ওযূ এবং ওযূর পরপরই নামাজ আদায়ের ফযিলত

ওযূ এবং ওযূর পরপরই নামাজ আদায়ের ফযিলত

ওযূ এবং ওযূর পরপরই নামাজ আদায়ের ফযিলত  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪. অধ্যায়ঃ ওযূ এবং ওযূর পরপরই নামাজ আদায়ের ফযিলত

৪২৮

উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-এর আযাদকৃত দাস হুমরান হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি যে, তিনি মাসজিদের বারান্দায় ছিলেন। এমন সময় আসর নামাজের জন্যে মুওয়াযযিন তাহাঁর নিকট আসলে তিনি ওযূর পানি চাইলেন এবং ওযূ করে বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাদেরকে একটি হাদীস শুনাব, যদি আল্লাহর কিতাবে একটি আয়াত না থাকতো তাহলে আমি তোমাদেরকে হাদীসটি শুনাতাম না। [অতঃপর তিনি বলিলেন] আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি, যে ব্যক্তি উত্তমরুপে ওযু করে নামাজ আদায় করিবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩১, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৭]

৪২৯

আবু কুরায়ব, আবু উসামাহ হইতে, অন্য সূত্রে যুহায়র ইবনি হারব ও আবু কুরায়ব ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে – অন্য সূত্রে ইবনি আবু উমর থেকে আবার সকলে হিশামের হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত সূত্রেও হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে আবু উসামার সূত্রে অতিরিক্ত বলা হয়েছে যে, অতঃপর তার ওযূকে সুন্দররুপে করে তারপর ফারয নামাজ আদায় করে। [ই.ফা.৪৩২, ইসলামিক সেন্টার-৪৪৮]

৪৩০

হুমরান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উসমান [রাদি.] ওযূ শেষে বলিলেন যে, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস শুনাব। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহর কিতাবের মধ্যে একটি আয়াত না থাকত তাহলে আমি তোমাদেরকে কখনই হাদীসটি শুনাতাম না। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যখন ওযূ করে এবং উত্তমরূপে ওযূ করে [অর্থাৎ ভালভাবে ওযূর স্থানগুলি ভিজায়] তারপর নামাজ আদায় করে তখন তার এ নামাজ ও পিছনের নামাজের মধ্যবর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। উরওয়াহ বলেন, আয়াতটি হলঃ

‏ إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى‏

“আমি যেসকল স্পষ্ট নিদর্শন ও পথনির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্যে কিতাবে তা সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়ার পরেও যারা তা গোপন রাখে , আল্লাহ তাদেরকে লানাত দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাদেরকে অভিশাপ দেয়” –[সূরাহ আল-বাকারাহ ২:১৫৯] [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৯]

৪৩১

আমর ইবনি সাঈদ ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উসমান[রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি যে, কোন মুসলিমের যখন কোন ফারয নামাজের ওয়াক্ত হয় আর সে উত্তমরুপে নামাজের ওযূ করে, নামাজের নিয়ম ও রুকুকে উত্তমরুপে আদায় করে তা হলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হইবে তার এ নামাজ তার পিছনের সকল গুনাহের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান। [ই.ফা.৪৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫০]

৪৩২

হুমরান উসমানের আযাদকৃত দাস হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-এর জন্যে উযূর পানি আনলাম। অতঃপর তিনি ওযূ করে বলিলেন, লোকেরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর অনেক হাদীস বর্ণনা করে থাকে। আমি ঐ হাদীসগুলোর ব্যাপারে অবগত নই। তবে আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে আমার এ ওযূর মত ওযূ করিতে দেখেছি। তারপর বলেছেন, যে ব্যক্তি এভাবে ওযূ করিতে তার পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হইবে। আর তার নামাজ আদায় ও মাসজিদের দিকে যাওয়া অতিরিক্ত সাওয়াব বলে গণ্য হইবে।

ইবনি আবদাহ-এর বর্ণনায় [আরবী] কথাটি বাদ দিয়ে কেবল [আরবী] বলা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫১]

৪৩৩

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেনঃ একদিন উসমান একটি উঁচু স্থানে বসে ওযূ করে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর ওযূ কিরুপ ছিল তা দেখাব না? এরপর তিনি প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুলেন।

কুতাইবাহ আনাস সূত্রে এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন যে, এ সময় তাহাঁর [উসমানের] কাছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর অনেক সহাবা উপস্থিত ছিলেন [অর্থাৎ কেউ তাহাঁর বিরোধীতা করেননি]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫২]

৪৩৪

হুমরান ইবনি আবান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ আমি উসমান [রাদি.]-এর জন্যে ওযূর পানির ব্যবস্থা করতাম। এমন একটি দিনও অতিবাহিত হতো না যেদিন সামান্য পরিমান পানি হলেও তা দিয়ে গোসল করিতেন না। উসমান বলেছেন, একদিন আমরা যখন এ [ওয়াক্তের] নামাজ শেষ করলাম তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে বলিলেন। মিসআর বলেনঃ আমার মনে হয় তা ছিল আসরের নামাজ। তিনি বললেনঃ আমি স্থির করিতে পারছি না যে, তোমাদের একটি বিষয়ে কিছু বর্ণনা করব না নীরব থাকব। তখন আমরা বললাম , হে আল্লাহর রসূল! যদি তা কল্যানকর হয় তাহলে আমাদের বলুন। আর যদি অন্য কিছু হয়, তাহলে আল্লাহ এবং তাহাঁর রসূলই অধিক অবগত। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কোন মুসলিম যখন পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার উপর যে পবিত্রতা অপরিহার্য করিয়াছেন তা পূর্ণাঙ্গরুপে আদায় করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তাহলে এসব নামাজ মধ্যবর্তী সময়ের সব গুনাহর কাফফারাহ হয়ে যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৩]

৪৩৫

উসমান ইবনি আফফান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উসমান [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ যেভাবে আদেশ করিয়াছেন সেভাবে ওযূকে পূর্ণ করে, তার পাঁচ ওয়াক্তের ফারয নামাজ আদায় করলে উক্ত নামাজসমূহ মধ্যবর্তী সময়ের [গুনাহের] কাফফারাহ হয়ে যায়।

ইবনি মুআযের হাদীসে এভাবেই বলা হয়েছে। কিন্তু গুনদার বর্ণিত হাদীসে বিশরের নেতৃত্বের কথা কিংবা ফারয নামাজের কথা উল্লেখ নেই।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৪]

৪৩৬

উসমান [রাদি.]-এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেনঃ একদিন উসমান ইবনি আফফান খুব উত্তমরুপে ওযূ করে বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে ওযূ করিতে দেখেছি যে, সে অতি যত্ন করে ওযূ করিলেন। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি অনুরূপ ওযূ করে নামাজের জন্য মাসজিদের দিকে যায় এবং তাহাঁর মাসজিদে যাওয়া যদি নামাজ ব্যতীত অন্য কোন কারনে না হয় তবে তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৫]

৪৩৭

উসমান ইবনি আফফান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] –কে বলিতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাজ আদায়ের জন্য পরিপূর্ণভাবে ওযূ করে ফরয নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে [মাসজিদে] যায় এবং লোকদের সাথে, অথবা তিনি বলেছেনঃ জামাআতের সাথে, অথবা বলেছেন, মাসজিদের মধ্যে নামাজ আদায় করে, আল্লাহ্‌ তার গুনাহ্ সমূহকে মাফ করে দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪০, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৬]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply