণীতঃ

কুরাইশরা দশ বছর পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ রাখার সন্ধি করলো। এ সময়ে লোকজন নিরাপদে থাকিবে; আমাদের পরস্পরের মাঝে কোন কুটিলতা থাকিবেনা; গোপন ষড়যন্ত্র করিবে না এবং কোন পক্ষই বিশ্বাসঘাতকতা করিবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৭৬৭. হাসসান ইবনি আত্বিয়্যাহ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাকহুল ও ইবনি আবু যাকারিয়্যাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] খালিদ ইবনি মাদান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর কাছে গেলে তাহাদের সাথে আমিও গেলাম। তিনি জুবাইর ইবনি নুফাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে আমাদেরকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জুবাইর [রাদি.] বলেন, আমাদের সঙ্গে যি-মিখবাবের [রাদি.] কাছে চলো। তিনি ছিলেন নাবী [সাঃআঃ] এর সাহাবীদের অন্যতম একজন। আমরা তার কাছে গেলে জুবাইর [রাদি.] তাহাকে সন্ধি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ অচিরেই তোমরা রোমকদের সাথে সম্মিলিতভাবে তোমাদের দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৯ঃ শত্রুর কাছে উপস্থিত হয়ে তাহাদের দলভুক্ত হওয়ার ভান করে তাহাকে হত্যা করা

২৭৬৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কাব ইবনি আশরাফকে হত্যা করার কেউ আছো কি? সে আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। তখন মুহাম্মাদ ইবনি মাসলামাহ [রাদি.] উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আছি। আপনি কি চান যে, আমি তাহাকে হত্যা করি? তিনি বলিলেনঃ হাঁ। মুহাম্মাদ ইবনি মাসালামাহ [রাদি.] বলেন, তাহলে আমাকে সেখানে গিয়ে [আপনার ব্যাপারে] কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বলিলেনঃ আচ্ছা। তিনি কাব ইবনি আশরাফের কাছে গিয়ে বলিতে লাগলেন, এই ব্যক্তি [মুহাম্মাদ {সাঃআঃ}] আমাদের নিকট বারবার সদাক্বাহ চেয়ে আমাদেরকে বিরক্ত করছে। কিন্তু আমরা তাহাঁর আনুগত্য স্বীকার করায় কিছু করিতেও পারছি না। কাব বললো, জ্বালাতনের কি দেখছো [সবেতো শুরু]! সে তোমাদের অতিষ্ঠ করে তুলবে। তিনি বলিলেন, আমরা কেবল তাহাঁর আনুগত্য গ্রহণ করেছি, তাই তাহাঁর কাজের পরিণতি না দেখা পর্যন্ত তাঁকে এখনই পরিত্যাগ করা সমীচীন মনে করছি না।

এখন আমি তোমার কাছে এজন্যই এসেছি যে, তুমি আমাদেরকে এক বা দুই ওয়াসাক [খাদ্য] ধার দিবে। সে বললো, এর বদলে আমার কাছে কি বন্ধক রাখবে? তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের কাছে কি চাও? সে বললো, তোমাদের স্ত্রীদের। তারা বলিলেন, সুবহানাল্লাহ! তুমি আরবের সুন্দরতম ব্যক্তি হয়ে এরূপ বলছো? তোমার নিকট আমাদের মহিলাদের বন্ধক রাখলে তা আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হইবে। সে বললো, তাহলে তোমাদের সন্তানদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখো। তারা বলিলেন, সুবহানাল্লাহ! আমাদের সন্তানেরা বড়ো হলে লোকেরা তাহাদের তিরস্কার করে বলবে, এক বা দুই ওয়াসাকের বিনিময়ে তাহাদেরকে বন্ধক রাখা হয়েছিল। তারা বলিলেন, আমরা তোমার কাছে যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখতে চাই। কাব বললো, ঠিক আছে, তা-ই রাখো। [এরপর মাসলামাহ চলে গেলেন এবং পরে রাতের বেলায়] এসে কাবকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। কাব সুগন্ধিমাখা ছিল, তার মাথার সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ছিল। তিনি কাবের কাছে বসলেন। তাহাঁর সাথে আরো তিন-চারজন লোক ছিল। তারা কাবের সুগন্ধির ব্যাপারে কাবকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, আমার কাছে অমুক রমণী রয়েছে, সে অন্যান্য রমণীর চেয়ে অধিক সুগন্ধি মেখে থাকে। তিনি বলিলেন, তোমার চুল থেকে একটু ঘ্রাণ নেয়ার অনুমতি দাও। সে বললো, আচ্ছা। তিনি তার মাথায় হাত ঢুকালেন এবং মাথার ঘ্রাণ নিলেন। তিনি বলিলেন, আর একবার, সে বললো, ঠিক আছে। তখন মাসলামাহ তার মাথায় হাত ঢুকিয়ে মাথার চুল শক্তভাবে ধরে সাথীদের বলিলেন, এবার মারো। তখন তারা তাহাকে আঘাত করে হত্যা করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৬৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ ঈমানের দাবী হলো, কাউকে ধোঁকা দিয়ে হত্যা না করা। কাজেই কোন মুমিন গুপ্তহত্যা করিবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭০ঃ সফরে উচ্চ স্থানে উঠার সময় তাকবীর বলা

২৭৭০. আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুদ্ধ, হাজ্জ অথবা উমরাহ করে ফেরার সময় কোন উঁচু স্থানে উঠার সময় তিনবার আল্লাহু আকবর করিতেন এবং বলিতেনঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নাই, মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব তাহাঁরই; তাহাঁর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমারা তাহাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী, তাহাঁর কাছেই ক্ষমাপ্রার্থী, তাহাঁরই ইবাদাতকারী আমরা আমাদের রব্বের উদ্দেশেই সাজদাহকারী তাহাঁরই প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাহাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন, তাহাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই শত্রুদেরকে পরাজিত করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭১ঃ নিষেধের পর প্রত্যাবর্তনের অনুমতি প্রসঙ্গে

২৭৭১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মহান আল্লাহর বাণী, “যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান এনেছে, তারা আপনার কাছে তাহাদের জান ও মাল নিয়ে জিহাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইবে না….” [সূরাহ আত-তাওবাহঃ ৪৪-৪৫] পর্যন্ত। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, এ আয়াতের নির্দেশ সূরাহ আন-নূরের এ আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছেঃ “প্রকৃত মুমিন তারাই যারা আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে………নিশ্চই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু” [সূরাহ আন-নূরঃ ৬২]

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭২ঃ সুসংবাদ প্রদানের জন্য কাউকে পাঠানো

২৭৭২. জারীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেনঃ তুমি আমাকে যুল-খালাসা সম্পর্কে নিশ্চিত করছো না কেন? অতঃপর জারীর সেখানে গিয়ে তা জ্বালিয়ে দিলেন এবং আবু আরত্বাত [রাদি.] নামক আহমাস গোত্রের এক লোককে পাঠিয়ে নাবীকে [সাঃআঃ] এর সুসংবাদ জানান।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৩ঃ সুসংবাদ দাতাহাকে উপহার দেয়া

২৭৭৩. কাব ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] সফর থেকে ফিরে এসে প্রথমে মাসজিদে ঢুকতেন। তারপর দু রাকআত সালাত আদায় করে লোকদের নিয়ে বসতেন। অতঃপর বর্ণনাকারী ইবনিস সারহ পুরো হাদিসটি বর্ণনা করেন।

কাব [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের তিনজনের সাথে কথাবার্তা বলিতে সবাইকে নিষেধ করিলেন। এভাবে অনেক দিন অতিবাহিত হলো। একদিন আমি আমার চাচাতো ভাই আবু ক্বাতাদাহর [রাদি.] বাগানের দেয়াল টপকে সেখানে ঢুকে তাহাকে সালাম করি। আল্লাহর শপথ! তিনি আমার সালামের উত্তর দেননি। অতঃপর পঞ্চাশ দিনের দিন সকালে আমি ঘরের ছাদের উপর ফাজরের সলাত আদায় করলাম। এমন সময় শব্দ শুনতে পেলাম, এক ব্যক্তি চিৎকার দিয়ে বলছে, হে কাব ইবনি মালিক! তোমার জন্য সুসংবাদ। অতঃপর ঐ সুসংবাদদাতা আমার কাছে আসলে আমি আমার দুইখানা কাপড় খুলে তাহাকে পরিয়ে দিলাম। আমি উঠে  মাসজিদে নাববীতে গিয়ে উপস্থিত হয়ে দেখি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বসে আছেন। তখন ত্বালহা ইবনি উবাইদুল্লাহ [রাদি.] দ্রুত আমার দিকে এসে আমার সাথে মুসাফাহা করিলেন এবং আমাকে মোবারকবাদ জানালেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৪ঃ কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সাজদাহ

