ওসিয়ত এর নির্দেশ । দুর্বল, বালক ও নির্বোধের ওসিয়ত বৈধ

ওসিয়ত এর নির্দেশ । দুর্বল, বালক ও নির্বোধের ওসিয়ত বৈধ

ওসিয়ত এর নির্দেশ । দুর্বল, বালক ও নির্বোধের ওসিয়ত বৈধ, এই অধ্যায়ে হাদীস =১৩ টি ( ১৪৮৫-১৪৯৭ পর্যন্ত ) >> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ৩৭ঃ ওসীয়্যত সম্পর্কিত

  • পরিচ্ছেদঃ ১ -ওসীয়্যতের নির্দেশ
  • পরিচ্ছেদঃ ২ -দুর্বল, বালক, পাগল ও নির্বোধের ওসিয়ত বৈধ
  • পরিচ্ছেদঃ ৩ -এক-তৃতীয়াংশের অধিক ওসীয়াতের ফয়সালা
  • পরিচ্ছেদঃ ৪ -গর্ভবতী, রোগী ও মুজাহিদ সম্পর্কে হুকুম কতটুকু ওসিয়ত করিতে পারবে
  • পরিচ্ছেদঃ ৫ -ওয়ারিসদের জন্য ওসিয়ত এবং সঞ্চয় করার হুকুম
  • পরিচ্ছেদঃ ৬ -যে পুরুষ নপুংসক তার এবং বাচ্চার মালিক কে হইবে?
  • পরিচ্ছেদঃ ৭ -মাল বিক্রয়ের পর তাতে ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে ভর্তুকী কে দিবে?
  • পরিচ্ছেদঃ ৮ -প্রশাসন ও বিচার সম্পর্কীয় বিবিধ আহকাম এবং বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণকে অপছন্দ করা
  • পরিচ্ছেদঃ ৯ -গোলাম যদি কারো ক্ষতি করে কিংবা কাউকেও আঘাত করে, এর হুকুম
  • পরিচ্ছেদঃ ১০ -যা সন্তানকে হেবা [দান] করা জায়েয হইবে

পরিচ্ছেদঃ ১ -ওসীয়্যতের নির্দেশ

১৪৫১ আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলেছেন, কোন মুসলমানের নিকট কিছু সম্পদ থাকলে যার সম্বন্ধে ওসিয়ত করা তার কর্তব্য, তবে সেই ক্ষেত্রে ওসীয়্যতের বিষয় না লিখে তার জন্য দুই রাত্রিও অতিবাহিত করা উচিত নায় [কেননা মৃত্যু আসার আশংকা রয়েছে]। [বুখারি ২৭৩৮, মুসলিম ১৬২৭]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি কোন মুসলমান সুস্থ অথবা অসুস্থ অবস্থায় কোন ওসিয়ত করে যায় যেমন গোলাম আযাদ করা কিংবা অন্যান্য বিষয়, তবে সে মারা যাওয়ার পূর্বে তার মধ্যে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিতে পারবে এবং ওসিয়তকে স্থগিতও করিতে পারবে। অন্য কোন ওসিয়তও করিতে পারবে। কিন্তু কোন গোলামকে যদি মুদাব্বার করে থাকে তবে তাতে আর কোন পরিবর্তন করিতে পারবে না, কেননা রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলেছেন, কোন মুসলমানের এমন কিছু থাকলে যা ওসিয়ত করা কর্তব্য, তবে ওসিয়ত করা ব্যতীত দুই রাত অতিবাহিত করা তার উচিত নয়।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন যদি ওসিয়তকারীর নিজ ওসীয়্যতে পরিবর্তন করার ক্ষমতা না থাকত তবে তার ইখতিয়ার হইতে বের হয়ে আটক থাকত। যেমন গোলাম আযাদের কথা অথচ মানুষ কোন সময় ভ্রমণে যাওয়ার সময় ওসিয়ত করে আবার সুস্থ থাকাকালীন ওসিয়ত করে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন আমাদের নিকট প্রত্যেক ওসিয়তই বদলানো যায় কিন্তু গোলামকে মুদাব্বার করা হলে তা পরিবর্তনের ইখতিয়ার নাই।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ ২ -দুর্বল, বালক, পাগল ও নির্বোধের ওসিয়ত বৈধ

১৪৫২ আবু বাকর ইব্নু হাযম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমর ইব্নু সুলায়ম যুরাকী বলেছেন, উমার [রাদি.]-কে বলা হল, এখানে গাস্সান গোত্রের একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে আছে, তার ওয়ারিস সিরিয়াতে এবং তার সম্পত্তিও আছে মদীনাতে, এখানে তার এক চাচাতো বোন ব্যতীত আর কোন ওয়ারিস নেই। উমার [রাদি.] বলিলেন, তার জন্যই ওসিয়ত করা চাই। অবশেষে ঐ ছেলে নিজ মালের ওসিয়ত চাচাতো বোনের জন্য করেছিল। তার সম্পত্তির নাম ছিল বীরে জুশাম। আমর [রাদি.] বলেন যে, ঐ সম্পত্তি ত্রিশ হাজার দিরহামে বিক্রয় হয়েছিল। আর তার চাচাতো বোনের নাম ছিল উম্মে আমর ইব্নু সুলাইম যুরাকী ছিল। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৪৫৩ আবু বাকর ইব্নু হাযম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

মাদীনাতে গাসসান বংশের একটি ছেলের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল, আর তার ওয়ারিস ছিল সিরিয়াতে । তার কথা উমার [রাদি.]-এর কাছে বলা হল এবং জিজ্ঞেস করা হল যে, সে ওসিয়ত করিবে কি? তিনি বলিলেন হ্যাঁ, সে যেন ওসিয়ত করে। আবু বাকর বলেন, ঐ ছেলের বয়স দশ অথবা বার বৎসর ছিল। অতঃপর সে তার বীরে জুশাম নামক সম্পত্তি ওসিয়ত করে গেল, যার বিক্রয়মূল্য বাবদ প্রাপ্ত হয়েছিল ত্রিশ হাজার দিরহাম। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন এটা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, দুর্বল বুদ্ধির লোক, নির্বোধ, পাগল যার মাঝে মাঝে হুশ ফিরে আসে এমন লোকদের ওসিয়ত শুদ্ধ হইবে যখন তার এতদূর আকল থাকে যে, সে যা কিছু ওসিয়ত করছে তা সে বুঝে। আর যদি এতদুর আকলও না থাকে যে, সে কি ওসিয়ত করিল তা বুঝতে পারে না। তবে তার ওসিয়ত শুদ্ধ হইবে না।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৩ -এক-তৃতীয়াংশের অধিক ওসীয়াতের ফয়সালা

১৪৫৪ সাআদ ইব্নু আবি ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আমার অসুখের সময় আমাকে দেখিতে আসেন, আমার অসুখ খুব কঠিন ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি দেখিতেছেন যে, আমার অবস্থা কি এবং আমি খুব সম্পদশালী, আমার কোন ওয়ারিস নেই এক মেয়ে ব্যতীত। এখন আমি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ সাদাকাহ্ করে দিতে পারব কি? রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, না। আমি বললাম, তা হলে অর্ধেক দান করে দেই? রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলেন, না। অতঃপর তিনি নিজেই বলিলেন এক-তৃতীয়াংশ দান কর। যদিও এটাও অনেক। মনে রেখ, তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাওয়া উত্তম তাদেরকে দরিদ্র এবং লোকের কাছে ভিক্ষা করুক এমন অবস্থায় রেখে যাওয়ার চাইতে। তুমি যা কিছু আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য খরচ করিবে তার বিনিময় পাবে, চাই নিজ স্ত্রীর মুখে লোকমা উঠিয়ে দাও না কেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাঃআঃ! আমি কি আমার সঙ্গীদের পিছনে থেকে যাব? রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, যদি তুমি তাদের পেছনে থেকে যাও এবং সাওয়াবের কাজ করিতে থাক তবে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। এমনও হইতে পারে যে, তুমি জীবিত থাকিবে এবং তোমার দ্বারা আল্লাহ্ তাআলা বহু লোককে উপকৃত করিবেন, আর এক দল তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হইবে। [বুখারি ১২৯৬, মুসলিম ১৬২৮]

হে আল্লাহ্! আমার সাহাবীগণের হিজরত পূর্ণ কর এবং তাদেরকে পশ্চাদপসরণ করো না। কিন্তু বেচারা সাআদ ইব্নু খাওলা যার জন্য রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর অন্তর ব্যথিত হয়েছিল, কেননা তিনি মক্কায় ইন্তিকাল করেছিলেন।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন যদি কেউ কারো জন্য এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তির ওসিয়ত করে যায় এবং এটাও বলে যে, আমার অমুক গোলাম আজীবন অমুকের খেদমত করিবে, অতঃপর সে আযাদ। তার পর যদি গোলামের মূল্য সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ হয় তবে গোলামের খেদমত গ্রহণ করা হইবে এবং গোলামের ভাগ বন্টন করা হইবে; যার জন্য সম্পদের ওসিয়ত করা হয়েছে তার হিস্যা হইবে এবং যার জন্য খেদমত করার ওসিয়ত করা হয়েছে তারও হিস্যা খেদমতের মূল্য অনুযায়ী হইবে এবং এই দুইজন লোকই ঐ গোলামের কামাই ও খেদমত হইতে নিজ হিস্যা প্রাপ্ত হইবে। যখন ঐ ব্যক্তি মারা যাবে যার খেদমতের কথা বলা হয়েছে, তখন গোলাম আযাদ হয়ে যাবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন যদি কেউ কয়েক ব্যক্তির নাম নিয়ে বলে যে, অমুককে এত অমুককে এত দিনার ওসিয়ত করলাম; অতঃপর তার ওয়ারিসগণ বলে যে, ওসিয়ত এক-তৃতীয়াংশের চাইতে অধিক হয়েছে তবে ওয়ারিসগণের ইখতিয়ার থাকিবে, হয় তারা যাদের জন্য ওসিয়ত করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককেই ঐ পরিমাণ বিনিময় দেবে এবং পূর্ণ সম্পদ নিজেরা নিয়ে নিবে অথবা তাদেরকে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ দিয়ে দেবে যেন তারা বন্টন করে নিতে পারে।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৪ -গর্ভবতী, রোগী ও মুজাহিদ সম্পর্কে হুকুম কতটুকু ওসিয়ত করিতে পারবে

১ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

গর্ভবতীর হুকুম ও অসুস্থ মানুষের হুকুম একই। যখন সাধারণ অসুখ হয়, মৃত্যুর ভয় না থাকে তখন রোগী তার সম্পত্তির মধ্যে যা খুশী তাই করিতে পারে। আর যদি অসুখ সাংঘাতিক ধরনের হয়, যার বাঁচবার আশা খুব কম, তবে সম্পত্তির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিক্রয় করিতে পারবে না। গর্ভবতীর হুকুমও অনুরূপ। গর্ভবতীর প্রথমাবস্থায় যখন সে খুব আনন্দে থাকে তখন তার সম্পত্তিতে যা ইচ্ছা সে তাই করিতে পারে, কেননা আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, “আমি তাকে [বিবি সারাকে] ইসহাকের সুসংবাদ দিলাম, আর ইসহাকের পরে ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম। আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেন যে, “যখন আদম হাওয়ার সাথে সহবাস করিল তখন হাওয়ার সামান্য গর্ভের সঞ্চার হল এবং চলাফেরা করিতে লাগল। অতঃপর যখন গর্ভ অধিক ভারী হয়ে গেল তখন দুইজনেই আল্লাহ্ তাআলার নিকট দুআ করলেন যে, যদি আমাদেরকে নেক সন্তান দেন তবে আপনার কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” সুতরাং যখন গর্ভবতীর গর্ভ বেশি ভারী হয়ে যায় তখন সে তার সম্পদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশির মধ্যে কিছুই করিতে পারবে না। এই অবস্থা ছয়মাস পরে হয়। যেমন আল্লাহ্ তাআলা নিজ কিতাবে বলেছেন যে, মাতাগণ সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বৎসরে দুগ্ধ পান করাবে। যে ব্যক্তি দুগ্ধপানকে পূর্ণ করাতে চায়। পুনরায় বলেন যে, গর্ভ ধারণ ও দুধ ছাড়ানো ত্রিশ মাস। সুতরাং যখন গর্ভবতী ছয়মাস অতিবাহিত হয়ে যায় গর্ভ সঞ্চারের দিন হইতে, তখন সে তার সম্পত্তিতে এক-তৃতীয়াংশের বেশিতে কিছুই করিতে পারবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন যে ব্যক্তি লড়াইয়ের ময়দানে [যোদ্ধাদের] কাতারের মধ্যে থাকে সেও তার মালের এক-তৃতীয়াংশের বেশি কিছু করিতে পারবে না। তার হুকুমও গর্ভবতী এবং রোগীর হুকুমের মতো।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৫ -ওয়ারিসদের জন্য ওসিয়ত এবং সঞ্চয় করার হুকুম

১ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ওসীয়্যতের এই আয়াতটি ফারাইযের আয়াত দ্বারা মন্সুখ [রহিত] হয়ে গিয়েছে, আয়াতটি এই-

إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِيْنَ

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন আমাদের কাছে এই নিয়ম [সুন্নাত] প্রমাণিত। তাতে কোন মতভেদ নেই, ওয়ারিসদের অনুমতি ব্যতীত ওসিয়ত জায়েয নেই। যদি কোন ওয়ারিস অনুমতি দেয় আর কেউ অনুমতি না দেয় তবে যারা অনুমতি দিয়েছে তাদের মীরাস হইতে তা আদায় করা হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন যদি কেউ অসুস্থ হয় এবং সে ওসিয়ত করিতে চায় এবং ওয়ারিসগণ হইতে অনুমতি চায় তবে এই অসুস্থ অবস্থায় তার জন্য এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তিতে ওসিয়ত জায়েয হইবে না। হ্যাঁ, যদি তারা এক-তৃতীয়াংশের চাইতে বেশি ওসীয়্যতের অনুমতি দেয় তবে তাদের এই কথা হইতে ফিরে যাওয়া জায়েয নেই। যদি তা জায়েয হত তবে প্রত্যেক ওয়ারিসই নিজ অংশ ফিরিয়ে নিত, যদি ওসিয়তকারী মারা যেত তবে ওসিয়তকৃত সম্পদ নিয়ে লইত। আর ওসিয়ত এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে বন্ধ করে দিত, কিন্তু যদি কেউ সুস্থ থাকা অবস্থায় ওয়ারিসগণের নিকট কোন ওয়ারিসের জন্য ওসীয়্যতের অনুমতি চায় এবং তারা অনুমতি দিয়ে দেয় তবে তা হইতে ফিরে যেতে পারে এবং তা কার্যকর নাও হইতে দিতে পারে। কেননা সে সুস্থ অবস্থায় তার পূর্ণ সম্পদের উপরই এদিক-সেদিক করবার ক্ষমতা রাখে। তার ইখতিয়ার আছে, সে সমস্তই ওসিয়ত করে দিতে পারে অথবা সমস্তই কাউকেও দিতে পারে তখন মালিকের অনুমতি চাওয়া ও ওয়ারিসদের অনুমতি দেয়া অনর্থক। আর যদি রোগী ওয়ারিসদেরকে তার মৃত্যুর সময় বলে যে, তোমাদের মীরাস আমাকে হেবা [দান] করে দাও, সে হেবাকারীদের প্রদত্ত সম্পদে কিন্তু রোগী কোন পরিবর্তন করেনি এবং মারা গিয়েছে তবে ঐ সকল অংশ ওয়ারিসগণ পাবে। কিন্তু যদি রোগী বলে যে, ঐ ওয়ারিস বড়ই দুর্বল। আমি ভাল মনে করি যে, তুমি তোমার অংশ তাকে হেবা করে দাও। যদি সে হেবা করে দেয়, তবে তা জায়েয হইবে।

যদি ওয়ারিস নিজ হিস্যা মৃত ব্যক্তিকে দান করে দেয় এবং মৃত ব্যক্তি সেখান হইতে কাউকেও কিছু দেয় আর কিছু বাকী থাকে, ঐ বাকী অংশ ঐ ওয়ারিসই পাবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন যদি কোন ব্যক্তি [ওয়ারিসের জন্য] ওসীয়্যতের পরে জানতে পারল যে, সে ওয়ারিসকে যা দিয়েছিল তা সে গ্রহণ করেনি এবং অন্য ওয়ারিসগণও তার অনুমতি দেয়নি তবে তা ওয়ারিসগণেরই হক, আল্লাহ্‌র নির্দেশ অনুযায়ী বন্টন হইবে। কেননা মৃত ব্যক্তি এখানে এক তৃতীয়াংশের মধ্য থেকে কিছু দিতে চায়নি।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৬ -যে পুরুষ নপুংসক তার এবং বাচ্চার মালিক কে হইবে?

১৪৫৫b হিশাম ইব্নু উরওয়া [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁর পিতা হইতে বর্ণিতঃ

এক নপুংসক [হিজরা] ব্যক্তি উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালমার নিকট বসা ছিল। সে আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবু উমাইয়াকে বলিতেছিল, রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ ও তাঁর কথা শুনিতে ছিলেন যদি আল্লাহ্ তাআলা তায়েফে তোমাদেরকে আগামীকাল বিজয়ী করেন, তবে তুমি গাইলানের মেয়েকে নিশ্চয় গ্রহণ করিবে। কারণ যখন সে সম্মুখ দিয়ে আসে তখন তার পেটে চারটি [ভাঁজ] থাকে আর যখন প্রস্থান করে তখন আটটি ভাঁজ নিয়ে প্রস্থান করে। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ [শুনে] বলিলেন এই সকল লোক যেন তোমাদের নিকট আর না আসে। [বুখারি ৪৩২৪, ঈমাম মুসলিম মুত্তাসিল সনদে ২১৮০, তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত সনদটি মুরসাল]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৪৫৬ ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

একজন আনসারী মেয়েলোক উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.]-এর স্ত্রী ছিলেন। তাঁর গর্ভে একটি ছেলে সন্তান জন্মাল। তার নাম আসিম রাখা হয়েছিল। ইত্যবসরে উমার [রাদি.] ঐ স্ত্রীকে তালাক দিলেন। একদা উমার [রাদি.] মসজিদে কুবার বারান্দায় এ সন্তানকে অন্যান্য ছেলের সাথে খেলাধুলা করিতে দেখিতে পেলেন তিনি তার বাহুতে ধরে তাকে স্বীয় সাওয়ারীতে বসিয়ে নিলেন। আসিমের মাতামহী [নানী] তা দেখে উমারকে বাধা দিলেন এবং তার সাথে ঝগড়া করিতে লাগলেন। অতঃপর উভয়ে আবু বাকর সিদ্দীক [রাদি.]-এর নিকট এসে সন্তানের দাবি জানালেন। আবু বাকর সিদ্দীক [রাদি.] বলিলেন সন্তানটিকে উভয়ের মধ্যে ছেড়ে দাও [সে যাকে গ্রহণ করে তারই হইবে]। উমার [রাদি.] এতে চুপ হয়ে গেলেন। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এ ক্ষেত্রে আমিও এই অভিমত পোষণ করি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৭ -মাল বিক্রয়ের পর তাতে ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে ভর্তুকী কে দিবে?

১ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কেউ যদি কোন জীব কিংবা কাপড় কিংবা অন্য কোন বস্তু খরিদ করিল, অতঃপর তাতে ত্রুটি লক্ষ্য করা গেল যাতে বিক্রয় নাজায়েয সাব্যস্ত হল, তখন ক্রেতাকে বলা হইবে, দোষী মাল বিক্রেতাকে ফিরিয়ে দাও। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, বিক্রেতার দোষী মালের ঐ দিনের মূল্য পাওয়ার অধিকার ছিল, যেই দিন তা বিক্রয় করা হয়েছিল, ফেরত দেয়ার দিনের মূল্য নয়। যেই দিন ক্রেতা তা ক্রয় করেছিল, সেই দিন হইতে তা ক্রেতার অধীনে ছিল এবং বর্তমানে মাল দোষী সাব্যস্ত হলে তা ক্রেতার উপরই বর্তিবে। মালের মূল্য বৃদ্ধি হলেও ক্রেতাই মালিক হইবে, কোন সময় এইরূপও হয় যে, মাল ক্রয় করার সময় বাজারে মালের খুবই চাহিদা থাকে অথচ মাল দোষী বলে ফেরত দেয়ার সময় উহার চাহিদা কমে যায়। বাজারে উহার চাহিদা থাকাকালে এক ব্যক্তি দশ দীনার দ্বারা কোন বস্তু ক্রয় করিল এবং কিছু দিন তা আটকে রাখার পর যখন বাজারে চাহিদা কমে গেল এবং উহার মূল্য মাত্র এক দীনারে উপনীত হল তখন তা ফেরত দেয়ায় বিক্রেতার নয় দীনার ক্ষতি হল। তা হওয়া উচিত নয় বরং যেই দিন মাল বিক্রয় করেছিল সেই দিনের মূল্য বিক্রেতা পাবে। অর্থাৎ দশ দীনার।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৮ -প্রশাসন ও বিচার সম্পর্কীয় বিবিধ আহকাম এবং বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণকে অপছন্দ করা

১৪৫৭ ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবু দারদা [রাদি.] সালমান ফারসী [রাদি.]-এর নিকট লিখেছেন যে, পবিত্র ভূমিতে চলে আস। উত্তরে সালমান লিখলেন, ভূমি কাউকেও পবিত্র করিতে সক্ষম নয়, বরং মানুষকে তার আমলই পবিত্র করে। শুনতে পেলাম, তোমাকে ডাক্তার [বিচারপতি] নিযুক্ত করা হয়েছে এবং মানুষকে ঔষধপত্র দিয়ে চিকিৎসা করে থাক, যদি তুমি চিকিৎসাশাস্ত্র শিখে তা করে থাক এবং এতে রোগ নিরাময় হয় তবে তা উত্তম, আর যদি চিকিৎসা শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ না করে তুমি চিকিৎসক সেজে থাক তবে সাবধান ও সতর্ক হও- এমন না হয় যে, তোমার ভুল সিদ্ধান্তের দ্বারা মানুষকে মেরে ফেলবে, ফলে তুমি দোযখে প্রবেশ করিবে। অতঃপর তিনি যখন কোন দুই ব্যক্তির মধ্যে ফয়সালা করিতেন এবং উভয়ে চলে যেতে শুরু করলে তখন উভয়কে বলিতেন তোমরা পুনরায় তোমাদের ঘটনা বর্ণনা কর, আমি আবার বিবেচনা করি। কারণ আমি তোমাদের মূল উদ্দেশ্য জানি না, কেবল শুনে চিকিৎসা করি। {১} [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন যদি কেউ অন্যের গোলামকে মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোন শুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করে এবং সেই কাজ পারিশ্রমিকযোগ্য, তদ্দারা গোলামের কোন ক্ষতি হলে, কর্মে নিয়োগকারীকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হইবে। আর ক্রীতদাস অক্ষত অবস্থায় কর্ম সম্পাদন করলে এবং তার কর্তা পারিশ্রমিক দাবি করলে তবে পারিশ্রমিক কর্তার প্রাপ্য হইবে, এটাই আমাদের ফয়সালা।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন গোলামের কিছু অংশ যদি স্বাধীন এবং কিছু অংশ পরাধীন থাকে তবে গোলামের মাল তার হাতেই থাকিবে, তা সে কোন নতুন কাজে ব্যয় করিতে পারবে না। কেবল নিজের ভরণপোষণে নিয়ম মুতাবিক ব্যয় করিবে। তার মৃত্যুর পর যা অবশিষ্ট থাকে তা যে মালিক তার অংশ আযাদ করেনি সে পাবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন আমাদের ফায়সালা হল, যে দিন সন্তান ধনবান হয়ে যায়, পিতা ইচ্ছা করেন যে, যা তার প্রতি খরচ করা হয়েছে তা ফেরত নিবে, তবে যেদিন হইতে তার জন্য খরচ করা হয়েছে সেদিন হইতে হিসাব করে খরচ আদায় করে নিবে, মাল নগদ অর্থই হোক বা অন্য কোন বস্তু হোক।

{১} এখানে ডাক্তার অর্থ বিচারক। আবু দারদা দামিশকের কাযী এবং বিচারক ছিলেন। শরীয়াতের আহকাম সম্বন্ধে পূর্ণ অবগত আছে কিনা সেই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সালমান তার নিকট পত্র লিখেছিলেন। আবু দারদা নিজেকে অনুপযুক্ত মনে করে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করিতেন।এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৪৫৮ উমার ইব্নু আবদির রহমান ইব্নু দালাফ মুযানী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি [উসাইফা] সকল হাজীর পূর্বে যেয়ে ভাল ভাল উট উচ্চমূল্যে খরিদ করে নিতে এবং তাড়াতাড়ি মক্কা শরীফ যেয়ে পৌঁছাত। এক সময় সে গরীব হয়ে পড়ল। পাওনাদারগণ স্বীয় টাকা আদায়ের জন্য উমার [রাদি.] ইব্নু খাত্তাবের নিকট বিচার প্রার্থী হল। উমার [রাদি.] হামদ ও সালাত পাঠ করার পর সকলকে সম্বোধন করে বলিলেন! উসাইফা “জুহাইনা গোত্রের উসাইফা” টাকা কর্জ করেছিল এবং আমানত হস্তক্ষেপ করেছিল। কারণ লোকেরা বলে থাকে যে, উসাইফা সকলের পূর্বে মক্কা শরীফ পৌঁছে যায়। তোমরা জেনে রাখ, সে কর্জ করে তা আদায় করার মনোবৃত্তি রাখেনি। বর্তমানে সে দরিদ্র হয়ে পড়েছে, অথচ কর্জ তার সমুদয় মাল গ্রাস করে ফেলেছে। পাওনাদারগণ আগামীকাল সকালে আমার কাছে উপস্থিত হইবে। আমি তার সকল মাল পাওনাদারকে বন্টন করে দিব। তোমরা কর্জ নিতে হুঁশিয়ার থেক। কেননা, কর্জের প্রারম্ভ হচ্ছে দুশ্চিন্তা, পরিশেষ হচ্ছে কলহ-বিবাদ। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৯ -গোলাম যদি কারো ক্ষতি করে কিংবা কাউকেও আঘাত করে, এর হুকুম

১ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

গোলাম অপরাধ করলে আমাদের নিকট স্বীকৃত নিয়ম এই গোলাম যদি কাউকেও আঘাত করে কিংবা কারো কোন বস্তু গোপনে নিয়ে নেয়, অথবা স্বীয় ঠিকানায় ফিরার পূর্বে চারণ ক্ষেত্র বা পর্বত হইতে মেষ বা বকরী চুরি করে কিংবা কারো বৃক্ষের ফল কেটে আনে বা নষ্ট করে কিংবা অন্য বস্তু চুরি করে নেয়, এতে তার হাত কর্তন করার হুকুম জারি হইবে না। তবে গোলাম এর জন্য দায়ী হইবে। এমতাবস্থায় গোলামের মালিক ইচ্ছা করলে বর্ণিত বস্তুগুলোর মূল্য আদায় করে কিংবা আঘাতের ক্ষতিপূরণ আদায় করে গোলামকে মুক্ত করে নিজে গোলাম রেখে দিবে কিংবা উক্ত পণ্যের বিনিময়ে গোলাম তাদেরকে দিয়ে দিবে। কিন্তু গোলামের মূল্য যদি বিনিময় মূল্যের চাইতে কম হয় তবে বর্ধিত মূল্য দিতে হইবে না।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ১০ -যা সন্তানকে হেবা [দান] করা জায়েয হইবে

১৪৫৯ সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উসমান ইব্নু আফফান [রাদি.] বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে কোন বস্তু দান করে, যে সন্তান এখনও উহা গ্রহণ করার উপযুক্ত হয়নি এবং এই দানের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে দেয় এবং তাতে সাক্ষী নিযুক্ত করে তবে এটা জায়েয হইবে যদিও তার অভিভাবক পিতা থাকেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন আমাদের নিয়ম মতে যদি কোন ব্যক্তি অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে স্বর্ণ কিংবা রৌপ্য দান করে, অতঃপর তার সন্তান মারা যায় এবং পিতাই অভিভাবক থাকে তবে ঐ মাল সন্তানের হইবে না বরং পিতারই থাকিবে। হ্যাঁ, যদি পিতা সেই মাল পৃথক করে দিয়ে থাকে কিংবা কারো কাছে আমানত রেখে থাকে তবে তা সন্তানের বলে সাব্যস্ত হইবে।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

By মুয়াত্তা মালিক

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply