ওলামাগণকে সম্মান , মর্যাদা ও শ্রদ্ধা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ

ওলামাগণকে সম্মান , মর্যাদা ও শ্রদ্ধা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ

ওলামাগণকে সম্মান , মর্যাদা ও শ্রদ্ধা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ << সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব হাদীস বই এর মুল সুচিপত্র

পরিচ্ছেদঃ ওলামাগণকে সম্মান , মর্যাদা ও শ্রদ্ধা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ ও তাহাদেরকে অসম্মান করা ও তাহাদেরকে পরওয়া না করার প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শন

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৯৭ – জাবের [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধে শহীদদেরকে কবর দেয়ার সময় রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] দু`ব্যক্তিকে একসাথে রাখছিলেন এবং বলছিলেনঃ “দু`জনের মধ্যে কে বেশী কুরআন জানত? যখন কোন এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করা হত, তখন তাকে প্রথমে কবরে রাখতেন।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন বুখারী] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৯৮- আবু মূসা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, আল্লাহকে মর্যাদা দেয়ার অন্তর্ভুক্ত হল এই ব্যক্তিবর্গকে সম্মান করাঃআঃ [১] বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তি [২] কুরআন ধারণকারী [১] যিনি সে ব্যাপারে অতিরঞ্জনকারী নয় এবং তার সাথে রুঢ় আচরণকারীও নয়। এবং [৩] ন্যায় পরায়ন শাসককে সম্মান করা।

[আবু দাউদ হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] [১] অর্থাৎ কুরআন পাঠ্যকারী, মুখস্তকারী ও তাফসীরকারী। অতিরঞ্জনের অর্থ হচ্ছে, উচ্চারণ ও তাজবীদ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা বা কুরআনকে এত তাড়াহুড়া করে পাঠ করা যাতে তার অর্থ অনুধাবন করা অসম্ভব হয়, অথবা কুরআনের গোপন অর্থ অনুসন্ধান করা বা অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়া। আর রূঢ়তা হচ্ছে, কুরআন পাঠ করার পর তা থেকে দূরে থাকা, অর্থ অনুধাবন না করা, আমল না করা, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি। দ্রঃ আউনুল মা`বূদ হা/৪২০৩] হাদিসের তাহকিকঃহাসান হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৯৯- ইবনু আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, “তোমাদের বয়স্ক ব্যক্তির সাথে রহিয়াছে বরকত।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] এবং হাকেম, তিনি বলেন, মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১০০- আবদুল্লাহ ইবনু ওমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বর্ণনাটি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেনঃ “যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি স্নেহশীল নয় এবং বড়দের হক বুঝে না [তাহাদের শ্রদ্ধা করে না] সে আমার [উম্মতের] অন্তর্ভুক্ত নয়।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন হাকেম, তিনি বলেন, মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১০১- উবাদাহ বিন ছামেত [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের বড়দেরকে শ্রদ্ধা করে না, ছোটদের প্রতি রহম করে না এবং আলেমদের মর্যাদা বুঝে না সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন ইমাম আহমাদ, ত্বাবরানী ও হাকেম] হাদিসের তাহকিকঃহাসান হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১০২- ওয়াছেলা বিন আসকা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন, “যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

[ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ লিগাইরিহি

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১০৩- আমার বিন শুআয়ব হতে বর্ণিতঃ

তিনি তাহাঁর পিতা থেকে তাহাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, “যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের মর্যাদা বুঝে না সে আমাদের [উম্মতের] অন্তর্ভুক্ত নয়।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন তিরমিযী ও আবু দাউদ] তবে আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, [আরবি] এবং আমাদের বড়দের হক [শ্রদ্ধা] জানে না…। হাদিসের তাহকিকঃহাসান সহীহ

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১০৪- আবদুল্লাহ বিন বুসর [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বহুদিন পূর্বে একটি হাদীছ শুনিয়াছিলামঃ “তুমি যদি কোন লোকদের মাঝে থাক যেখানে বিশজন বা তার চাইতে কম বা বেশী লোক থাকে। অতঃপর তাহাদের চেহারা দেখে যদি এমন কোন ব্যক্তি না পাও যাকে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর ব্যাপারে ভয় করা হয়। [১] তবে মনে করিবে দ্বীন ক্ষীণ হয়ে গেছে।”

[আহমাদ ও ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাসান সনদে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] [১] অর্থাৎ- তাহাদের মধ্যে এমন আল্লাহ ভীরু পরেহজগার নেক লোক নেই। যার চেহারার দিকে তাকালে সততা ও নিষ্ঠার ছাপ লক্ষ্য করা যায়; ফলে তার প্রতি অন্তরে ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধা সৃষ্টি হয়, তাহলে মনে করিবে ইসলাম ধর্ম তাহাদের মধ্যে ক্ষীণ ও দুর্বল হয়ে গেছে। [আল্লাহই অধিক জানেন] হাদিসের তাহকিকঃহাসান হাদীস

Leave a Reply