২৭৭৪. আবু বাকরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে কোন খুশির খবর আসলে অথবা তিনি কোন সুসংবাদ পেলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়াস্বরুপ সাজদাহয় পড়ে যেতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৭৫. আমির ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [সাদ] বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে মাক্কাহ থেকে মাদীনাহর দিকে রওয়ানা হলাম। অতঃপর আমরা আযওয়ারা নামক স্থানের নিকটে পৌঁছালে তিনি বাহন থেকে নেমে আল্লাহর নিকট হাত তুলে কিছুক্ষণ দুআ করে সাজদাহয় লুটিয়ে পড়েন। তিনি অনেকক্ষণ সাজদাহয় থাকলেন। অতঃপর সাজদাহ থেকে উঠে পুনরায় মহান আল্লাহর কাছে হাত তুলে কিছুক্ষণ দুআ করে আবার সাজদাহ করিলেন এবং অনেকক্ষণ সাজদাহয় থাকলেন। আবার উঠে দুহাত তুলে দুআ করিলেন এবং সাজদাহয় করিলেন। বর্ণনাকারী আহমাদ বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরুপ তিনবার করিলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আমি আমার রব্বের নিকট আবেদন করেছি এবং আমার উম্মাতের জন্য সুপারিশ করেছি। আমাকে এক-তৃতীয়াংশ উম্মাতের জন্য শাফাআতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাই কৃতজ্ঞতা সরূপ আমি সাজদাহইতে লুটিয়ে পড়েছি। আবার মাথা তুলে আমার রব্বের নিকট উম্মাতের জন্য আবেদন করেছি। তিনি আমাকে আমার উম্মাতের আরো এক-তৃতীয়াংশের জন্য শাফআত করার অনুমতি দিলেন। আমি পুনরায় সাজদাহয় অবনত হয় প্রভুকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি পুনরায় মাথা তুলে আমার মহান রব্বের নিকট উম্মাতের জন্য দুআ করি। তিনি আমাকে আরো এক-তৃতীয়াংশ উম্মাতের জন্য শাফাআত করার অনুমতি দেন। আমি আমার প্রভুকে সাজদাহ করে শুকরিয়া জানাই। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ হাদিস বর্ণনার সময় আহমাদ ইবনি সালিহ আমাদের কাছে আশআস ইবনি ইসহাক্বের নাম উল্লেখ না করেই মূসা ইবনি সাহল থেকে এ হাদিস বর্ণনা করেন।

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামুউস সাগীর [২০৮৯], ইরওয়া [৪৭৪]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৫ঃ রাতের বেলা সফর থেকে ফেরা

২৭৭৬. জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন ব্যক্তির সফর থেকে গভীর রাতে নিজ পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তন করা অপছন্দ করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৭৭. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ মানুষের জন্য উত্তম হচ্ছে রাতের প্রথম অংশেই সফর থেকে ফিরে এসে পরিবারের সাথে মিলিত হওয়া।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৭৮. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাথে কোন এক সফর থেকে ফিরে যখন শহরে ঢূকছিলাম, তখন তিনি বলিলেনঃ থামো! আমরা রাত হলে প্রবেশ করবো। যেন স্ত্রীরা পরিচ্ছন্ন হয়ে চিরুনী করে এবং নিম্নাঙ্গের পশম কেটে পরিষ্কার করিতে পারে। আবু দাউদ বলেন, যুহরী বলিয়াছেন, ইশার সলাতের পর আসলে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মাগরিবের পর আসাতে কোন দোষ নেই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৬ঃ আগন্তুকদের স্বাগত জানানো

২৭৭৯. আস-সায়িব ইবনি ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তাবূকের যুদ্ধ হইতে মাদীনাহয় ফিরে এলে জনগণ তাহাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য এগিয়ে আসে। আমি বালকদের সঙ্গে নিয়ে আল-বিদা উপত্যকায় গিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানাই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৭ঃ যুদ্ধে যেতে অক্ষম হলে সংগৃহীত সরঞ্জাম অন্য মুজাহিদকে দেয়া উত্তম

২৭৮০. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আসলাম গোত্রের এক যুবক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জিহাদের ইচ্ছা করেছি, কিন্তু এর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমার নেই। তিনি বলিলেনঃ অমুক আনসারীর নিকট যাও। সে জিহাদে অংশগ্রহণের রসদপত্র ব্যবস্থা করেছে কিন্তু এখন অসুস্থ। তুমি তাহাকে গিয়ে বলবে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। তুমি তাহাকে আরো বলবে, জিহাদের জন্য আপনি যে রসদপত্র সংগ্রহ করেছেন তা আমাকে দিন। যুবকটি তার নিকট গিয়ে বিষয়টি জানালো। আনসারী লোকটি তার স্ত্রীকে ডেকে বলিলেন, হে অমুক! আমার জন্য যে রসদপত্র তুমি সংগ্রহ করেছো তা এ যুবককে দিয়ে দাও, এর কোন কিছুই রেখে দিবে না। আল্লাহ শপথ! তুমি এর থেকে সামান্য বস্তুও রাখবে না, তবেই আল্লাহ এতে বরকত দিবেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদে-১৭৮ঃ সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর সলাত আদায় করা

২৭৮১. কাব ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] দিনের বেলায় সফর থেকে ফিরতেন। হাসান বাসরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, পূর্বাহ্নে ফিরতেন। কাব [রাদি.] বলেন, তিনি সফর থেকে ফিরে প্রথমে মাসজিদে এসে দুই রাকাআত আদায় করার পর সেখানে বসতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭৮২. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] হাজ্জ শেষে প্রত্যাবর্তন করে মাদীনাহয় প্রবেশ করিলেন। উষ্ট্রীকে মাসজিদের দরজায় বসিয়ে তিনি তাহাঁর মাসজিদে ঢুকে দুই রাকাআত সলাত আদায় করিলেন, অতঃপর নিজ বাড়িতে গেলেন। নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি উমার [রাদি.]–ও অনুরূপ করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-১৭৯ঃ বন্টনকারীর মজুরী

২৭৮৩. আবু সাইদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন কিছু বন্টনের পারিশ্রমিক গ্রহণ থেকে বিরত থাকো। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা এর তাৎপর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ একটি নির্দিষ্ট জিনিসে বিভিন্ন লোকের অধিকার থাকতে পারে। [অথচ বন্টনকারী বেশি পাওয়ার জন্য কারচুপি করে]। ফলে অন্যরা ভাগে কম পায়।

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [২২০৭]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৮৪. আত্বা ইবনি ইয়াসার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ এমনও লোক রয়েছে, যারা জনসাধারণের বন্টনকারী নিযুক্ত হয়ে এ ভাগ থেকে কিছু এবং ঐ ভাগ থেকে কিছু আত্মসাৎ করে থাকে।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮০ঃ জিহাদে গিয়ে ব্যবসা করা

২৭৮৫. উবাইদুল্লাহ ইবনি সুলাইমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এর কোন এক সাহাবী তাহাকে বলিয়াছেন, আমরা খায়বার বিজয় করলে মুজাহিদরা গনীমাত থেকে নিজ নিজ ভাগের বন্দী ও মালপত্র গ্রহণ করলো। লোকজন তাহাদের গনীমাতের মাল পরস্পর ক্রয়-বিক্রয় করিতে লাগলো। এক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আজকে আমি এতই লাভ করেছি যে, এই প্রান্তরে কেউই অনুরূপ লাভ করিতে পারেনি। তিনি বলিলেনঃ হায়! তুমি কি লাভ করেছো? সে বললো, আমি ক্রয়-বিক্রয় করে তিনশো উকিয়াহ লাভ করেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন ব্যক্তির কথা জানাবো, যে তোমার চাইতে উত্তম লাভ করেছে? সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল রাসূল! কে সেই লোক? তিনি বলিলেনঃ যে ব্যক্তি ফারয সালাতের পর অতিরিক্ত দুই রাকাআত [নাফল] সলাত আদায় করেছে।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮১ঃ যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে শত্রু এলাকায় গমন

২৭৮৬. দিবাব গোত্রের যুল-জাওসান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বদরের যুদ্ধ থেকে অবসর হওয়ার পর আমি ইবনিল কারহা নামক একটি ঘোড়ার বাচ্চা নিয়ে তাহাঁর কাছে আসি। আমি বলিলাম, হে মুহাম্মদ! আমি আপনাকে দেয়ার জন্য কারহার বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি। তিনি বলিলেনঃ এটি আমার দরকার নাই। তবে তুমি এর বিনিময়ে বদর যুদ্ধে প্রাপ্ত কোন একটি বর্ম নাও তাহলে তোমার ঘোড়ার বাচ্চাটি নিতে পারি। আমি বলিলাম, আজ আমি এর বিনিময়ে একটি ঘোড়াও নিতে রাজি নই। তিনি বলিলেনঃ তাহলে এটি আমার দরকার নাই।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮২ঃ মুশরিকদের এলাকায় অবস্থান সম্পর্কে

২৭৮৭. সামুরাহ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কেউ কোন মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তাহাদের সাথে বসবাস করলে সে তাহাদেরই মত।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: